চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ২৪
আয়াত বিনতে নূর
এর মাঝেই দরজার বাইরে হালকা শব্দ হলো।
চাবির মৃদু টুংটাং আওয়াজে নিশির চিন্তার সুতোগুলো একে একে ছিঁড়ে গেল।
দরজার লক খুলে ভেতরে ঢুকলো নিহান।
নিহান একটু থমকে দাঁড়িয়ে সম্মান মিশ্রিত কণ্ঠে বলল—
“ম্যাম… আপনি নিচে আসুন। স্যার আপনার জন্য ওয়েট করছে।”
হঠাৎ করেই নিশির ধ্যান ভাঙলো।
এই কয়েক মিনিটে সে যেন নিজের ভেতরেই হারিয়ে গিয়েছিল। হাজারো প্রশ্ন, ভয়, অজানা আশঙ্কা—সব একসাথে মাথার ভেতর ঘুরছিল।
নিশি খুব ছোট্ট করে শুধু
একটা শব্দ বলল—
“হু।”
এর বেশি কিছু বলার শক্তি বা ইচ্ছা কোনোটাই তার ছিল না।
অন্যদিকে ধীরে ধীরে চৌধুরী ভিলার বিশাল লোহার গেট খুলে গেলো।
রাজীবের গাড়িটা নিঃশব্দে ভেতরে ঢুকে পড়তেই সন্ধ্যার নরম আলোটা পুরো উঠোন জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক ৬টা ৩০ মিনিট।
গাড়ি থামতেই প্রথমে রাজীব দরজা খুলে নামলো।
তার মুখে স্পষ্ট চিন্তার ছাপ—চোখের নিচে ক্লান্তির রেখা, কপালে ভাঁজ।
তারপর ধীর পায়ে রিয়াও নামলো।
রিয়ার মুখের অবস্থা আরও করুণ।
চোখ দুটো লালচে, ঠোঁট শুকনো, যেন অনেক কথা জমে আছে অথচ মুখ খুলছে না।
দু’জনেই কিছু না বলেই ভিলার ভেতরের দিকে এগিয়ে গেলো।
তারা ড্রইংরুমে পা রাখতেই সামনে থেকে দ্রুত এগিয়ে এলেন আফিয়া চৌধুরী আর আমেনা চৌধুরী।
দু’জনের চোখেই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।
আফিয়া চৌধুরী এক পা এগিয়ে এসে রিয়ার দিকে তাকিয়ে তাড়াহুড়ো করে বললেন—
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
— “রিয়াকে নিয়ে এলি… নিশি কোথায়?”
এই প্রশ্নে রাজীব এক মুহূর্ত থমকে গেলো।
সে বুঝে উঠতে পারছিলো না ঠিক কীভাবে কথাটা বলবে। মিথ্যা বলতেও মন সায় দিচ্ছে না, আবার পুরো সত্য বলার সাহসও নেই।
এর মধ্যেই আমেনা চৌধুরী চিন্তিত গলায় বললেন—
— “হ্যাঁ রে মা, আমার নিশি কোথায়? ওকে সঙ্গে আনলি না কেন?”
এই কথায় রিয়ার চোখ আরও নিচু হয়ে গেলো।
সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো, যেন এই প্রশ্নের উত্তর তার কাছেও নেই।
রাজীব গভীর একটা নিঃশ্বাস নিয়ে নিজের কণ্ঠটাকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে বললো—
— “ও… ও ফারিস ভাইয়ের সাথেই আছে। তোমরা চিন্তা করো না। হয়তো একটু পরেই চলে আসবে। কোনো কাজে গেছে।”
কথাগুলো বলার সময় রাজীবের চোখ এক মুহূর্তের জন্য এদিক-ওদিক ঘুরে গেলো।
এই ছোট্ট পরিবর্তনটা আফিয়া চৌধুরীর চোখ এড়িয়ে গেলো না। রিয়া তখনো নিশ্চুপ।
তার ভেতরে অদ্ভুত এক অস্বস্তি কাজ করছিলো—
নিশিকে না এনে সে যেন নিজেকেই অপরাধী মনে করছে।
পরিস্থিতি ভারী হয়ে উঠতে দেখে রাজীব দ্রুত বললো—
— “রিয়া, তুমি রুমে গিয়ে রেস্ট নাও।”
রিয়া কিছু বললো না।
শুধু মাথা নেড়ে ধীর পায়ে সিঁড়ির দিকে চলে গেলো। তার পায়ের শব্দগুলো যেন পুরো বাড়িতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিলো।
রাজীবও আর কিছু না বলে নিজের রুমের দিকে চলে গেলো। ড্রইংরুমে তখন শুধু আফিয়া চৌধুরী আর আমেনা চৌধুরী।
দু’জনেই বিস্মিত, বিভ্রান্ত আর ভিতরে ভিতরে বিরক্ত।
আফিয়া চৌধুরী কপাল কুঁচকে বললেন—
— “ফারিসের সাথে নিশির আবার কী কাজ থাকতে পারে?”
আমেনা চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেলে উত্তর দিলেন—
— “আমারও ভালো লাগছে না বিষয়টা। ওদের
দু’জনের ব্যাপারে আমি ঠিক স্বস্তি পাই না।”
দু’জনের চোখেই অসন্তোষ আর সন্দেহ স্পষ্ট হয়ে উঠলো। মনে মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগলো—
নিশি কেন আসলো না?
ফারিসের সাথে কী এমন কাজ?
এই অস্বস্তিকর নীরবতা আর বিরক্তি বুকে চেপে রেখেই দু’জনেই আর কিছু না বলে যে যার রুমের দিকে চলে গেলেন।
চৌধুরী ভিলার ভেতরে তখন নেমে এলো এক অদ্ভুত চাপা নীরবতা— যেন আসন্ন ঝড়ের আগে সবকিছু স্তব্ধ হয়ে আছে।
এইদিকে নিহান নিচে নামতেই ফারিস অধৈর্য
কণ্ঠে প্রশ্ন করল—
“নিশি কোথায়?”
নিহান মাথা নিচু করে উত্তর দিল—
“ম্যাম আসছে স্যার।”
ঠিক তখনই সিঁড়ির ওপর থেকে ধীরে ধীরে নামতে থাকা পায়ের শব্দ পাওয়া গেল। নিশি মাথায় ঘোমটা দিয়ে নিচে নামছে। প্রতিটা ধাপ নামার সাথে সাথে ফারিসের চোখ যেন সেখানেই আটকে গেল।
শাড়ি পরা সেই রমণীর দিকে তাকিয়ে সে আর চোখ সরাতে পারলো না। হালকা রঙের শাড়িটা নিশির শরীরে এমনভাবে মানিয়ে গেছে যে, এক মুহূর্তের জন্য ফারিস নিজের শ্বাস নেওয়াটাও ভুলে গেল।
চুলগুলো ঘোমটার ভেতর লুকানো, কপালের একপাশে কয়েক গোছা চুল বেরিয়ে আছে।
মুখটা অল্প নিচু করা—কিন্তু তাতেই সৌন্দর্য লুকোচুরি খেলছে।
ফারিসের বুকের ভেতর হঠাৎ করে একটা চিনচিনে ব্যথা অনুভব হলো। একটা অদ্ভুত ভয় আর ভালোবাসা একসাথে চেপে ধরলো তাকে।
মনে মনে নিজেকেই বলল—
“এই মেয়েটা তোকে একদিন মেরেই ফেলবে।”
“কেউ এত সুন্দর কীভাবে হতে পারে?”
সত্যিই… নিশিকে আজ অসম্ভব সুন্দর লাগছিল।
হয়তো বিয়ের সাজে মেয়েদের এমনই লাগে।
নাহয়
, হয়তো নিশি নামের এই মেয়েটার মধ্যেই এমন কিছু আছে—যা ফারিসের সমস্ত আত্মসংযম ভেঙে দেয়।
এর মাঝেই নিশি সিঁড়ি বেয়ে পুরোপুরি নিচে নেমে এলো। নিচে নামতেই তার চোখ পড়লো একজন হুজুরের দিকে। নিশি একটু অবাক হলো।
এই পরিস্থিতিতে হুজুর এখানে কেন—সে বুঝে উঠতে পারছিল না।
আর অন্যদিকে ফারিস…
সে তখনো মুগ্ধতার নয়নে তাকিয়ে আছে নিশির দিকে।
অনেক কষ্ট করে নিজের চোখ নামিয়ে এনে, গলার স্বর শান্ত রাখার
চেষ্টা করে বলল—
“বস… এখানে।”
নিশি কোনো কথা বলল না।
চুপচাপ, নিঃশব্দে গিয়ে ফারিসের পাশে বসে পড়লো। নিশি বসতেই ফারিস অজান্তেই আরও একটু কাছে সরে এলো।
দুজনের মাঝে থাকা সামান্য দূরত্বটুকুও যেন সে মেনে নিতে পারছিল না। ফারিসের কাঁধ নিশির গায়ে লাগলো। নিশি হালকা একটা অস্বস্তি অনুভব করলো। তার বুকের ভেতর ধক করে উঠলো হৃদয়টা। কিন্তু তাও সে কিছু বলল না।
চুপ করে রইলো।
চুপ করে সহ্য করলো—কারণ সে জানে, এই নীরবতার আড়ালেই লুকিয়ে আছে ঝড়।
একটা এমন ঝড়, যা খুব শিগগিরই তার পুরো জীবনটাকে উলটেপালটে দিতে পারে।
হঠাৎ করেই ফারিস গম্ভীর অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলে উঠলো—
“নিন, শুরু করুন কাজী সাহেব। বিয়ে পড়ানো।”
এই কথাটা নিশির কানে যেতেই যেন আকাশ ভেঙে মাথার ওপর পড়লো। এক মুহূর্তের জন্য তার চারপাশের সব শব্দ থেমে গেল।
হৃদস্পন্দনটা অস্বাভাবিকভাবে জোরে আঘাত করতে লাগলো বুকের ভেতর। নিশির চোখ দুটো বড় হয়ে গেল।
সে আবাক দৃষ্টিতে ফারিসের দিকে তাকিয়ে রইলো
বিশ্বাস করতে পারছিল না সে যা শুনেছে, সেটা সত্যি।এটা কি সত্যি?
এখনই? এভাবে?
ফারিস কিন্তু নিশির সেই দৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই আবার কাজী সাহেবের দিকে
তাকিয়ে বলল—
“কি হলো? শুরু করুন।”
তার কণ্ঠে কোনো দ্বিধা নেই।
কোনো প্রশ্ন নেই। শুধু এক ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দৃঢ়তা। কাজী সাহেব আর দেরি করলেন না। তিনি কাবিননামা সামনে রেখে ধীরস্থির কণ্ঠে বিয়ে পড়ানো শুরু করলেন। ঘরের বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠলো। নিশির কান ঝাঁ ঝাঁ করছে।
চারপাশের সব শব্দ মিলে যাচ্ছে এক অজানা গুঞ্জনে।
কাজী সাহেব ফারিসের দিকে তাকিয়ে
প্রশ্ন করলেন—
“আপনি কি কবুল করছেন?”
এক সেকেন্ডও সময় নিল না ফারিস।
এক নিশ্বাসে, কোনো থেমে না গিয়ে, স্পষ্ট কণ্ঠে বলল—
“কবুল… কবুল… কবুল।”
এই দৃশ্য দেখে নিহান নিজের অজান্তেই হালকা হেসে ফেলল। মুহূর্তের জন্য তার মুখে একটা দুষ্টু হাসি খেলে গেল। কিন্তু ফারিসের চোখ একবার নিহানের দিকে পড়তেই— নিহানের হাসি যেন বাতাসে মিলিয়ে গেল। সে দ্রুত মুখ শক্ত করে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো।
এরপর কাজী সাহেব আবার ফারিসকে জিজ্ঞেস করলেন—
“কাবিনে দেনমোহর কত লিখবো বাবা?”
এই প্রশ্নে ফারিস হালকা করে ঠোঁটের কোণে হাসলো। সে কাজী সাহেবের দিকে তাকিয়ে এমন এক কথা বলল, যাতে কাজী সাহেব পর্যন্ত থমকে গেলেন।
“কাবিন নামায় টাকা দিয়ে কি হবে সাহেব কাজী?”
কথাগুলো বলার সময় ফারিসের দৃষ্টি নিশির দিকেই ছিল।
নিশির চোখে তখন ভয়, অবিশ্বাস আর অজানা আতঙ্ক একসাথে ভাসছে।
ফারিস আবার বলল—
“আমার পুরো জীবন আর শেষ নিঃশ্বাসটুকু এই মেয়েটার নামে লিখে দিন।” “এর সব দুঃখ, কষ্ট, দায়িত্ব—সব আমার হক।”
ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
ফারিসের কণ্ঠ আরও কঠিন হয়ে উঠলো—
“আর ‘ফারিস ওয়াহিদ চৌধুরি’ ছাড়া এই মেয়েকে কেউ ধরবে তো দূরের কথা…” “কেউ চোখ তুলে তাকাতেও পারবে না।”
নিশির শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
ফারিস থামলো না—
“যদি কেউ একবার তাকায়…”
“সেই চোখ আমি টেনে বের করে নিবো।”
এই কথা শুনে কাজী সাহেব স্পষ্টভাবে চমকে উঠলেন। তিনি একটু বিরক্ত, একটু আতঙ্কিত কণ্ঠে বললেন—
“কি বলছো বাবা? আমি কাবিন নামার কথা বলছি।”
কাজী সাহেবের কণ্ঠে সতর্কতার সুর।
ফারিস যেন তখন বাস্তবতায় ফিরলো।
একটু থেমে, স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল—
“আচ্ছা… তাহলে লিখুন।”
এক সেকেন্ড থেমে যোগ করল—
“পনেরো লাখ।”
তারপর খুব সাধারণ ভঙ্গিতে বলল—
“সব কিছু তো ওর নামেই।”
কাজী সাহেব আর কিছু বললেন না।
তিনি কাবিন নামায় ঠিক তেমনটাই লিখে নিলেন।
তবুও তার চোখেমুখে স্পষ্ট বিস্ময়। এমন বিয়ে, এমন কথাবার্তা—
তিনি জীবনে খুব কমই দেখেছেন।
নিশি তখনও বোবা হয়ে বসে আছে। তার চারপাশে সবকিছু ঘটে যাচ্ছে, আর সে যেন নিজের জীবনকেই দূর থেকে দেখছে।
একটা সই, কয়েকটা শব্দ— আর তাতেই তার পুরো জীবন কারো নামে লিখে দেওয়া হলো।
এরপর কাজী সাহেব আবারও কাবিননামার দিকে চোখ রেখে বিয়ে পড়াতে শুরু করলেন। কণ্ঠটা ছিল ধীর, শান্ত—কিন্তু সেই শান্ত কণ্ঠ নিশির কানে যেন বজ্রপাতের মতো আঘাত করছিল।
কাজী সাহেব নিশির দিকে তাকিয়ে স্নিগ্ধভাবে বললেন—
“তুমি কি রাজি মা?”তাহলে কবুল বলো…
এই প্রশ্নটা শুনে নিশির বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো।মুহূর্তের জন্য তার মনে হলো—সময় থেমে গেছে। নিশি একবার ফারিসের দিকে তাকালো।
সেই দৃষ্টি ছিল প্রশ্নে ভরা, ভয় আর অনিশ্চয়তায় জড়ানো। ফারিসের চোখে তখন কোনো নরম ভাব নেই—শুধু কঠোরতা, অধিকারবোধ আর এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস।
তারপর নিশি আবার কাজী সাহেবের দিকে তাকালো। গলা শুকিয়ে আসছিল, তবুও সমস্ত সাহস একত্র করে সে বলল—
“আমি রাজি নই।”কবুলও বলবো না।
ঘরটা হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
নিশি থামলো না।
ভাঙা কণ্ঠে কিন্তু দৃঢ়ভাবে বলল—
“করবো না এই বিয়ে আমি।”
এই কথায় ফারিসের মুখের ভাব এক নিমেষে বদলে গেল। তার চোখে বিরক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠলো।
কাজী সাহেবও একটু অবাক হয়ে গেলেন।
তিনি এমন পরিস্থিতি আশা করেননি।
ঠিক তখনই ফারিস ধীরে নিশির দিকে ঝুঁকে এলো।
এত কাছে যে নিশি তার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা টের পেল। নিশির কানের কাছে মুখ এনে নিচু স্বরে, কিন্তু ভয়ংকর কণ্ঠে ফারিস বলল—
“বলবি না কবুল?”
নিশির শরীর শিউরে উঠলো।
ফারিসের কণ্ঠ আরও ঠান্ডা হয়ে গেল—
“তাহলে যেটা বিয়ের পরে হয়…”
“…সেটা বিয়ের আগেই হবে।”
একটু থেমে যোগ করল—
“চল, আমার সাথে রুমে।”
এই কথাগুলো নিশির কানে ঢুকতেই তার হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেল।
শরীরের সমস্ত শক্তি যেন মুহূর্তের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে গেল। সে নিজের জায়গা থেকে নড়তেও ভুলে গেল।
কথা তো দূরের কথা—নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল।
ঠিক তখনই ফারিস নিশির হাত ধরলো। নিশি যেন চমকে উঠলো। সে দ্রুত নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে
ভাঙা কণ্ঠে চিৎকারের মতো বলল—
“করবো!”
“আমি বিয়ে করবো!”
তার চোখে পানি জমে উঠেছিল।
গলা কাঁপছিল। তবুও যেন নিজেকে বাঁচানোর শেষ
চেষ্টা হিসেবে সে আবার বলল—
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল…”
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল…”
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল…”
প্রতিটা “কবুল” শব্দ যেন তার বুকের ভেতর থেকে এক টুকরো করে সাহস ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছিল।
নিশির এই অবস্থাটা দেখে ফারিসের ঠোঁটের কোণে হালকা একটা হাসি ফুটে উঠলো। সে যেন নিশ্চিত হয়ে গেল—সে জিতেছে।
এরপর ফারিস স্বাভাবিক ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়িয়ে বলল—
চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ২৩
“রুমে যা।”
নিশি কোনো উত্তর দিল না।
তার চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসছিল।
চারপাশের সবকিছু ঝাপসা লাগছিল।
এই বিয়ে—
তার কাছে কোনো উৎসব নয়,
কোনো আনন্দ নয়—
এটা ছিল এক নিঃশব্দ আত্মসমর্পণ।
