তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪০
জান্নাতি আক্তার জারা
প্রায় ঘন্টা দেড়েক ঘুমানোর পর আরাতের ঘুম ভেঙে যায়। ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে দেখে বাড়ি ফাঁকা, মানে মিম সন্ধ্যা মায়া কেউ নেই নিজেদের বাড়িতে চলে গেছে। আরাত কিচেনে এসে প্লেটে খিচুরি তুলে নিয়ে টিভি চালু দিয়ে সোফাতে বসে খেতে খেতে টিভি দেখতে লাগলো। রাবেয়া তালুকদার ড্রয়িং রুমে এসে দেখেন আরাত টিভি দেখছে আর খাবার খাচ্ছে। তিনি কিচেন থেকে মাংসের বাটি এনে আরাতের প্লেটে দিলেন। আরাত রাবেয়া তালুকদারের দিকে তাকাতেই তিনি বললেন তোমার জন্য। আরাত কিছু না বলে টিভি দেখতে দেখতে খাবার শেষ করলো। ঘুম থেকে উঠে মনটা কিছুটা ফুরফুরে হয়ে আছে। তাঁর যে বিয়ে হয়ে গেছে এবং তাঁর জীবনে এতকিছু ঘটে গেলো সবকিছু সাইটে রেখে আরাত বিন্দাস টিভি দেখছে।টিভিতে চলছে টিকটিক অ্যাপস। রাবেয়া তালুকদার পুনরায় আরাতের সামনে এসে বললেন, আরাতের জামাকাপড় তাকবীরের রুমে গুছিয়ে রাখতে। আরাত প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও পরমুহুর্তে মনে পড়ে গেলো গতকাল রাতে তাঁর বিয়ে হয়ে গেছে। আরাত কে এখন থেকে তাঁর হাসবেন্ড অর্থাৎ বীর ভাইয়ার রুমে থাকতে হবে। আরাত মন ভার করে সোফা থেকে উঠে রাবেয়া তালুকদার কে জরিয়ে ধরে বলল,
___” বড়মা আমি আমার রুমে থাকবো, বীর ভাইয়া কেমন গম্ভীর হয়ে থাকে সবসময়। বীর ভাইয়ার সামনে থাকতে কেমন যেন লাগে আমার।
রাবেয়া তালুকদার ছেলের বউয়ের কথায় হেঁসে উঠলো, হাসি মুখে আরাতের গালে হাত রেখে আদুরে গলায় বললেন,
___” বিয়ের পড়ে স্বামী স্ত্রী আলেদা থাকতে হয় না মা, তোমাকে আমার ছেলের রুমে থাকতে হবে।
___” কিন্তু বড়মা?
রাবেয়া তালুকদার এবার একটু কঠিন মুখে বললেন,
___” কোনো কিন্তু না,যাও তোমার জামাকাপড় তাকবীরের রুমে গুছিয়ে রাখো।আমি তোমার শাশুড়ী শাশুড়ীর কথা অমান্য করবে না।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
রাবেয়া তালুকদার কথাগুলো বলে চলে গেলেন। আরাত রাবেয়া তালুকদারের যাওয়ার দিকে বোকা বুনে চেয়ে রইলো। হটাৎ তাঁর বড়মা এমন ভাবে কথা বলছে কেনো। আরাত বিরক্ত মুখে পুনরায় টিভি দেখতে লাগলো, টিভিতে মন বসছে না। সোফাতে বসে ইমোট মুখে রেখে অন্য চিন্তায় মসগুল। আরাত আর বসে থাকতে পারলো না বিরক্ত মুখে জায়গা ত্যাগ করে প্রথমে তাকবীরের রুমে উঁকি দিলো। তাকবীর কে রুমে না দেখতে পেয়ে বেলকনিতে উঁকি দিলো। না বেলকনিতেও নেই। তাকবীর বাড়িতে না থাকায় আরাত শান্তির নিঃশ্বাস ফেললো। ফুরফুরে মন নিয়ে নিজের রুমে এসে জামাকাপড় বের করে নিয়ে পুনরায় তাকবীরের রুমে ঢুকলো। বিছানার উপরে কাপড় রেখে আরাত পুরো রুম জুড়ে চোখ বুলালো। আলমারির কাছে এসে আলমারি খুলতেই চোখে পড়লো পুরো আলমারি জুড়ে তাকবীরের পোষাক। শুধু একপাশে গতরাতের আরাত কে দেওয়া শাড়ি থ্রি পিছ বোরকা গুলো সুন্দর মতো গুছানো। আরাত বেশ অবাক হলো, আরাত তো গুছিয়ে রাখেনি তাহলে। অবাক হয়েই শাড়িগুলো বের করে দেখতে লাগলো, কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো চারটা বোরকা চারটাই কালো, যদিও ডিজাইন কাজ আলেদা তবে শাড়ি আর থ্রি পিস গুলোর ভিন্ন কালার আরাত আলমারির আরেক পাশে লক্ষ করলো, সেখানে শুধু ছেলেদের নানারকমের ব্যান্ডের মাথার ক্যাপ হ্যাঙ্গারে ঝোলানো , যদিও কালো আর সাদা কালারের মধ্যে সবগুলো। তাকবীর বরাবরই ক্যাপ পরতে ভালোবাসে। ক্যাপগুলো দেখামাত্রই আরাতের মাথায় সয়তানি চলে এলো। ক্যাপগুলো আলমারি থেকে বের করে সবগুলো একখানে জড়ো করে আলমারির কোণে রেখে দিলো। পুনরায় সেদিকে তাকিয়ে কোমরে হাত রেখে সয়তানি হাসি দিয়ে বলল,
___” আমাকে এই রুমে থাকতে হবে তাই-না, ওঁকে থাকলাম হা হা হা।
আরাতের সয়তানি হাসি মুখে লেগে আছে, তাকবীর কে পদে পদে জ্বালানোর ছাপ। আরাত থ্রি পিস আর বোরকা গুলো হ্যাঙ্গার দিয়ে ঝুলিয়ে তাকবীরের ক্যাপের জায়গায় রাখলো,পুনরায় ফুরফুরে মনে বিছানা থেকে শাড়ি নিয়ে আলমারিতে গুছিয়ে রাখতে রাখতে উচ্চ স্বরে গান গাইতে শুরু করলো,
~ বন্ধু তোমার প্রেমে বুক ভাসায়া, জীবন প্রেরেসান
আরে লাভের গরু পিপড়া খাইলো
হইলো যে লোকশান…!
ও চিঠি দেওনা খবর নেও না, ভালোবাসার কথা
কও না বাঁচে না প্রেম বাঁচে না..!
কথা ছিলো আমার হবে, সুখে দুঃখে পাশে রবে,
করো না আর বাহানা…!!
কেটে কেটে যায় দির রজনী
আশি আশি বলে আর আশনি
বলে বলে লোকে পাগলামি
পাগল আমি নই..!
বন্ধু কই কই কই কই….
___”বন্ধু হারিয়ে গেছে আমি তোমার হাসবেন্ড বলছি।
তাকবীরের কন্ঠ শুনার সঙ্গে সঙ্গে আরাতের গান বন্ধ হয়ে গেলো, এতক্ষণে হাত থেকে গুছানো শাড়ি গুলো মেঝেতে পড়ে গেছে। আরাত সামনে তাকিয়ে তাকবীর কে দরজার সঙ্গে হেলান দিয়ে বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মেঝে থেকে শাড়ি তুলতে তুলতে থতমত গলায় সালাম দিলো,
___” আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লা-হ।
তাকবীর রুমের ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে মুচকি হেঁসে সালামের উত্তর করলো,
___”ওয়া আলাইকুমুসসলাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ…
আরাত মাথা নিচু করে শাড়ি গুলো আলমারিতে রেখে তাড়াহুড়ায় আলমারির পারলা লাগিয়ে রুম থেকে বের হতে লাগলো, তাকবীর আরাতের এক হাত টেনে নিজের হাতের মধ্যে আগলিয়ে নিয়ে বলল,
___” বন্ধুর বদলে হাসবেন্ড চলবে না?
আরাত লজ্জা পেয়ে অন্য প্রসঙ্গ টানতে তাকবীরের হাত থেকে নিজের হাত মোচড়ামুচড়ি করে বের করতে করতে নিচু স্বরে বলল,
___” আপনি এসময় বাড়িতে যে?
তাকবীর একটানে নিজের বুকের মধ্যে আরাত কে আটকে নিয়ে আরাতের মুখোমুখি হয়ে দুষ্টু হেঁসে বলল,
___” বউকে মিস করছিলাম, সুন্দরী বউ রেখে বাহিরে মন স্থির হয় না।
আরাত তাকবীরের দিকে তাকালো, তাকবীরের মুখে দুষ্টু হাসি, আরাত অবাক হয়ে তাকবীরের মুখের দুষ্টু হাসির দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো। আজকেই হয়তো প্রথমবার আরাত তাকবীর কে এতটা কাছে থেকে লক্ষ করছে, ফর্সা মুখে খোচাখোচা চাপ দাঁড়ি ঠোঁট দুটো হালকা গোলাপি, মায়াবী চোখের পাপড়ি গুলো বড় হওয়ায় মুখের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মাথায় বাবরি চুলগুলোতে কালো ক্যাপ, ইচ্ছে করছে বাবরি চুলগুলোই হাত বুলিয়ে দিতে। কেমন যেন আকর্ষনীয় করে তুলছে সবকিছু। তাকবীর আরাতের চাহনিতে মাদকতা মিশিয়ে বলে উঠলো,
___”এভাবে তাকাও না বউ বেসামাল হয়ে যাবো।
আরাত এবার নিজেও এলোমেলো হয়ে গেলো, অগোছালো ভাবে ওদিক এদিক তাকিয়ে তাকবীরের বুকে ধাক্কা দিতে দিতে নিচু স্বরে বলল,
___” আমাকে ছাড়েন প্লিজ?
আরাত কে নিজের বুকে মোচড়ামুচড়ি করতে দেখে তাকবীর নিজেকে সামলে নিলো। আরাত কে ছেড়ে দিয়ে আরাতের ওড়না মাথায় ভালোভাবে পড়িয়ে দিতে দিতে গম্ভীর গলায় বলল,
___” বাহিরে যতক্ষণ থাকবে মাথার কাপড় ফেলবে না মনে থাকবে?
___”হ্যাঁ।
আরাত বাধ্য মেয়ের মতো মাথা ঝাকিয়ে হ্যাঁ বলাতে তাকবীর ঠোঁটের কোণে একফালি হাসি টেনে আরাতের কপালে গাড়ো করে চুমু রেখে দিলো। আরাত সঙ্গে সঙ্গে কেঁপে উঠলো, তাকবীর আরাত কে কাঁপতে দেখে মুখের কাছাকাছি মুখ নিয়ে ফিসফিস করে উঠলো,
___” কাঁপা-কাঁপি করে আমাকে বেসামাল করার ফন্দি হানছো,আমি বেসামাল হয়ে গেলে আমাকে কন্ট্রোল করতে পারবে তো বউ?
আরাত লজ্জায় তাকবীরের বুকে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে দৌড়ে বের হয়ে গেলো। তাকবীর সোজা হয়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে আরাতের লজ্জা পেয়ে দৌড়ে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দুষ্টু হেঁসে বলে উঠলো
___” বউ বাহিরে যেওনা বাহিরে অনেক শীত, তুমি বরং আমার মনেই থেকে যাও।
তাকবীরের কথা আরাতের কান অব্দি পৌছালো না। আরাত এক দৌড়ে নিজের রুমে এসে ভিতর থেকে দরজা লাগিয়ে দিলো। তাকবীর পিছনে পিছনে এসে আরাতের দরজার সামনে দাঁড়ালো, আশেপাশে তাকালো নেই কেউ নেই তাকবীর পুনরায় আরাত কে ডেকে উঠলো,
___” রাত, এই রাত?
আরাত তাকবীরের ডাক শুনতে পেয়েও না শুনার ভান ধরে রইলো। তাকবীর এবার সিরিয়াস হয়ে গম্ভীর কন্ঠে ডেকে উঠলো,
___” রাত ওপেন দা ডোর?
তাকবীরের গম্ভীর্যতে আরাত ভয় পেলো, ভয় ভয় কন্ঠে রুমের ভিতরে থেকে উত্তর করলো,
___” কিছু প্রয়োজন বীর ভাইয়া?
তাকবীর আগের ন্যায় গম্ভীর গলায় বলল,
___” তোমাকে।
আরাত থতমত খেয়ে গেলো, থতমত গলায় দাঁত দিয়ে নক কামড়াতে কামড়াতে পুনরায় বলে উঠলো,
___” আমাকে দিয়ে কী প্রয়োজন?
___” মুখে না বলে প্রাক্টিক্যালি দেখিয়ে দিবো বের হও
আরাত কথা বললো না, না দরজা খুলে দিলো। তাকবীর বেশ বিরক্ত হয়ে উঠলো এতে, গম্ভীর গলায় ধমকে উঠলো তাকবীর,
___” এই মেয়ে এই দরজা খোলো, বিয়ে হতে না হতেই বরকে নাকে দড়ি বেঁধে পিছনে পিছনে ঘেরাচ্ছ, দরজা খুলে দেও বলছি?
আরাত মন ভার করে দরজা খুলে দিলো, দরজা খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকবীর আরাত কে পাঁজাকোলা করে নিজের ঘাড়ে তুলে নিলো। আরাত তাকবীরে কে এতটা পরিবর্তন হতে দেখে অবাকের পর অবাক হয়ে যাচ্ছে।
রশ্মি তালুকদার বাড়িতে ঢুকে আরাতের রুমে আরাত কে পেলো না। আদিবা তালুকদার কে আরাতের কথা বললে তিনি বলেন তাকবীরের রুমে। রশ্মি পুনরায় আইরার কথা জিজ্ঞেস করাতে আদিবা তালুকদার হেঁসে বললেন,
___” নতুন নতুন বিয়ে হয়েছে, তোমাকে আর
বুঝতে হবে না নিশ্চয়?
আদিবা তালুকদারের কথায় রশ্মি হেঁসে উঠলো, কিছুক্ষণ আদিবা তালুকদারের সঙ্গে কিচেন রুমে আড্ডা দিলো। আরিশা ওর শাশুড়ীর সঙ্গে শশুর বাড়িতে চলে গেছে। আমান আর আরিশার শশুর কাজের জন্য গোডাউনে চলে গেছে। আলভী আহিন বাহানা করেও বাড়িতে থাকতে পারিনি। রাহিমা সুলতানা জোর করে স্কুলে পাঠিয়ে দিয়েছে সামনে দুজনের পরিক্ষা। রশ্মি একা একা ভালো না লাগাই কিছুক্ষণ আদিবা তালুকদারের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে পুনরায় নিজের বাড়িতে এসে শুয়ে থেকে ফেসবুক স্ক্রল করতে লাগলো। হটাৎই খুব পরিচত আইডিতে দীর্ঘদিন পড়ে একটা পোস্টে চোখ আটকে গেলো। পোস্টটা সতেরো মিনিট আগে আপলোড দেওয়া। ক্যাপশনটা দেখা মাত্রই রশ্মির চোখের পাতা ভিজে এলো। হাত পা কাঁপতে লাগলো, রশ্মি কাঁপাকাঁপা ঠোঁটে ইংরেজি ক্যাপশন টা বিরবির করে পড়তে লাগলো,
___” কাছে নেই তবুও ভালোবাসি, তোমাকে মনে পড়তেই তোমার ফটো দেখে নিজের তৃষ্ণা মেটাতে ব্যর্থ চেষ্টা করি। তোমাকে দেখার জন্য মন এতটা ছটফট করে যদি পারতাম, তোমার কোমল মনটা ছুয়ে দিতাম। কিন্তু আমি ব্যর্থ প্রেমিক নিজের হাতে তোমার পবিত্র ভালোবাসা কে খুন করেছি। তোমার ক্ষমার অযোগ্য আমি। তোমার সামনে দাঁড়ানোর সাহস নেই আমার। শুধু অপবিত্র মুখে এতটুকু বলবো সুখী হও, নতুন করে বাঁচো, আমি যানি তুমি আমার পোস্টটা পড়ছো আর কান্না করছো। কান্না করো না তোমার চোখে এই অপবিত্র ছেলের জন্য কান্না মানাচ্ছে না। তোমার চোখের পানির হিসাব আমাকে এই দুনিয়াতেই ছটফট করতে হচ্ছে। আমাকে কখনো মনে করো না শুধু তুমি ভালো থাকো। তোমাকেও কেউ নিজের জীবনের থেকে বেশি ভালোবাসুক। এটাই আমার তরফ থেকে তোমাকে দেওয়ার লাস্ট মেসেজ, যদি পারো ক্ষমা করে দিও রশ্মিরানী।
রশ্মি সত্যি সত্যি কান্না করছে, কতদিন পড়ে প্রিয় মানুষের মেসেজ এলো, না ইনবক্সে না, সরাসরি আইডিতে পোস্ট করা সেখানে কতশত কান্নার রিয়েক্ট পড়েছে, কমেন্টে কতশত মানুষের আবেগ ইমোশন তুলে ধরছে। রশ্মি ব্যস্ত হতে ইনবক্সে এসে পার্থর আইডিতে অনগর ফোন লাগলো, না ফোন ঢুকলো না। অফলাইন দেখাচ্ছে, রশ্মি পুনরায় ভেঙ্গে পড়লো পুরাতন কষ্ট গুলো ঝেকে ধরলো,
___” কেনো পার্থ, আমি তো ভালো ছিলাম কেনো তুমি আমাকে কষ্ট দিতে ফিরলে, যদি ফেরার ছিলো তাহলে একেবারে ফিরতে, আমি ভালো থাকতে চাই, তুমি আমাকে ভালোবাসা শিখিয়ে সেখানেই মেরে ফেললে, আমি ভালো থাকতে চাই পার্থ, আমি ভালো থাকতে চাই।
রশ্মি একা একা কান্না করতে করতে বিরবির করতে লাগলো, রাহিমা সুলতানা বাড়িতে নেই, রশ্মির কান্নার মধ্যে ফোন বেজে উঠলো, পার্থ ফোন করেছে ভেবে রশ্মির মুখে হাসি ফুটে উঠলো, ফোনটা তাড়াহুড়ায় রিসিভ করে বলতে লাগলো,
___” পার্থ তুমি এতদিন কই হারিয়ে গিয়েছিলে, আমি তোমাকে কতবার ফোন করেছি জানো, তুমি আমাকে ঠকালে কেনো পার্থ, তোমাকে ভালোবেসে বিশ্বাস করে আমি আমার দেশ ছেড়েছিলাম, আর তুমি?
___”যে পাস্ট চলে গেছে, তাঁর কথা কেনো ভাবছেন?
মাহিরের কন্ঠে রশ্মি তাজ্জব বনে ফোন কান থেকে নেমে দেখতে লাগলো, না এটা পার্থর ফোন ছিলো না, মাহির ফোন করেছে। হতাশা মুখে রশ্মি বিরক্ত হয়ে ফোন কানে তুলে বলল,
___” ফোন কেনো করেছে?
ফোনের ওপাশ থেকে মাহির বলে উঠলো,
___” কথা বলার জন্য।
___” নট ইন্টারেস্ট।
রশ্মি ফোন কাটতে যাবে মাহির তাড়াহুড়ায় পুনরায় বলে উঠলো,
___”আগে কী হবে আমি জানি না আমরা দুজন একসঙ্গে থাকতে পারবো কি-না তাও জানি না। কিন্তু এতটুকু জানি আমার ভালোবাসা সত্যি, এটা কখনো শেষ হবে না। একবার ভালোবেসে দেখবেন বিশ্বাস ভাঙতে দেব না?
আরাত বিরক্ত হয়ে বলল,
___” আপনাদের বিশ্বাস করাই আমাদের জন্য বোকামি, আমরা মেয়ে তো দুটো নরম কথা পেলেই গলে যাই। আর আপনারা এটার সুযোগ নিয়ে থাকেন বরাবার।
___” আমাকে বিশ্বাস করতে হবে না, আমাকে ভালোবাসতে হবে না। আমাকে জাস্ট কিছুদিন সময় দেন। যদি আপনার মনে হয়, আমার ভালোবাসার মধ্যে কমতি আছে। তাহলে কখনো আপনার আশেপাশে আমাকে আর দেখবেন না কথা দিলাম।
___” আপনার কী মনে হয়, দুদিন একসঙ্গে ঘুরলাম ফেললাম, তাহলেই আপনাকে আমি ভালোবেসে ফেলবো, লাইক সিরিয়াসলি, ভালোবাসা কেনো খেলনা না, যে বললাম আর হয়ে গেলো, ডোন্ট ডিস্টার্ব মি।
রশ্মি মাহিরের ফোন কেটে দিলো, মাহির আর ফোন দিলো না, নির্লজ্জ হয়ে সঙ্গে সঙ্গে টাইপিং করে মেসেজ দিলো। রশ্মি না চাইতেও মেসেজ গুলো দেখতে লাগলো,
___” বললাম না আমাকে ভালোবাসতে হবে না, আপনি যাঁর সঙ্গে হাসিখুশি থাকবেন সেদিকে ফোকাস করেন। আপনাকে আর ডিস্টার্ব করবো না বাট একটা কথা সরি, আমি আপনার অপেক্ষায় থাকবো। যতদিন আপনি কাগজে কলমে অন্যকারো নামে নিজেকে লিখে না দিচ্ছেন ততদিন আপনার অপেক্ষায় থাকবো।সরি আপনাকে ডিস্টার্ব করার জন্য।
রশ্মি মেসেজটা বিরবির করে পড়ে তাচ্ছিল্য হেঁসে টাইপিং করলো,
___”কাউকে ভালো লাগা কে ভালোবাসা বলে না মিস্টার। যাকে ছাড়া আপনি ভালো থাকতে পারবেন না তাকে ভালোবাসা বলে। আর আপনি আমাকে ছাড়া দিব্যি থাকতে পারবেন। আমার বিশ্বাস আপনার ভাগ্যে সুন্দর একটা মেয়ে থাকবে যে আপনাকে বুঝতে চাইবে। পাগলামি বন্ধ করুন আমাকে শান্তিতে থাকতে দেন, আর একবারও মেসেজ করবেন না।
রশ্মি ফোনটা বিছানায় ছুড়ে মেরে রুম থেকে বের হয়ে গেলো।
মায়া নিজের রুমে পাতলা কম্বল শরীরে মুড়িয়ে নিয়ে পরার টেবিল পরতে পড়তে বসেছে। হটাৎই বেলকনিতে কিছু পরার শব্দ শুনা গেলো, মায়া ব্যাপারটা পাওা না নিয়ে বইয়ে মুখ গুঁজে রইলো, একমিনিট যেনে না যেতেই মায়ার ফোনে ফোন বেজে উঠলো। মায়া বই থেকে চোখ তুলে ফোনে চোখ রাখলো, লুচ্চা বেডা নামটা ফোনের স্কিনে জলজল করছে।মায়া মুচকি হেঁসে ফোনটা হতে তুলে নিয়ে রিভিউ করতেই ফোনের ওপাশ থেকে আশিকের ব্যস্ত কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,
___” বেলকনির দরজাটা দ্রুত খুলে দেও,
আশিকের কথা মায়া বুঝতে না পেয়ে অবাক হয়ে বলে উঠলো,
___” মানে, বেলকনির দরজা খুলে দিবো কেনো?
___” কারণ আমি তোমার বেলকনিতে দাঁড়িয়ে।
___” কীহহহহ?
মায়া বেলকনির দিকে তাকিয়ে সামান্য চিৎকার দিয়ে উঠলো, পুনরায় ফোনটা টেবিলে রেখে দিয়ে দ্রুত পায়ে বেলকনির সামনে এসে দরজা খুলে দিতে দিতে বলল,
___” তুমি কী পাগল, এই রাতে বেলা আমার বাসায় কিভাবে এসেছো তুমি?
আশিক স্বাভাবিকভাবেই উত্তর করলো,
___” দেয়াল টপকে।
___” জলদি রুমে আসো, কেনো এসেছ এত রাতে?
___” তোমাকে দেখতে মন চাইছে তাই এসেছি।
মায়া রাগী গলায় পুনরায় বলল,
___” আমাদের গতকাল রাতেই দেখা হয়েছে, তুমি এতটা বেপরোয়া কেনো আশিক,যদি কেউ জানতে পারে এত রাতে তুমি আমার রুমে, তাহলে বুঝতে পারছো কী হবে?
আশিক পুরো রুম চোখ বুলাতে বুলাতে বিছানায় বসে বলল,
___” প্রেম করে যদি রিস্ক না নিলাম, এই প্রেমে মজা কই আর ফিলিংস বা কই?
আশিকের কথায় মায়া আশিকের কাছে আসতে আসতে রাগী গলায় বলল,
___” আব্বু জানতে পারলে দুনিয়ায় উপরেই আমাদেরকে জাহান্নাম দেখাবে,তখন বুঝবে ফিলিংস কাকে বলে।
আশিক মায়ার কথা অগ্রহ করে মায়া কে নিজের পাশে বসে দিয়ে মায়ার কোলে মাথা রাখলো। মায়া চমকে উঠলো এতে, মনের মধ্যে আতঙ্ক, এই বুঝি কেউ দেখে ফেললো, মায়া আশিকের মাথা কোল থেকে সরাতে সরাতে বলে,
___” আশিক নিজের বাসাতে যাও, আমি চাইনা আমাদের মধ্যে কোনো বাঁধা সৃষ্টি হয়ে যাক, প্লিজ বাসায় চলে যাও?
___”আর কয়েক মিনিট থাকতে দেও?
মায়া আশিক কে বিছানা থেকে ধাক্কা দিয়ে নামতে নামতে বলল,
___” না আর এক মিনিটও না।
আশিক মেঝেতে দাঁড়িয়ে মায়া কে নিজের সামনাসামনি দু’হাতে ধরে বলে উঠলো,
___” আমি জব করবো মায়া,
মায়া যেন বেকুব বুনে তাকিয়ে রইলো আশিকের দিকে, আশিক মুখে হাসি নিয়ে পুনরায় বলে উঠলো,
___”রাত থেকে সারাদিন ভাবলাম, নিজেকে সময় দিলাম, ভেবে দেখলাম নিজের উপার্জন দিয়ে ভালোবাসার মানুষ কে ঘরে তুলে নেওয়া আনন্দ তৃপ্তি , যা বাবার টাকা তে নেই, তাই আমি ডিসিশন নিয়েছি জব করবো তারপর তোমাকে আমার ঘরে তুলবো।
মায়া হটাৎই খুশিতে আশিক কে জরিয়ে ধরে বলল,
___” সত্যিই..?
আশিক মায়ার মাথায় হাত রেখে বলল,
___” হ্যাঁ,খুশির সংবাদটা যদি ফোনে দিতাম তাহলে তোমার আনন্দমাখা মুখ দেখার সৌভাগ্য কী হতে পারতো আমার?
মায়া আশিকের বুকে মুখ রেখেই মাথা ঝাকালো, না।আশিক মায়া কে নিজের বুক থেকে তুললো, পুনরায় নিজের হাত মায়ার হাসিমাখা মুখে অবদ্ধ করে নিয়ে বলল,
___” আমার অপেক্ষায় থাকবে তো?
মায়া আশিকের হাতে নিজের হাত রেখে মুখে গাড়ো বিশ্বাস নিয়ে বলে উঠলো,
___” হুম কথা দিলাম, তোমার অপেক্ষায় সারাজীবন থাকবো, আমাদের মধ্যে কেউ বাঁধা সৃষ্টি হয়ে এলে দুজন মিলে সেই বাঁধা কে উকরে ফেলবো।
আশিক মায়ার কপালে গাড়ো করে একটা চুমু রেখে দিলো, পুনরায় মায়ার চোখের দিকে তাকিয়ে ধীর কন্ঠে বলল,
___” এখন আসি তাহলে?
___” সাবধানে বের হবে, কেউ যেন দেখে না ফেলে।
___” হুম।
আশিক মায়া কে ছেড়ে দিলো, যেভাবে এসেছিলো সেভাবেই দ্রুত পায়ে বেলকনিতে পা দিলো। মায়া আশিকের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে পুনরায় ডেকে উঠলো,
___”এ মিস্টার লুচ্চা?
আশিক থেমে গেলো,পিছনে ফিরে হাসি মুখে উওর মায়ার ডাকে করলো,
___” হ্যাঁ বলো মিস ভাবির ফ্রেন্ড?
মায়া কথা বলল না শুধু মুগ্ধ চোখে তাকিয়েই রইলো আশিকের দিকে, আশিক মায়া কে কিছু বলতে না দেখে হাসি মুখে পুনরায় বলল,
___” কিছু বলবে তো?
মায়া এবার হাসি মুখে ঠোঁট উল্টে বলে উঠলো,
___” হুউউ কিছু না, জাস্ট তোমাকে দেখতে মন চাইলো, সুন্দর লাগছে তোমাকে।
আশিক হাসি মুখে পুনরায় বলল,
___”এখন যাবো?
___” যাও, আই লাভ ইউ লুচ্চা বেডা?
___” আই লাভ টু ভাবির ফ্রেন্ড।
আশিক বেলকনির গ্রিল ধরে এক দু পা করে নিচে লাফিয়ে মাটিতে পড়লো, মায়া বেলকনির কাছে এসে নিচে হয়ে দেখতে লাগলো আশিক কে। আশিক মাটি থেকে দাঁড়িয়ে বাড়ির বাহিরে রাস্তায় এসে দাঁড়ালো। মায়া এখনো বেলকনিতে দাঁড়িয়ে দেখছে। আশিক মুখে হাসি টেনে উড়ন্ত চুমু দিলো মায়া কে। মায়া আশিকের পাগলামিতে মুচকি হেঁসে উঠলো।
___”কে কে ওখানে?
খালেক চেয়ারম্যান প্রথমবার কিছু লাফানোর শব্দ পেয়ে গুরুত্ব না দিলেও দ্বিতীয়বার একি শব্দ পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে এলেন, পুরো গার্ডেনে কাউকে দেখতে না পেয়ে গেইট খুলে রাস্তায় বের হয়ে আশেপাশে দেখতে লাগলো, রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের আলোতে মানুষের ছায়া দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ভদ্রলোক চেচিয়ে উঠলেন, মায়া বেলকনি থেকে নিজের বাবা কে দেখতে পেয়ে দ্রুত বেলকনিতে বসে পরলো। নিমেষেই মনের মধ্যে হাজারো ভয় এসে জমা হয়ে গেলো। আশিক মায়ার বাবার কন্ঠ শুনতে পেয়ে লুকানোর সুযোগ পর্যন্ত পেলো না। কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো, মনের মধ্যে ভয় নিয়ে একটার পর একটা কথা গুছাইতে লাগলো, কিন্তু না কোনটাও যুক্তিসংযুক্ত মনে হচ্ছে না। যতই সাহস থাকুক না কেনো তবুও এভাবে ধরা খেয়ে গেলে মানসম্মান দুজনেরই চলে যাবে। আশিক কি বলবে ভেবে না পেয়ে কাচুমাচু করতে লাগলো, খালেক চেয়ারম্যান আশিক কে চিনতে পেয়ে চেঁচালেন না। মানুষ একখানে জড়ো হয়ে গেলো ভদ্রলোকের সন্মান থাকবে না। ধীর কন্ঠে আশিক কে বললেন,
___”তুমি?
আশিক কাচুমাচু করতে করতে মুখে আমতাআমতা করে হাত উঁচিয়ে বলল,
___”হ্যা, হ্যালো আঙ্কেল, হাউয়ার আর ইউ?
ভদ্রলোক একবার নিজের মেয়ের বেলকনির দিকে তাকালেন,পুনরায় গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করলেন,
___” তুমি আমার বাড়ির রাস্তায় এত রাতে,কী করো?
আশিক ভাবনাশীল হয়ে উওর করলো,
___” হ্যাঁ তাইতো আমি এখানে কেনো,বিষয়টা ভাবনার, এখানে আসলাম কিভাবে, এখন যাবো কিভাবে, হ্যাঁ মনে পড়ে গেছে, আঙ্কেল আপনার কাছেই এসেছিলাম, আপনি তো চেয়ারম্যান, আপনাদের দলে কী আমাকে কোনো ভাবে নেওয়া যায়না, না মানে কোনো পদ কী দেওয়া যায় না আমাকে?
ভদ্রলোক আশিক কে গম্ভীর গলায় বললেন,
___” তুমি যে উদ্দেশ্য এসেছো,এটাই যেন লাস্ট হয় তোমাকে আমার বাড়ি এবং আমার বাড়ির মানুষদের আশেপাশে যেন চোখে না পড়ে, নয়তো ফলাফল ভালো আসবে না।
ভদ্রলোক কথাটা বলে পিছিয়ে ফিরে বাড়ির গেইট পা রাখতে যাবে। আশিকের কথায় পুনরায় আটকে গেলো, আশিক এতক্ষণ মনের মধ্যে ভয় নিয়ে কথা বললেও ভদ্রলোকের কথাতে বুঝে গেলো, ভদ্রলোক আশিক কে চিনতে পেয়েছে ইনফ্যাক্ট আশিক আর মায়ার ব্যাপারে আগে থেকেই অবগত। আশির সিরিয়াস হয়ে বলে উঠলো,
___” আশেপাশে দেখলে কী করবেন?
ভদ্রলোক আশিকের সাহস দেখে অবাক হলেন, ক্ষিপ্ত মুখে পিছনে ফিরলেন, আশিক পুনরায় বলে উঠলেন,
___”যদি সবকিছু ভালোভাবে নিতে চান, তাহলে আপনার আমার সবার জন্য ভালো, আর যদি খারাপ ভাবে নিতে চান, আমি খারাপ হতে রাজি।
ভদ্রলোক আশেপাশে তাকালেন,গভীর রাত হওয়ায় কারণে আশেপাশে কেউ নেই, তবুও ভদ্রলোকের মনে ভয়, বিপরীত দলরা একটু কিছু খুঁজে পেলেই ভদ্রলোক কে সমাজের চোখে খারাপ প্রমাণ করতে পিছুপা হবে না। সামনে রিলোকশোন, সবসময় চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। ভদ্রলোক দাঁতে দাঁত চেপে ধীর কন্ঠে বলে উঠলেন,
___” মায়া আমার মেয়ে, আমি ওর জন্য যে ডিসিশন নিবো এটাই হবে, তোমার মতো অযোগ্য বেকার ছেলে চেয়ারম্যান বাড়ির জামাই হওয়ার যোগ্য রাখে না, আমার মেয়ের থেকে দূরে থাকবে।
___” চেয়ারম্যান সাহেব আপনি যেহেতু আপনার টাকার গরম দেখাচ্ছে, তাহলে শুনে রাখুন আমার বাবার যে টাকা, তাঁর একভাগ টাকা দিয়ে আপনাদের পরিবার কে কিনে নিতে পারবো, ভুলে যাবেন না আমার বাবার এক ডাকে আপনার মতো শতশত চেয়ারম্যানের লাইন লেগে যায় আমার বাড়ির সামনে।
ভদ্রলোক যেন আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে গেলেন,ক্ষিপ্ত চোখে মেয়ের বেলকনির দিকে তাকালেন। মায়া অসহায় চোখে দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে। দূর থেকে দূজনের নীরব যুদ্ধ তাকিয়ে দেখছে। ভদ্রলোক রাগী গলায় পুনরায় বললেন,
___” বাবার টাকার গরম আমাকে দেখাচ্ছো, নিজে দিনে কত টাকা উপার্জন করো, তুমি আমার মেয়ে কে ভালোবাসো, তোমার মধ্যে থাকবে আমার কাছে আমার মেয়েকে পাওয়ার বাসনা কিন্তু আফসোস তোমার মধ্যে টাকার অহংকার ছাড়া কিছুই দেখতে পারছি না?
আশিক নিস্তব্ধ হয়ে গেলো, আশিক তো নিজেকে আস্তে আস্তে পরিবর্তন করছে, কিন্তু ভদ্রলোক অযোগ্য বেকার বলায় কথাটা আত্মসম্মানে লেগেছে। নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারে নি। আশিক বুঝতে পেলো ভদ্রলোক নিজের কথার জালে ফাঁসাচ্ছে। ইচ্ছাকৃত ভাবে মায়ার সামনে আশিক কে খারাপ বানাতে চাচ্ছে। আশিক নিজকে শান্ত করে নিচু স্বরে বলে উঠলো,
___” আঙ্কেল আমি আপনার মেয়েকে ভালোবাসি, এবং ডিসিশন নিয়েছি আমি জব করবো, বাবার টাকায় চলবো না নিজ যোগ্যতাই আপনার মেয়ে কে বিয়ে করবো।
ভদ্রলোক এবার নিচু স্বরে আশিকের কাছাকাছি এসে বললেন,
___” আমার মেয়ের থেকে দূরে থাকো এটাই তোমার জন্য পারফেক্ট, মায়ার বিয়ে অন্য কোথাও ঠিক করে রেখেছি, আর সেখানেই ওর বিয়ে হবে, তুমি যত দূরে থাকবে ততই তোমার জন্য পারফেক্ট, যাও এবার।
আশিক মুচকি হেঁসে ভদ্রলোকের কথায় উওর করলো,
___” আপনি মেবি যানেন না আপনার মেয়ের মনে আমার বসবাস, পারলে নিজের মেয়ের মন থেকে আমাকে বের করে দেখান, তারপর সামাজে উন্নতি করার কথা ভেবে দেখবেন, দেখেন নিজের ঘর সামলাতে পারেন কিনা, আল্লাহ হাফেজ শশুরআব্বু টা টা।
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩৯
আশিক কিছুটা দূরে হেঁটে এসে বাইক নিয়ে চলে গেলো, ভদ্রলোক আশিকের যাওয়ার দিকে ক্ষিপ্ত চোখে পুনরায় মায়ার দিকে তাকালো। মায়া বাবার চাহনি দেখে মাথা নিচু করে বেলকনির দরজা লাগিয়ে রুমে চলে গেলো। ভদ্রলোক হনহন করে নিজের বাড়িতে ঢুকে গেলেন এবং মেয়ে আর আশিকের রাগ নিজের অর্ধাঙ্গিনী উপরে চিল্লিয়ে ঠান্ডা করতে লাগলেন।
