তাকদিরে তুমি পর্ব ২৩
মোনালিসা মেহরোজ
কাল রাতে ফাতিহার সাথে এহেন আচরণ করার পর সারারাত বাড়ি ফেরেনি আসিফ। ফাতিহা অপেক্ষা করেছিলো তার ফেরার। বেশ কয়েকবার ফোনও করেছিলো। তবে আসিফ কল রিসিভ করেনি তার। শেষমেশ হতাশ হয়ে রাত এগারোটায় আযান মির্জা গম্ভীর মুখে ছেলেকে কল করেন। তখন আসিফ তা আর প্রত্যাখান করতে পারেনি। কল রিসিভ করে জানায় সে রাতে বাড়ি ফিরবে না। স্বাধীনের সাথে তাদের বাসায় থাকবে। সেখানে তার আরো বন্ধুরাও থাকবে। আযান মির্জা কারণ জানতে চাইলে আসিফ বাহানা দিয়ে বলে স্বাধীন বাড়িতে একা। এরপর আর আযান মির্জা বাঁধ সাঁধেন নি। তিনি সত্যিই ভেবেছিলেন আসিফের কথা। তবে ফাতিহা জানে, আসিফ কেনো বাড়ি ফিরে নি। আর জানে বলেই মনে মনে ভিষন ব্যাথিত হয় রমণী। সারারাত দু’চোখের পাতা এক করতে পারেনি।
শুধু মনে হচ্ছে, সে ভুল করেছে। তবে এই ভুলটা কি সত্যিই কোন ভুল না-কি তা ফাতিহা নিজেও বুঝে উঠতে পারছে না। সায়না মির্জার থেকে যতটুকু শুনেছে, আসিফকে দেখে যতটা বুঝেছে সে সত্যিই বখে যাওয়া একটা ছেলে। রূপের মোহ তার বেশি। ফাতিহা বিশ্বাস করে, যেই জিনিস সহজে পাওয়া যায় মানুষ সেই জিনিসের কদর করতে জানে না। সেখানে একজন রূপবতী নারীই বা কোন ছাড়! ফাতিহাকে সে পেয়ে গেলেই যে ঠিক হয়ে যাবে তার তো কোন গ্যারান্টি ছিলো না। আর তাই জন্যই তো ফাতিহা আজ আসিফের চোখে একজন ঠকবাজ হয়ে উঠেছে।
ওই পুরুষটার জন্যই তো তার এই পথ বেছে নেওয়া। এতো এতো লুকোচুরি। তবে এই লুকোচুরির শেষ কোথায় তা আজ ফাতিহা নিজেও বুঝতে পারছে না।
ফাতিহা কিচেনে সকালের নাস্তা তৈরি করছে। সাথে এসবি ভাবছে। এরমধ্যেই সেখানে হাজির হলেন সায়না মির্জা। চায়ের পানি চড়িয়ে পুত্রবধূকে জিজ্ঞেস করলেন—-
—আসিফ ফিরেছে?
তপ্ত শ্বাস ফেলে ফাতিহা। বুকটা তার বড্ড জ্বলছে। কষ্ট হচ্ছে। নিশ্বাস নিতেও যেনো যুদ্ধ করতে হচ্ছে কালকে আসিফের বলা কথাগুলো ভাবতে গেলো। ফাতিহা ঠোঁট কামড়ে ধরলো।
—না।
ছোট্ট একটা উত্তর দিয়ে রুটি বানাতে লাগলো রমণী। অন্যদিকে সায়না মির্জা ফাতিহার পানে তাকাতেই কপাল কুঁচকে নিলেন। মেয়েটার মুখটা কেমন শুকনো। কিছু কি হয়েছে?
—ঠিক আছো, মা? শরীর খারাপ?
ফাতিহা তড়িঘড়ি মাথা নাড়িয়ে না করলো। সায়না মির্জা ‘ও’ বলে চা বানিয়ে বের হয়ে এলেন কিচেন হতে। ফাতিহা আর একজন কাজের মহিলা মিলে সকালের খাবার তৈরি করতে লাগলেন।
সকাল তখন দশটার মতো।
আযান মির্জার রুমটা বড্ড থমথমে হয়ে উঠেছে। চারিদিকে ধূসর নিরবতার হাতছানি। আযান মির্জা বিছানায় আঁধ শোয়া হয়ে বসে আছেন। হাতে একটা বই থাকলেও তাতে তার কোন মন নেই। তিনি সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে চলেছেন ছেলের ভাবগতি। তবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না ছেলেটাকে৷
মিনিট পাঁচেক হবে আসিফ বাড়ি ফিরেছে। আর ফিরেই সোজা তার রুমে প্রবেশ করে গম্ভীর মুখে বিছানার এক কোণে বসে পরেছে। আযান মির্জা প্রথমে একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন কিছু হয়েছে কি-না! তবে সে উত্তর করেনি। আযান মির্জা এবার একটু বেশিই গম্ভীর হলেন। বই রেখে সরাসরি তাকালেন ছেলের পানে। সুধালেন—
—আসিফ! কিছু কি হয়েছে?
আসিফ মাথা তুললো। দীর্ঘ রাত নির্ঘুম কাটানোর ফলে লাল হয়ে এসেছে তার চোখজোড়া। আযান মির্জা তা অবলোকন করতেই খানিক চমকালেন, থমকালেন।
—আমার ডিভোর্স চায়, বাবা। ফাতিহার সাথে আমার ডিভোর্স করিয়ে দাও।
আকাশ থেকে পড়লেন আযান মির্জা। কাল অবদিও ছেলেটা তার ভালো হচ্ছিলো। তিনি ভেবেছিলেন এবার হয়তো ছেলেটা ভালো হবে। ফাতিহা সুখের মুখ দেখবে। এই সংসারে উন্নতি হবে৷ তবে এখন এসব কি কথা? আসিফ হুট করে এ কথা কেনো বলছে তাকে?আযান মির্জার
গলা শুকিয়ে এলো।
—কি বলছিস এসব?
—যা বলছি ঠিকি বলছি।
আসিফ সরাসরি বাবার চোখের পানে তাকালো। আযান মির্জা অবাকের চরম সীমানায় পৌঁছে গেলেন। মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে প্রায়।
—এতে যদি তুমি আমায় সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে চাও তাহলে করো। আমি বাঁধা দিবো না।
দৃঢ় কন্ঠ যুবকের। যেনো নিজের জীবনের চরম সিদ্ধান্ত সে নিয়ে ফেলেছে। এ কথার হবে না কোন নড়চড়। আযান মির্জা কয়েক মুহূর্ত ছেলের পানে তাকিয়ে রইলেন। ছেলের প্রতি হৃদয়ের কোণে লুকিয়ে থাকা কোমলতা আস্তে আস্তে গলে যেতো লাগলো তার। মুখমণ্ডল কেমন শক্ত হয়ে আসতে থাকলো। আসিফ তখনো বাবার চোখের পানে দৃঢ় নয়নে তাকিয়ে। আযান মির্জা পারলেন না নিজেকে সামলাতে। তীব্র ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিলেন তিনি। বিছানার চাদর খামছে বললেন—-
—হবে না। ডিভোর্স হবে না।
—কিন্তু কেনো বাবা? সংসার তো আমি করবো, রাইট? সেখানে কি আমার চাওয়া-পাওয়ার কোন গুরুত্ব নেই? আমি কি পছন্দমতো নিজের জীবন সঙ্গী ডিজার্ভ করি না? বলো না!
—করিস। আর তুই যাকে ডিজার্ভ করিস তাকেই পেয়েছিস। তার সাথেই তোকে জুঁড়ে দিয়েছি। তাহলে এতো অভিযোগ কেনো? কেনো এতো বর্বরতা?
আসিফ উত্তেজিত হয়ে পরলো একপ্রকার। যেনো সে বাবাকে বোঝাতে চাইছে কিছু। তবে পারছে না। মনের ভাব বাবার নিটকে প্রকাশে ভিষন ব্যর্থ সে।
—তুমি বলেছিলে না তাকে বিয়ে করতে নইলে তুমি আমাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করবে! সেদিন আমি বুঝতে পারিনি কোনটা ঠিক কোনটা ভুল৷ তবে আজ বুঝতে পারছি। ওর সাথে তুমি আমার ডিভোর্স করিয়ে দাও। বিনিময়ে আমার কিচ্ছু চায় না। আমি তোমার সম্পত্তিতেও হাত দিবো না, প্রমিস। তবুও বাবা।
—আসিফ…..!
অবিশ্বাস নয়নে আযান মির্জা ছেলের পানে তাকিয়ে। তিনি ঠিক বিশ্বাস করতে পারছেন না তার ছেলে এটা বলছে। রাতারাতি কি এমন হয়ে গেলো যে আসিফ ফাতিহাকে ডিভোর্স দিতে এতোটা উতলা হয়ে উঠলো? যে সে তার এখন টাকা-পয়সাও চায় না! কি হয়েছে তাদের মধ্যে?
আযান মির্জা চোখের পাতা বন্ধ করে নিলেন। আসিফ তখনো উত্তেজিত চিত্তে বাবার পানে তাকিয়ে। বাবার সম্মতি পাওয়ার আশায় আস্তে আস্তে তার হাত নিজের হাতের মুঠোই নিলো আসিফ। আযান মির্জা চোখ খুললেন দীর্ঘক্ষন পর। আসিফ একরাশ আশা নিয়ে তাকিয়ে বাবার পানে। তবে আযান মির্জা নিজের কথা বদলালেন না। তিনি অটল রইলেন নিজের জায়গায়। বেশ শীতল স্বরে বললেন—-
—বেশ, ডিভোর্স যদি দিতে চাও তাহলে দিয়ো৷ তবে তা আমার মৃত্যুর পরে। আমার মৃত্যুর আগে এটা হবে না।
আসিফ থমকায়। ফ্যাল ফ্যাল করে বাবার পানে তাকিয়ে রয়। হাত ফসকে যায় তার। বুকটা কাঁপে ভিষন। আযান মির্জা তা লক্ষ করে ফের আওড়ালেন—–
—তুমি তোমার সিদ্ধান্ত আমায় জানিয়েছিলে। আমি আমার সিদ্ধান্ত তোমায় জানালাম।
আসিফ পাথরের ন্যায় বসা হতে উঠে পরলো। টলমল পায়ে বেড়িয়ে এলো বাবার ঘর ছেড়ে। আযান মির্জা ছেলের যাওয়ার পানে তাকিয়ে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন। বিড়বিড় করে আওড়ালেন—
—এই সম্পর্কের ইতি ঘটলে সবচেয়ে বেশি তুই আফসোস করবি, আসিফ। তুই করবি।
আযান মির্জা বালিশে মাথা এলিয়ে দিলেন। সাথে অনুভব করলেন, তিনি হয়তো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ফাতিহাকে আড়ালে থাকতে বলার কথাটা না বললেই হতো! তবে তারও বা কি করার ছিলো? ফাতিহা যখন তাদের প্রথম আলাপের কথা বলেছিলো তখন আযান মির্জা শংকিত হন। ভয় পান যে আসিফ যদি এতো সহজে নিজের ভালোবাসার মানুষকে পেয়ে যায় তাহলে নিশ্চিত আসিফ তার গুরুত্ব দিতে ভুলে যাবে। তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা কষ্টকর হয়ে পরবে। এমনিতেই তার ছেলে বড় অহংকারী। তারওপর সবকিছু সহজে অর্জন হলে তাকে মানুষ করা বেশ দুঃসাধ্য হয়ে পরতো। তাই তো ফাতিহাকে সামনে আসতে না করেছিলেন তিনি। যাতে আসিফের অহংকার না বাড়ে। যাতে সে শুধু ফাতিহার ইমানের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তার রূপের প্রতি না হয়ে নিজেকে ধংস না করে। তবে এখন? এখন কি হবে?আযান মির্জা এর উত্তর পেলেন না। চোখ বুঁজে এলো তার।
আসিফ করিডর ধরে টলমল পায়ে হাঁটছিলো। বাবার কথায় বেশ কষ্ট হয় তার। সাথে মাথায় জেদ চেপে ধরে দ্বিগুণ। সে ফাতিহাকে এবার ডিভোর্স দিয়েই ছাড়বে। দিবেই। তন্মধ্যে আচমকা বেজে ওঠে আসিফের ফোন। আসিফ ফোন বের করে শূন্য দৃষ্টিতে নাম্বারটা দেখে কানে ধরে।
—কি রে? কাজ হলো?
—না।
ওপাশের বন্ধুমহলের মুখ মলিন হয়ে এলো। কাল রাতেই সব প্ল্যান করেছিলো তারা। ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসিফ সেখান থেকেই নিয়েছে। অন্যদিকে ছায়া নামক মেয়েটার সামনে আসিফ যেতে পরেনি। কারণ সে তার সামনে যেতে পারবে না এই মুখ নিয়ে। এতোদিন ছায়া কতবার তাকে সাবধান করেছে৷ কতবার ফাতিহার চাল সম্পর্কে তাকে বোঝাতে চেয়েছে৷ অথচ আসিফ! সে কি করলো? ফাতিহার উপর বিশ্বাস করে ছায়াকে সেদিন ওভাবে অপমান করলো?
নাহ্, এটা মোটেও ঠিক হয়নি। তার মাফ চাইতে হবে ছায়ার থেকে। তবে এখন নয়। নিজের কাজ শেষে। আসিফ তপ্ত শ্বাস ফেলে৷ ওপাশে মৃন্ময় জিজ্ঞেস করে—-
—প্ল্যান ‘A’ ফেল। তাহলে এখন কি প্ল্যান ‘B’? তুই কি আসবি ওকে নিয়ে?
আসিফ মাথা নাড়ায়। চোয়াল শক্ত করে আওড়ায়—-
—হুম, আসবো। আজ উচিত শিক্ষা দিবো ওই মেয়েকে। আর এমন শিক্ষা দিবো যে আজকের পর আমি তাকে ডিভোর্স কেনো, সে নিজেই আমাকে ডিভোর্স দিতে চাইবে। দুপুরের পর পরই বের হবো। বাবা দুপুরের দিকে বের হবে, আমি খোঁজ নিয়েছি। বাবা বেড়িয়ে গেলেই আমি ওকে নিয়ে বের হবো। বাড়িতে হবে না। মা আছে।
মৃন্ময়সহ তার সকল বন্ধুরা আচ্ছা বলে ফোন কাটে৷ আসিফ ফোন রেখে বাঁকা হাসে। গটগট পায়ে এগিয়ে যায় নিজের ঘরের পানে।
আসিফ ঘরে প্রবেশ করে দেখলো ঘর ফাঁকা। ভ্রু কুঁচকে এলেও সে আর খোঁজ করলো না স্ত্রীর। ধপধপ পা ফেলে ওয়াশরুমে গেলো গোসল করতে। দীর্ঘ পনেরো মিনিট সময় নিয়ে যখন সে চুল মুছতে মুছতে বের হয়ে এলো তখন লক্ষ করলো বিছানার উপর তার পোশাক বের করে রাখা।
আসিফের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। সে জানে এটা কে করেছে। বিয়ের পর প্রতিটি দিন’ই ফাতিহা এ কাজ করতো। আগ বাড়িয়ে তার সকল প্রয়োজন মিটাতো। আসিফ প্রথমদিকে রাগারাগি করলেও পরে চুপ করে যায়। তবে আজ আর নিজেকে সামলাতে পারলো। ঘরের চারিদিকেসহ বারান্দায় নজর বুলিয়ে দেখলো ফাতিহা আছে কি-না! তবে যখন তাকে পেলো না তখন ভেতর থেকে রাগটা কেমন উগরে বেড়িয়ে আসতে চাইলো। পুরুষটি আর কোন মায়া না দেখিয়ে বিছানার উপর স্বযত্নে রাখা পোশাকগুলো আছার মেরে ফেলে দিলো মেঝেতে৷
—দরদ দেখাতে এসেছে। ডিজগাস্টিং।
আসিফ আলমারি হতে নিজের পছন্দসই পোশাক বের করে তা পরিধান করলো। মাথার চুলগুলো আঁচড়ে বিরক্তিকর মুখে বেড়িয়ে গেলো ঘর ছেড়ে৷ আর সে যেতেই সেখানে হাজির হলো ফাতিহা। মেঝেতে পোশাক পরে থাকতে দেখে বুকটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠলো। তপ্ত শ্বাস ফেলে টলমল চোখে পোশাকগুলো হাতে তুলে গুছিয়ে রাখলো।
ছাদে গিয়েছিলো একটু। পরে যখন ঘরে ফিরে আসে খেয়াল করে আসিফ ওয়াশরুমে গেছে। তাই পোশাক বের করে রেখেছিলো। সাথে নিজেও বের হয়ে গিয়েছিলো যাতে আসিফ আর রাগারাগি করার সুযোগ না পায়। অথচ পুরুষটি তার যত্নকেও অবহেলায় ছুঁড়ে ফেললো।
দুপুর তখন দু’টোর দিকে।
আযান মির্জা সবেই বাড়ি থেকে বেড়িয়েছেন অফিসের উদ্দেশ্য। সেই সুযোগে আসিফ বাঁকা হেঁসে নিজের ঘরে প্রবেশ করে। ফাতিহা তখন বারান্দায় বসে বই পরছে। ঘরে কারো উপস্থিতি টের পেলেও রমণী নড়ে না। আসিফ তা খেয়াল করে ধীর পায়ে এগিয়ে যায়। দেখে, ফাতিহা বাগানের দিকে মুখ করে বসে আছে।
—ফাতিহা!
পিছন হতে স্বামীর ডাকে নড়েচড়ে ওঠে ফাতিহা। তবে কথা বলার সাহস পায়না। কালকের ওই আচরণ, আজকে আবার তার এতো উগ্রতা ঠিক মেনে নিতে পারেনা ফাতিহা। যার দরুন দম খিঁচে বসে থাকে। আসিফ তার থেকে উত্তর না পেয়ে ভ্রু কুঁচকে নিলো। হাতের মুঠোই শক্ত হয়ে এলো এড়িয়ে যাওয়ায়। তবে নিজেকে সামলায় যুবক। ধীর গলায় আওড়ায়—–
—রেডি হয়ে নাও, আমরা বের হবো।
এ পর্যায়ে চুপ থাকতে পারেনা রমণী। কোথায় যাবে এসময় ভাবতে ভাবতে কপাল কুঁচকে সেভাবেই প্রশ্ন করে—–
—কোথায় যাবো?
—আমি যেখানে নিয়ে যাবো সেখানে। এতো কৈফিয়ত দিতে পারবো না। আধা ঘণ্টার মধ্যে তৈরি হয়ে নাও।
আর কোন কথা বলার প্রয়োজন মনে করলো না আসিফ। বড় বড় পা ফেলে বেড়িয়ে গেলো ঘর ছেড়ে। ফাতিহা বিমুঢ় হয়ে তাকিয়ে আছে সেদিকপানে এভাবে আদেশ করার কি মানে? এই অসময়ে কোথায় যাবে তারা?
আসিফ নিচে অপেক্ষা করছিলো ফাতিহার জন্য। সায়না মির্জা আসিফকে জিজ্ঞেস করেছিলেন কোথায় যাচ্ছে, তবে সে মা’কে বুঝিয়েছে এমনি ঘুরতে। এতে সায়না মির্জা সন্দেহ করেছিলেন খানিক। তবে না করতে পারেন নি। কারণ গত কয়েকদিনে ছেলের বদলটা তিনি লক্ষ করেছেন। তাই মনে আশংকা থাকলেও হাসিমুখে ছেলেকে যেতে বলেছিলেন।
তাকদিরে তুমি পর্ব ২২
আসিফ সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে থাকতেই সেখানে ধীর পায়ে এসে থামে ফাতিহা। কালো বোরখায় আবৃত রমণীর পুরো কায়া। আসিফ সেদিকে একবার তাকিয়ে অদ্ভুতভাবে নজর ফিরিয়ে নেয়। অন্যদিকে ফাতিহার ভয় হয়। মনে অজানা আশংকা দানা বাঁধতে থাকে। আসিফ তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। আবার স্বামীর আদেশ অমান্যও করতে পারছে না।
আসিফ ফাতিহার পান হতে নজর ফিরিয়ে বাহিরের দিকে হাঁটা ধরে। সায়না মির্জা নিজেও পূত্রবধূকে বিদায় দেন হাসিমুখে। অন্যদিকে ফাতিহা, ভয়ার্ত মনে পা বাড়ায় স্বামীর পিছু।
