Home কিস অফ বিট্রেয়াল কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫০

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫০

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫০
লামিয়া রহমান মেঘলা

অল্প কিছুক্ষণ পর সিকদার নিবাসের বিশাল লোহার গেট পেরিয়ে একটি গাড়ি ধীরে ধীরে ভেতরে প্রবেশ করল। ইঞ্জিনের মৃদু শব্দে নিস্তব্ধ পরিবেশে যেন এক অদৃশ্য আলোড়ন সৃষ্টি হলো। গাড়িটি থামতেই বারান্দা থেকে দ্রুত পায়ে এগিয়ে এলেন বানু মির্জা। তাঁর চোখে ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষার উষ্ণতা।
গাড়ির দরজা খুলে কায়ান এবং সেরিনকে একসঙ্গে নেমে আসতে দেখে তাঁর মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। মাতৃত্বের স্নেহ যেন মুহূর্তেই তাঁর সমগ্র অস্তিত্বকে ভরে দিল।
কায়ান এগিয়ে গিয়ে বানু মির্জাকে জড়িয়ে ধরে হাসিমুখে বলল,

“কেমন আছেন আম্মা বেগম?”
বানু মির্জাও ছেলেকে বুকের সঙ্গে চেপে ধরে স্নেহভরা কণ্ঠে বললেন,
“আলহামদুলিল্লাহ বাবা। তুই কেমন আছিস?”
“আলহামদুলিল্লাহ।”
এরপর তিনি সেরিনকেও নিজের বুকে টেনে নিলেন। সেরিনও মৃদু একটুখানি হাসল। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক অদৃশ্য ক্লান্তি।
জড়িয়ে ধরার মুহূর্তেই বানু মির্জার দৃষ্টি সেরিনের ঘাড়ের একটু নিচে গিয়ে থমকে গেল। জামার ভাঁজের ফাঁক দিয়ে ক্ষতের একটি অংশ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। মুহূর্তেই তাঁর মুখের হাসি মিলিয়ে গিয়ে জায়গা নিল উদ্বেগ।
তিনি চিন্তিত স্বরে বললেন,
“এখানে কী হয়েছে সেরিন?”
সেরিন দ্রুত জামার অংশটুকু টেনে ঢেকে নিয়ে শান্ত গলায় বলল,
“কিছু না আম্মা।”
বানু মির্জা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর অভিজ্ঞ চোখ বুঝতে পারছিল, কথার আড়ালে অনেক না বলা সত্য লুকিয়ে আছে। কিন্তু সেরিন আর কিছুই বলল না।
ঠিক তখনই কায়ান মায়ের দিকে এগিয়ে এসে গম্ভীর স্বরে বলল,

“আম্মা বেগম, ভেতরে চলুন। কিছু জরুরি কথা আছে।”
বানু মির্জা ধীর কণ্ঠে বললেন,
“চল।”
কিছুক্ষণ পর লিভিং রুমে উপস্থিত হলো সবাই। চারদিকে এক অদ্ভুত নীরবতা। সেই নীরবতার ভেতর অস্বস্তি আর অজানা আশঙ্কা ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠছিল।
কায়ান সোফায় বসে এক পায়ের ওপর আরেক পা তুলে শান্ত দৃষ্টিতে সবার দিকে তাকিয়ে আছে। তার মুখে কোনো আবেগ নেই। অথচ উপস্থিত প্রত্যেকের অন্তরে তীব্র কৌতূহল আর অস্থিরতা কাজ করছে। কায়ান কী বলতে চলেছে, সেটাই যেন সবার মনে একমাত্র প্রশ্ন।
সবকিছুর মাঝেও সেরিন নীরব। কারণ এই মুহূর্তে তার বলার মতো সত্যিই কিছু নেই। যা ঘটেছে, তার ভার এখনো বুকের ভেতর জমাট বেঁধে আছে।
হঠাৎ কায়ান চোখের ইশারায় হিমেলকে নির্দেশ দিল।
হিমেল সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে দুইজন মহিলা কনস্টেবলকে ভেতরে ডেকে আনল।
অপরিচিত ইউনিফর্মধারী দুই নারীকে দেখে বানু মির্জা বিস্মিত হয়ে বললেন,

“কায়ান, হচ্ছে কী? বুঝিয়ে দিবি?”
কায়ানের কণ্ঠ ছিল অস্বাভাবিক শান্ত।
“উর্মি মেয়েটা কোথায়?”
বানু মির্জা উত্তর দিলেন,
“কিচেনে।”
কায়ান আবারও ইশারা করল।
দুইজন মহিলা কনস্টেবল দ্রুত কিচেনের দিকে চলে গেল। কয়েক মুহূর্ত পর উর্মিকে ধরে নিয়ে ফিরে এল তারা।
উর্মি ছটফট করতে করতে চিৎকার করে উঠল,
“আরে সমস্যা কী? ছাড়ুন আমাকে। ছাড়ুন।”
তার কণ্ঠে আতঙ্ক স্পষ্ট।
বানু মির্জা বিস্ময়ে কায়ানের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“কী করছিস কায়ান এগুলো?”
কায়ান ধীরে ধীরে বসা থেকে উঠে দাঁড়াল। প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল স্থির, নিয়ন্ত্রিত, অথচ ভয়ঙ্কর। উর্মির দিকে এগোতে এগোতে সে বলল,

“দেখাচ্ছি। ওয়েট।”
কায়ানের চোখের দিকে তাকিয়েই উর্মি বুঝে গেল, তার সাজানো খেলাটার শেষ অধ্যায় এসে গেছে।
মুহূর্তেই সে ছটফট শুরু করল। এদিক ওদিক ছোটার চেষ্টা করল। চিৎকারে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল। কিন্তু কোনো কিছুতেই আর লাভ হলো না।
কায়ান একেবারে তার সামনে এসে দাঁড়াল। তারপর এক টানে উর্মির মুখের কৃত্রিম মুখোশ খুলে ফেলল।
পরের মুহূর্তেই যেন সময় থমকে গেল।
মুখোশের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল মেহেরীণের ঝকঝকে পরিচিত মুখ।
উপস্থিত প্রত্যেকের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। যেন কেউই নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।
শিমুল অবিশ্বাসে কাঁপা কণ্ঠে বলে উঠল,
“ম মেহেরীণ।”

শিমুলের মুখ থেকে কথাটা বের হতেই কায়ানের ধৈর্যের শেষ বাঁধটুকুও ভেঙে গেল।
সে এক মুহূর্ত দেরি না করে মেহেরীণের গালে ঠাস ঠাস করে পরপর দুটি চড় বসিয়ে দিল।
গর্জে উঠে বলল,
“আমি মেয়েদের গায়ে হাত তুলি না। কিন্তু তুই মেয়ে না। তুই একটা ডাইনি। নিজের সন্তানকে ছেড়ে যে এসব করে বেড়ায়, সে ডাইনি।”
কথাগুলো ছুরির ফলার মতো কেটে গেল চারপাশের নীরবতা।
মেহেরীণ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। এতদিনের আত্মবিশ্বাস, অহংকার আর অভিনয়ের মুখোশ মুহূর্তেই ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। আজ তার বলার মতো কোনো ভাষা নেই।
ঠিক সেই সময় সেখানে এসে পৌঁছাল মেহেরীণের বাবা এবং ভাই।
কায়ান তাদের দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা কণ্ঠে বলল,

“বলুন, আপনার মেয়েকে কী শাস্তি দেব?”
এত মানুষের সামনে অপমানের ভারে মেহেরীণের বাবা মাথা নিচু করে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইলেন। একজন বাবার অসহায় নীরবতা যেন পুরো ঘরটাকে আরও ভারী করে তুলল।
হঠাৎ মাহমুদ ক্ষোভে চিৎকার করে উঠল,
“লজ্জা কর মেহেরীণ। একজন ডাক্তার হয়েও তোর জন্য বাবাকে আজ এত হেয় হতে হচ্ছে?”
মেহেরীণ আজও নীরব। কারণ তার কাছে নিজের অপরাধ ঢাকার মতো কোনো যুক্তি অবশিষ্ট নেই।
এক কোণে দাঁড়িয়ে শিমুল ভয়ে কাঁপছে। তার বুকের ভেতর অজানা এক শঙ্কা ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ এই সময়ের মধ্যে সে জারিফ আর জিনুকে সত্যিই নিজের সন্তানের মতো ভালোবেসে ফেলেছে।
অবশেষে উপস্থিত সবার সম্মতিতে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
মেহেরীণকে জেলে পাঠানো হবে।
কায়ান শেষবারের মতো তার দিকে তাকিয়ে কঠিন কণ্ঠে বলে দিল,

“আর একবার যদি আমাদের সামনে আসিস, আমার এবং আমার স্ত্রী এর মাঝে, তাহলে তোকে আমি নিজের হাতে মেরে ফেলব।”
তার কণ্ঠে কোনো রাগ ছিল না। ছিল কেবল নির্মম এক সতর্কবার্তা।
এরপর জেলাররা মেহেরীণকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে চলে গেল।
মেহেরীণের বাবা এবং ভাইও মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে সিকদার নিবাস ত্যাগ করলেন। ঘরের ভেতর আবার নীরবতা নেমে এল। তবে সেই নীরবতা আর আগের মতো শান্ত ছিল না। সেটি ছিল এক ভয়াবহ সত্য উন্মোচিত হওয়ার পরের ভারী, নিস্তব্ধ নীরবতা।

মেহেরীণকে নিয়ে যাওয়া হলে লিভিং রুমজুড়ে নেমে এলো এক ভারী নীরবতা। যেন কিছুক্ষণ আগের তীব্র উত্তেজনার পর প্রত্যেকেই নিজের ভেতরে হারিয়ে গেছে। কারও মুখে কোনো শব্দ নেই। বাতাসেও যেন চাপা অস্বস্তির গন্ধ।
কায়ান ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে সেরিনের পাশে বসল। তারপর কোনো কথা না বলে তাকে নিজের একেবারে গা ঘেঁষে বসিয়ে নিল।
সেরিনের বুকের ভেতর ধকধক শব্দ আরও বেড়ে গেল। সে বুঝতে পারছিল, এতক্ষণ যা ঘটেছে, তা কেবল শুরু। আসল ঝড় এখনই উঠবে।
কায়ান সেরিনের কোমর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শীতল কণ্ঠে বলল,
“এবার শিমুল, তুমি বলো। জাকিরের কাছে আমার বউকে পাঠিয়েছিলে কেন?”
কথাটা কানে যেতেই শিমুলের মনে হলো, যেন তার আত্মা শরীর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চাইছে। মুখের সমস্ত রক্ত মুহূর্তেই শুকিয়ে গেল।
আবু সুফিয়ান এবং নূরবানু সিকদারের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে উঠল।
শিমুল কাঁপা গলায় বলল,

“ক কি বলছেন ভাইয়া?”
কায়ানের চোখে তখন বরফশীতল দৃষ্টি।
“যা বলছি, সঠিক উত্তর দাও। আমার বউকে পরপুরুষের কাছে পাঠানোর সাহস তুমি কোথায় পেলে?”
প্রতিটি শব্দের সঙ্গে সঙ্গে সেরিনের কোমরে কায়ানের মুঠো আরও শক্ত হয়ে উঠছিল। ব্যথা অসহনীয় হয়ে উঠলেও সেরিন একটিও শব্দ করল না। কারণ সে জানে, এই মুহূর্তে কায়ানের দমিয়ে রাখা আগ্রাসন যদি তার ওপর না থাকে, তাহলে হয়তো তা গিয়ে পড়বে শিমুলের ওপর।
শিমুল সম্পর্কে কায়ানের বড় হলেও, সে সেরিনের বড় বোন। তাই নিজের ব্যথা লুকিয়ে রেখেই সেরিন নিশ্চুপ রইল। সে কোনোভাবেই চাইছিল না কায়ানের হাত শিমুলের গায়ে উঠুক।
নূরবানু সিকদার হন্তদন্ত হয়ে বললেন,
“কী বলছো কায়ান বাবা? এই শিমুল, এসব কী হচ্ছে?”
হিমেল দীর্ঘশ্বাস ফেলে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

“প্লিজ শিমুল, স্পিক আপ। নাহলে আমি কায়ানের মতো ভদ্রলোক নই। মুখ দিয়ে অনেক কিছু বেরিয়ে যাবে।”
চাপা কান্না আর আটকে রাখতে পারল না শিমুল। তার চোখ বেয়ে টপটপ করে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল।
জেবরান দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“কী হয়েছে ভাই? তোমরা সবাই শিমুলকে কী নিয়ে দোষারোপ করছো?”
শিমুল হেঁচকি তুলে কাঁদতে শুরু করল।
কায়ান বিরক্ত হয়ে হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। তার কণ্ঠ বজ্রের মতো গর্জে উঠল।
“শিমুল, আই সেইড টেল মি দ্য ট্রুথ।”
সেরিন দ্রুত কায়ানের হাত ধরে তাকে বসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল।
“শান্ত হন।”

কায়ান ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে সেরিনের দিকে তাকাল।
সেই দৃষ্টি দেখে সেরিনের বুকের ভেতর কেঁপে উঠল। চোখে ছিল দহন, ক্ষোভ আর গভীর অভিমান।
শেষ পর্যন্ত ভয় আর অপরাধবোধের কাছে হার মানল শিমুল।
সে কাঁদতে কাঁদতে সব স্বীকার করে নিল। তবে ধর্ষণের ঘটনাটি এখানেও গোপন রাখল। শুধু বলল, জাকির তার প্রাক্তন প্রেমিক ছিল এবং সে তাকে ব্ল্যাকমেইল করছিল।
নূরবানু সিকদার প্রচণ্ড ঘামতে শুরু করলেন। তাঁর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
কায়ান ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে সেরিনের দিকে তাকাল।
সেরিন নিঃশব্দে মাথা নিচু করে নিল।
শিমুল কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“বিশ্বাস করুন ভাইয়া। আমি পরিস্থিতির শিকার।”
কায়ানের কণ্ঠে ঘৃণা স্পষ্ট।

“লজ্জা লাগা উচিত, শিমুল। যে ছেলেটা তোমাকে ব্যাড টাচ করতে চেয়েছে, সেই ছেলের কাছে তুমি সেরিনকে পাঠিয়েছ। হাউ কুড ইউ ডু দ্যাট?”
কথাগুলো শুনে শিমুল আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। ধপ করে মেঝেতে বসে পড়ল।
“ভুল হয়ে গেছে ভাইয়া। ক্ষমা করে দিন। আর হবে না।”
বানু মির্জা এতক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে সব শুনছিলেন। তিনি কোনো মন্তব্য করলেন না। কায়ানের ভয়াবহ রাগ দেখে তিনিও নীরব থাকাই শ্রেয় মনে করলেন।
সেরিনও নিঃশব্দে বসে রইল।
আহি কোথাও না কোথাও অনুভব করছিল, সেরিনের সঙ্গে নিশ্চয়ই কোনো ভুল হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি এত গভীর, তা সে কখনো কল্পনাও করেনি।
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর কায়ান বলল,

“আম্মা বেগম, আমি কিছুদিন সেরিনকে নিয়ে কক্সবাজারে একা থাকতে চাই। আমি চাই না, কেউ আমার আদেশ অমান্য করুক। আমার বউকে এই পরিবেশে রাখতে চাই না আমি।”
বানু মির্জা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন।
“সহমত। যাও, যেখানে খুশি থাকো। কক্সবাজারে তোমার প্রাইভেট ভিলায় গিয়ে সময় কাটাও।”
আহি বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করল,
“কিন্তু সেরিনের ভার্সিটি?”
কায়ান হিসহিসে কণ্ঠে উত্তর দিল,
“আমার বউয়ের পড়ালেখার দরকার নেই। তার স্বামী তার জন্য যথেষ্ট। খুব বেশি প্রয়োজন হলে এক বছর গ্যাপ দিলে কিছু হবে না।”
কায়ানের সেই কঠোর উচ্চারণের পর আর কেউ কোনো কথা বলার সাহস পেল না।
সেরিনও চুপচাপ বসে রইল।
জেবরানের ভেতরেও শিমুলকে নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ জমে উঠেছে। আজ পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে সে শিমুলের পাশে দাঁড়িয়েছে। তার সব ভুল, সব দুর্বলতা মেনে নিয়েছে।
কিন্তু আজ সে পারল না।
শিমুলের এই আচরণ সত্যিই ক্ষমার অযোগ্য।

শিমুলও কোথাও না কোথাও বুঝতে পারছে, সেরিনের জীবনের এই গভীর দুঃখের পেছনে তারও একটি বড় দায় রয়েছে। কিন্তু এখন হাজারবার ক্ষমা চাইলেও সেই ক্ষত আর মুছে যাওয়ার নয়।
সেরিনের চোখ দিয়ে অবিরাম জল গড়িয়ে পড়ছে। তার কখনোই একা থাকতে ভালো লাগে না। অথচ নিয়তি যেন বারবার তাকে সেই একাকীত্বের দিকেই ঠেলে দেয়।
গাড়িতে উঠে সে আহিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল।
অন্যদিকে বানু মির্জা কায়ানকে আলাদা করে ডেকে শান্ত গলায় বললেন,
“শোন বাবা। সব বুঝলাম। কিন্তু তুই যে সেরিনকে মেরেছিস, এটা বুঝতে কষ্ট হচ্ছে।”
কায়ানের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
বানু মির্জা মৃদু হেসে বললেন,

“আমি সব বুঝি। ওর গায়ে হাত দিস না। তোর বাবা এই জীবনে আমার সামনে কখনো গলা উঁচু করে কথা বলেনি। তুই কী পুরুষ, যে বউ মারবি?”
কায়ান নিচু স্বরে বলল,
“আম্মা বেগম।”
বানু মির্জা তাকে থামিয়ে দিলেন।
“তুই যাই বোঝাস না কেন, আমার তাতে কাজ হবে না। থাকতে চাস, সেরিনকে নিয়ে একা থাক। আমিও চাই এই সম্পর্ক ঠিক হোক। তবে তোর কাজকর্মের ওপর নজর রাখিস। বউ মারলে আল্লাহর কাছেও কাপুরুষ হয়ে যাবি, কায়ান।”
কায়ান ধীরে ধীরে মাথা নিচু করে বলল,
“সরি আম্মা বেগম।”

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৪৯

বানু মির্জা স্নেহমাখা অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,
“সরি আমাকে না, সেরিনকে বলবি।”
কায়ান নীরবে মাথা নাড়ল।
বানু মির্জা ছেলের মাথায় স্নেহভরা হাত বুলিয়ে দিলেন। তারপর ভারাক্রান্ত মন নিয়ে তাদের বিদায় জানালেন। তাঁর চোখে তখন একসঙ্গে ছিল মায়ের মমতা, উদ্বেগ এবং একটি সংসার আবার নতুন করে গড়ে ওঠার নীরব প্রার্থনা।

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here