Home কিস অফ বিট্রেয়াল কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫১

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫১

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫১
লামিয়া রহমান মেঘলা

গাড়ির ভেতর নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।
গাড়িটি নীরবে ছুটে চলছে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে। কায়ান গভীর মনোযোগে স্টিয়ারিং ধরে আছে। তার দৃষ্টি স্থির, অথচ মনের ভেতর যেন অগণিত ভাবনার ঢেউ।
সেরিন সিটটা হালকা নামিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে। এত দীর্ঘ ভ্রমণ সে জীবনে কখনো করেনি। জার্নি করতে তার ভীষণ কষ্ট হয়। বিষয়টা কায়ান খুব ভালো করেই জানে।
তবুও তাদের মাঝের সমস্ত দূরত্ব মুছে দিতে, সমস্ত অভিমানকে নীরবতার ভাষায় ভেঙে ফেলতে, এই নির্জন সফরটা কায়ানের কাছে ভীষণ প্রয়োজন ছিল। তার কাছে সব কিছুর ঊর্ধ্বে সেরিন।
ব্যবসার কাজ কক্সবাজার থেকেও সামলে নেওয়া যাবে। সেরিনের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টাও পরে দেখা যাবে। এই মুহূর্তে সে শুধু সেরিনকে নিজের কাছে চায়।

রাস্তা ছিল শান্ত ও প্রশান্ত। মাঝে মাঝে বিশাল আকৃতির দূরপাল্লার বাস কক্সবাজারের উদ্দেশে ছুটে যাচ্ছিল, কিন্তু তাদের শব্দও গাড়ির ভেতরের নিস্তব্ধতাকে স্পর্শ করতে পারছিল না। দুই পাশে বিস্তীর্ণ সবুজের সমারোহ। সারি সারি গাছ, দূরের ধানক্ষেত, আর মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা পাতার ফাঁক গলে সূর্যের কোমল আলো পথজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃতি যেন আপন সৌন্দর্যে পথের প্রতিটি মুহূর্তকে আরও স্নিগ্ধ করে তুলেছে।
অনেকটা পথ পেরিয়ে অবশেষে তারা কক্সবাজারে পৌঁছে যায়।
কায়ান গাড়ি নিয়ে সোজা তার ভিলার সামনে এসে থামে।
ভিলাটি সিকদার নিবাসের মতো বিশাল না হলেও ছোটখাটো একটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল স্বর্গ। নীল সমুদ্রের ঠিক কোলঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা চার বেডরুমের এই ভিলাটি যেন প্রকৃতি আর আভিজাত্যের নিখুঁত এক মেলবন্ধন। এটি কায়ানের বহুদিনের স্বপ্নের নির্মাণ। নিজের শখ আর ভালোবাসা দিয়ে সে ভিলাটির প্রতিটি কোণ সাজিয়েছে। মাত্র গতকালই এর নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। আজই প্রথমবারের মতো কায়ান সম্পূর্ণ ভিলাটি নিজের চোখে দেখবে।
গাড়ি থামিয়ে কায়ান সিটবেল্ট খুলে সেরিনের দিকে তাকায়। আলতো করে তার গালে হাত রাখতেই সেরিন ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকায়।

“হুম?”
“চলে এসেছি।”
সেরিন উঠে বসে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অপূর্ব ভিলাটি দেখে বিস্ময়ে তার চোখ বড় হয়ে যায়।
কায়ান তাকে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।
ভিলার প্রতিটি অংশ যেন নিখুঁত সৌন্দর্যের এক অনবদ্য সৃষ্টি। প্রবেশপথের দুই পাশে রঙিন ফুলে সাজানো মনোরম বাগান। নানা রঙের গোলাপ, বোগেনভেলিয়া, অর্কিড আর ঋতুভেদে ফোটা অসংখ্য ফুল বাতাসকে সুগন্ধে ভরিয়ে রেখেছে। বাগানের ঠিক পাশেই আধুনিক নকশায় তৈরি বিশাল সুইমিং পুল, যার নীল জল আকাশের রঙ নিজের বুকে ধারণ করে ঝিলমিল করছে।
চারদিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি নারকেল গাছ। সমুদ্রের দিক থেকে ভেসে আসা লবণাক্ত শীতল বাতাস গাছের পাতায় মৃদু সুর তোলে। পেছনেই বিস্তৃত নীল সমুদ্র। দিগন্তজোড়া জলরাশি যেন আকাশের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ঢেউগুলো একের পর এক ছুটে এসে তীর ছুঁয়ে ফিরে যাচ্ছে, যেন চিরন্তন কোনো সুর বাজিয়ে চলেছে।

সমুদ্রমুখী পুরো অংশজুড়ে রয়েছে বিশাল কাচের দেয়াল। বাইরে থেকে ভেতরের কিছুই দেখা যায় না, অথচ ভেতরে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের প্রতিটি ঢেউ, প্রতিটি রঙের পরিবর্তন, প্রতিটি সূর্যাস্তের সৌন্দর্য অবলীলায় উপভোগ করা যায়। মনে হয় যেন সমুদ্রটাই ঘরের একটি অংশ হয়ে গেছে।
এ যেন কক্সবাজারের বুকেই লুকিয়ে থাকা এক টুকরো মালদ্বীপ।
এই দিকের সমুদ্রের পানিও স্বচ্ছ ও নির্মল। নীলাভ জলরাশি রোদের আলোয় কখনো ফিরোজা, কখনো গাঢ় নীল রঙে ঝলমল করে ওঠে। পুরো এলাকাটি ব্যক্তিগত সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এখানে পর্যটকদের কোলাহল নেই। চারপাশজুড়ে শুধু নির্জনতা, সমুদ্রের গর্জন আর প্রকৃতির নিঃশব্দ সৌন্দর্য।
সবকিছু দেখে সেরিন বিস্ময়ে নির্বাক হয়ে যায়।
এটি সত্যিই কায়ানের স্বপ্নের ভিলা।
মাস্টার বেডরুমের সঙ্গেই রয়েছে সুইমিং পুল। সামনে সারি সারি নারকেল গাছ পেরিয়েই বিস্তৃত সমুদ্র। কাচের বিশাল দরজার ওপারে প্রকৃতির সেই অপরূপ সৌন্দর্য যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়।
সেরিন কাচের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ চোখে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকে।
কায়ান ধীরে ধীরে তার পাশে এসে এক হাতে সেরিনের কোমর জড়িয়ে ধরে। তারপর তার দৃষ্টির অনুসরণ করে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলে,

“পছন্দ হয়েছে?”
সেরিন আনমনে উত্তর দেয়,
“ভীষণ।”
কায়ানের ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটে ওঠে।
“ওকে, তাহলে যাও, ফ্রেশ হয়ে এসো।”
সেরিন মাথা নেড়ে ওয়াশরুমের দিকে চলে যায়।
সেরিন ওয়াশরুমে ঢুকতেই কায়ান ফোন বের করে খাবার আনার জন্য কল করে। সব ব্যবস্থা করে সেও অন্য বেডরুমের ওয়াশরুমে চলে যায়।

সেরিন ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এসে দেখে কায়ান খাবার সাজিয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছে।
মৃদু হেসে সে কায়ানের পাশে এসে বসে। দুজন নীরবে একসঙ্গে খাবার খেয়ে নেয়। দীর্ঘ পথের ক্লান্তির পর সেই সাধারণ খাবারটুকুও যেন এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়। বাইরে সমুদ্রের অবিরাম গর্জন ভেসে আসছে। জানালার কাচে বিকেলের আলো নরম সোনালি আভা ছড়িয়ে দিয়েছে। দূরে নারকেল পাতাগুলো সমুদ্রের বাতাসে ধীরে ধীরে দুলছে, যেন প্রকৃতিও তাদের এই নীরব মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে আছে।
খাওয়া শেষ হলে সেরিন বাসনগুলো ধুয়ে গুছিয়ে রেখে ফিরে আসে। এরপর তারা পাশাপাশি বসে টিভি চালায়।
কায়ান একের পর এক চ্যানেল বদলাতে বদলাতে বলে,

“সেরিন, বেডরুমে একটা প্যাকেট আছে। যাও, ওটা পরে তুমি বিচে ঘুরতে পারো।”
সেরিন ভ্রু কুঁচকে কায়ানের দিকে তাকায়। তার বিস্মিত চাহনি দেখে কায়ান মৃদু হেসে বলে,
“যাও গিয়ে দেখো।”
সেরিন উঠে বেডরুমে চলে যায়।
বিছানার ওপর রাখা একটি প্যাকেট খুলতেই তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়। ভেতরে সুন্দর সুন্দর কয়েকটি ছোট ড্রেস পরিপাটি করে রাখা। রঙের বৈচিত্র্য আর নকশার সৌন্দর্য মুহূর্তেই তার দৃষ্টি আটকে দেয়। লজ্জায় তার কান দুটো টকটকে লাল হয়ে ওঠে।
দু গালে হাত রেখে আস্তে করে বলে,

“এগুলো কী?”
ঠিক তখনই পেছন থেকে কায়ানের কণ্ঠ ভেসে আসে,
“কেন, তুমিই তো এগুলো পছন্দ করছিলে।”
সেরিন ফিরে তাকায়।
হ্যাঁ, কথাটা সত্যি। বেশ কিছুদিন ধরেই সে অনলাইনে এই পোশাকগুলো দেখছিল। যদিও কেনার ইচ্ছা খুব একটা ছিল না, তবুও মনে মনে বেশ পছন্দ হয়েছিল।
কায়ান ধীরে ধীরে তার কাছে এসে আলতো করে কোমর জড়িয়ে ধরে বলে,
“এখানে কেউ নেই। যাও, পরে এসো।”
সেরিন লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে। তবুও কায়ানের অনুরোধে সে পোশাকটি হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।
কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে যখন সে বাইরে আসে, কায়ান যেন মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে যায়।
ফর্সা শরীরে টকটকে লাল পোশাকটি অপূর্বভাবে মানিয়ে গেছে। খোলা কালো চুল কোমর ছুঁয়ে নেমে এসেছে। সমুদ্রের জানালা দিয়ে ঢুকে পড়া বাতাস তার চুলগুলোকে বারবার এলোমেলো করে দিচ্ছে। পশ্চিম আকাশের কোমল সোনালি আলো এসে তার শরীরে মায়াবী আভা ছড়িয়ে দিয়েছে। মনে হচ্ছে যেন বিকেলের রোদ নিজেই তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে থমকে দাঁড়িয়েছে।
কায়ান ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসে।

সেরিন দুষ্টু হেসে কায়ানকে হালকা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে বিচের দিকে দৌড়ে চলে যায়।
ভিলার পেছনের নির্জন সমুদ্রসৈকতটা যেন এক টুকরো স্বর্গ। দিগন্তজোড়া নীল জলরাশি আকাশের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। সাগরের ঢেউগুলো ছন্দ তুলে একের পর এক তীরে এসে আছড়ে পড়ছে, আবার ধীরে ধীরে ফিরে যাচ্ছে নিজের গভীরে। সাদা বালুকাবেলা বিকেলের কোমল রোদে রুপোর মতো ঝলমল করছে। দূরে সারি সারি নারকেল গাছ বাতাসের তালে মাথা দোলাচ্ছে। লবণাক্ত স্নিগ্ধ বাতাস মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছে বারবার। সীগালগুলো কখনো আকাশে উড়ে যাচ্ছে, কখনো পানির ওপর ভেসে বেড়াচ্ছে। চারপাশে এমন এক নিস্তব্ধ সৌন্দর্য, যেখানে মানুষের কোলাহল নেই, আছে শুধু প্রকৃতির অনন্ত সুর।
সেরিন খালি পায়ে নরম বালুর ওপর দিয়ে ছুটে চলেছে। তার পায়ের ছাপগুলো ভেজা বালিতে আঁকা হচ্ছে, আর পরমুহূর্তেই ঢেউ এসে সেগুলো মুছে দিচ্ছে। তার প্রাণখোলা হাসি সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে মিলেমিশে এক অপার্থিব আবহ তৈরি করেছে।
কায়ানও পিছু নিয়েছে মেয়েটার।

বেশ কিছুক্ষণ ছোটাছুটির পর অবশেষে কায়ান সেরিনকে ধরে ফেলে।
ভারসাম্য হারিয়ে দুজন একসঙ্গে নরম বালুর ওপর পড়ে যায়। চারদিকে ছিটকে ওঠে সাদা বালুকণা। সেরিন শব্দ করে হেসে ওঠে। তার হাসিতে যোগ দেয় কায়ানও। দীর্ঘ দৌড়ের ফলে দুজনেরই নিশ্বাস ভারী হয়ে এসেছে। মাথার ওপরে নীল আকাশ, সামনে অনন্ত সমুদ্র, চারপাশে কেবল বাতাসের স্নিগ্ধ স্পর্শ আর ঢেউয়ের অবিরাম গুঞ্জন।
কায়ান হালকা ঝুঁকে সেরিনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে,
“কোথায় পালাচ্ছো?”
সেরিনও হেসে উত্তর দেয়,
“পালাচ্ছি না তো।”
“তাহলে?”
সেরিন দুষ্টু চোখে তাকিয়ে বলে,

“দেখছিলাম আমার বরের কত শক্তি। এখনো আমার সঙ্গে দৌড়ে পারে, নাকি বুড়ো হয়ে গেছে।”
কথাটা শুনে কায়ান হেসে তার আরও কাছে ঝুঁকে আসে।
“আচ্ছা, তাই নাকি। তাহলে চলো দেখাই, তোমার হাসব্যান্ডের স্ট্যামিনা।”
সেরিনের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়।
“না না, এটা তো বিচ সাইড।”
কায়ান ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে চারপাশে তাকায়। দূরদূরান্ত পর্যন্ত কেউ নেই। শুধু সমুদ্র, আকাশ আর বাতাস।
সে শান্ত স্বরে বলে,
“তাতে কী, এখানে তো কেউ আসবে না।”
কথাটা বলে কায়ান আলতো করে সেরিনের পোশাকের ফিতার দিকে হাত বাড়ায়। সেরিন লজ্জায় চোখ বন্ধ করে নেয়।
কায়ানের দুষ্টু হাত সেরিনের শরীরে বিচরণ শুরু করলে সেরিনও নিজেকে সামলাতে পারেনা। কায়ানের সাথে সেও যেন উন্মাদ হয়ে ওঠে।
ঠিক তখনই সমুদ্রের একঝাঁক শীতল বাতাস এসে তাদের দুজনকে ছুঁয়ে যায়। দূরে সূর্য ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে নেমে যাচ্ছে। সোনালি আলোয় নীল সমুদ্র রাঙা হয়ে উঠেছে, আর প্রকৃতি নীরবে তাদের মুহূর্তটিকে নিজের বুকের ভেতর আগলে রাখছে।

সকালের ঘটনার পর থেকেই জেবরান শিমুলের সঙ্গে একটি কথাও বলেনি। তার নীরবতা যেন হাজারটা অভিযোগের চেয়েও ভারী হয়ে উঠেছে।
দুপুরে খাবার খেয়ে নূরবানু সিকদার এবং আবু সুফিয়ান চলে গিয়েছেন। আহিও আজ কোথাও বের হয়নি। বানু মির্জা দুপুরের খাবার শেষ করে নিজের ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছেন।
পুরো সিকদার নিবাস জুড়ে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। বিশাল বাড়িটা যেন আজ প্রাণহীন। করিডোরের দীর্ঘ নীরবতা, জানালার বাইরে বিকেলের ম্লান আলো আর থমথমে পরিবেশ যেন প্রত্যেকের বুকের ভেতরে জমে থাকা অস্বস্তিরই প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
শিমুল বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে ধীর পায়ে নিজের ঘরে আসে। দরজা খুলেই দেখে জেবরান বিছানায় বসে ফোনে তাকিয়ে আছে। তার মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই। চোখেমুখে জমে আছে চাপা রাগ আর গভীর অভিমান।
শিমুল দরজা বন্ধ করতেই জেবরান একবার তার দিকে তাকায়। সেই দৃষ্টিতে ভালোবাসার কোনো ছোঁয়া নেই, আছে কেবল তীব্র হতাশা।
শিমুল ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে যেতেই জেবরান বিছানা ছেড়ে উঠে দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করে।
শিমুল দৌড়ে গিয়ে তার হাত ধরে ফেলে।

“জেবরান, প্লিজ, আমার কথাটা শোনো।”
জেবরান ঝটকা মেরে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়।
“তোমার মতো স্বার্থপর মহিলার কাছ থেকে কিছু শোনার নেই আমার।”
শিমুল ধপ করে মেঝেতে বসে পড়ে। তার চোখ ভরে ওঠে অশ্রুতে।
“আমাকে ক্ষমা করে দাও, প্লিজ।”
জেবরানের চোখে তখন ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। বহুদিনের জমে থাকা কষ্ট যেন একসঙ্গে বেরিয়ে আসে।
“ক্ষমা আমার কাছে কেন চাইছো? তোমার বোন, যে সব সময় তোমার পাশে থেকেছে, তাকে তুমি একটা গুন্ডার আস্তানায় পাঠিয়েছো। একবারও তোমার লজ্জা করেনি? তুমি শুরু থেকেই জানো কায়ান ভাই আমার জন্য, আমাদের এই পরিবারের জন্য কী। কত কষ্টের পর কায়ান ভাই সেরিনকে ফিরে পেয়েছে। তারপরও তুমি কীভাবে পারলে সেরিনের সঙ্গে এত বড় অন্যায় করতে? তোমার জন্য, শুধুমাত্র তোমার জন্য আজ ভাই সেরিনকে নিয়ে আলাদা থাকছে।

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫০

আমার পরিবার ভেঙে গেছে, আর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাইছো? দূরে থাকো, শিমুল। আমার মাথা এখন ঠিক নেই। কখন কী বলে ফেলব, তখন সেটা সহ্য করতে পারবে না।”
কথাগুলো বলে জেবরান আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ায় না। দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
শিমুল সেখানেই নিথর হয়ে বসে থাকে। তার চোখ থেকে অনবরত অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। বুকের ভেতর জমে থাকা অনুশোচনা আর নিজের ভুলের দায় যেন তাকে ধীরে ধীরে ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে।
বাইরে বিকেলের আলো ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে। জানালার ওপারে নিস্তব্ধ আকাশটাও যেন বিষণ্ন হয়ে আছে। হালকা বাতাস পর্দা দুলিয়ে যাচ্ছে, অথচ সেই বাতাসও শিমুলের বুকের ভার লাঘব করতে পারছে না।
আফসোস, যদি সে এতটুকু আগে বুঝতে পারত, তাহলে হয়তো আজ এতগুলো সম্পর্কের ভাঙনের সাক্ষী হতে হতো না।

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here