উন্মাদনা পর্ব ২৮
কায়নাত খান কবিতা
‘ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে”
কথাগুলো শেষ করেই আবার সিগারে টান দেয় অভী। ধোঁয়াটা ধীরে ধীরে তার মুখের সামনে ভেসে উঠতে থাকে। পাশেই দাঁড়িয়ে নোবেল আগের মতোই হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে থাকে। গ্যারেজের ভেতর তখন শুধু ফ্যানের কটকট শব্দ আর সিগারের পোড়া গন্ধ।
অভীর মতিগতি আজ পর্যন্ত ঠিকভাবে বুঝতে পারেনি কেউ। তার কাজের ধরন অন্যরকম। সবসময় কয়েক ধাপ আগেই চিন্তা করে সে। কোথায় কীভাবে আঘাত করতে হবে, কোথায় কীভাবে আড়াল নিতে হবে।সব যেন আগেই হিসেব করে রাখে মাথার ভেতর।
সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, অভী কখনো তাড়াহুড়ো করে না। ধীরে, ঠাণ্ডা মাথায় কাজ করে। আর সেই কারণেই তার কাজগুলো এত নিখুঁত হয়।
পুলিশ বহুবার চেষ্টা করেছে তাকে ধরার। বিশেষ করে ইন্সপেক্টর রেহমান। গত এক বছরে অসংখ্যবার খবর পেয়েছে সে। কখনো ড্রাগ চালান, কখনো অস্ত্র, কখনো অবৈধ ডিল। খবর পেলেই দল নিয়ে রেড দিয়েছে।কিন্তু প্রতিবার একই ঘটনা।রেহমান পৌঁছানোর আগেই সব গায়েব।কোথাও কোনো প্রমাণ নেই। না মাল, না লোক, না কোনো ক্লু।শুধু খালি গ্যারেজ, ফাঁকা ট্রাক কিংবা সাধারণ ব্যবসার আড়াল।প্রথম কয়েকবার রেহমান ভেবেছিল হয়তো কাকতালীয়। কিন্তু পরে বুঝে যায়,অভী শুধু অপরাধী না, ভয়ংকর বুদ্ধিমানও।যেন পুলিশ এক পা এগোলেই সে তিন পা আগে সরে যায়।
আর এই ব্যর্থতাগুলোই ধীরে ধীরে রেহমানের ভেতরে জমিয়ে তুলেছে ক্ষোভ। গত এক বছর ধরে সেই ক্ষোভ বয়ে বেড়াচ্ছে সে। কারণ চোখের সামনে বারবার অপরাধ ঘটছে, অথচ যার জন্য সব,তার গায়ে হাত পর্যন্ত দিতে পারছে না।অভী সেটা জানে।খুব ভালো করেই জানে।আর সেই কারণেই হয়তো তার ঠোঁটের কোণে সবসময় এমন নিশ্চিন্ত হাসি লেগে থাকে।
থানার ভেতরে নিজের চেম্বারে বসে চোয়াল শক্ত করে রেখেছিল রেহমান। টেবিলের উপর রাখা ফাইলের কোণায় তার আঙুলের চাপ এতটাই শক্ত ছিল যে কাগজ পর্যন্ত কুঁচকে যাচ্ছিল। চোখে-মুখে জমে থাকা রাগ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।আবারও!আবারও তার চোখের সামনে দিয়ে মাল পার হয়ে গেছে।আবারও অভী তাকে বোকা বানিয়েছে।আনন্দীকে হাসপাতাল থেকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিয়েই খবর পায় রেহমান। তার খবরী ফোন করে জানিয়েছে,দাদা সাহেবের আস্তানায় বিশাল পার্টি চলছে। কারণ মাল ঠিকঠাক ডেলিভারি হয়ে গেছে। পুরো সিন্ডিকেটে কোটি কোটি টাকা ঢুকেছে আজ রাতে।এই জগতের নিয়ম খুব সহজ।যার কাছে টাকা বেশি, তার ক্ষমতাও বেশি।আর যার ক্ষমতা বেশি, ভবিষ্যতে সিন্ডিকেট চলবে তার ইশারায়।
রেহমান চুপচাপ বসে থাকে নিজের চেয়ারে। সামনে রাখা শহরের ম্যাপ, কিছু নাম, কয়েকটা লোকেশনের ছবি আর অসংখ্য নোট। সে মাথার ভেতর বারবার হিসেব কষতে থাকে । কোথায় ভুল হয়েছে তার? কোন জায়গায় অভী তাকে ডাইভার্ট করেছে?কিন্তু উত্তর মিলছিল না।যতবারই মনে হতে থাকে এবার হয়তো অভীকে ধরতে পারবে, ঠিক ততবারই শেষ মুহূর্তে সব ফসকে গেছে হাতের মুঠো থেকে।
রেহমান জানে, শুধু অভীকে ধরতে পারলেই হবে না। তার পেছনে পুরো একটা নেটওয়ার্ক আছে। এমপি, মন্ত্রী, বড় ব্যবসায়ী,উপর মহলের এমন অনেক হাত জড়িয়ে আছে এই খেলায়, যাদের নাম সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না।আর এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।মাথার উপর রাজনৈতিক ছায়া থাকলে অপরাধীদের মাঝে এক ধরনের ডোন্ট কেয়ার ভাব চলে আসে। তারা জানে, শেষ মুহূর্তে কেউ না কেউ এসে ঠিকই বাঁচিয়ে দেবে।অভীর ক্ষেত্রেও বিষয়টা ঠিক তেমন।
তার বয়স কম, কিন্তু সাহস ভয়ংকর। কারণ সে জানে,তার মাথার উপরে শক্ত হাত আছে।তাই পুলিশ, আইন, কেস,কিছুতেই খুব একটা ভয় পায় না সে।কিন্তু একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরছিল রেহমানের মাথায়।নেতাদের মাথার উপরে কার হাত?কে চালাচ্ছে পুরো খেলাটা?কে সেই মানুষ, যার কারণে এত বড় সিন্ডিকেট বছরের পর বছর টিকে আছে?
চোখ বন্ধ করে চেয়ারে হেলান দেয় রেহমান। ক্লান্তি ধীরে ধীরে ভর করছে শরীরে। কিন্তু মাথার ভেতরের অস্থিরতা থামছে না।
দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে রাত বারোটা পেরিয়ে গেছে।সময় যায়, কিন্তু তার ভাবনার শেষ নাই।
হঠাৎ করেই কোনো নক না করেই চেম্বারের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ে রোমিও। দরজাটা ধাক্কা খেয়ে শব্দ করতেই ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসে রেহমান। কপাল কুঁচকে বিরক্ত চোখে তাকায় সে।রোমিও ঢুকেই হাঁপাতে হাঁপাতে শুরু করে দেয় তার চিরচেনা ভাট বকা।
“স্যার, আর একটু হলেই আমি ধরতাম!”
রেহমান চুপচাপ তাকিয়ে থাকে তার দিকে। কোনো কথা বলে না।রোমিও সামনে এসে চেয়ার টেনে বসে পড়ে। তারপর হাত নেড়ে নেড়ে বলতে থাকে,
“কিন্তু সমস্যা হইলো কী জানেন? আমি লাফ দিতে পারি
নাহ”
“কেন?”
রোমিও গভীর আফসোসের সুরে বলে,
“প্যান্ট ফেটে যাওয়ার ভয়ে স্যার! তার উপরে বাঁশের
বেড়া!”
“ what is বাঁশের বেড়া? “
রেহমান ঠাণ্ডা গলায় প্রশ্নটা করতেই রোমিও হাত নেড়ে বুঝানোর ভঙ্গি করে বলে,
“little bamboo খাঁড়া খাঁড়া তার উপরে প্যারেক মারা that’s called বাঁশের বেড়া।”
রোমিওর উত্তর শুনে রেহমানের মুখ ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে আসে। চোয়াল চেপে ধরে সে। চোখের কোণে জমে ওঠে স্পষ্ট বিরক্তি।একদিকে রাতভর অপারেশন ফেইল হওয়ার রাগ, অন্যদিকে রোমিওর আজগুবি ব্যাখ্যা।সব মিলিয়ে তার মেজাজ ভয়ংকর হয়ে উঠছিল।রেহমানকে এভাবে ফুলতে দেখে রোমিওর সাহস মুহূর্তেই অর্ধেক হয়ে যায়। সে ধীরে ধীরে চেয়ারের সঙ্গে গা মিশিয়ে বসে পড়ে। মুখের ভাব এমন, যেন এখন নিঃশ্বাস নিলেও সমস্যা হতে পারে।কারণ সে খুব ভালো করেই জানে,এই মুহূর্তে মুখ খুললেই বিপদ।কিন্তু স্বভাব কি আর এত সহজে বদলায়?রোমিওর ক্ষেত্রেও হলো না।কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ থাকার পর আবারও সাহস,করে মুখ খুলে বসে সে।
“স্যার! এই ছোট্ট একটা সিন্ডিকেট। এদের নিয়ে এত চিন্তার কী আছে? ছোট্ট একটা ঢাকা শহর… আমরা গেলেই তো ধরে ফেলতে পারি!”
কথাটা শুনে ধীরে ধীরে ভ্রু কুঁচকে তাকায় রেহমান। তারপর খুব শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করে,
“এইচএসসি পাস করছো?”
রোমিও দ্রুত মাথা নাড়ে।
“জ্বী স্যার।”
“অনার্স?”
“জ্বী স্যার!”
“বাসার কেউ রাজনীতির সাথে জড়িত?”
“না স্যার!”
রেহমান চেয়ার থেকে সামান্য সামনে ঝুঁকে আসে। চোখে বিরক্তি স্পষ্ট।
“মূর্খ! এত জ্ঞান স্বল্পতা কেন তোমার?”
রোমিও মুখ ছোট করে ফেলে। কিন্তু কৌতূহল তখনও যায়নি তার।ধীরে ধীরে আবার বলে,
“কিন্তু স্যার… পুরান ঢাকার ছোট্ট সিন্ডিকেট কী আর এমন করতে পারে?”
রেহমান কিছুক্ষণ চুপচাপ তার দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর টেবিলের উপর রাখা একটা ফাইল তুলে সামনে ছুঁড়ে দেয়।
“ছোট্ট সিন্ডিকেট বলছো?”
রোমিও তাড়াতাড়ি ফাইলটা হাতে নেয়।রেহমান ধীরে ধীরে বলতে শুরু করে,
“এই শহরের অর্ধেক অবৈধ ড্রাগ কারা চালায় জানো? কারা অস্ত্র ঢুকায় জানো? কারা নির্বাচন সময় এলাকায় এলাকায় টাকা বিলায় জানো? রাতারাতি প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করা করতে সক্ষম জানো? এই ছোট্ট সিন্ডিকেট।”
রেহমান আবার ও বলতে শুরু করে।
“তুমি শুধু পুরান ঢাকার কয়েকটা গলি দেখো। আমি দেখি ওই গলির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোকে।”
রেহমান চেয়ার থেকে উঠে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। বাইরে গভীর রাত। দূরে পুলিশের গাড়ির লাল-নীল আলো জ্বলছে।নিচু গলায় আবার বলে,
“এই খেলায় যারা সামনে থাকে, তারা আসল খেলোয়াড় না। আসল মানুষরা থাকে পর্দার আড়ালে। হয়তো আমার চাকরিটা ও বেশিদিন থাকবে না।”
একটু থামে সে।তারপর ধীরে ধীরে রোমিওর দিকে তাকায়।
“অভী শুধু একটা ঘুঁটি। ভয় পাই আমি… যার হাতে ওই ঘুঁটি চলে তাকে। তোমার কী মনে? ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী তানভীর সরকারের গাড়িতে কেন হামলা হয়েছিলো? দেশ থেকে শুধু ছেলে শিশু গিলো কেন গায়েব হচ্ছে? দুই দিন পরপর একজন হিন্দু এবং আরেকজন মুসলিমের লা’শ কেন পাওয়া যাচ্ছে? ২০০২ সালো উসমান সাহেবকে কারা খু:ন করেছিলো? ”
“ উসমান সাহেব?’’
“ সিন্ডিকেটের বেতাল বাদশা বলা হতো তাকে। কিন্তু তার লা’শ বুড়িগঙ্গার ধারে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি থাকতে কোনো হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা লাগেনি। তাহলে এখন কেন লাগছে? আর!”
“ আর কী স্যার?”
“R’D’X গুলো কোথায় লুকোনো রয়েছে? এর হুদিস কে জানতো জানো?’
‘ কে স্যার?’
‘ উসমান সাহেব!’
‘ কিন্তু তিনি তো মারা গেছেন। তাহলে এখন কে জানে?’
রেহমান কিছু চুপ করে থাকে। তারপর বলে,
‘ যে জানে তার হুদিস পুলিশ আজ অব্দি পায়নি। হয়তো এর উত্তর খুঁজতে গেলে আমাকে ও লা’শ হতে হবে। কোনো এক রাস্তায়, আমার লাশ ও বিভৎস অবস্থায় পাওয়া যাবে।”
রেহমানের শেষ কথাটা শুনে কিছুক্ষণ চুপ হয়ে থাকে রোমিও। তার মুখের আগের হাসি, ভাঁড়ামো সব ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। হঠাৎ করেই চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায় সে। তারপর ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে রেহমানের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়।
রেহমান কিছু বুঝে ওঠার আগেই আচমকা তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রোমিও।তারপর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করে।রেহমান প্রথমে একটু থমকে যায়। তারপর ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছাড়ে। সে জানে, রোমিও বাইরে থেকে যতই হালকা স্বভাবের হোক, ভেতরে ভেতরে মানুষটা খুব আবেগী।রোমিও তাকে শুধু অফিসার হিসেবে দেখে না।বড় ভাইয়ের মতো দেখে।ভরসার জায়গা হিসেবে দেখে।রেহমান ধীরে ধীরে তার পিঠে হাত রাখে। কিছু বলে না। কারণ অনেক সত্য শব্দে বলা যায় না।চুপচাপ জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকে সে।এই চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর খুব দ্রুত একটা জিনিস বুঝে গিয়েছিল রেহমান,আইন বইয়ে যেভাবে লেখা থাকে, বাস্তব দুনিয়ায় ঠিক সেভাবে কাজ করে না।ক্ষমতাবান মানুষের কাছে আইন অনেক সময় বিক্রি হয়ে যায়।
টাকার কাছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে, ক্ষমতার কাছে সত্য চাপা পড়ে যায় খুব সহজে।
আজ যাদের ধরতে চায় সে, কাল হয়তো তাদের সাথেই কোনো মন্ত্রী হাসিমুখে ছবি তুলবে। যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড় করতে রাত জাগে, কয়েকটা ফোন কলেই তারা জামিন পেয়ে বাইরে ঘুরবে।
আর এই খেলায় সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো,যে বেশি সত্য জানে, তার বাঁচার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম।রেহমান সেটা জানে।খুব ভালো করেই জানে।হয়তো একদিন তাকেও মরতে হবে।হয়তো কোনো অন্ধকার রাস্তায়, হয়তো সাজানো দুর্ঘটনায়, কিংবা এমনভাবে,যাতে মানুষ বিশ্বাসই করে নেয় এটা স্বাভাবিক মৃত্যু।কারণ সত্যের চেয়ে ক্ষমতা অনেক বড় এই সমাজে।তবুও সে থামেনি।হয়তো একগুঁয়েমি থেকে।হয়তো নিজের বিবেকের কাছে হেরে যেতে চায় না বলে।রোমিও তখনও তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে । আর রেহমান স্থির চোখে বাইরে তাকিয়ে থাকে, যেন রাতের অন্ধকার ভেদ করে ভবিষ্যৎ দেখার চেষ্টা করছে।
–রাত তখন অনেক গভীর। পুরো গ্যারেজ নিস্তব্ধ। দূরে কোথাও কুকুরের ডাক ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। নিজের ছোট্ট রুমের বিছানায় আধশোয়া হয়ে ফোন স্ক্রোল করছিল অভী। তবে অন্যদের মতো কোনো সোশ্যাল মিডিয়া না। তার চোখ ছিল নিজের গ্যালারিতে জমে থাকা কিছু ছবিতে।আনন্দীর ছবি।
একটার পর একটা ছবি দেখতে থাকে সে । কখনো জুম করে চোখের দিকে, কখনো ঠোঁটের দিকে, কখনো ভয় পাওয়া মুখটার দিকে স্থির হয়ে তাকিয়ে ছিলো সে। ঘরের ম্লান আলোয় তার চোখদুটো অদ্ভুতভাবে চকচক করছিল।হঠাৎ করেই নিজের অজান্তে নিচু স্বরে বলে ওঠে,
“একের মাল…”
কথাটা বলেই ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে ওঠে তার। এডামস অ্যাপেল ধীরে ধীরে ওঠানামা করছিল। মাথার ভেতর জমতে থাকে অদ্ভুত কামনা আর অধিকারবোধের মিশ্র অনুভূতি।কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে থাকার পর ফোনের ডানপাশে সময়ের দিকে নজর যায় তার।রাত অনেক।আনন্দী হয়তো এখন ঘুমিয়ে আছে।
হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর আর খোঁজ নেওয়া হয়নি তার।
অবশ্য পুরো ঘটনাটার পর্দার আড়ালের খেলোয়াড় তো অভী নিজেই ছিল। আনন্দীকে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থাও সে করেছিল। এমনকি গোপনে রেহমানের কাছেও খবর পৌঁছে দিয়েছিল সে। এরপর রেহমানই খবর দেয় আনন্দীর বাবা-মাকে।সবকিছু দূর থেকে নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে অভী।কিন্তু তারপর আর যোগাযোগ হয়নি।হঠাৎ কী মনে হতে ওয়াটসঅ্যাপে ঢুকে আনন্দীকে ভিডিও কল দেয় সে।কল যায় না।প্রথমে ভ্রু কুঁচকে তাকায় অভী। আবার চেষ্টা করে।তবুও একই।তারপর একে একে সব জায়গায় চেক করতে শুরু করে,হোয়াটসঅ্যাপ, নম্বর, সোশ্যাল মিডিয়া।সব জায়গাতেই ব্লক।কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে বসে থাকে সে।তারপর আচমকাই বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়।চোখেমুখে বিরক্তি আর অবিশ্বাস স্পষ্ট।
উন্মাদনা পর্ব ২৭
“আমারে ব্লক করলো?”
পরক্ষণেই দাঁত চেপে নিচু গলায় বলে ওঠে,
“মরার পাখনা গজাইছে বান্দীর…”
রাগে তার চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। ফোনটা হাতের মুঠোয় চেপে ধরে এদিক-সেদিক পায়চারি করতে থাকে সে। যেন ব্যাপারটা তার পুরুষ অহংকারে সরাসরি আঘাত করেছে।
“ নাহ! শেখের বেটির সান্ডে মানডে ক্লোজ করতে হইবো। “
