Home তিন তরঙ্গের আলোকছটা তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ২

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ২

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ২
রাফিয়া জান্নাত রিফা

ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িং রুমে বসে আছে আলবান, আর্দ্র,‌ও পিকি।আলবানের কানে ইয়ারবাড লাগানো ও হাতে কফির মগ, অফিসিয়াল টিম স্ট্যাটাস নিয়ে ইংরেজিতে বকবক করছে,কখনো শান্ত ভাবে কথা বলছে, তো আবার কখনো ক্রোধ দেখিয়ে কথা বলছে।পিকি ঠাসঠুস শব্দ করে হ্যান্ডহোল্ড কলসোল দিয়ে গেম খেলছে। আর্দ্র সোফায় আরাম করে বসে বাড়িটা দেখছে, সোফার পাশে সেন্টার টেবিল থেকে নিজের কফিটা নিয়ে খেতে লাগলো।ও খুঁজতে লাগলো তিন কাল নাগিনী দের।

বাড়ির তিন গিন্নি রান্নাঘরে নিজেদের মতো কথা বলে হাঁসি খুশি মনোভাব নিয়ে কাজ করছে।
সিঁড়ি দিয়ে আস্তে আস্তে পা ফেলে নামছে ইতি,বিথী নীধি।ইতির পিছনে বিথী, বিথীর পিছনে নীধি। সিঁড়ি দিয়ে নেমেই তিন জন তিন জনের দিকে তাকিয়ে চোখে চোখে নিজেদের মতো কথা বলে,কথা বলা শেষ হলেই এগিয়ে য়ায সোফার দিকে।
আলবান, আর্দ্র, পিকি তিনজনেই মাথা তুলে মনোযোগ দেয় তাদের সামনে দাঁড়ানো তিন আলোকছটাদের দিকে,পড়নে কালো সুক্ষ বুনন করা একই রকম থ্রি পিস, তিনজনের মাথায় ওড়না দেয়া।
আলবানের সামনে তিনজনই হাত গুলোকে সামনে রেখে সম্মানের সহিত,মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে,দেখে মনে হচ্ছে এদের মতো ভদ্র মেয়ে আর কোথাও নেই,থাকতে পারেই না।
আলবান কান থেকে ইয়ারবাড টা খুলল, তাদের দেখে নিমিষেই আগের রাগ গুলো ধেয়ে আসতে লাগলো, ইচ্ছা করলো তিনটাকেই ঠাঁটিয়ে থাপ্পড় মাড়তে, হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে রেখেছে, ইতিকে দেখে মূহুর্তেই শরীরের রগ গুলো রাগে ফুলে ফেঁপে উঠতে লাগলো,চোখ জোড়া রক্ত বর্ন ধারন করলো।নিজের রাগকে নিজেই সংযত রাখার চেষ্টা চালালো অনেক ক্ষণ যাবৎ। কিছুক্ষণ পর আলোকছটাদের গম্ভীর কন্ঠে বলে,,,

__সমস্যা কি, সামনে কাল নাগিনের মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেন,বাহ কালো জামা ও পড়েছিস দেখছি????
কাল নাগিন বলায় তিনজনেই বেশ চটে গেলো কিন্তু প্রকাশ করলো না আলবানের কথাকে ইগনোর করে,ঠোঁটে বাঁকা হাঁসির রেখা টেনে তিন জনেই একসাথে বলে,,,,,
__আসসালামুয়ালাইকুম দাবানল ভাই,কেমন আছেন??
এই দাবানল নামটাই সহ্য করতে পারে না আলবান,ছোট বেলায় তো এই দাবানল ভাই নামটা বলে বলে মুখে ফেনা তুলতো এই তিন আলোকছটা,ওমনি আলবান ও ধাওয়া শুরু করে দিত,তিন আলোকছটাদেরই বা দোষ কি ??আলবানে নাম তাদের মুখে স্পষ্টভাবেই আসেই না,সহজ ভাবে দাবানল ভাই নামটা চলে আসে।আলবান রাগ দেখিয়ে যখনি কিছু বলতে যাবে তখনি আর্দ্র বলে,,,

__এইতো কোবরা টুইস্ট,তাহলে একটু পরিচয় করিয়ে দে, আমিও একটু পরিচিত হই।
সন্দিহিন চোখে আর্দ্রের দিকে তাকায় আলবান,,,
__ আজব? তোকে কেন পরিচয় করিয়ে দিতে যাবো?এমন ভাব করছিস যেন চিনিস এ না।
আর্দ্র আলবানকে চোখ টিপ মারলো ও কানে ফিসফিস করে বলে,,
__ যা বলছি তাই কর।আমার পরিচয় টা দে?
চোখ বন্ধ করে আলবান একটা শ্বাস ফেলে রাগকে সংযত করে,এবং তিন আলোকছটাদের দিকে তাকিয়ে বলে,,
~ও হলো আদ্রয়ান আর্দ্র ও…

কথা শেষ না হতেই ইতি, বিথী, নীধি একসাথে আবার বলে,,,,,
__আসসালামুয়াইকুম পাদরো ভাই?? কেমন আছেন?
নিমিষেই আর্দ্রের মুখে কালো ছায়া নেমে আসলো,এই নামটা এখনো এরা মনে রেখেছে, আর্দ্র ছোট বেলায় তাদের তোতা পাখির মতো করে শিখেয়েছিল যে তার নাম আ_দ_রো, কিন্তু তারা ওই পাদরো নামই বলে এসেছে, আর্দ্র ভেবেছিল আজ হয়তো সঠিক নামটা বলবে,ওই জন্য নতুন করে পরিচয় দিতে বললো আলবান কে।অসহায় মুখ নিয়ে আলবানকে বলে,,,

__ভাই আলবান আমার নামটাকে বাঁচা,এবার ও আমার নামের ইজ্জত ধুয়ে দিলো ওরা??
আলবান বলে,,,
__দেখ আর্দ্র,ছোট থেকে ওরা আমাকে দাবানল ও তোকে পাদরো ভাই ছাড়া কোন কালেই আলবান বা আর্দ্র ভাই বলে ডাকে নাই।এখন তোকে যখন একবার পাদরো ভাই বলছেই তাহলে ওটাই ফিক্স নাম তোর। মেজাজ খারাপ করিস না।
পাশে বসে থাকা পিকি মুখে হাত দিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। আর্দ্র এবার পিকিকে দেখিয়ে বলে,,,
__ও আমার বন্ধু, ইউএসএ একজন বড় ফ্যাশন ডিজাইনার ওর নাম পিটোটা….
আবার ও কথা শেষ হতে না দিয়ে ইতি, বিথী নীধি বলে,,,,

__আসসালামুয়ালাইকুম পটেটো ভাই।
পিকির এমন নামে আলবানের হাসি পায়, আর্দ্র তো জোরে জোরে হাসতে হাসতে সোফায় শুয়ে পড়ে, এদিকে পিকি অবস্থা দেখার মত বেচারার হাসি মুখখানি চুপসে গেছে,ইতি, বিথী, নীধিকে পিকি হাতের কব্জি টিলে করে নাড়াতে নাড়াতে বলে,,,
__সুইটির দলেরা,আমার নেইম পেটোটা পিকি,তুমরা আমাকি পিকি বলে ডাগবে ওকেহহহ।
ইতি বলে,,,
__আপনি আলুর মতো দেখতে সুন্দর ও গোলুমোলু,তাই আপানার সিলেক্ট নাম পটেটোই।ইস আপনার নাম রাখার সময় যদি আমি থাকতাম তাহলে এই নামটাই রাখতাম। আপনার আকিকার সময় কেন ডাকলেন না পটেটো ভাই।
ইতির কথা শুনে আলবান, আর্দ্র ও পিকি তাজ্জব বনে চলে য়ায়।আলবান দাঁতে দাঁত চেপে বলে,,

__ইডিয়েট তোর তখন জন্মই হয়নি??
নীধি বলে,,
__আমি তো জন্মে ছিলাম তাই না দাবালন ভাই।
আর্দ্র নিজের মাথায় হাত চাপকে বলে,,,
__তোমরা তিন জনেই জন্মে ছিলে, শুধু পিকি জন্মায়নি??
বিথী বলে,,,
__আরে পাদরো ভাই বুঝেন না কেন???
__কি বুঝলাম না??
__ওইটাই তো বুঝলেন না??
__আরে সেটা কোনটা??
__আপনি বুঝবেন না??
__বুঝবো বলো??
__সত্যি বলবো??
__হ্যা।
__আসলে আমিও কিছু বুঝি নাই,জন্ম আগে হোক বা পড়ে আমাদের তাও দাওয়াত দেওয়া উচিত ছিল পটেটো ভাইয়ের??

আর্দ্র হ্যাঁ হয়ে তাকিয়ে রইল বিথীর দিকে কিছুক্ষণ,সে মুলত বিথী কথাটা বোঝার চেষ্টা করছে, হঠাৎ করে কোথ থেকে একটা মশা এসে টুকে গেল আর্দ্রর মুখে, আর্দ্র তাও হা হয়ে বিথীকেই দেখছে,মশা যে মুখে ঢুকে ভো ভো করছে বেড়িয়ে আসার জন্য তা ঠিক বুঝতে পারলো বিথী,ওরনার একপাশ ঘুড়াতে ঘুড়াতে বিথী বলে,,,
__মুখে মশা ডুকে বাচ্চা ফুটাবে বলে,পাদরো ভাই তার
মুখের ভিতর তাদের স্থান দিলো,কততো ভালা মানুষ আমাগো পাদরো ভাই?
তিন বোনেই একসাথে হাত উপরে তুলে জয়ধ্বনি দেয়,,,
__মানবতার প্রতিক কে, পাদরো ভাই ছাড়া আর কে। আমার ভাই তোমার ভাই পাদরো ভাই পাদরো ভাই।
আর্দ্র একটা জোরে শ্বাস ফেললো তাতে মশাটা বেরিয়ে গেল, আর্দ্রের চোখ জোরা বড় হয়ে গেছে, চোখ মুখ কুঁচকে গেছে , একরাশ বিরক্তি নিয়ে আর্দ্র বলে,,,
__ছি কী বাজে ব্যাপার,মশা আমার মুখে ঢুকেছিল??
নীধি বলে,,
__নিশ্চিত আপনার মুখের গন্ধে টিকতে পারে নাই মশা??
আলবান এবার রাগ দেখিয়ে বলে,,
__স্টেআপ নিধী,যা গিয়ে পানি এনে দেয় ??
নীধি খানিকটা বিরক্তি প্রকাশ করে রান্নাঘরে যায় পানি আনতে। আর্দ্র মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল নিধি যাওয়ার পানে। নিঃশব্দে কিছুক্ষণ হাসলো।

একটু আগেই ইতি, বিথী, নীধির একমাত্র ফুফু এসেছে,নাম নীলা বেগম তার দুই সন্তান, এক মেয়ে ও এক ছেলে।মেয়ের নাম নিঝুম,বয়স ১৭ বছর ৬মাস , দাদ্বশ শ্রেণীতে পড়ে, ছেলের নাম নিখিল,বয়স ১১।ইতি বিথী নীধির ৩মাসের ছোট নিঝুম,নিঝুম ও মুহিন সমবয়সী।
নিঝুম এই কিশোরী বয়সে আলবানকে নিয়ে কতকি ভাবে,বিয়ে করেছে, সংসার করছে,১০ টা বাচ্চাকাচ্চা হয়েছে বাচ্চাদের ডায়পার চেঞ্জ করায় দিচ্ছে আলবান, নিঝুম রান্না ঘরে পিয়াজ কাটার ফলে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে, তা আলবান দেখে ও তার পড়নের শার্ট দিয়ে যত্ন করে মুছে দেয়,এমনকি নাকের সর্দি ও মুছে দিচ্ছে।আরো কত কি ভাবে দিনরাত??
নীলা বেগমকে দেখে ইতি বিথী নীধি দৌড়ে এসে ঝাপ্টে ধরে ।নীলা বেগম হাসতে হাসতে বলে,,

__ওরে মারে, আমার হাড় হাড্ডি ভাইঙ্গা দিলি তোরা।
ইতি বলে,,,
__কেমন আছো ফুফি??
__ভালো আছি।তোরা কেমন আছিস??
তিনজনেই বলে,,,
__আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
নিঝুম এক মনে তাকিয়ে আছে সোফায় বসা আলবানের দিকে,এতো দিন ফোনের স্ক্রিনে দেখেছিল,আর আজ সামনাসামনি দেখছে।ইতি, বিথী, নীধি তারা নিঝুম কে ছোট ছোট চোখ করে পর্যবেক্ষণ করছে।তিনজনই যে নিঝুম কে দেখছে সেদিকে নিঝুমের কোন খেয়ালই নেই। বিথী নিঝুমের মাথায় একটা ঠাডা মেরে বলে,,,
__ওই মাইয়া ওই,মনে কি সাইয়া সাইয়া চলে নাকি, বিদেশী ভুত গুলোরে দেইখা??
নিঝুম নিজের ভাবনা জগৎ থেকে বেড়িয়ে চোখ বড় বড় করে বিথীকে বলে,,,

__ভূত কারে কইস তুই??ওনি ভূত না।
ইতি ভ্রু কুঁচকে বলে,,,
__আচ্ছা ভূত না,ওরা হচ্ছে বিদেশী পাটা,এবার হইছে??
নিঝুম রাগ দেখিয়ে বলে,,,
__ইতিততত?রাগ উঠহাইস না?সর সামন থেকে!
নীধি বলে,,,
__সম্মান করে কথা বল?আমরা তোর বয়সে বড় লাগি??
নিঝুম আর কিছু না‌ বলে মুখ বাঁকিয়ে চলে যায় সোফার
দিকে।
ইতি বলে,,,
__মেয়েটার বিয়ে দেওয়া জরুরি রে,কী বলিস??
বিথী বলে,,,
__প্রসেসিং শুরু করি তবে।
নিধী বলে,,,
__কেমনে কি??
বিথী বলে,,,
__ওটা ইতি জানে??

তালুকদার বাড়ি সব সদস্যরাই সোফায় বসে, নীলা বেগম আশায় তালুকদার বাড়িতে আরো বেশি হইচই মেতে উঠেছে,নীলা বেগম আলবান ও তার বন্ধু পিকির সাথে পরিচিত হয়, নিঝুম ও তার সাথে পরিচিত হয়। এদিকে পিকি হিসাব মেলাতে ব্যস্ত আর্দ্রের কানের কাছে গিয়ে পিকি ফিসফিস করে বলে,,,,
__আদ এই বাড়ির ওম্যানদের সাথে লাগা যাবে না বুসলি, তাদের সামোনে ভেজা ক্যাট হয়ে থাকা লাগবে।
আর্দ্র ভ্রু কুঁচকে বলে,,,
__কেন??
__আমার সাথে তুই ও একটু ক্যালকুলাস কর,দ্যাখ,তুই আমি,আলবান,আলবানের বাবা নাজিম তালুকদার,চাচা নাইম তালুকদার, ছোট চাচা নাফিস তালুকদারের,আর ছোট ভাই বলতে মুহিন,তাহলে পুরুষরা কয়জন হলো।
কিছুটা অবাক হয়ে আর্দ্র বলে,,,,
__সাতজন??
__হুম, এবাল ইতি, বিথী, নীধি, এদের মা সিদ্দিকা বেগম,আলবানে মা আলিফা বেগম, মুহিনের মা মিলি বেগম, মুহিনের ছোট বোন মিশকাত, নিঝুম, নিঝুমের মা,আলবানের দাদি।এখন কয়জন হোলো।
__১০ জন??
__এখন আমার কি মনে হচ্ছে জানিস?
__কি??
__আমি মহিলাদের কলেজের গার্ড?
পিকি হাতের কব্জি গুলো টিলে করে নাড়াতে নাড়াতে আবার বলে,,,
__বাড়ির মহিলা গুলো অনেক কিউটি কিউটি, বিশেশ করে কোবরা টুইস্টরা।
আর্দ্র রসিকতা স্বরে বলে,,

__ওই তিন কাল নাগিনেরা কি করছে ভুলে গেলি সব??
__একতু সিকি (দুষ্টু) তবে খুবেই কিউট গার্ল।
সোফায় এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ইতি, বিধি ,নিধি। আর্দ্র তাদের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভেবে বলে,,,
__কোবরা টুইস্ট তোমাদের ভবিষ্যৎ প্লান কি??
তিন আলোকছটারা তাদের বাবা দিকে একবার তাকিয়ে ভয়ার্ত কন্ঠে বিথী বলে,,,
__আমি ডাক্তার হবো পাদরো ভাইয়া।
নিধী বলে,,,,
__আমিও ডাক্তার হবো।
ইতি কিছু বলে না,তাই আর্দ্র আবার বলে,,,
__তুমি কি হবে ইতি।
আলসে ভাব নিয়ে ইতি বলে,,,
__আমি রোগি হবো পাদরো ভাই।
ইতির এমন কথায় সোফায় থাকা প্রত্যেক সদস্যে ইতির দিকে তাকায়।ইতির বাবা হালকা রাগি চোখে ইতির দিকে তাকিয়ে বলে,,,
__মামনি,ওরা ডাক্তার হলে তুমি ও হবে??
ইতি তার বাবার কাছে গিয়ে একটু বিরক্তি নিয়ে বলে,,

__বাবা জানো,একদিন আমাদের ক্লাসে শিক্ষক সবাইকে বলেছিল “তোমার ভবিষ্যৎ কি হতে চাও তা এক্সপ্লেইন করো” উওরে ৯৯% মেয়ে ছেলে বলেছে “আমি ডাক্তার হবো”,১% শুধু ভিন্ন কিছু বলছে।এখন আমি যেটা ভাবছি,সবাই যদি ডাক্তার হয় তাহলে এত এত রোগি কোথায় পাবে।আর যেহেতু এত রোগি নেই তাই আমার রোগি হওয়ার পথে কোন বাঁধা বিঘ্নও নেই।তাই সেদিন থেকে প্লাল করি ভবিষ্যতে আমি একজন বিশ্বের বড় রোগি হবো, একদম নাম করা রোগি।
সোফায় বসে থাকা সবাই আহাম্মক এর মতো হা হয়ে তাকিয়ে থাকে ইতির দিকে। সিদ্দিকা বেগম রান্না ঘর থেকে সব কথা শুনে সোফার কাছে আসে, হাতে তরকারি নেড়ে দেওয়া খুন্তিটা নাড়াতে নাড়াতে রাগি স্বরে বলে,,,

__কে বললো এ কথা,কে বলল,আর একবার বলুক,আমার খুন্তির পজিশন রেডি আছে।বল বল কে বললি এ কথা।
ইতি তার মায়ের রাগ কেমন তা ভালো করেই জানে, সবার সামনে মেরে প্রেস্টিজ পাংচার করতে এক মিনিট ও ভাববে না।তাই ইতি তড়িৎ বেগে আলবানের বাবার পাশে বসে লুকালো ,এই মুহূর্তে তাকে তার বড় বাবা ছাড়া কেউ বাঁচাতে পাড়বে না।ইতির বাবার ও মেজাজ বিগড়ে আছে। নাজিম তালুকদার ইতির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,,,
__মা এ কেমন কথা, পৃথিবীতে অনেক পেশা আছে তুমি সেগুলোর একটা বেঁচে নাও।
ইতি আর কিছু বলে না।
আলবান শান্ত চাহনি নিয়ে,তার বাবার বুকে ঠোঁট উল্টে থাকা কান্নারত মেয়েটাকে দেখছে,আজ একটু বেশিই আদুরি লাগছে আলবানের কাছে ইতিকে। যদিও তার সব রাগ এই মেয়েটার উপর তবু ও এক অদ্ভুত অনুভূতি নিয়ে দেখছে আর মনে মনে বলছে,,

__এই মেয়েটা আর ঠিক হলো না,হবেও না?
হঠাৎ করেই ইতি সবার সামনেই বলে,,,
__দাবালন ভাই ওমন করে আমায় দেখবেন না, বলে দিলাম??
আলবান মোটেও প্রস্তুত ছিল না এমন কথার জন্য।ইতি এমন কথায় সবাই আলবান দিকে তাকায় এতে আলবান কিছুটা লজ্জা পায় গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,,,
__আমার কি খেয়ে দেয়ে কাজ নেই নাকি যে তোকে দেখতে যাবো।

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ১

মনে মনে আলবানের খুব ইচ্ছে করলো ইতিকে একটা জোরে থাপ্পড় মাড়তে সবার সামনেই।
আলবান একবার নিঝুমের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে,,,
___উফ বাবা এই মেয়ে এমন করে দেখছে কেন আমায়??
আলবানের ও খুব ইচ্ছে করলো ইতির মতো করে নিঝুমকে বলতে যে “এই নিঝুম খবরদার আমায় এমন করে দেখবি না” কিন্তু বলতে পারলো না কারণ সে আর ইতির মতো তারছিড়া,লজিকলেস,ব্রেনলেস না।

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৩