চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৫৭
আয়াত বিনতে নূর
ঘরের ভেতর তখন নীরবতা বিরাজ করছে। জানালার পর্দা বাতাসের মৃদু ঝাপটায় বারবার উড়ে উঠছে। সেই পর্দার ফাঁক দিয়ে আসা বাতাসের সোঁ সোঁ শব্দ আর সিলিং ফ্যানের একটানা ঘোরার শব্দ ছাড়া চারপাশে আর কিছুই শোনা যাচ্ছে না।
নিশিতা ধীর পায়ে এগিয়ে আসতেই ফারিসও কয়েক কদম এগিয়ে এলো। কোনো কথা না বলে নিচু হয়ে নিশিতার হাতব্যাগটা তুলে তার হাতে এগিয়ে দিল।
নিশিতা একবার ফারিসের দিকে তাকাল।
সেই দৃষ্টিতে কোনো প্রশ্ন ছিল না, ছিল না কিছু জানার আগ্রহও। শুধু এক পলকের জন্য চোখাচোখি—তারপরই দৃষ্টি সরিয়ে নিল সে।
হাতব্যাগটা হাতে নিয়ে নিশিতা ধীরে ধীরে তার ভেতর থেকে কিছু একটা বের করতে লাগল।
বিষয়টা দেখেই ফারিসের ঠোঁটের কোণে অতি সূক্ষ্ম একটা হাসি ফুটে উঠল। এতটাই মৃদু, এতটাই ক্ষণস্থায়ী যে না দেখলে বোঝার উপায় নেই। যেন হাসিটা তার মুখে এসেও নিজের অস্তিত্ব প্রকাশ করতে চাইছে না।
ব্যাগ থেকে লাল-সাদা পাড়ের সুন্দর একটি শাড়ি বের হতেই নিশিতা কিছুটা অবাক হয়ে গেল।
শাড়িটার সৌন্দর্য দেখে, নাকি এভাবে হঠাৎ ফারিসের কাছ থেকে উপহার পেয়ে—সে নিজেও বুঝতে পারল না।
তবে আশ্চর্যের বিষয়, মাত্র এক মুহূর্তেই তার মনের সমস্ত রাগ, অভিমান যেন গলে কোথায় মিলিয়ে গেল।
ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল বাচ্চা মেয়ের মতো সরল এক হাসি।
ফারিস বাঁকা হাসল। তারপর একেবারে স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
—কি, ম্যাডাম? পছন্দ হয়েছে?
নিশিতা শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
ফারিস আবারও বলল,
—ভুলে গেছেন, ম্যাডাম, আজকে কী?
নিশিতা এবার ভ্রু কুঁচকে ফারিসের দিকে তাকাল।
আজকে কী আছে?
তার তো কিছুই মনে পড়ছে না। আজ কারও জন্মদিনও নয়। তাহলে আজ কী?
আর ফারিসই বা এমন করে তাকে জিজ্ঞেস করছে কেন?
কয়েক মুহূর্ত চুপচাপ ভাবার পরও কোনো উত্তর খুঁজে পেল না নিশিতা। অবশেষে ফারিসের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে না-সূচক মাথা নাড়ল।
ফারিস আর কিছু বলল না।
তার মুখের অভিব্যক্তিটা এমন—যেন এতে তার কিছুই যায়-আসে না। অথচ সেই নির্লিপ্ত মুখের আড়ালেই যেন লুকিয়ে আছে অনেক কিছু।
হঠাৎ ফারিস বলল,
—আয়, তোকে রেডি করে দিই। তোকে নিয়ে বের হব। তোকে সময় দিই না—এমন কথা আর বলিস না। চল, আজকের পুরো সময়টা শুধু তোর জন্য। এখানে অন্য কেউ আসবে না। শুধু আমরা।
কথাগুলো শুনে নিশিতা সন্দেহভরা চোখে ফারিসের দিকে তাকাল।
তবে সেই সন্দেহের আড়ালে মুহূর্তেই ফুটে উঠল আনন্দের ঝিলিক।
এতদিন পর ফারিস তাকে সময় দিচ্ছে!
খুশি হবে না কেন সে? ইচ্ছে করছে, এই মুহূর্তেই যেন আনন্দে আকাশে উড়ে যায়।
তবুও কোথাও একটা অস্বস্তি খচখচ করছিল।
ফারিস তো কখনো এভাবে বলে না।
নিশিতা আনমনে কিছু একটা ভাবছে দেখে ফারিস আবার বলল,
—কী রে? কী ভাবছিস? আয়, রেডি করে দিই।
নিশিতা সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি জানাল,
—আমি পারব। আপনি বসুন।
কথাটা শেষ করে সে এগোতে যাবে, ঠিক তখনই ফারিস তার হাত ধরে ফেলল।
গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
—উঁহু। আজকে আমি তোকে সাজাব। অন্যভাবে। চুপচাপ আয়।
ফারিসের এমন অদ্ভুত গম্ভীর স্বর শুনে নিশিতা একেবারে দমে গেল।
সে আর কিছু বলল না। ফারিসকে বকা দেওয়ার সুযোগ দিয়ে নিজের মনটা খারাপ করতে চায় না।
অবশেষে নীরবে তার সঙ্গে গিয়ে দাঁড়াল।
এক এক করে ফারিস অত্যন্ত যত্ন নিয়ে নিশিতাকে গ্রামীণ বাঙালি মেয়েদের মতো সাজাতে শুরু করল।
সযত্নে লাল-সাদা শাড়িটা পরিয়ে দিল তাকে।
নিশিতা নিজেই কিছুটা অবাক হয়ে ফারিসের কাজ দেখছিল।
এভাবে এত সুন্দর করে ফারিস শাড়ি পরাতে পারে—এটা তার সম্পূর্ণ অজানা ছিল।
শাড়ি এতটা গুছিয়ে পরানো যায়, সেটাও যেন আজই প্রথম জানল নিশিতা।
ফারিসের হাতের প্রতিটি ঘূর্ণন, প্রতিটি ভাঁজ, প্রতিটি যত্ন সে অপলক দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল।
মনের ভেতরেই হঠাৎ একটা কথা ভেসে উঠল—
‘কপালে একটা অলরাউন্ডার বর দিয়েছে আল্লাহ। তোকে তো কিছুই করতে হলো না। উল্টো লটারি উড়ে উড়ে তোর কাছেই চলে এসেছে।’
নিজের ভাবনাতেই মনে মনে মুচকি হাসল নিশিতা।
হঠাৎ পরিচিত কণ্ঠস্বর কানে আসতেই তার ভাবনায় ছেদ পড়ল।
—কী ভাবছিস এত?
ফারিসের কথায় নিশিতা যেন চমকে উঠল। তড়িৎবেগে মাথা নাড়ল।
না।
সে কিছুই ভাবছে না।
ফারিস আর কিছু বলল না।
শুধু নিশিতার হাত ধরে তাকে ঘরের একপাশে রাখা সুন্দর আয়নাটার সামনে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাল।
প্রথমে নিশিতা কিছুই বুঝতে পারল না।
কিন্তু আয়নার দিকে চোখ পড়তেই সে থমকে গেল।
কয়েক মুহূর্তের জন্য যেন নিজের প্রতিবিম্বটাকেই চিনতে পারল না।
সাদা ত্বকের ওপর লাল-সাদা শাড়ির অপূর্ব মিশেল। সাধারণ অথচ অসম্ভব সুন্দর এক বাঙালি সাজ।
এতটা সুন্দর করে নিজেকে দেখতে পারে—তা নিশিতা এক মুহূর্তের জন্যও ভাবেনি।
হতবাক হয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে রইল সে।
এ যেন নতুন এক নিশিতা।
নিজের এই নতুন রূপের সঙ্গে পরিচিত হতে হতে মুহূর্তেই শত মুগ্ধতায় জড়িয়ে গেল সে।
চোখের সামনে নিজেকে নয়, যেন বাঙালি সাজে কোনো হুরপরীকেই দেখছে।
স্তব্ধ হয়ে একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে রইল নিশিতা।
আর তার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে ফারিস তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে।
এভাবে নিশিতাকে এতটা সুন্দর মানাবে—ফারিস নিজেও কখনো কল্পনা করেনি।
তার দৃষ্টি ধীরে ধীরে নিশিতার মুখের ওপর স্থির হয়ে গেল।
চোখের সেই চাহনিতে অদ্ভুত এক নেশা।
বারবার শুকনো ঢোক গিলছে সে।
নিজেকে যথাসম্ভব সংবরণ করার চেষ্টা করছে ফারিস। এই মুহূর্তে ভুল কিছু করার কোনো ইচ্ছা তার নেই।
তবুও বেহায়া চোখজোড়া বারবার নিশিতার গোলাপি দুটো ওষ্ঠের দিকে চলে যাচ্ছে।
নিজের মনকে অন্যদিকে ফেরাতে চাইছে সে, কিন্তু পারছে না।
এই মুহূর্তে সেই ঠোঁট দুটোকে নিজের অস্তিত্বের বাইরে রাখতে না পারলে যেন অদ্ভুত এক অস্থিরতা তাকে গ্রাস করছে।
হঠাৎ মেয়েলি মিষ্টি কণ্ঠস্বর কানে আসতেই ফারিসের ধ্যান ভাঙল।
কষ্ট করে নিজেকে সংবরণ করে নিল সে।
এই মুহূর্তে নিশিতার হাস্যোজ্জ্বল মুখটা নষ্ট করতে চায় না।
একটু কাছে গেলেই যদি আবারও সে কান্না শুরু করে?
তার চেয়ে শুরুতেই যে পরিকল্পনা করেছে, আগে সেটাই সফল হোক।
তারপর দেখা যাবে কী হয়, না হয়।
হঠাৎ ফারিস বলল,
—আয়, তোকে সাজিয়ে দিই। Sit quietly, don’t move.
নিশিতাও বিনাবাক্যে ফারিসের কথা মেনে নিল।
চুপচাপ আয়নার সামনে রাখা নরম টুলটায় বসে পড়ল।
ফারিসও কোনো কথা না বলে নিজের কাজে মন দিল।
একে একে যা যা প্রয়োজন, সবকিছু খুব যত্ন করে বের করে সামনে রাখল। তারপর ধীরে ধীরে নিশিতাকে সাজাতে শুরু করল।
আলতা লাগানোর জন্য যেই নিশিতার পায়ে হাত দিতে যাবে, ঠিক তখনই নিশিতা চট করে পা সরিয়ে নিল।
ফারিসের হাত মাঝপথেই থেমে গেল।
ফারিস তার থেকে অনেকটা বড়। আর সবচেয়ে বড় কথা—সে তার স্বামী। এভাবে পায়ে হাত দেওয়া নিশিতার কাছে কেমন যেন দৃষ্টিকটু লাগছে।
ফারিস নিশিতার এমন আচরণে বিরক্ত চোখে তার দিকে তাকাল।
—What happened?
গম্ভীর কণ্ঠে প্রশ্ন করল সে।
ফারিসের প্রশ্নে নিশিতার ধ্যান ভাঙল। আমতা আমতা করে বলল,
—ইয়ে… মানে… আমি নিজেই লাগাতে পারব। আপনি দিন। আমার পায়ে এভাবে হাত দেবেন না, তাও দয়া করে।
ফারিসের বিরক্তি যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল।
—এখন তোর মতো পিচ্চি আমাকে শেখাবে কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল?
নিশিতা ইতস্তত করে গেল।
সে কীভাবে বোঝাবে, এভাবে ফারিস তার পায়ে হাত দিলে তার কেমন অস্বস্তি হয়?
শুকনো ঢোক গিলে ধীরে ধীরে বলল,
—আসলে আপনি তো আমার থেকে অনেক বড়, ফারিস ভাই। এজন্যই পায়ে হাত দিলে কেমন অস্বস্তি লা—
কথা শেষ করার আগেই ফারিস ফস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
কণ্ঠ আরও কাঠ হয়ে গেল।
—তোর এসব ননসেন্স কথা শোনার সময় নেই আমার কাছে। জাস্ট শাট আপ।
কথাগুলোর ভঙ্গি এতটাই কঠিন ছিল যে নিশিতা সঙ্গে সঙ্গে দমে গেল।
সামান্য একটা কথার জন্য এভাবে ধমক দিল!
মুহূর্তেই মনটা খারাপ হয়ে গেল তার।
মুখে আর কিছু বলল না নিশিতা। শুধু মুখ ফুলিয়ে চুপচাপ বসে রইল।
ফারিসের অবশ্য সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।
তার সম্পূর্ণ মনোযোগ এখন শুধু নিশিতাকে সাজানোর দিকে।
একে একে আলতা, চুড়ি, গলায় ছোট্ট একটা পেনডেন্ট, কানে দুল—সবকিছু নিখুঁতভাবে পরিয়ে দিল সে।
সবশেষে ঠোঁটে লিপস্টিক, চোখে কাজল দিয়ে সাজটা সম্পূর্ণ করল।
মুখে কোনো ফাউন্ডেশন কিংবা ফেস পাউডার ব্যবহার করল না।
এমনিতেই গরমের মধ্যে সেসব কিছুক্ষণ পর ঘেমে নষ্ট হয়ে যাবে।
অবশ্য তাতে সৌন্দর্যে কোনো ব্যতিক্রম ঘটল না।
দুধে-আলতা গায়ের রঙ হওয়ায় যেকোনো সাজই যেন নিশিতার ওপর আলাদা করে ফুটে ওঠে।
সবশেষে কোমর ছাড়িয়ে যাওয়া ঘন চুলগুলো সুন্দর করে খোঁপা করে দিল ফারিস।
আগে থেকেই এনে রাখা বেলি ফুলের মালাটা যত্ন করে খোঁপার চারপাশে পেঁচিয়ে দিল।
পুরোটা সময় নিশিতা চুপ করে ছিল।
ফারিসের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি হাতের নড়াচড়া, প্রতিটি যত্ন সে শুধু নিজের নয়নজোড়া দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে গেছে।
এতটা সুন্দরভাবে, এতটা পরিপাটি করে সে নিজেকেও কখনো সাজিয়েছে বলে মনে পড়ে না।
তবে একটা কথা মানতেই হবে—
ফারিসের হাতে সত্যিই জাদু আছে।
নিশিতা এতটাই মুগ্ধ হয়ে ফারিসের দিকে তাকিয়ে ছিল যে কখন তার সাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে, সেটাই বুঝতে পারেনি।
এখনও তার চোখ ফারিসের দিক থেকে সরছে না।
ফারিসও নিশিতার এহেন কাণ্ডে মুচকি হাসল।
তার বউ যে তাকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে, সেটা বুঝতে আর বাকি রইল না।
হালকা করে গলা খাঁকারি দিয়ে ফারিস বলল,
—বলছিলাম যে, চোখ দিয়ে না খেয়ে চাইলে মুখ দিয়েও খেতে পারিস। জান, আমি কিছু মনে করব না। Believe me.
কথাটা নিশিতার কানে স্পষ্ট যেতেই সঙ্গে সঙ্গে চোখ নামিয়ে নিল সে।
লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে গেল পুরো মুখ।
যে চোখে কিছুক্ষণ আগেও ছিল মুগ্ধতা, ভালোবাসা আর সম্মান—সেই চোখেই এখন স্পষ্ট লজ্জার রেশ।
ইচ্ছে করছে, একটা বালিশ দিয়ে মুখটা লুকিয়ে ফেলে।
সে একটু তাকিয়ে ছিল বলেই এভাবে লজ্জা দেবে ফারিস?
ঠোঁটকাটা লোক একটা!
মুখে কিছু আটকায় না।
মনে মনে যত রকমের গালি জানে, সবই ফারিসকে দিয়ে দিল নিশিতা।
লজ্জায় আর চোখ তুলতে পারছে না সে।
তাকে কেমন দেখাচ্ছে, সেটাও জানে না।
সাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর তো আয়নাতেও ঠিকমতো দেখা হয়নি তার।
অন্যদিকে ফারিস যেন এখন নিশিতাকে চোখ দিয়েই গিলে খাচ্ছে।
সাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাকে দেখে মনে হচ্ছে, আকাশ থেকে কোনো পরী নেমে এসেছে।
এতটা নিখুঁত, এতটা সুন্দর—মানুষও বুঝি এমন হয়?
লজ্জায় রাঙা হয়ে থাকা গাল দুটোর দিকে তাকিয়ে ফারিসের মনে হলো, এই মুহূর্তে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিতে ইচ্ছে করছে।
ঘরের নীরবতা আরও গভীর হয়ে উঠল।
এমন নীরবতা, যেখানে ফারিসের জোরে জোরে নিশ্বাস নেওয়ার শব্দটুকুও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে।
নিজের মনের ভেতর জেগে ওঠা অদ্ভুত শিহরণটাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে সে।
চাইছে, এই মুহূর্তে কোনো অঘটন ঘটার আগেই নিজেকে সরিয়ে নিতে।
মনটা অন্যদিকে ফেরানোর জন্য লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে থাকা নিশিতার দিকে তাকিয়ে বলল,
—তুই বস, জান। আমি আসছি।
কথাটুকু শেষ করেই ফারিস ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
এই মুহূর্তে নিশিতার কাছাকাছি না থাকাটাই তার কাছে শ্রেয় মনে হলো।
নিশিতা কিছু বলতে পারল না।
লজ্জায় রাঙা মুখ নিয়ে ধীরে ধীরে একবার আয়নার দিকে তাকাল।
আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে আবারও থমকে গেল সে।
মনের ভেতর প্রশ্ন জাগল—
এটা কি সত্যিই সে?
নাকি অন্য কেউ?
নিজেরই মুগ্ধতায় কয়েক মুহূর্ত হারিয়ে গেল নিশিতা।
ফারিস যেন রং-তুলি হাতে কোনো চিত্রশিল্পীর মতো তাকে নিখুঁত যত্নে এঁকেছে—প্রতিটি খুঁটিনাটি সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলেছে।
এই মুহূর্তে নিজেকে মানুষ বললে হয়তো সত্যিই পাপ হবে।
এ যেন কোনো শিল্পীর হাতে আবিষ্কৃত জীবন্ত পুতুল।
অন্য দিনের তুলনায় আজ নিজেকে একটু বেশিই আলাদা লাগছে।
চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৫৬
এতটা সুন্দর করে সাজিয়ে দেওয়ার পরও ফারিসের ব্যাখ্যা করার মতো কোনো প্রশংসার শব্দ জানা নেই—এমনটাই মনে হলো নিশিতার।
তবে তার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মুখের সেই মুগ্ধতা যেন সব কথার উত্তর দিয়ে দিচ্ছে।
