Home তাকদিরে তুমি তাকদিরে তুমি পর্ব ১৫

তাকদিরে তুমি পর্ব ১৫

তাকদিরে তুমি পর্ব ১৫
মোনালিসা মেহরোজ

বাড়িতে ফিরে ফাতিহাকে রেখে আসিফ ফের বেড়িয়েছে বাহিরে। কোথায় গেছে কেনো গেছে তা কেউ জানে না। অন্যদিকে ফাতিহার মনে জমেছে বড্ড অভিমান। আসিফ যে তার সাথে এটা করবে তা সে ভাবতেও পারেনি। আসিফ কেনো এটা করলো তা সে জানে না। শুধুমাত্র তাকে মেনে নিতে পারেনা বলেই কি তার সাথে এরকম একটা কাজ করবে? তাকে একলা ছেড়ে দিবে সেই অচেনা জায়গায়?

কিন্তু এটা করে কি হলো? শেষ মুহূর্তে তো আবার ঠিকই ফিরে গেলো পুরুষটি। আসলে কি করতে চাইছে সে? ফাতিহা খুঁজে পেলো না এর উত্তর।
রমণী বসে আছে ঘরের বারান্দায়। রাত গভীর। আসিফ নেই বাড়িতে, সায়না মির্জা ও আযান মির্জা তাদের খালি হাতে ফিরতে দেখে প্রশ্ন করেছিলেন, তবে আসিফ কোন কথা না বলে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে ফাতিহা শুধু মলিন হাসি ছুঁড়ে নিজের ঘরে চলে এসেছে। হাতে তসবিহ, মাঝেমধ্যে ঠোঁট নাড়িয়ে তা পাঠ করছে। আবার কখনো কখনো গভীর ভাবনায় ডুবে যাচ্ছে। সাথে ভাবছে অচেনা পুরুষের সেই ছোঁয়া। ফাতিহা চোখ বন্ধ করে নিলো। বাহিরের হিমেল হাওয়া ছুঁয়ে গেলো গাত্র। বাহিরে তখন বৃষ্টি হচ্ছে, খুব জোড়ে নয়। একদম ছোট্ট ছোট পানির কণা ঝড়ছে ধরনীতে। বাগানের ফুলগুলো তখন বৃষ্টিবিলাসে ব্যস্ত।

ফাতিহা বেলকনিতে মাথা এলিয়ে দিলো। পানির ঝাপটা তার মুখে এসে আছড়ে পরলো। রাত ঠিক ক’টা তার হিসেব জানা নেই। আকাশে কালো মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াচ্ছে। গাছপালা দুলছে মৃদু হাওয়ায়। তখনি ফাতিহা অনুভব করলো ঘরে কারো উপস্থিতি। ওয়াশরুমের দরজা খোলার আওয়াজ হলো। ফাতিহা উঠলো না। ঠাঁই বসে রইলো সেথায়।
নিস্প্রভ দৃষ্টিতে দূর আকাশে চেয়ে রইলো রমণী। মিনিট পনেরো পর আসিফ ভেজা চুলে এসে থামলো ফাতিহার পিছনে। দূরত্ব অনেক, ফাতিহা বেলকনিতে। আর আসিফ বেলকনির দরজার সামনে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে। কেউ কোন কথা বললো না। নিঃশব্দে একে অপরের মনের ভাব আদান প্রদান করলো বোধহয়!

বেশ খানিকটা সময় পর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে আসিফ। তোয়ালে মেলে আবারো দাঁড়িয়ে উসখুস করতে থাকে। মনের মধ্যে তার যুদ্ধ চলছে। কিছু বলবে কি বলবে না সেই দ্বিধায় ভুগছে যুবক। আগ বাড়িয়ে কথা বলতেও কেমন দ্বিধা কাজ করছে। সাথে বেশ বিরক্ত অনুভব করছে নিজের মধ্যে। আশ্চর্য হচ্ছে পুরুষটি। সে কেনো আগ বাড়িয়ে কথা বলার চেষ্টা করছে? কেনো নিজে থেকে কারো সাথে কথা বলার জন্য উতলা হয়ে উঠছে?
উত্তর পায়না যুবক। কেবল মনের দ্বিধা কাটিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করে। এবং শেষমেশ হুট করেই মুখ ফসকে বলে ফেলে—-

—স…সরি।
আসিফের মুখে সরি শব্দটায় ভ্রু কুঁচকায় ফাতিহা। ফেরে না সামনের দিকে। কেবল অবাক নেত্রে তাকিয়ে রয় দূরে কাঁচা রাস্তার পানে।
—আমি সত্যিই এট…
—ইচ্ছে করে করেননি বলছেন?
হুট করেই প্রশ্ন করে বসে রমণী। আসিফ কেমন থতমত খেলো। কথা গলায় আঁটকে গেলো। ফাতিহা কেমন তীব্র আত্নবিশ্বাসীর ঝাঁঝ নিয়ে কথা বলে সবসময়। যা আসিফকে মুহূর্তেই দমিয়ে ফেলে।
ফাতিহা মলিন হাসে আসিফের নিস্তব্ধতায়। ফের সুধায়—-
—যাওয়া পর্যন্ত, ওখানে রেখে কথা বলার নাম করে দু’ঘন্টা পাড় করা। সবকিছু কি অনিচ্ছাকৃত ছিলো?

আসিফ হাতের মুঠোই শক্ত করে মাথা নুইয়ে নিলো। লাল হয়ে উঠলো চোখমুখ। সে সত্যিই ফাতিহাকে শিক্ষা দিতে চেয়েছিলো, এখনো চায়। তার উপর কেউ অধিকার ফলাক, কেউ নিজের মতো করে তাকে চালাক বা তাকে চালানোর চেষ্টা করুক তা আসিফ মেনে নিবে না। আর ফাতিহা তো তাই করতে চাইছে। ফাতিহা তাকে হাতের মুঠোই নিতে চাইছে। চাইছে এই সম্পর্কটাকে টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু আসিফ?
সে তো চায়না! সে চায়না ফাতিহাকে। সে চায়না কোন নিয়মের বেড়াজালে বাঁধতে নিজেকে। তাহলে ফাতিহা তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে কেনো আসিফকে নিজের শত্রু বানাচ্ছে? কেনো?
আসিফ চোখজোড়া বন্ধ করে নিলো৷

—আপনি সবটা ইচ্ছে করে করেছেন। সবটা। আর এতোকিছুর পরেও আমি আপনাকে ক্ষমা করলাম। কেনো জানেন?
আসিফ কথা বলে না। ফাতিহা আকাশের পানে চেয়ে হাসে। মলিন স্বরে বলে—-
—ক্ষমা একজন মানুষের শ্রেষ্ঠ গুন। নবিজীর সুন্নত এটা। আপনি আমার স্বামী, আপনার বিরুদ্ধে আমি আমার মনে কোন অভিযোগ পুষিয়ে রাখতে চাই না। তাই ক্ষমা করলাম।
ফাতিহা ফের মাথা এলিয়ে দিলো বেলকনিতে। আর আসিফ পাথরের ন্যায় মাথা নুইয়ে অপরাধী ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইলো। গলা দিয়ে তার কোন শব্দ বের হলো না। মনে হলো তার কন্ঠ কেউ রোধ করেছে। গলা টি*পে হ*ত্যা করেছে তার স্বর।

পরেরদিন বিকেলে মির্জা বাড়ির মূল ফটক পেরিয়ে পর পর দু’টি গাড়ি রওয়ানা হলো গ্রামের উদ্দেশ্য। সায়না মির্জার বাবার বাড়ি প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি গ্রামে। যাওয়া-আসা হয়না বহুদিন। আজ অনেক বছর বাদে একমাত্র ভাই সাহেলের ছোট্ট মেয়ে নাজিয়ার বিয়ে উপলক্ষে তারা সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য পা বাড়িয়েছেন।
সায়না মির্জা গাড়ির জানালা ভেদ করে বাহিরের দিকে তাকালেন। পেছনের গাড়িতে আসিফ-ফাতিহা, আর সামনের গাড়িতে তারা বসে আছেন। সায়না মির্জার মনটা আজ বেশ ভালো। সকাল থেকেই নানান আয়োজনে ব্যস্ত ছিলেন তিনি, ফুরফুরে মেজাজে করেছেন সকল কাজ। আযান মির্জা স্ত্রীর মৃদু চঞ্চলতায় মুগ্ধ হন। খুব কম বয়সে সায়না মির্জাকে ঘরে তোলেন তিনি৷ তার বয়সের তুলনায় স্ত্রী বড্ড ছোট্ট। তবুও কি করে জানি ছোট্ট মেয়েটাই তার ঘরের পাক্কা গিন্নি হয়ে উঠলো। বারো বছর পর আসিফ জন্মালো, আর আজ সেই ছেলেরও সংসার হয়েছে। স্ত্রী হয়েছে। তারও বয়স হয়েছে, বয়স হয়েছে স্ত্রী’রও।আযান মির্জা স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই মৃদু হাসেন।

অন্যদিকে পিছনের গাড়িতে তখন পিনপতন নীরবতায় ভরপুর। কাল রাত থেকে আসিফ-ফাতিহার মধ্যে কথা হয়নি তেমন। আসার আগে নিঃশব্দে ফাতিহা আসিফের প্রয়োজনীয় সকল জিনিস ব্যাগে পুরে দিয়েছে। অন্যদিকে আসিফও নিঃশব্দে অবলোকন করে চলেছে স্ত্রীকে। কাল রাতের পর থেকে মনটা তার কেনে যেনো বড্ড ভার। নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করলেও কোথাও একটা গিয়ে আবারো থেমে যাচ্ছে যুবক। নিজের উপর নিজেই বিরক্ত হচ্ছে মাঝেমধ্যে।
ফাতিহা ব্যাকসিটে নিঃশব্দে বসে আছে। মাথা বের করে দিয়েছে বাহিরে। ধানী জমিগুলো ভরে উঠেছে ধানে। বিকেলে মৃদু হাওয়ায় কি সুন্দর দোল খেয়ে যাচ্ছে ধানের কুঁড়ি। গ্রামের কাঁচা রাস্তায় গাড়ি ঢুকতেই বেশ অসুবিধেই পরতে হয় তাদের। গৃহপালিত পশুপাখিদের জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়া হয়ে পরে মুশকিল। বিরক্ত আসিফ এবার আরো রেগে যায়। বেশ কয়েকবার হর্ণ বাজালেও অবলা প্রাণীগুলো তাকিয়ে দেখে আবারো নিজেদের কাজে মনোযোগ দেয়। অন্যদিকে ফাতিহা শুধু মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে দেখে প্রাণীগুলোকে।

দীর্ঘ তিন ঘণ্টার জার্নি শেষে অবশেষে মির্জা পরিবার এসে উপস্থিত হলো সায়না মির্জার বাপের বাড়ি—শেখ মহলে। গ্রামের বাড়ি হলেও কোনো দিক দিয়ে কম নয় সেটি। বিশাল লোহার তৈরি কারুকার্যময় গেটের উপর বড় অক্ষরে লেখা—”শেখ মহল”। গেট পেরোতেই দু’পাশজুড়ে সারি সারি আম, কাঁঠাল, লিচু আর নারকেল গাছ। মাঝখান দিয়ে লাল ইট বিছানো সরু রাস্তা সোজা গিয়ে মিশেছে বাড়ির মূল অংশে।

দোতলাবিশিষ্ট বিশাল বাড়িটা যেন পুরোনো দিনের আভিজাত্য বুকে নিয়ে এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। চারদিকে প্রশস্ত বারান্দা, সাদা রঙের দেয়ালে হালকা নীলের কারুকাজ, আর উঠোনের একপাশে রঙিন ফুলে ভরা বাগান। গাঁদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা, হাসনাহেনা—সুবাসে যেন পুরো পরিবেশটাই মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে। সামনের বিশাল উঠোনজুড়ে বিয়ের প্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে। চারিদিকে কর্মব্যস্ত মানুষের আনাগোনায় পুরো শেখ মহল উৎসবের আমেজে মুখরিত।
গাড়ির শব্দ শুনেই বাড়ির ভেতর থেকে একে একে সবাই বেরিয়ে এলো। সবার আগে দ্রুত পায়ে এগিয়ে এলেন সায়না মির্জার একমাত্র ছোট ভাই সাহেল শেখ। বয়স পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই হলেও মুখজুড়ে এখনো সেই আন্তরিক হাসিটা অটুট। বোনকে দেখেই মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো তার।

—আরে আপা! অবশেষে এলে!
কথাটা বলেই এগিয়ে এসে বোনকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। সায়না মির্জার চোখেও আনন্দের ঝিলিক ফুটে উঠলো।
—কেমন আছিস সাহেল?
—ভালোই ছিলাম৷ এখন তো আরও ভালো আছি। এতদিন পর সবাই একসঙ্গে এলে।
তাদের কথার মাঝখানেই সেখানে এগিয়ে এলেন সাহেলের স্ত্রী ইফতিয়া শেখ। শান্ত, মার্জিত চেহারার নারী। মুখভরা মিষ্টি হাসি নিয়ে মাথায় ঘোমটা টানলেন। সায়না মির্জাকে সালাম করে জড়িয়ে ধরলেন।

—আসসালামু আলাইকুম আপা। কতদিন পর আপনাদের দেখছি!
—ওয়ালাইকুমুস সালাম। ভালো আছো তো ইফতিয়া?
—আলহামদুলিল্লাহ। চলুন, সবাই ভেতরে আসুন।
ঠিক তখনই লাজুক মুখে সবার পেছন থেকে বেরিয়ে এলো বিয়ের কনে নাজিয়া। হালকা হলুদ রঙের সুতির থ্রি-পিস পরা, মাথায় ওড়না। মুখে কোনো সাজ নেই বললেই চলে। তবুও বয়সের তারুণ্য ও লাজুক হাসিতে মেয়েটাকে কি অপূর্ব লাগছে। হাতে মেহেদির হালকা রঙও ফুটে উঠেছে। ফুপিকে দেখেই দৌড়ে গিয়ে সালাম করলো সেই রমণী।

—আসসালামু আলাইকুম, মনি।
সায়না মির্জা স্নেহভরে মাথায় হাত রাখলেন।
—ওয়ালাইকুমুস সালাম। আল্লাহ তোকে সবসময় সুখে রাখুক মা।
এরপর আযান মির্জাকে সালাম দিয়ে আন্তরিক হাসি ছুঁড়লো মেয়েটা। এতক্ষণে সাহেলের দৃষ্টি গিয়ে থামলো পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা আসিফ আর ফাতিহার উপর। মুচকি হেসে এগিয়ে এসে বললেন—
—এই তো আমাদের নতুন বউমা! এসো মা।
আসিফ মামাকে সালাম করলো। ফাতিহা মাথা নিচু করে সালাম করতেই সাহেল শেখ স্নেহভরে দোয়া করলেন।

—আল্লাহ তোমাদের দু’জনের সংসারে বরকত দান করুন।
ফাতিহা মৃদু হাসলো। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা নাজিয়া কৌতূহলী চোখে নতুন ভাবির দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর হঠাৎ করেই এগিয়ে এসে ফাতিহার হাত জড়িয়ে ধরে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বললো—
—ভাবি, আপনি কিন্তু আজ থেকেই আমার। আপনাকে আমি কোথাও ছাড়ছি না বিয়ের আগ অবদি।
নাজিয়ার শিশুসুলভ কথায় চারপাশে হাসির রোল পড়ে গেলো। আসিফ চোরা চোখে একবার চাইলো ফাতিহার পানে। অতঃপর নিঃশব্দে বাড়ির দিকে এগিয়ে গেলো৷ বাড়ির বড়রা’ও গল্প-গুজব করতে করতে বসার ঘরে দিকে এগিয়ে গেলেন। নাজিয়া ফাতিহাকে বগলদাবা করে নিজের সাথে নিয়ে যেতে লাগলো। তবে বসার ঘরে উপস্থিত হয়ে, সিঁড়ির পানে নজর যেতেই থমকে যায় রমণী। পা বাড়াতে পারেনা সামনে। অদ্ভুতভাবে তার শরীর সেখানেই জমে যায়। দৃষ্টি স্থির হয় সিঁড়ি দিয়ে সদ্য নেমে আসা যুবকটির পানে। যে নিজেও তার পানে কপালে গাঢ় ভাজ ফেলে তাকিয়ে।
ফাতিহা দম খিঁচে নিলো। এই যুবকটি এখানে কেনো তা ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না। অন্যদিকে যুবকটিরও একি অবস্থা। ফাতিহার ধূসররঙা সেই আঁখিপল্লব চিনতে তার মোটেও বেগ পোহাতে হলো না। বরং এক ধাক্কায় সে বুঝে ফেলেছে এই রমণীটি কে। ফাতিহার পানে এক দৃষ্টিতে স্থির মূর্তির মতো তাকিয়ে রইলো পুরুষটি। আর ঠিক তখনি মাঝখান হতে ইফতিয়া যুবকটির পানে এগিয়ে গিয়ে হাসিমুখে বললেন—-

—নিহাদ, দেখ কে এসেছে। বাড়িতে নতুন বউ, মানে আসিফের স্ত্রী এসেছে।
অতঃপর ফাতিহার পানে চেয়ে হাসিমুখে ফের বললেন—-
—মা ফাতিহা, এটা আমার ছেলে নিহাদ। তোমার দেবর।

তাকদিরে তুমি পর্ব ১৪

নিহাদ ফ্রিজের মতো জমে গেছে কথাগুলো শুনে। পাশ থেকে তার কাঁধে কপাল কুঁচকে হাত রাখলো আসিফ। তবুও সে কোন প্রতিক্রিয়া দেখালো না। আযান মির্জারা ততক্ষণে বসার ঘরের এক কোণায় সোফায় বসে নিজেদের মতো গল্প-গুজব করছেন। অন্যদিকে আসিফ তাকিয়ে আছে নিহাদের স্থির দৃষ্টির পানে।

তাকদিরে তুমি পর্ব ১৬