Home চোখের আড়ালে ভালোবাসি চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৯+১০

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৯+১০

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৯+১০
আয়াত বিনতে নূর

অন্যদিকে নিশিতা লুকিয়ে ফারিসের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে…..তারপর—
নিশিতা আর রিয়া সিঁড়ি বেয়ে নিজেদের ক্লাসরুমের দিকে এগোতে থাকে। রিয়া এক নাগাড়ে বকবক করে যাচ্ছে,
আর নিশি শুধু “হ্যাঁ, হুম, আচ্ছা”—এগুলো বলেই চলছে।
ঠিক তখন পিছন থেকে পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এলো। দুজনেই ঘুরে তাকাতেই মুখে হাসি ফুটে উঠলো।
অহনা সিঁড়ি বেয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে উঠছে।

— “আমাকে না নিয়েই চলে যাচ্ছিস কেন?”
অহনা অভিমানী স্বরে বলল।
— “আরে না রে, চল, ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।”
নিশি হালকা হেসে বললো।
তিনজন একসাথে ক্লাসরুমে ঢুকলো। কয়েক মিনিট পর স্যার ঢুকলেন। স্যার এসে বই বের করে আজকের টপিক আলোচনা করা শুরু করলো। পুরো ক্লাসের সবার মনোযোগ সেদিকে , কিন্তুএকজনের মনোযোগ অন্যদিকে, সেটা হলো নাভিদ তার চোখ স্থির হয়ে আছে—শুধু নিশির দিকে।
নিশি তা খেয়ালই করছে না, তার সকল মনোযোগ লেকচারে দিকে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

অহনা স্যার এর দেওয়া লেকচার মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। আর হাতে একটা কলম নিয়ে দুই আঙুলের সাহায্যে ঘুরাচ্ছিল, কলমটা ঘুরাতে ঘুরাতে হঠাৎ নিচে পড়ে যায়। ঝুকে কলমটা তুলে আবার ঠিকভাবে বসতে
গেলে হঠাৎ চোখে পড়ল নাভিদ এর দিকে, দেখলো নাভিদের দৃষ্টি অন্যদিকে লেকচারের দিকে নেই । এই দৃষ্টি অনুসরণ করে চোখ গেল নিশির দিকে, অবাক হয়ে গেল আহনা নাভিদকে নিচের দিকে একদৃষ্টিতে তাকাতে দেখে। মুচকি শয়তানি হেসে নিশির
বাহুতে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলল,

— “দেখ তো, কলেজের সবার ক্রাশ তোর দিকে তাকিয়ে আছে!”
হঠাৎ লেকচারের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়, ও অহনার কথায় বিরক্ত হয়ে নিশি ভ্রু কুঁচকে নিচু স্বরে বলল,
— “ এটা আমি কি করবো আজব। আর নাভিদ সবার ক্রাশ হতে পারে, আমার না। Understand?”
গলায় অদ্ভুত দৃঢ়তা।
অহনা ভয় পেয়ে চুপ করে গেল।

ক্যান্টিনে…ক্লাস শেষে তিন বান্ধবী ক্যান্টিনে গেল।
এক সাইডে একটা টেবিলে তিনজন বসলো, বসার সাথে সাথে অহনা খাবার অর্ডার দিল। ঠিক তখন নাভিদ এসে একটা চেয়ার টেনে নিশির সামনে বসলো। সবাই নাভিদের দিকে তাকালো ওকে হঠাৎ ওদের ভিতরে এসে বসতে দেখে। সবাই অবাক হলেও কোন
কিছু বুঝতে না দিল না নাভিদকে, নিজেদের মত কথা বলা শুরু করল।
— “তুই কিছু খাবি?” রিয়া জিজ্ঞেস করতেই, নিশি ছোট করে বলল,
— “না।”

নাভিদ গলা খাখাড়ি দিয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করলো ওদের দিকে। প্রথমে ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করার পর, এক ধ্যানে কথা বলেই যাচ্ছে। প্রশংসা, স্নেহ, ইশারায় তার অনুভূতি বোঝাচ্ছে। নিশি বিরক্ত হয়ে উঠে ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে গেল। নিশিকে এভাবে যেতে দেখে নাভিদের বকবকানি অফ হয়ে গেল।
নিশির পিছু নিলো, কলেজ গেটের সামনে…
পেছন থেকে নাভিদ দৌড়ে এসে নিশিকে থামালো।
হাঁপাতে হাঁপাতে বলল—

— “নিশি… I love you. I really love you.”
নিশির অস্থির হয়ে গেল, চোখ মুহূর্তেই কঠিন হয়ে গেল। সে নাভিদের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠলো—
— “ প্লিজ স্টপ আর একটা কথা বলবিনা, আমি তোকে ভালোবাসি না! কেউ ফ্রেন্ড হলেই তাকে প্রেমিক ভাবা যায় না! I hope you understand!”আর তুই আমার just friend। আর কিছু না।
বলার সাথে সাথে এক মুহুর্ত দাঁড়ালো না সে দ্রুত পায়ে চলে গেল। নাভিত হতবুদ্ধির মতো দাঁড়িয়ে রইল। রিয়া আর অহনা এসে সব দেখল।

অহনা হালকা রাগে বলল—
— “দিলি তো মেয়েটাকে রাগিয়ে! এখন কোথায় যাবে কে জানে…”
ওরাও দৌড়ে গেল কিন্তু নিশি আর নেই। সে অনেক দূরে চলে গেছে। রিয়া চিন্তিত হলো। অহনারও চিন্তা হচ্ছে মেয়েটা কোথায় গেলো?
‘রিয়া আর ওয়েট না করে ফারিসকে কল দিলো। ফারিস তখন ইম্পরট্যান্ট মিটিং এ ছিলো। ১০০কোটি টাকার ডিল।
তার ফোনে রিয়ার কল আসছে দেখলো, সে পাত্তা না দিয়ে আবারও মিটিং এ মনযোগী হলো। নিশি ফারিস ফোনে না পেয়ে অনবরত কল করতে থাকলো।” প্রথমে বিরক্ত হলেও ফারিস এবার কিছুটা চিন্তিত হলো।
সে ভাবলো নিশিতার কিছু হয়নি তো? ফারিস দ্রুত ফোনটা রিসিভ করলো।
সে বিরক্ত হয়ে বলল…
“কি হয়েছে? এমন করে কল করছিস কেনো? ”
রিয়ার কাঁপা কাঁপা কণ্ঠ—

— “ভাইয়া… নিশি রেগে কলেজ থেকে বের হয়ে গেছে। কোথায় গেছে পাচ্ছি না…”
এক মুহূর্তে ফারিসের বুকটা ঠান্ডা হয়ে গেল, আবার জ্বালাও ধরল।
রিয়ার কথা শুনে ফারিসের মনে হলো তার হৃদয়টা কেউ টেনে খামচে ধরেছে।সে সময় নষ্ট না করে দ্রুত পায়ে বেরিয়ে যেতে গেলে।
ফারিসের secretary নিহান বলে উঠলো….

—”স্যার এটা আমাদের ১০০ কোটি টাকার ডিল।
প্লিজ স্যার মিটিং শেষ করুন।না হলে আমাদের কোম্পানির অনেক লস হয়ে যাবে স্যার।”
ফারিসের চোখ দিয়ে যেন আগুন বের হচ্ছে। সে নিহানের সার্টের কর্লার ধরে বলল….
‘চুলোয় যাক১০০ কোটি টাকা আর মিটিং।”
এখন তোমার ফাকিং কথা শোনার মতো টাইম নেই আমার।
তাই বলে সে গটগট পায়ে চলে গেলো।
ফারিস দ্রুত তার মার্সিডিজ-বেঞ্জে উঠে বসলো।
হাই স্পিডে গাড়ি চালিয়ে নিশিকে খুজতে শুরু করলো
ফারিসের মাথায় শুধু একটাই চিন্তা তার হার্টবিট ঠিক আছে তো?
কোনো বিপদ হয়নি তো? ।
সে মার্সিডিজ চালিয়ে পাগলের মতো রাস্তায় ছুটে গেল—শুধু একটা ভয় নিয়ে…”হার্টবিট ঠিক আছে তো?”

এই দিকে নিশি তখন রাগের মাথায় কলেজ থেকে বের হলেও এখন কিছুটা ভয় লাগছে। ফোনেও চার্জ নেই। রাস্তায় অন্ধকার নামছে। চারপাশে কেউ নেই। হঠাৎ দেখলো রাস্তার পাশে কিছু বখাটে। ভয় বাড়তে লাগলো। ছেলেগুলো যাতে ওকে না দেখে সেজন্য এক পাশ দ্রুত হাঁটতে যাচ্ছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা বোধহয় হলো না। ছেলেগুলো চোখে ঠিকই পড়ে গেল দূরত হাটা অবস্থায় এমন সময় একজন তার হিজাব টেনে খুলে দিল। টান দিয়ে খুলে দেওয়াই পিনটা গলায় ফুটলো। জায়গাটা চামড়া ছিড়ে সাথে সাথে রক্ত বের হলো। সেদিকে তো দুয়া না করে পিছন ঘুরে একবার তাকিয়ে নিশি ছুটতে লাগলো।
নিশি এভাবে দৌড়ে পালাতে দেখে ছেলেগুলো পিছন
থেকে বলে উঠলো—

— “এত রাতে সুন্দরী কোথায় যাবে? দাঁড়াও…”
নিশি আরও দ্রুত দৌড়াতে লাগলো। আর ছেলেগুলা নিশিতার পিছু নিতে থাকলো।
তখনই—
একটা গাড়ির সামনে পড়ে যেতে যেতে চোখ বন্ধ করলো। গাড়ির ব্রেক— ফারিস! ফারিস গাড়ি থেকে
ছুটে এসে চেঁচিয়ে উঠলো—
— “Stupid girl! সেন্স নেই তোর? মরতে চাস?”
নিশি ফরিসকে দেখে চোখ দুইটা চকচক করে উঠলো, নিশি কিছু বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখন বখাটে ছেলেটা পিছন থেকে হাত ধরে টান দিল।
এদিকে একবার চোখ যেতে, চোখ লাল হয়ে গেল রাগে, ফারিসের রাগ এবার পশুর মতো। চোয়াল শক্ত।
সে এক ঝটকায় নিশিকে পেছনে সরিয়ে, ছেলেটার নাকে সরাসরি ঘুষি দিল।আর গর্জে উঠল—

— “ফারিস ওয়াহিদ চৌধুরীর হার্টের দিকে নজর দিস!”তোদের এত বড় সাহস।
বাকি দু’জন এগিয়ে আসতেই ফারিস একসাথে তিনজনকে মাটিতে ফেলে পেটাতে লাগল।
রক্তে রাস্তা লাল।
এইদিকে নিশি ভাবে ওকি ভুল শুনল?ফারিস নিশিকে হার্ট বলল??
কিন্তু আর ভাবতে পারলো না ফারিসকে এইরকম সাইকোর মত ছেলেগুলোকে মারতে দেখে এগিয়ে গিয়ে ফারিসকে থাকামানো চেষ্টা করল কিন্তু থামানো যাচ্ছেনা ।
নিশি আর কোন কুল কিনারা না পেয়ে, ভয় পেয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল—

— “থামুন… দয়া করে। মারা যাবে!”
ফারিস শ্বাস ফেলল। থামলো। তারপর নিশির দিকে ফিরল—চোখে রাগ। এক ঝাটকাই এক হাতের সাহায্যে নিশিকে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে নিয়ে দুই গাল চেপে ধরল তার শক্ত হাতে। নরম তুলতুলে গালে এভাবে চেপে ধরায় ব্যথাই চোখ মুখ খিচিয়ে নিলো নিশি।
ফারিসের সেদিকে খেয়াল নেই সে নিজের মতো বলা শুরু করল,
— “তোকে সকালে বলেছিলাম, আমি তোদেরকে নিয়ে আসবো আবার দিতে যাবো। এই দায়িত্বটা আমার নেওয়া ছিল। কাউকে না জানিয়ে বেরোতে গেলি কেন ?”
নিশি কিছু বলার আগেই মাথা ঝিমঝিম করে অজ্ঞান হয়ে পড়তে লাগলো। কারন অনেক্ক্ষণ ধরে দৌড়ে ছিলো, তাই অনেকটাই ক্লান্ত হয়ে পরেছে।

ফারিস নিশির মাথাটা ঝুঁকে যেতে দেখে বুঝতে পারল অজ্ঞান হয়ে গেছে, এক হাত দিয়ে নিশির চুলের পিছনে দিয়ে নিজের মুখের কাছে নিয়ে আসলো । তারপর গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো তার ছোট হার্টবিটকে, এম মায়াবী চেহারায় কি আছে। যে বারবার সে এভাবে চেহারার উপর আটকে গিয়ে দেখ বেদিক সব ভুলে গিয়ে এই মেয়ের ওপর মত্ত হয়ে থাকতে মনে চাই। নিজের সব তো শক্ত ঠোঁট নিয়ে গিয়ে ঠকালো নিশির কপালের ওপর চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ স্থায়ী করলে চুম্বনটা। তারপর ঠোঁট সরিয়ে নিয়ে দ্রুত তাকে পাজা কোলে তুলে নিয়ে বুকের সাথে মিশিয়ে ফেলল, তারপর গাড়িতে বসলো। হঠাৎ চোখ গেল নিশির গলার দিকে তার গলায় রক্ত দেখে থমকে গেল।
First Aid Box বের করে যত যত্নে করে সে মলম লাগিয়ে দিল।
রাগ মিলিয়ে, ভয় ফিরে এলো। গলাটা ভারী—

— “কি করে বোঝাবো তোকে… আমার যদি কোনো দুর্বলতা থাকে, সেটা তুই।”
নিশি আধা জ্ঞান অবস্থায় তাকিয়ে আছে তার দিকে। তার চোখে ভয়, আবার আশ্রয়ের মতো শান্তিও।সে বিশাস এই করতে পারছেনা যে ফারিস ভাই তাকে এতোটা যত্নে আগলে রেখেছে।
ফারিস নিশিকে নিজের বুকে আগলে নিল। সিটবেল্ট লাগিয়ে তার আবার কপালে গম্ভীর চুমু এঁকে বলল—
— “You are my unhealthy obsession… and I’ll protect you… My Heartbeat….

এদিকে ফারিসের বলা লাস্টের বলা কথাগুলো ।
নিশি শুনতে পেলো না।
তারপর নিশিকে কোলে রেখেই এক হাতে নিশির মাথায় রেখে বুকের সাথে চেয়ে আগলে রেখেছে। আরেক হাত দিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করছে।
বাড়ির দিকে যাওয়ায় উদ্দেশ্যে ………..

নিশিকে কোলে নিয়ে ফারিস দ্রুত গাড়ি চালাচ্ছিল। এদিকে তার বাবার কল আসে। ফারিস রেগে না গিয়ে গাড়ি একদিকে থামিয়ে একহাত দিয়ে নিশির মাথাটা নিজের বুকের সাথে আগলে রেখেই।
আরেক হাত দিয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে এবার শান্তভাবেই রিসিভ করে, অপর পাশে আরাফাত চৌধুরী চরম বিরক্ত।
তিনি জিজ্ঞেস করেন,
— “তুমি কোথায় ফারিস? ১০০ কোটি টাকার ডিল ছেড়ে কোথায় গেছো?”
বাবা রেগে আরও বলেন,
— “যদি নিহান আমাকে ফোন না দিত, আমাদের বিশাল লস হয়ে যেত!”
ফারিস তখন আর সহ্য করতে পারলো না। রেগে গিয়ে
কঠোর গলায় উত্তর দিল—
— “I don’t care about that.”
আরাফাত চৌধুরি ফারিসের এমন ডোন্ট কেয়ার ভাব দেখে আরও রেগে বললেন—

— “তুমি কি আমার সাথে মজা করছো?”
এবার ফারিস সম্পূর্ণ রাগে উঠে বলল—
— “ আপনার সাথে মজা করার সম্পক আমার যে মজা করবো দাঁতে দাঁত চেপে কথাটা বলল? ”
“কি বলছো ঠিক ভাবে কথা বলো আমি তোমার বাবা হয় ভুলে যেও না। সব খুলে বলো কেন এমন করেছো ”
ফারিস এবার আরো রেগে বলল,
“বাড়ির একটা মেয়ের নিরাপত্তার চেয়ে ১০০ কোটি টাকা বেশি important না। আশা করি আপনি বুঝবেন।”
বলে সে কল কেটে দিয়ে পাশের টান মেরে ফেললো।”
আরাফাত চৌধুরী হতবাক হয়ে গেলেন, ছেলের কথা কিছু বুঝতে না পেরে চিন্তিত হলেন।
অন্যদিকে ফারিস এবার দৃষ্টি দিল নিশির মুখের দিকে, ছোট বিড়ালছানার মতো ওর বুকে পরে থাকা মেয়েটা ঘুমন্ত অবস্থায় আরো মায়াবী লাগছে। নিজের হাত বাড়িয়ে নিশির গালে রেখে হাত বুলাতে লাগলো আর
বিড়বিড় করে বলতে লাগলো ,

—”কবে বড় হবি তুই?, এখন বাচ্চাদের মতো বিহেভ করিস।”
কিছুসময় ধরে তাকিয়ে থেকে আবার গাড়ি চালানো শুরু করলো।
কিছুক্ষণের মধ্যে মার্সিডিজ-বেঞ্জ গাড়িটা চৌধুরী ভিলার সামনে দাড়ালো।ফারিস নিশিকে কোলে তুলে নিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো।

বাড়ির ভেতর সাধারণ দিনের মতোই শান্ত পরিবেশ, কিন্তু সেই শান্তি ভেঙে গেলো হঠাৎই—
ফারিসের কোলে অজ্ঞান–প্রায় অবস্থায় নিশিতাকে দেখে সবাই এক মুহূর্তে থমকে গেলো।
চোখ-মুখ ফ্যাকাশে হয়ে আসলো আমেনা চৌধুরী আর আফিয়া চৌধুরীর। দু’জনেই দ্রুত দৌড়ে এগিয়ে এলেন,
আমেনা চৌধুরী মেয়েকে এমন অবস্থাই দেখে তার বুকের ভিতরটা হঠাৎ ঠাঁই করে থেমে গেছে।
রিয়াও কিছুক্ষণ আগেই বাড়িতে ঢুকেছে; তানিয়া নেই—বন্ধুদের সাথে বাইরে গেছে।
আর পুরুষ সদস্যরা—আফতাব চৌধুরী, আলতাফ চৌধুরী আর রাজিব—সবাই অফিসে।
ফলে পুরো বাড়িটা শুধু তিনজনে আছে —আমেনা চৌধুরী, আফিয়া চৌধুরী আর রিয়া।
নিশিতার এই রকম অসহায় অবস্থা দেখে ঘাবড়ে গেলেন দু’জনেই—আফিয়া চৌধুরী আর আমেনা চৌধুরী।
ফারিসে কোল থেকে নামিয়ে নিশিতাকে সোফায় শুইয়ে দিলো, আর শুইয়ে দেওয়ার সাথে সাথেই কান্না জুড়ে দিলেন অসহায়ের মতো আমেনা চৌধুরী।
মেয়েটার নিস্তেজ হাতটা শক্ত করে ধরে বলতেই লাগলেন,

“নিশি… চোখ খোল মা, কি হইছে তোর?”
আমেনা চৌধুরী এবার ফারিসের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন—
— “কি হয়েছে নিশির, ফারিস?”
ফারিস শুধু শান্তভাবে বলল—
— “ ছোট আম্মু শান্ত হও কিছু হয়নি, দুর্বলতার কারণে অজ্ঞান হয়েছে।”
বলেই নিশিকে আবার কোলে তুলে নিলো তারপর সে নিশিকে রুমে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দিল। পিছন পিছন বাকি সবাই ও গেলো।

কিছুসময় পর ডাক্তার এসে দেখে গেছে, ইনজেকশন দিয়েছে, এবং কিছু ঘুমের ওষুধ রেখে গেছে।
কিন্তু রুমে সবাইকে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ফারিস বিরক্ত হয়ে সবাইকে বের করে দিল। কেউ কিছু বললো না। শুধু আমেনা চৌধুরী কিছু বলতে
গেলে………. ফারিস স্থির স্বরে বলল—
“আমি আছি ছোট আম্মু।” —— তখন আমেনা নিশ্চিন্ত হয়ে চলে গেলেন।
ফারিস দরজা বন্ধ করে নিশির পাশে বসল। মেয়েটার মুখ ফ্যাকাশে, চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ। সে নিশির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নিজের মুখটা এগিয়ে
নিয়ে এসে নিশির ঠোঁটের উপর শুকনা একটা চুমু একেঁ দিলো বলল—

— “কি এমন হলো , হার্টবিট? কলেজ থেকে এভাবে রেগে চলে এলি? যদি তোর কিছু হয়ে যেত, আমি বেঁচে থাকতাম?”
তার কণ্ঠে ছিল রাগ নয়, ভয়— হারানোর ভয়।
এরপর সে আবার বলল—
— “তুই শুধু আমার রাগ দেখিস… ? আমি আর কিভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করব আসলেই কি এইটা ভালোবাসা?
সে নিশির ঠোঁটে আবার হালকা করে চুমু দিল। ঠিক তখনই তার চোখে পড়ল নিশির কব্জিতে কালো দাগ।
হঠাৎ করে ফারিসের রাগ লাগলো। সে কাউকে কল করলো।
করে বলল…..

—”ওই তিনটে মাদার***** বাস্টার্ড গুলো কে আমার সামনে হাজির চাই কালকের মধ্যে। ওই বাস্টার্ড গুলো জানে না কার কলিজায় হাত দিয়েছে।”
ওই হাত আমি আর রাখবো না… ফারিসের কণ্ঠটা শক্ত শোনালেও, নিশির মুখের দিকে তাকাতেই তার গলার সব কঠোরতা হারিয়ে গেলো। তবু সে আর কিছু বলল না। চুপচাপ নিশির পাশেই বসে রইল।
ঘরটা আধো অন্ধকার, জানালার ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো ঠিকরে ঢুকছে। নিশি গভীর ঘুমে, মাঝে মাঝে নিঃশ্বাসের ওঠা-নামাটা যেন ফারিসের বুকের ভেতর ঢেউ তুলছিল।
হঠাৎ নিশি ঘুমের ঘোরে বিরবির করে কিছু বলল।
ফারিস একটু এগিয়ে এল, নিজের মাথাটা ঝুঁকিয়ে
ফিসফিস করে বলল—

— “হুম? নিশি, কি বললি?”
নিশির চোখ বন্ধই, তবু কাঁপা কণ্ঠে বলল—
— “ফারিস ভাই?”
ফারিসের বুকটা হালকা ধাক্কা খেল। সে আরও কাছে এল, নিশির কানের পাশে মুখ নিয়ে।
এরই মাঝে নিশি আবার ধীরে বলল—
— “ফারিস ভাই… আমাকে ছেড়ে যাবেন না… প্লিজ…”
ফারিসের ঠোঁটে অজান্তেই মুচকি হাসি ফুটে উঠল।
নরম করে তার হাত ধরে বলল—

— “আমি তো আছি, আমার নীলাম্বরী। তোকে ছাড়া একটা সেকেন্ডও থাকতে পারি?”
নিশি হাতটা আরও একটু শক্ত করে ধরল, যেন তার ভরসা পুরোটা ফারিসের হাতেই বাঁধা। সেই হাত ছাড়িয়ে যাওয়ার সাহসও পেল না ফারিস।
রাতটা লম্বা ছিলো—নীরব, শান্ত। ফারিস সারারাত নিশির পাশে বসে রইল। মাঝে মাঝে তার কপালে পড়তে থাকা চুল সরিয়ে দিলো, কখনো কম্বলের কোণা ঠিক করে দিলো।
আর বাকিটা সময় শুধু তাকিয়ে রইল—মুগ্ধতার দৃষ্টিতে, নিজের অজান্তেই নিশির প্রতিটা নিঃশ্বাস গুনে গুনে।
রাত প্রায় শেষের দিকে। আকাশে হালকা নীল ছোঁয়া।
ফজরের আজানের প্রথম তাকবির ভেসে উঠতেই ফারিস ধীরে উঠে দাঁড়াল।
নিশির ঘুম না ভাঙিয়ে চুপচাপ দরজার দিকে এগোল।
শেষবারের মতো তাকিয়ে দেখল—নিশি এখনো তার হাতের উষ্ণতা জড়িয়ে শান্ত ঘুমে।
তারপর নিঃশব্দে নিজের রুমে চলে গেল।

সকাল ঠিক ৮:০০টা।
নরম সকালের আলোটা পর্দার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকে নিশিতার মুখে এসে পড়ে। আলোটা চোখে লাগতেই ওর ঘুম ধীরে ধীরে ভাঙে।
নিশিতা প্রথমে একটু বিরক্ত হয়ে চোখ পিটপিট করে, তারপর ধীরে মাথাটা তুললো।
চারপাশে তাকিয়ে দেখলো—রুমে সে একা।
সবকিছু এত শান্ত, এত স্থির… যেন কেউ কিছুক্ষণ আগেই বের হয়ে গেছে।
ঠিক তখনই একদম পরিচিত একটা পুরুষালী গন্ধ তার নাকে এসে ধাক্কা খায়। নিশিতা থমকে যায়। গন্ধটা রুমের বাতাসে এমনভাবে লেগে আছে যেন কেউ দীর্ঘ সময় ধরে এখানে ছিল।
মনে মনে সে ফিসফিস করে বলে—

“এই সুগন্ধ তো… একজন মানুষ ছাড়া আর কেউ ইউজ করে না। তাহলে কি… সে?
সে আমার রুমে কেন আসবে? কখন আসলো?”
অবাক ভাব, অচেনা ধাক্কা আর লুকানো কৌতূহলে নিশিতার বুকটা কেমন জানি ধকধক করতে থাকে।
আর তার সাথেই মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে গতকালের সেই একটাই শব্দ—
“হার্টবিট…”

নিশিতা বিরক্ত আর কৌতূহল মিশিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করে—
“যে আমাকে পছন্দই করে না, সে আমাকে এই নামে ডাকলো কেন?
এই কথার তো একটা কারণ থাকতেই পারে। আজকেই আমি ওনার কাছে এর উত্তর নেবো।
এভাবে আর মাথা খারাপ করে থাকা যাবে না…”
এইসব ভাবনায় ডুবে থাকা ঠিক সেই মুহূর্তে, দরজাটা আলতো করে খুলে গেল।আমেনা চৌধুরী স্যুপের বাটি হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকলেন।
তিনি ঢুকতেই নিশিতা নিজের ভেতরের হাজার ভাবনা গুছিয়ে চুপচাপ হয়ে বসলো।
মা এগিয়ে এসে বিছানার পাশে বসে স্নেহে বললেন—
“মা, কিছু না খেয়ে থাকলে শরীর বেশি খারাপ হয়ে যাবে। আয়, একটু মুখ খুলে, স্যুপটা খেয়ে নে।”
তিনি খুব যত্ন করে মেয়ের হাতে স্যুপ ধরিয়ে দিলেন।
নিশিতা কোনও কথা না বলে স্যুপ নিতে নিতে মায়ের মুখের দিকে তাকায়—ওর চোখে যেন দুশ্চিন্তা আরও স্পষ্ট।
আমেনা চৌধুরী নরম স্বরে আবার বললেন—

“তাড়াতাড়ি খেয়ে, ফ্রেস হয়ে নে মা।
না খেয়ে খেয়ে শরীরটা তো দুর্বল করে ফেলেছিস।”
নিশিতা স্যুপ খেতে খেতে মাথা নিচু করে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে শুধুই একটা কথা ঘুরছে—
আজই আমাকে জানতে হবে…
সে কেন এভাবে আমার কাছে এসেছে?
কেন আমার রুমে?
আর… সেই ‘হার্টবিট’ কথাটার মানে কী?”
তারপর নিশি আর কিছু না বলে চুপচাপ নিজের খাবারটা শেষ করে নিলো। প্লেটটা গুছিয়ে রেখে এদিক-ওদিক না তাকিয়ে সোজা সাওয়ার নিতে চলে গেলো। গরম পানির ছোঁয়ায় মাথাটা একটু হালকা হলো তার, কিন্তু মনটা—সেটা আগের মতোই ভারী।

সাওয়ার থেকে বের হয়ে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে ওয়ারড্রোবের সামনে দাঁড়ালো। একটা পুরো ওয়ারড্রোব ভর্তি জামা, আর আলমারিতেও সারি সারি সাজানো আছে নতুন নতুন পোশাক। নিশি জানে—প্রত্যেকটা জামাই সুন্দর, কিন্তু তার মধ্যে কালো রঙের জামা যেন বেশি চোখে পড়ে।
কারণটা খুব সোজা। ফারিসের পছন্দের রং কালো।
যখনই নিশি শপিং-এ যায়, নিজের অজান্তেই ৩-৪টা কালো রঙের জামা তুলে নেয়। যেন ফারিসের পছন্দটা নিজের পছন্দের সঙ্গে মিশে গেছে।
আজও সেভাবেই। আলতো করে একটা কালো ড্রেস বের করলো, পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুহূর্ত দুই তাকিয়ে রইল। চোখে-মুখে কোনো সাজগোজ নেই, তবুও কালো রঙটা তাকে অন্যরকম মানিয়ে গেছে।
সবকিছু রেডি হয়ে নিশি ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে ফারিসের রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো।
এখানেই এসে তার পা থেমে গেলো।

হাতটা দরজার ওপর উঠতে গিয়ে আবার নিচে নেমে এলো।
নক করবে?
নাকি চুপচাপ ফিরে যাবে?
মনের ভেতর ছোট্ট এক দ্বিধা ঘুরপাক খাচ্ছে।
ঠিক তখনই ভেতর থেকে ফারিসের রূক্ষ, গভীর কণ্ঠটা ভেসে এলো—
— “তুই আমার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে কি করছিস? এখনো দাঁড়িয়ে থাকবি, নাকি ভিতরে আসবি?”
নিশি চমকে একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। যেন ধরা পড়ে গেছে। আর কোনো উপায় না দেখে ধীরে ধীরে রুমে ঢুকল।
রুমে ঢুকে প্রথমেই চোখে পড়ল—

ফারিস বক্সিং করছে।
তার শরীরের প্রতিটা মুভমেন্টে শক্তি, তাল, আর রাগের চাপা স্রোত।
আর তার পরনে কালো স্লিভলেস টি-শার্ট আর কালো ট্রাউজার… কালোর ওপর কালো, যেন অন্ধকারের মধ্যেই সে নিজেকে গড়ে তুলছে।
ফারিসের তীব্র দৃষ্টি, ঘামে ভেজা চুল, বুকের ওঠানামা… সবকিছুতেই এক ধরনের আকর্ষণ আছে, যা নিশিতার চোখ সরাতে দেয় না।
সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়েই থাকে।
এভাবেই যখন কয়েক সেকেন্ড কেটে গেলো, ঠিক তখনই ফারিস থেমে গিয়ে ধীরে ধীরে ওর সামনে এসে দাঁড়াল…
তার ছায়া নিশির সারা গায়ের ওপর পড়ে গেলো। আর নিশির নিঃশ্বাসও যেন একটু থেমে গেল।
নিজের দিকে নিশিকে এভাবে গভীর, স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে ফারিস ভ্রু কুঁচকালো।
ঘামে ভেজা বুকটা ওঠানামা করছে, শ্বাসটা ভারী—তবুও স্বভাবসুলভ কঠিন গলা বদলায় না তার।
হঠাৎ থেমে দাঁড়িয়ে সে তীক্ষ্ণ স্বরে বলে উঠল—

— “এমন করে তাকিয়ে আছিস কেন? আগে কখনো ছেলে দেখিসনি?”
মুহূর্তে নিশির গাল লাল হয়ে গেল।
লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল সে।
হৃদপিণ্ডটা থাপ থাপ শব্দ করছে—ফারিসের সামনে দাঁড়ালে তার এমনই হয়।
শুধু লজ্জা নয়, ভয়ও আছে… এক ধরনের অজানা চাপা ভয়, যে ভয়টা ঠিক কীসের সে নিজেও জানে না।
ফারিসের কাছে আসতেই নিশির পুরো শরীর শক্ত হয়ে গেল।
কিছু বলতে যাবে—
কিন্তু তার আগেই ফারিস আরেক ধাপ এগিয়ে এসে রূঢ়ভাবে বলে ওঠে—

— “আমার রুমে আসার কারণ কি? তোকে আমি মানা করেছিলাম না আমার রুমে না আসতে?? মনে নেই?”
নিশি ঠোঁট কামড়ে ফেলে।
গলার শব্দ বের করতে গিয়েও আটকে যায়।
তারপর খুব আস্তে, আমতা আমতা করে, প্রায় কাঁপা কণ্ঠে বলে—
— “আপনি আমাকে কাল হার্টবিট বললেন কেন? আপনি তো আমাকে পছন্দও করেন না।”
ফারিস এক মুহূর্ত নিশির মুখের দিকে তাকিয়ে রইল—
তার চোখে ঝিলিক, যেন বিরক্তি আর অবিশ্বাস মিশে থাকা এক অদ্ভুত দৃষ্টি।
তারপর খুব ধীরে… ভয় ধরানো সেই হাঁটাটা নিয়ে নিশির দিকে এগোতে শুরু করল।
নিশি স্বভাবতই পিছিয়ে গেল।
এক পা… দুই পা… তিন পা পিছোতে পিছোতে হঠাৎ দেয়ালে গিয়ে পিঠ ঠেকে গেল তার।
নিশির নিঃশ্বাস আটকে গেল—

ফারিস তার সামনে দাঁড়িয়ে, এতটা কাছে…
তার শরীরের উষ্ণতা পর্যন্ত অনুভব করা যাচ্ছে।
ফারিস ঠান্ডা, বরফের মতো গলায় বলল—
“কে তুই? আর আমি কেন তোকে হার্টবিট বলবো?
জেগে জেগে সপ্ন দেখাটা বন্ধ কর।
আমি ফারিস ওয়াহিদ চৌধুরী—তোর মতো মেয়েকে কোনোদিন হার্টবিট বলবে না? okey mind it…”
এক মুহূর্তের জন্য নিশির চোখের পাতা কাঁপল।
কান পর্যন্ত তার কথা গুলো যেন শিরশির করে পৌঁছে গেল।
সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল—

বুকের ভেতরটা ব্যথা করলেও বাইরে কিছুই প্রকাশ করল না।
আর আমার রুমে আসবি না। দ্বিতীয়বার এলে ফল ভালো হবে না।’
ফারিসের ঠান্ডা, ধারালো কণ্ঠে কথাটা বের হতেই নিশির চোখ কেঁপে উঠল। ভিজে ভিজে দু’চোখ জল ধরে রাখতে পারছিল না। কাঁপা গলায় কিছু বলতে চাইলেও শব্দ বের হলো না।
নিশি মুখ তুলে তাকাতে যেতেই ফারিস আবার শক্ত স্বরে বলল,

— “বের হয়ে যা, নিশি। এখনই।”
ফারিসের চোখে কঠোরতা থাকলেও ভেতরে যে আগুনটা জ্বলছে সেটা সে নিজেও বুঝতে পারছে না।
নিশি আর কিছু না বলে, নিঃশ্বাস আটকে কাঁদতে কাঁদতে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। দরজাটা ধীরে বন্ধ হয়ে যেতেই ফারিস স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। নিশিতার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে তার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল।
ধীরে খুব নিচু স্বরে বলল,

— “সরি জান… তোকে কষ্ট দিতে চাইনি। একটু টাইম দে আমাকে… আমি সব ঠিক করে ফেলব। তখন আর তোর আমার কাছ থেকে মুক্তি হবে না, জান… মাই হার্টবিট।”
কথাগুলো সে শুধু নিজের কাছেই বলল—যে মেয়ে শুনতে পেল না, সেই নিশিকেই উদ্দেশ্য করে।
অন্যদিকে, নিজের রুমে ঢুকতেই নিশি হাঁটতে হাঁটতে বিছানায় পড়ে গেল।
হাটুর ওপর মাথা গুঁজে রুদ্ধশ্বাসে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল—

— “আজকের পর থেকে আপনাকে আর বিরক্ত করবো না আমি, ফারসি ভাই… আপনার সামনে আমি আর আসব না। আমার চেহারাটা আর দেখাবো না আপনাকে। যেখানে আপনি আমাকে ভালোবাসেন না, সেখানে আমি কীভাবে আশা করি আপনি আমাকে ভালোবাসবেন?”
বুকটা কেমন ফেটে যাচ্ছে—তবুও সে নিজের ভাঙা কণ্ঠে আবার বলল,

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৭+৮

— “আজ থেকে আমি আর আপনার জন্য চোখের পানি ফেলব না। দেখবেন— এমন কিছু করব, যেন আপনি নিজেই আমার জন্য পাগল হয়ে যাবেন… কিন্তু তখনও আপনি আমাকে পাবেন না… পাবেন না…”
কথাগুলো বলতেই নিশিতার গলা আবার আটকে গেল।
অবশেষে কান্নারত অবস্থায় ধীরে ধীরে চোখ দুটো বন্ধ হয়ে এলো…এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লান্ত হয়ে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল নিশিতা।

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ১১+১২