ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৪৭
রিক্তা ইসলাম মায়া
বেশ কয়েকদিন ধরে তনিমা অনুপস্থিত। কলেজে যাচ্ছে না। রিফাত ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকেও তনিমাকে খোঁজে বেড়ায়। সে বুঝতে পারছে না একজন মেডিক্যালের স্টুডেন্ট হয়ে তনিমা কলেজ বন্ধ করে কীভাবে? রিফাত যতটুকু বুঝেছে মেয়েটা পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী, অকারণে কলেজ বন্ধ করবে না। তাহলে কি তনিমা অসুস্থ? নাকি পারিবারিক কোনো ঝামেলায় পড়েছে মেয়েটা? পারিবারিক ঝামেলা হলে রিফাত জানতো। রিফাতের সঙ্গে তনিমার কথা না হলেও শাশুড়ির সঙ্গে রোজ কথা হয় তনিমার। যদি তনিমার পারিবারিক ঝামেলা থাকতো তাহলে সেটা রিফাতের মা রিফাতকে জানাতো। তনিমা অসুস্থ হলেও রিফাতের মা জানাতো ওকে। তাহলে মেয়েটা হঠাৎ কলেজ বন্ধ করার কারণ কি হতে পারে? রিফাত মনের অস্থিরতা নিয়ে ক্লাস শেষে বেরিয়ে যাওয়ার পূর্বে তনিমার ফ্রেন্ড মাহিকে বললো রিফাতের সঙ্গে দেখা করতে। মাহি ক্লাস থেকে বেরিয়ে করিডোরে আসতে রিফাতকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো অন্য ডিপার্টমেন্টের একজন স্যারের সঙ্গে। দুজন কথা বলছে। মাহি রিফাতের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। রিফাত মিনিট খানিক সময় নিয়ে কথা বলে সিনিয়র টিচারকে বিদায় করে মাহিকে ডাকল…
‘ কাম হেয়ার মিস মাহি।
মাহি জড়তায় এগিয়ে আসে। মিহি কণ্ঠে শুধায়…
‘ জি স্যার?
মাহি তনিমা আর রিফাতের সম্পর্কে অবগত, তাই রিফাত কোনো রূপ ভণিতা না করে সরাসরি তনিমার সম্পর্কে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করে বলে…
‘ আপনার ফ্রেন্ড তনিমা কোথায়? তিনদিন ধরে কলেজে আসছে না কেন?
‘ তনিমার নানাভাই অসুস্থ, তাই তনিমাদের পুরো পরিবার রাজশাহী গিয়েছে দেখতে।
‘ তনিমার নানাবাড়ি রাজশাহীতে?
‘ জি।
‘ তাহলে ধানমন্ডিতে কে থাকে?
‘ তনিমার বড় ফুপুর বাসা ধানমন্ডিতে।
‘ আপনার ফ্রেন্ড আসবে কবে কিছু বলেছে?
‘ জি,আমাকে বলেছিল একদিন থেকে চলে আসবে। কিন্তু এখন তিনদিন পার হয়ে গেছে ওহ আসলো না।
মাহির কথায় রিফাত কপাল কুঁচকে মাহিকে শুধালো…
‘ আপনার বান্ধবীর সাথে ফোনে কথা হয় না?
‘ দুইদিন ধরে হচ্ছে না, ওর নাম্বার অফ।
‘ ফোন অফ কেন?
‘ জানি না স্যার। তনিমার নানাবাড়ি গেলেই একটা না একটা সমস্যা হয় আর এইভাবে ফোন অফ করে দেয়। লাস্ট ইয়ারও তনিমা একবার রাজশাহী নানাবাড়িতে গিয়েছিল তখন সেখানে গাড়ি এক্সিডেন্ট করে প্রায় একমাস তনিমা বেড রেস্টে ছিল। আঙ্কেল তনিমাকে নিয়ে অনেক দৌড়াদৌড়ি করে চিকিৎসা করায়। আন্টিও তনিমার জন্য অসুস্থ হয়ে পড়েছিল প্রায়।
মাহির সাথে কথা বলে রিফাতের মাঝে অস্থিরতা দ্বিগুণ বাড়ে। তনিমার কোনো বিপদ হয়েছে কিনা সেই চিন্তায় মন ব্যাকুল হয়ে উঠে রিফাতের নিজের অজান্তেই। অস্থির উত্তেজিত রিফাত মাহিকে বিদায় জানিয়ে ব্যাকুলতায় কল করলো জাবেদ শেখকে। এই প্রথম শ্বশুরকে নিজ থেকে রিফাত কল করছে তনিমার খোঁজে। এর আগে দুই-একবার জাবেদ শেখের সঙ্গে রিফাতের দেখা হয়েছে, জামাই-শ্বশুরের মাঝে অল্পস্বল্প কথা হয়েছে কিন্তু কখনো বিস্তারিত আলাপ হয়নি, আড্ডা দেওয়া হয়নি। রিফাত মনের অস্থিরতা চেপে রাখতে না পেরে জাবেদ শেখকে কল দেয়, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তনিমার বাবা জাবেদ শেখের নাম্বারটাও অফ। মনে অস্থিরতা আর ব্যাকুলতা নিয়ে রিফাত কোনো রকমে তার গ্রুপের বাকি ক্লাসটাও শেষ করলো থার্ড ইয়ারের সঙ্গে। চতুর্থ ঘণ্টার পর রিফাত নিজের অস্থিরতায় আর কোনো কিছু না ভেবে ঠিক করলো তনিমাদের বাড়িতে যাবে। কলেজ থেকে সোজা তনিমাদের বাসার উদ্দেশ্যে পার্কিং থেকে গাড়ি বের করতে তনিমাকে দেখতে পেল কলেজ গেটের বাহিরে পলাশের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। কথা বলছে বললে ভুল হবে, পলাশের ব্যাগ থেকে খাতা খুলে পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দেখছে তনিমা। রিফাত তনিমাকে সুস্থ দেখে এক মূহুর্তের জন্য স্বস্তি পায়। কিন্তু রিফাতের না করার পরও তনিমা পলাশের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছে দেখে রাগ হয়। রিফাত তনিমাদের থেকে কিছুদূর গাড়ি থামিয়ে বেরিয়ে আসে। ঠাস করে তনিমার বাহু টেনে মুখোমুখি করে বলে…
‘ আপনাকে মানা করেছিলাম না আপনার কোনো ছেলেবন্ধুর সাথে মিশবেন না, তাহলে কথা শুনেন না কেন? আর এতদিন কোথায় ছিলেন? কলেজে আসেননি কেন?
হঠাৎ রিফাত তনিমার বাহু টানায় চমকে উঠে তনিমা-পলাশ দুজনেই। তনিমা রিফাতকে দেখে অবাক কণ্ঠে বলে….
‘ স্যার আপনি?
‘ কেন, আমি এসেছি বলে? আপনাদের দুজনকে অসুবিধায় ফেলে দিলাম?
পলাশ পাশ থেকে কাচুমাচু করে বলে…
‘ আরে না স্যার, তেমন কিছু না।
রিফাত পলাশের কথার উত্তর না দিয়ে বরং তনিমার বাহু শক্ত করে চেপে ধরে রেখেই বলে…
‘ আপনি এখানে কি করছেন তনিমা কলেজ বন্ধ করে?
তনিমা রিফাতকে ভয় পাচ্ছে না। বরং স্বাভাবিক কন্ঠে উত্তর দিয়ে বলে…
‘ নানাবাড়িতে গিয়েছিলাম, সেজন্য তিনদিন কলেজে আসতে পারিনি। মাত্র ঢাকায় ফিরে বাসায়ও যাইনি, রাস্তা থেকে সোজা কলেজে চলে আসলাম নোট নিতে। তিনদিনে যে ক্লাসগুলো মিস হয়েছে আমার, সেগুলো পড়া বুঝে নিচ্ছিলাম পলাশের থেকে। মাহি বোধহয় চলে গেছে, সেজন্য ওকে কলেজে পাইনি।
রিফাত তনিমার হাত থেকে পলাশের খাতাটা ছিনিয়ে নিয়ে তনিমাকে বলে…
‘ আপনার নোট আমি পরে সংগ্রহ করে দিব, তারপরও নেক্সট টাইম যেন কোনো ছেলের সঙ্গে আপনাকে না দেখি। আর তুমি?
পলাশের খাতাটা রিফাত পলাশের দিকে বাড়িয়ে দিতে দিতে বলে…
‘ তুমি বন্ধু, বন্ধুর মতো থাকবে। অযথা বান্ধবীর দিকে নজর দাও না। তোমার বান্ধবী এখন ম্যারিড। আর বিবাহিত মেয়েকে পছন্দ করাটাই হারাম। আশা করছি তুমি ওর পিছন ছেড়ে দিবে।
রিফাতের কথা বুঝতে যেন পলাশের সময় নিল। কিন্তু বুঝতে পেরেই যেন পলাশের মাথায় বিস্ফোরণ ঘটল। কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভুলে গেল রিফাত ওদের টিচার হয়। পলাশ কেমন অবিশ্বাস্য গলায় রিফাতকে শুধিয়ে বলে…
‘ তনিমাকে কে পছন্দ করে স্যার? আমি?
রিফাত পলাশের অবিশ্বাস্য বাচনভঙ্গি দেখে বিরক্তিতে সম্মতি দিয়ে বলে, “হ্যাঁ, তুমি।
‘ ছিঃ ওয়াক! এই টিউবলাইটকে আমি পছন্দ করতে যাব মাথা খারাপ স্যার? আমার সুন্দরী গার্লফ্রেন্ড থাকতে জীবনেও ওর দিকে তাকাতে যাব না। আল্লাহ জানে ওকে কোন গাধায় বিয়ে করেছে। আমার তো ওর জামাইর জন্য মায়া হচ্ছে। আহারে বেচারা। বেটাকে একবার পাইলে উপদেশ দিতাম এই টিউবলাইট থেকে নিজেকে বাঁচাতে।
তনিমা চট করে পলাশের খাতাটা দিয়ে পলাশকে দুই-চারটে বাড়ি মেরে বলল…
‘ সর হারামি! তোর মতো বন্ধুর চেয়ে দুশমন ভালো। এজন্যই তোকে আমি আমার জামাইর পরিচয় দেই না, তুই নিশ্চিত আমার সহজ-সরল জামাইকে উল্টা পাল্টা বুঝিয়ে আমার সংসারটা ভাঙবি।
রিফাত হতবাক, বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে। সে বেশ বিস্ময় হয়েছে পলাশের কথায়, তা রিফাতের বিস্ময় দৃষ্টিভঙ্গি বলছে। তনিমা পলাশকে ঠেলেঠুলে ওদের থেকে ভাগিয়ে দেয়। রিফাত সামনে আছে বলে পলাশ তনিমাকে চোখ রাঙিয়ে চলে যায়। যাওয়ার পূর্বে রিফাতকে আদব করে সালাম দিয়ে যায়। তনিমা লজ্জায় পড়ে হাতের খাতাটা দিয়ে নিজের কপালেই ছোট ভারি মেরে বিরবির করে। পিছন ঘুরে রিফাতের দিকে তাকাতে রিফাত বিস্মিত ভরা গলায় বলে…
‘ আপনি আমাকে সেদিন মিথ্যা বলেছিলেন তনিমা?
তনিমা সত্যের স্বীকারোক্তি দিয়ে তনিমা বলে..
‘ মিথ্যা না, আসলে আমি পরীক্ষা করছিলাম আপনি আমাকে নিয়ে পজেসিভ কিনা সেটা?
‘ কি পেলেন তাতে?
‘ আপনি পাস করেছেন।
তারপর দুজনের মধ্যে নীরবতা। রিফাত দুষ্টু প্রকৃতির লোক, হাসি-ঠাট্টা করা তার স্বভাব। অথচ তনিমার সঙ্গে রিফাত অদ্ভুতভাবেই হাসি-ঠাট্টা-মজা করে সবকিছু উড়িয়ে দিতে পারছে না। কোথাও যেন আটকে যাচ্ছে বারবার। তনিমার জায়গায় অন্য কেউ হলে এতক্ষণে রিফাত তার বাংলা ওয়াশ করে ফেলতো তার সাথে এমন খেয়ালি করায়। কিন্তু রিফাত তনিমাকে ছাড় দিচ্ছে। হয়তো দুজনের মধ্যে নতুন সম্পর্কর জন্য। রিফাত অস্বস্তিবোধ করে তনিমার সাথে মিশতে। নীরবতা ভেঙে তনিমা ফের বলে…
‘ আপনার আম্মু বলেছে কয়েক দিন গিয়ে আপনাদের বাড়িতে থাকতে। সামনে আমার ফাইনাল পরীক্ষা, কি করব? যাব আপনাদের বাড়িতে?
‘ আপাতত যাওয়ার দরকার নেই। আমি আম্মুর সাথে কথা বলব। আপনি আপনার সেমিস্টার পরীক্ষাটা শেষ করুন, তারপর যাইয়েন।
তনিমা সম্মতি দিয়ে ক্লান্ত ভঙ্গিতে বলে…
‘ আমরা কোথাও বসে কথা বলি? আমার না প্রচুর খিদে পেয়েছে, কিছু খাওয়ান প্লিজ। সকাল থেকে না খেয়ে জার্নি করছিলাম। ভোরে রাজশাহী থেকে বেরিয়েছি, এখন বাজে দুটো, পেটেও কিছু পড়েনি। আমাকে কোথাও নিয়ে চলুন। কিছু খাব।
তনিমার শুকনো মুখটার দিকে তাকিয়ে রিফাতের মায়া হলো, ছোট একটা মেয়ে অথচ কত চাপ মাথায়। রিফাত হাতের ঘড়িতে সময় দেখে বলে,
“আসুন আমার সাথে।” তনিমা রিফাতের পিছনে যায়। রিফাত তনিমার জন্য গাড়ির দরজা খুলে দিতেই তনিমা ড্রাইভারের পাশের সিটে বসে। রিফাত ডাইনিং সিটে বসে স্টিয়ারিং ঘুরাতে ঘুরাতে বলে…
‘ আপনি ঢাকার বাহিরে গেছেন অথচ আমাকে জানালেন না কেন?
‘ আপনার আম্মুর থেকে পারমিশন নিয়েই গেছিলাম।
তনিমার কথায় রিফাত অসন্তোষ্টি প্রকাশ করে বলে…
‘ আপনার মূল অভিভাবক হচ্ছে আমি মিস তনিমা, আপনার শাশুড়ি নয়। ফারদার কোথাও যেতে গেলে অবশ্যই আপনার শাশুড়ির সঙ্গে আমাকেও জানিয়ে যাবেন, বুঝেছেন?
রিফাত যে তনিমার উপর অধিকার খাটাচ্ছে, সেটা হয়তো রিফাত নিজেও বুঝতে পারছে না। তনিমা লাজুক ভঙ্গিতে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে দিয়ে বলে…
‘ আপনি আমাকে মিস করছিলেন বুঝি?
‘ মোটেও না।
‘ ডাক্তার সাহেব, মিথ্যা বললে কিন্তু আপনার বউ পালিয়ে যাবে।
‘ বউ পালিয়ে কোথাও যাবে?
‘ বাপের বাড়ি।
‘ আমি শ্বশুরবাড়ি চিনি।
‘ তারমানে আপনি আমায় মিস করছিলেন।
তনিমা রিফাতের দিকে তাকিয়ে দুষ্টু হাসে। রিফাত তনিমার উপর মিছামিছি বিরক্তি প্রকাশ করলেও সে মুখে কিছুই বললো না।
মারিদ পরদিনই সুখ, রাদ, নূরজাহানকে নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসে, আজ পনেরো দিন। এর মাঝে সুখ-রাদিলের বিয়ে নিয়ে দুই পরিবারের মাঝে বিশাল আলোচনা-সমালোচনা হয়। রিফাত, রাদিল দুজনেই পিএইচডি করা ডাক্তার। রাদিল প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার। বংশ ভালো। সবচেয়ে বড় কথা রাদিল খুবই নম্র-ভদ্র নিজেদের হাতেগড়া ছেলে। মারিদ, রিফাত, রাদিল তিনজনই ছোট থেকে বড় হওয়া সবই একত্রে করেছে। রাদিলের সঙ্গে সুখের বিয়ে হলে সুখ সুখী হবে।
রাদিলের বাবা নেই। মাকে নিয়ে রাদিল দাদার উত্তরায় ভিটেমাটিতে পাঁচতলা ভবন বানিয়ে থাকছে ওরা। সবগুলো ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া, নিজেরা তিনতলায় থাকে। রাদিলের বাকি দুজন চাচা আছে যাদের সাথে দাদার জমিজমা নিয়ে বনাবনি হয় না বলে চাচাদের কারও সাথে রাদিলের সম্পর্ক নেই। সুখের বয়স ষোলো রানিং। আর কয়েক মাস পর সতেরোয় পড়বে। মাত্র এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। রাদিলের বিয়ের জন্য প্রাপ্ত হলেও সুখ খুবই ছোট। সেজন্য সুখের বাবা, মা, চাচারা সবাই আবদার করে, সুখ অনার্স পাস করলে তখন না-হয় সুখের বিয়ে দিবে রাদিলের সঙ্গে। আপাতত রাদিলের সঙ্গে সুখের এঙ্গেজমেন্ট হয়ে থাকুক। বড়দের আলোচনার মাঝে রাদিল অসহায় মতো নিশ্চুপ রইল। সে আগেই জানতো এমন কিছু একটা হবে। সুখ ছোট বলেই রাদিল সুখকে পছন্দ করার পরও সে কখনো প্রকাশ করতে চাচ্ছিল না, সুখের একটু বড় হওয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিল।
সৈয়দ পরিবারের শিক্ষার মূল্যায়ন খুব বেশি। এই বাড়ির প্রতিটা মানুষ উচ্চশিক্ষিত। এই বাড়ির বয়স্ক তিন বউরাও অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করা। সৈয়দ শাখ যুদ্ধের আগেই ব্রিটিশ আমলেরই ইন্টার পাস করা যুবক ছিল। উনার বউও ছিল তখনকার সময়ে মেট্রিক পাস করা নারী। বর্তমানে উনার ছেলে আর ছেলের বউরাও প্রতিটা মানুষ গ্র্যাজুয়েট। সালমা অনার্স কমপ্লিট করেও কখনো চাকরি-বাকরির কথা চিন্তা করেনি। শ্বশুরের সংসারে বউ হয়ে আসার পর শাশুড়িকে পেয়েছিল অসুস্থ। অসুস্থ শাশুড়ির সংসারের হাল ধরতে গিয়ে কখনো সংসারের বাইরে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারেনি সালমা। তবে সৈয়দ বাড়ির বাকি বউগুলোর হিসাব ভিন্ন। ফাতেমা, মুনিয়া সরকারি কলেজের টিচার ছিল। ফাতেমা নিজের ছেলেমেয়েদের পিছনে সময় দিতে গিয়ে বছর দশেক আগে নিজের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিল। তবে মুনিয়া আজও শিক্ষকতায় নিয়োজিত আছে ঢাকা ইডেন মহিলা কলেজে। সৈয়দ বাড়ির ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রেও তাই। ফাতেমার বড় মেয়ে আফিয়া অনার্স-মাস্টার্স কমপ্লিট করে এখন ল পড়ছে। পারিবারিকভাবেই এখন আফিয়ার বিয়ে দিবে সবাই। সুফিয়া অনার্স শেষ করার পথে। সেখানে সুখ বাড়ির সবার ছোট মেয়ে হয়ে তাকে মাত্র এসএসসি-র পর কিভাবে বিয়ে দিয়ে দিবে—বিষয়টা দৃষ্টিকটু ও অযাচিত হবে।
হীরা চৌধুরী আর রাদিল এক প্রকার বাধ্য হয়েই সবার কথা মেনে নেয়। কিন্তু সুখ এতে নারাজ। লজ্জার মাথা খেয়ে সুখ সরাসরি নিজের মা-চাচীকে বলে ফেলে ওকে রাদিলের সঙ্গে এই বছরই বিয়ে দিয়ে ফেলতে। রাদিল ডাক্তার, হীরা চৌধুরী এডভোকেট, সুখ ঐ বাড়িতে গেলে রাদিল নিজে সুখকে পড়াবে। বিয়ের পর সুখের পড়াশোনার ক্ষতি হবে না, রাদিল পাশে থাকবে। আজ দুপুরের দিকে সুখের সঙ্গে রাদিলের পারিবারিকভাবে এঙ্গেজমেন্ট করে সবাই যারযার মতো করে কাজে চলে যায়। রাদিল, হীরা চৌধুরীও সেদিন বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু সুখ বাপ-ভাই আর -চাচাদের অনুপস্থিতিতে মা-চাচীর সঙ্গে সরাসরিই রাদিলের সঙ্গে ওর বিয়ে দেওয়ার কথাটা বলতেই সালমা সৈয়দ ড্রয়িংরুমে সবার সামনে থাপ্পড় মারে সুখকে। তিনি ক্ষোভে বলে….
‘ একটা নটী জন্ম দিসি আমি। বড় হওয়ার আগেই বেডা চিনে গেছে। এই, তোর বিয়ের বয়স হয়েছে যে বিয়ে বিয়ে করিস? তোর বড় আরও দুই বোন আছে না? ওদের মুখে শুনেছিস কখনো বিয়ে বিয়ে করতে?
সুখকে থাপ্পড় মারতে ফাতেমা, মুনিয়া, নূরজাহান দ্রুত এগিয়ে এসে মাঝে বাধা দেয়। সুখ গাল ধরে কাঁদছে। নূরজাহান সালমাকে ধরেছে। মুনিয়া সুখকে বুকে জড়িয়ে সালমার প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলে…
‘ ভাবি, তুমি ওকে মারছো কেন? ও কি বুঝে? ছোট মানুষ, না বুঝে এসব বলছে, তাই বলে তুমি ওকে মারবে?
সালমা রাগে ক্ষোভে চেতে উঠে বলে..
.
‘ এই বেহায়ায় মেয়ে সবকিছু না বুঝলে মা-চাচীকে কিভাবে এসে বলে নিজের বিয়ের কথা? লজ্জা-শরম নাই? মানুষ এসব শুনলে কি বলবে? আমাদের মুখে থুথু ছিটাবে। ওর বড় আফিয়া, সুফিয়া আছে। ও কীভাবে বলে বড় বোনদের আগে ওকে বিয়ে দিতে? একটা নষ্ট পেটে ধরেছি আমি, আমার মান-সম্মান ডুবিয়ে মারছে।
ফাতেমা মাঝে সালমাকে বুঝিয়ে বলে…
‘ সুখকে না বুঝিয়ে মারলে কাজ হবে ভাবি? মেয়ের গায়ে হাত তোলা কি সমাধান? ভাইয়া শুনলে রাগ করবেন আপনার উপর।
‘ অসভ্য মেয়েরে আর কি বুঝাব আমি? ওর পছন্দ আমরা মেনে নিয়েছি না? বলেছি বিয়ে দিব, তারপরও কেন ও বারবার বিয়ের জন্য পাগল হবে? হীরা আপা, রাদিল ভালো ছেলে বলে ওকে মেনে নিয়েছে, নয়তো আমি জানি ও নিজেই রাদিলকে ফাঁসিয়েছে বিয়ে করতে, নয়তো রাদিলের মতো শান্ত-ভদ্র ছেলে ওর মতো বেয়াদব মেয়েকে পছন্দ করার ছেলে না। এখন ও যদি এত বিয়ে বিয়ে করে, তাহলে হীরা আপা আর রাদিলের চোখে ওর মান সম্মান থাকবে? কমে যাবে না?
সুখ ঝাড়া দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় মুনিয়ার থেকে। মায়ের কথায় সুখের মেজাজ খারাপ হচ্ছে। তার থেকে বেশি রাগ হচ্ছে রাদিলের উপর। সুখ পইপই করে বলে দিয়েছে রাদিল যেন সবাইকে বলে সে এখনই সুখকে বিয়ে করতে চায়। অথচ রাদিল সুখের কথা রাখেনি। বড়দের কথা মেনে নিয়ে সুখের উপর অন্যের ডিসিশন চাপিয়ে দিয়েছে। সুখ কি চাচ্ছে সেটা বুঝতে চাইছে না। সুখ মুনিয়ার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে রাগে কান্না করতে করতে বলে…
‘ তোমরা কেউ আমার মন বুঝো না। আমি ছোট বলে তোমাদের সবার ডিসিশন আমার উপর চাপিয়ে দাও। আমার ইচ্ছার কোনো দাম নেই। আমি থাকব না তোমাদের সাথে। আমার কাউকে প্রয়োজন নেই। তোমরা সবাই নিজেদেরটা বুঝো, স্বার্থপরের দল।
সুখ দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমের দিকে চলে যাচ্ছে। সালমা মেয়ের কথায় আরও রাগে-ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলে…
‘ দেখেছ? তোমরা সবাই দেখেছ? এই মেয়ে কতটা খারাপ হয়েছে? বাপ-মা-চাচা চাচীদের ও মানছে না। এই দিন দেখার জন্য আমি এত কান্নাকাটি করে আল্লাহর কাছ থেকে ওকে চেয়ে এনেছিলাম? সব দোষ আমার পেটের। কেন ওকে আমি জম্ম দিয়েছি।
মুনিয়া, ফাতেমা, নূরজাহান হতাশ চোখে সুখের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। নূরজাহান দ্রুত সালমাকে ডাইনিংয়ের একটা চেয়ারে বসালো। এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিল পান করতে। পাশ থেকে মুনিয়া সালমার কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দিতে দিতে বলে…
‘ আপনি শান্ত হোন ভাবি। সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা সুখের সাথে কথা বলব।
সালমাকে শান্ত হতে বললেও শান্ত হলো না। সুখের চিন্তায় তিনি কাঁদতে লাগল।
মেয়ের জন্য কান্নাকাটি করতে করতে ঘুমিয়েছে সালমা। নূরজাহান শাশুড়ীকে ঘরে শুইয়ে সুখের দরজায় নক করে ডাকে…
‘ সুখ, আসব?
‘ না।
‘ কেন?
‘ আমার মন ভালো নেই তাই।
সুখের পারমিশন ছাড়াই নূরজাহান হেঁসে সুখের ঘরে প্রবেশ করে। সুখ জানালার পাশে চেয়ার টেনে বসে। চোখে-মুখে অপার রাগ। নূরজাহান সুখের বিছানায় বসে বলে….
‘ মন ভালো নেই কেন?
‘ খেয়ালি করো না তো ভাবি। রাগ লাগছে।
নূরজাহান হাসি থামিয়ে সুখকে বোঝাতে চেয়ে বলে…
‘ সবাই তোমার ভালোর জন্যই বিয়েটা পিছিয়ে দিয়েছে সুখ। মা-বাবা কখনো সন্তানের ক্ষতি চায় না। আজ না হয় কাল সবাই তোমাকে রাদিল ভাইয়ার সঙ্গেই বিয়ে দিবে, তাহলে এখন কেন এত পাগলামি করছো সুখ?
ক্ষিপ্ত মেজাজের সুখ হঠাৎ কেঁদে ফেলে। এই একটা সমস্যা সুখের, অতিরিক্ত রাগ উঠলে সুখ কেঁদে ফেলে। সুখ কান্নাভেজা গলায় নূরজাহানের কাছে আকুতি স্বরে আবদার করে বলে…
‘ আমি জানি না ভাবি। আমি যখন ছোট থেকে বড় হচ্ছিলাম, তখন আমার চোখের সামনে শুধু রাদিল ভাইকে দেখেই বড় হয়েছি। ওরা আমাকে ছোট বলে, পড়াশোনার দোহাই দেয়, কিন্তু আমার মন মানে না সেসব। আমার শুধু এক জীবনে রাদিল ভাইকে চাই। রাদিল ভাই পাশে থাকলে আমি শুধু পড়াশোনায় না, পুরো দুনিয়াটা জয় করতে পারব। প্লিজ ভাবি, তুমি ভাইকে বোঝাও না, ওরা যেন আমাকে রাদিল ভাইয়ের সঙ্গে এই বছরই বিয়ে দিয়ে দেয়।
এক চঞ্চল কিশোরীর আকুতির আবদার নূরজাহান নীরব দৃষ্টিতে দেখে। ভালোবাসা বুঝি এমনই হয়। অবুঝ, ব্যাকুল, ছটফট আর এক বুক আকাঙ্ক্ষার। এই সুখ রাদিলকে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল, মরিয়া হয়ে উঠেছে; যার জন্য সমাজ, পরিস্থিতি, পরিবার কারও পরোয়া করছে না। শুধু ভাবছে তার ভালোবাসার মানুষকে নিজের করে পাওয়ার কথা। ভালোবাসা সত্যিই অবুঝ। কোনো বাধা মানে না।
মারিদ ঘরে ঢুকতে নূরজাহানকে দেখতে পেল পিঠে বালিশ ঠেকিয়ে চোখের উপর হাত ফেলে ঘুমিয়ে আছে। শাড়ির আঁচল উদর থেকে সরে কিছুটা কোমর বেরিয়ে আছে। মারিদ সেদিকে এগিয়ে যায়। খানিকটা ঝুঁকে শক্ত করে মুচড়ে ধরে নূরজাহানের ফর্সা মসৃণ কোমরের চামড়া। মারিদের চিমটি কাটায় নূরজাহান ঘুম থেকে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে। মারিদকে দেখে শাড়ির আঁচল টেনে কোমর ঢাকে। হতবুদ্ধি হয়ে বলে…
‘ আপনি?
মারিদ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নূরজাহানের দিকে তাকিয়ে বলে..
‘ আমার বউ, আমার ঘরে তো আমিই আসব তাই না? নাকি অন্য কাউকে আশা করেছিলে?
মারিদের কথায় নূরজাহান থমথমে খেয়ে যায়, লজ্জায়-অস্বস্তিতে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলে…
‘ আপনি খালি ফালতু কথা বলেন। ফোনে কথা বলার সময় তো এত দুষ্ট ছিলেন না।
মারিদ ভ্রু কুঁচকে পাল্টা প্রশ্ন করে বলে..
‘ তখন কি তুমি আমার বউ ছিলে?
‘ বউ না হলেই কি? ফোনে আপনি কত ভালো করে কথা বলতেন। আমি ভাবতাম ছেলেটা কত ভালো আর সহজ-সরল, রাগ করতে জানে না, মারামারি করতে জানে না। সবসময় মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে। অথচ বাস্তবে আপনি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বদমেজাজী আর ঘ্যাঁওড়া স্বভাবের লোক। মারামারিতেও ওস্তাদ। বউয়ের সাথে কীভাবে মিষ্টি কথা বলতে হয় তাও জানেন না। আপনি ফোনে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে রীতিমতো আমাকে ঠকিয়েছেন।
নূরজাহানের কথায় মারিদও টেক্কা দিয়ে বলে…
‘ ওহ আচ্ছা তাই? আর তুমি বুঝি আমাকে জিতিয়ে দিয়েছো, না? তুমি যে আমাকে অগণিত ঠকিয়েছ তার হিসাব কে দিবে? ফোনে যে তুমি আমাকে বলেছিলে তুমি কালো-মোটা মেয়ে হবে? বাস্তবে আমি তার মিল পেয়েছি? আমি কি সুন্দরী বউ চেয়েছিলাম? কত কল্পনা-জল্পনা করলাম কালো-মোটা বউকে জড়িয়ে ঘুমাচ্ছি, কত আরাম? অথচ বাস্তবে পেলাম সুন্দরী পাটকাঠি বউ। আমার মোটা বউয়ের জায়গায় শুকনা বউ ধরিয়ে দিয়ে রীতিমতো তুমি আমায় ঠকিয়েছ। তারপর ফোনে যে বলতে তোমার সঙ্গে থাকলে আমি কখনো বোর হবো না, অথচ বাস্তবে তার কিছুই পেলাম না। বোম মারলেও দুটো প্রেমের আলাপ মুখ থেকে বের হয়না। স্বামীর সোহাগ বুঝো না। রোমান্স বুঝো না। স্বামীর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে নিজেই ঘুমিয়ে পড়ো, আরও নানা কিসসা-কাহিনি আছে।
মারিদের কথায় নূরজাহান হতাশ হয়। মারিদ যে বাস্তবে এত নাটকীয় আর দুষ্টু হবে, সেটা নূরজাহান ফোনে ধারণা করতে পারেনি। নূরজাহান হার মেনে হতাশায় বলে…
‘ আপনি এত নাটকীয় আর দুষ্টু হবেন আমি ভাবিনি। আমি শান্তশিষ্ট ভদ্রলোক টাইপ স্বামী চেয়েছিলাম জীবনে। আপনি আমায় এখানেও ঠকিয়েছেন ব্যবসায়ী সাহেব।
‘ আমিও জীবনে অনেক রোমান্টিক বউ চেয়েছিলাম। কিন্তু তুমি দুনিয়ার নিরামিষ হয়ে আমাকেও এখানে ঠকিয়েছ।
নূরজাহান আর তর্কে জড়াতে চাইলো না। দেখা যাবে নূরজাহানের সাথে কথায় জিততে গিয়ে মারিদ বেফাঁস কথা বলে ফেললে তখন নূরজাহানই লজ্জায় পড়ে যাবে। নূরজাহান উদাস চোখে মারিদের দিকে তাকিয়ে বলে…
‘ আচ্ছা আপনি জিতেছেন, আর আমি হেরেছি। এবার খুশি? সরুন তো।
নূরজাহান মারিদকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইলে মারিদ ঠাস করে নূরজাহানের বাহু টেনে কাছে আনে। রোজকার মতো আজও নূরজাহানের ফোলা গালে কামড়ে ধরে। বেশি ব্যথা পায় না নূরজাহান, তবে মারিদের উপর খানিকটা রেগে যায়। রোজ রোজ মারিদ নূরজাহানের গালে কামড় দেয়, যার জন্য সকালে বাড়ির মানুষদের সামনে নূরজাহানকে রোজ লজ্জায় পড়তে হয়। গালে কামড়ের একটা দাগ সবসময় পড়ে থাকে, সেজন্য নূরজাহান লজ্জায় কাউকে সকালে মুখ দেখাতে পারে না। শাশুড়ি চাচীরা, বড়রা সবাই আছেন, ওনারা নূরজাহানের গালের দাগটা বুঝেও না বোঝার মতো করে ইগনোর করলেও আফিয়া, সুফিয়া কিংবা রাদ, রাতুলের থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। রাদ, রাতুল তো বুঝে না, সেজন্য প্রায় খাবার টেবিলে সবার সামনে প্রশ্ন করবে, “সুন্দর ভাবি, তোমার গালে কিসের দাগ? কি হয়েছে ঐখানে? দাগ কেন?” আরও নানান হাবিজাবির প্রশ্ন। লজ্জায় নূরজাহান তখন আঁচল দিয়ে গাল ঢেকে রাখতে হয় উত্তর দিতে পারে না। নূরজাহান মারিদকে দু’হাতে ঠেলে খানিকটা রাগ প্রকাশ করে বলে…
‘ আল্লাহ ওয়াস্তে এবার আমার গাল দুটো ছেড়ে দিন। আপনার জন্য আমি কাউকে মুখ দেখাতে পারি না। সবাই হাসাহাসি করে।
মারিদ নূরজাহানের কথা উপেক্ষা করে দু’হাত দিয়ে নূরজাহানের কাঁধ জড়িয়ে বলে…
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৪৬
‘ তুমি যে আমাকে এত ঠকিয়েছ আমি কিছু বলেছি? তোমার ঐ গাল দুটোই, যেখানে আমি জিতে গেছি। তাই গালে এমন একটু-আধটু দাগ হলেও আমাকে দোষ দিও না তো বউ। অনেক কষ্ট করে একটা বউ জোগাড় করেছি, বউকে একটুখানি আদর করতে না পারলে মন পোষাবে না।
