Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩
সুহাসিনী

লোকের বাসর নিয়ে কত স্বপ্ন থাকে। আর এদিকে প্রেম বাসর রাতে বউ রেখে পার্টি অফিসে বসে বসে একটার পর একটা সিগারেট শেষ করছে।
প্রেমের পার্সোনাল সেক্রেটারি লিয়ন প্রেমের এই অবস্থা দেখে শুধু ঢোক গিলছে। প্রেমের রাগ সম্পর্কে সে আগে থেকেই অবগত। এদিকে প্রেমের বাবা প্রেমকে ফোনে না পেয়ে অনবড়ত লিয়ন কে ফোন করছে।প্রেম তাকে কড়া আদেশ দিয়েছে যেনো বাড়ি থেকে কল আসলে রিসিভ না করে। সে পড়েছে মহা বিপদে। একদিকে বিপদ নিজে তার সামনে দাঁড়িয়ে অন্যদিকে ফোনের অপরপাশে বিপদ পয়দাকারী মানে বিপদের বাবা।
এসব ভাবতে ভাবতেই প্রেমের গম্ভীর গলা তার কানে এলো ,

প্রেম:”কখনো কি শুনেছিস বাসর রাতে জামাই বউ রেখে বসে বসে সিগারেট টানে?”
লিয়ন:”শুনেনি তবে এখন নিজের চোখে দেখছি ভাই।”
প্রেম:”আমাকে এভাবে দেখতে তোর কেমন লাগছে?”
লিয়ন:”আপনার জন্য খুব মায়া হচ্ছে ভাই, বউ থাকা সত্ত্বেও বাসর করতে পারছেন না। এর চাইতে কষ্ট মনে হয় আর নেই।”
শেষের কথাটা খুব দুঃখের সহিত বলল লিয়ন। একটু থেমে ভয়ে ভয়ে আবার বলল,
লিয়ন:”ভাই যদি একটু অভয় দেন তো একটা কথা বলতাম।”
প্রেম:”বল।”

লিয়ন:”আপনার পয়…না মানে আপনার বাবা কল দিয়ে দিয়ে নেটওয়ার্কে যে য ফলা আকার এম, মানে জ্যাম বাঁধিয়ে ফেলছে। একটু কলটা রিসিভ করি?”
প্রেম শক্ত কণ্ঠে বললো,
প্রেম:”যদি ভবিষ্যতে বিয়ে করার ইচ্ছে থাকে এবং বাবা ডাক শোনার ইচ্ছা থাকে তবে এই কথা আর দ্বিতীয় বার মুখে আনবি না।”
লিয়ন চুপসে গেলো। প্রায় দশ মিনিট চলল তাদের নীরবতা। এবারেও লিয়ন নীরবতা ভেঙে বললো,
লিয়ন:”ভাই বলছিলাম কি, ভাবি যদি আপনার বিষয়ে উল্টা পাল্টা ভাবে?”
প্রেম ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো,
প্রেম:”কি উল্টা পাল্টা ভাববে তোর ওই বাচ্চা ভাবি?”
লিয়ন:”না মানে যদি ভাবে আপনি দুর্বল,বাসর রাতে ভয় পাচ্ছেন তাই রাগ দেখানোর ভান করে ভাবির কাছে যাচ্ছেন না।”

প্রেম তড়িৎ গতিতে তাকালো লিয়নের দিকে।লিয়ন প্রেমের দৃষ্টি দেখে ভয়ে ঢোক গিলে তাড়াতাড়ি বলে ফেললো,
লিয়ন:”আসলে হয়েছি কি,আমাদের এলাকার পাশে একজনের এমন সমস্যা ছিলো সেও ভয়ে বাসর রাতে বাইরে ছিল বউ রেখে।পরে তার বউ এটা নিয়ে শালিশ বসিয়ে ডিভোর্স নিয়েছিল।এখন যদি আমাদের ভাবিও আপনার বিষয়ে এসব ভেবে আপনাকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা ভাবে আর….”
ঠাস করে একটা শক্ত হাতের থাপ্পড় অনুভূত হলো লিয়নের গালে।সে মুহূর্তের জন্য টাশকি খেয়ে গেলো। প্রেম গর্জন করে বলে উঠলো,
প্রেম:”আরেকবার যদি ডিভোর্স শব্দটা মুখ দিয়ে উচ্চারণ করিস তাহলে তোর জিভ থাকবে না কথা বলার জন্য, বুঝেছিস।”

লিয়ন মাথা নিচু করে ভদ্র ছেলের মতো বললো,
লিয়ন:”বুঝেছি ভাই।”
প্রেম গটগট পায়ে বেরিয়ে যেতে নিলে লিয়ন পেছন থেকে বলে,
লিয়ন:”কোথায় যাচ্ছেন ভাই?”
প্রেম যেতে যেতে পেছনে না তাকিয়েই উত্তর করলো,
প্রেম:”তোর ভাবির কাছে।আমার যোগ্যতা প্রমাণ করতে।”
প্রেম বেরিয়ে গেলো।প্রেম বেরোতেই লিয়ন গালে হাত দিয়ে কাঁদো কাঁদো মুখ বানিয়ে ফ্লোরে বসে পড়লো।রাগে দুঃখে বললো,
লিয়ন:”শালার জীবন আমার,আগের জন্মে কি পাপ করেছিলাম যে এই জন্মে এরকম খচ্চর বাপ বেটার খপ্পড়ে পড়লাম। গালটা এখনো জ্বলছে। মারলোই যখন আর একটু আস্তে মারলে কি এমন ক্ষতি হতো।”

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২

প্রেম বাড়িতে ঢুকে সোজা নিজের রুমের দিকে হাঁটা ধরলো। পেছন থেকে তার বাবা শক্ত কণ্ঠে বললো,
“তোমার কি কখনো আক্কেল হবে না প্রেম? ছোটো মেয়েটাকে কিভাবে একা ফেলে চলে আসলে।আসলে তো আসলে এতো রাত করে বাসায় ফিরলে । এখন যে তুমি আর একা না সেটা কি মাথায় আছে।”
প্রেম:”বিয়ে তোমরা করিয়েছ।তাহলে বউ এর দায়িত্বও তোমাদেরই।”
“বিয়ে করেছো তুমি আর দায়িত্ব নেবো আমরা, বাহ্ কি সুন্দর কথা।”
প্রেম:”বউ কোথায় আমার?আগে রাতের দায়িত্বটা সেরে আসি পরে নাহয় সকল দায়িত্বের কথা চিন্তা করব আব্বাজান।”
বলেই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো।তার বাবা আহাম্মকের মতো তার চলে যাওয়ার দিকে তাঁকিয়ে রইলো।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪