ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ২৪
মারিয়াম ফুল
” আ…আমি যাব না। আমি আমার বাচ্চাকে পৃথিবীতে আসার আগে ওই জেলখানায় নিয়ে যেতে পারি না। বাবা আমি কিছু করিনি, ওদের বলেন না আমি প্রেগন্যান্ট। আমি কাউকে কিভাবে খু*ন করতে পারি। ”
রেহানা চৌধুরী হামজা চৌধুরীর হাত রেখে সান্ত্বনার সুরে বললেন,
“হামজা, তুমি বোধহয় একটু বেশিই ভাবছো। ও খামখেয়ালি করছে ঠিকই, কিন্তু একদম দায়িত্বজ্ঞানহীন তো নয়। ও যদি সত্যিই দায়িত্বজ্ঞানহীন হতো, তবে মেহেরকে শপিংয়ে…হাসপাতালে নিয়ে যেত না।ওদের তো অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ ছিল, ওদের মানসিক দূরত্ব ঘুচতে কিছুটা সময় তো দিতেই হবে।”
হামজা চৌধুরী সচরাচর শান্ত স্বভাবের মানুষ হলেও আজ তাঁর সহ্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।
রেহানা, তুমি আর মা সবসময় ওকে অন্ধের মতো সাপোর্ট করে এসেছো। এখনও কি এই ছেলের গুণগান গাইবে? তুমি সামান্য শপিং আর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াতেই খুশি হয়ে গেলে? অথচ ওর দিনের পর দিন অবহেলা তোমার চোখে পড়ছে না? আমরা তিনদিন হলো এখানে এসেছি, অথচ তোমার ছেলেকে কতবার দেখেছো এপার্টমেন্টে ? এমনকি গত দুইদিন আগের রাতেও ও ড্রাঙ্ক অবস্থায় অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকেছে। আমি নিজের চোখে আড়াল থেকে দেখেছি, ওই মেয়েটা কীভাবে টেনে টেনে তোমার ছেলেকে রুমে নিয়ে যাচ্ছে! তোমায় নিজের মেয়ে হলে, যদি তার সাথে এমন হতো তাহলে কি তুমি সহ্য করতে পারবে। ”
রেহানা চৌধুরী আমতা আমতা করে কিছু বলতে চেয়েও স্বামীর প্রচণ্ড রাগ দেখে দমে গেলেন। আট বছর আগে বড় ছেলে রেদোয়ানকে হারানোর পর থেকেই রুদ্রর প্রতি তাঁর টান আরো বেড়ে গেছে। যেন রুদ্রর মাঝেই তিনি মৃত ছেলেকে ফিরে পেতে চান। তিনি কখনো চাননি রুদ্র পাইলট হোক, যদিও হামজা চৌধুরীর এতে কোনো আপত্তি ছিল না।
আসলে রুদ্ররের পাইলট হওয়ার স্বপ্নের বীজ বুনে দিয়েছিল তার বড় ভাই রেদোয়ান। রুদ্রর বয়স যখন মাত্র পাঁচ কি সাত, তখন তারা দুই ভাই একদিন মিলে প্লেগ্রাউন্ডে রিমোট কন্ট্রোল প্লেন ওড়াচ্ছিল। রুদ্ররেরপ্লেনটা একটা গাছে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে হয়ে যায়। বাবা দিয়েছি বলে ওটার রুদ্রের ফেভারিট টয় ছিল। ছোট্ট রুদ্র তখন হাউমাউ করে কাঁদছে দেখে রেদোয়ান তাকে কোলে তুলে নিয়েছিল। রেদওয়ান রুদ্রের থেকে এগারো বছরের বলেছিল। স্বাভাবিকভাবে সে রুদ্রের থেকে বুঝদার ও শান্ত স্বভাবের ছিল।
রেদওয়ার রুদ্র রুদ্রের চোখ মুছে দিতে দিতে বলেছিল,
“এই… আমার ছোট্ট শের এভাবে কাঁদে নাকি?”
তারপর তাকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে মৃদু হেসে ফিসফিস করে বলেছিল,
“এটা তো শুধু একটা প্লাস্টিকের প্লেন। তোকে তো একদিন আসল প্লেন চালাতে হবে…পারবি না?”
রুদ্র কান্না ভেজা চোখে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়েছিল, অর্থাৎ সে পারবে।
তখন থেকে রুদ্ররের মনে রেদওয়ানের কথাটা দাগে কেটে যায় । রুদ্র সবসময় পরিবারকে ম্যানিপুলেট করে কিংবা জেদ ধরে নিজের সব ইচ্ছে পূরণ করে এসেছে, ছোটবেলা থেকেই সে জেদি। হামজা চৌধুরী কেবল অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন দরজার দিকে….
মেহের হামজা চৌধুরী আর রুদ্রের ঝগড়া শুনতে পেয়েছিল রুম থেকে। মেহের তখন গিল্টি ফিল করছিল, কারণ তার জন্যই বাবা-ছেলের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিল। সে কিছু বলতেও পারছিল না।
রাত তখন বারোটা…
মেহের ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, রুদ্র তখনও ফেরেনি। ঠিক সেই মুহূর্তে মেহেরের ফোনে মাশফির কল এলো। মাশফির কণ্ঠস্বর শোনামাত্রই মেহেরের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে গেল। মাশফি ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞেস করল, “মেহু, তুই ঠিক আছিস তো?” এই একটি প্রশ্ন মেহেরকে এতদিন কেউ করেনি। সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে কান্নায় ভেঙে পড়ল। মাশফি ভাবল কল কেটে গেছে, কিন্তু মেহের আসলে কথা বলার শক্তি পাচ্ছিল না। অবশেষে মেহের ডুকরে কেঁদে উঠে বলল,
“ভাইয়া, আমি ঠিক নেই। আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলো, প্লিজ আমাকে নিয়ে যাও।”
মাশফি হঠাৎ কি বলবে মাশফি খুঁজে পেলে না । মা তো সবসময় বলে মেহের খুব সুখে আছে।
” রুদ্র… তোর হাজবেন্ড কি তোকে…
মেহেরের তখন সমস্ত রাগ-রুদ্রের প্রতি বেরিয়ে আসতে লাগলো….
সে ড্রিঙ্ক করে ভাইয়া, হিইজ এ ক্যারেক্টার লেস। সে নিজে আমাকে বলেছে… তার কত মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল। ইভেন হি ডোন্ট নো হাউ টু স্পোক উইথ উইমেন।
মেয়ের এতগুলো কথা রুদ্রের বিরুদ্ধে বলতে চাই নি। কিন্তু রুদ্ররের ব্যবহার দিন দিন তার কাছেও অসহ্য লাগছিল।
মাশফি দাঁত কিড়মিড় করে বলল, “মা-বাবা ওখানে কীভাবে বিয়ে দিলেন তোর? তুই শুধু ধৈর্য ধর, ভাইয়া দেশে আসছি। তোকে আমি সাথে করে ইউকে নিয়ে যাবো, প্রয়োজন হলে সায়েদ বাড়ির কাউকে জানাতে দেবো না। আমার বোন যেখানে খুশি না, সেখানে তাকে আমি এক মুহূর্ত রাখবো না।” মাশফি জানত সায়েদ বাড়িতে ডিভোর্স কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না। নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেল। শুধু এই কয়েকটা মাস দেশে থাক… কোভিড এর প্রকোপ কমে গেলে.. মেঘলা আর তোকে আমি আমার কাছে নিয়ে আসবো।
মানুষ সাধারণত অন্য মানুষের ভালো দিকের চেয়ে খারাপ দিকটাই বেশি মনে রাখে, আর ভালো দিকটা সহজেই ভুলে যায়। মেহেরের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছে… রুদ্র তার জন্য এত কিছু করেছে, তবুও মাশফির সাথে কথা বলার সময় মেহের যেন এক নিমিষেই সব ভুলে গিয়েছিল।
সকাল ১০টার ফ্লাইটে হামজা চৌধুরী আর রেহানা চৌধুরীর সিলেট যাওয়ার কথা। তাঁরা মেহেরকেও সাথে যাওয়ার জন্য অনেক অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু মেহের অজুহাত দিয়ে না করে দেয়।
“মা, থেকে জান না প্লিজ,”
রেহানা চৌধুরী মেহেরের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন।
“আসা-যাওয়া হবে মা। তোমার দাদী-শাশুড়িকে রেখে এসেছো। উনি এই বয়সে এতটা সময় একা ভালো দেখায় না, তার ওপর অসুস্থও। যতই সার্ভেন্ট থাকুক না কেন, নিজের মানুষ প্রয়োজন হয়। আর তোমার শ্বশুরও আসা-যাওয়া করবেন… আর রুদ্র…”
রেহানা চৌধুরী আর কিছু বলতে চাইলেন কিন্তু আর বললেন কিছুই বললেন না।
বিদায়বেলা মেহেরের মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। এদিকে রুদ্র গত রাতে বের হওয়ার পর এক্সিডেন্ট করেছিল, যা কেউ জানত না। শেষ রাতে কিছু ফ্রেন্ডরা মিলে তাকে হসপিটালে ভর্তি করায়। যার কারণে রুদ্র এখনো অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে নি।
কয়েক ঘন্টা পর…
এয়ারপোর্টের ভিআইপি লাউঞ্জে বসে থাকা হামজা চৌধুরীর ফোনে যখন কলটা এলো, তখন তাঁর মুখচ্ছবি মুহূর্তেই পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেল। পাশে বসা রেহানা চৌধুরী ঘাবড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে হামজা? কার ফোন?” হামজা চৌধুরী কোনো উত্তর না দিয়ে শুধু গম্ভীর গলায় বললেন, “রেহানা, চলো। আমাদের এখনই অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যেতে হবে।” তাঁর গলার স্বরে এমন কিছু ছিল যে রেহানা আর প্রশ্ন করার সাহস পেলেন না।
১০৪ নম্বর ফ্ল্যাটের জায়গায় হামজা চৌধুরী যখন ১০১ নম্বর ফ্ল্যাটের সামনে দাঁড়ালেন, তখন চারপাশ এক নিঝুম নিস্তব্ধতায় ঘেরা। ভেতরে ঢুকতেই এক বীভৎস দৃশ্যে তাঁদের রক্ত হিম হয়ে গেল। লিভিং রুমের আলোটা টিমটিম করে জ্বলছে। মেহের একটা জরাজীর্ণ চেয়ারে বসে আছে, তার সেই সাদা ওড়না আর হাত এখন কালচে র*ক্তে মাখা। সে উন্মাদিনীর মতো বিড়বিড় করছে,
“আমি কেন খু*ন করবো? আমি তো কিচ্ছু করিনি!”
পুলিশ অফিসার তাবিশ মেহেরকে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিলেন।
হামজা চৌধুরীকে দেখে মেহের ডুকরে কেঁদে উঠতে চাইল, কিন্তু তাবিশ গম্ভীর গলায় ধমকে উঠলেন,
“একদম নড়বেন না! আপনি একজন মার্ডার সাসপেক্ট।”
হামজা চৌধুরী গর্জে উঠলেন, “ইন্সপেক্টর! কার সাথে কথা বলছেন খেয়াল আছে? ও আমার ছেলের বউ! সাহস কিভাবে হয় আমার ছেলের বউয়ের সাথে উচ্চ বাক্য করার ”
হামজা আর রেহানা বেরিয়ে যাওয়ার পর মেহের বারান্দায় একাকী বসে ছিল। ঠিক ৯টা ৪৮ মিনিটে রিনি শেখের ফোন আসে। রিনি বলেছিলেন, “মেহের, লকডাউনে খুব বোর হচ্ছি, একটু আসো না চা খাই।” মেহের এর আগে কখনো ১০১-এ যায়নি। মেহের রিনির এপার্টমেন্টে যেতে ইতস্তত বোধ করল। কিন্তু রিনি যে ধরে বসে ছিল..মেহের আমি নিজেই আসতাম। কিন্তু আমার বাচ্চাগুলো ঘুমাচ্ছে। রিনির জিদের কাছে মেহের হার মারলো। এমনিতে তার বোরিং ফিল হচ্ছিল।
সে যখন ১০১ নাম্বার অ্যাপার্টমেন্টের দরজায় নক করল, দেখল দরজাটা আধখোলা। ভেতরে ঢুকতেই এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা তাকে গ্রাস করল। মেহের দেখল পাশের ঘরের বিছানায় রিনি শেখের দুই সন্তান তিন্নী আর তামিন ঘুমিয়ে আছে। তাদের নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে মেহের শব্দ না করে সামনে এগোল।
লিভিং রুমের সোফার কাছে যেতেই মেহেরের পা কিসে যেন আটকে গেল, সে হোঁচট খেয়ে পড়তে পড়তে নিজেকে সামলে নিল। কিন্তু নিচে তাকাতেই মেহেরের হৃৎস্পন্দন যেন থেমে গেল।মেহের চিৎকার করে উঠলো.. সে দেখল রিনির নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে আছেন। তাঁর বুকের ঠিক মাঝখানে একটা স্টিলেরকাটা চামচ বিঁধে আছে, যেখান থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে সাদা কার্পেটটাকে বীভৎস লাল করে দিয়েছে।
রিনির চোখদুটো তখনো খোলা, যেন শেষ মুহূর্তে প্রিয় কাউকে ঘাতক হিসেবে চিনে ফেলার এক অব্যক্ত আতঙ্ক সেখানে জমে আছে। মেহের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে রিনিকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় যখন চামচটা টেনে বের করতে গেল, ঠিক তখনই পুলিশের দল সেখানে এসে উপস্থিত হয়।
ইন্সপেক্টর তাবিশ মেহেরের রক্তমাখা হাতের দিকে ইঙ্গিত করে তাচ্ছিল্যের হাসিতে ফেটে পড়লেন।
“মিস্টার চৌধুরী, আইন চলে নির্ভেজাল লজিক আর হার্ড এভিডেন্সে। আপনার ছেলের বউ খুনের অস্ত্র অর্থাৎ ওই খাঁজকাটা চামচটা হাতে নিয়ে লাশের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভিকটিমের গলার তাজা ক্ষত আর এই চামচে থাকা ব্লাড স্টেইন দুটোই এখন আপনার ছেলের বউয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছে। এটা একটা ওপেন অ্যান্ড শাট কেস।”
হামজা চৌধুরী এক চুলও নড়লেন না। তিনি অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে তাবিশের চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“ইন্সপেক্টর, আপনি কি মামলার সারমর্ম আদৌ বুঝতে পেরেছেন নাকি শুধু হাতেনাতে ধরার সস্তা ক্রেডিটের পেছনে ছুটছেন? মেহের একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী। শারীরিক এবং মানসিকভাবে এই অবস্থায় একজন নারীর পক্ষে কি সম্ভব একজনকে পিঠের দিকে তিন-তিনটি গুলি করা, আবার গলার নলি কাটার মতো বীভৎস কাজ করা? ”
তাবিশ এক পা এগিয়ে এসে পাল্টা যুক্তি ছুড়লেন,
“মিস্টার চৌধুরী, মেডিকেল সায়েন্স বা ক্রিমিনোলজি কোথাও লেখা নেই যে গর্ভবতী নারীরা অপরাধ করতে পারে না। বরং আমার মনে হয় হরমোনাল ইমব্যালেন্সের কারণে এই সময় অনেক নারী চরম আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। হয়তো মেহেরের ভেতরে কোনো সুপ্ত ক্ষোভ ছিল যা আজ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তাছাড়া লাশের পিঠের তিনটি বুলেটের জখম আর গলার এই ক্ষত দুটোই নির্দেশ করছে যে ঘাতক অত্যন্ত নিষ্ঠুর ছিল। খুনের অস্ত্র যার হাতে থাকে, আইন তাকেই প্রথমে চেনে।”
হামজা চৌধুরী এবার তাঁর কণ্ঠস্বরে বজ্রের কঠোরতা মিশিয়ে বললেন,
“যুক্তি দিন তাবিশ সাহেব, ডাস্টবিনের আবর্জনার মতো গালগল্প নয় , এটা দেখে মনে হচ্ছে একজন প্রফেশনাল কিলার রিনি শেখকে পিঠের দিক থেকে নিঃশব্দে তিনটি গুলি করেছে । কিন্তু যে এই ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড, সে চেয়েছিল এই খুনের দায়ভার কারো কাঁধে চাপাতে। তাই সে মেহেরকে এখানে ডেকে আনে। মেহের এখানে আসার পর দরজা খোলা পায় এবং ভেতরে ঢোকার পর যখন লাশের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে, তখনই ঠিক টাইমমতো আপনি উদয় হন। তিন তিনটে গুলি করার পর গুলি করার পর আবার গলার কাছে চামচ দিয়ে আঘাত করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?
মেহের দাবি করছে সে কল পেয়ে এখানে এসেছে। আপনি কি রিনি শেখের ফোন চেক করেছেন? যদি দেখা যায় রিনির মৃত্যুর সম্ভাব্য সময়ের আশেপাশে মেহেরকে কল করা হয়েছে, তবে কি আপনি বলবেন একজন মৃত মানুষ ফোন করেছে? নাকি কেউ রিনির ফোন ব্যবহার করে মেহেরকে টোপ হিসেবে ডেকেছে? আপনি যদি এখনো মেহেরকে অ্যারেস্ট করার জেদ ধরে থাকেন, তবে আদালতের কাঠগড়ায় আমি প্রমাণ করে দেব যে আপনি আসল খুনিকে পালানোর সুযোগ করে দিতে এই অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটিকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন।”
তাবিস বলে উঠো… কে সত্য, কে মিথ্যা, কে খুনি সবকিছু আদালতে প্রমাণ হবে।
ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ২৩
তাবিস নারী কনস্টেবল এর দিকে ইশারা করে বলল ” এই নিয়ে চলুন উনাকে…কুইক।”
সাদা আর কালোর এই মরণপণ দ্বন্দ্বে মেহের কেবল ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল।
কিছুক্ষণ অতিবাহিত হওয়ার পর মেহের চিৎকার করে উঠলো…
” আ…আমি যাব না। আমি আমার বাচ্চাকে পৃথিবীতে আসার আগে ওই জেলখানায় নিয়ে যেতে পারি না। বাবা আমি কিছু করিনি, ওদের বলেন না আমি প্রেগন্যান্ট। আমি কাউকে কিভাবে খু*ন করতে পারি। ”
