এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৭
Chadny islam
দেখতে দেখতে কেটে গেলো আর ও দুইটি দিন, রিমঝিম এর মৃত্যুর পর থেকে সবারি মন মেজাজ খারাপ! হাসি খুশি মানুষ এর মুখ গুলা যেনো বিলীন হয়ে গিয়েছে! কারোর মুখের দিকে তাকানো যায় না! আশরাফ সিকদার এর নির্দেশে কলির পাশের কবর স্থানে রিমঝিম কে কবর দেয়া হয়েছে! এখন রিফাত শুধু কলি কে নয় বরং রিমঝিম কেও পাহারা দেয়! রিফাত এর সাথে মাঝে মাঝে আদিব এসে যোগ হয়! দরতে গেলে দিন এর বেশির ভাগ সময় পরে থাকে রিমঝিম এর কবর এর সামনে! আর এ দিকে রিফাত তাকে দেখলে কেউ চিনতে পারবে না, বিশাল বড় বড় দাড়ি চুল গুলোও বেশ বড়, সেই সাথে কলির দেয়া চাদর বেশ পুরনো হয়ে গিয়েছে! গায়ে পরিহিত শার্ট কিছু কিছু জায়গায় ছিড়ে গিয়েছে! কত দিন হয় গোছল করে না, নিজের বাড়িতে যাই না! এখনে পরে পরে অপেক্ষা করে কলির জন্য!ওই যে কলি বলে ছিলো ঘুম শেষ হলে তাকে ডাকবে! সেই ডাক এর অপেক্ষা বসে আছে রিফাত, একবার কলি ডাকলেই চলে যাবে!
আশরাফ সিকদার মোটা চশমা চোখে দিয়ে বসে আছেন” আসরের নামাজ শেষ করে! ওনার পাশেই বসে আছেন অদম বাবা আদিস সিকদার! মাইমুনা সিকদার মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে একটি বারের জন্যও কথা বলেন নি আদিস সিকদার এর সাথে!
আদিল গত দুইদিন দরে বাড়ি ফিরছে না, তার ফোন টাও বন্ধ, ইরা সেদিন যে জ্যাকেট এর মাঝে বডি ক্যামেরা লাগিয়ে ছিলো, ওই লোকেশন টা ব্যাক্ল রোজ বাড়ির দিকে, রিমঝিম এর মৃত্যুর ফলে আদিল কে খুজতে যাওয়া হয় নি! তবে ঠিক করছে আজকে বিকেলে যাবে কেউ একজন কে সাথে করে নিয়ে!তার প্রেগন্যান্সের কথা টাও জানানো হয়নি কাউকে! আদিল বাড়িতে ফিরলে সবাই কে শুনাবে এই সুসংবাদ টা! কিন্তু আদিল ওই বাড়িতে কি করে! এই প্রশ্ন টা কুরে কুরে খাচ্ছে ইরা কে!!
ফ্ল্যাশব্যাক,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“”আমি কিন্তু বিকেলে নানুর বাসায় যাবো, আপনি নিষেধ করতে পারবেন না!
“”ওকে যাও, তবে উল্টা পাল্টা চলাফেরা করবা না,আর দ্রুত চলে আসবা!
রিমঝিম কপাল কুঁচকে ফেললো, এবং বললো!!
___আমি তো আপনার সাথে যাবো, ভাইয়া বলে ছিলো নিয়ে যাবে, আমি নিষেধ করেছি, আর বলেছি আপনি আমার সাথে যাবেন! আমি আমার ডক্টর সাহেব এর সঙ্গেই যাবো!
আদিব মৃদু হেসে বলল,
___কখন যাবেন ম্যাডাম??
“”বিকেলে আপনি নিয়ে যাবেন তো আমাকে??
“””অবশ্যই নিয়ে যাবো! আপনি কিছু সময় অপেক্ষা করবেন তাহলেই হবে!
“”আচ্ছা শুনেন!
“হহম বলেন ম্যাডাম.!
“আমি তো আপনার বউ তাই না, তাহলে কেন ম্যাডাম বলে ডাকেন, একটু বউ বলে ডাকলে কি হয়???
“”আপনি এখনো বউ হননি ম্যাডাম, তবে খুব তাড়াতাড়ি হবেন, তখন সারাখন আপনাকে বউ বলে ডাকবো!
না না এখন ডাকেন,
শখ কত, ডাকবো নি পরে তোমার সামনে গিয়ে!
ওকে! খুশি খুশি মনে রিমঝিম কল টা কেটে দিলো! এরপর নিজের সব জামা কাপড় গুজাতে লাগলো! কিছু খন পর বেরিয়ে যাবে বাসা থেকে!
লিয়ম ল্যাপটপে কাজ করছিলো, পাশের রিমঝিম এর মা ভাত মেখে মেয়ে কে খাইয়ে দিচ্ছে ! লিয়ম রিমঝিম কে উদ্দেশ্য করে বললো!!
____নানা ভাই কল করে ছিলো, সন্ধ্যার আগে যেতে বলেছে বাসায়! ওই পাশের জঙ্গল নাকি ডাকাতি সেই সাথে চুরি ও হয়! আমি যাই তোকে দিয়ে আসি!
রিমঝিম মাথা ঝাঁকিয়ে নিষেধ করলো, এরপর বললো!!
____আদিব নিয়ে যাবে আমাকে, আমি ওর সাথেই যাবো!
রিমঝিম এর মা কপাল কুঁচকে ফেললেন, এবং রাগী গলায় বললেন!!
____বিয়ে হয়নি এখনো, এত ঘুরাঘুরির কি প্রয়োজন!
রিমঝিম আর খাবো না বলে! উঠে দাড়াতে দাড়াতে বললো!!
____ঘুরাঘুরি কই করছি আম্মু, আমি তো নানা বাড়ি যাচ্ছি!
কথা শেষ করে রিমঝিম রুমে গিয়ে, জামা কাপড় পরে রেডি হয়ে নিলো, নিজের প্রয়োজনীয় সব কিছু নিয়ে সবাই কে বাই বলে হাটতে শুরু করলো, তারপর আদিব কে কল করলো! দুই তিন বার কল করার পর আদিব কল টা রিসিভ করলো!
____হা বলে!
“”আপনি কোথায়???
“”আমি হসপিটালে আছি, একটা ইমারজেন্সি রোগী আসছে ঘন্টা খানেক লাগবে, তুমি কই!
রিমঝিম অভিমান করে বললো!!
____তাহলে আপনাকে আসতে হবে না,
“”কোথায় তুমি??
“”বাসা থেকে বের হয়েছি, আমি একাই যেতে পারবো আপনাকে আসতে হবে না!
আদিব বুঝতে পারলো রিমঝিম গাল ফুলিয়ে বলছে সেসব, তাই আদিব রিমঝিম কে মানানোর জন্য বললো!!
____আমার পাগলী বউ! আমার একটু বেশি ইমারজেন্সি কাজ আছে, তুমি প্লিজ ভাইয়ার সাথে যাও আমি তোমাকে কিছু খন পর কল করছি!
“””আমি একাই যেতে পারবো, আমার ফোনে চার্জ নেই, নানা বাড়ি গিয়ে তারপর আপনাকে কল করবো!
রিমঝিম নিজের অভিমান সব মিলিয়ে ফোন টা কেটে দেয় আদিব এর মুখের উপর, অন্যদিকে আদিব চলে যায় অটিতে!
রিমঝিম বেশ অভিমান করে আদিব এর উপর, তাকে একটু সময় করে নিয়ে গেলে কি এমন হতো, পুরনো হয়ে গেছি আমি তাই না, আর কথায় বলবো না আপনার সাথে! রিমঝিম কিছু রাস্তা হেঁটে যাওয়ার পর সামনে একটা রিকশা দেখে ডাকে, সঙ্গে সঙ্গে রিকশা টা রিমঝিম এর সামনে এসে দাড়ায়! রিমঝিম ও গুড গালস এর মতোন উঠে পরে রিকশাই!নিদিষ্ট লোকেশন অনুযায়ী রিকশা টি রিমঝিম কে নামিয়ে দেয়! এরপর অন্য আরেক টি গাড়িতে উঠার জন্য প্রস্তুতি নিলে পাশ থেকে ডাকে রিয়া! এই রিয়া মেয়েটি রিমঝিম এর নানুর বাড়ির কিছুটা কাছে, পাশের কলেজে পরে! তাই ভাবলো দুইজন আড্ডা দিতে দিতে না হয় চলে যাবে! হলো ও তাই কথা বলতে বলতে চলতে লাগলো! সামনে যে বড় একটা জঙ্গল এ কথা খেয়াল ও ছিলো না কারোর! বড় জঙ্গলের সামনে আসতেই দুইজন বেশ ভয় পেতে লাগলো, এই খানে গাড়ির সংখ্যা খুবি কম! খুব বেশি গাড়ি যাতায়াত করে না! চলতে চলতে যখন জঙ্গল এর ঠিক মাঝখানে ঠিক তখন আশে পাশে কিছু লোক এসে গিরে দরে দুইজন কে! এক সাথে এত গুলা লোক দেখে রিমঝিম রিয়া ভয়ে কুঁকড়ে উঠে, কাঁপা কাঁপা গলায় বললো!!
___ভাইয়া আমাদের কে যেতে দেন!
পাশ থেকে একটা লোক বললো!!
___আবশ্যই বোন তোমরা যাও!
লোকটার যাও বলতে দেরি সঙ্গে সঙ্গে দুইটা শক্ত হাতের ঘুসি বসাতে দেরি হলো না!সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটি মাটিতে পরে ছটপট করতে লাগলো! পাশে ঘুসি মারা সেই লোকটি বলে উঠলো!!
___এত মায়া থাকলে এই সা***য়ার কাজ করতে আইছোস কেন! ওরে লাথী মেরে বের কর এই খান থেকে!
এদের এমন কান্ড দেখে ভয়ে নেতিয়ে গেলো রিমঝিম! রিমঝিম সোজা নিজের গলার চেন এবং কানের দুল হাতে দরিয়ে দিয়ে বললো!!
___ভাইয়া যদি আপনাদের আরও কিছু লাগে আমি তাও দিবো প্লিজ তবু ও আমাদের কে যেতে দিন!
রিমঝিম এর থেকে গহনা গুলো নিয়ে শব্দ করে হেসে উঠলো আর বললো!!
____আমরা ডাকাত নয়! আমরা ভালো মানুষ!
সাথে সাথে একটা ছেলে হাতে থাকা স্পে মেয়েটির নাক বরাবর দরে, সাথে সাথে মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে যায়! তারপর নিজেদের গাড়িতে তুলে রওনা দেয় নিদিষ্ট জায়গায়!
গাড়িতে এই দুই কে নিয়ে আরও পনেরো জন এর মতোন মেয়ে রয়েছে! আজকে শুধু এই জঙ্গল থেকেই তুলা হয়েছে মেয়ে গুলোকে! সবাই ভাববে এইসব ডাকাত এর কাজ কিন্তু না এই মেয়ে গুলো কে তারা দেশের বাইরে পাঠাবে! অডার আছে একেক টা নারীর মূল্য কয়েক লাখ!
প্রায় সন্ধ্যা সাত টার দিকে,
আদিব নিজের কাজ শেষ করে চেম্বারে বসে কল করছে রিমঝিম কে! দুঃখবসত ফোন টা বন্ধ, তখনি আদিব এর মনে পরে রিমঝিম তো তাকে বলেছিলো তার ফোনে চার্জ নেই! হয়তো চার্জ করে তারপর তাকে কল করবে!
ব্লাকরোজ বাড়ির সামনে গিয়ে গাড়িটা টা থামায়, গাড়ির শব্দ শুনে সঙ্গে সঙ্গে গেট খুলে দেয় রতন মিয়ার একমাএ ছেলে রনি! পারুল এর মৃত্যুর পর থেকে রতন মিয়া মানসিক ভাবে দুর্বল! যাকে বলা চলে শয্যা শয়ী, এখন দাড়োয়ান এর পোষ্ট টা রনি কে দেয়া হয়েছে! সে যথেষ্ট ইয়াং বুদ্ধি মান ছেলে দলের সবাই তাকে হিরো বলে ডাকে! গরীব ঘরে জন্ম নেয়ার পর ও তার বুদ্ধি কৌশল অধীক!যাকে বলে শয়তান এর বড় ভাই!
রনি গেট খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় বড় দুইটা গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করে! গাড়িটা বেশ ভেতরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়!তারপর মেয়ে গুলো কে এক এক করে রতন মিয়ার রুমের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করানো হয়! সবার চোখে ব্লাকরোজ বড় বাড়িটা পরলেও রতন মিয়ার ছোট ঘরের ভেতরে যে বড় এক সম্মাজ্য কারোর চোখে পরার নয়! খুব কৌশলে তৈরি করা হয়েছে এই ব্লাকরোজ ঘরটা!
রিজ লুমান এবং প্রিয়াশ চেয়ারের উপর পা তুলে বসে আছে! তাদের কাজ মেয়ে গুলো কে ঠিক মতোন আমেরিকারই পৌঁছে দেয়া!আমেরিকার মোস্ট পপুলার লুশান এর অডারে মেয়ে গুলোকে পাঠানো হচ্ছে! আগের বার ডিল ওকে করতে না পারাই টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছিলো ফ্যান্সে! এবার ফ্যান্স থেকে নয় বরং আমেরিকার থেকে অডার এসেছে যেখানে মেয়ের সংখ্যা পাঁচশো প্লাস! যার দাম বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে প্রায় পঁচিশ কোটি টাকার কাছাকাছি! এবার সবাই মিলে পাক্কা ওয়াদা করেছে এইটাই লাষ্ট! এরপর থেকে আর কোনো মেয়ে পাচার করবে না!
আদিল রিজ লুমান কে আমেরিকায় পাঠিয়ে দিয়ে ছিলো ঠিকি!কিন্তু তার ঠিক তিন দিন পর লুমান হাজির হয় প্রিয়াশ কে নিয়ে! গত দেড় মাস চিকিৎসা নেয়ার পর”প্রিয়াশ এখন আগের থেকে বেশ অনেক টাই সুস্থ! তবে ঠিক মতোন হাঁটতে পারে না খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটে! তাতেও সমস্যা নেই, যেই খানে টাকা সেই খানেই প্রিয়াশ! টাকার লোভ সামলাতে না পেরে লুমান এর সাথে চলে এসেছে বাংলাদেশ!
বাংলাদেশ আসার পর থেকে প্রিয়াশ এই বাড়িতেই আছে! এর মাঝে রিজ লুমান বেশ অনেক টাই ফোর্স করে আদিল কে এই বাড়িতে এনে ছিলো! ফোর্স টা এই রকম তাদের সাথে যা কথা হয়েছে বা ডিল হয়েছে আগের সব কিছু অস্ত্র পাচার নারী পাচার সব কিছু প্রকাশ করে দিবে! অবশ্য আদিল এই সব কিছুতে ভয় পাই নি! তবে পুরুষ মানুষ টাকার লোভ টাও সামলাতে পারে নি! তাই সবাই মিলে ঠিক করে এই কাজ টাই করবে লাস্ট বারের মতোন! তার পর থেকে সবাই ভালো মানুষ হয়ে যাবে! তবে আদিল এর কঠিন নিষেধ তার এলাকা থেকে কোনো মেয়ে কে তুলা যাবে না! সবাই সঙ্গে সঙ্গে হ্যা বলে দেয়! আর এসব কাজ চলবে কিছুদিন মাএ”তবে খুবি গোপনীয় তার সাথে!।
আজকে প্রায় এিশ জনের মতোন মেয়ে কে তুলে আনা হয়েছে! আরেক দল গিয়েছে মেয়ে তুলতে, তবে এই এলাকা ছেড়ে অনেক দূরে! সেখান থেকে মেয়ে নিয়ে আসলে হয়তো মিলে যাবে! তারপর সবাই কে পাঠানো হবে আমেরিকা লুশান এর ঠিকানায়!আদিল আসে ব্লাকরোজ বাড়ির ভেতরে নিজের প্রয়োজন মতোন সময় কাঁটায়, তারপর নিজেদের মতোন আলাপ আলোচনা শেষ করে আবার চলে যায়! শুধু এই দিক টা নয়, কোম্পানি সেই সেই সাথে রাজনীতির দিক টাও দেখতে হয় তাকে!
রাত দশ-টার দিকে,
প্রিয়াশ এবং লুমান এক এক করে সব মেয়ে গুলা কে গুনা শুরু করে তারা মুলত পাঁচশো মেয়ে কে দিবে এর বেশি নয়!, তার বেশি হলে মেরে ফেলবে, এবং নিজেদের…..
পুরো রুম জুড়ে মেয়ে পড়ে আছে অজ্ঞান হয়ে, তাড়াছা ডক্টর তো আছেই ঘুমের ইনজেকশন দেয়ার জন্য!এখন মেয়ে গুলো কে আজকে রাতে পাঠানো হবে! আমেরিকার লুশান এর কাছে! সেই সব ব্যবস্থা করে লুশানি করে রাখবে! এখন সবার দায়িত্ব ঠিক মতোন গুনে গুনে মেয়ে গুলো কে পৌঁছে দেয়া!
একটা সময় দুইপাশ থেকে গুনা শুরু করলো, এক দিকে প্রিয়াশ অন্যদিকে লুমান! আর যে ছেলেরা মেয়ে তুলে এনেছে তারা আপাতত লাল পানি সেবন করছে সেই সাথে সিগারেট এর ধোঁয়া উড়াচ্ছে পরম আনন্দের সাথে! তাদের দেখে মনে হচ্ছে তারা একেক টা গোল্ডেন এ_প্লাস পেয়ে পাস করেছে! গুনতে গুনতে যখন দেখলো পাঁচশোর থেকে দুইজন মেয়ে বেশি তখন মনে মনে সবাই বেশ খুশি হলো!প্রিয়াশ রনি এবং লুশান ভাবলো, তারা একটা মেয়ে কে দিয়ে নিজেদের মনের মতোন মাস্তি করবে তার বাকি ছেলে গুলা কে একটি মেয়ে দিয়ে দিবে! যাকে বলে তাদের কষ্টের প্রারিশ্রমিক! লুশান এবং প্রিয়াশ সিগারেটে ধোঁয়া ওড়াতে উড়াতে ভাবলো!
___এসব কিছু কোনো ভাবে আদিল কে জানানো যাবে না!
লুমান ও রনি সম্মতি জানিয়ে বললো, ওকে আগে তো চিল হয়ে যাক!
আমেরিকার লুশান মধ্যে রাতের দিকে ট্যাক সহ ছোট বড় পিকাপ পাঠিয়ে দেয়! যে খানে বিভিন্ন জামাকাপড় এবং পন্য সামগ্রি এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাঠানো হয়! আপাতত সেসব ট্যাকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে মেয়ে গুলোকে অবৈধ ভাবে!
প্রায় এক টা নাগাদ চলতে থাকে এই কাজ, রনি বিপুল নিরাপত্তার সাথে বাইরের সব কিছু দেখাশোনা করে! এত রাতে এই ব্লাকরোজ বাড়ির আশেপাশে আসার সাহস টা অনন্ত কেউ দেখাবে না! ভয়ংকর বাড়ি তাছাড়া আশেপাশে ও বেশ জঙ্গল!
আদিল বারো টা নাগাদ চলে গেছে সিকদার মহলে! সে মুটেও ইরার সন্দেহর কারন হতে চাই না বলে! আদিল এর আসা যাওয়া নিয়ে কারো কোনো সমস্যা নেই!আদিল যে তাদের পাশে আছে এই টাই অনেক!
সবাই নিজেদের কাজ শেষ করে গুপ্তঘরে চলে যায়, সেখানে দুইটা মেয়ে রয়েছে বিশেষ করে লুমান এবং রনি পছন্দ করে রেখেছে! মেয়ে টি এখনো অজ্ঞান অবস্থায় পরে আছে! যদি জ্ঞান ফিরে মেয়ে টির তবে আরও ঝামেলা তার কি প্রয়োজন, আমাদের তো মেয়ে হলেই হয়! কথা শেষ করে সবাই শব্দ করে হেসে উঠে,কি কুৎসিত বিকৃত সেই হাসি, দেখলেই গা গুলিয়ে আসে!
রনি এবং লুমান এর পছন্দ কৃত নারীটি আর কেউ নয়, স্বয়ং রিমঝিম এবং রিয়া, রিয়া কে তুলে দেয়া হয় বাকি কয়েক টা পুরুষ এর কাছে! যারা দিন রাত পরিশ্রম করে মেয়ে দের খুঁজ লাগিয়েছে! আর রিমঝিম এর উপর প্রিয়াশ রনি এবং লুমান ঝাপিয়ে পরে! ক্ষুধার্থ বাঘের মতোন ছিরে খেতে থাকে শারীরের প্রতিটি শীরা উপশিরা! বুকের উপর থেকে থাবা মেরে একটানে ওড়না ছুরে ফেলে দেয় মাটিতে, এক এক করে তিনটি পুরুষ নিজে দের চাহিদা মেটাতে থাকে মেয়ে টির উপর, মেয়ে টির ব্যাথা কে তারা পরম সুখ বলে আখ্যায়িত করে, গাড় থেকে শুরু করে গোপনীয় জায়গায় কামুড় সহ খামচে দরে, ঠিক যেমন বাঘ তার স্বাীকার কে দরে! এইভাবে চলতে থাকে পুরো ঘন্টার পর ঘন্টা, একটা সময় মেয়েটির জ্ঞান ফিরে আসে, অল্প অল্প তাকাতেই শরীরে পুরুষ এর বাজে স্পর্শ টের পাওয়াতে “নিজেকে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগে, চেঁচাতে থাকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, কি অদ্ভুত মেয়ে টির চেচামেচির শব্দ শুনে তারা আরও বেশি উওেজিত হতে থাকে, আরও দ্বিগুণ বাজে ভাবে স্পর্শ করতে থাকে মেয়ে টির সাথে, সেই সাথে মেয়েটির মুখে একটি রুমাল গুঁজে দেয়, যাতে করে চেঁচানোর শব্দ টা কম আসে! এই ভাবে বেশ অনেক খন নিজে দের চাহিদা পূরন করে ছেড়ে দেয় মেয়ে টিকে! ছাড়ার সাথে সাথে মেয়েটি কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠলো!
পা..পানি খাবো!
পানির কথা শুনে সব পুরুষ এক সাথে শব্দ করে হেসে উঠলো, মনে হলো তারা কোনো জোকস সুনছে!অন্যদিকে মেয়েটির পানির পিপাসায় নিশ্বাস যায় যায় অবস্থা, মেয়ে টি আবারও কাপা কাপা গলাই বললো!!
___একটু পানি দেন!আমি পা…পানি খাবো!
প্রিয়াশ ওঠে দাড়ায় পানি দেয়ার জন্য!অন্ধকারে কিছু চোখে দেখছে না তাই লাইট ওন করে! লাইট ওন করার সাথে সাথে রিমঝিম নিজের দুই হাত দ্বারা নিজের উ°°°ঙ্গ শরীর টিকে ডাকার ব্যার্থ চেষ্টা করতে লাগলো! প্রিয়াশ জগ থেকে পানি নিয়ে রিমঝিম সামনে গিয়ে চোখের সাথে চোখ পরতেই রিমঝিম বলে উঠে!!
____ভা…ইয়া আপনি??
ভাইয়া! সবাই মাথায় আকাশ ভেঙে পরে এই মেয়ে টি কি তাহলে প্রিয়াশ এর বোন, সবাই ভয়ে টুকরে উঠে,প্রিয়াশ এর হাত থেকে তৎক্ষনাৎ পানির গ্লাস টা নিচে পরে যায়! প্রিয়াশ চট করে বলে উঠলো!!
____তুমি আমাকে চেনো??
রিমঝিম ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেই, পাশেই বিছানার উপর রাখা চাদর দিয়ে নিজের শরীর টাকে ডেকে ফেললো!!ঝরঝর করে কেঁদে উঠলো!! আর বললো___
____আপনার মতোন ভাই কারোর না হোক!
রিমঝিম হুহু করে কেঁদে উঠলো, আর বললো!!
___আল্লাহ বাচিয়েছে, আমার আগে আপনার বোন কলির মৃত্যু হয়েছে! নয়তো আপনার মতোন ভাই থাকার সুখে মেয়ে টিমরে যেতো!,আপনি পুরো ভাই জাতি কে কলঙ্কিত করলেন!
প্রিয়াশ এর যেনো মাথা ঘুরছে, সে কি করলো এইটা শেষ মেশ কিনা নিজের আপন ছোট বোনের.. বান্ধবীর সাথে!ছি ঘৃনায় নিজেই নিজেকে আঘাত করতে শুরু করলো! প্রিয়াশ নিজে কে এমন ভাবে আঘাত করতে দেখে রিমঝিম প্রিয়াশ কে পাগল বলে আখ্যায়িত করলো! রিমঝিম বিছানা ছেড়ে ওঠে নিচে গিয়ে বসলো ঠিক তিনটি মানুষ এর চোখের সামনে থেকে নিজেকে আড়াল করলো!
প্রিয়াশ কে উদ্দেশ্য করে রনি বললো!!
___ভাই কোনো সমস্যা!!
প্রিয়াশ কিছু সময় নিয়ে ভাবলো, এই মেয়ে কে কি করবে, এরে বাঁচিয়ে রাখলেও সমস্যা আবার মেরে ফেললেও সমস্যা! প্রিয়াশ শয়তানি হাসি হেসে বললো!!
___ওরে মেরে ফেল, নিজেরা বাঁচতে চাইলে!
এবং রিমঝিম কে বললো,
___কেন পরিচয় টা দিলি, নয়তো আর কয়টা দিন…..
রিমঝিম বসা থেকে দাড়িয়ে প্রিয়াশ এর মুখে এক দলা থুথু ছুড়ে মারলো, যা প্রিয়াশ এর মুখের উপর গিয়ে পরলো, প্রিয়াশ সঙ্গে সঙ্গে রিমঝিম এর চুলের মুঠি দরে আঘাত করতে লাগলো দেয়ালের সাথে! পর পর কয়েক টা আঘাতে মেয়ে টা কুপকাত, অতিরিক্ত রক্ত ফলন হওয়া এবং সেই সাথে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, প্রিয়াশ শক্ত হাতে গলা চেপে হত্যা করে রিমঝিম কে!
হত্যার করার পনেরো মিনিট পর ম্যাসেজ আসে যেই ম্যাসেজ টা আদিল পাঠিয়ে ছিলো সাথে রিমঝিম এর ছবি দিয়ে! ম্যাসেজ টা এমন ছিলো…..
___আই নো রিমঝিম কে তোরা কিডনাপ করেছিস, বাই এনি চ্যান্স মেয়ে টির কিছু হলে তোদের ফ্রীতে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিবো! ইডিয়েটরা..
প্রিয়াশ সহ সবাই ঘাবড়ে যায়, এখন কি হবে, বাচিয়ে রাখলে হয়তো ভালো হতো, সবাই মিলে খিপ্ত হয়ে ওঠে প্রিয়াশ এর প্রতি, এই সালা বুঝে কম চিল্লায় বেশি! এখন কি হবে! আদিল যদি জানে মেয়ে টিকে মেরে ফেলা হয়েছে তখন কি হবে!
প্রিয়াশ গা জারা দিয়ে বলে উঠলো!!
____আগে ওরে জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আই, পরের টা পরে দেখা যাবে!
রনি বললো”!
____তাহলে সবাই ভাববে ডাকাতরা মিলে তাকে দর্শন করেছে! পরে মেরে ফলছে!
যেই বলা সেই কাজ রাতের অন্ধকার আধারে মেয়ে টিকে নিয়ে ফেলা দেয়া হয় বড় জঙ্গলে!
সেদিন রাতে আদিল আসতে পারে নি রিমঝিম এর খোঁজে! তবে পরের দিনে সকালেই চলে আসে! কিন্তু দুর ভাগ্যবসত কাউকে পাই না আদিল!
তাই আদিল প্রিয়াশ এর বলা কথা বিশ্বাস করে নেই! প্রিয়াশ বলে,
এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৬
___হয়তো মেয়েটিকে ডাকাত বা অন্য কেউ মেরেছে আমরা না! তুই শুধু শুধু ভুল বুঝছিস!
আদিল কে এমন ভাবে ছলা কলা দ্বারা বোঝানো হয়! যে আদিল বিশ্বাস করতে বাধ্য!
বর্তমানে…!
আদিল দুইদিন যাবত বাসায় ফিরছে না, আপাতত ইরা বিকেলের দিকে রেডি হয়ে নিয়েছে, আদিল কে খুজতে ব্লাকরোজ বাড়িতে যাবে বলে!
