Home তাকদিরে তুমি তাকদিরে তুমি পর্ব ২৩ (২)

তাকদিরে তুমি পর্ব ২৩ (২)

তাকদিরে তুমি পর্ব ২৩ (২)
মোনালিসা মেহরোজ

—অ…আপনি আমাকে এখানে এই জন্য এনেছেন?
স্তম্ভিত ফাতিহা। তার চোখের কোণে জমেছে নোনা জল। কন্ঠ বেশ গভীর আর তীব্র অভিমানের রেশ। হাত-পা কেনো যেনো কাঁপছে! আজ দ্বিতীয়বারের ন্যায় স্বামী নামক লোকটার জন্য তার মনে উঁকি দিচ্ছে তীব্র ঘৃণারা। তবে কি করবে সে? সত্যিই ঘৃণা করবে? না-কি শাস্তি দিবে নিজ হাতে?
আশ্চর্যের চরম সীমানায় পৌঁছে গেছে ফাতিহা।সে ভেবে পায়না কি করবে। মানুষটা তাকে সবার সামনে অপমান করার জন্য নিয়ে এসেছে? সে চোর না-কি ডাকাত তা যাচাই করতে? থ্রেড দিয়ে, ভয় দেখিয়ে বাড়িতে গিয়ে যেনো সব স্বীকার করে তাকে ডিভোর্স দেয় সেজন্য?

ফাতিহার মাথা কাজ করছে না। পৃথিবী কেমন শূন্য শূন্য অনুভব হচ্ছে। রমণী অনুভূতিহীন দৃষ্টিতে সিঁড়ির কর্ণারে দাঁড়িয়ে স্বামী নামক লোকটার পানে তাকিয়ে রইলো। যার নজর তার পানেই নিবদ্ধ।
প্রথমে ফাতিহাকে এখানে দেখে আসিফ খানিক ভরকে গেলেও পরক্ষণেই চোখমুখে ফুটে উঠলো তীব্র অনীহা। বিরক্তিকর মুখে চোখ ফিরিয়ে নিলো সে।
আসিফ তার কথা মতো ফাতিহার অজান্তে তাকে নিয়ে আসে মিলি নামক এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে। সে চেয়েছিলো যেনো ছেলেরা তার সাথে জোর-জবরদস্তি বা তর্কাতর্কি না করে, তার গায়ে হাত না দেয়। যতই হোক, ফাতিহা একজন নারী। তাই আসিফ এতোটা নিচে নামতে চায়নি। তবে আপোষে কাজ না হলে আঙুল বাঁকাবে বলেও ঠিক করে রেখেছে সে।

তার সকল মেয়ে বান্ধবীরা-সহ ছেলেরাও এখানে হাজির। মিলি, উৎসা-সহ আরশাদ, ইসমাইল ও মৃন্ময় আছে। যাদের সাথে এতোক্ষন ধরে নিজের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছিলো আসিফ। আর ফাতিহাকে উপরের ঘরে রেখে এসেছিলো সে। বলেছিলো বান্ধবীর জন্মদিন আজকে, ফাতিহাও বিশ্বাস করেছিলো ঘর সাজানো বলে।
তবে একা একা উপরে বিরক্ত হওয়ায় আসিফকে খুঁজতে যেই নিচে এলো তখনি তার কানে ভেসে এলো অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু কথা। যা শুনে আপাতত থমকে আছে ফাতিহা। নিজের কানকে বিশ্বাস করতেও তার কষ্ট হচ্ছে। বিশ্বাস করতে পারছে না আসিফ সত্যিই এটা করেছে।
ফাতিহা সিঁড়ির উপর থেকে আর এক ধাপ নিচে নেমে এলো। আসিফ তখনো বিরক্তিকর মুখে দাঁড়িয়ে। তৎক্ষনাৎ মৃন্ময় সকলের পানে একপলক তাকিয়ে বিরক্তিকর শ্বাস ফেললো। ভেবে পেলো না আসিফ কিছু বলছে না কেনো? চুপ থাকার মানে কি?

—আমি বাড়ি যাবো।
ফাতিহা বুঝলো, এখানে থাকা ঠিক হবে না। তাই ঝামেলা না বাঁধিয়ে শান্ত গলায় বাড়ি যাওয়ার কথাটা তুললো। আর তুলতেই হুট করেই হো হো করে হেঁসে উঠলো আসিফ। ফাতিহা কেঁপে কান চেপে ধরলো নিজের। আসিফের বন্ধু-বান্ধবীরাও কুটিল হাসি টেনে দাঁড়িয়ে।
আসিফ হাসতে হাসতে ফাতিহার পানে এগিয়ে গেলো। ফাতিহা তখন সিঁড়ির শেষ মাথায়, আসিফ তার অভিমুখে দাঁড়িয়ে হাসি থামিয়ে ভ্রু কুঁচকে নিলো। আওড়ালো—-
—কোন বাড়ি?
—যে বাড়ি আমার থাকার কথা!

বেশ দৃঢ় গলায় বললো রমণী। কান হতে হাত সরিয়ে টানটান হয়ে দাঁড়ালো। ভেতরে ভেতরে খানিক ভয়, ঘৃণা কাজ করলেও চুপ করে রইলো৷ বুঝলো ঢের, এখানে থাকাটা ঠিক হবে না। আসিফের মতো উগ্র মেজাজের একজন লোকের মস্তিষ্কে যেকোন সময় যেকোন কিছু চড়তে পারে। তাই তাকে আগে বাড়ি ফিরতে হবে।
আসিফ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ফাতিহার পানে তাকিয়ে। ফাতিহা শুকনো ঢোক গিললে তা অবলোকন করে।
—আমার ডিভোর্স চায়। সো আমায় ডিভোর্স দাও।
ফাতিহার বুক কাঁপে। চোখের কোণে জমে তপ্ত জল। সে কথা বলে না। ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রয়। এরমধ্যেই আসিফ ফের বলে—-
—দেখো, আমি জানি তুমি আমায় কেনো বিয়ে করছো। টাকা-পয়সার জন্য তো?ফাইন। পাবে, আমাকে তুমি নিজ ইচ্ছেই ডিভোর্স দাও, তাহলে আমি তোমাকে খুশি করে দিবো। এই খেলাটা, আমার বাবা-মা’কে বোকা বানানোর চাল এখানেই অফ করে দাও, কেমন?

—আ…আপনি এসব কি…..
—এই প্লিজ প্লিজ, না জানার ভান করো না। ন্যাকা সেজো না আর। অনেক গেইম খেলেছো, আর না। আর আমি নিতে পারছি না এসব, সো এনাফ ইজ এনাফ।
ফাতিহার চোখ নোনা পানিতে ভরে ওঠে। তবুও রমণী নিজেকে শক্ত রেখে শ্রবণ করে আসিফের কথাগুলো। ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। আসিফ মুখ দিয়ে চুক চুক আওয়াজ বের করতে করতে বলে—-
—আজকে বাড়িতে গিয়ে বাবাকে তুমি বলবে যে তুমি আমার সাথে সংসার করতে চাও না। ডিভোর্স দিতে চাও আমায়। সেটাও নিজ ইচ্ছেই, ওকে?
—অ…..আর না বললে?

ফাতিহার গলা কাঁপে ভিষন। টলমলে চোখে রেলিং চেপে দাঁড়িয়ে রয়। এ পর্যায়ে ফাতিহার কথায় আসিফের চোখ লাল হয়ে আসে। সে ধুপধাপ পা ফেলে এগিয়ে গিয়ে সোফায় ধপ করে বসে। কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে—-
—এটাই কি তোমার শেষ কথা?
—জ্বী।
আসিফ দাঁতে দাঁত চাপে। সকলের পানে একবার তাকিয়ে ক্রুর হাসে। আরশাদ, ইসমাইলও তার পাশে পায়ের উপর পা তুলে বসে। তন্মধ্যে পুরুষটি স্বশব্দে আওড়ালো—-
—ওকে ওকে ফাইন। এজ ইউর উইশ। আমি তোমায় জোড় করবো না। এসো, বসো।
ফাতিহা শুকনো ঢোক গিললো। কপালে সরু ভাজ ফেলে বোঝার চেষ্টা করলো আসিফের মতিগতি। আসিফ তখন সামনের ছোট টেবিলের উপরে রাখা ড্রিংকের গ্লাস হাতে তুলে নিলো। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ফাতিহার পানে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ধীরলয়ে চুমুক বসালো সেথায়। ফাতিহা জানে না কেনো, তার শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নামলো। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে এলো।
—আরে ইয়ার। এসো না, বসো। তোমার স্বামী তোমায় ডাকছে। তার কথা অমান্য করবে তুমি?
মিলি ক্রুর হেঁসে ফাতিহার পানে এগিয়ে তার একবাহু চেপে ধরলো। ফাতিহার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে এদের মাঝে। মনে মনে আল্লাহর কাছে ভিক্ষা চাইছে, যাতে এদের থেকে বাঁচতে পারে।
মিলি ফাতিহাকে টেনে মাঝখানে এনে দাঁড় করলো। ফাতিহা তীব্র অস্বস্তিতে গুটিয়ে যাচ্ছে বারংবার।

—আমাকে বাড়ি নিয়ে চলুন।
কম্পনরত গলায় বলে উঠলো ফাতিহা। তার কথায় আসিফ কয়েক মুহূর্ত নিরব থেকে ক্রুর হাসলো। বললো—-
—আরে, নিয়ে যাবো তো! আগে আমার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে পরিচয় করে দিই৷ কি বলিস? তোদের ভাবির সাথে আলাপ করবি না তোরা?
—কেনো নয়? অবশ্যই।
একযোগে বলে উঠলো সকলে। আসিফ হাসলো। সোজা হয়ে বসে বলে উঠলো—-
—দেখেছো? সকলে তোমার সাথে পরিচয় করতে চায়। তা, তুমি তো আমায় ডিভোর্স দিবে না। আমার স্ত্রী হয়ে থাকবে। এখন সেই সুবাদে আমার বন্ধু-বান্ধবদের আবদার পূরণ করতে হবে তোমায়। আমি তোমার স্বামী, আমি তোমায় আদেশ দিলাম তার।
—সবি ঠিক আছে আসিফ। তাহলে এখন আমাদের একটু ভাবির মুখটা দেখা। আমরাও দেখি তোর বউকে…..!
—হ্যাঁ, অবশ্যই। ফাতিহা, দেখাও দেখি তোমার মুখটা। আমার বন্ধুরা দেখতে চায়৷
আসিফের কথায় ফাতিহার বুকের ভেতরটা হিম হয়ে গেলো। কয়েক মুহূর্ত সে স্থির দাঁড়িয়ে রইলো। চোখজোড়া ধীরে ধীরে স্থির হলো স্বামীর মুখের উপর। সেই চোখে এবার আর ভয় নেই। আছে বিস্ময়, অপমান আর গভীর এক অভিমান। রমণী খুব ধীরে মাথা নাড়লো। যার অর্থ না। আসিফ তা দেখেই দাঁতে দাঁত চাপলো।

—কি বললে?
—ন…না।
একটি মাত্র শব্দ বের হলো তার কম্পনরত কন্ঠ হতে। অন্যদিকে আসিফ নিজেকে সামলে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো।
—তুমি কি সিউর?
ফাতিহা এবার একটু দৃঢ় হয়ে দাঁড়ালো হিজাবটা আরও শক্ত করে ধরে আওড়ালো—
—হ্যাঁ, আমি পর্দা ভঙ্গ করবো না। আপনার কথা আমি রাখতে পারবো না।
আসিফ ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে সোফায় হেলান দিলো। তপ্ত শ্বাস ফেলে বললো—-
—তুমি কি ভুলে যাচ্ছো আমি কে? আমি কিন্তু তোমার স্বা….
—না। ভুলিনি।
তৎক্ষনাৎ উত্তর করলো রমণী। আসিফ ভেতরে ভেতরে জ্বলে উঠলো। বাহিরে যথাসম্ভব নিজেকে সামলে ফের বললো—

—তাহলে আমার কথা অমান্য করছো কেনো?
ফাতিহার চোখের কোণে পানি চিকচিক করলো। কিন্তু কণ্ঠ কাঁপলো না তার। স্বামীর কথার পাছে রমণীর দৃঢ় জবাব।
—হ্যাঁ, করছি। আপনি আমার স্বামী। আমার ঈমানের মালিক নন।
কথাটা শুনে কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে গেলো সকলে। আরশাদ এবার মাথা তুলে তাকালো আসিফের পানে। তার মুখের কুটিল হাসিটা মিলিয়ে গেছে। মনে হলো, তারা ভুল করছে না-তো? মৃন্ময় ও ইসমাইল একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। আসিফের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো।
—বেশি কথা বলো না, ফাতিহা।
—আমি বেশি কথা বলছি না। শুধু আপনার সীমাটা জানিয়ে দিচ্ছি।
—আমি বলেছি মুখ দেখাতে।
—আর আমি বলেছি, দেখাবো না।
আসিফ এবার ধীরে উঠে দাঁড়ালো। তার চোখজোড়া রক্তিম হয়ে এসেছে। কয়েক পা এগিয়ে এসে ফাতিহার সামনে থামলো সে। কপালে স্লাইড করতে করতে আওড়ালো—-
—এখানে এসে আমার কথার উপর কথা বলার সাহস কোথায় পেলে তুমি? হাউ ডেয়ার ইউ! ভুলে গেছো তুমি একা?
ফাতিহা একবার চোখ বুজে নিলো আস্তে করে। বুকের ভেতরটা দুরুদুরু করছে। তবুও ঠোঁট নাড়িয়ে খুব ধীরে বললো—-

—আল্লাহ সাথে আছে, একা আর হলাম কই?
আসিফের মুখটা মুহূর্তেই শক্ত হয়ে গেলো। সে বুঝে উঠতে পারলো না, এই মেয়েটার এতো জেদ, এতো কথার বহর আসে কোথা থেকে? সে কেনো এতো ভারী ভারী কথা বলে তার মস্তিষ্কর হাল বেহাল করে ফেলে। কেনো?
আসিফ চোখজোড়া বন্ধ করে নিলো। বড্ড রাগ লাগছে। সে দাঁতে দাঁত চাপলো।বললো—-
—হিজাবটা সরাও।
—না।
—ফাতিহা!
—বলেছি তো না!
—আমি শেষবারের মতো বলছি। ওটা সরাও। আর স্বীকার করো তুমি আমায় কেনো বিয়ে করছো। নইলে খুব খারাপ হবে ফাতিহা নূর।
ফাতিহা এবার এক পা পিছিয়ে গেলো। তবুও নিজের হিজাব শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখলো সে। লম্বা লম্বা শ্বাস টানলো সময় নিয়ে। চোখের কোণে তপ্ত জল তখনও টলমল করছে। সে ঠোঁট কামড়ে ধরলো। মাথা নাড়িয়ে বললো—
—আমি পারবো না।

আসিফ হাত বাড়িয়ে তার হিজাবের একাংশ ধরতে উদ্যত হতেই ফাতিহা তৎক্ষণাৎ হাত দিয়ে তা সরিয়ে দিলো। দু’পা পিছিয়ে গিয়ে হাত জোড় করলো। নিজের কঠিন সত্তা থেকে বেড়িয়ে ব্যাকুল গলায় বললো—-
—দয়া করে এমনটা করবেন না। গুনাহ-র পাল্লা আর ভারী করবেন না, আসিফ। আপনি আমার স্বামী। আপনার দ্বায়িত্ব আমায় রক্ষা করা, আমার ইমানকে রক্ষা করা। সেখানে আপনি রক্ষক না হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন? পারছেন এটা করতে? আপনার বিবেকে বাধঁছে না? আল্লাহ-কে ভয় করছেন না কেনো? মৃত্যুর পর কি জবাব দিবেন ওই খোদাকে? যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন!
হুট করেই ঘরের ভেতর নেমে এলো পিনপতন নীরবতা। অজান্তেই আসিফের চোখ অস্থির হয়ে উঠলো। ফাতিহার কথাগুলো না চাইতেও অদ্ভুত এক প্রভাব ফেলালো তার মস্তিষ্কে। যার দরুন পুরুষটি হুট করেই স্থির হয়ে পরেছে। ফাতিহা এখনো স্বামীর মুখপানে অসহায় নজরে তাকিয়ে। ঠোঁট কামড়ে বারবার কান্না আটঁকানোর চেষ্টা করছে সে। এরমধ্যেই ফের বললো—-

—ঠিক হয়ে যান না আপনি! ভালো হয়ে যান! আল্লাহ’কে ভালোবাসতে শিখুন, ফিরে আসুন না এই হাত ধরে!
ফাতিহা হাত বাড়ালো স্বামীর পানে। যেথায় স্থির হলো আসিফের পূর্ণদৃষ্টি৷ তার ছলছলে নয়নের পানে চেয়ে রইলো অস্থির চিত্তে।
—বাহ্, এখন ওর এসব অ্যাডভাইস শুনে গলে যাচ্ছে না-কি আমাদের আসিফ মির্জা?
হুট করেই ফ্ল্যাটের দরজা খুলে গেলো। গটগট পায়ে মুখে ক্রুর হাসি টেনে এগিয়ে এলো ছায়া। ফাতিহা শুকনো ঢোক গিললো। আস্তে আস্তে হাত নেমে এলো তার। আসিফ ভ্রু কুঁচকে তাকালো৷
—কি বলছো এসব?
ছায়া হাসলো। মাথার চুলগুলো ঠিক করতে করতে তাকালো ফাতিহার কম্পিত কায়ার পানে।

—বলছিলাম যে গলে গেলে না-কি? ভুলে গেলে এখানে কেনো এসেছিলে ওকে নিয়ে?
—তোমায় এসব কে বললো?
—আরে আসে আসে, সব কানে আসে৷ সাথে এটাও কানে এসেছে তুমি কতবড় কাওয়ার্ড।
আসিফ চোখ ফিরিয়ে দাঁতে দাঁত চাপলো। ছায়ার এসব বিদ্রুপাত্মক কথা তার মস্তিষ্ক ফের গরম করে দিলো। সে শক্ত মুখে দাঁড়িয়ে রইলো।
—কি? ও কি মুখ দেখাবে?
—ও দেখাবে না ওর ঘাড় দেখাবে?
কথাটা শেষ হওয়া মাত্র আসিফ ঝটকা দিয়ে ফাতিহার হিজাবটা সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলো। হকচকিয়ে উঠলো ফাতিহা। দ্রুত সরে পিছিয়ে গেলো কয়েক-পা।কম্পিত গলায় ফের অনুনয় করলো—-
—ক….কি করছেন? আমি আপনার স্ত্রী। এমনটা করবেন না।
—স্ত্রী মাই ফুট।
আসিফ থামলো না। দু’হাত বাড়ালো ফাতিহার পানে। আর ফাতিহা পিছিয়ে যেতে লাগলো। ছায়াও তখন বিজয়ীর হাসি হাসছে৷ মিলি-উৎসা নিরব দর্শক হয়ে সবটা অবলোকন করে চলেছে। মৃন্ময়-ইসমাইল আসিফের কাজে বেশ সন্তুষ্ট। তবে এসবের ভিরে আরশাদ নামক পুরুষটির মুখটায় খানিক বিষন্ন হয়ে এলো। জানে না কেনো,তার মনে হচ্ছে কিছু একটা ভুল হচ্ছে।
আসিফ ফাতিহার সাথে জোড়াজুড়ি করার এক পর্যায়ে আরশাদ ইতস্তত করতে করতে খানিক এগিয়ে গেলো। নিচু স্বরে ডেকে উঠলো আসিফকে—-

—আসিফ! আমার মনে হয় ভুল হচ্ছে।
আসিফ ফিরেও তাকালো না। হিজাবের একাংশ টেনে দেখতে লাগলো ফাতিহার প্রতিক্রিয়া।
—দেখুন, এমনটা করবেন না আল্লাহর দোহায় লাগে। ছাড়ুন, আমি শেষবারের মতো বলছি।
আসিফ শুনলো না। ফাতিহা হেঁচকি তুলে কেঁদে উঠলো মৃদু।
—ছাড়ুন বলছি……!
এভাবে চললো না বেশিক্ষণ। আসিফ ফাতিহার হিজাব টেনে ধরার মাঝখানেই ফাতিহা কথাটা বলেই আকস্মিক ঘটিয়ে ফেললো অন্য এক ঘটনা। যার ফলস্বরূপ সকলে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো তাদের পানে।
ফাতিহা আচমকাই তার হাত দিয়ে সজোরে থাপ্পড় বসিয়ে দিয়েছে আসিফের ডান গালে। সমস্ত ঘর নিস্তব্ধ হয়ে পরলো এক লহমায়। কেউ নড়লো না। আসিফের মুখ একদিকে ঘুরে গেছে। গালের উপর স্পষ্ট আঙুলের ছাপ ফুটে উঠেছে। কয়েক মুহূর্ত সে সেই অবস্থাতেই স্থির দাঁড়িয়ে রইলো। ফাতিহার বুক উঠানামা করছে দ্রুত। নিজের হাতের পানে একবার তাকালো সে। হাতটা কাঁপছে। তবুও মুখে কোনো অনুশোচনা নেই।বরং চোখজোড়া অশ্রুসিক্ত হলেও সেখানে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। আসিফ ধীরে ধীরে মুখ ঘুরিয়ে তাকালো তার পানে। চোখ দুটো ভয়ংকর লাল। আরশাদ তার রাগ দেখে তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালো।

—আসিফ, শান্ত হ।
আরশাদের কথার পাছে আসিফ কোনো উত্তর দিলো না। শুধু কয়েক সেকেন্ড ফাতিহার পানে তাকিয়ে রইলো। তারপর ঠোঁটের কোণে এমন এক হাসি ফুটলো, যেটা দেখে ফাতিহার বুকের ভেতরটা পুনরায় কেঁপে উঠলো।
—ঠিক করলে না৷ এর ফল এবার ভোগ করার জন্য তৈরি হও।
খুব শান্ত স্বরে বললো সে। আর বলেই আসিফ পেছনে ফিরে তাকালো বন্ধুদের পানে।
—নে, এবার তোরা সামলা।
ফাতিহার চোখ বিস্ফোরিত হয়ে গেলো।
—আসিফ!
কিন্তু ততক্ষণে পুরুষটি ঘুরে দরজার দিকে এগিয়ে গেছে। আরশাদ বিস্মিত হয়ে তার পানে তাকিয়ে রইলো।
—আসিফ, কোথায় যাচ্ছিস?
আসিফ থামলো না আর৷ শুধু বললো—-

—আমার আর এখানে থাকার প্রয়োজন নেই। তোরা এবার তোদের কথা রাখ।
দরজা খুলে একবারও পেছনে না তাকিয়ে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে গেলো পুরুষটি। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা যেনো সরাসরি ফাতিহার বুকের ভেতর গিয়ে আঘাত করলো। রমণী স্থির দাঁড়িয়ে রইলো। চারপাশে এতগুলো মানুষ থাকা সত্ত্বেও নিজেকে অসম্ভব একা মনে হলো তার। চোখ বেয়ে এবার অনবরত পানি ঝরতে শুরু করলো তীব্র ভয়ে। সে কম্পিত নয়নে চারিপাশে তাকালো। তারপর খুব নিচু স্বরে উচ্চারণ করলো—
—আল্লাহ, আমাকে হেফাজত করুন।

তীব্র রাগে হিস হিস করতে করতে আসিফ নিজের গাড়ির কাছে এসে থামলো। মাথাটা ফেটে যাচ্ছে তীব্র অপমানে৷ সকলের সামনে ফাতিহার সেই থাপ্পড়টা আসিফের উগ্র মস্তিষ্ক বাজে প্রভাব ফেলালো। যার দরুন ফাতিহার প্রতি কোন মায়া-দয়া হওয়া তো দূর আরো বেশি হিংস্র হয়ে উঠলো সে। ছেড়ে দিলো একা তাদের হাতে৷ যাদের সঙ্গে আছে ছায়া নামক এক হিংস্র রমণী।
আসিফ গাড়িতে চড়ে বসলো৷ গাড়িতে রাখা পানিটুকু পান করে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তার থেকে কয়েক হাত দূরে অবস্থিত ফ্ল্যাটটির পানে। তাচ্ছিল্য হাসি ফুটলো তার ঠোঁটের কোণায়।
—একদম ঠিক করেছি, এটাই ওর প্রাপ্ত।
আসিফ ঠোঁট মুছে নেয়। মাথা সিটে এলিয়ে দেয় বিরক্তি ভঙ্গিতে। তবে তার এই সুখ টিকে না বেশিক্ষণ। হুট করেই ফোনের কর্কশ আওয়াজে নড়েচড়ে ওঠে যুবক। পকেট হতে ফোন বের করে সামনে ধরতেই নজরে পরে আযান মির্জা কল করেছেন। আসিফ নিজেকে শান্ত করলো। তৈরি হলো হাজারটা কথা শোনার। কারণ সে জানে, তার বাবা নিশ্চয়ই তাদের বের হওয়ার খবরটা পেয়ে গেছে। সায়না মির্জা তাকে বলে দিয়েছি নিশ্চিত। নইলে এই অসময়ে কল!
—হ্যাঁলো!
আসিফ বেশ শান্ত গলায় বললো৷ তবে ওপাশে আযান মির্জা শান্ত রইলেন না। তিনি দাঁতে দাঁত চাপলেন। ফাতিহাকে ডিভোর্স দিতে চাওয়ার পর হুট করেই তাকে নিয়ে বের হওয়াটা আযান মির্জা ঠিক হজম করতে পারলেন না। যার দরুন তীব্র রাগে হিসহিসিয়ে উঠলেন—-

—ফাতিহা কোথায়?
আসিফ তপ্ত শ্বাস ফেলে। কপালে স্লাইড করতে করতে আওড়ালো—-
—যেখানে থাকার কথা সেখানেই আছে।
আযান মির্জা ওপাশে টেবিলে চাপড় মারলেন। এক প্রকার হুংকার ছাড়লেন তিনি।
—যেখানে থাকার কথা সেখানেই মানে? ইয়ার্কি হচ্ছে? লিসেন আসিফ, ফাতিহার সাথে তুমি কিচ্ছু করবে না। মনে রেখো, আমার পুত্রবধূর গায়ে যদি একটা ফুলের টোকাও পরে তোমার বদৌলতে, তাহলে আমি ভুলে যাবো তুমি আমার সন্তান।
বাবার কথায় দাঁতে দাঁত চাপলো আসিফ। সামান্য একটা মেয়ের জন্য তার বাবা তার সাথে এভাবে কথা বলছে সেটা সে ঠিক হজম করতে পারলে না।
—তুমি ভুল করছো, বাবা।ওই মেয়েটা তোমাদের ঠকাচ্ছে। ও একটা ধান্দাবাজ মেয়ে। তোমাদের সবাইকে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করে সবকিছু ও নিজের হাতে নিতে চায়। ও মির্জা বাড়িতে রাজত্ব করতে এসেছ……
—ব্যাস….!
ফের হুংকার ছাড়লেন আযান মির্জা। এপাশে আসিফের চোখমুখ লাল হয়ে এলো। শক্ত মুখে বসে রইলো গাড়ির ভেতর। কয়েক মুহূর্তে ওপাশে নিরব রইলেন আযান মির্জা। অতঃপর নিজেকে সামলে বেশ শান্ত গলায় বললেন—-

—জানি না তুমি তার সাথে কি করতে চাইছো। তবে সত্যিই যদি কিছু করো, তাহলে শুনে রাখো। এর জন্য সবচেয়ে বেশি তুমি’ই আফসোস করবে। প্রচন্ড রকমের আফসোস করবে তুমি। নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবে কি-না জানিনা। তাই সময় থাকতে তাকে নিয়ে ফিরে এসো।সে শুধু তোমায় ভালো করতে চেয়েছিলো। নিজেকে আড়ালে রেখে তোমায় আল্লাহর টানে তার পথে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলো। নিজে কোন কৃতিত্ব চায় নি। অথচ তুমি?
এক মুহূর্ত থামলেন তিনি। এরপর ফের বললেন—
—তুমি আফসোস করবে
—আমি আফসোস করবো না।
বেশ দৃঢ় কন্ঠ যুবকের। ওপাশে আযান মির্জা তার কথায় মৃদু হাসলেন। বললেন—-

—করবে, তোমায় করতেই হবে। নিজের ভালোবাসাকে হারানোর আফসোস করবে তুমি।
কেঁপে ওঠে আসিফের হৃদয়। অস্থির হয়ে ওঠে নজর। তার কানে বারি খেতে লাগে বাবার একটামাত্র কথা ‘ভালোবাসা’। আসিফের দম বন্ধ হয়ে আসে না চাইতেও। তার মনে পরে সেই ঠোঁট, সেই তিল, সেই মুখের গড়ন। যা সে দেখে ফেলেছিলো অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে। আর সে’ই তো তার ভালোবাসা। তাহলে বাবা এসব কি বলছে?
অন্যদিকে আযান মির্জা নিজেকে আর আটঁকালেন না। নিজ থেকেই তিনি আসিফকে বুঝিয়ে দিতে চাইলেন আসল সত্য। ফাতিহার থেকে নেওয়া প্রতিশ্রুতি নিজ থেকেই ফিরিয়ে নিলেন তিনি৷
—ক…কি বলতে চাইছো তুমি, বাবা?
—তুমি নিজে গিয়ে দেখে নাও,
আসিফ শুকনো ঢোক গিলে। হুট করেই না চাইতেও তার কেমন ঝাপসা লাগে চারিপাশ। বুকের ভেতরের ধুকপুকানি বাড়ে বেগতিক ভাবে।
—ক….কি দেখবো আমি?
—তোমার স্ত্রী’কে।

ফোন কেটে যায়। আসিফ থমকে বসে থাকে গাড়িতে। জানে না কেনো, হুট করেই মস্তিষ্ক তার অচল হয়ে পরে। আযান মির্জার প্রতিটি কথা ধাক্কা খেতে থাকে তার মনের দেওয়ালে।
আসিফ বোতলের শেষ পানিটুকু মুখে ছুঁড়ে দেয়। পলক ঝাপটায় বেশ কয়েকবার। হাত-পা কাঁপছে অস্বাভাবিক ভাবে। হৃৎস্পন্দন ছুটছে ট্রেনের গতিতে। হিসেব মিলাতে ব্যাস্ত হয়ে পরে সে। সাথে লাগে বেশ খটকা। কয়েক মুহূর্ত নিজের মস্তিষ্কের সাথে যুদ্ধে নেমে পরে একপ্রকার। আর তারপর……..
আসিফ আর থামে না। মনের মধ্যে একরাশ আশংকা নিয়ে ছুট লাগায় ফ্ল্যাটের দিকে। পা চলতে চাইছে না, মনে হচ্ছে শরীর অবশ হয়ে আসছে। চোখের মণি তার লাল টুকটুকে।
আসিফ দ্রুত এসে থামলো ছোট্ট বসার ঘরটায়। আশেপাশে নজর বুলিয়ে খুঁজে পেলো না কাঙ্খিত মানুষটিকে। আসিফকে ওভাবে হাঁপাতে দেখে সোফায় বসে থাকা আরশাদ চট করে দাঁড়িয়ে যায়। বন্ধুকে সুধায়—-
—কি হয়েছে আসিফ? ঠিক আছিস?
—ফ…ফাতিহা কোথায়?
কম্পিত গলায় বন্ধুকে জিজ্ঞেস করে আসিফ। আরশাদ ভ্রু কুঁচকে ইশারায় তাকে ওপরের ঘরটা দেখে দেয়। আসিফের বুক কাঁপে। নিচে ছায়া, মিলি বা উৎসা—কেউই নেই।
—ড্যাম….!
বলতে বলতে এলোমেলো পায়ে উপরের দিকে ছোটে আসিফ। আর উপরের ঘরের দরজায় কাছে আসতেই থমকে যায় তার পা। ফাতিহা বিছানার একপাশে ফ্লোরে উল্টো হয়ে পরে আছে। তার মাথার নিচ দিয়ে লাল রঙা তরল গড়িয়ে যাচ্ছে। হিজাব এক দিকে ছুঁড়ে ফেলা। আসিফের বুকটা ধক করে ওঠে। চোখ স্থির হয়ে যায়। সামনে পা বাড়াতে পারে না আর।
ঘরের একপাশে ভয়ার্ত মুখে দাঁড়িয়ে আছে মিলি-উৎসা। তবে ছায়ার মুখে কোন ভয় নেয়। সে বিছানায় বসে আছে। আসিফকে হুট করে দরজায় কাছে দেখে ছায়া উঠে দাঁড়ালো হাসি মুখে। বললো—-

—ওহ, এসেছো? ভালোই করেছো।
এক মুহূর্ত থেমে ফের বললো—–
—মুখ খোলেনি ও। কথা বের করতে পা…..
—ক….কি হয়েছে ওর?
অবিশ্বাস্য নজরে ফাতিহার নিথর দেহের পানে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কম্পিত গলায় সুধাল আসিফ। ছায়া বলার আগেই ভয়ার্ত গলায় শুকনো ঢোক গিলে মিলি আওড়ালো—-
—ছায়া ওকে জোড় করে ড্রিংক করাতে চাইছিলো, যাতে সবটা স্বীকার করে। কিন্তু হুট করেই টেবিলে ধাক্কা খেয়ে সেন্স হারিয়ে….
—আরে ওত ভয় পাচ্ছিস কে…..
—ছায়া……!
—আহ, আসিফ…!
তীব্র এক ধাক্কা দিয়ে ছায়াকে ফ্লোরে আছড়ে ফেললো আসিফ৷ রক্তাক্ত চোখে চেয়ে বললো—–

—তোমার সাহস হয় কি করে এটা করার? তোমায় আমি পরে…..
বাকি কথা থামিয়ে দম আঁটকে আসিফ ধুপধাপ পা ফেলে ফাতিহার পানে এগিয়ে এলো। হাঁটু ভেঙে ধপ করে ফ্লোরে বসে শুকনো ঢোক গিললো। কম্পিত হাত বাড়ালো রমণীর পানে। আসিফ আলগোছে হাত দিয়ে ফাতিহার মাথা কোলে তুললো। আর পরের মুহূর্তেই তার নজর গিয়ে আটকালো স্ত্রী’র সুশ্রী বরণে। ঠিক তখনি, আসিফ ধাক্কা খেলো, তীব্র বেগে ধড়ফড়িয়ে উঠলো তার বুকটা। আঙুল কেঁপে উঠলো আচমকা। ফাতিহার মাথা কোল থেকে পরেই যাচ্ছিলো৷ তবে আসিফ আর সেদিকে তাকাতে পারলো না। তার কম্পিত, অবিশ্বাস্য নজর স্থিয় হলো কোলে শুয়ে থাকা মেয়েটার মুখের পানে। আপনা-আপনিই তার চোখ কাঁপতে লাগলো অস্থির চিত্তে।
—ফাতি……
সে সম্পুর্ন করতে পারলো না বাক্যটা। মুখে হাত চেপে ধরলো হুট করেই। দম বন্ধ হয়ে এলো না চাইতেই। নিশ্বাস যেনো গলার কাছে এসে আটঁকে আছে।
এরমধ্যেই হুট করেই তার অস্থির মস্তিষ্কে ধাক্কা খেলো কিছুক্ষণ আগে বলা বাবার কথাটা ‘ভালোবাসা’

ফাতিহার সেন্স নেই। কপালের একপাশে বেশ ভালোই আঘাত লেগেছে। রক্ত ঝড়ছে বেগতিক ভাবে। আসিফের কোলে ফাতিহা ঢলে পরে আছে। হাতটা একপাশে হেলে গেছে। তার মুখটা গিয়ে আঁটকে আছে স্বামীর বুকের কাছে। আসিফের সাদা শার্টটা লাল ছোপ ছোপ দাগে ভরে উঠেছে। সে সেভাবেই স্ত্রী’কে নিজের সাথে চেপে তুলে ধরেছে।
আসিফ স্ত্রী’কে দু’হাতে আগলে পাগলের মতো সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলো। বলিষ্ঠ দেহের আসিফের হিঁটু আজ কাঁপছে, ভিষন ভারী অনুভূত হচ্ছে স্ত্রী”কে। যার ভার সইতে সে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। লাল টুকটুকে চোখজোড়া নিয়ে সে এক ছুটে বেড়িয়ে এলো ফ্ল্যাট হতে।

তাকদিরে তুমি পর্ব ২৩

—আসিফ, কি করছিস?
—এই দাঁড়া….!
পিছন থেকে বন্ধুরা ডেকে উঠলো। তবে সে থামলো না। দ্রুত স্ত্রী’কে সামনের সিটে বসিয়ে সেও ড্রাইভিং সিটে বসে পরলো। পাশেই তার ভালোবাসা। যাকে সিটবেল্ট লাগিয়ে নিজের সাথে হেলিয়ে রাখলো আসিফ। তিরতির করে কাঁপতে থাকা হাতটা গিয়ে আঁকড়ে ধরলো স্টিয়ারিং হুইল। চোখের কোণ ভরে উঠলো অজান্তেই—
—অ্যাম…সরি…..!

তাকদিরে তুমি পর্ব ২৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here