এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১৭
ফাতেমা তুজ জোহরা
রত্নকুঞ্জের সীমানা পেরিয়ে গড়িটা তখন অনেক দূরে চলে গিয়েছে। রাতটা অস্বাভাবিক ভাবে নিস্তব্ধ। চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার, কেবল গাড়ির হেডলাইটের দুটো তীক্ষ্ণ আলো অন্ধকার রাস্তার বুক চিঁ*ড়ে সামনে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। রাস্তার দুপাশে সারি সারি গাছ। বাতাসে পাতা গুলো একে ওপরের সঙ্গে ঘষা খেয়ে মৃদু শব্দ তুলছে। কোথাও কোন মানুষের চিহ্ন নেই, নেই কোন বাড়িঘরের আলো। যতদূর চোখ যায় শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার। গাড়ির ভেতরে ও যেন সে অন্ধকারের ছায়া বিদ্যমান রয়েছে।
পেছনের সিটে চাদরে মোড়ানো অবস্থা পড়ে আছে ইনান। চোখ শক্ত করে বন্ধ হয়ে আছে। মুখটা অস্বাভাবিক ভাবে ফ্যাকাশে। গালের পাশে শুকিয়ে যাওয়া অশ্রুর রেখা স্পষ্ট। কয়েকগাছি চুল এলোমেলো হয়ে তার মুখে পড়ে আছে। অবচেতন অবস্থাতে ও তার বুক ধীরে ধীরে ওঠানামা করছে।
গাড়ির চালক মাঝেমধ্যে রিয়ারভিউ মিররে তাকাচ্ছে। তার নিজের বুকের ভেতর ও কেমন একটা অ*স্ব*স্তি জমে উঠেছে। তবুও সে গাড়ি থামাচ্ছে না। একটাই নির্দেশ মেয়েটাকে উত্তরের জঙ্গলে ফে**লে আসতে হবে ।
পাশে লাঠিয়াল নির্বিঘ্নে ঘুম পারছে, গাড়ির দুলনিতে থেকে থেকে তার ভারী শরীরটা ঝাঁকি দিয়ে উঠছে। এবার গাড়ির নিচে একটা বড় ইট পরায় গাড়িটা জোরে দুলনি দিয়ে উঠতে লাঠিয়ালের দুই চোখের ঘুম পালিয়ে গেল। সে ধ*ড়*ফ*ড়ি*য়ে উঠে বসে পিছনে তাকালো। ইনানকে একভাবে শুয়ে থাকতে দেখে মনটা শান্ত হলো তার । মনে মনে যতই সাহস নিয়ে বসে থাক না কেন। মনের মধ্যে কোথাও একটা ভ*য় তীব্র ভাবে কাজ করছে তার। লাঠিয়াল আবারো ঘুমের চেষ্টা করতে লাগলো। এভাবে গাড়িটা কিছুদূর এগিয়ে যেতেই…
হঠাৎ
সামনের অন্ধকারে এক ঝলক আলো দেখা গেল। আলোটা এতটাই তীক্ষ্ণ ভাবে পড়েছে যার জন্য ড্রাইভার চোখ বন্ধ করতে বাধ্য হলো। সে আন্দাজে গাড়ির গতি কমিয়ে দেয়। গাড়ির গতি কমাই ঘুমের ঘোরে লাঠিয়ালের কপালে গাঢ় ভাঁজ পরলো।সে চোখ খুলতে যাবে কিন্তু পারলো না। আলোটা এসে তার চোখে পড়লো। ড্রাইভার ভাবলো হয়তো বড় ট্রাক আসছে তাই কোনরকমে চোখ খুলে আবারো স্টিয়ারিং এ হাত দিয়ে গাড়ির গতি বাড়াতে গিয়ে এবার আচমকা ব্রেক কষলো। গাড়ির চাকা ঘর্ষনে কাঁপতে কাঁপতে থেমে গেল। সামনের উদীয়মান দৃশ্য দেখে ড্রাইভার পুরো শ*রী*র কাঁপতে লাগলো।
সামনে দাঁড়িয়ে আছে তিনটা মার্সিডিজ গাড়ি। তিনটা গাড়ি রাস্তায় আড়াআড়ি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় পঞ্চাশ টা আধুনিক kawaski ninja h2 বাইক । তার পেছনে আরো কয়েকটি কালো স্পোর্টস বাইক। চালকদের প্রত্যেকের পরনে কালো পোশাক, মাথায় কালো হেলমেট।তারা এমন নিঁখুত দুরত্ব বজায় রেখে দাঁড়িয়ে আছে যেন মনে হচ্ছে প্রত্যেকটা বাইকে আলাদা কোন মানুষ নয় এটা পরিকল্পিত বাহিনী।
লাঠিয়াল ধীরে সুস্থে চোখ খুলে সামনে তাকাতেই সে নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেল। ড্রাইভারকে বলল, ” গাড়িটা পিছনে লইয়া চল? তার কথা শেষ হওয়ার আগেই ড্রাইভার হাওয়ার বেগে গাড়িটা পিছনে দিকে নিতেই আবারো আতঙ্কিত হলো। পিছনে আরো হেডলাইটের আলো আসছে। সে তাড়াতাড়ি করে রিয়ারভিউ মিররে তাকালো। তার গলা শু*কি*য়ে কা*ট হয়ে এলো। পেছন দিকে চারটা গাড়ি। সে ডানদিকে গাড়ি নিতেই দেখলো জঙ্গলের মাঝ থেকে আরো পাঁচটা গাড়ি আর বাইক বেরিয়ে আসছে। এবার সে বামদিকে তাকালো। বামদিকে ও একই অবস্থা।
মুহুর্তেই তাদের গাড়িটাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলল কালো রঙের মার্সিডিজ কার আর কালো রঙের বাইক। একটা নিঁখুত বৃত্তের মতো করে। পা*লা*নো*র কোন রাস্তা নেই। ড্রাইভরের হাত স্টিয়ারিংয়ের উপরে জমে গেল।
একটা ও জায়গা ফাঁকা নেই। কোন পথ খোলা নেই। লাঠিয়াল ভ**য়ে থরথর করে কাঁপছে। সে জানে গাড়ি গুলো কার। সে জানে এই লোক গুলো কার। আর সবচেয়ে ভ*য়ং*ক*র ব্যাপার সে জানে গাড়ি গুলো কেন এখানে এসেছে। তার হাতদুটো কাঁপতে লাগলো। ঠোঁট শুকিয়ে কাঠ হয়ে এলো। মুখ দিয়ে অস্ফুটেস্বরে বেরিয়ে এলো, ” না না!
ড্রাইভার লাঠিয়ালের দিকে তাকিয়ে ভ**য় মিশ্রিত গলায় বলল,” এগুলো কি এমপি লোক “বলেই লাঠিয়ালের দিকে তাকায়। লাঠিয়াল কোন উত্তর দিলো না। তার চোখ শুধু গাড়ি গুলোর দিকে। একটার পর একটা গাড়ির দরজা টাস,টাস,টাস করে খুলতে লাগলো। কালো পোশাক পরা স*শ*স্ত্র লোকেরা গাড়ি থেকে নেমে আসছে। লাঠিয়াল ভেতরটা হাঁসফাঁস করতে লাগলো। কালো পোশাক ধারী লোক গুলোকে দেখে। কারো হাতে রা*ই*ফে*ল, কারো হাতে আধুনিক য*ন্ত্র, তারা কোন হৈচৈ করছে না, কেউ চি*ৎ*কা*র করছে না। শুধু নির্দিষ্ট দুরত্বে দাঁড়িয়ে পুরো গাড়িটাকে ঘিরে ফেলেছে। এই নিরবতাটাই বড্ড ভ*য়ং*ক*র । লাঠিয়াল জানে রুশভিয়ানের লোকজন এত চুপচাপ থাকে, তখন বুঝতে হবে সামনে কিছু ঘটতে চলেছে।
সে ধীরে ধীরে সিটে গা এলিয়ে দিলো। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা হয়েছে। বুকের ভেতরের হৃদপিণ্ডটা এমন ভাবে ধুকপুক করছে, মনে হচ্ছে এক লাফে বাইরে চলে আসার যোগার। লাঠিয়াল একবার পিছন দিকে তাকালো। তারপর নিজের দুইহাতের দিকে।
এই হাত দিয়ে টাকার লো**ভে মেয়েটাকে রত্নকুঞ্জ থেকে নিয়ে এসেছে।সে জেনে শুনে এই হাত দিয়ে নিজের ক*ব*র নিজেই খুঁড়েছে। হঠাৎ সামনের গাড়ির দরজা সশব্দে খুলে গেল। বাইরের কালো পো*শা*ক ধারী লোক গুলো সটান হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। লাঠিয়ালের বুকের ভেতটা আবারো কেঁ*পে উঠলো। সে বুঝে গেল, সে আসছে।
_”এমপি রুশভিয়ান মির্জা”
কয়েক মুহূর্তের পর অন্ধকারের ভেতর থেকে একজন মানুষ ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। পরনে কোন দামী স্যুট নেই, কোন জাঁকজমক নেই।শুধু সাধারন একটা শার্ট, আর কোমড়ে লুঙ্গি। কিন্তু সেই সাধারন পোশাকের মানুষটাকে দেখে চারপাশের স*শ*স্ত্র লোকগুলো আর ও সর্তক হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। রুশভিয়ানের হাঁটার কোন তাড়াহুড়ো নেই। ঠোঁটে জ্ব*ল*ন্ত সি*গা*রে*ট আর একহাত দিয়ে লুঙ্গিটাকে উঁচিয়ে ধরে আছে। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। তার চোখ দুটো স্থির,মুখে কোন অভিব্যাক্তি নেই। কিন্তু সে নির্লিপ্ত মুখটাই বড্ড ভয়ংকর।
লাঠিয়াল রুশভিয়ানকে দেখামাত্র মাথা নিচু করে নেয়। তার
সারা শরীর কেমন অ*ব*শ হয়ে গেল। মেরুদণ্ড বেয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যাচ্ছে। সে যতটা সম্ভব নিজেকে সিটের আড়ালে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করলো। কিন্তু তাতে লাভ কি। রুশভিয়ান তো জানে। ইনান কে সে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। রুশভিয়ানের পায়ের শব্দ যত কাছে আসছিল, লাঠিয়ালের শ্বাস তত ভারী হয়ে উঠলো। তারা গ*লা শু*কি*য়ে এলো, শুধু মনে একটাই কথা বাজতে লাগলো সে আজকে শেষ।
রুশভিয়ান এসে থামলো। তার দৃষ্টি গেল আটকালো লাঠিয়ালের উপরে। কাঁচ নামানোর জন্য রুশভিয়ান তাকে স্পষ্ট ভাবে দেখতে পাচ্ছে। লাঠিয়াল পুরো বদন মৃ*গী রো*গী*র মতো কাঁপছে। রুশভিয়ান ঠোঁটে ফুটলো বাঁকা হাসি সে হাসি হাসি মুখ নিয়ে বলল,” কি ব্যাপার মাইনুল মিয়া? এত রাইত্তের বেলা কই যাওয়া হইতাছে?
লাঠিয়ালের নাম মাইনুল। মাইনুলের বুকের ভেতরটা ধ*ক করে উঠলো।
রুশভিয়ান সিগারেটে আরেকটা টান দিয়ে পুরো ধোঁয়া মাইনুলের মুখ বরাবর ছেড়ে দেয়। মাইনুল খুঁক খুঁক করে কেঁশে উঠলো।
রুশভিয়ান আবারো বলল,” আরে মিয়া বাইর হও গাড়ি থেইকা, সে ঢাকা থেইকা চইলা আসছি তোমার লগে দেখা করবার লেইগা।কিছুক্ষণ থেমে আবার বলল,” আমি আজ জানলাম আমার দলে সব থেইকা তোমার সাহস অনেক, বাইরে আসো তোমারে পুরুষ্কার দিমু” বলেই পিছনের দরজাটা টেনে খুললো। দৃশ্যমান হলো ইনানের বি*ধ্ব*স্ত মুখ। রুশভিয়ান ইনানের শরীর থেকে চাদরটা একটানে ফেলে ইনানকে কে সযত্নে বুকে আগলে নিলো। রুশভিয়ান এমন শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো যেন ছেড়ে দিলে ইনান পালিয়ে যাবে। রুশভিয়ান বুক থেকে ইনানের মাথাটা তুলে সারা মুখে চু*মু খেতে লাগলো। ইনান অবচেতন অবস্থায় রুশভিয়ানের শার্টের কলারটাকে আকড়ে ধরলো। রুশভিয়ান ইনানের হাতে চু*মু খেয়ে কোলে তুলে এগিয়ে গেল সামনে । দুইজন লোক একটা দামী সোফা এনে দেয়। রুশভিয়ান আয়েশ করে সোফায় বসে পড়লো ইনানকে বুকে চেপে। ইনান উষ্ণ ছোঁয়া পেয়ে আরো গুটিয়ে গেল বুকের সাথে । রুশভিয়ানের কোনদিকে ধ্যান নেই সে ইনানের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
ইতিমধ্যে ড্রাইভার রুশভিয়ান কে দেখে ভ*য়ে আ*ত*ঙ্কে জ্ঞা*ন হারিয়ে সিটে পড়ে আছে। আর দুইজন লোক এসে মাইনুল কে গাড়ি থেকে টে*নে*হিঁ*চ*ড়ে বের করলো। মাইনুল তাদের হাত পা ধরে আকুতি মিনতি করছে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। সে জানে এগুলো করে কোন লাভ নেই তবুও ওদের যদি মনটা গলে ওকে ছেড়ে দেয়। গার্ড দুটো তাকে রুশভিয়ানের পায়ের কাছে মুখের ভরে ফেলে দেয়।
রুশভিয়ান পায়ের উপর পা তুলে আরামে সি*গা*রে*ট টানতে ব্যাস্ত ।মাইনুল ভ*য়ে ভ*য়ে মাথা তুলে পৃথিবীর বড় ঝটকায় টা খেলে। যে মেয়েটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের সাথে ছিল সে মেয়েটা রুশভিয়ানের পিছনে।দাঁড়িয়ে আছে। মুখে তার ক্রু*র হাসি বিদ্যমান। মাইনুল বিরবির করে বলল,” তু তুবা….
তুবা নিজের নাম শুনে শব্দ করে হেঁসে উঠলো। হাসিটা অট্রহাসি নয়। বরং ঠোঁটের কোনে ফুটে ওঠা ধীর, বি*দ্রু*পে*র একটা হাসি। সেই হাসির মধ্যে এমন এক নিশ্চয়তা ছিল, যেন মাইনুলের পরিনতি সম্পর্কে সে অনেক আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তুবা তখন রুশভিয়ানের কয়েক কদম পিছন দাঁড়িয়ে।
তুবার পরনে লেদারের জ্যাকেট, ভেতরে গাঢ় র*ক্তি*ম রঙের সাটিন টপ,। কালো ফিটেড টাওজার, কোমড়ের মোটা লেদারের বেল্ট। পায়ে হাঁটু পর্যন্ত ওঠা কালো লেদার বুট।কবজিতে রুপালি ঘড়ি,আঙ্গুলে দুটো ভারী রিং,।কাঁধ ছুঁয়ে থাকা চুলগুলো খোলা,সামনের কয়েকগাছি চুল কপালের উপরে এসে পড়ছে। মুখে অতিরিক্ত কোন সাজ নেই।
মাইনুল ভ*য়ে শুকনো ঢোক গিলে বললো, ” আপনে এখানে?
তুবা ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। বুটের শব্দে।অন্ধকার রাস্তায় স্পষ্ট হয়ে উঠলো টক,টক,টক শব্দ। মাইনুলের সামনে এসে দাঁড়ালো। তারপর নিচ থেকে মাইনুলকে একবার দেখে নিয়ে বলল,” আমাকে দেখে অবাক লাগছে মাইনুল মিয়া? শেষের শব্দ টুকু টেনে টেনে বলল।
মাইনুল তো*তলাতে তো*তলাতে বলল,” আপনে তো… আমাগো সঙ্গে আছিলেন?
তুবা মুচকি হাসলো তারপর বলল,” ছিলাম, কিন্তু তোমাদের ধারনার বাইরে ছিলাম আমি তোমাদের সঙ্গে মিশে। মাইনুল তুমি একটা ভালো কাজ করেছো আমাকে বিশ্বাস করে। আর সে বিশ্বাস টাই তোমার জীবনের অ*ভি*শা*প হয়ে নেমে এসেছে।
মাইনুল বলল,” সব অভিনয় করতেছিলেন?
তুবা মাথাটা সামান্য কাত করে বলল,” একদম! আই ওয়াজ ইন কন্ট্রোল দ্য হো*ল টাইম।
মাইনুল বি*স্ফো*রি*ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। তুবা তার চারপাশে ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে বলল,” তুমি ভেবেছিলে তোমার আমাকে ব্যবহার করছো। বাট, তুমি জানো না, একজন গ্যাং**স্টা*রে*র সবচেয়ে বি*প*দ*জ্জ*ন*ক ব*ন্দু*ক নই মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলা।
মাইনুলের শরীর শি*উ*রে উঠলো। তুবা আবারো বলল,” তুমি তোমার বিশ্বাসটাকে খুব সস্তায় বিক্রি করেছো মাইনুল।
মাইনুল হাতজোড় করে বলল,” মাফ কইরা দেন আপা?
তুবা সঙ্গে সঙ্গে বলল, ‘ ডোন্ট অ্যাপোলজাইজ? পরক্ষণেই থেমে বলল,” দিস ইজ নেভার ইওর মিশন, দিস ইজ আ ট্র্যা*প মাইনুল? যে ফাঁ*দে তুমি নিজেই হেঁটে ঢুকেছো।
মাইনুল ইংরেজি গুলো না বুঝতে পারলে ও পরের গুলা ঠিক বুঝতে পেরেছে। মাইনুল চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো । তুবা নিচু হয়ে তার সামনে বসে ক্ষীন স্বরে বলল,” রিমেম্বার ওন থিং মাইনুল, গ্যাং**স্টা*রে*র সাথে খেলতে গেলে শুধু সাহস থাকলে হয় না। মস্তিষ্ক লাগে, একটু থেমে বলল,” তুমি দুটোতে হেরেছো ” তুবা তার কথাগুলো শেষ করে এগিয়ে গেল তার জায়গায় ।
রুশভিয়ানের বুকের মধ্যে ইনান ফোঁস ফোঁস করে শ্বাস নিচ্ছে। রুশভিয়ান ইনানের শুকনো ঠোঁটে গভীর চু*মু দিয়ে মাইনুলের দিকে র*ক্ত*চ*ক্ষু নিয়ে তাকিয়ে বলল,” আমার রত্নকুঞ্জ থেইকা আমার বউ পালাইয়া যাইবো আর আমি কিছু বুঝবার পারমু না মাইনুল। তোমার কি মনে হয় মাইনুল আমি ঘাসে মুখ দিয়া চলি? আমার বাড়ি থেইকা যেখানে একটা পিঁপড়ে বাইর হতে পারে না সেখানে আমার বউ পালাই কিভাবে? সেই চিন্তায় আমার রাইত্তের ঘুম হারাম হইয়া গেল। সে লেইগা আসল দো*ষী*রে ধরার লেইগা আবারো গেলাম ঢাকা।
এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১৬
আর রাইখা গেলাম তুবারে যে আমার অন্ধকার জগৎতের একমাত্র সম্বল।কিছুক্ষণ থেমে বলল,, আগে বুঝতে পারছিলাম তিয়াসা সব করতেছে কিন্ত
তার দ্বারা এই কাজ গুলান করা সম্ভব নয়। তাই কাঁ*টা তুলতে কাঁ*টা আনলাম। তিয়াসারে ধরতে তুবার আগমন আর গর্ত থেইকা বাইর হলো বি*ষ*ধ*র গোখরা। যার সব দাঁত আজ আমি ভা**ই**ঙ্গা ফালামু ” কথাগুলো বলে রুশভিয়ান বি**চ্ছি*রি ভাবে হেঁসে উঠলো।
