Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১৪

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১৪

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১৪
জান্নাতি আক্তার জারা

আরশ মাহির কে একটু ধাক্কা দিয়ে বলল,
” দোস্ত এটা তো এয়ারপোর্টের বাচ্চাদের মতো কান্না করা সেই মেয়েটা না?
মাহির চেয়ার থেকে উঠে এসে আরাতের সামনে দাড়ালো, এক নজর আরাত কে দেখে আরাতের পাশ কেটে নিজের ক্লাসের দিকে চলে গেলো, মাহিরের চলে যাওয়ার দিকে সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো, আরশ চেয়ার থেকে উঠে মাহিরের পিছে যেতে যেতে মাহির কে আশ্চর্যর ন্যায় প্রশ্ন করলো,

“এটা কী হইলো,তুই মেয়েটা কে কিছু বললি না কেনো?
” মুড নেই।
“মানে কী, তাহলে মেয়েটা কে এভাবে ডেকে নিয়ে আসার মানে টা কী?
” মাই মার্জি।
মাহিরের গা ছাড়া ভাব দেখে আরশের বিরক্তি লাগলো, রুপা নামে মেয়েটা সেদিকে তাকিয়ে অবাকের ন্যায় বলে
” লাইক সিরিয়াসলি, মাহির কিছু না বলে এভাবে চলে গেলো হু,
রুপার কথায় সন্ধ্যা আরাত, রুপার দিকে তাকালো। আরাত কে নিজের দিকে তাকাতে দেখে রুপা আরাতের দিকে কয়েক পা এগিয়ে এসে। আরাতের সামনে দাঁড়িয়ে মুখটা ব্যঙ্গ করে বলল,
” হুমউউ লাকি গার্ল’সসস!
“ইয়া আইএম লাকি গার্ল বাট,থোরাসা মেসটেক
আরাতের কথায় যেন রুপা মেয়েটা তাজ্জব বনে গেলো, আরাত যে এভাবে মুখে উপর উত্তর দিবে রুপার ধারনায় ছিলো না, রুপার রাগ লাগলো, জুনিয়র হয়ে মুখে মুখে তর্ক ব্যাপারটা একদম পচ্ছন্দ হইলো না। রুপা রাগ নিয়ে আরাত কে পুনরায় বলে,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

” হোয়াট ডু ইউ মিন?
“বললাম আমি শুধু এখন না,ছোট্ট বেলা থেকেই লাকি গার্ল।
রাব্বি (ছেলেটা) আরাতের কাছে এসে রুপার সঙ্গে দাঁড়িয়ে বলে,
“শুনো মেয়ে মাহির ভাইয়ের হয়তো ইমার্জেন্সি ক্লাসে যাওয়াটা দরকার ছিলো। সো এতটা খুশি হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই ওকে, ভাইয়ের পানিশমেন্ট জন্য এডি হও।
” আপনার মাহির ভাই কে আমার তরফ থেকে, অল দ্যা বেস্ট ভাইয়াইই।
কথাটা বলে আরাত বাঁকা হেঁসে সন্ধ্যার হাত টেনে নিয়ে কেন্টিন থেকে বের হয়ে স্কুটি কাছে এলো, সন্ধ্যা আরাত কে বলে উঠলো ,

“এটা তুই কী করলি?
” আমি আবার কী করলাম?
“কী করোস নাই, কলেজে প্রথমদিন এসেই সিনিয়রদের সঙ্গে ঝামেলায় জরিয়ে গেলি,জানোস এখন ওরা আমাদের কী করতে পারে?
আরাত সন্ধ্যার কথায় ঠোঁট উল্টিয়ে গা ছাড়া ভাব নিয়ে উত্তর করলো ,
“হোয়াটেভার যা ইচ্ছা করুক, আমার কী তাতে?
” কলেজে রেগিং কথা শুনছোস, যদি আমাদের রেগিং দেয় তাহলে। জানি তুই একটু চঞ্চল তাই বলে জুনিয়র হয়ে সিনিয়র দের সঙ্গে তর্ক করবি?
“শুন সন্ধ্যা, এখানে আমার কেনো দোষ নেই,মাহির নামে ছেলেটা কিন্তু কিছু বলে নাই ওরা শুধু শুধু আমার সঙ্গে লাগতে আসলে আমিও কমে ছেড়ে দিবো না।
সন্ধ্যা’র, মাহির নাম টা শুনামাএ মুখের উৎফুল্লতা ভেসে উঠলো, সন্ধ্যা উৎফুল্লতা শহিদ, আরাত কে হাত দিয়ে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বললো,

” মাহির উফফ রে, এতো কিউট কেন রে ছেলেটা! আমি প্রথম দেখায় ক্রাশ খাইলাম।
” ছ্যাঁচড়ামি বন্ধ কর,বাসাতে যেতে চাইলে স্কুটিতে ওঠে পর, আজকে আর ক্লাস করবো না।
“তুই বাসায় চলে যাবি আমি আর একা একা কী করবো, চল আমাকে আমার বাসায় নামিয়ে দিবি।
” হুম চল।
আরাত আর সন্ধ্যা স্কুটি নিয়ে কলেজ থেকে বের হয়ে গেলো, কলেজের দুতলার করিডরে দাঁড়িয়ে মাহির আরাতের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলো,আরশ মাহিরের পাশে এসে দাড়িয়ে বলল,
“এটাই কী তোর অশ্রুভেজা চোখের মালিকানা?
” উহুম,তার ওই দুচোখের অশ্রুভরা চাওনি মারাত্মক সুন্দর ছিলো।

“রশ্মি রে, রশ্মি রশ্মি রশ্মি, আইএম ক্রাশ…..
আরাত বাড়িতে এসেই কোনোদিকে না তাকিয়ে সোজা সিড়ি বেয়ে দৌড়ে নিজের রুমে এসে রুমটা ভিতর থেকে লক করে রশ্মির কাছে ফোন লাগলো। রশ্মি বাসা থেকে বের হয়ে একা একা রাস্তা দিয়ে রং বেরঙ্গের ম্যাপল পাতার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে পার্থর সঙ্গে প্রথম বার যেখানে দেখা করছিলো, সে জায়গায় এসে একটা ব্রেঞ্চ বসে পরলো, রশ্মির ব্রেঞ্চে বসার পর পার্থ সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার মুহূর্তগুলো মনে পড়ে গেলো, রশ্মি পার্থ কথা মনে পরত-ই মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো। হটাৎ ফোনে ফোন আসায় নিজের ভাবনা থেকে বের হয়ে ফোনটা দেখলো,আরাতের ফোন দেখে মুচকি হেসে ফোন রিসিভ করতেই ফোনের ওপাশ থেকে আরাতের উৎফুল্লভরা কন্ঠ ভেসে এলো,রশ্মি আরাতের কথায় অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

” তুই ক্রাশ মানে? বুঝলাম না, এমন হাঁপাচ্ছিস কেনো?
“আমি ক্রাশ মানে, এই বেডা রে ভালো লাগছে !
” এক কাজ কর তুই এক গ্লাস পানি খেয়ে নে আগে, তারপর সবকিছু খুলে বল!
আরাত রশ্মির কথায় বেডসাইড উপর থেকে জগ নিয়ে এক গ্লাস পানি ধেলে ধকধক করে খেয়ে নিলো, রশ্মি পূর্বের নেয় ঠান্ডা কন্ঠে আরাত কে শুধালো,
“তোর না আজকে কলেজের প্রথম দিন,এই অসময়ে বাসায় কী করোস?
” দোস্ত পার্থর সঙ্গে তোর প্রথম দেখায় কেমন অনুভূতি হইছিলো রে?
রশ্মি যেন আরাতের কথায় কিছুটা লজ্জা পেলো এবং অবাক হইলো কিছুটা। আরাত অধৈর্য ন্যায় পুনরায় জানতে চাইলো, রশ্মি এবার তার আর পার্থ প্রথম দেখা হওয়াটা আমতা আমতা করে বলতে শুরু করলো,
“আমাকে বলছিলো, প্রথমবার আমাকে শাড়ি পরিহিত দেখতে চায়, আমিও মনে হাজারো রং নিয়ে, তার রশ্মিরানী সেজে, গিয়েছিলাম।

“তারপর?
“তারপর! পার্থ রিসোর্টে মিট করতে চাইছিলো। বাট আমার ইচ্ছা ছিলো এই হালকা ঠান্ডা ওয়েদার, রং বেরঙ্গের ম্যাপল পাতার সৌন্দর্য মতো তা’কেউ অনুভব করা। সে আমার ইচ্ছা পূরণ করছে সে আমাদের প্রথম দেখা এই রাস্তায় হাজারো ম্যাপল পাতার মধ্যে একটা ছোট ব্রেঞ্চে আমার জন্য ওয়েট করছিলো।
তুই তো জানোস আমার শাড়ি একদম পছন্দ না তারপরও তার জন্য আমি বাঙালি নারীদের মতো, কুচি করা লাল সুতি শাড়ি সঙ্গে হাত ভরা কাঁচের চুরি পড়ে চুলগুলো হাত খোঁপা বেঁধে, তাঁর রশ্মিরানী সেজে গিয়েছিলাম।
কথাগুলো বলে রশ্মি একটু নিঃশ্বাস নেয়,আরাত অধৈর্য ন্যায় রশ্মি কে তাড়া দিতে লাগলো,
” মিন পয়েন্টে এসে হ্যাং মেরে গেলি কেন, তারপর বললা?
“আরে বাবা দাঁড়া, একটু নিঃশ্বাস নিতে দে।
” নিঃশ্বাস পড়েও নিতে পারবি, আগে কথা শেষ কর, আমার ভিতরে এক্সাইটেড কাজ করছে পড়ের লাইন শুনার জন্য।

রশ্মি আরাতের কথায় দুষ্টুমি করে বলে,
“নিঃশ্বাস বন্ধ রাখে কীভাবে, এই টেকনিক আগে আমাকে শিখা, তারপর বাকি কথাগুলো বলল।
আরাত রশ্মির কথায় বিরক্তি হয়ে পুনরায় জানতে চেয়ে বলে,
” আরে ফাজলামো বাদ দিয়ে বল না’রে বোন___তুই যখন পার্থর সামনে গেছোস তোর কেমন ফিল হয়েছিলো?
আরাত কথাগুলো বলে রশ্মির উওরে অপেক্ষা করলো, রশ্মি আরাতের ব্যাকুলতা বুঝতে পেরে মুচকি হেসে পুনরায় বলতে শুরু করলো,
“আমার হেঁটে আসা পায়ে শুকনো ম্যাপল পাতা গুলো মচমচে শব্দেয় যখন,পার্থ ব্রেঞ্চে বসা আবস্থাতে মাথা টা ঘুড়িয়ে তাকালো। বিশ্বাস কর আরাত, আমি ওই মায়াবী চেহারায় থমকে গেলাম। আমার পা চলাচল বন্ধ হয়ে গেলো, মানুষ এতটা মায়াবী কিভাবে হয়’রে। সে জেনো বাস্তব এক রাজকুমার। আমি তার বর্ননা দিয়ে শেষ করতে পারবো না।
রশ্মির কথার মধ্যে আরাত কথা বলে উঠলো,

” তোকে দেখে পার্থ চৌধুরীর রিঅ্যাকশন কেমন ছিলো?
রশ্মি এবার একটু বেশিই লজ্জা পেলো, লজ্জা মাখা মুখে রশ্মি পুনরায় বলে উঠলো,
“সে আমাকে দেখে যেন কিছু মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধ হয়ে বসে ছিলো, কয়েক মুহূর্ত পর আমি তার সামনে গিয়ে হাত দিয়ে ইশারা করলাম, সঙ্গে সঙ্গে সে স্বাভাবিক হয়ে গেলো। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম আমাকে কেমন লাগছে, সে শুরু মুখে মলিন হেসে পুনরায় আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
” আমার জীবনটা এলোমেলো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
“হুম’উউহ, ব্যাটা তো দারুন রোমান্টিক আছে।
আরাতের দুষ্টুমিতে রশ্মি মুচকি হাসলো,তারপর একটু মলিন মুখে বলল,

” আমি তার কথাটার মানে বুঝি নাই। আমাদের মিট করার আগে ও আমার সঙ্গে ফোনে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছিলো, দেখা করার পর কেমন যেন আলেদা পার্থ কে অনুভব করলাম, যেন এই পার্থকে আমি জানি না।
“হয়তো প্রথম দেখা করছিস এজন্য এমন লাগছে।
” না’রে এই পার্থর সঙ্গে আগের পার্থের মিল খুজে পাইনা আমি।
“কেনো তোদের মধ্যে ঝামেলা হয়ছে নাকি।
” উহুম না, পার্থ ওর ফ্রেন্ড’দের সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে, জানিস তাদের মধ্যে একজন বাঙালি ছেলে রয়েছে। ওই ভাইয়ার কাছে পার্থ অল্প-সল্প বাংলা শিখেছে।
রশ্মির কথায় আরাত কিছু বলতে নিবে, দরজায় বাহিরে আদিবা তালুকদারের কন্ঠ শুনতে পেয়ে আরাত রশ্মি কে তাড়াহুড়ায় বলল,
“তোর সঙ্গে পড়ে কথা বলবো, মা ডাকছে! আল্লাহ হাফেজ।
আরাতের ফোনটা কেটে গেলো, রশ্মি ফোনের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে মন খারাপ নিয়ে,
” তোকে জরিয়ে ধরে অনেক কথা বলতে ইচ্ছা করছে রে আরাত,আফসোস মন চাইলেও সম্ভব না।

বিকাল ৫:৩৫ ঘরে, আতিফ শেখ বাসায় এসে বাহিরের পোশাক বদলে নিচে এসে নেমে এলেন, ড্রয়িং রুমে এদিক ওদিকে তাকিয়ে নিজের গিন্নি কে খুঁজলেন। আনহা শেখের টুকটাক আওয়াজ আরিশার রুম থেকে ভেসে এলো। আরিশা আর আনহা শেখ আড্ডা দিচ্ছেন, আতিফ শেখ বড়ো মেয়ের রুমের দিকে যেতে নিতেই কিচেন থেকে টুকটাক শব্দ কানে ভেসে এলো। আতিফ শেখ চোখের চশমাটা হাত দিয়ে ঠিক করে নিয়ে হাতের ঘড়িতে সময় দেখলো। এই অসময়ে কিচেন রুমে কে থাকতে পারে এটা দেখার জন্য দুএক-পা করে কিচেনের দিকে এগিয়ে গেলেন। কিচেন রুমে আইরা কে কোমরে ওড়না পেচিয়ে পাতিলে দুধ ঢালতে দেখে আতিফ শেখ বললেন,
“আম্মু তুমি অসময়ে কিচেনে কী করো?
আইরা মনোযোগ সহকারে পাতিলে দুধ ঢালছিলো, হটাৎ কারো কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়ে চমকে উঠে, কিছুটা দুধ নিচে পড়ে যায়। আইরা পিছনে তাকিয়ে নিজের বাবা কে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বলে,

“ও আব্বু তুমি, আমি তো ভয় পেয়ে গেয়েছিলাম।
” তুমি একা একা কিচেনে কী করো? কিছু খেতে ইচ্ছা হইলে তোমার আম্মু কে বলতে তোমার আম্মু বানিয়ে দিতো?
আইরা আতিফ শেখের কথায় মুখে হাসি টেনে বলে,
“আম্মু আমি তোমার পচ্ছন্দের পায়েস রান্না করতাছি, তুমি জাস্ট ড্রয়িং রুমে পনেরো মিনিট ওয়েট করো।দেখবে তোমার পায়েস এডি হয়ে গেছে।
” আমার তো একা ফেবারিট না আম্মু? শুধু কী আমার জন্য কষ্ট করছো?
আতিফ শেখের দুষ্টুমি কথায়, আইরা লজ্জা পেলো,লজ্জায় উত্তেজনা হয়ে ভুলভাল উত্তর করল,
” আমার খুব প্রিয় দুই ব্যক্তির জন্য!
আইরা মুখ ফসকে কথাটা বলেই চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে, নিজের মাথায় নিজেই ছোট্ট করে বারি দিলো। আতিফ শেখ মেয়ের পাগলামি দেখে শব্দ করে হেসে উঠলো। আইরা আতিফ শেখের হাসি দেখে মুখ ফুলিয়ে এগিয়ে এসে আতিফ শেখের হাত ধরে টানতে টানতে কিচেন রুম থেকে বের করে বলল,

“আব্বু তুমি যাওনা প্লিজ!
” আচ্ছা বাবা ঠিক আছে আমি যাইতেছি, পাগল মেয়ে একটা দেখি এদিকে এসো।
আতিফ শেখ কথাটা বলেই আইরার কপালে একটা ভালোবাসার পরশ রেখে দিলো। এবার আইরা আর আতিফ শেখ দুজনের একসঙ্গে হেসে উঠলো। আতিফ শেখের দুই মেয়ে খুব আদরের। তবে বড়ো মেয়ে থেকে ছোট্ট মেয়ে কে একটু বেশি আগলে রাখেন তিনি। কথায় আছে মেয়েরা বাবার প্রতি দুর্বল থাকে আর ছেলেরা মায়ের প্রতি, কিন্তু আইরা তার বাবার প্রতি দুৃ্র্বল আর আরিশা ওর আম্মুর প্রতি। আইরা ওর আম্মু কে একটু ভয় পায়।
আইরা পায়েস রান্না করে আতিফ শেখ কে নিজে বসে থেকে খাওয়ানোর পড়ে আরিশা আর আনহা শেখের জন্য রেখে দুইটা টিফিন বাটি সাজালো, একটা তার আনাস ভাইয়ের জন্য। আরেকটা তালুকদার বাড়ির জন্য টিফিন বাটি সাজানোর শেষে। নিজেকে পরিপাটি করে নিয়ে বাবা কে বলে চললো মামার বাড়ি উদ্দেশ্যে।

আরাত গুন গুন করতে করতে আহিনের রুমে যাচ্ছে,দুপুরে রশ্মির সঙ্গে কথা বলার সময় মায়ের ডাকে রুম থেকে বের হয়ে,কিচেনে আসতেই দেখে দুপুরের রান্না হয়েছে আরাতের পচ্ছন্দের সুস্বাদু গরুর কষা মাংস, আরাত আদিবা তালুকদারের কথা না শুনেই পুনরায় নিজের রুমের দিকে দৌড়, পিছন থেকে আদিবা তালুকদার ডাকলেন, আরাত সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে মায়ের কথায় উত্তর করলো,
“মা দু মিনিটে আরছি, তুমি বেশি করে গরম গরম ভাত আর মাংস প্লেটে রাখো!
আদিবা তালুকদার মেয়ের প্রতি বিরক্তি হইলেন অসময়ে খাবার খাবে বলে। রাবেয়া তালুকদার তাকবীরে জন্য চিংড়ি মাছের মালাইকারি রান্না করতে করতে আদিবা তালুকদার কে দেখে বললেন,

” কীরে ছোট্ট, মেয়েটা কী বললো শুনলি না, যা মেয়েটার জন্য প্লেটে ভাত তোল।
আদিবা তালুকদার একা একা কথা বলতে বলতে আরাতের জন্য প্লেটে ভাত রাখলো, আরাত ফ্রেশ হয়ে যেভাবে দৌড়ে রুমে গিয়েছিল আবার সেইভাবেই দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে এসে ভাতের প্লেট টা নিয়ে সোফাতে বসলো।এটা দেখে আদিবা তালুকদার এবার আরাত কে বকা দিতে লাগলেন,
“তুই আর ঠিক হবি না, কবে বড়ো হবি? ডাইনিং টেবিলের গিয়ে বসে সুন্দর মতো খাইবি তা না শুধু সোফাতে। হটাৎ কোনো মেহমান আসলে কী ভাববে তাড়া….

“উফফ মা, তুমি আবার শুরু করলে,দুরু ভালো লাগে না আর।
কথাটা বলে ভাতের প্লেট নিয়ে সোফা থেকে উঠে কিচেনে গিয়ে আরো দুইপিস মাংস নিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো,আদিবা তালুকদার শুধু হতাশ চোখে মেয়ের চালচলন দেখলেন। আরাত খাবার শেষ করে সেই যে বিকালে ঘুমাইছিলো সেই ঘুমে সন্ধ্যা এখন। আরাত ঘুম থেকে বিছানায় শুয়ে থাকা আবস্থাতে ফোন দেখতে লাগলো, রশ্মি কোথায় কোথায় ঘুরছে সে-সব পিক হোয়াটসঅ্যাপ করেছে। আরাত সময় নিয়ে পিক গুলো দেখে আরো কিছুটা সময় ফোন টিপে ওঠে ফ্রেশ হয়ে আহিনের রুমে দিকে যাচ্ছে আড্ডা দিওয়ার জন্য,
” এই চলে গেলো, চলে গেলো, দেখো দেখো চলে গেলো রে,চলে গেলো।
আরাত আহিনের রুমের দরজায় আসতে আহিন হাত-পা নাড়িয়ে চেচিয়ে উঠলো, আহিন কে চিল্লাতে দেখে আরাত তাজ্জব বনে দাঁড়িয়ে রইলো কিছুক্ষণ তারপর এদিক ওদিক তাকিয়ে আহিন কে বলল,

” কার কথা বলছিস? কে চলে গেলো?
আহিন ঠোঁট উল্টিয়ে,
“সয়তান।
“মানে?
” তোমার আগমনে সয়তান ভয়ে পালিয়ে গেলো।
“কী বললি আমাকে দেখে সয়তানও পালিয়ে যায়, উফফ তাহলে তো তোকে বুঝতে হবে আরিবা তালুকদার আরাতের গুন কতটা।
” হ্যাঁ সয়তান যেহেতু পালিয়ে গেলো, তাহলে তোমার ভন্ডামী প্রশংসা না করলেই না, তুমি অনলি ওয়ান পিস।
আহিনের কথায় আরাত নাটকীয় ভঙ্গীমায় নিজের দিকে হাতের ইশারায় বলে,
“ইয়া আকাশে লক্ষ তাড়া চাঁদ কিন্তু এইটাই রে।

কথাটা বলেই দুজন শব্দ করে হেঁসে উঠলো, তারপর আরাত আহিনের ঘাড়ে হাত রেখে আহিন কে নিয়ে রশ্মিদের বাড়ির উদ্দেশ্য বের হইলো। আরাত আহিন ড্রয়িং রুমে কাউকে দেখলো না,দুজন মিলে সদর দরজায় দিয়ে বের হতে যাবে ঠিক তখনই সদর দরজায় দিয়ে আদিল কে বাড়ি ভেতর ধুকতে দেখে দাঁড়িয়ে গেলো,
” আরে আদিল ভাইয়া যে, অনেক দিন পর দেখা হইলো, কই থাকেন এখন আপনাকে খুব একটা দেখা যায় না,আজকে কী মনে করে আপনার পায়ের ধুলা পড়লো তালুকদার বাড়িতে ?
আদিল ড্রয়িং রুমে পা রাখতেই আরাত আর আহিন কে দেখে হাসি মুখে দাঁড়িয়ে গেলো,আদিল আরাতের এক নিঃশ্বাসে এতএত কথায় কোনটা আগে উত্তর করবে এটাই ভেবে পেলো না তাই বাধ্যতামূলক মুখে হাসি টেনে উত্তরে বলল,

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১৩

” ওই আরকি,স্যার একটা ফাইল নিতে পাঠালো। খুব লেট হয়ে যাচ্ছে আমি তোমাদের সঙ্গে অন্যএকদিন আড্ডা দিবো, এখন চললাম আল্লাহ হাফেজ ।
বলেই আদিল সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে তাকবীরের রুমে দিকে গেলো, আরাত আহিন সেদিকে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টিয়ে আলভী দের বাড়িতে চলে গেলো। রাহিমা সুলতানা সঙ্গে আড্ডা দিবে বলে।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১৫