কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৩৮
আরিফা তাসনিম তামু
পুরো ক্লাস রুম এখন একদম শান্ত একটু আগে এতো হৈচৈ করা সকল ছাএ ছাএীরা মুখে যেন কুলুপ এঁটে বসে আছে।এর অবশ্য একটাই কারণ সকলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সম্মানিত পেট মোটা বাংলা স্যার।স্বা্ভিকের চেয়ে উনার পেট টা বেশিই বড়।আর উনি সব সময় পেটে হাত দিয়ে হাঁটে। এজন্য উনার দুষ্ট ছাএ ছাএীরা উনার পিছনে উনাকে গর্ভবতী স্যার বলে।আবার কেউ পেট মোটা স্যার বলে।উনি ক্লাসে এসেছে প্রায় ২-৩ মিনিটের উপরে চশমাটা নাকের ডগায় ফেলে সকল ছাএ ছাএীর মতিগতি পর্যবেক্ষণ করছে।আর উনার সম্মানিত ছাএ ছাএীরাও উনার মতিগতি বোঝার চেষ্টা করছে।এই পেট মোটা স্যার চুপচাপ মানেই বিপদ একটু পর বোম ব্লা স্ট হবে।স্যার এবার সাথে করে নিয়ে আসা বইটা খুলতে খুলতে বলল।
—যারা যারা বাংলা বই আনো নি তারা দাঁড়াও আর যারা এনেছো তাঁরা ৮০ পৃষ্ঠা খুলো।
ব্যস যা ভেবেছিলো তাই হলো। এই স্যার খুব ভালো জানে কখন কোথায় কীভাবে বাঁশ দিতে হয়।কলেজে উঠেছে এতো মাস কখনো এই স্যার বই থেকে কিছুই পড়ানি নিজে একটা বই নিয়ে আসতো সেটা থেকে বোর্ডে লিখে দিতো। কখনো বইর কথা বলেও নি।তাই অনেকেই বাংলা বই আনা বাদ দিয়ে দিয়েছে। এত কষ্ট করে বইটা এনে লাভ কী ওটা তো কাজেই আসে না।
একে একে দাঁড়ানো শুরু করলো।আহি,তিহা,তিহান সাইফা সবাই দাঁড়াল বসা মাএ পাঁচ জন তাদের মধ্যে একজন কে বসে থাকতে দেখে আহি,তিহা,সাইফা,তিহানে চোখ রসগোল্লার মতো বড় হয়ে গেলো।যাকে বসে থাকতে দেখে আহিদের চোখ রসগোল্লার মত হয়ে গেছে। সে মহান ব্যক্তি আহিদের দিকে তাকিয়ে বসে বসে মুচকি মুচকি হাসছে।তিনি আর কেও নয় আমার প্রিয় তোমার প্রিয় সবার প্রিয় শান্ত শিষ্ট ভদ্র শ্রেয়া। শ্রেয়ার হাসি দেখে সব গুলার গা জ্বলে উঠল
সাইফা____এ তো মীরজাফরের চেয়েও ভয়ংকর।
তিহা___গরিবের রিনা খান।
তিহান___দাঁত গুলো দেখ আল্লাহ যানে কয়দিন ধরে ব্রাশ করে না।
আহি হতাশ কন্ঠে গানের মতে করে বলে উঠল
সম্পর্ক বদলে গেলো একটি পলকে
একটু আগে যে ছিল আপন সে এখন
মীরজাফরের চেয়েও ভয়ংকর, গরিবের
রিনা খান, তাই কুটনামি করতে করতে
হয়তো ভুলে গেলো ব্রাশ করতে ”
যদিও সব গুলা ফিসফিস করে কথা বলছে তবুও শ্রেয়া শুনে নিয়েছে। দাঁতে দাঁত পিষে বলে
__বুদ্ধি থাকলে উপায় হয় তোদের মাথায় তো সব গোবর বুদ্ধি হবে কীভাবে? এটা অন্য বই।
এসবগুলা হা করে শ্রেয়ার দিকে চেয়ে আছে। শ্রেয়া ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বসে আছে।
নেওয়াজ বাড়ি
ঘড়ির কাটায় বেলা ১০:৩০ বাজে এমন সময় রৌদ্রকে বাড়ির ভিতর ডুকতে দেখে রাইসা খান এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন
—কী রে এই সময় বাড়িতে?
রৌদ্র মায়ের দিকে একপলক চেয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে বলল
___ ফাইল নিতে আসছি ভুলে রেখে গিয়েছি। তোমরা এখনো বাড়ি যাওনি কেনো?
__আতিয়া আপা যেতেই দিচ্ছে না বলল বিকালে যেতে। তুই কী আর আসবি এখানে?
__না তোমরা চলে যেও আমি একবারে রাতে অফিস থেকে আমাদের বাড়িতে যাব।
__আচ্ছা।
সকালে নাস্তা করে রৌদ্র অফিসে চলে যায় তাড়াহুড়ো করে তাই ফাইল নিতে ভুলে গিয়েছে।আহি আজকে ফাইজের সাথে কলেজে গিয়েছে।আদ্রও আজকে অনেক দিন পর নিজের অফিসে গিয়েছে।বাড়িতে ছোটরা বলতে ইয়ানা আর শালু আছে। ফিহাও তার ভার্সিটিতে গিয়েছে।
রৌদ্র রুমে গিয়ে ফাইলটা নিয়ে তাড়াহুড়ো করে বের হতে নিবে এমন সময় কোথায় থেকে ইয়ানা এসে রৌদ্রের বুকের উপর পড়ে। রৌদ্র নিজের বুকের দিকে তাকায় অমনি রাগে মাথা ফেটে যায় তার।ইয়ানা অনেক আগেই সরে দাঁড়িয়েছে।ভয়ে ভয়ে রৌদ্রের চোখের দিকে তাকায়। অমনি মেয়েটা আরো ভীতু হয়ে গেলো। রৌদ্র ফোশ ফোঁশ করে শ্বাস নেয়।নাহ তবুও রাগ কমছে।রৌদ্র নিজের বুকের দিকে তাকায় বুকের কাছটায় লাল লিপস্টিক দ্বারা স্পষ্ট দুটো মেয়েলি ঠোঁট বসে আছে।যে কেউ দেখলে এক সেকেন্ড অন্য কিছু ভেবে নিতে পারবে।এবার ইয়ানার দিকে তাকায় দেখেই বুঝা যাচ্ছে কোথাও বের হচ্ছে একদম পরিপাটি হয়ে।কিন্তু এতো সেজেগুজে কোথায় যাচ্ছে এই মেয়ে?একে তো দেরি তার উপর এই কান্ড এর মধ্যে ইয়ানার এসব সাজগোছ দেখে রৌদ্রের মাথায় রক্ত উঠে যায়।রৌদ্র হাসি খুশি একটা ছেলে সহজে রাগে না তবে রাগলে কোনো কিছুর তোয়াক্কা করে না।
— স সরি..!
তোতলানো সরে সরি বলে ইয়ানা। মেয়েটা নিজেও ভয়ে আছে রৌদ্রের এমন ভয়ংকর রুপ দেখে রৌদ্রকে আগে কখনো এমন দেখেনি। তবে সরি টাই যেন ইয়ানার কাল হয়ে দাঁড়াল। রৌদ্র রাগে ভসে এক ভয়ংকর কান্ড ঘটিয়ে পেলে।
সেকেন্ডের মধ্যে আশপাশ দিন দুনিয়া সব ভুলে ইয়ানার ঠোঁট আকটে ধরে নিজের ঠোঁট দ্বারা। হঠাৎ কী থেকে কী হল ইয়ানা বুঝতে পারল না। তবে ঠোঁটের ব্যথায় মেয়েটা কুঁকড়ে উঠে।রৌদ্র নিজের দাঁত দ্বারা ইয়ানার নরম তুলতুলে ঠোঁট টা পিষিয়ে দিচ্ছে। সব রাগ যেন ঠোঁটের উপর উঠাচ্ছে। ইয়ানা ব্যথার ছটছট করছে ছাড়া পাওয়ার জন্য কিন্তু রৌদ্র এক বিন্দুও ছাড় দিচ্ছে না। মুখে নোনতা স্বাদ লাগার পরও রৌদ্র ছাড়ছে না।
__আল্লাহ গো এই আমি কী দেখলাম ভাইজান আপনে মুখ দিয়া আপনার শ্বাস ক্যান আটকাইয়া রাখছেন? আপা তো মইরা যাইবো গা ছাড়েন দেখি।আপা আপনে ডরায়েন না মুই আইয়া পড়ছি।
শালুর কন্ঠস্বর কানে আসার সাথে সাথে রৌদ্র ইয়ানাকে ছেড়ে দেয়।ইয়ানা ঠোঁট চেপে ধরে ধুপ করে নিচে বসে পড়ে।
রৌদ্র এক পলক ইয়ানার দিকে চেয়ে চোখ সরিয়ে হনহন করে স্থান ত্যাগ করে। শালু এসে ইনায়াকে ধরে।
__আপা আপনে ঠিক আছেন.?
ইয়ানা কিছু না বলে না।চুপচাপ চোখের পানি ফেলছে। শালুর খুব খারাপ লাগে। আপাটা কত্ত ভালা একবারে পরী আপার মতো।সকালে নাস্তার টেবিলে শালুকে কত আদর করল।ইয়ানার কান্না দেখে শালুর কান্না চলে আসে। মেয়েটা আবার নরম মনের।
—আপার আপনের খুব কষ্ট হইতেছে তাই না?ভাইজান টা কত্ত খারাপ। দারান মুই খালাম্মারে ডাইকা আনি।
এই বলে শালু উঠতে নিবে।ইয়ানা ওর হাত ধরে আটকে দেয়।নিজেকে স্বাভাবিক রাখর চেষ্টা করে বলে
—এই ব্যাপারে কাউকে কিছু বলবি না।বললে আমি আর তোর সাথে কথা বলব না।
—কিন্তু আপা আপ
—কোনো কিন্তু না যেটা বলেছি মাথায় রাখিস আমি রুমে গেলাম। মাকে বলিস আমার মাথা ধরেছে এখন আর বাইরে জাব না।
এই বলে ইয়ানা আস্তে করে উঠে নিজের রুমের দিকে হাঁটা দেয়।খুব অভিমান হয়েছে রৌদ্রের উপর। আর জীবনেও লোকটার সামনে জাবে না।সে কী ইচ্ছে করে এমন করেছে্?শালু ছলছল চোখে ইয়ানার যাওয়ার প্রাণে চেয়ে থাকল।
এই দিকে স্যার একটু দয়া করে সব মেয়েদের বসিয়ে দিয়েছে।কিন্তু ছেলেদের এখনো দাঁড় করিয়ে রেখেছে।দঁড়াতে দাঁড়াতে তিহানের পা ব্যথা হয়ে গেছে।শুধু যে দাঁড়িয়ে আছে তা না সবগুলা স্যারের গুষ্টি শুদ্ধো উদ্ধার করে ফেলছে।
—স্যার কালকে আপনার বউকে দেখলাম। একবারে আগুন সুন্দরী। এতো সুন্দর বউ কীভাবে পেলেন স্যার।আপনার তো কপাল ভালো।আমাকে কী বলে জানেন।
তিহানের কথায় স্যার একটু নড়েচড়ে উঠল।বেচারা আবার বউ বলতে পাগল।বউয়ের নামে এত প্রশংসা শুনেই স্যারের মুখ ছকছক করে উঠল।সেটা স্যারের মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে। তা দেখে তিহান বিড়বিড় করেই বলে
—যেই মুরগীর নাম শুনেছে অমনি শিয়াল লাফিয়ে উঠল।শালা পেটুক দাঁড়াতে দাঁড়াতে পা টা একবারে ব্যথা হয়ে গিয়েছে। যাক ঢিল টা তো জায়গা মতো লেগেছে।
তিহানের বিরবির কথা কারো কানে না গেলেও পাশে বসা সাইফার কানে ঠিকিই গেছে।সাইফার আবার ধৈর্য কম কোনো কিছু বলতে দেরি হলে তার মন আর শান্ত থাকে না।স্যারের বউ কি বলেছে শুনার জন্য তার মন চটপট করছে সে কখন থেকে।না পেরে বেঞ্চের নিচ দিয়ে তিহানের পায়ে গুতা মারল।একবার দু’বার তিনবার নাহ এই বান্দার খবর নেই।না পেরে সাইফা তিহানের প্যান্ট ধরে টান দিল।তিহান ভ্রু কুঁচকে চেয়ে বলল
—বাল প্যান্ট ধরে টানাটানি করেছিস কেনো?ছেলে মানুষ দেখলেই প্যান্ট টানতে ইচ্ছে করে তাই না?শুন সাইফা একদম আমার বউয়ের সম্পদের দিকে নজর দিবি না।বেচারি জানলে নাকের পানি চোখের পানি এক করে ফেলবে।
সাইফা চোখমুখ কুঁচকে ফেলে।এই ছেলে বাকিদের সাথে ঠিকি সুন্দর করে কথা বলে।শুধু ওর বেলা এভাবে কথা বলে কেন সেটা আজও বুঝল না।ওদের বন্ধুত্ব ক্লাস 1 থেকে। সেই ছোট বেলা থেকে সাইফা তিহানকে দেখে আসছে।ছেলে হিসেবে তিহান ধারুন। শান্ত শিষ্ট ভদ্র।তিহান ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে পড়লেও ওকে দেখতে ২৬_২৭বছরের যুবক মনে হয়।জিম করা বডি ফর্সা ত্বক গোলাপি ঠোঁট। আর যেটা মেয়েদের নজর কাটতে বাদ্য সেটা হচ্ছে বাম গালে বাদামি তিল।এই তিলের প্রতি কত মেয়ের আকর্ষণ তা নিজ চোখেই সাইফা দেখেছে।এমন কী সাইফারও তিলটা বেশ ভালো লাগে। ক্লাসের অনেক মেয়ের Crush এই ছেলে।কত শত যে প্রোপজাল পাইছে হিসাব নেই। কিন্তু এই ছেলে কারো টা একসেপ্ট করে নাহ কেনো আজও কেউ জানে না।
—তোর বউয়ের সম্পদ দেখার ইচ্ছে আমার নেই ও।
—থাক লজ্জা পেতে হবে না। তুই চাইলে আমার তোকে দেখাতে কোনো লা লা লা।
—চুপ বেয়াদব মাপ চাই ভাই তোর প্যান্ট টানা টাই আমার জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে।ক্ষমা কর।
বলেই সাইফা অন্য দিকে ঘুরে বসে। তিহান ঠোঁট চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করছে।
—কী হলো তিহান কী বলেছে বললে না তো?
স্যারের কথায় তিহান সোজা হয়ে দাঁড়ায় তার পর ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে
—যদি বলি আমাকে প্রোপজ করেছে।
—কিহহহহ..!
স্যারের চিৎকারের সবাই কানে হাত দিয়ে পেলেছে।তবে তিহানের কোনো হেলদোল নেই সে ভালোই মজা পাচ্ছে। শালা বুঝ এবার কষ্ট দাঁড়াতে দাঁড়াতে পা টা ব্যথা হয়ে গেলো।
—আরে স্যার এতো হাইপার হবেন না মজা করেছি।
এতক্ষণে স্যারের কলিজায় পানি এলো।বেচারা স্যার বউ নিয়ে একটু বেশিই ভয় পায়। এইদিকে বাকিরা ঠোঁট টিপে হাসছে।স্যার সবার দিকে একপলক তাকাল নাহ এখানে আর থাকা যাবে না। কথায় আছে না দূর্ভল জায়গা জানলে শয়তানেও পিছে পড়ে। আজ স্যারের অবস্থা ও তেমন।তিনি নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো নিয়ে যেতে যেতে বলল
—আজ এখানেই ক্লাস শেষ আর কাল থেকে বই নিয়ে আসিও সবাই।
স্যার বের হয়ে যেতেই সবাই অট্টহাসিতে মেতে উঠল।তিহান ধুপ করে সাইফার পাশে বসে পড়ল।
—সর বুটকি জায়গা দে পা টা একবারে গেলো আমার।
সাইফা রেগে তিহানের চুল টেনে বলল
—তোর বউ বুটকি শালা।
_এই শাঁকচুন্নি একদম আমার পরীর মতো বউটাকে বুটকী বলবি না।
এক পর্যায় এবার দুজনের চুলোচুলি হয়ে যায়।আহিরা টেনে দুজন কে দু’পাশে নিয়ে ঝগড়া থামায়।সাইফা তবুও দৌড়ে আসে আবার ঝগড়া করার জন্য কিন্তু শ্রেয়া আর তিহা ওকে দরে রেখেছে। ক্লাসে স্যার ডুকলে তবেই দুজন শান্ত হয়।এখন ফাইজের ক্লাস ফাইজ এসে ক্লাস নিতে শুরু করল। সবাই মন দিয়ে ক্লাস করছে।
নিজের কেবিনে বসে ফাইল চেক করছে রৌদ্র পাশে দাড়িয়ে আছে। তার পিএ ইয়াশ। রৌদ্র ফাইল চেক করতে করতে খেয়াল করল ইয়াশ ওর দিকে কেমন করে তাকিয়ে আছে।
_ইয়াশ আমি জানি আমি একটু বেশি সুন্দর এন্ড হ্যান্ডসাম। তাই বলে তুমি ছেলে হয়েও এভাবে গিলে খাবে?শুনো ইয়াশ ছেলেতে তোমার ইন্টারেস্ট থাকলেও আমার কিন্তু নেই।সো জেগে জেগে স্বপ্ন দেখা বাদ দাও।
ইয়াশ থতমত খেয়ে যায়।
—আসলে স্যার ই
—আসলে নকলে কোনো কথা না কী বলবে বলে ফেলো।
ইয়াশ আমতা আমতা করে বলে
—স্যার আপনার শার্টে ইয়ে মানে
রৌদ্র এবারে নিজের শার্টে দিকে তাকায়। যেখানে এখনো লিপস্টিক দ্বারা ইয়ানার ঠোঁটের চাপ বসে আছে।রৌদ্র মুছার চেষ্টা করেছে।সাদা শার্ট হওয়ার দরুনে দাগ বসে গেছে।রৌদ্র এবার সোজা হয়ে ইয়াশের দিকে তাকাল।তার পর একটা টিস্যু এগিয়ে দিয়ে বলে
—আমার তো শার্টে এটা মানা যায় কিন্তু তুমি তো ঠোঁটে নিয়ে ঘুরছো। নাও মুছো।
সঙ্গে সঙ্গে ইয়াশ ঠোঁটে হাত দিয়ে ঘষা দিয়ে হাত সামনে এনে দেখে সত্যি লিপস্টিক লেগে আছে।ইয়াশ তড়িঘড়ি করে টিস্যু দিয়ে ঠোঁট মুছে নেয়।বেচারা বউয়ের জ্বালায় বাঁচে না ঘরেও লিপস্টিক দিয়ে সেজেগুজে ঘুরে একটা চুমু খেলেও সেটার টেগ লাগিয়ে দেয়।ইয়াশ লজ্জা পেলো।
—ইয়ে মানে স্যার
—থাক থাক আমি বুঝতে পেরেছি।
ইয়াশ মাথা নিচু করে নেয়। রৌদ্র মুচকি হেঁসে কাজে মন দেয়।কিছুক্ষণ পর মোবাইল টা বেজে উঠে।স্কিনে ঝলঝল করে ভসে উঠে। আমার লুতুপুতু টা”নাম টা দেখে রৌদ্র দুষ্ট হেঁসে কলটা ধরে।ওপাশ থেকে আদ্র বলে উঠে।
—কোথায় আছিস?
—আই তো তো বউ নিয়ে বাসর করছি।
বেচারা ইয়াশ স্যারের এমন ঠোঁট কাটা কথায় খুক খুক করে কেঁশে উঠে।ওপাশে থাকা আদ্র ইয়াশের কাশি শুনে বলে উঠে
—দেশে কী মেয়ের অভাব পড়েছে তুই ছেলে নিয়ে ছি ছি রৌদ্র।
রৌদ্র কটমট করে ইয়াশের দিকে চেয়ে বলে
— তোমার কাশি আসার আর সময় ফেলো না?
এমন লাগামহীন কথা শুনলে কাশি আসা কী দোষের কিছু?ইয়াশ তা বুঝল না।তবে স্যারের সামনে আর কিছু বলল না।
__আধাঘন্টার মধ্যে মিষ্টি নিয়ে আমার অফিসে আয়।
—মিষ্টি কেনো?
—তুই মামা হতে যাচ্ছিস এজন্য।
—এ্যাঁ..?
—এ্যাঁ না হ্যাঁ তাড়াতাড়ি আয়।
বলেই আদ্র কল কেটে দেয়। রৌদ্র বেচারা ড্যাপ ড্যাপ করে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে রইল।
ক্লাস চলছে সবাই মন দিয়ে ক্লাস করছে।ঠান্ডা শান্ত পরিবেশ টায় হঠাৎ হুমকার দিয়ে বেজে উঠল।
ঘটক বুঝি আমার
বাড়ির রাস্তা চিনেনা
আরে ঘটক বুঝি
আমার বাড়ির রাস্তা চিনেনা
পান খাইয়া মুখ
লাল করিয়া
কালো ছাতা মাথায় দিয়া
আরে পান খাইয়া
মুখ লাল করিয়া
কালো ছাতা মাথায় দিয়া
কত বিয়ার খবর আনে
আমার খবর আনেনা
এমন গান শুনে সবাই শ্রেয়ার দিকে তাকাল। কারণ গানটা বাজছে শ্রেয়ার ব্যাগ থেকে।শ্রেয়া তড়িঘড়ি করে মোবাইল বাইর করে।দেখে ওর মা কল দিয়েছে।শ্রেয়া কল কেটে দিয়ে ফাইজের দিকে তাকায়। দেখে ফাইজ কেমন করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।শ্রেয়া হাসার চেষ্টা করে বলে
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৩৭
— হে হে ইয়ে মানে স্যার মোবাইল বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছি মা কল দিয়েছিল।
—এটা কেমন রিংটোন মিস শ্রেয়া?
—কেনো স্যার ভালোই তো আছে..!
—ঘটক মনে হয় দিনকানা তাই তোমাকে চোখে দেখেনি সমস্যা নেই। আমি তোমার বাড়িতে ঘটক পাঠিয়ে দিব।তোমার বিয়ের বয়স হয়ে গিয়েছে তোমার মা বাবা কে জানানো প্রয়োজন।তারাও জানুক তাদের গুনোধর মেয়ের কান্ড।
সবাই হেঁসে উঠল।আহিরা হতাশ এই মেয়েকে নিয়ে আর পারা যায় না।নিজেও বাঁশ খায় সাথে ওদেরও খাওয়ায়।
