Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ শেষ পর্ব

এমপির অবাধ্য বউ শেষ পর্ব

এমপির অবাধ্য বউ শেষ পর্ব
সুহাসিনী

ভোর চারটা বেজে ত্রিশ।
সমস্ত পদ্মা সেতু ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। সেতুর এক পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া একটি বাইকের ধ্বংসাবশেষ। রাস্তার ওপর ছোপছোপ রক্তের দাগ। কোথাও ভাঙা হেডলাইটের টুকরো, কোথাও ছিটকে পড়ে আছে বাইকের যন্ত্রাংশ।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই খবরটা আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে-
দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাহির খান প্রেম এবং তার স্ত্রী রাহি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন!
খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, প্রশাসনের লোকজন আর গণমাধ্যমের কর্মীরা ছুটে এসেছে। মুহূর্তেই সেতুর ওপর তৈরি হয়েছে মানুষের ভিড়। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, পুলিশের ব্যস্ততা, মানুষের উৎকণ্ঠিত মুখ,সব মিলিয়ে চারদিক যেন এক অস্বাভাবিক অস্থিরতায় কাঁপছে।

রাহি অনবরত কান্না করছে সেখানেই নেয়া হয়েছে ডাক্তার। তারা রাহির ড্রেসিং করে দিয়েছে।সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেম এর কোনো হদিশ নেই। রাহির ভাষ্যমতে জানা গেছে তাদের বাইককে একটা ট্রাক ধাক্কা মেরেছে পেছন থেকে আর সেখান থেকেই ছিটকে রাহি রাস্তার এক পাশে পড়েছে আর প্রেম ছিটকে নদীতে পড়ে গেছে।এর পর থেকেই চলছে অভিযান। ডুবুরিরা হন্যে হয়ে প্রেমকে খুঁজে চলেছে। সারারাত বৃষ্টি হওয়ায় নদীতে প্রবল স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে।

রাহি যদিও অতটা আঘাত প্রাপ্ত হয়নি।শুধু মাথা ফেটে গেছে আর শরীরের কিছু অংশ ছিলে গেছে। রাহি কেমন পাগলের মতো আচরণ করছে।খুব কষ্টে তাকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া থেকে আটকানো গেছে। এক্সিডেন্ট এর পর রাহি অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিল। আর তাদের বাইক খন্ড বিখণ্ড হয়ে পড়ে ছিল। অন্যান্য গাড়ি চালক এই অবস্থা দেখে তাড়াতাড়ি পুলিশে খবর দেয় আর তার পরই জানা যায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাস্তায় ছোপছোপ রক্তের দাগ। রাহির অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা।চারদিকে শোরগোল লেগে গেছে। আমজাদ খান খবর পাওয়া মাত্রই পাগলের মতো ছুটে এসেছে।সাথে বাড়ির সকলে এসেছে।আয়েশার ফ্লাইট ক্যান্সেল করেছে। প্রেমের কোনো খোঁজ নেই, এতো বড় একটা ঘটনার পর কি করে বিদেশ পারি জমায় নিজের কথা চিন্তা করে? এতোটা স্বার্থপর সে নয়।
সাঈদ বৃষ্টিও উপস্থিত হয়েছে এক্সিডেন্ট স্পটে।রাহির অবস্থা বেগতিক। বৃষ্টি তাকে ধরে রেখেছে।নিজের ছোটো বোনের মতো আগলে নিয়েছে।রাহি বারবার নিজেকে এই এক্সিডেন্ট এর জন্য দায়ী করছে।আজকে যদি সে আবদার না জানত তাহলে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটতো না।

ওইদিকে আফরোজা খান ছেলের জন্য দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি।নিজের জীবনের চেয়েও প্রিয় পুত্রের এই অবস্থার জন্য তিনি রাহিকে দায়ী করলেও এখন তিনি কিছু বলছেন না রাহিকে।বর্তমানে তার প্রেমকে দরকার।যেই ছেলের জন্য তিনি দুনিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে পারেন আজকে সেই ছেলেই বিপদে।নিজেকে কোনো ভাবেই স্তির করা যাচ্ছে না। জ্ঞান ফেরার পর আফরোজা খান ঘৃণিত দৃষ্টিতে রাহির দিকে তাকিয়ে আমজাদ খানকে আহাজারি করে বললেন,
“তোমায় আমি বলেছিলাম এই মেয়ে আমার ছেলের সুন্দর জীবনটা নষ্ট করে দিবে।দেখলে তো এই মেয়ের জন্য এখন আমি আমার ছেলেকে হারাতে বসেছি।”

মায়ের মন যতোই ছেলের বউ এর প্রতি ভালোবাসা থাকুক,সেই ভালোবাসা ছেলের প্রতি মায়ের ভালোবাসার কাছে তুচ্ছ।যেখানে রাহিই নিজেকে দোষারোপ করছে সেখানে আফরোজা খানের দোষারোপ করাটা ভুলের কিছু নয়।
রাহির জীবনটা সবসময় কেনো এমন দুর্বিষহ হয়।সবকিছু পেয়েও যেনো শেষ মুহূর্তে হারিয়ে ফেলে।
আমজাদ খান নিজেকে যথাসম্ভব সামলে নিয়ে এগোলো ছেলের খোঁজ করতে। বাবা হয়েছে,বুকে তো পাথর চাপা দিতেই হবে।নয়তো সেও যদি অন্যদের মতো করে নিজের আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করে তাহলে পুরো পরিবারটাকে সামলাবে কে। বুকের ভেতর টা যদি চিরে দেখাতে পারতো তাহলে হয়তো এই পৃথিবী বুঝত একজন বাবা কত টুকু স্বার্থ ত্যাগ করে নিজের পরিবার,নিজের কাছের মানুষের জন্য।পুরুষ যখন নারীর শখের পুরুষ থাকে তখন থাকে সে স্বার্থপর কিন্তু যখন পুরুষ বাবা হয় তখন সে হয় স্বার্থহীন, নিঃস্বার্থ।
রাহির শারীরিক আঘাতের চেয়ে তার মনের ক্ষত যেন অনেক বেশি গভীর।
রাহি অনবরত কাঁদছে।
কাঁদতে কাঁদতে বারবার একই কথা বলছে,

“আমার এমপি সাহেবকে খুঁজে বের করুন… প্লিজ… আমার এমপি সাহেবকে খুঁজে দিন আপনারা…”
ওকে যেনো কিছুতেই আটকানো যাচ্ছে না।রাহিকে সামলাতে বৃষ্টির বেগ পোহাতে হচ্ছে। সাঈদ আর আমজাদ খান কথা বলছে পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে।আয়েশার অবস্থাও বেগতিক।সে তো ভাইয়া বলতে অজ্ঞান। শান্ত আয়েশাকে আগলে রেখেছে।তার ধীর বিশ্বাস প্রেমের কিছু হয়নি,কিছু হতেই পারে না।
এই অস্থিরতার মাঝেই বৃষ্টিকে ছিটকে ফেলে রাহি এক দৌঁড়ে ব্রীজ থেকে নদীতে লাফ দিতে যায়। উপস্থিত লোকজন আর পুলিশ মিলে কোনো মতে ফিরায় তাকে। বৃষ্টি এসে দ্রুত রাহিকে আগলে নেয় বুকের মাঝে।
রাহি ছটফট করতে করতে বলল,

“চাই না আমার এমন জীবন। যাকে ছাড়া আমি নিঃস্ব সেই যদি না থাকে আমি থেকে কি করবো।”
ওর এমন আহাজারি শুনে উপস্থিত সবার খুব আফসোস হচ্ছে ওর জন্যে।
সকাল আরও গড়িয়ে গেল।
পদ্মা সেতুর ওপর তখনও মানুষের ভিড়।
নদী তখনও নিজের স্রোত বহাল রেখে বয়ে চলেছে।
তীব্র স্রোতে একের পর এক ঢেউ এগিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু সেই ঢেউয়ের সঙ্গে যেন হারিয়ে গেছে একটি পরিবারের সমস্ত হাসি।
সবাই অপেক্ষা করছে কখন একটা খবর তাদের কানে আসবে,’ প্রেমকে পাওয়া গেছে,সে ঠিক আছে। ‘
তবে সবার মনের কোণে এখনও ভয় কাজ করছে।আল্লাহ না করুক যদি খারাপ কিছু ঘটে যায়।ভাবতেই বুকটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠল।
সময় নিজের গতিতে বয়ে চলছে। পার হতে হতে সময় এখন বিকাল চারটার ঘরে।এখনো পর্যন্ত সবাই আগের জায়গাতেই অবস্থান করছে।
এখনোও পর্যন্ত চলছে অভিযান। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এসে উপস্থিত হয়েছেন ঘটনাস্থলে। প্রেমের জন্য অনেক দুঃখ প্রকাশ করলেন তিনি।উনার অনেক পছন্দের একজন ছিল প্রেম। নিজের কাজে খুব সেনসিটিভ ছিল প্রেম এই বিষয়টা খুব মুগ্ধ করতো উনাকে।

প্রায় চল্লিশ মিনিটের মত সান্ত্বনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী প্রেমের পরিবারকে।রাহির মাথায় হাত রেখে অনেক সুন্দর করে বুঝলেন। আশ্বাস দিলেন প্রেমকে খুঁজে পাওয়া যাবে।
রাত হয়েছে। আপাদত খোঁজ বন্ধ আছে।প্রেমের লাশটা পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। কাল ভোর হলেই শুরু হবে অভিযান। উপায়ন্তর না পেয়ে সবাইকে নিরাশ হয়ে খান বাড়িতে ফিরে আসতে হলো। সাঈদ বৃষ্টিও উপস্থিত হলো সেখানে।রাহি কেমন মূর্তির মতো হয়ে গেছে।কান্না করতে করতে গলা বসে গেছে মেয়েটার।এখন আর কান্নার আসছে না।চোখের পানি শুকিয়ে গিয়েছে। আফরোজা খান ছেলের শোকে এখন পর্যন্ত অনেক কথা শুনিয়েছে রাহিকে।তবে রাহি সেগুলো শুনেও গায়ে মাখেনি। বাড়িতে এসে নিজের মতো করে রুমে চলে গেলো। বৃষ্টিও গেলো পিছু পিছু, ভয় একটায় রাহিকে দেখে স্বাভাবিক লাগছে না।যদি খারাপ কিছু করে ফেলে।
রুমে এসে রাহি দরজা লাগাতে গেলে বৃষ্টি এসে বাধা দিলো।রাহি কিছু বলল না।ভেতরে ঢুকে গেল।পিছন পিছন বৃষ্টিও গেলো।রাহিকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছে না সে। গতকাল ই তো কত সুন্দর সুন্দর অনুভূতি প্রকাশ করল রাহি। আর এখন এক লহমায় এই দুর্ঘটনা ঘটে গেলো।এটা যেনো অবিশ্বাস্য।
রাহিকে জোর করতে হলো না কাপড় পাল্টানোর জন্য। কাল থেকে একই পোশাক পরা সে। বৃষ্টিতে ভিজে সারাদিনে গায়ে ই শুকিয়েছে ড্রেস।
রাহি বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে হঠাৎ কেনো যেনো বৃষ্টিকে জড়িয়ে ধরলো।অনেকক্ষণ যাবৎ সেভাবেই থেকে বৃষ্টির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

“এখন তুই সুখী হতে পারবি আপু,তোর বিচার আমি করে দিয়েছি।তোর সাথে যে অন্যায় করেছিল তার বুক ফাটা কষ্ট আমি দেখেছি।”
বৃষ্টি বুঝলো রাহির এসব কথার মানে।আবার তাকে আপু বলে তুই সম্বোধন করছে রাহি। বিষয়টা কেমন গুমোট লাগলো তার কাছে।তবে সেদিকে বেশি পাত্তা দিলো না সে।এখন রাহির অবস্থা ভালো না। বৃষ্টি রাহিকে নিয়ে ফ্লোরেই বসে পড়লো।রাহি এখনো বৃষ্টিকে জড়িয়ে ধরে আছে।ভাঙ্গা গলায় রাহি বললো,
“আপু.. আপু রে আল্লাহ্.. আল্লাহ্ কেনো আমার জীবনে এক দিক দিয়ে দিয়ে অন্য দিক দিয়ে কেড়ে নেয়? এতো পরীক্ষা কেনো নেয় আমার। আল্লাহ্ তো জানত আ.. আমি আমার এমপি সাহেব ছাড়া শূণ্য।কেনো হলো আমার সাথে এমন।এখন তো আমার জীবনে আঁকড়ে ধরার মতো,আমার ভরসা স্থল কেউ রইলো না। আল্লাহ্ তোকে ফিরিয়ে দিয়ে আমার এমপি সাহেব কে আমার থেকে কেড়ে নিলো।”

এইভাবে আপু ডাকায় বৃষ্টির বুকের ভেতর কেমন অদ্ভুত অনুভূতি হলো।মনে হলো এই ডাক তার চেনা।খুব আপন কেউ তাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে।কিন্তু রাহির অবস্থার কাছে তার ভাবনার হার মানতে বাধ্য হলো। রাহি ফুঁপিয়েই যাচ্ছে। মেয়েটার গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে।হয়তো জ্ঞান হারাবে।রাহিকে কোনরকম তুলে বিছানায় বসালে রাহি ঢলে পড়ে বৃষ্টির গায়ে। বৃষ্টি রাহিকে শুইয়ে নিচে গেলো খবর দিতে।
ডক্টর এসেছে।রাহিকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছে।রাহি ঘুমের ঘোরেই বির বির করছে কি যেনো।

আজ দুইদিন হয়েছে প্রেম নিখোঁজ।প্রেমের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি পদ্মা নদীতে। এই দুইদিনে ধরতে গেলে সমস্ত নদী তোলপাড় করে ফেলেছ ডুবুরিরা।তবে সবাই হতাশ।
আজকে রাষ্ট্রীয় ভাবে ঘোষণা দেওয়া হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাহির খান প্রেম নিখোঁজ।তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নিয়োগ করা হবে।প্রেমের খোঁজ পাওয়া গেলে বা প্রেম ফিরে এলে সে আবার সসম্মানে নিজের গদিতে বসতে পারবে।
প্রেমের চূড়ান্ত খবর শোনার পর থেকেই আফরোজা খান বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন।ছেলেকে হারানোর শোকে একদম ভেঙে পড়েছেন। খান বারি পরিণত হয়েছে নিবিড় ভিলাতে। রাহি তো ঘর থেকেই বের হয়না।নিজকে সবকিছু থেকে আলাদা করে নিয়েছে।আজকে বৃষ্টি এসেছে প্রেম দের বাড়িতে।কারো মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে।সবাই নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।
বৃষ্টি রাহির রুমে গিয়ে দেখলো মেয়েটা কয়েকদিনে কেমন শুকিয়ে গিয়েছে। এমনিতেই শুকনা আরো শুকিয়ে কেমন মরা মরা লাগছে তাকে।
রাহি ঘরে বসে আছে খাটের সাথে হেলান দিয়ে। বৃষ্টি এসে তার পাশে বসলো। রাহির মাথায় হাত রেখে বোঝানোর স্বরে শান্ত কন্ঠে বলল,

“ভেঙে পড়লে তো চলবে না। নিশ্চয়ই প্রেম ভাইয়া ফিরে আসবে। প্রেম ভাইয়ের ফিরে এসে যদি তোমাকে এই অবস্থায় দেখে তাহলে তো সে আরো কষ্ট পাবে।”
রাহি নির্লিপ্ত মলিন হাসলো। হঠাৎ বাতাসে টেবিলের উপর থেকে একটা কাগজ উড়ে এসে রাহি পায়ের কাছে পড়ল। তাতে গুটি গুটি অক্ষরে লেখা,
“”তোমাকে নিজের করার লড়াইয়ে পুরো পৃথিবীর বিরুদ্ধে দাঁড়ালাম, শেষে জানতে পারলাম—তুমিই দাঁড়িয়ে আছো আমার বিপরীত প্রান্তে।””

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৫৪

এইটা সেদিন প্রেম রাতে রাহিকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার আগে টেবিলে বসে লিখেছিল। রাহি সবকিছু বুঝতে সময় লাগলো না এখন। গা দুলিয়ে হেসে উঠলো সে। বৃষ্টি অবাক নয়নে দেখছে রাহিকে। এ কেমন রাহির।
রাহি বৃষ্টির কানের কাছে গিয়ে বলল,
“আমি মেরে ফেলেছি আমার এমপি সাহেবকে। আমার কলিজাকে আমি। নিজের হাতে শেষ করে দিয়েছে।”
বলেই জোরে জোরে হাসতে লাগলো। বৃষ্টি ভাবল প্রেম নিখোঁজ হওয়ার শোকেই হয়তো রাহি এসব আবোল তাবোল বলছে।

প্রথম পরিচ্ছেদের সমাপ্তি