Home ক্যাপ্টেন সাহেব ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ২৩

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ২৩

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ২৩
মারিয়াম ফুল

তুমি বাবা হতে চলেছ রুদ্র! ফ্যামিলিকে সময় দাও, ওদের ভালো মন্দের খোঁজ রাখো। তোমার এই বেপরোয়া জীবন থেকে ফিরে এসে একটু সংসারী হও।”
“অন্তু, আজ তোমার জন্মদিনে আমি তোমাকে একটা ফুলও দিতে পারছি না। কারণ আমি জানি না তুমি কোথায় শুয়ে আছো। ভাইয়া তোমাকে মেরেছে ঠিকই, কিন্তু সে আসলে আমাকে জ্যান্ত কবর দিয়ে গেছে। আমি বেঁচে আছি ঠিকই, কিন্তু আমার আত্মাটা সেই রাতেই তোমার সাথে ওই পরিত্যক্ত ঘরে মরে পড়ে আছে। তুমি কি আমাকে ঘৃণা করো অন্তু? আমাকে ভালোবাসার মাসুল কেন তোমাকে এভাবে দিতে হলো? কেন তুমি কবরের একটু মাটি পেলে না?”

মেহেরের কান্নার শব্দ আস্তে আস্তে ক্লান্তিতে ঝিমিয়ে এল, মেহের এভাবে কতক্ষণ বসে ছিল সে নিজেও জানে না মেহেরের জায়নামাজে বসে থাকা সেই মুহূর্তগুলো ছিল যেন অনন্তকালের সমান। পাথরের মতো স্থির হয়ে থাকা শরীরটাতে প্রাণ ফিরে এল ফোনের রিংটোন। অনেকক্ষণ কান্নার ফলে মেহেরের চোখ দুটো ফুলে ভারী হয়ে আছে, নাকের ডগাটা লাল হয়ে উঠেছে। ফোনের আলোয় ঝাপসা চোখে সে দেখল মেঘলার কল।
ফোনের ওপাশে মেঘলা যখন জানালো যে নূর আর মির্জা প্রথমবারের মতো পুত্রসন্তানের বাবা-মা হয়েছে, তখন মেহেরের বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত হাহাকারে দুমড়ে মুচড়ে গেল। আজ ২২শে জুলাই, এই তারিখের এমন একটি দিনে অন্তুও প্রথমবারের মতো পৃথিবীর আলো দেখেছিল। এই দিনেই কিনা খুনি মির্জার ঘরে নতুন প্রাণের আগমন! মেহের অস্ফুট স্বরে শুধু বলল, “দোয়া করি ওর জন্য, মন থেকে দোয়া করি। যেন বাপের মতো না হয়।”

মেহেরেন নুরের প্রতি কিংবা তাদের বাচ্চার প্রতি কোন অভিযোগ ছিল না।
এরপরই তার গলায় শীতলতা নেমে এল। সে মেঘলাকে বলল, “মেজো ভাইয়াকে বলবি একবার কল দিতে?” মেঘলা ওপাশে স্তব্ধ হয়ে গেল। মেহের এতদিন প্রচণ্ড অভিমানে মাশফির কোনো কল ধরেনি, কিন্তু আজ তার গলায় মাশফির সাথে কথা বলার আকুতি শুনে মেঘলা ভীষণ খুশি হয়ে গেল। মেঘলা একসময় ভেবেছিল মাশফির সাথে বিয়ের পর তার জীবন আরও কঠিন হয়ে যাবে, অথচ মাশফি বিদেশের মাটিতে থেকেও একজন আদর্শ স্বামী হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। মাশফি মেহেরের জীবনের এই ধ্বংসযজ্ঞের বিন্দুমাত্র খবর জানে না, কারণ সায়েদ কামিনী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিলেন যেন মাশফির কানে এসব খবর না পৌঁছায়।
ফোনটা কেটে দিয়ে মেহেরের বুক ফেটে হাহাকার বেরিয়ে আসতে চাইল। সে টলতে টলতে রুদ্রর রুমের টেবিলের কাছে গিয়ে পানি খেল। পাশেই পড়ে ছিল একটা ছোট ডায়েরি। এক সময় সে অন্তুর জন্য চিঠির পর চিঠি লিখত। অথচ আজ অন্তু নেই, লেখার মত কেউ নেই। তবু কেন জানিনা তার খুব লিখতে ইচ্ছে করল।
মেহেরের ডায়েরির পাতায় কলম ছোঁয়ানোর সাথে সাথে প্রতিটি শব্দ যেন এক একটা দীর্ঘশ্বাসে রূপ নিল। সে লিখতে শুরু করল:

“প্রিয় সেই মানুষটি,
যে এই চিঠিটি কোনো একদিন খুঁজে পাবেন—
জানি না এই অগোছালো শব্দগুলো যখন আপনার চোখে পড়বে, তখন আমি পৃথিবীর আলো-বাতাসে নিঃশ্বাস নিচ্ছি কি না। হয়তো ততদিনে এক মুঠো মাটি হয়ে কোনো অন্ধকার কবরে হারিয়ে গেছি। ইদানীং খুব স্পষ্ট অনুভব করি—আমার সময় ফুরিয়ে আসছে। চারপাশের বাতাস ফিসফিস করে বলছে আমার বিদায়বেলা ঘনিয়ে এসেছে।
কোটি মানুষের এই ভিড়ে নিজেকে বড্ড একা মনে হয়। আমি কি কারো মনে এক ফোঁটা স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকব? নাকি আমার পুরো জীবনটাই ছিল এক নিষ্ঠুর রসিকতা? আমার বেঁচে থাকার একমাত্র সুতো হয়ে আছে আমার ছোট্ট কলিজার টুকরো—আমার ‘লিটল চ্যাম্প’। ও এখন কত বড় হয়েছে? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, ও কি তার মাকে চিনতে পেরেছে?
আমার সবচাইতে বড় হাহাকারটা জানেন কোথায়? ও যখন কথা বলতে শিখবে, ও কাকে ‘বাবা’ বলে ডাকবে? ওর সেই ডাক শোনার মানুষটা তো ওর পৃথিবীতে আসার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেছে। আমার বাচ্চা কোনোদিন বাবার বুক চিনবে না, তার এই বিষণ্ণতার দায়ভার আমি কোথায় রাখি? আর এখন যদি আমি নিঃশেষ হয়ে যাই… তবে আমার এই পিতৃহীন সন্তানটাকে এই কঠিন পৃথিবীতে কে আগলে রাখবে?
তাসের ঘরের মতো সব স্বপ্ন বারবার ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তবুও যখন চারদিকে অন্ধকার দেখি, তখন সেই মহান সত্তার কথা মনে পড়ে—

❝হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল ❞
(আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট)।
হয়তো আমার এবং আমার অনাথ হতে যাওয়া বাচ্চার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আজ আর লিখতে পারছি না, চোখের জলে শব্দরা ঝাপসা হয়ে আসছে। যদি হারিয়ে যাই তবে আমার এই লেখাগুলোর মাঝেই আমায় খুঁজে নেবেন। আমার বাচ্চাটাকে আপনারা একটু দেখবেন… ও বড় একা।”
মেহের ডায়েরিটা বন্ধ করে বুকের সাথে চেপে ধরল। বাইরে তখন মেঘ ডাকছে। মেহের এমনভাবে কেন লিখেছে সে নিজেও জানে না, শুধুমাত্র তার মনে হয় ছেলে খাওয়া উচিত তাই লিখেছি। মাঝে মাঝে কিছু জিনিসের কিছু না হয়তো কোন উদ্দেশ্য কিংবা কারণ থাকে না।
চিঠিটা লিখে মেহের বারান্দায় গিয়ে বসল, তার মনে হলো এই বিশাল অ্যাপার্টমেন্টের প্রতিটি কোণা যেন বিষণ্ণ কালো রঙে নিমজ্জিত। দেয়ালে টাঙানো ফ্রেম থেকে শুরু করে আসবাব—সবই যেন এক গভীর শোকের বার্তা দিচ্ছে। মেহেরের কালো রঙ একদম কেন জানি পছন্দ হয় না। তার হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা কেবল শুভ্র সাদা রঙের জন্য। এমনকি অন্তুকে বিয়ে করার সেই বিশেষ দিনটিতেও সে সাদা রঙের এক সুতি শাড়ি পরেছিল।

হঠাৎ বারান্দার এক কোণে কিছু একটা পড়ার শব্দে মেহেরের ভাবনায় ছেদ পড়ল। সে সচকিত হয়ে তাকিয়ে দেখল, একটা বিড়াল জানালার গ্রিল গলে ভেতরে ঢুকে পড়েছে। খুব সম্ভবত পাশের এপার্টমেন্টের কারো বিড়াল হবে এটা
মেহেরের ‘জুফোবিয়া’ আছে। কোনো প্রাণী কাছে দেখলেই তার দম বন্ধ হয়ে আসে। সে আতঙ্কিত হয়ে দুচোখ বন্ধ করে চিৎকার করে উঠল— “হেল্প! প্লিজ কেউ বাঁচান!”
রুদ্র সারাদিন অ্যাপার্টমেন্টে ছিলাম, রুদ্র ঠিক সেই মুহূর্তেই অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকেছিল।মেহেরি চিৎকার শুনে সে তাড়াহুড়ো করে রুমে ঢুকলো। মেহেরকে ওভাবে সিঁটিয়ে থাকতে দেখে সে দ্রুত এগিয়ে এসে বিড়ালটাকে অবলীলায় কোলে তুলে নিল। মেহের এক চোখ খুলে রুদ্রর কোলে বিড়ালটাকে দেখে ভয়ে খাটের এক কোণায় গিয়ে দাঁড়াল। সেই প্রথম দিনের মতো কাঁপাকাঁপা হাতে একটা বাটার নাইফ তুলে ধরল নিজেকে বাঁচাতে।

‘আমি বিড়ালটা ছাড়ছি না… ডার্লিং…শেষের ডার্লিং শব্দ টা একটু টেনেই বলল। একটা পুঁচকে বিড়াল দেখে ওভাবে ভয় পাও? অথচ এই দুনিয়ার মানুষগুলো যে পশুর চেয়েও বেশি হিংস্র, সেটা কি জানো না?”
মেহের তোতলাতে তোতলাতে বলল, “ও-ওটাকে আমার সামনে থেকে সরান প্লিজ স-সরান।”
রুদ্র বিড়ালটার পিঠে হাত বুলিয়ে ব্যাঙ্গ করে বলল, “তা প্লেন ভয় পাও বুঝলাম, কিন্তু এই বিড়াল নিয়ে তোমার সমস্যা কী? ও কি তোমাকে কামড়ে দেবে?”
মেহের দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “আই হ্যাভ জুফোবিয়া! আপনি বুঝবেন না।”
রুদ্র বিড়ালটাকে একপাশে নামিয়ে দিয়ে মেহেরের দিকে দুই পা এগিয়ে এল। তার চোখে কালকের নেশার রেশ কাটলেও এক ধরনের বিভ্রান্তি কাজ করছে। সে মেহেরকে থামিয়ে দিয়ে থমথমে গলায় বলল,
“ কালকের রাতের কিছু আমার মনে নেই। আমাদের মাঝে কি… মানে কাল রাতে কি বিশেষ কিছু হয়েছিল? ”

মেহের চমকে উঠলো “আ…আমাদের মাঝে কি হবে ”
“মানে আমি কি উল্টোপাল্টা কিছু বলেছিলাম?ওয়েট তুমি কি ভেবেছিলে??”আমি জাতে মাতাল কিন্তু তালে ঠিক… তুমি ভাবলে কিভাবে ”
মেহের রেগে কির -মির করে বলে উঠলো ” আমি এরকম কিছুই ভাবিনি ”
রুদ্র বলে উঠলো তাহলে এমন কাপাকাপি করছো কেন।
“কিছু না এমনি ”
রুদ্র আবার বলে উঠলো… আমি কিছু প্রশ্ন করেছি, আনসার মি। রুদ্রের ভয় হতে লাগলো সে কি কাল রাতে মেহেরকে সত্যিটা বলে ফেলেছিল। তার-মনে নেই কিচ্ছু।
মেহের এই মোক্ষম সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল। সে ঝাঝালো গলায় উত্তর দিল, “আপনি তো কাল রাতে আপনার সব গার্লফ্রেন্ডের নাম বলছিলেন আর নিজেকে….
“আর নিজেকে…. পরে কি বলেছি বলো….”
মেহের নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল, “আমি আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নই, মিস্টার তালপাতার সেপাই।”
রুদ্রর চেহারায় চরম বিরক্তি ফুটে উঠল, “হোয়াট ইজ তালপাতার সেপাই ”
মেহের আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই দরজায় সজোরে আঘাত পড়ল। হামজা চৌধুরীর গুরুগম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এল। রুদ্র বিরক্ত হয়ে বাবার ঘরে গেল। সেখানে যেতেই দেখল হামজা চৌধুরী রাগে কাঁপছেন।
“কালরাতে কেন আবার বাইক রেসিংয়ে গেলে? তুমি কি আইন-কানুনের তোয়াক্কা করো না রুদ্র?” হামজা চৌধুরীর ভরাট কণ্ঠস্বর ড্রয়িংরুমের দেয়ালগুলোতে আছড়ে পড়ল। তাঁর চোখেমুখে ফুটে উঠেছে একরাশ হতাশা আর শাসন।

রুদ্র তাচ্ছিল্যের এক বিষাক্ত হাসি ঠোঁটে ঝুলিয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। সে নির্লিপ্ত গলায় বলল, “নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতিই আমার জন্মগত ঝোঁক বাবা। আমি রাইহান চৌধুরী রুদ্র, আমি কারো ধার ধারি না। ”
হামজা চৌধুরী রাগে কাঁপতে কাঁপতে চিৎকার করে টেবিল চাপড়ে উঠলেন। এবার তাঁর কণ্ঠস্বর আরও সপ্তমে চড়ল, “তুমি কি মানুষ হবে না? আমি ভেবেছিলাম বিয়ের পর তুমি সংসারী হবে। কিন্তু তুমি? সারাদিন-রাত বাইরে টো টো করে ঘুরে বেড়ানো আর এই মরণখেলা খেলা…..
তোমার ঘরে একটা মেয়ে দিনরাত তোমার পথ চেয়ে বসে থাকে, তার সাথে দুটো ভালো কথা বলার সময় নেই তোমার, অথচ রেসিং ট্র্যাকে পড়ে থাকার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় পাও।”
হামজা চৌধুরী এক পা এগিয়ে এসে রুদ্রর চোখের দিকে তাকিয়ে ধরা গলায় বললেন,
“তুমি বাবা হতে চলেছ রুদ্র! ফ্যামিলিকে সময় দাও, ওদের ভালো মন্দের খোঁজ রাখো। তোমার এই বেপরোয়া জীবন থেকে ফিরে এসে একটু সংসারী হও। মেহেরের মতো একটা মেয়ে তোমার ঘর আগলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে, আর তুমি কি না বাইরে যমের সাথে পাঞ্জা লড়ছো? নিজের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে এভাবে অবহেলায় ফেলে রাখতে একটুও বুক কাঁপে না তোমার?”

ইউএসএ-তে থাকাকালীন তার বাইক রেসিংয়ের নেশাটা কোনো সাধারণ শখ ছিল না; ওখানকার আন্ডারগ্রাউন্ড রেসিং সার্কিটে তার নাম শুনলে সবাই একবার থমকে দাঁড়াত। কয়েকবার মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসা এই মানবের কাছে উচ্চগতির ইঞ্জিনের গর্জনই ছিল তার সব থেকে শখের জিনিস । আমেরিকারঅন্ধকার হাইওয়েগুলোতে সে যখন তার ১০০০ সিসি’র বাইক নিয়ে নামত, তখন পৃথিবীর সব নিয়ম তুচ্ছ মনে হতো। সেই আদিম গতির নেশাটাই যেন আজ তাকে আবার অক্টোপাসের মতো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল।

রুদ্র এবার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে টেবিলের ওপর সাজানো সব বাসনপত্র আর খাবার এক ঝটকায় মেঝেতে ফেলে দিল। ঝনঝন শব্দে পুরো এপার্টমেন্ট কেঁপে উঠল। রুদ্র চিৎকার করে উঠল—
“কী পেয়েছ তোমরা? যা চাইবে তাই হবে? আমার থেকে কোনো প্রত্যাশা রেখো না বাবাএটা আমি আগে বলেছি । বিয়ে করে ঘরে একটা মেয়েকে বসিয়ে রেখেছি মানে এই নয় যে, আমি তোমাদের ওই মরা-পচা আদর্শ সংসার সামলাব। আমি আমার মতো বাঁচতে চাই, যেখানে কোনো পিছুটান থাকবে না। আমি কোনো সংসারী লোক নই, আর হতেও চাই না!”

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ২২

রুদ্র ঝড়ের বেগে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই গ্যারেজ থেকে তার বাইকের ইঞ্জিনের বিকট গর্জন ড্রয়িংরুম ছাপিয়ে মেহেরের কানে পৌঁছাল। সেই ইউএসএ-র দিনগুলোর মতোই সে আজ রাতের অন্ধকারে নিজের সবটুকু ঘৃণা আর বিষণ্ণতা নিয়ে হাইওয়ের দিকে গতিতে ছুটে গেল।
হামজা চৌধুরী বিছানায় ধপাস করে বসে পড়লেন। তার দুচোখে তখন রাজ্যের ক্লান্তি। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে রেহানা চৌধুরীকে লক্ষ্য করে বললেন, “রেহানা,মেহেরের ফুলের মতো জীবনটা নষ্ট করে ফেললাম? ”

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ২৪