খান সাহেব পর্ব ৫৮
সুমাইয়া জাহান
আজ বিকেলটা শেরাজের কাছে যেন একটু বেশি ভালো লাগছে। রকিং চেয়ারটায় হেলান দিয়ে বসে আছে সে। তার পরনে আজ ক্লাসিক স্টাইলের কালো পাঞ্জাবী। পাঞ্জাবীটা দেখতে সিম্পল অথচ দারুণ স্টাইলিশ। পাঞ্জাবীর গলার বোতামগুলো খোলা রেখেছে, আর গলায় রেখেছে কালো রঙের কটন। যা তার পুরো ট্র্যাডিশনাল লুকটিকে আরও মার্জিত করে তুলেছে। হাতার অংশ হালকা গুটানো, ফলে সহজাত ক্যাজুয়াল অথচ আত্মবিশ্বাসী ভাব ফুটে উঠেছে তার মধ্যে। শেরাজের চুল মাঝারি লম্বা আর হালকা ওয়েভি ধাঁচের। সামনের কিছু চুল কপালের উপর এসে পড়েছে আর সাইডগুলোতে ন্যাচারাল ভলিউম আছে, যেন একটা রাফ অথচ পরিপাটি লুক তৈরি হয়। শেরাজের পছন্দের হেয়ারস্টাইল এইটা। বরাবর সে তার চুলে মিডিয়াম লেয়ার্ড সাইড-সুইপ্ট হেয়ারকাট দিয়ে থাকে। তার চোখের দৃষ্টি বরাবরের মতো আজও বেশ তীক্ষ্ণ আর গম্ভীর। চোখের রঙ গভীর কালো।
তার নাক সোজা ও শার্প গঠনের, যা মুখের শেইপের সাথে পারফেক্টভাবে মানিয়ে গেছে তার হ্যান্ডসাম লুকের সাথে। গোপালি রঙের পাতলা ঠোঁট জোড়ায় জোরালো হাসি নেই। মুখে ক্লিন শেভ নয়, আবার পুরো দাড়িও নেই। হালকা গোঁফ আর ট্রিম করা জবার্ড টাইপ দাড়ি, যা তাকে ম্যাচো আর স্টাইলিশ লুক দিয়েছে। সব মিলিয়ে তার লুক একদিকে ট্র্যাডিশনাল আর অন্যদিকে মডার্ন ফ্লেয়ার। রোদ পড়ে শেরাজের চুলের কিছু অংশ একটু উজ্জ্বল হয়ে আছে। এক হাতে ল্যাপটপের কি-বোর্ডে আঙুল চালাচ্ছে। আঙুলগুলো কখনো থামে, কখনো আবার চলতে থাকে। ফাইলের পাতায় কখনো কখনো চোখ রাখছে সে। তাকে এমন স্টাইলিশ, গম্ভীর অবস্থায় দেখলে, যে কেউ তার প্রেমে পড়তে বাধ্য। চারপাশে কোনো কথা নেই। কোনো হাসির শব্দ নেই। কেবল কখনো-সখনো রকিং চেয়ারের হালকা আরামদায়ক আওয়াজ, আর ল্যাপটপের কি-বোর্ডের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
রুমের মধ্যে হঠাৎ সুমুর ফোনটা বেজে উঠল। শেরাজ চুপচাপ একবার চোখ তুলে দেখল। তারপর আবারও ল্যাপটপে চোখ রাখল। এই মুহূর্তে কাজের মধ্যে সে ফোন তুলতে চাইল না। বিরক্তি নিয়ে সে একবার মৃদুস্বরে ‘সুমু’ বলে ডাক দিয়ে আবারও নিজের কাজে মন দিল।
সুমু আজ আবারও শেরাজের জন্য শিরকর্মা বানিয়েছিল। এইটা তার প্রতি জুম্মার অভ্যাস। শেরাজ জুম্মা পড়ে এসে নিজের রুমে ঢুকতেই সুমু শেরাজকে নিজের হাতে বানানো সেই মিষ্টি খাইয়েছে। দুপুরের খাওয়া-দাওয়ার পর বেলকনির রকিং চেয়ারের বসে ল্যাপটপে কাজ করছে সে। সুমু রুমে নেই। সে কোনো একটা কাজে ইশিতাকে নিয়ে অন্যরুমে আছে।
ফোনটা আবারও বেজে উঠল। শেরাজ বিরক্তি নিয়ে উঠে দাঁড়াল। ল্যাপটপটা ফাইলের ওপরে রাখল যাতে বাতাসে কোনো কাগজ উড়ে না যায়। ভারী পা ফেলে বেড সাইড টেবিল থেকে সুমুর ফোনটা হাতে নিল। স্ক্রিনে ভেসে থাকা নামটা দেখে শেরাজের তীক্ষ্ণ চোখে একটুখানি নরম ভাব ফুটে উঠল। সে মৃদু হেসে বলল,
“শশুরমশাই!”
শামীম সাহবকে সে স্পেশালি অসম্ভব সম্মান করে। কলটা রিসিভ করে কানে ধরে বলল,
“আসসালামু ওয়ালাইকুম, শশুরআব্বু!”
ফোনের অপরপাশ থেকে শামীম সাহেব গম্ভীর গলায় বললেন,
“ওয়ালাইকুম আসসালাম! আমার মেয়ে কোথায়?”
“আপনার বাদর মেয়ে কি আর এক জায়গায় বসে থাকার মতো মানুষ। অসুস্থ অবস্থায় সে টো টো কম্পানির মতো ঘুরে বেড়ায়।”
“আমার মেয়ে বাদর না, তুমি বাদর ছেলে। শোনো আমার অসুস্থ মেয়ে। যা খুশি করুক, কিন্তু তুমি আপাতত ওর থেকে দূরে থাকবে।”
“তাহলে আপনিও শাশুড়ি আম্মুর থেকে দূরে থাকবেন।”
“আমি কেন আমার বউয়ের থেকে দূরে থাকব?”
“তো আমি কেন আমার বউয়ের থেকে দূরে থাকব?”
“আমি বলেছি তাই, তোমার বউয়ের আগে ও আমার মেয়ে। আমি ওর বাবা। আগে আমার অধিকার বেশি ছিল আমার মেয়ের উপর।”
“আর আমি ওর ড্যাডি। এখন আমার অধিকার আপনার থেকেও বেশি।”
“ড্যাডি মানে?”
“ও আপনি বুঝবেন না। আজ থেকে আপনি আপনার বউয়ের থেকে দূরে থাকবেন।”
“আমার বউ কি অসুস্থ নাকি? এর মধ্যে আমার বউয়ের কথা আসছে কেন?”
“জাস্ট উদাহরণ দিলাম। আপনি বউ ছাড়া থাকবেন না, তাহলে আমি কেনো থাকব? আর বউয়ের কাছে না গেলে বাচ্চা কীভাবে আসবে, আব্বু?”
শামীম সাহেব একদম চুপ হয়ে গেলেন। কয়েক সেকেন্ড কোনো শব্দ নেই ফোনের ওপাশে। তিনি গলা ঝেড়ে বললেন,
“এতো বড় হয়েছ, তোমার মধ্যে কি একটু লজ্জা নেই?”
“লজ্জা পেলেই তো বিপদ। লজ্জা পেলে আর বউয়ের কাছে যাই কীভাবে, আব্বু?”
“তুমি তো দেখছি খুব নির্লজ্জ।”
“জি, আপনার মেয়েই তো শিখিয়েছে।”
“বেয়াদব, আমার মেয়েকে ডাকো।”
“ও এখন আসতে পারবে না। কী একটা পার্সোনাল কাজ করছে। ও এলে আমি বলব আপনাকে কল ব্যাক করতে।”
“আচ্ছা, আমার মেয়ের খেয়াল রাখবে ঠিকমতো। ও এই অবস্থায় বেশি ঘোরাফেরা করলে আমাকে জানাবে।”
“ওকে আব্বু! আর আপনি?”
“আমি কী?”
“আপনিও শাশুড়ি আম্মুকে ঠিকমতো সামলাবেন। বেশি বকাবকি করলে আমাকে জানাবেন।”
“আমার কপালে এমন নির্লজ্জ জামাই জুটবে স্বপ্নেও ভাবিনি। আচ্ছা ঠিক আছে, রাখি।”
“দোয়া করবেন আমাদের জন্য।”
“আচ্ছা বাবা! ভালো থেকো।”
কল কাটল শামীম সাহেব। শেরাজ ফোনটা হাতে নিয়ে আবারও বেলকনিতে গিয়ে বসল। ল্যাপটপ হাতে নিয়ে আবারও কাজে মন দিল। এমন সময় সুমুর ফোনে নোটিফিকেশন এলো। শেরাজ ইগনোর করল। কিছু সময় বাদে আবারও নোটিফিকেশন এলো। ভ্রু কুঁচকালো সে। ফোনটা আনলক করে ইনস্টাগ্রামে ঢুকতেই মেসেজ রিকোয়েস্ট চোখে পড়ল তার। রিকোয়েস্ট অপশনে ঢুকে দেখল, একটা আননোন নিউ আইডি থেকে একের পর এক মেসেজ এসেই যাচ্ছে। শেরাজ আইডিটা একটু স্ত্রল করতেই বুঝতে পারল এইটা আরিয়ানের কাজ। কোনো রকমের বিতর্কে না জড়িয়ে সে ডিরেক্ট ব্লক করে দিল। ফোনটা পুনরায় জায়গার রেখে আবারও কাজে মন দিল। কিন্তু পুরোপুরি মন দেওয়ার আগে আবারও সেই একই ঘটনা ঘটল। শেরাজ আবারও ফোনটা আনলক করে ইনস্টাগ্রামে ঢুকে আরিয়ানের মেসেজ পড়ল,
“ভালোবাসা যদি কারো হাতে বন্দিত্ব হয়, তবে সেটা ভালোবাসা নয় — কারাগারের শিকলে বাঁধা বন্দী পাখি। তবুও কিছু পাখি মুক্তির চেয়ে বন্দিত্বই ভালোবাসে। তুমি আমার নও, অন্য কারো বন্দী পাখি। তবুও এই হৃদয় তোমার নামে ধুকধুক করে। তুমি বিবাহিত, তাই তোমাকে ভালোবাসাটা যদি পাপ হয়, তোমার ছায়াটা খোঁজা যদি পাপ হয়, তবে আমি আজীবন পাপী হয়ে থাকতে চাই।”
শেরাজ চোখের পাতা একবারও না ফেলে শেষ শব্দটা পর্যন্ত পড়ল। ঠোঁটে হালকা বাঁকা হাসি তার। চোখে ভয়ানক বিরক্তি। আঙুলের ডগা দিয়ে সে টাইপ করতে লাগল,
“পাখি আলরেডি আমার, ভাই। খাঁচাটাও ভালোবাসা দিয়ে বাঁধিয়ে রেখেছি আমি। আর একবার টেক্সট পাঠালে, এইবার তোমাকেই উড়িয়ে দেব। সে বউ আমার। প্রেম নয়, পবিত্র বন্ধন। যে গাছের শিকড় অন্য কারও হাতে গাঁথা, তার ছায়া চুরি করা যায় না। আর বারবার যদি পাপী হতে চাস, আমি এবারই শেষবার বলছি, তোর মতো তুচ্ছ পাপীকে পাপ করবার সুযোগও আর দেব না। নেক্সট টাইম আই উন্ট জাস্ট ব্লক ইউ — আইল বেরি ইউ।”
আবারও নোটিফিকেশন এলো। শেরাজ বিরক্ত হয়ে মেসেজ চেক করল,
“সুমুকে টেক্সট করি বলে, তোর কী জেলাস ফিল হয়?”
শেরাজ নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারল না। সে কল করল আরিয়ানকে। রিং হবার সাথে সাথে আরিয়ান কল পিক করল। আরিয়ান কল পিক করতেই শেরাজ গর্জন করে বলল,
ফাকিং ডিক চিজ! এই জেলাস কি হ্যাঁ? সুমুর দিকে আর একবার হাত বাড়ালে তোকে জ্যান্ত কবর দিব।”
“কে কাকে কবর দিবে, তা সময় ঠিক করে দেবে এস.কে। তুমি ভাবছিস তুই সুমুকে বিয়ে করেছিস বলে, ও তোর হয়ে গেছে?”
আরিয়ানের পাশ থেকে রায়য়ান আরিয়ানকে উস্কানি দিয়ে চাপাস্বরে বলল,
“কীসের ভয় আরিয়ান? এস.কে তোর কী করবে? ওর কাছে তো সব আছে। স্ত্রী, ক্ষমতা, নাম। তোরও সব আছে? শুধু এই ভালোবাসা ছাড়া। ছিনিয়ে নে। বন্দী পাখিকে মুক্ত কর।”
আরিয়ান রায়য়ানের দিকে একপলক তাকিয়ে শেরাজকে বলল,
“শোন! সুমুকে ভালোবাসা যদি পাপ হয়, আমি সেই পাপের সঙ্গেই থাকব। তুই সুমুর হাজব্যান্ড, ঠিক আছে। কিন্তু তোর সাথে সুমুর যে ছায়া হাঁটে, সেই ছায়া একদিন আমার দিকে ফিরবেই।”
শেরাজ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“ফ্যান্টাসি কম দ্যাখ, আরিয়ান। তোর সাহস থাকলে সামনে আয়। এই খাঁচার চাবি খুঁজে বের কর।”
আরিয়ান ঠাণ্ডা গলায় বলল,
“আমি আসব, শেরাজ খান। আর সেদিন তোর খাঁচা ভেঙে সেই পাখিকে আমার খাঁচায় বন্দী করব। দেখিস, তোর চোখের সামনে আমি ওকে ছুঁয়ে দেখব।”
শেরাজ গর্জে উঠে বলল,
“একবার ছুঁয়ে দেখ, তোকে তোর রক্তেই ডুবিয়ে রাখব।”
“হ্যাঁ! আয় অপেক্ষায় আছি তোর।”
“ডিক হগ! কোথায় আছিস বল? তোকে যদি আজ কবরে না পাঠিয়েছে, আমি মানুষের বাচ্চা না।”.
আরিয়ান বলতে যাবে এড্রেস, ঠিক তখনই রায়য়ান ফোনটা কেড়ে নিয়ে কল কেটে দিল। শেরাজ এক সেকেন্ডও সময় না নিয়ে আরিয়ানকে ব্লক করে ফোনটা টেবিলে ছুড়ে ফেলে চাপাস্বরে বলল,
“আর কোনো পাপীর স্পর্শে তোমাকে আসতে দিব না, সুইটহার্ট। আই সুয়ার, এ হাতেই আরিয়ানের নিঃশ্বাস বন্ধ করব, যদি তোমাকে ছুঁতে চায়।”
ফোনে আবারও নোটিফিকেশন এলো। শেরাজ ফোনটা নিয়ে ছুড়ে মারতে যেতেই তার চোখ আটকে গেল স্ক্রিনে। স্ক্রিনে তখন নতুন টেক্সট ঝলমল করছে। ইশিতা নামটা জ্বলজ্বল করছে ইনবক্সে। শেরাজ ভ্রু কুঁচকে মেসেজ খুলল।
“খান সাহেব, ছাদে যান। আমি আসছি।”
টেক্সটটা পড়ে শেরাজ আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। কোনোদিকে না তাকিয়ে ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে সোজা ছাদে চলে গেল।
প্রায় দশ মিনিট ধরে ছাদে দাঁড়িয়ে আছে শেরাজ। সুমু এখনো আসেনি। পাঁচ মিনিট পরে ছাদের দরজায় হালকা শব্দ হলো। শেরাজ পেছন ঘুরে তাকাল। দেখল, ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে তার প্রেয়সী। ঠোঁটে মিষ্টি হাসি, পরনে আটপৌরে করে লাল পাড় সাদা শাড়ি, শাড়ির আঁচল অনেকটা ছেড়ে দেওয়া, যার ফলে ছাদের মেঝেতে শাড়ির আঁচল বিছিয়ে আছে। কোমরের নিচ সমান চুলগুলো ছেড়ে রাখা, কানের নিচে চুলের সাথে টকটকে তিনটা লাল গোলাপ আর জিপসোফিলা ফুল আটকানো, দুই হাতে আর পায়ে আলতা, বা’হাতে বেলি ফুলের গাজরা, কপালের মাবখানে ছোট্ট একটা কালো টিপ, চোখে মোটা করে গাঢ় কাজল, কোমরে সিম্পল স্টোনের বিছা, হাতে, কানে, গলায় সিম্পল সব অর্নামেন্টস, দু’পায়ে নুপুর — সব মিলিয়ে সুমু সৌন্দর্য লক্ষ কোটি গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুমুকে এমন সাজে দেখে শেরাজ কিছুক্ষণ একদম স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল, যেন চোখের পলক ফেলার সাহসও হারিয়ে ফেলেছে সে। বুকের ভেতরটা কেমন চাপা কেঁপে উঠছে তার। গলাটা শুকিয়ে গেছে, শব্দরা হারিয়ে গেছে। তার চোখ নামে সুমুর শাড়ির আঁচলে। হাওয়ায় দুলছে আঁচল। ছাদের মেঝেতে সাদা কাপড়ের ঢেউ। লাল পাড়ের অংশগুলো একেকটা দাগ কেটে যাচ্ছে শেরাজের বুকে। তার চোখ আবারও আটকানো সুমুর খোলা চুলের পাশে গুঁজে রাখা টকটকে লাল গোলাপগুলোয়। সেই ফুলের গন্ধ যেন ছাদ পেরিয়ে শেরাজের শ্বাসে ঢুকে বুকের ভেতর ছড়িয়ে পড়ছে। দুই হাতে লাল আলতা, বা’হাতে বেলি ফুলের গাজরা। শেরাজ ভাবতেই পারে না, এভাবে কেউ তাকে এক নিমেষেই দুর্বল করে দিতে পারে। চোখের কাজলের গভীরতা, কপালের ছোট্ট টিপ, নুপূরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শব্দ — সবকিছু মিলিয়ে সুমু যেন আজ কোনো সাধারন মেয়ে নয়, কোনো এক অনন্ত মুগ্ধতার নাম। শেরাজ একবার গলার স্বর খুঁজে পায়, আবার হারিয়ে ফেলে। ঠোঁট কাঁপছে তার। চোখে একরাশ না বলা কথা জড়িয়ে যাচ্ছে।
সুমু ধীরে ধীরে কাছে এলো। শেরাজের বুকের ধুকপুকানি তখন যেন ছাদের নীরবতাকে হার মানাচ্ছে। সুমু একদম শেরাজের কাছে এসে দাঁড়িয়ে মৃদু হেসে বলল,
“আমাকে কেমন লাগছে?”
শেরাজ চোখ বন্ধ করে বড় করে ঢোক গিললো। তার অ্যাডাম অ্যাপেল একবার উপরে গিয়ে আবারও নিচে নামল। সুমু মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইল। শেরাজ চোখ মেলে তাকিয়ে বলল,
“ম্যায় আগার কাহু,
হামসাফরা মেরি,
আপ্সরা হো তুম,
ইয়া কোয়ি পারি,
তারিফ ইয়ে ভি তো,
সাচ হ্যায় কুছ নেহি,”
শেরাজের গলা ভারি হয়ে এলো। সে এগিয়ে গিয়ে সুমুর চুলের একপাশে হাত বুলিয়ে দিল। সুমু লজ্জায় লাল হয়ে গেল। শেরাজ ফিসফিস করে বলল,
“তুম জানতি হো? জব তুম হাস্তি হো, মেরা দুনিয়া হাসতি হ্যায়।”
সে সুমুর কানের কাছে ঠোঁট এনে নিঃশ্বাস ছুঁইয়ে দিল। সুমুর গায়ে শিহরণ বয়ে গেল। সে হেসে বলল,
“আচ্ছা? এতো তারিফ?”
শেরাজ আঙুল দিয়ে সুমুর কানের দুলটা ছুঁয়ে বলল,
“তারিফ ভি কাম হ্যায়, তুম সে হী রোশন হ্যায়। তুম মেরা হার ঘাম কে দাওয়া।”
সুমু লজ্জায় শেরাজের বুকে মাথা গুঁজে দিল। শেরাজ সুমুর কোমর জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলল,
“সিদ্ধা দিল কে আন্দার উতার গায়ি হো।”
সুমু আলতো হেসে মাথা তুলে শেরাজের দিকে তাকাল। শেরাজ দুষ্টু হেসে বলল,
“এভাবে সিডিউস করে মারার প্লান করেছ? এরপর আমি কন্ট্রোললেস হলে, আমি নির্লজ্জ, তাই না?”
সুমু ঠোঁট কামড়ে হেসে বলল,
“আমাকে এই নব্বই দশকের সাজে দেখে আপনার ঠিক কি করতে ইচ্ছে করছে, খান সাহেব?”
শেরাজ নেশালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“হ্যাঁ যো ইরাদে বাতা দু তুমকো
শারমা হি জাওগি তুম!”
সুমু আলতো হাসল। শেরাজ একটু ভেবে বলল,
“চলো বাহিরে যাব।”
সুমু ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কোথায়?”
“পাহাড় দেখতে যাব।”
“না! এই সাজে আমি কোথাও যাব না?”
“কেনো?”
“আমার অস্বস্তি হচ্ছে। এইসব চেঞ্জ করব।”
“থাক না, সুইটহার্ট। শাড়িতো রাতে খুলতে সহজ হবে।”
“আপনি…”
“আরে আমি তো তোমার নিজের খোলার কথা বলছিলাম। ইজিলি রাতে চেঞ্জ করতে পারবে।”
“হ্যাঁ, আপনাকে আমি চিনি। কথা ঘোরাবেন না।”
“কথা ঘোরালাম? আমি সত্যি ওইটাই মিন করেছি। কেনো? তুমি কি ভেবেছিলে?”
“আমি…”
থেমে গেল সুমু। শেরাজ দুষ্টু হেসে বলল,
“বলো!”
সুমু হালকা রাগ দেখিয়ে বলল,
“নির্লজ্জ!”
“সে তো জন্মানোর পর থেকেই।”
সুমু আর কিছু বলল না। শেরাজ একবার সুমুকে ভালো করে পরক্ষ করে বলল,
“আমি কি পড়ব বলো তো? আমার চেঞ্জ করার দরকার।”
“আপনার আর কিছু পরার দরকার কী? আপনি তো জন্মের পর থেকেই নির্লজ্জ।”
শেরাজ একটু গম্ভীর গলায় বলল,
“থাক, কারোই আর চেঞ্জ করার দরকার নেই। যেমন আছে, ঠিক আছে।”
সুমু অবাক হয়ে বলল,
“সত্যি? অস্বস্তি হচ্ছে তো আমার।”
শেরাজ হেসে কাছে এগিয়ে এসে বলল,
“সব অস্বস্তি আমার কাছে জমা দাও।”
সুমু ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
“আপনি না একদম…”
শেরাজ সুমুর দু’হাত ধরে বলল,
“একদম কী?”
সুমু মুখ ঘুরিয়ে বলল,
“একদম ডিস্টার্বিং!”
শেরাজ হেসে বলল,
“ভালোই তো লাগে এই ডিস্টার্ব। চলো, আর কোনো চেঞ্জ-ফেঞ্জ না, বেরিয়ে পড়ি পাহাড় দেখতে।”
সুমু মাথা নাড়ল। শেরাজ শক্ত করে তার হাত ধরল। দু’জনে একসাথে বেরিয়ে গেল পাহাড় দেখার উদ্দেশ্যে।
মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভাঙা শো-পিস, ছিঁড়ে ফেলা ক্যানভাস আর উল্টে রাখা দামি টেবিলের কাচ। কালো মার্বেল ফ্লোরের ওপর ছড়ানো ক্রিস্টালের টুকরোয় আরিয়ানের জুতো থেকে খচখচ আওয়াজ করছে। তার মুখ অন্ধকার, চোখজোড়া লাল টকটকে। রাগে ফেঁটে পড়ছে সে। ড্রইংরুমের একদম মাঝখানে রায়য়ান চেয়ারে বসে আছে। এক হাত চেয়ারের হ্যান্ডেল ধরে অন্য হাতে গ্লাস নাড়ছে। গ্লাসের ভেতরে গাঢ় লিকার। রায়য়ানের ঠোঁটের কোনায় হালকা বাঁকা হাসি। আরিয়ান এক ঝটকায় সেন্টার টেবিলের ওপর রাখা গোল্ডেন গান রেপ্লিকাটা ছুড়ে ফেলে দিল। কাচ ভাঙার শব্দে রুমের সবকিছু থমকে গেল। রায়য়ান ঠাণ্ডা গলায় বলল,
“শেষ? নাকি এখনও কিছু বাকি আছে?”
আরিয়ান রাগে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“তুই চুপ কর। আমি যদি চাই, এই বাড়ির প্রতিটা ইট গুড়িয়ে দিব।”
রায়য়ান গ্লাসে এক চুমুক দিয়ে হেসে বলল,
“আহ হা! দে না ভাই, গুঁড়িয়ে দে। বড়জোর নতুন ডিজাইনে রিনোভেশন হবে।”
আরিয়ান রাগে সামনে এগিয়ে গিয়ে রায়য়ানের কলার চেপে ধরে বলল,
“এস.কে আমার সাথে যা করছে, তার খেসারত ওকে দিতে হবে। আমি সহ্য করব না। শালা ওই…”
রায়য়ান প্রতিরোধ করল না। চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে শীতল গলায় বলল,
“এস.কে তোকে যা বলেছে, তাতে আমার কী? আমি তো মজা নিচ্ছি। এই শোরগোল, এই রাগ, খারাপ লাগে না।”
আরিয়ানের চোখে আগুন জ্বলছে। সে গলা থেকে হাত সরিয়ে নিল। ছাদের দিকে তাকিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়ল। রায়য়ান গ্লাস টেবিলের ওপর নামিয়ে রাখল। গম্ভীর গলায় বলল,
“শোন, এস.কে’কে যদি ধাক্কা দিতে চাস, তাহলে মাথা ঠাণ্ডা রাখ। ওর রাগ, ওর অম্লান চেহারা ভাঙতে হলে তোকে আমার থেকেও বেশি হায়েনা হতে হবে।”
আরিয়ানের মুখের শিরাগুলো ফুলে উঠল। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“আমি সব শেষ করে দেব। একবার সুযোগ পেলেই…”
রায়য়ান হেসে বলল,
“এইজন্যই তো বলি, এই রাগ ঠিক আছে। তবে বাঁচিয়ে রাখিস। রাগই তো তোকে খেলাবে”, একটু থেমে ঠাণ্ডা গলায় আবারও বলল, “এবার চুপ করে বসে যা। রাতে আমাদের নতুন খেলা আছে। অনেকদিন রক্তের গন্ধ পাইনা।”
আরিয়ান গা ঝাড়া দিয়ে পাশের সোফায় গিয়ে বসল। এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিল একজন দেহরক্ষী। রায়য়ান তার সামনে বসে ঠোঁটের কোনায় সেই চেনা রহস্যময় হাসি রাখল। তার চোখের কোণায় অদ্ভুত এক অন্ধকার খেলা করছে। আরিয়ান হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
“রক্তই সব, তাই না? কিন্তু কেন আমারটাই বারবার ঝরে?”
রায়য়ান গ্লাস নামিয়ে আরিয়ানের চোখে চোখ রেখে ঠান্ডা গলায় বলল,
“কারণ তোর রক্তের গন্ধই এস.কের শান্তি।”
আরিয়ান ফ্লোরে বসে পড়ল। দুই হাতের আঙুলে তার রক্ত লেগে আছে। সে শূন্য দৃষ্টিতে ভাঙা কাচের দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে বলল,
“কতবার ভাঙলে মানুষ পাথর হয় রায়য়ান? কখনো কী আমি পাথর হতে পারব?”
রায়য়ান ধীরে হাসল। তার চোখে হায়েনার মতো ঠাণ্ডা ক্ষুধা।
“পাথর? না, তুই আগুন হবি। জ্বালিয়ে দে, ছাই করে দে। তোর কান্নার বদলে ওদের কান্না শুনতে চাই।”
আরিয়ান করুণস্বরে বলল,
“সুমু কী কখনো বুঝবে না, এই প্লেবয় আরিয়ান চৌধুরী পাগলের মতো একতরফা ভালোবাসে ওকে? এই খারাপ ছেলেটা বুকের ভেতর সমাধি বানিয়ে রেখেছে ওর নামের।”
রায়য়ান গ্লাসের নিচে জমে থাকা শেষ লিকারের ফোঁটাটুকু ঠোঁটে ছুঁয়ে হালকা শ্বাস ফেলে আরিয়ানের কাছে ঝুঁকে এলো। চোখের কোণে ঝাপসা, অদ্ভুত এক শূন্যতা তার। একটু সরে গিয়ে সোফার ওপর দু’হাত মেলে দিয়ে চোখ বন্ধ করে মনে মনে বলল,
“তোকে দ্যাখে আরিয়ান, তাও তুই চিৎকার করতে পারিস, সবকিছু ভেঙেচুরে রক্ত ঝরাতে পারিস। ভাগ্যিস তুই কাঁদতে পারিস, আরিয়ান। আমি তো তাও পারি না। কখনো কখনো আমার ভেতরে এতোই পচে যায়, যে চাইলেই মন খুলে প্রকাশ করতে পারিনা। একতরফা ভালোবাসা আমাদের দুজনেরই, তবে তফাত একটাই— তোর ভালোবাসা প্রকাশ্য, আর আমারটা হৃদয়ের কবরে পুঁতে রেখেছি। তোরা সবাই সুখ খুঁজিস, আর আমি কষ্টটাকেই আঁকড়ে বাঁচি।”
রায়য়ানের ভাবনার মাঝে আরিয়ান এক হাত দিয়ে কপাল চেপে ধরে বলল,
“ওকে যতবার দেখি, বুকের ভেতরের পাথর গলে যায়। এতটাই ভালোবাসি ওকে। কিন্তু ও আমাকে ভালোবাসা’তো দূর, ওর মুখে আমার নামটা নিতেও ওর ঘৃণা হয়।”
রায়য়ান চোখ খুলে ধীরে আরিয়ানের দিকে তাকাল। সে টেবিলের উপর রাখা কাচের ছোট্ট টুকরোটা হাতে নিয়ে ওজন করে দেখে হালকা হেসে বলল,
“ঘৃণা! অদ্ভুত না আরিয়ান? ভালোবাসার চেয়ে তেতো, কিন্তু ঘৃণার সাথে লড়তে গেলে বুকের ভেতর অজান্তেই সেই ভালোবাসাটাই বেশি জ্বলে ওঠে।”
আরিয়ান নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
“আমার সবটুকু খারাপ, রায়য়ান। আমি প্লেবয়, নোংরা, বাজে ছেলে। ওর মতো এতো সুন্দর, পবিত্র মেয়ের পাশে আমার নামটাও বাজে শোনায়।”
রায়য়ান আর কোনো কথা বলল না। তার ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি খেলা করছে। গ্লাসের ভাঙা টুকরোটাকে হাতের তালুতে ঘুরাতে ঘুরাতে সে আবারও সোফায় গা হেলিয়ে দিল। চোখের পাতা অর্ধেক বন্ধ করে রেখে মনে মনে বলল,
“সুহাসিনী! তোমাকে অনাহক ভালোবাসার কারণে আমার সমস্ত স্বপ্ন হেরে গেছে। তুমি জানো? তোমার জন্যই আমার বুকের ভেতরের পাপ কিছুটা পচে-গলে জন্ম নিচ্ছে একবিন্দু আলো। আমার ভালোবাসা একদিন তোমার সর্বনাশের কারণ হবে। তুমি বুঝতে পারবেনা কখন, কার স্পর্শে তুমি তছনছ হয়ে যাচ্ছো। আমার ভালোবাসা — এ এক অভিশাপ। তোমাকে যখন আমি একবার ভালোবেসে ফেলেছি, মানে তোমার শান্তি শেষ। সুহাসিনী, তুমি জানো না, এই অদৃশ্য কবরে আমি তোমার নামটাকে কতবার দাফন করেছি। কিন্তু সে নাম বারবার আবার আমার বুকের কবর খুঁড়ে উঠে আসে। তাই সুখী হবে তুমি, অদ্ভুত রকমের সুখে সুখী হবে। কিন্তু সেই সুখ তোমার সবকিছু শেষ করে দেবে একদিন।”
রাত দশটায় সুমুরা বাড়ি ফিরল। সুমু ঘরে ঢুকতেই, কোনো রকম পূর্বাভাস ছাড়াই শেরাজ তাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। সুমু কিছু বলতে যাবে, তার আগেই শেরাজ তার ঠোঁট ঠোঁটে মেশালো। মিনিট দশেক পর ঠোঁট ছাড়ল সে। সুমু হাপাতে হাপাতে দেয়ালে হেলান দিল। শেরাজ সেদিকে পাত্তা না দিয়ে পকেট থেকে ফোন বের করে স্ক্রল করতে করতে গিয়ে সোফায় বসল। সুমু দাঁড়িয়ে আগুন চোখে তাকিয়ে রইল শেরাজের দিকে। শেরাজ ভ্রু উঁচু করে তাকিয়ে বলল,
“আমি জানি, আমি হ্যান্ডসাম। ওইভাবে তাকিয়ে থেকো না। নজর লেগে যাবে আমার।”
সুমু দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“আপনি একটা…”
শেরাজ গা হেলিয়ে দিয়ে বলল,
“কী?”
“অসভ্য!”
শেরাজ একহাত দিয়ে চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিয়ে বলল,
“জানি সুইটহার্ট, খুব ভালো করেই জানি।”
সুমু একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। শেরাজ ফোন রেখে উঠে এসে সুমুর গাল ছুঁয়ে বলল,
“তোমার লিপস্টিক খারাপ হয়ে গেছে। আসো, আরেকটু খারাপ করে দেই।”
সুমু তাড়াতাড়ি করে সরে গিয়ে বলল,
“দূর হন! আপনার জন্যই তো এমন হয়েছে।”
শেরাজ ঠোঁট কামড়ে হেসে বলল,
“আমি তো তোমার হাঁটাচলার অবস্থাও খারাপ করতে পারি, করব নাকি?”
এইবার আর দাঁড়াল না সুমু। মুখ গম্ভীর করে উল্টো দিকে হাঁটা ধরে বলল,
“আপনি অসহ্য! কথা বলবেন না আর আমার সাথে।”
শেরাজ হেসে বলল,
“সারাজীবন এভাবেই আমার জ্বালাতন সহ্য করবে, বউ। ইউ আর মাই থিওডোর।”
সে ঠোঁটে দুষ্টু হাসি নিয়ে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল সুমুর দিকে। সুমু বকতে বকতে রুম থেকে বেরিয়ে যেতেই শেরাজ আরেকটু গা হেলিয়ে ফোন হাতে নিল। স্যান্ডিকে কল দিতে যাবে, তার আগেই স্ক্রিনে ভেসে উঠল, ‘আইয়ুব কলিং…” সে কলটা রিসিভ করে ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে বেলকনিতে চলে গেল।
“বল ভাই!”
ওপাশ থেকে আইয়ুব বলল,
“ভাই, কী করিস? কয়টা বাজে, দেখেছিস?”
শেরাজ গলা নামিয়ে বলল,
“তোর ভাবিজির ঠোঁট চেক করছিলাম।”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড চুপ। হঠাৎ আইয়ুব ঠাট্টার হাসি হেসে বলল,
“বউ নেই বলে এসব বলে জ্বালাচ্ছিস। ভালো, ভালো। আর বল, কী অবস্থা?”
শেরাজ বেলকনির রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে বলল,
“সানের সাথে কনফার্ম কর। আর কাজটা আজ রাতের মধ্যেই করে ফেল।”
“এতো তাড়া কীসের?”
শেরাজ চোখের পাতা অর্ধেক নামিয়ে বলল,
“কাজ শেষ করতে হবে, আর করা দেরি ঠিক না।”
ওপাশ থেকে হালকা সতর্ক গলায় আইয়ুব বলল,
“সাবধানে চলিস এস.কে। বেশি বাড়াবাড়ি করিস না। ভাবিজির কথাটাও ভাবিস।”
“সুমুর জন্যই তো করছি।”
“মানে?”
“সুমু সবটা জেনে গেছে।”
“হোয়াট? কীভাবে?”
“এতো ব্যাখা এখন দিতে পারব না।”
“ওয়েট, ওয়েট এস.কে। সুমু সবটা জেনে গেছে মানে? ও এখনো তোকে কিছু বলেনি?”
“না!”
“কেনো? এতোটা নরমাল কীভাবে আছে ও?”
“জানি না, ওর মাথায় কি চলছে?”
“আর তুই? তুই কি করতে চাইছিস? তোর রিগ্রেট ফিল হচ্ছেনা এখন?”
“কেনো?”
“কেনো মানে? ভাবিজি সবটা জেনে গেছে, ভাই?”
“তো?”
“তো? তুই কী এস,কে? তোর সত্যি রিগ্রেট ফিল হচ্ছেনা?”
শেরাজ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,
“আমি আমার কোনো কাজের জন্য আজ পর্যন্ত কখনো রিগ্রেট ফিল করিনি আর করবও না। যেটা করেছি, সেটা বেশ করেছি। দরকার পড়লে আবারও করব, দ্বিগুণ বেশি জেদ নিয়ে করব। আর রইল সুমু? ওকে যখন আমি ভালোবাসি মানে, ওকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার সাথেই থাকতে হবে। এই ক্ষেত্রে ওর ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনো দাম নেই আমার কাছে। ও চাইল বা না চাইল, ওকে আমার সাথেই থাকতে হবে। সি ইজ ওনলি মাইন। থাকতে না চাইলে হাত- পা ভেঙ্গে রেখে দিব। আমি কোনো মুভির হিরো নই যে, অনুশোচনায় ভুগে ক্ষমা চাইব, কাঁদব, পাগলামি করব, ভালোবাসার জন্য ভিখারি হবো। আমি ভিলেন। নিজের পছন্দের জিনিস নিজের কাছে জোর করে হলেও রাখতে জানি।”
কথাগুলো বলে কলটা কেটে দিল শেরাজ। পেছন ফিরে তাকাতেই সুমুকে দেখতে পেল সে। দু’জনের চোখাচোখি হলো। ছলছল নয়নে তাকিয়ে আছে সুমু। শেরাজ ঠোঁটের কোণে তুচ্ছ হাসি টেনে বলল,
“ওভাবে তাকিয়ে কী দেখছ?”
সুমু কোনো কথা বলল না। ঠোঁটের কোণ দিয়ে একফোটা উষ্ণ পানি গড়িয়ে পড়ল তার। শেরাজ ধীরে সুমু কাছে এগিয়ে গেল। এক হাতে সুমুর গাল ছুঁয়ে অন্য হাত দিয়ে চিবুকটা তুলল। সে গলার স্বর নিচু করে ফিসফিস করে বলল,
“তোমার কান খারাপ, সুইটহার্ট। যা শোনার ছিল, সব শুনেছ? এখন মনে করো সব ভুল শুনেছ? এগুলো সত্যি না।”
সুমু মৃদুস্বরে বলল,
“আপনি ওভাবে কেনো বললেন?”
শেরাজ হেসে উঠল। সে হাসি থামিয়ে সুমুর দু’বাহু ধরে বলল,
“কারণ এটাই সত্যি। তুমি আমার। একদম আমার। কেউ যদি তোমাকে নিয়ে খারাপ ভাবে, আমি তাকে শেষ করব। তুমি যদি আমাকে ছেড়ে যেতে চাও, তোমার হাত-পা ভেঙে রাখব। তোমাকে শুধু আমার করে রাখতে যা যা করা লাগে তাই করব। আর এইটুকু জেনে রাখো, তুমি পালিয়ে যেতে পারবে না, কখনোই না।”
“আপনি কি আমাকে ভালোবাসেন? নাকি শুধু নিজের জেদ মেটাচ্ছেন?”
শেরাজ সুমুর একদম কাছে মুখটা নিয়ে গিয়ে কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলল,
“ভালোবাসা যদি না হতো, এতো শাস্তি পেতে হতো না তোমায়। ভালোবাসি বলেই শাস্তিটাও বেশি। তোমার প্রতিটা শ্বাস, প্রতিটা কান্না, সব আমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এইটাই ভালোবাসা আমার কাছে।”
সুমু নিঃশব্দে চোখ বন্ধ করে ফেলল। শেরাজ সুমুর কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,
“তোমার লিপস্টিক আবার নষ্ট হয়ে গেছে, সুইটহার্ট। ঠিক করে দেব?”
“না! দয়া করে আমাকে ছাড়ুন।”
শেরাজ আবারও হেসে উঠে বলল,
“তোমাকে দয়া করে ভালোবাসতে পারি না, সুইটহার্ট। দয়া নয়, শাস্তি আর ভালোবাসা—একসাথেই চলবে। আর কিছু লাগবে?”
সুমু একবার শেরাজের চোখের দিকে তাকিয়ে আবারও চোখ নামিয়ে নিল। শেরাজ সুমুর ঠোঁটের ওপর আঙুলের ডগা দিয়ে স্লাইড করে বলল,
“একদিন ঠিকই বুঝবে, তোমার এই শাস্তিই তোমার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।”
সুমু মুখ নামিয়ে নিল। শেরাজ সুমুর কানের কাছে আবারও মুখ নিয়ে গিয়ে গভীর গলায় বলল,
“তুমি যদি কখনো ভেবে থাকো আমি তোমাকে ছেড়ে দেব, তবে তোমার সেই ভুল ভাঙিয়ে দিতে আমার এক সেকেন্ডও লাগবে না, সুইটহার্ট।”
সুমু চোখ মুছে মাথা নিচু করে বলল,
“আমাকে একা থাকতে দিন। আমি…”
কথা শেষ করার আগেই শেরাজ একহাত দিয়ে সুমুর কোমরটা টেনে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল। সুমু শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এলো। সে চোখ বড় করে তাকাল শেরাজের দিকে। শেরাজ চোখ বন্ধ সুমুর চুলের গন্ধ নিয়ে শীতল কন্ঠে বলল,
“একা থাকতে দিব না বলেই তো বিয়ে করেছি তোমায়।”
সুমু শেরাজের বুকের মধ্যে দু’হাত দিয়ে ধাক্কা দিতে গিয়ে ব্যর্থ হলো। শেরাজ একহাত দিয়ে সুমুর হাতদুটো চেপে ধরল।
“বেশি ছটফট করলে কী করি জানো তো?”
সুমু চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বলল,
“আপনি অসহ্য! আমাকে ছাড়ুন।”
শেরাজ ভ্রু নাচিয়ে চোখের পাতা নামিয়ে বলল,
“তোমার এই অশ্রু তোমায় আমার কাছ থেকে দূরে নেবে না, বরং আরো আমার করে দেবে।”
সুমু নিজের সর্বশক্তি দিয়ে শেরাজকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিল। রুমের মধ্যে এসে ঝাঝালো কন্ঠে বলল,
“ছোঁবেন না আমাকে। আমি আপনাকে পাগলের মতো ভালোবাসি। আমি এতদিন জানতাম আপনিও আমাকে ভালোবাসেন। ভেবেছিলাম, আমি সবটা জেনে গেছি, এটা আপনি জানার পর আপনার অনুশোচনা হবে। নিজেকে সুধরে নিবেন। কিন্তু না? আপনি এগুলো কিছুই করবেন না। থাকতে চাই না আমি আপনার সাথে। আমায় ডিভোর্স দিন।”
শেরাজ ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। সুমুর কথাগুলো যেন তার বুকের মধ্যে হাতুঁড়ি দিয়ে আঘাত করল। চোখ দুটো লালচে হয়ে উঠল মুহূর্তেই। ঠোঁটের কোণায় তিক্ত হাসি ফুটে উঠল।
“ডিভোর্স?”
হেসে ফেলল সে। এই হাসির মধ্যে যেন কোনো ভালো লাগা নেই। আছে কেবল জ্বালা আর অধিকারবোধের আগুন। সে ধীরে সুমুর দিকে এগিয়ে এলো। সুমু দু’পা পিছিয়ে গেল। দেওয়ালে সাথে গিয়ে ঠেকল তার পিঠ। শেরাজ সুমুর দুই পাশে হাত রেখে পথ রুদ্ধ করে দাঁড়িয়ে গভীর চোখে চেয়ে বলল,
“তুমি জানো না সুইটহার্ট, তুমি কী বলছ?”
সুমু ফুপিয়ে উঠল। তবুও কণ্ঠ শক্ত করে বলল,
“জানি! আমি আপনাকে চাই না। আপনার মতো অমানুষের সাথে একমুহূর্তও থাকতে চাই না আমি।”
শেরাজ সুমুর থুতনির নিচে আঙুল রেখে মাথা উঁচু করল। চোখের পাতা নিচু করে ঠোঁট সুমুর কানের কাছে নিয়ে গিয়ে শীতল স্বরে বলল,
“তোমার চোখে যে আগুন আমি দেখছি, সেটা কী? তুমি আমায় ঘৃণা করতে পারো, আমার সাথে লড়াই করতে পারো, আমাকে গালি দিতে পারো, তবুও তুমি কখনোই আমাকে ছেড়ে যেতে পারবে না।”
সুমু চোখ বুজে ফেলল। গলার ভেতর কান্না আটকে রাখার বৃথা চেষ্টা করছে। শেরাজ সুমুর কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে আবারও বলল,
“ডিভোর্স শব্দটা আর কোনোদিন মুখে এনো না। ওটা আমার ডিকশনারিতে নেই।”
সুমু শেরাজের বুকের ওপর হাত রেখে ধাক্কা দিয়ে বলল,
“বললে কি করবেন? আমাকেও ওইভাবে মেরে ফেলবেন? আপনি আমাকে ভয় দেখিয়ে কিছুই করতে পারবেন না। আমি বেরিয়ে যাব। এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাব।”
শেরাজ থামিয়ে দিল সুমুকে। দুই হাত দিয়ে ধরে সুমুর হাতগুলো নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে বলল,
“যাবে? তাহলে শোনো, যদি কোনোদিন এই বাড়ির দরজার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করো, তোমার জন্য এই পৃথিবীটা জাহান্নাম বানিয়ে ফেলব, সুইটহার্ট। তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না, আর তোমাকেও বাঁচতে দেব না।”
সুমু কান্নামিশ্রিত গলায় বলল,
“তাহলে ফিরে আসুন, খান সাহেব। এসব ছেড়ে দিন।”
শেরাজ সুমুর দু’গাল যত্ন করে ধরে বলল,
“সম্ভব না, সুইটহার্ট। ফিরলেই আমার মৃত্যু ঘটবে।”
“মৃত্যু? আপনি এমন জীবন বেছে নিয়েছেন কেন, খান সাহেব? কেন? ছেড়ে দিন এসব। আমরা অনেক দূরে কোথাও চলে যাব।”
“সম্ভব না। চাইলেই সবকিছু ছাড়া যায় না। সবকিছু এতো সহজ না।”
“তাহলে আপনি বলছেন, আপনি ছাড়বেন না?”
“না!”
“আমি থাকব না আপনার সাথে। আমাকে মুক্তি দিন। আপনাকে ভালোবাসি বলে, অন্যায়কে অন্যায় আর পাপকে পাপ বলতে ভুলে যাব—এমনটা কখনোই ভাববেন না। আমি কখনোই অন্যায়কে সমর্থন করিনি, আর কোনোদিনও করব না। সত্য আর ন্যায়ের কাছে আমার ভালোবাসাও মাথা নত করে। আর আজ, সেই সত্যের দাঁড়িপাল্লায় মেপে স্পষ্ট করে বলছি, আপনি এখন আমার সামনে পাপী হিসেবেই দাঁড়িয়ে আছেন।”
শেরাজ স্থির চোখে তাকিয়ে রইল সুমুর ভেজা চোখের দিকে। ঠোঁটের কোণে কেমন তিক্ত এক হাসি ফুটে উঠল তার।
“মুক্তি? তুমি যদি ভেবে থাকো, আমি তোমাকে মুক্তি দেব, তাহলে সেটা তোমার সবচেয়ে বড় ভুল, সুইটহার্ট।”
সুমু ফুপিয়ে উঠল। চোখ বন্ধ করে ফেলল এক মুহূর্তের জন্য। দু’হাত মুঠো করে বুকের কাছে চেপে ধরে বলল,
আপনি কি বোঝেন না, ভালোবাসা মানে তো বন্দী করে রাখা না?
শেরাজ এক’পা এগিয়ে এসে বলল,
“ভালোবাসা মানে তোমায় ছেড়ে দেওয়া? কখনোই না, আমি ছাড়ব না। আমি ছাড়তে শিখিনি।”
সুমু কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“দয়া করে আমাকে যেতে দিন।”
শেরাজ হঠাৎ সুমুর হাত শক্ত করে ধরে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। মুখ একদম কাছে নিয়ে বলল,
“পালাবে? পালানোর স্বপ্ন দেখো না। এই শহর, এই দেশ, এই দুনিয়া, সবখানে আমি ছায়ার মতো থাকব তোমার সাথে।”
“খান সাহেব! এভাবে কি মানুষ ভালোবাসে? এভাবে তো শ্বাসও নেয়া যায় না।”
শেরাজ ওর কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে গভীর গলায় বলল,
“শ্বাস নেয়ার জন্য আমায় ছেড়ে দিতে হবে না, সুইটহার্ট। আমিই তোমার শ্বাস। বাঁচতে হলে, আমার বুকেই বাঁচতে হবে তোমায়।”
“তাহলে ফিরে আসুন। আমি সুন্দর একটা সংসার করতে চাই আপনার সাথে।”
“ফিরে আসা সম্ভব না।”
“তাহলে আমাকে ডিভোর্স দিন।”
শেরাজ চোখ বন্ধ করে রাগ চেপে বলল,
“চুপ!”
সুমু জেদ ধরে বলল,
“ডিভোর্স দিন!”
“চুপ!”
“ডিভোর্স দি…”
কথাটা শেষ করতে পারল না সুমু। একটা বিকট শব্দ হলো। ড্রেসিংটেবিলের আয়নাটা শেরাজের হাতের ঘুষিতে ভেঙে মেঝের ওপর পড়েছে। শেরাজের রুমটা সাউন্ড প্রুফ, তাই বাড়ির কেউ শুনতে পেল না। শেরাজ শক্ত হয়ে রোবটের মতো দাঁড়িয়ে আছে। হাত বেয়ে রক্ত টপটপ করে শব্দ করে মেঝের ওপর পড়ছে। সুমু আঁতকে উঠল। হাজার হলেও এই মানুষটাকে সে পাগলের মতো ভালোবাসে। দৌড়ে গিয়ে শেরাজের হাত ধরে বলল,
“খান সাহেব! আপনার হাত থেকে রক্ত পড়ছে।”
শেরাজ কোনো কথা বলল না। ঠোঁটের কোণে এক টুকরো তিক্ত হাসি তার। কাচের ধারালো একটা টুকরো হাতের মুঠোতে চেপে ধরেই দাঁড়িয়ে আছে সে। সুমু কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“ফেলে দিন!”
শেরাজ মুখ তুলল। লালচে চোখে জ্বলন্ত আগুন তার।
“ডিভোর্স চেয়েছিলে না? এই রক্তের চেয়ে বেশি কিছু দিতে পারব না তোমায়।”
“আপনি পাগল হয়ে গেছেন। ফেলুন ওটা। গাগলামি বাদ দিন।”
শেরাজ আফসোস করে হেসে বলল,
“মিথ্যা ভালোবাসা দেখিও না। প্রয়োজনে ঘৃণা দিও, কিন্তু মিথ্যা ভালোবাসা না। ভালোবাসা যদি ছলনা হয়, তবে সেই ভালোবাসা আমার চাইনা। অসত্য সোহাগের চেয়ে, নিঃসঙ্গ সত্যই ভালো। মন থেকে যদি ঘৃণা করতে পারো, তাহলে সেই ঘৃণাই আমার জন্য তুলে রাখো। মিথ্যা ভালোবাসা চাই না আমার। ঘৃণা থাকুক, তবু ছলনা নয়।”
সুমু শেরাজের হাত দেখতে দেখতে বলল,
“যে এতো খারাপ কাজ করার পর রিগ্রেট ফিল করেনা, তার জন্য ঘৃণাটাই শ্রেয়।”
খান সাহেব পর্ব ৫৭
“তো তুমি কি ভেবেছ? মুভির হিরোদের মতো তুমি আমার সত্যিটা জানার পর আমি রিগ্রেট ফিল করব? তোমার চোখে আমার জন্য ঘৃণা সহ্য করতে পারব না বলে, মরে যেতে চাইব? তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় পাবো? লিসেন মিসেস সুমাইয়া জাহান, আপনাকে আমার সাথেই থাকতে হবে। আমি যদি দুনিয়ার সবথেকে নিকৃষ্ট পুরুষও হই, তবুও আপনাকে আমার সাথেই থাকতে হবে। আমি আমার কাজের জন্য কখনও রিগ্রেট ফিল করিনি, আর না কোনদিনও করব। আপনি নিজের ইচ্ছায় আমার সাথে থাকলে তো ভালো কথা, নয়তো আমি আমার স্টাইলে রাখতে জানি। আমার কাছে জান্নাত দেখেছেন, কিন্তু জাহান্নাম দেখেননি। আমাকে বাধ্য করবেন না, আপনাকে জোর করতে। কারণ আমার ভালোবাসা যেমন নরম, আমার অন্ধকারটা ঠিক ততটাই ভয়ংকর।”
কথাগুলো বলে শেরাজ হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বেরিয় গেলো রুম থেকে। সুমু বেডের ওপর পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল। তার নিজের যেন দমবন্ধ লাগছে। এভাবে কী মানুষ বাঁচতে পারে, জানেনা সে।
