Home ডাক্টার ইশতিহার ডাক্টার ইশতিহার পর্ব ১২

ডাক্টার ইশতিহার পর্ব ১২

ডাক্টার ইশতিহার পর্ব ১২
অনামিকা আহমেদ

রুপম কিছুটা সংকোচ ভরে রুমে প্রবেশ করে। দরজার ওপাশে অরুণা আর আমরিন কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রুপমের কুঁচকে যাওয়া কপাল শিথিল হয়। স্বভাবসুলভ চঞ্চল চোখে একবার অরুণা আর আমরিন কে আপাদমস্তক পরখ করে সে কিঞ্চিৎ হাসি মেশানো কন্ঠে বলে উঠে,
” সত্যিই দেখছি আপনারা আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। তা মতলব টা কি আপনাদের?”
আমরিন তার শখের কাঠের রকিং চেয়ারে বসে ছিল। রুপমের কথা কানে এলে তিনি তৎক্ষণাৎ কুটিল হেসে বলেন,

” মতলব বলছ কেনো? এমনিতেও তো ডেকে পাঠাতে পারি।”
” আমার সাথে আপনার তেমন কোনো দরকার থাকতে পারে বলে আমি মনে করিনা আরমিন আন্টি। কি জন্য ডেকেছেন সেটা ঝেড়ে কাশুন। আমার অনেক কাজ আছে।”
এতক্ষণ আরমিন বসে থাকলেও এবার সে উঠে দাঁড়ায়। তার পাশে ফোন ঘাঁটতে থাকা অরুণার মাথায় হাত রেখে বলে,
” দেখো রুপম, তোমার সাথে না আছে আমার সখ্যতা, না আছে শত্রুতা। তবে আমরা যদি হাত মেলাই তবে তুমি আমরা সবাই লাভবান হবো।”
রুপম ছোট একটা শ্বাস ছেড়ে বুকে হাত গুঁজে আমরিনের দিকে কুঞ্চিত চোখে তাকায়। বলে,
” আপনার সাথে হাত মেলালে আমার লাভ? সেটা কিভাবে?”

” দেখো, আমার মেয়ে অরুণা। আমি চাই ও এই বাড়ির মালকিন হোক। কিন্তু এই হত*ভাগির কপাল, এমন রূপ নিয়ে জন্মেছে যে কেও একে নিজে থেকে ছেলের বউ করে ঘরে তুলবে না। বিয়ের পর থেকে কত ফন্দিই না আটলাম যাতে করে এই মির্জা বংশের সব সম্পত্তি আমার নামে হয়। কিন্তু এ বংশের ছেলেগুলো সব হারা*মী। বিছানায় নিয়ে শরীর ভো*গ করেছে ঠিকই কিন্তু সম্পত্তি লিখে দেওয়ার বেলায় সব সাধু পুরুষ হয়ে যায়। এই মেয়েটা কে চেয়েছিলাম ইশতিহার এর গলায় ঝুলিয়ে বাড়ির বড় বউ করবো, কিন্তু ওই রূপ টা এখানেও আমার পাকা ধানে মই দিয়েছে। সে যাক, আমরা চাই সম্পত্তি আর তুমি চাও রূপ কে। আমরা যদি কোনোভাবে ইশতিহার এর রূপের সম্পর্কে চির ধরাতে পারি তবে তুমিও তোমার কাঙ্ক্ষিত জিনিস পাবে আর আমরা আমাদের। বলো তুমি কি রাজি?”
রুপম কোনো কথা না বলে পূর্বের ভঙ্গিতেই দাঁড়িয়ে থাকে। আমরিন বুঝতে পারে সে বর্তমানে গভীর চিন্তায় লিপ্ত। সুযোগ যাতে ফসকে না যায় তার জন্য আমরিন কয়েক কদম এগিয়ে এসে রুপম কে বলে,
” তুমি চিন্তা করো না তোমার রূপের কোনো ক্ষতি হবে না। আর রইলো বাকি ওর পেটের বাচ্চা, সেটা তুমি চাইলে রাখবে আর না চাইলে রাখবে না। আমরা সেসবে হস্তক্ষেপ করবো না।”

” আমি রাজি।”
রুপমের মুখ থেকে নিঃসৃত দুটো শব্দ যেনো আমরিন এর হাতে চাঁদ এনে দেয়। মুহুর্তের তার মুখ থেকে শুভ্রতার আলো ছড়াতে থাকে। চোখ দুটো চিকচিক করে উঠে তার। সে দ্রুত রুপমের হাত দুটো ধরে বলে,
” সত্যি বলছ বাবা, তুমি আমাদের সাথে থাকবে?”
” হুম, তবে রূপের গায়ে যেনো একটাও আঁচ না লাগে।যদি লাগে তবে -”
” কোনো ক্ষতি হবে না আমি কথা দিচ্ছি।”
ঠিক সেই সময় নিচ থেকে সুলেখার গলা শোনা যায়। সে আমরিন এর নাম ধরে ডাকতে ডাকতে উপরে উঠতে থাকে। সুলেখার কাছে ধরা পড়বার ভয় আমরিন চটজলদি রুম থেকে বের হয়ে যায়। তবে যাবার আগে রুপমের দিকে তাকিয়ে পুনরায় কুটিল হাসি হেসে বলে,
” দেখো আবার বিশ্বাসঘাতকতা করো না যেনো, তবে কিন্তু রূপ কে পাওয়া তো দূরের কথা কোনোদিন ও আর চোখেও দেখতে পাবে না।”

এই বলে আমরিন ঘরের বাইরে পা বাড়ায়। এদিকে পুরোটা সময় ফোনে ডুবে থাকলেও মা চলে যেতেই অরুণা রুপমের একেবারে কাছে চলে আসে। রুপম পাশ ফিরে তাকাতেই নিজের এতটা কাছে অরুণা কে দেখে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে দু হাত দিয়ে ঠেলে অরুণা কে দূরে সরিয়ে দেয়। অরুণা এতে কিছুটা রাগান্বিত হয়, ক্ষিপ্ত গতিতে আবারো রুপম কে জড়িয়ে ধরে তার শরীরের পুরুষালি ঘ্রাণ নিতে থাকে। তার কর্মকাণ্ডে স্পষ্ট হয়ে উঠে যে সে দীর্ঘদিন পুরুষের সঙ্গ থেকে বঞ্চিত ছিল।
হঠাৎই অরুণা নেশালো কন্ঠে বলে উঠে,
” কাছে আসতে চাইছি তাও দূরে ঠেলে দিচ্ছ। পা*ষাণ একটা, বুঝো না তোমাকে আমার কত দরকার। I badly in need of your touch.”
রুপম কিঞ্চিৎ তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে নিজের থেকে অরুণা কে ছড়িয়ে নিয়ে এক ধাক্কায় তাকে বিছানায় ফেলে দেয়।

” মায়ের মতোই বে*শ্যা হয়েছিস দেখছি। একারণেই ইশতিহার তোকে নিজের কাছেই ঘেঁষতে দিত না। বয়স কম হলে কি হবে ন*টিগিরি ভালই পারিস তুই।”
” আমি বে*শ্যা, আর রূপ খুবই ভালো তাই না? গোপনে বিয়ে করে আবার পেট ও বাঁধিয়ে ফেলেছে। আমার তো মনে হয় ওদের এখনও বিয়েই হয়নি, সবই সাজানো গল্প।”
রূপের চরিত্রের নামে বাজে মন্তব্য শুনতেই রুপমের মাথায় র*ক্ত উঠে যায়। রাগে কিড়মিড় করতে করতে রুপম একটু ঝুঁকে অরুণার চোয়াল চেপে ধরে বলে,
” রূপের নামে আর একটা বাজে কথা যদি বলেছিস তবে তোর জিহ্বা আমি টেনে ছিঁড়ে ফেলব। তোর কোনো যোগ্যতা আছে রূপের নামে কথা বলার। তোর বাইরেটা যেমন কালী, ভেতরটাও তেমন কালী।”
এই বলে রুপম অরুণা কে ছেড়ে দিয়ে হনহন করে রুম থেকে বের হয়ে যায়। অরুণা রুপমের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে বলে,
” তোর কপালে আর যেই থাকুক কখনও রূপ থাকবে না। এটা আমিই নিশ্চিত করব রুপম।”

জানালার পর্দা গলে সকালের রোদ চোখের পড়লে রূপের ঘুম হালকা হয়ে আসে। পিট পিট করে চোখ খুলতেই সামনে ইশতিহার এর ঘুমন্ত মুখখানা দেখতেই রূপের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠে। সে একটু উঠা বসার চেষ্টা করে তবে ইশতিহার শক্ত করে তাকে জড়িয়ে ধরায় আবারও তাকে পতিত হতে হয় ইশতিহার এর বুকের ওপর। রূপের চোখের কার্নিশে নোনাজল এসে জমা হতে থাকে, সে ঠিক জানতো দুনিয়া উল্টিয়ে গেলেও ইশতিহার তাকে ছাড়া এক মুহূর্তের জন্য ও থাকতে পারবে না। এতটুকু বিশ্বাস রূপের নিজের ভালবাসার ওপর ছিল।
রূপ তার স্থির হাসিমাখা চোখে ইশতিহার এর মুখখানা দেখতে থাকে। একসময় তাকে অবাক করে দিয়ে ইশতিহার এক চোখ খুলে বলে,

” এভাবে তাকিয়ে থাকিস না রূপ। তোর ওই দৃষ্টিতে যে কতবার ঘায়েল হয়েছি তার হিসাব নেই। তাই আরেকবার ঘায়েল হলে নির্ঘাত মারা পড়বো।”
কথাগুলো শেষ হতেই রূপ আলতো করে নিজের আঙুল টা ইশতিহার এর ঠোঁটের ওপর চেপে ধরে। তারপর ইশতিহার এর কানে ফিসফিসিয়ে বলে,
” এমনটা বলতে নেই। নিজের মৃত্যুকাম*না করলে পাপ হয়, জানেন না?”
” আমি তো নাহয় নিজের টা করছি। তুই তো জেনেবুঝে আমাকে মারতে চেয়েছিলি। তোকে ছাড়া যে আমি বাঁচব না তুই সেটা জানিস, তবুও নিজের জেদ বজায় রাখতে আমাকে ব*লি দিতে তোর বাঁধল না।”
রূপ এবার আলতো করে ইশতিহার এর চুল ছুঁয়ে দেয়। তারপর মিনমিনে কন্ঠে বলে,
” আমি জানি তো আপনি আমায় নিতে আসবেন। কিছু কিছু সময় যে স্বামী স্ত্রীর দূরে থাকাটা জরুরি এতে মহব্বত বারে।”
ইশতিহার রূপের হাতটা নিজের বুকের বা পাশে চেপে ধরে বলে,

“কিন্তু তাতে যে এখানটায় অনেক কষ্ট হয়।”
” তাহলে শাস্তি দিন, আপনাকে যখন কষ্ট দিয়েছি তখন শাস্তি ও নিশ্চয়ই আমার প্রাপ্য।”
ইশতিহার হেসে ফেলে। রূপ কে তাকে খোটা দিয়ে কথাটা বলেছে সেটা সে ভালই বুঝতে পারছে। অতি যত্নে রূপের কপালে আর গালে আদরের পরশ দিতে দিতে ইশতিহার বলে,
” আমি নিজেই তো এক শাস্তি স্বরূপ। তোর কপালে এসে জুটেছি। আমি থাকতে এসব নগণ্য শাস্তিতে আর কি হবে। আমিই তো তোর জীবন টা ন*রকে পরিণত করছি।
এই বলে ইশতিহার এর স্পর্শ ধীরে ধীরে রূপের গলা বিয়ে নিচে নামতে থাকে। ইশতিহার রূপের তলপেটের কাছে মাথাটা নামিয়ে কাপড় সরিয়ে তাকে চুমু খেয়ে নিজের মুখ ঘষতে থাকে। গভীর সে স্পর্শে রূপের শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল অনুভূতি খেলা করছে, সে শক্ত করে ইশতিহার এর চুল মুঠ করে চেপে ধরে। ইশতিহার তার স্পর্শের পরিমাণ আর গভীরতা আরও বাড়িয়ে দেয়। দুই মানব মানবীর শরীরে যেনো হৃদস্পন্দন মারা*ত্মক এক খেলায় নেমেছে। বারবার তাদের ইচ্ছা জাগছে জাগতিক সবকিছু ভুলে মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতে। ঠিক এসময় রূপ ফিসফিসিয়ে বলে উঠে,

” ইশতিহার এখন না, পরে। আমার খুব খিদে পেয়েছে।”
ইশতিহার ততক্ষণে রূপের কুচিগুলো ঢিলে করে ফেলেছিল। রূপের কথা কানে আসতেই তার ঘোর কেটে যায়। সে উপরে উঠে রূপের চোখে চোখে রেখে ঠোঁট কামড়ে বলে,
” আমার ও পেয়েছে। কিন্তু তুই মিটাতে দিচ্ছিস কই?”
” মজা করবেন না, আমার সত্যি খিদে পেয়েছে। কাল সারারাত আপনার চিন্তায় খাওয়া হয়ে উঠে নি।”

ডাক্টার ইশতিহার পর্ব ১১

এই বলে রূপ বিছানায় উঠে বসে। অগোছালো কাপড়টা ঠিকঠাক করে চুল গুলো খোপা করতে করতে সে উঠে দাঁড়ায়। ইশতিহার ও উঠে বসে বাচ্চাদের মত মুখে হাত গুঁজে কাদো কাদো গলায় বলে উঠে,
” ভাগ্য করে এক বউ পেয়েছিলাম। একটু কাছে আসতে চাইলেই খালি তাড়িয়ে দেয়। যেনো আমি এক পরপুরুষ, তার ইজ্জত লুটতে এসেছি। আমার গীবন ( জীবন কে বিকৃত করে) টাই বদনাময়।

ডাক্টার ইশতিহার পর্ব ১৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here