তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৫৪
জান্নাতি আক্তার জারা
___” ভাবি এসেছে মানে, মিম এসেছে?
মেয়োটা সায় জানিয়ে বলল,
___” হ্যাঁ।
হানিফ ব্যস্ত পায়ে ভিতরে প্রবেশ করে ডাইনিং টেবিলের কাছে এসে দাঁড়ালো, হ্যাঁ মিম বসা, হানিফ ঠিক ধরেছে, হানিফ কে দেখে মিম সালাম দিলো, হানিফ সালামের উত্তর করলো, আরশ এতে রেগে গেলো, মিম তো এতক্ষণ চুপচাপ মাথা নিচু করে বসেছিল, কই এতক্ষণ তো একবারও মিম আরশের দিকে তাকানি, আর হানিফ আসার সঙ্গে সঙ্গে মিম মাথা তুলে উপরে চাইলো,আরশ কথাগুলো দাঁতে দাঁত চেপে মিমের দিকে তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে ভাবছে, হানিফ মিমের সঙ্গে কথা বলে ফ্রেশ হাতে রুমে চলে গেলো, রুমে এসে বাহিরের পোষাক চেঞ্জ করে নরমাল পোষাক শরীরে জরিয়ে নিচে নেমে এলো, খাবার টেবিলে বসে সবার সঙ্গে খেতে লাগলো, হানিফ আরশের মা-বাবা তিনজন মিলে একটার পর মিম কে ঘিরে কথা বলে যাচ্ছে, মিম তাঁদের সঙ্গে হ্যাঁ তে হ্যাঁ মেলাচ্ছে শুধু, প্লেটের খাবার এমনই আছে, আরশ গম্ভীর মুখে নিজের খাবার খাচ্ছে, কাজের মেয়েটা আরশের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলে উঠলো,
___” ছোট ভাইজান আপনে এই সন্ধ্যার দিকে শাওয়ার নিয়েছেন?
এতক্ষণ আরশের শাওয়ার নেওয়ার ব্যাপারটা কেউ লক্ষ করেনি,মেয়েটার কথায় সবার নজর আরশের উপর পরল, আরশ খেতে খেতে একনজর মিম কে দেখে পুনরায় প্লেটে চোখ রেখে তাচ্ছিল্য কন্ঠে বলল,
___”শরীরে বোম্বাই মরিচের ছোঁয়া লেগেছিল এজন্য।
মিম সঙ্গে সঙ্গে মুখ অন্ধকার করে নিলো, আরশের কথায় বাকি সবাই অবাক হলো, মেয়েটা পুনরায় বলল,
___” মরিচের ছোঁয়া লেগেছিল নাকি গুঁড়া ছিটকে গিয়েছিল, কিন্তু আপনি তো রান্না ঘরে আসেন নাই ভাইজান, আপনার শরীরে কিভাবে মরিচের গুঁড়া ছিটকে গেলো ?
আরশ বিরক্ত মুখে মাথা নিচু করে মেয়েটা কে উদ্দেশ্য করে বলল,
___” তুমি এত কথা বলো কেন, যাও নিজের কাজ করো যাও।
আরশের কথায় আরশের মা আরশের উপর রেগে বললেন,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
___” ওঁকে ধমকাচ্ছ কেনো,ও তো ভুল কিছু বলেনি, তুমি তো কিচেনে আসেনি তাহলে ?
আরশ মায়ের কথায় মিমের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
___” জলজ্যান্ত মুম্বাই মরিচ,ছোট হলে হবে কী ঝাঁল অনেক।
আরশের কথায় ভদ্র মহিলা আরশ কে বলে উঠলো,
___” বুঝলাম না তোমার কথা?
আরশ কিছু বলল না পুনরায় মাথা নিচু করে খাওয়ায় মনোযোগ দিলো, আরশের বাবা ভদ্র মহিলাকে বললেন,
___” ফাজিলের কথা বাদ দেও, কখন কী করে, বলে নিজেও জানে না।
কেউ আর কিছু বলল না, মিম শুধু প্রথম থেকে নীরব হয়ে ভাত নাড়াচাড়া করছিলো, হানিফ মিম কে লক্ষ করে বলল,
___” আপনি শুধু খাবার নাড়াচাড়া করছেন, খাচ্ছেন না কেনো, আপনি কী আনইজি ফিল করছেন?
হানিফের কথায় মিম চোখ উপরে তুলতেই দেখলো কয়েকজোরা চোখ তাঁর দিকে, সবার চোখ স্বাভাবিক হলেও আরশের চোখে ছিলো তাচ্ছিল্য তা, মিম মুখে মেকি হাসি টেনে মাথা নিচু করে নিলো,আরশের মা মিমের হয়ে বলে উঠলেন,
___” মিম অসুস্থ, জ্বরের মুখে খেতে ইচ্ছা করছে না হয়তো, একটা কাজ করো মা একটু কষ্ট করে খাওয়ার চেষ্টা করো, নয়তো খালি পেতে মেডিসিন নিতে পারবে না।
ভদ্র মহিলার কথায় মিম ছোট করে বলল,
___” জ্বি আন্টি।
হানিফ কে মিমের জ্বরের কথা শুনে উতলা হতে দেখা গেলো, উতলা হয়ে বলল,
___” আম্মু উনার জ্বর আমাকে ফোন করে বললেন না, আমি বাসায় ফিরার পথে মেডিসিন সঙ্গে করে নিয়ে আসতাম!
হানিফ কে মিমের প্রতি এতটা খেয়াল রাখতে দেখে আরশ মিমের প্রতি ক্ষিপ্ত চোখে তাকালো, বাকি সবাই বেশ অবাক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুশিও হলো, কাজের মেয়েটা হানিফ কে বললেন,
___” ভাইজান আপনি নতুন ভাবি কে আপনি উনি বলে ডাকছেন কেনো, দুইদিন পর তো ভাবি আপনার বউ হয়ে এই বাড়িতে আসবে।
মেয়েটার কথায় হানিফ বিষম খেলো, মিম অস্বস্তিকর মুখে একবার হানিফের দিকে তাকাতেই কিছু ভাঙ্গার শব্দে চমকে উঠে মেঝের দিকে তাকালো, ভরা পানির জগ মেঝেতে পড়ে ভাঙ্গে চুরমার হয়ে পড়ে আছে, মিম সেদিক থেকে চোখ তুলে আরশের দিকে তাকাতেই আরেক দফা চমকে উঠলো, আরশের মুখ ভয়ংকর হিংস্র দানবের মতো হয়ে আছে, চোখের বর্ন পুরোটা লাল হয়ে গেছে নিমেষেই, এতক্ষণে হানিফ আরশের মা-বাবা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াছেন, আরশের বাবা ছোট ছেলের কান্ডে রেগে বললেন,
___” আরশ তোমার প্রবলেম টা কী ?
ভদ্র লোকের পুরো কথা শেষ করতে না দিয়ে আরশ চেয়ার থেকে উঠে হনহন করে নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে বলল,
___” ওটা কে চেঞ্জ করো, কাজের চেয়ে এক্সট্রা কথা বলে বেশি।
আরশের এরূপ কথায় মেয়েটা অপমান বোধ করলো, ও তো এমনই, অনেক ‘বছর থেকে এই বাড়িতে কাজ করছে, কই এতদিন তো কথা বলার জন্য আরশ কিছু বলেনি, বরঞ্চ প্রথম প্রথম মেয়েটা কাজে এসে চুপচাপ কাজ করার জন্য আরশ নিজেই বলছিলো, তাঁর মায়ের সঙ্গে বেশি বেশি কথা বলতে, একা একা ভদ্র মহিলা বাড়িতে থেকে ভালো লাগে না, আরশের মায়ের সঙ্গে গল্প করে মন ভালো রাখতে বলা হয়েছিল, তাই তো সে এই পরিবারের একজন না হয়েও এই পরিবারের অনেক কিছু বলে,এতে কেউ কিছু বলে না, উল্টো তাঁর কথা যুক্তি সংযুক্ত মনে হলে তাঁরা মানায় চেষ্টা করে, কিন্তু আজকে আরশ মিমের সামনে এভাবে বলাতে অপমান বোধ করলো, যতই হোক মিম তো নতুন মানুষ, আরশের প্রতি বাড়ির সবাই বিরক্ত হলেন, আরশের বাবা হতাশ হয়ে পুনরায় চেয়ারে বসে পরলেন, আরশের কাজের মেয়ের দিকে তাকিয়ে দেখলেন,মেয়েটা মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে, ভদ্র মহিলা মেয়েটা কে বললেন,
___” আরশের কথায় কষ্ট পেও না,জানো তো আমার ছেলেটা কেমন, ইদানিং কিছু নিয়ে আপসেট মনে হচ্ছে।
মেয়ে টা মাথা উঁচিয়ে চাইলো ভদ্র মহিলার দিকে, পুনরায় একনজর মিম কে দেখলো, মিম তাঁর দিকের অসহায় মুখে চেয়ে আছে, দেখে মনে হচ্ছে আরশের প্রতি সে চরম বিরক্ত, মেয়েটা মিম কে দেখে মুখে মেকি হাসি টেনে বলল,
___” না না ম্যাডাম মন খারাপ করবো কেন,আমি একটু বেশি কথা বলি, অন্য বাসাতে এমন কথা বললে কবে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিতো।
মেয়েটার মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে, মেয়েটা কষ্ট পেয়েছে, তবুও মুখে হাসি ফুটে কথা বলছে, আরশের মা মলিন মুখে বললেন,
___” যাও মেঝেটা পরিস্কার করো।
মেয়েটা জ্বি ম্যাডাম বলে চলে গেলো, আরশের বাবা কিছু না বলে হাত ধুয়ে নিজের রুমে চলে গেলেন, আরশের মা নিজের জায়গা থেকে এসে আরশের বসার জায়গা টা পরিস্কার করতে লাগলেন, মিম আগের ন্যায় বসে আছে, হানিফ মিমের দিকে চেয়ে বলল,
___” সবকিছু মাথা থেকে বের করে খাবার শেষ করেন, আম্মু আপনার রুমে মেডিসিন থাকলে মিম কে খাইয়ে দিয়েন প্লিজ।
ছেলের কথায় ভদ্র মহিলার মুখে হাসি ফুটে উঠলো, হানিফ যে এত তাড়াতাড়ি মিম কে মেনে নিবে তাঁদের ধারনার বাহিরে ছিলো,ভদ্র মহিলা হাসি মুখে বললেন,
___” মেডিসিন রুমে আছে খাইয়ে দিবো, আমি ভাবছি অসুস্থ শরীরে মিম কে না ছাড়তে, আজকে মিম আমাদের বাড়িতে থেকে যাক।
ভদ্র মহিলার কথায় মিম নাকচ করে উঠলো,হানিফ কিছু বলার আগেই মিম দ্রুত বলে উঠলো,
___” আন্টি আমি একদম ঠিক আছি, আমার খাওয়া শেষ, আমি বাড়ি যাবো মুহূর্তেই প্লিজ আন্টি না করবেন না ।
ভদ্র মহিলা মিম কে দেখলেন কিছু পলক, মিম এই বাড়িতে থাকতে অইচ্ছুক,মিমের মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে
তিনি আর কথা বাড়ালেন না, মলিন মুখে বললেন,
___” আচ্ছা ঠিক আছে,একটু রেস্ট নেও, রেস্ট নেওয়ার পর হানিফ তোমাকে পৌঁছে দিয়ে আসবে।
মিম পুনরায় বলে উঠলো,
___” রেস্ট নেওয়া লাগবে না আন্টি।
কথাটা বলে মাথা নিচু করে নিলো মিম, ভদ্র মহিলা হানিফের দিকে তাকালো, হানিফ মায়ের তাকানো তে মিম কে উদ্দেশ্য করে বলল,
___” আচ্ছা ঠিক আছে আপনি ওয়েট করেন, আমি জাস্ট দু মিনিটে রুম থেকে আসবো।
কথাটা বলে হানিফ নিজের রুমে চলে গেলো, ভদ্র মহিলা নিজের রুম থেকে মেডিসিন নিয়ে এসে মিম কে খাইয়ে দিলো, মিম এখন সোফাতে বসে হানিফের নিচে আসার অপেক্ষা করছে, হানিফ দু মিনিটের কথা বলে প্রায় ছয়-সাত মিনিট পড়ে নিচে নেমে এলো, হাতে তাঁর গাড়ির চাবি, হানিফ মিম কে আসতে বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে গার্ডেনে চলে গেলো, পার্কিং থেকে গাড়ি বের করতে, মিম ভদ্র মহিলার থেকে বিদায় নিয়ে একনজর দু’তালা আরশের রুমের দিকে তাকালো, রুমের দরজা বন্ধ লাগছে, মিম সেদিক থেকে চোখ ফিরিয়ে পুনরায় ভদ্র মহিলার থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে এলো, গার্ডেনে হানিফ গাড়ি নিয়ে মিমের জন্য অপেক্ষা করছে, মিম বাড়ির ফিরত থেকে বের হতেই হানিফ ডাইভিং সিটের বসা আবস্থায় নিজের পাশের সিট একটু হেলে ভিতর থেকে খুলে দিলো, মিম সামনে বসতে নিতেই হাতের কব্জিতে টান অনুভব করে চোখমুখ কুঁচকালো, হানিফ আরশের কাজে বেকুব বুনে আরশ আর মিম কে দেখছে, আরশ মিমের কব্জি ধরে এক টানে মিম কে নিজের বুকে ফেলছে, মিম কারো বুক থেকে মুখ উপরে তুলতেই দেখলো, আরশ রাগী চোখে মিমের দিকে চেয়ে আছে, মিম কিছুটা সরে দাঁড়াতে নিলে আরশ মিমের হাত শক্ত করে ধরে আরেক হাত গাড়ির উপর শব্দ করে হাত রেখে হানিফ কে উদ্দেশ্য করে বলল,
___” তোকে বলছিলাম না আমার বউয়ের থেকে দূরে থাকতে, লজ্জার সিস্টেম বন্ধ নাকি, অন করে দিতে হবে, করবো অন ?
হানিফ কিছুটা হকচকিয়ে গেল, মনে মনে বকাও দিলো, ছোট ভাই কিছু বলতেও পারছে না,একটুতেই রেগে যায়, রাগের মাথায় কী বলে কী করে নিজেই জানে না, হানিফ মাথা নিচু করে ছোট করে নিঃশ্বাস ফেললো, পুনরায় গাড়ি থেকে নেমে গাড়ির সামনে দিয়ে ঘুরে আরশ মিমের সামনে সামনে দাঁড়ালো, মিম আরশের হাতের মধ্যে থেকে হাত বের করতে হাত মোচড়ামুচড়ি করছে, হানিফ দুজনের হাতের দিকে চেয়ে বলল,
___” মিমের হাত টা ছেড়ে দে।
হানিফের কথায় আরশ বিরক্ত কন্ঠে বলল,
___” ওকে ধরবো নাকি ছারবো আমি ঠিক করবো, যতক্ষণ পর্যন্ত ডিভোর্স হয়নি ততক্ষণ পর্যন্ত ও আমার বউ, আমি ওর সঙ্গে যা ইচ্ছা করবো, ডিভোর্স হওয়ার আগ পর্যন্ত ও আমার রেসপন্সিবিলিটি , ডিভোর্স হয়ে গেলে তুই যা ইচ্ছা কর, আমি বাঁধা দিবো না।
কথা টা বলে আরশ মিম কে টেনে নিজের বাইকের কাছে আনলো,বাইকে বসে মিম কে গম্ভীর গলায় হুকুম করলো,
___” বাইকে উঠ।
মিম কিছু বললো না, একনজর দূরে হানিফ কে দেখে চুপচাপ আরশের বাইকে উঠে বসলো, মিম বাইকে উঠতেই আরশ বাইক টান দিলো, হানিফ দূর থেকে চিল্লিয়ে বলল,
___” তুই যা ইচ্ছা কর মিমের উপর কোনো রাগ দেখাবি না।
আরশ মিমের কানে কথাটা পড়লো ঠিকই, আরশ কথাটা শোনা মাএ রাগটা যেন বেড়ে গেলো, তিরতির মেজাজে মিম কে কটুক্ত করে বলে উঠলো,
___” ভাতারের চেয়ে নাঙ্গের দরদ বেশি।
আরশের মুখে হানিফ আর নিজেকে ঘিরে বিশ্রী শব্দ শুনে মিম ঘেন্না ভরা কন্ঠে মেজাজ দেখিয়ে বলল,
___” মাইন্ড ইওর ল্যাংগুয়েজ, জবানে লাগাম টানেন।
মিমের কথায় আরশ আগের ন্যায় বলল,
___” আমার মুখের ভাষা এমনই, তুই অভ্যস্ত না তোর প্রবলেম।
মিম হতাশ হলো আর তর্ক করলো না, এর সঙ্গে যত তর্ক করবে, ততই তাঁর মুখের বিশ্রী কথা শুনতে হবে, শুধু দেখতেই সুন্দর, তাঁর কথাবার্তা একদম নাউজুবিল্লাহ, মিম চুপ করে গেল, আরশ বাইক নিয়ে এসে দাঁড় করালো ওষুধের দোকানের সামনে,
___” নেমে পর।
মিম অবাক হয়ে বলল,
___” কেনো, এখানে নামবো কেনো ?
আরশ মিমের কথায় ব্যঙ্গ করে বলল,
___” এইখানে তোর আমার বাসরের ব্যস্ত করছি এজন্য।
মিম নাকমুখ সিটকে বলল,
___” ছিহহহ ?
মিমের নাক ছিটকানো দেখে আরশ বিরক্ত কন্ঠে বলল,
___” তুই বাইক থেকে নামবি,নাকি ধাক্কা দিয়ে নামাবো ?
আরশের কথায় মিম অপমান হয়ে মুখ অন্ধকার করে বাইক থেকে নেমে পড়লো, মিম নামার পরপর আরশ বাইক থেকে নেমে একনজর মিম কে দেখে সামনের দোকান টাই গেলো, কয়েক মিনিট পড়ে হাতে করে একটা প্যাকেট এনে মিমের হাতে ধরে দিলো, মিম অবাক হয়ে প্যাকেট টা উল্টে পাল্টে দেখছে, মিম কে প্যাকেট উল্টে পাল্টে দেখতে দেখে আরশ বিরক্ত মুখে বলল,
___” তোর আমার বাসরের মেডিসিন, খেয়ে উদ্ধার করিস।
মিম এতক্ষণে বুঝতে পেয়েছে প্যাকেটের মধ্যে মেডিসিন আছে, আর এটা মিমের জ্বরের জন্য, মিম আরশের হাতে পুনরায় প্যাকেট টা ধরিয়ে দিয়ে বলল,
___” আমি পারবো না এটা নিতে, আমি ডক্টর দেখিয়ে মেডিসিন নিবো, আপনার নাউজুবিল্লাহ গিফটের জন্য থ্যাংকস, আজেবাজে দোকান থেকে মেডিসিন খেয়ে এত তাড়াতাড়ি মরতে চাইনা।
মিমের কথায় আরশ ভ্রু কুঁচকালো, এই মেয়ে কী তাকে বিশ্বাস করে না, মানুষ হিসাবে না করলো একজন জুনিয়র ডক্টর হিসাবে তো বিশ্বাস করতে পারে, সে কী না জেনে বুঝে হুদাই এক মেডিসিন দিচ্ছে তাঁকে, আরশ নিজের মধ্যে কথাগুলো ভেবে পুনরায় মিমের হাতে প্যাকেট টা ধরিয়ে দিয়ে বাইকে উঠতে উঠতে বলল,
___” নাটক কম কর, বাংলাদেশের জাতীয় মেডিসিন হলো নাপা, একটা নাপা খেলেই তোর জ্বর দফারফা হয়ে যাবে বাইকে উঠ।
মিম কিছু বলল না, চোখমুখে বিরক্ত টেনে পুনরায় বাইকে উঠে বসলো, দু’জনই চুপচাপ কারো মুখে কথা নেই, বাইকের গতি ধীর, রাতের মিটিমিটি ঠান্ডা বাতাস এসে শরীর টা শীতল করে দিয়ে যাচ্ছে, দুজনের ভিতরে চলছে নানারকম ভাবনা,একজন নিজেকেই চিনতে না পারার ভাবনা, নিজের মধ্যে পরিবর্তন দেখতে পাওয়ার ভাবনা, আরেকজন অতি দ্রুত এই বন্ধন থেকে মুক্ত হবে কিভাবে এটা নিয়ে ভাবনায় মগ্ন, এভাবেই প্রায় বিশ মিনিট সময় নিয়ে বাইক এসে দাঁড়ালো তালুকদার বাড়ির সামনে, বাইক দাঁড় করাতেই মিমের ভাবনায় ব্যাঘাত ঘটলো, তালুকদার বাড়ির দিকে একপলক দেখে বাইক থেকে নেমে পড়লো, আরশ যেন চাচ্ছিল না সময় টা শেষ হয়ে যাক, এভাবে নিরবতা আরো কিছুটা সময় কাটাতে মন চাইলো, কিন্তু মিম সে তো বাইক থেকে নেমে কিছু না বলে তালুকদার বাড়ির গেটের কাছে ধীর পায়ে চলে গেলো, একবার আরশ কে ফিরেও দেখলো না, আরশের নজর মিমের উপর, মন টা হাসফাস করছে, খুব করে চাচ্ছে মিম একবার ফিরে তাকাক তাঁর দিকে, মিম গেটের কাছে এসে কয়েক সেকেন্ড জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো, কিছু একটা ভেবে পিছনে ফিরে দ্রুত পায়ে আরশের সামনে এসে বলল,
___” অযোগ্য কে যোগ্য বানানো সম্ভব, তবে বিশ্বাসঘাতকে বিশ্বস্ত বানানো অসম্ভব।
মিম কথাটা এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না, না আর পিছনে ফিরে তাকালো, সোজা গেইট দিয়ে তালুকদার বাড়ির ভিতরে চলে গেলো, আরশ মিমের কথায় স্তব্ধ হয়ে যাওয়া দেখলো, মিম কী ইন্ডাইরেক্টলি আরশ কে বিশ্বাসঘাতক বলে গেলো, মিম বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখলো, আরাত ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছে, আর রাবেয়া তালুকদার কিচেন রুমে, বাদবাকি কাউকে দেখা গেলো না, ছেলেরা তো এখনো অফিস থেকে ফিরেনি, আরাত মিম কে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
___” কে দিয়ে গেলো ?
আরাতের প্রশ্নে মিম মলিন মুখে উত্তর করলো,
___” অহংকারী পন্ডিত মশাই ।
তখনই আদিবা তালুকদার মিমের কন্ঠে শুনে রুম থেকে বের হয়ে এলেন, ভাতিজির কাছে এসে হাসি মুখে আদুরে গলায় বলল,
___” শশুরবাড়ি পছন্দ হয়েছে ?
আদিবা তালুকদারের কথা মিমের পছন্দ হলো না, ক্লান্ত মুখে বলল,
___” ফুপি আমার অনেক টায়ার্ড লাগছে, আমি রেস্ট নিবো।
আদিবা তালুকদার মিমের মুখের দিকে ভালোভাবে তাকালেন, মুখটা মলিন শুকনো, তিনি বুঝলেন সত্যি মিম ক্লান্ত, তিনি মিম কে যেতে দিয়ে বললেন,
___” আচ্ছা যাও, আমি আরাত কে দিয়ে তোমার জন্য খাবার পাঠিয়ে দেই।
মিম নাকচ করে বলল,
___” না ফুপি খেয়ে এসেছি, একটু টায়ার্ড লাগছে রুমে গিয়ে ফ্রেশ হলেই ঠিক লাগবে।
আদিবা তালুকদার বললেন,
___” আচ্ছা যাও।
আরাত এতক্ষণে পুনরায় টিভিতে মনোযোগ দিয়েছে, মিম এদিক ওদিক তাকিয়ে আদিবা তালুকদার কে বললেন,
___” ফুপি আব্বু আম্মু চলে গিয়েছে ?
আদিবা তালুকদার কিচেন রুমের দিকে যেতে যেতে বললেন,
___” হ্যাঁ, তোমরা কলেজে যাওয়ার পরপর রওনা দিয়েছে।
মিম ও বলে নিজের রুমে চলে গেলো, আরাত বেশ কিছুক্ষণ টিভি দেখে টিভি বন্ধ করে কিচেন রুমের দিকে তাকালো, কিচেনে মা আর শাশুড়ী কে রান্না করতে দেখে সেদিকে পা বাড়ালো, আদিবা তালুকদারের পিছনে দাড়িয়ে উঁকি দিয়ে দেখতে লাগলো, কী রান্না হচ্ছে, রান্না প্রায় শেষ, আরাত কে উঁকি দিতে দেখে রাবেয়া তালুকদার বললেন,
___” কিছু লাগবে?
রাবেয়া তালুকদারের কথায় আরাত সোজা হয়ে দাঁড়ালো, মুখে হাসি টেনে পিছনে দুহাত রেখে হাসি মুখে বলল,
___” না বড়মা, কী রাঁধছ ?
আদিবা তালুকদার মেয়ে কে পরক করে বললেন,
___” টিভি দেখা শেষ?
আরাত মাথা ঝাকিয়ে হাসি মুখে হুম বলল,আদিবা তালুকদার পুনরায় বলল,
___” ভনিতা ছাড়া বলো কী জন্য কিচেন রুমে তোমার পা পড়েছে ?
নিজের মায়ের মুখে এমন কথা শুনে আরাতের হাসি মুখ বন্ধ হয়ে গেলো, মুখটা গম্ভীর করে নিলো, রাবেয়া তালুকদার আরাতের মুখের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসে, ছোট জা করে ধমক দিয়ে বলে উঠলেন,
___” আমি আজকাল লক্ষ করছি, তুমি আমার ছেলের বউ কে কথা শুনাচ্ছ, আমার ছেলের বউ তুমি এভাবে কথা শুনাতে পারো না।
রাবেয়া তালুকদারের কথায় আরাত রাবেয়া তালুকদার কে পিছন থেকে জরিয়ে ধরল, নিজের মায়ের দিকে জিহ্বা দেখিয়ে রাবেয়া তালুকদার কে উদ্দেশ্য করে বলল,
___” দেখছো বড়মা এই বাড়িতে শুধু তুমি একমাত্র মানুষ যে আমাকে বুঝো আর ভালোবাসো, নয়তো…
___” আমার ছেলে তোমাকে বুঝে না ভালোবাসে না?
আরাত নিজের কথা শেষ করার আগে শাশুড়ীর মুখে এমন কথা শুনে আরাতের হাত ধিলা হয়ে গেলো, মুখে লজ্জা ফুটে উঠলো, তাঁর মা আর শাশুড়ী মিলে যে আরাতের মজা উড়াচ্ছে বেশ ভালো করেই বুঝতে পারলো,আরাত রাবেয়া তালুকদার কে ছেড়ে দিয়ে আমতা আমতা করে বলল,
___” আমি তোমার ছেলের কথা বলছি না, আমি তো?
___” ও আচ্ছা আমাদের ছেলে তাহলে তোমাকে ভালোবাসে তাইতো?
আরাত এবারেও নিজের কথা শেষ করতে পারলো না, তাঁর আগে নিজের মা এমন কথা বলে উঠলো, আরাত মা বড়মার মুখে এমন কথা শুনে লজ্জা পেয়ে কিচেন রুম থেকে চুপচাপ দৌড়ে বের হয়ে গেলো, আরাত কে লজ্জা পেয়ে যেতে দেখে দুই জা শব্দ করে হেঁসে উঠলো, রাত প্রায় বারোটার কাছাকাছি, বাড়িতে আনাস আদনান তালুকদার আহাদ তালুকদার সবাই এসেছে, কিন্তু তাকবীর এখনো আসেনি, আরাত তাকবীরের অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হয়ে রুমের ওমাথা এমাথা হাঁটাহাটি করছে, যদিও অপেক্ষা টা তাকবীরের না, আইসক্রিমের জন্য, নয়তো এতক্ষণে আরাত ঘুমের রাজ্যে পারি দিত, বাড়ির সবাই রাতের ডিনার শেষ করে নিজেদের রুমে রুমে চলে গেছে, আরাত কিচেন থেকে দৌড়ে নিজের রুমে এসে পড়ার টেবিলে বসেছিল, প্রায় একঘন্টা সময় নিয়ে পড়া শেষ করে এশার নামাজ আদায় করে, কিছুক্ষণ জায়নামাজে বসে তসবিহ গুনে, রাত প্রায় সাড়ে দশ-টার দিকে নিচে নেমে দেখে, বাপ ভাই বাড়িতে ফিরেছে, এবং সবাই একসঙ্গে রাতের ডিনার করছে, আরাত কে দেখে আহাদ তালুকদার মেয়েকে কাছে ডাকলেন, এবং নিজের সঙ্গে খাবার খেতে বললেন, আরাত বাবার কাছে এসে কিছুক্ষণ খালি চেয়ারে বসে গল্প করলেন, কিন্তু ডিনার করলেন না, আহাদ তালুকদার তবুও নিজের প্লেট থেকে এক লোকমা মেয়ে কে খাওয়াইলেন, আরাত কিছু না বলে বাবার হাতে এক লোকমা খেলো,তাঁদের দেখাদেখি আনাস নিজের প্লেট থেকে ছোট্ট বোন কে এক লোকমা খাওয়ালো, আদনান তালুকদার হাসি মুখে ছেলের বউ কে কাছে ডেকে নিজেও খাওয়ালেন, খাবার টেবিল টা যেন আজকে একটু অন্য রকম সৌন্দর্য মেতে উঠলো, হাসি মজা আড্ডা দেওয়ার মধ্যে দিয়ে নিজেদের খাওয়া শেষ করলেন, বাদ পরল না আহিন আইরাও, তাঁদের হাতের লোকমা আরাত খেলো, সবার প্লেট থেকে এক লোকমা করে খেতে খেতে আরাতের পেত ভরে গেল, আরাত পুনরায় রুমে এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বিছানায় বসে ফোন লাগলো তাকবীরের ফোনে, দু থেকে তিনবার রিং হতেই ওপাশ থেকে তাকবীর ফোন রিসিভ করে সালাম দিলো,
___” আসসালামু আলাইকুম বিবিজান ?
আরাত তাকবীরের সালাম মুখ ফুলিয়ে নিলো,
___” অলাইকুম আসসালাম।
তাকবীর আরাতের ভয়েস শুনে বুঝতে পারলো, তাঁর পাগল গাল ফুলিয়ে আছে, তাকবীর ফোনের ওপাশ থেকে মুচকি হাঁসলো,আরাত রাগী স্বরে বলল,
___”কোথায় আপনি?
তাকবীর আরাতের কথায় উওর না করে উল্টে আরাত কে প্রশ্ন করল,
___”এখনো জেগে আছো, রাত বারোটা বাজে?
আরাত আগের ন্যায় বলে উঠলো,
___” বাবা বড়আব্বু এলো, ভাইয়া এসেছে, আপনি আসলেন না কেনো, আপনি ঠিক আছেন তো?
তাকবীর পুনরায় আরাতের কথা অগ্রহ করে বলে উঠলো,
___” আমার জন্য টেনশন হয়?
তাকবীরের কথায় আরাতের রাগ কমে এলো, কিছুটা বিচলিত হতে দেখে গেলো,উৎফুল্লতায় মুখ ফসকে বলে উঠলো,
___” হ্যাঁ অবশ্যই টেনশন হয়, আপনি আমার…
আরাত পুরো কথা বলতে আঁটকে গেলো, কিছুটা লজ্জা পেলো, তাকবীর ফোনের বিপরীতে মুচকি হেঁসে বলে উঠলো,
___”নট ব্যাড, নট ব্যাড, সামনে টুকু শেষ করো?
আরাত লজ্জা পেয়ে মুচকি হেঁসে বলল,
___” কিছু না আমি ঘুমাবো আল্লাহ হাফেজ।
আরাত ফোন কান থেকে নামিয়ে কাটতেই তাকবীর বলে উঠলো
___” এ্যাই এ্যাই এক মিনিট।
আরাত পুনরায় ফোন কানে তুলে হাতের নক দেখতে দেখতে ছোট্ট করে বলল,
___” হুম বলেন?
তাকবীর এবার সিরিয়াস মুখে গম্ভীর গলায় বলল,
___” নিচে নেমে এসো।
তাকবীরের ফোন কেটে গেলো, আরাত অবাক হলো, তাকবীর কে বাড়িতে এসেছে, না এলে আরাত কে নিচেই বা কেনো নামতে বলল, আরাত ফোন বালিশের পাশে রেখে গুটিগুটি পায়ে রুম থেকে বের হলো,পুরো বাড়ি নিস্তব, আরাত সিড়ি বেয়ে এক-দুই পা করে নিচে নেমে ডাইনিং টেবিলের কাছে এসে দাঁড়ালো, তাকবীর খাবারের প্লেট সাজিয়ে চোয়ারে বসে ক্লান্তিতে মাথা সিলিং দিকে রেখে চোখ বন্ধ করে আছে, আরাত তাকবীর কে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে দেখে মুখ অন্ধকার করল,
___” আমার আইসক্রিম কই ?
নিস্তব্ধ পরিবেশে আরাতের কথাটা যেন ঝংকার তুললো ডাইনিং টেবিলে, তাকবীর আরাতের কন্ঠে হকচকিয়ে চোখ খুলে সোজা হয়ে বসলো,আরাত কে নিজের সামনে মুখ অন্ধকার করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাকবীর চোখ বন্ধ করে হতাশার নিঃশ্বাস ফেললো, পুনরায় আরাতের দিকে তাকিয়ে এক হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
___” এদিকে এসো ।
আরাত কিছুটা পিছনে গিয়ে বলল,
___” না আমি যাবো না।
তাকবীর বসা থেকে উঠে হাত বাড়িয়ে আরাতের এক হাত টেনে ধরে নিজের কাছে আনলো, পুনরায় আরাত কে উঁচু করে ডাইনিং টেবিলের উপর বসালো, আর তাকবীর আরাতের সামনে চেয়ারে বসে দুহাতে আরাতের কোমর আঁকড়ে ধরলো, তাকবীর আরাতের কোমরে হাত রাখতেই আরাতের শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠলো, আরাতের চোখে চোখ রেখে বলল,
___” গতকালের মতো খাইয়ে দেও।
আরাত ওই আবস্থাতে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
___” পারবো না, আপনি আমার কথা শুনেন না আমি আপনার কথা শুনবো না।
তাকবীর আরাতের কোমরে আরো বেশি চাপ দিয়ে ধরে বলল,
___” আমিও তোমাকে ছেড়ে দিবো না, পুরো রাত এভাবে ধরে রেখে দিবো।
আরাত মুখ অন্ধকার করে তাকবীরের দিকে তাকালো,তাকবীর চোখের ইশারায় আরাত কে ভাতের প্লেট হাতে নিতে বলল,আরাত মুখ গম্ভীর রেখে বাদ্য মেয়ের মত প্লেট হাতে নিলো, আরাত ভাত মেখে গম্ভীর মুখে একের পর এক লোকমা তাকবীর কে খাওয়াচ্ছে, খাওয়ানোর মধ্যে নেই কেনো ফিলিং শুধুই তুলছে আর খাওয়াচ্ছি, তাকবীর আরাতের চোখে চোখ রেখে আরাতের অভিমান দেখে ঠোঁটের কোণে হাসি ঝুলে খেয়ে যাচ্ছে, খাওয়া শেষ হতে তাকবীর বলল,
___” তুমি খেয়েছো?
আরাত বাঁকা হয়ে হাত ধুতে ধুতে আঁড়চোখে একনজর তাকবীর কে দেখে ছোট করে বলল,
___” হুম।
তাকবীর আরাতের কথায় বলল,
___” ওকে, এখন কপালে গভীর ভাবে ঠোঁট ছুঁয়ে দেও তো!
আরাত তাকবীরের কথায় এবার আরো রেগে গেলো, মুখে কিছু না বলে সাপের মতো ফুঁসতে ফুঁসতে অন্য পাশে মুখ ঘুরালো,তাকবীর ঠোঁট উল্টে আরাতের কান্ড দেখে বলল,
___” নো প্রবলেম তুমি যখন খাবে না, আমি তোমাকে খাবো।
কথাটা বলে তাকবীর আরাতের মুখ নিজের দিকে করিয়ে কঁপালে টুপ করে একটা চুমু রেখে দিলো, আরাত ওইদিনের মতো আজকে কপালে হাত ঘুষতে লাগলো, তাকবীর মুচকি হেঁসে পুনরায় ডান গালে ঠোঁট ছুঁয়ে দিলো, আরাত পুনরায় একি কাজ করলো, তাকবীর কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ আরাত কে দেখলো, আরাত অন্য দিকে মুখ করে আছে, তাকবীর আরাত কে দেখে পুনরায় একি কাজ করলো, বা গালে ঠোঁট ছুঁয়ে দিলো, আরাত এবার না নড়াচড়া করলো না, তাকবীর মাথা নিচু করে হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে কান ধরে আরাতের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” সরি ম্যাম আপনার আইসক্রিম ফ্রিজে রাখা আছে, এবার রাগটা একটু কমানো যায় না ?
আইসক্রিম ফ্রিজে রাখা আছে কথাটা শুনা মাএ আরাতের মুখ এক নিমেষেই দুইতিন প্রকার হয়ে গেলো, প্রথমে অবিশ্বাস্য তারপর একটু অবাক এবং খুশির ঝিলিক, আরাত টেবিল থেকে নেমে কিচেন রুমের ফ্রিজের দিকে যেতে নিয়ে পুনরায় পিছনে ফিরে, তাকবীরের মুখ দু’হাতে ধরে কপালে বেশ গভীর ভাবে ঠোঁট ছুঁয়ে দিলো,আরাত ঠোঁট ছুয়াতেই তাকবীর তব্দা খেয়ে বসে রইলো, আরাত দৌড়ে পুনরায় কিচেন রুমে এসে ফ্রিজ খুলে দেখলো, দু’টো কোণ আইসক্রিম, আরাতের মন খারাপ হলো মাএ দুটো দেখে, তবুও কিছু বলল না নিয়ে তো এসেছে তাও, আরাত একটা কোণ খুলে খেতে খেতে তাকবীরের সামনে এসে বলল,
___” চলেন এখন রুমে চলেন।
তাকবীর এতক্ষণ আরাতের দিকে তাকিয়ে ছিলো, আরাতের মুখে রুমে যাওয়ার কথা শুনে কপাল কুঁচকে বলল,
___” হোয়াট তুমি আইসক্রিম নিয়ে রুমে যাবে ?
আরাত আইসক্রিম খেতে খেতে স্বাভাবিক ভাবে উওর করল,
___” হ্যাঁ।
তাকবীরের কপালের ভাজ সোজা হয়ে এলো, আরাত থেকে চোখ ফিরিয়ে চেয়ারের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” চুপচাপ এখানে বসে খাও, খাওয়ার শেষে
রুমে এর আগে না।
আরাত অবাক হয়ে চেয়ারে বসতে বসতে বলল,
___” কিন্তু কেনো?
তাকবীর গম্ভীর মুখে টেবিলের উপর নিজের ফোন ঘুরাতে ঘুরাতে বলল,
___” রুমে স্পট লেগে যাবে।
আরাত এতক্ষণে বুঝলো, তাকবীরের রুমে সবকিছু সাদা, বেড থেকে শুরু করে আসবাবপত্র পর্যন্ত, আর তাকবীর আগে থেকে ফিটফাট, গুছানো, নিজের জিনিস অন্য কে টাচ করতে দেয় না, সবসময় রুম ফিটফাট রাখতে ভালোবাসে, আরাত আর কথা বাড়ালো না চুপচাপ তাকবীরের পাশে বসে আইসক্রিম শেষ করতে লাগলো, তাকবীর নিজের ফোনে ব্যস্ত হতে গেলো, আরাত আইসক্রিম খেতে খেতে তাকবীরের মুখে নিখুঁত চোখ বুলালো, একপর্যায়ে নরম নরম হাতে তাকবীরের ফর্সা গালে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি তে নক দিয়ে খেলা করতে লাগলো, তাকবীর আঁড়চোখে একনজর আরাত কে দেখে এক হাতে আরাতের কোমরে হাত রেখে ফোনে মনোযোগ দিলো,
( না শীত না গরম, এই সময় আইসক্রিম কই পাবে তাকবীর, অফিস থেকে বের হয়ে তিন-চার দোকান খুঁজেছে, তাকবীর কে আইসক্রিমের খোঁজ করতে দেখে অনেকেই তাকবীর কে অবাক হয়ে দেখছিলো, কেউ কেউ হেসেছিলো,সবার একটাই চাহনি এই শীতে কে আইসক্রিম খায়, লোকটা কী পাগল নাকি, তাকবীর কোনোদিকে খেয়াল না করে একে একে পঞ্চম দোকানে পেয়েছে, তাও দুইটার বেশি না,
তাকবীর আইসক্রিম নিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতেই আরাতের ফোন আসে, ফোনটা রিসিভ করে কথা বলতে বলতে আইসক্রিম ফ্রিজে রেখে দেয়, এবং আরাত কে নিচে আসতে বলে )
রাত যত গভীর হচ্ছে আরাত ততই ঘুমের দেশে পারি জমাচ্ছে, নিচে থেকে প্রায় ঘন্টা দেড়েক হলো দুজনে রুমে এসেছে, তাকবীর রুমে এসে ওয়াশরুম যায় ফ্রেশ হতে, ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এসে দেখে আরাত ঘুমের দেশে পারি দিয়েছে, আর দিবেই না কেনো রাত প্রায় দুইটার কাছাকাছি, তাকবীর ধীর পায়ে বিছানায় এসে আরাত কে নিজের বুকে টেনে নিয়ে শুয়ে পরলো, চোখে ঘুম ধরা দিচ্ছে তবুও ঘুমাচ্ছে না, নিত্যদিন গভীর রাতে আল্লাহর কাছে হাত তুলার অভ্যাসটা তাঁকে ঘুমাতে দিচ্ছে না, সারাদিনের বাহিরের ক্লান্ত শরীর নিয়ে এই গভীর রাতে নিজের চাওয়া পাওয়া গুলো তুলে ধরার শান্তি আর কোথাও নেই, তাকবীর আরাত কে বুকে নিয়ে কেটে দিলো প্রায় আধা ঘণ্টা মতো, আজকাল অর্ধাঙ্গিনী কে সঙ্গে নিয়ে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার মধ্যে আলেদা শান্তি খুঁজে পায়, মুহূর্তটা যেন শেষ হবার না, অনুভূতিরা যেন আনন্দে আনন্দ খেলা করে, তাকবীর আরাত কে ঠান্ডা স্বরে ডেকে উঠলো,
___” রাত…?
আরাতের ভারি নিশ্বাসের শব্দ ছাড়া কিছুই শোনা গেলো না, তাকবীর একটু উঁচু স্বরে ডেকে উঠলো,
___” রাত শুনতে পাও ?
আরাত এবার কিছুটা নড়াচড়া করে ঘুমঘুম কন্ঠে হুম বলল,তাকবীর আরাত কে নড়াচড়া করতে দেখে বলল,
___” উঠবে না?
আরাতের ঘুম জরানো কন্ঠ,
___” না।
তাকবীর আরাতের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল,
___” নামাজ আদায় করে তারপর ঘুমাও?
___” উঁহু পারবো না।
তাকবীর আর আরাত কে উঠালো না, ঘন্টা দেড়েক আগে ঘুমিয়েছে, থাক ফরজের সময় উঠবে এখন ঘুমাক,কথাটা গুলো ভেবে তাকবীর আরাত কে নিজের বুকের উপর থেকে আরাত কে নামিয়ে বিছানায় শুয়ে দিলো, কম্বল শরীরে ভালোভাবে জরিয়ে দিয়ে বিছানা থেকে নেমে পড়লো,ওয়াশরুমে প্রায় ২৫ মিনিটে মতো সময় নিয়ে নতুন করে ফ্রেশ হলো, ওয়াশরুমের দরজা খুলতে বের হতে যাবে আর হটাৎ করে নিজের সামনে দিয়ে কাউকে দৌড়ে যেতে দেখে তাকবীর জায়গায় দাঁড়িয়ে পরলো, রুমে ডিম লাইট জ্বলছে, কপাল কুঁচকে ভালোভাবে দৌড়ে যাওয়া ব্যক্তিকে লক্ষ করার মধ্যে হুট করে ব্যক্তিটা পুনরায় ঘুরে হা হা শব্দ করে হেসে তাকবীরের দিকে জোরে দৌড় দিয়ে আসতে লাগলো, হটাৎ ব্যক্তিটার আতক্রমে তাকবীর বুকে হাত দিয়ে মুখ থেকে চাপা আহ সূচক শব্দ বের করে মেঝেতে বসে পরলো, আরাত তাকবীর কে বুকে হাত দিয়ে বসতে দেখে ভয় পেয়ে গেলো, ভীতু কন্ঠে দৌড়ে তাকবীরের সামনে এসে বসে তাকবীরের বুক ডলতে ডলতে বলতে লাগলো,
___” কী হয়েছে আপনার আপনি ঠিক আছেন, এটা ভূত না আমি আমি আমি ছিলাম, শুনতে পারছেন আমার কথা?
তাকবীরের কোনো কথা নেই মুখে নিস্তব্ধ হয়ে বুকে হাত রেখে বসে আছে, আরাত আরো ব্যাকুল হয়ে উঠলো, কী করবে ভেবে পেলো না, ওদিক এদিক তাকাচ্ছে তো তাকবীর কে বলছে,
___” কথা বলছেন না কেনো আপনি, আপনি ঠিক আছেন, দেখেন আমি আর জীবনেও এমন দুষ্টুমি করবো না প্রমিস করছি, ঠিক হয়ে যান না প্লিজ
আরাত তাকবীরের এমন নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকা দেখে চোখে পানি এসে ভর করছে, গলা শুকিয়ে গেছে নিমেষেই, চোখের পানি গাল বেয়ে পড়তেই আরাত ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় তাকবীর কে ডেকে সবাই কে ডাকার উদ্দেশ্য উঠে দাঁড়াতে নিলো,
___” দেখেন আপনার খুব কষ্ট হচ্ছে তাইনা, সবদোষ আমার, আমি আর কখনো এমন দুষ্টুমি করবো না, বললাম তো আপনাকে, ডাক্তার হ্যাঁ ডাক্তারের কাছে নিতে হবে ভাইয়া….
আরাত আনাস কে ডাকতে ডাকতে মেঝে থেকে উঠে দাঁড়াতে নিতেই তাকবীর আরাতের হাত টেনে নিজের উপরে ফেললো, আরাতের মুখে কথা নেই, তাকবীর আরাত কে নিজের বুকে ফেলে শব্দ করে হাসতে লাগলো, আরাত যে তাকবীরের এই প্রথম হাসির আওয়াজ শুনছে সেদিকে তাঁর কেনো ধ্যান নেই, আরাত তাকবীরের দুষ্টুমি বুঝতে পেয়ে তাকবীরের বুকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি দিতে দিতে কান্না করে বলল,
___” আপনি একটুও ভালো না, আপনাকে আমি মেরেই ফেলবো, আপনার অবস্থা দেখে আমার কী হয়েছিল জানেন পচা লোক একটা…
তাকবীর হাসতে হাসতে এতক্ষণে মেঝেতে শুয়ে পরছে, আরাতের দু-হাত আটকে ধরলো, আরাত কে এক টানে নিজের মুখোমুখি করে বলল,
___” না আমি সফল না, তোমাকে আমার জন্য আরো বেশি ব্যাকুল হতে হবে জান।
আরাতের মুখে কথা নেই, ক্ষণে ক্ষণে হেঁচকি তুলতে তুলতে ছোট ছোট চোখে তাকবীর কে দেখছে, তাকবীরের চোখমুখের পরিবর্তন ঘটছে, আরাত তাকবীরের চাহনিতে ঠোঁট ভিজে নিয়ে উঠতে চাইলো তাকবীরের বুক থেকে, তাকবীর আরাত কে আরো শক্ত করে নিজের সঙ্গে চেপে ধরে মেঝেতে শুয়ে থেকে আরাতের কপালে ঠোঁট ছুঁয়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
___”আই লাভ ইউ, ফরএভার, অ্যান্ড এভার, অ্যান্ড এভার, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভালোবেসে যাবো আমার পাগল কে ।
আরাত তাকবীর কে দু’হাতে জরিয়ে ধরলো, তাকবীরের পিঠ ঠেকলো মেঝের সঙ্গে, আরাত কে জরিয়ে ধরতে দেখে তাকবীর স্লো ভয়েসের পুনরায় আরাতের কানের কাছে বলল,
___” ভালোবাসতে দিবে ?
আরাত চোখ বন্ধ করে মাথা ঝাকালো,
___” হুম।
তাকবীর মাথা উঁচিয়ে আরাতের ঘারে মুখ গুঁজে বলল,
___” সত্যি তো ?
আরাত কিছু না বলে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা পালন করলো, তাকবীর আরাত করে নিজের বুক থেকে মেঝেতে ফেলে আরাতের উপর ঝুঁকে বলল,
___” কিছু বলছো না কেনো?
আরাতের চোখ বন্ধ, চোখের পাপড়ি ঠোঁট কাঁপছে, তাকবীর ডিম লাইটে আরাতের চোখের পাপড়ি কাঁপা কাঁপা ঠোঁট দেখে ঢোগ গিলল,আরাত চোখ বন্ধ রেখে তাকবীরের বুকে হাত দিয়ে তাকবীর কে সারাতে সরাতে বলল,
___” নামাজ, নামাজের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে ।
___” হতে দেও।
তাকবীর আরাতের গলায় মুখ ডুবালো, আরাত চোখ বন্ধ রেখে তাকবীরের বুকের শার্ট শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো,
তাকবীর নামাজের জন্য আরাত কে বিছানায় ভালো ভাবে শুয়ে দিয়ে ওয়াশরুমে চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরাত চোখ মেলে তাকায়, তাকবীর যখন নিজের বুক থেকে আরাত কে বিছানায় শুয়ে দেয় তখনই আরাত জেগে যায়, তাকবীর ওয়াশরুমে যাওয়ার পর আরাত নিজেও নামাজের জন্য ওঠে, তাকবীর কে ওয়াশরুম থেকে বের হতে না দেখে আরাত পুনরায় কিছুক্ষণ বিছানায় এপাশ ওপাশ করে, ওপাশ এপাশ করতে করতে মাথায় সয়তানি খেলে যায়, বিছানা থেকে উঠে নিজের শরীরের ওড়না দিয়ে পুরো শরীর ডাকে, পরক্ষণে ওড়না ছোট হওয়ার ওড়না রেখে দিয়ে বিছানা পাতলা কম্বল দিয়ে পুরো শরীর ডাকে নেয়, শুধু চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে, ডিম লাইটে সাদা কম্বলে নিজেকে জরিয়ে নিয়ে প্রায় পাঁচ ছয় মিনিট ওয়াশরুমের সামনে অপেক্ষা করে, কিন্তু তাকবীরের বের হওয়ার নাম নেই, বিরক্ত হয়ে পুনরায় বিছানায় দিকে যেতে নিতেই ওয়াশরুমের দরজা খুলার শব্দ কানে আসে, আরাত উপায় না পেয়ে সামনের দিকে দৌড় দেয়, পুনরায় যখন মনে পড়ে তাকবীর কে ভয় দেখানোর কথা, সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় ঘুরে তাকবীরের দিকে দৌড় দেয়, আর তাকবীর বুক ধরে বসে পড়ে,
মূলত তাকবীর প্রথমেই আরাত কে চিনতে পেয়েছে, তারউপর রুমে আরাত ব্যতীত এত রাতে অন্য কারো আসার সম্ভাবনা নেই বা আসবেও না কখনো, তাকবীর ইচ্ছা করেই আরাতের রিয়েকশন দেখের জন্য বুকে হাত দিয়ে বসে পড়ে, কিন্তু আরাতের ব্যাকলতা তাকে মন ভরাতে পারেনি, তাঁর বউ তাঁর জন্য আরো বেশি ব্যাকুল হতে হবে, তাঁকে হারানোর ভয় পেতে হবে, তবেই না আজান তালুকদার তাকবীরের মনে তৃপ্তি আসবে,
আধার কেটে নামে প্রতিটি সকাল কতো শান্ত স্নিগ্ধতা
নিয়ে, ধীরে ধীরে সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের নীরবতা ভেঙ্গে কোলাহল সৃষ্টি হয়ে যায় চারপাশে, আজকের সকাল টা যেন আশিক মায়ার জীবনে পরিক্ষার মতো হয়ে ধরা দিয়েছে, পরিক্ষার আগে যেমন মনের মধ্যে দুরুদুরু করে, হালকা ভয় কিছু এক্সাইটেড সঙ্গে মাথা ভর্তি টেনশন, ঠিক তেমনি দু’জনের মধ্যে হচ্ছে, মায়া অনেক দিন থেকে নিজের বাড়ি যাবে বলে জেদ ধরেছে, বাবার সামনে দাঁড়াবে রাগ করে বকা দেক, তবুও সে বাবার সামনে দাঁড়াবে, আশিক যেতে নারাজ, তাঁর এক কথা তোমাকে তোমার বাড়ির সামনে নামিয়ে দিবো, বাড়ি ফিরার পথে আমাকে ফোন করবে আমি তোমাকে উঠিয়ে আনবো, মায়া আশিকের কথা মানার মেয়ে নাকি, সে আশিক কে নিয়েই নিজের বাবা-মার সঙ্গে দেখা করবে, বকা খেলে সে একা খাবে কেনো, আশিক কেও তো খেতে হবে আফটার অল সে চেয়ারম্যান বাড়ির একমাত্র জামাই,সময়টা এগারোটার ঘরে, চেয়ারম্যান বাড়ির সামনে একটা গাড়ি দাঁড় করানো, গাড়িতে স্টিয়ারিংয়ে হাত রাখা আশিক, চোখ নিবদ্ধ রেখেছে চেয়ারম্যান বাড়ির দিকে, আই মিন আশিকের শশুর বাড়ির উপর, মায়া বিরক্ত মুখে আশিকের দিকে তাকিয়ে আছে, সেই কখন থেকে আশিক কে বলছে গাড়ি থেকে নামতে, কিন্তু আশিক নিস্তব্ধ হয়ে বাড়ির দিকে তাকিয়ে আছে, মায়া আশিকের নিস্তব্ধতা দেখে এবার রেগে গেলো ,
___” আব্বু কিছুক্ষণের মধ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যাবে, তুমি গাড়ি থেকে নামবে এবার?
মায়ার কথায় আশিক চেয়ারম্যান বাড়ি থেকে চোখ ফিরিয়ে মায়ার দিকে তাকালো, কতক্ষণ থেকে সে মায়া কে বলছে তুমি ভিতরে যাও, দেখা করে আসো তোমার মা-বাবার সঙ্গে, কিন্তু না মায়া তো যাচ্ছে না, আশিক এবার বিরক্ত মুখে নামতে নামতে বলল,
___” শুনো তোমার আব্বু যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে, আমি তাঁর মাথায় গাট্টা মেরে দৌড় দিবো।
আশিক কথাটা বলে গাড়ি থেকে নেমে গম্ভীর মুখে দাঁড়ালো, মায়া কিছুক্ষণ আশিক কে রাগী চোখে দেখলো, এই ছেলে সিরিয়াস হবে কবে জানা নেই মায়ার, আশিক মায়ার তাকানো অগ্রহ করে পুনরায় বলল,
___” ওই ভাবে তাকাছো কেনো, আমি জাস্ট আমার মনের ওপিনিয়ন জানালাম।
মায়া আজকে আর আশিকের সঙ্গে তর্কে জরালো না, মনের মধ্যে চলছে অন্য চিন্তা, বড় মুখ করে তো আশিক কে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির ভিতরে যাচ্ছে, যদি দু’জন কে খালেক চেয়ারম্যান অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দেন, যদি মেনে না নেয়, আশিক কে যদি অপমান করে, মনের মধ্যে হাজারো চিন্তা নিয়ে হাতে করে মিষ্টির প্যাকেট আর কিছু ফলমূল নিয়ে সামনে হাঁটছে, আজ কতদিন পড়ে নিজের বাড়িতে পা দিচ্ছে, অতি চেনা মুখ আনাচেকানাচে জায়গা গুলো ঘুরবে দেখবে, আচ্ছা মায়া কে দেখে ফারজানা বেগম কেমন রিয়েক্ট করবে, সেইদিনের মতো মুখ ফুরিয়ে নিবে কী, এতদিন পড়ে মেয়ে কে দেখে মুখ ফিরাইতে পারবে, মায়া ধূকধূক বুক নিয়ে চেয়ারম্যান বাড়ির কলিং বেলে চাপ দিলো,আশিক মায়ার পাশে মায়ার হাত ধরে আছে, ভিরত থেকে কাউকে দরজা খুলতে না দেখে মায়া পুনরায় কলিং বেল টিপ দিয়ে আশিকের দিকে তাকালো, আশিক চোখ দিয়ে ইশারায় করছে কিছু হবে না, দ্বিতীয় বার কলিং বেল বাজাতেই ভিতর থেকে ফারজানা বেগমের কষ্ট ভেসে এলো,
___” এতবার কলিং বেল বাজাচ্ছেন কেনো, বের হতে তো একটু সময় দিবেন?
ফারজানা বেগম ভেবেছেন খালেক চেয়ারম্যান বাড়ি ফিরেছেন,যবে থেকে মায়া বাড়ি থেকে চলে গিয়েছে, তখন থেকে ফারজানা বেগম বাড়িতে একা থাকলে সদর দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে থাকেন, একলা বাড়িতে থাকেন, তারউপর রাজনৈতিক নেতার বাড়ি, মানুষের শত্রুতা তো বলে কয়ে আসে না, ফারজানা বেগম সদর দরজা খুলে, দরজার সামনে মায়া কে দেখে খুশিতে কান্না করতে করতে মায়া কে জরিয়ে ধরলেন, ফারজানা বেগমের সঙ্গে মায়াও কান্না শুরু করে দিলো, আশিক পাশে দাঁড়িয়ে মা মেয়ের কান্না দেখছে, ফারজানা বেগম কান্না করতে করতে বলল,
___” একবারও এই আম্মু টার কথা মনে করলি না, এতদিন পড়ে মনে পড়লো তোর মায়ের কথা ?
ফারজানা বেগমের এমন কান্নাজরানো কন্ঠে মায়া হেঁচকি তুলতে তুলতে বলল,
___” তোমাদের কথা সবসময় মনে পড়ে আম্মু, তোমাদের তো ভুলে যায়নি যে মনে পড়বে, আই এম সরি আম্মু তোমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছি।
মায়ার কথায় ফারজানা বেগম আগের ন্যায় কান্না করতে করতে বলল,
___” সরি কেনো বলছিস মা, ভুল তো আমাদের, আমাদের উচিত ছিলো তোর মন বুঝার, কিন্তু আমরা তোর উপর আমাদের চাওয়া গুলো চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলাম, পারলে আমাদের মাফ করে দিস মা, তোকে অনেক কষ্ট দিয়েছি আমরা।
মায়া নিজের মায়ের মুখে দু-হাত রেখে কান্নাভেজা মুখে হাসি দিয়ে বলতে লাগলো,
___” আব্বু কই আম্মু,আব্বু কী এখনো আমাদের উপর রেগে আছে, আব্বু কে ডাকো আমি আব্বুর কাছে সরি বলবো, আব্বু আমাদের মেনে নেবে না আম্মু?
ফারজানা বেগম আগের ন্যায় বললেন,
___” তোর আব্বুর কাছে সরি বলতে হবে না, সে তোদের অনেক আগেই মেনে নিয়েছে, শুধু অভিমান করে তোকে ফোন করেননি, শুধু আশায় থাকে তুই কবে নিজে থেকে ফোন করবি, হটাৎ বাড়ি ফিরে বলবি আব্বু, যা হওয়ার হয়ে গেছে আমাকে আর দূরে সরে দিও না, প্রতিদিন বাড়ি ফিরে আমাকে বলে, তোমার মেয়ে ফোন করেছিল, আমি কেনো উওর করতে পারতাম না, তিনি শুধু হাতাশ হয়ে আমার দিকে তাকাতেন।
ফারজানা বেগমের কথায় মায়ার মুখের হাসি আরো বেশি চওড়া হলো, আশিকও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো, যাক তাঁর অহংকারী শশুর তাঁদের মেনে নিয়েছে, কিন্তু জানতে ইচ্ছা করছে এই ভদ্র লোক এত তাড়াতাড়ি পাল্টি মারলো কিভাবে, আশিকের মনের কথা মনেই রয়ে গেলো, দুই মা মেয়ের কান্নাকাটি শেষ হচ্ছে না, সদর দরজায় দাঁড়িয়ে মানঅভিমান মেটাচ্ছে, আর আশিক নীরব দর্শক হয়ে দেখছে শুধু, ফারজানা বেগমের এতক্ষণে হুশ ফিরলেন, মেয়ের পাশে নতুন জামাই আছে, তিনি মেয়েকে ছেড়ে দিয়ে মাথায় কাপড় ভালোভাবে ঠিক করে আশিকের দিকে তাকালেন,আশিক সঙ্গে সঙ্গে শাশুড়ী কে হাসি মুখে সালাম দিলো, ফারজানা বেগম সালাম নিয়ে মায়া কে উদ্দেশ্য করে বললেন,
___” জামাই কে নিয়ে ভিতরে আয়।
ফারজানার পিছনে পিছনে মায়া হাসি মুখে বাড়ির ভিতরে ঢুকলো, আশিক সোফার টি-টেবিলের উপর মিষ্টির প্যাকের আর ফলমূলের প্যাকেট রেখে দিলো, মায়া পুরো বাড়ি চোখ বুলিয়ে দেখছে, আশিক চুপচাপ ভদ্র ছেলের মতো সোফাতে বসে পরলো, মায়া এদিক ওদিক দেখতে দেখতে বললো,
___” আব্বু কই আম্মু, আব্বু কে তো দেখতে পারছি না ?
ফারজানা বেগম মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে ডাইনিং টেবিলের দিকে রাখতে যেতে যেতে বলল,
___” পার্টি অফিসে, সামনে নিবার্চন, বাড়িতে দেখা দায় তাঁর, কখন ফিরবে ঠিক নেই।
মায়া মন খারাপ করে ছোট করে ও বলল, আশিক যেন শশুর বাড়িতে না থাকার সুযোগ পেয়ে গেলো, সোফাতে ঠিকঠাক হয়ে সিরিয়াস মুখে বসলো, একনজর মায়া কে দেখে নিয়ে ফারজানা বেগম কে বলল,
___” আন্টি আমার বদমেজাজি শশুর হটাৎ করে পাল্টি মারলো কেনো, উনার কী কোনো মতলব আছে নাকি ?
ফারজানা বেগম বেকুব বনে গেলো, নতুন জামাইয়ের মুখে স্বামীর নামে উল্টোপাল্টা কথা একদম আশা করেননি তিনি, মায়া আশিকের কথায় রাগী চোখে আশিকের দিকে তাকালো, চোখ দিয়ে যেন আশিক কে বিধ্বস্ত করে দিবে,আশিক মায়ার তাকানো তে আমতা আমতা করে বলল,
___” নাহ আই মিন এত ফাস্ট আমাদের মেনে নিলো তো, তাই একটু কনফিউজ রিজন তো থাকবেই?
আশিকের কথায় মায়া তেতে উঠে বলল,
___” তোমার প্রবলেমটা কী, আব্বু আমাদের কোনো অভিযোগ না করে মেনে নিয়েছে আর তুমি আব্বু কে ব্লেম করছো ?
___” না আমি তো জাস্ট….
মায়া আশিক কে এভাবে বলাতে ফারজানা বেগম মেয়ের উপর রেগে গেলেন,
___” তুমি উঁচু গলায় আশিকের সঙ্গে কথা বলছো কেনো, দ্বিতীয় বার আর এভাবে কথা বলবে না।
মায়া ফারজানা বেগমের কথা মায়া কর্ণপাত করলো না, আশিক শাশুড়ী কে নিজের সাপোর্ট টানতে দেখে অভিযোগের সুরে বলল,
___” শুধু এতটুকু দেখছেন আন্টি, আপনার চোখের আড়ালে আরো কত অত্যাচার আমার উপর দিয়ে যায় এটা একমাত্র আমি জানি।
আশিকের কথায় মায়ার মুখ হা হয়ে গেলো, ফারজানা বেগম আশিকের কথায় হাসি মুখে বললেন,
___” তুমি নিজ ইচ্ছায় আমার মেয়ে কে ঘরে তুলেছো বাবা, এখন অত্যাচার সহ্য করতেই হবে।
শাশুড়ীর কথায় আশিক হতাশ হয়ে মায়ার দিকে তাকালো, কোথায় ভাবলো শাশুড়ী তাঁর সাপোর্ট টানছে, এই সুযোগে তাঁর মেয়ের নামে অভিযোগ দিয়ে বকা শুনাতে, কিন্তু পুরোটা তাঁর উল্টোটা হয়ে গেলো, মায়া আশিকের দিকে তাকিয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসলো, ফারজানা বেগম দুজনের কান্ড দেখে হাসি মুখে কিচেন রুমের দিকে যেতে যেতে আশিক কে বললেন,
___” তোমার আন্দাজ ভুল না, তোমার শশুর এত তাড়াতাড়ি তোমাদের মেনে নিতো না, যদি না ওই দিন তাকবীর তালুকদার তোমার শশুর কে না বুঝাতো।
ফারজানা বেগমের কথায় মায়া আশিক দু’জনেই অবিশ্বাস্য হয়ে তাকালো, আশিক ড্রায়ি রুম থেকে ডাইনিং টেবিলের দিকে এসে জানতে চাইলো,
___” ব্রো এসেছিলো মানে, কবে আর কেনো ?
মায়ার মুখেও একি প্রশ্ন, ফারজানা বেগম মেয়ে মেয়ের-জামাইয়ের অবিশ্বাস্য চাহনি দেখে কিচেন রুম থেকে ডাইনিং টেবিলের কাছে এসে ইশারায়,মায়া আর আশিক কে চেয়ারে বসতে বললেন, মায়া আশিক চেয়ার টেনে বসলো, সঙ্গে ফারজানা বেগম বসলেন, মায়ার মুখের দিকে তাকিয়ে বলতে শুধু করলেন,
___” তুমি যেইদিন বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলে, তোমার আম্মু কতটা ভেঙ্গে পড়েছিল জানো, মেহর সাহেব জানতে পড়ে হুমকি দিলেন, নির্বাচনে দাঁড়াতে দিবে না, চারদিকে এক নিমেষেই ছেড়ে পরলো খালেক চেয়ারম্যান তাঁর নিজের বাড়ি ঠিক রাখতে পারে না, সে তাঁর দল জনগণ গ্রাম সামলাবে কী করে একদিকে বাহিরের পরিস্থিতি আরেকদিকে একমাত্র মেয়ের এমন ডিসিশন, সবকিছু মিলে তোমার বাবা ভেঙ্গে পড়লো,আমাকে বলে দিলো তোমার ছায়া যেন এই বাড়ির আশেপাশে না পড়ে, বাড়ির বাহিরে বের হলে মানুষ তোমাকে ঘিরে তোমার বাবা কে কটাক্ষ করতে লাগলো,তিনি কিছু বলতে পারতেন না মাথা নিচু করে বাড়ি ফিরে এসে সব রাগ বাড়িতে দেখাতে, তোমার রুমে তোমার ব্যবহার করা সব জিনিস জমাকাপড় সবকিছু রুম থেকে বের করে বাড়ির বাহিরে ফেলে দিয়েছে।
ফারজানা বেগমের মুখে এমন কথা শুনে মায়ার চোখ থেকে পানি পরতে লাগলো, তাঁর জন্য তাঁর বাবা কে কতটা কষ্ট পেতে হয়েছে, সমাজের চোখে কতটা ছোট হয়েছে, নিজেরই বা কী করার ছিলো, মেনে তো নিয়েছে, মেনে নেওয়াটা যদি সেইসময় নিতো, এতকিছু হয়তো হতো না, মায়া তো আশিক কেউ ছাড়তে পারতো না, কষ্ট হোক তবুও তো পেয়েছে তাঁর ভালোবাসার মানুষ কে, ফারজানা বেগম মেয়েকে কান্না করতে দেখে হাসি মুখে বললেন,
___” কান্না করছিস কেনো, সবসময় কী ছেলেমেয়ে ভুল করে, না মা-বাবাও ভুল থাকে, তুই বাসা থেকে যাওয়ার তিনদিন পরে একদিন হটাৎ করে তাকবীর আসে, আমি ড্রিয়িং রুমে ছিলাম, তোর বাবা রুমে ছিলো, কলিং বেল বাজলে আমি এসে দরজা খুলে দিলাম, দরজার সামনে দেখি একটা লম্বা ফর্সা চুলগুলো বড়বড় সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত একটা ছেলে দরজার সামনে, দরজা খুলতেই ছেলেটা গম্ভীর গলায় সালাম দিলো, এতটা গম্ভীর্য যে দেখে আমি কিছুটা হকচকিয়ে গেলাম, ভয় লাগলো ভাবলাম রাজনৈতিক কোনো নেতা হবে, আমি ভয়ে ভয়ে বললাম,
( ফ্ল্যাশব্যাক )
ফারজানা বেগম ভিতু কন্ঠে বলল,
___” কে আপনি ?
___” আজান তালুকদার তাকবীর।
তাকবীরের গম্ভীর মুখে নাম শুনে ফারজানা বেগম কিছুক্ষণ চুপচাপ ভাবেন, নামটা কোথাও শুনেছেন, কিছুক্ষণ ভাবার পর মনে পড়ের আইরার তালুকদার বাড়িতে বিয়ে হয়েছে, আইরার স্বামীর নাম তো তিনি জানের, আইরার বড় কাজিনের নাম শুনেছিলেন কিন্তু কখনো দেখেনি,নামটা শুনে শিওর হয়ে পুনরায় বলে উঠলেন,
___” কাকে চাই ?
ফারজানা বেগমের কথায় তাকবীরের আগের ন্যায় জবাব আসে,
___” বাড়িতে খালেক চেয়ারম্যান আছে ?
ফারজানা বেগম শিওর হয়ে যায়, তাকবীর খালেক চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে এসেছে, ভদ্র মহিলা সাইট হয়ে তাকবীর কে ভিতরে আসতে বললেন,
___”হ্যাঁ ভিতরে আসো।
তাকবীর বাড়ির এদিক ওদিক দেখছে, ফারজানা বেগম তাকবীর কে বসতে বলে ভিতরে গেলেন খালেক চেয়ারম্যান কে ডাকতে, তাকবীর সোফাতে বসে অপেক্ষা করছে খালেক চেয়ারম্যানের আসার, কয়েক মিনিট পর খালেক চেয়ারম্যান কে রুম থেকে বের হতে দেখে তাকবীর দাঁড়িয়ে সালাম দিলো ভদ্রলোক তাকবীরের সালাম নিয়ে বসতে ইশারা করে তিনিও সোফাতে বসে পরলেন, এবং তাকবীর কে বললেন,
___” চা বা কফি?
তাকবীর গম্ভীর গলায় বলল,
___” নো থ্যাংকস।
দুজনেই সোফাতে ভালো হয়ে বসলো, তাকবীর কেনো ভনিতা ছাড়া খালেক চেয়ারম্যান কে বলে উঠলেন,
___” স্যার আমি আপনার মেয়ে-জামাই কে নিয়ে কিছু বলতে এসেছি ফাইভ মিনিট সময় হবে?
তাকবীরের মুখে মেয়ের জামাই কথাটা শুনে ভদ্রলোক তেতে গেলেন, তিরতির মেজাজে বলে উঠলেন,
___” আমার কেনো মেয়ে নেই, আর কেনো মেয়ে-জামাই নেই, আমার মেয়ে আমার কাছে মৃত্যু।
তাকবীর আগের ন্যায় হাঁটুতে দুহাত রেখে গম্ভীর গলায় বললো,
___” আপনার মেয়ে যদি না থাকতো, সোসাইটি আপনাকে ছোট করে কথা বলতো না, আর আপনি চুপচাপ মাথা নিচু করে বাড়িতে ফিরতেন না, আপনি মানেন আর না মানেন, সত্যি টা মিথ্যা হয়ে যাবে না।
ভদ্র লোক এবার রাগে ফেটে পড়লেন, নিজেকে চেক দিয়ে রাখতে পারলেন না, রাগী গলায় বলতে লাগলেন,
___” হ্যাঁ ছিলো, যাঁর কারণে পুরো সমাজের কাছে আমি একজন বার্থ নেতা, যাঁর জন্য পুরো সোসাইটি আমাকে আঙ্গুল তুলে কথা বলছে, সামনে নিবার্চন ওই মেয়ের জন্য আমাকে আর আমার দল কে মানুষের সামনে কতটা পিছনে পরতে হলো তুমি যানো, আর কী যোগ্যতা আছে তোমার ফ্রেন্ডের আমার মেয়ে কে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে বিয়ে করে নিলো, সে কী জব করে, না একদম বেকার সে তাঁর বাবার টাকায় চলে, বাবা হয়ে এমন বেকার ছেলের হাতে তুমি দিতে বিয়ে, কী বলল তুমি তো আজকাল কার ছেলে, তোমার কাছে তোমার ফ্রেন্ড আগে হবে তুমি এসেছো তাঁর হয়ে এক্সপ্লেইন করতে, তোমার থেকে কী এক্সপেক্টেশন থাকবে আর।
তাকবীর নীরব হয়ে দেখলো, ভদ্র লোক নিজের ভিতরে কথাগুলো রাগের মধ্যেমে প্রকাশ করে ঝেড়ে ফেলল , তাকবীর খালেক চেয়ারম্যান কে বললো,
___” স্যার এক গ্লাস পানি প্লিজ।
খালেক চেয়ারম্যানের রাগী চোখ তাকবীরের কথাতে শীতল হয়ে এলো, তাকবীর কে নিজের বন্ধু হয়ে রাগারাগি না করে উল্টো নরম সুরে পানি চাইতে দেখে অবাক হলেন, কিছুপলক তাকবীরের দিকে চেয়ে গম্ভীর গলায় ফারজানা বেগম কে ডেকে এক গ্লাস পানি আনতে বললেন, তাকবীর এখনো নীরব চোখে খালেক চেয়ারম্যান কে দেখছে, ফারজানা বেগম পানি নিয়ে এলে খালেক চেয়ারম্যান তাকবীর কে দিতে ইশারা করে, তাকবীর হাতের ইশারায় ফারজানা বেগম কে বললো,
___” ম্যাম স্যার কে পানি টা দিন।
খালেক চেয়ারম্যান আর ফারজানা বেগম দুজনেই অবাক হলো, তাঁদের ধারনা ছিলো তাকবীর নিজের জন্য পানি আনতে বলল, ফারজানা বেগম খালেক চেয়ারম্যান কে পানি দিতেই তিনি চুপচাপ নীরব চোখে তাকবীর কে দেখে পানি পান করে নিলো, ভদ্রলোকের কাছে তাকবীর কে অন্য রকম লাগছে, একেবারে ভিন্ন,খালেক চেয়ারম্যান কে পানি পান করে গ্লাস টা টি-টেবিলে উপর রাখতে দেখে তাকবীর সোফায় শরীর এলিয়ে দিয়ে নীরবতা ভেঙ্গে বলল,
___” স্যার আপনার কেনো মনে হলো আমি ওই রাস্কেল এর জন্য এসেছি ?
খালেক চেয়ারম্যান হতভম্ব হয়ে গেলেন, তাকবীর তো আশিক আর মায়া কে নিয়ে বলতে এসেছে, সে তো কিছুক্ষণ আগে তাই বলল, খালেক চেয়ারম্যান হতভম্ব মুখে বললেন,
___” তাহলে ?
তাকবীর মাথা নিচু করে ঠোঁট জিভ দ্বারা ভিজিয়ে নিলো, পুনরায় মাথা উপরে তুলে গম্ভীর স্বরে বলল,
___” আমার কাছে স্বামী স্ত্রী হলো দুজন ভালো বন্ধু, যারা একিউপরের সুখ দুঃখ ভাগ করে নিতে পারে, দেখেন স্যার আপনি আপনার মেয়ের বিয়ে মেয়ের অমতে ঠিক করে রেখেছেন, অথচ ইসলামে রয়েছে নিজের পছন্দ মত ছেলে-মেয়ে দেখে বিয়ে করতে, মা-বাবার পছন্দে না, যদি আপনার মেয়ে অভিযোগ করে সে বিয়েতে অনিচ্ছুক ছিল, আল্লাহর কাছে কী জবাব দিবেন, আপনি জবাবে কিভাবে বলবেন আমি আমার মেয়েকে জীবন্ত কবর দিয়েছি?
তাকবীর খালেক চেয়ারম্যান কে প্রশ্নগুলো করলো, খালেক চেয়ারম্যান মাথা নিচু করে তাকবীরের কথা গুলো শুনছে,সে তো তাকবীরের কথায় উওর করতে পারছে না, আল্লাহর কাছে কী জবাব দিবে, তাঁর মেয়েকে সে যোর করেছে, যেখানে ইসলামে মেয়েদের সম্মান সবচেয়ে উপরে সেখানে তিনি মেয়ে কে বাধ্য করেছেন তাঁর পছন্দ করা ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে, তাকবীর গম্ভীর গলায় পুনরায় বলে উঠলো,
___” দেখেন স্যার, অতীত বর্তমান আর ভবিষ্যৎ, আমরা অতীত কে শুরু মাএ ফিল করতে পারি, আর ভবিষ্যৎ শুধু কল্পনা, সো আপনার কাছে কী থাকে?
খালেক চেয়ারম্যান ভ্রু কুঁচকে তাকবীরের দিকে তাকালো, ফারজানা বেগম সাইট থেকে দ্রুত বলে উঠলো,
___” বর্তমান?
তাকবীর খালেক চেয়ারম্যান থেকে চোখ ফিরিয়ে ফারজানা বেগমের দিকে তাকালো,
___” রাইট বর্তমান, আপনি এখন আছেন দুই মিনিট পড়ে না থাকতে পারেন ,স্যার আপনার মৃত্যুর এক ঘন্টা পর মানুষ খাবার খেতে লাগবে, একদিনের মধ্যে আত্মীয় স্বজনরা আপনাকে ভুলে নিজেদের গন্তব্যেই যাবে,আপনার জায়গায় অন্য কেউ কাজ শুরু করে দিবে, একমাস পড়ে আপনার সব সৃতি মুছে যাবে, একবছর পড়ে আপনি পুরোপুরি ভাবে মুছে যাবেন, আর আপনি আছেন আপনার সোসাইটি আত্মীয় স্বজন কে নিয়ে, সোসাইটি কী ভাবছে সোসাইটি আপনাকে কী চোখে দেখছে, স্যার আপনার না থাকাতে সোসাইটির কিছু আসে যাবে না,বাকি সবাই সবাইকে নিয়ে বিজি হয়ে যাবে, আজকে আপনি যে সমাজের জন্য নিজের মেয়ে কে মেয়ে বলতে অস্বীকার করছেন, এই সমাজ আপনার মৃত্যুর পড়ে আপনার ফ্যামিলির দিকে ফিরেও তাকাবে না, আজকে যে জনগণের জন্য কাজ করছেন, আপনি না থাকলে তাঁদের কিছু না, তাঁদের নতুন নেতার আগমন ঘটবে,স্যার একবার ভেবেছেন, আপনি না থাকাতে আপনার ফ্যামিলি কেমন অচল হয়ে যাবে,
আমি বলছি না আপনি মানুষের সেবা বন্ধ করেন, আমি জাস্ট বলছি, নিজেকে নিয়ে ভাবেন নিজে ভালো থাকেন নিজের আপন জন দের ভালোবাসা দিয়ে আগলিয়ে রাখেন, আপনার মেয়ে ভুল করেনি সে চাইলে পারতো আপনাকে না জানিয়ে আশিকের হাত ধরে চলে যেতে, কিন্তু সে আপনাকে সম্মান দিয়েছে, সে আপনাকে বিশ্বাস করে বলছিল, তাঁর পছন্দ আছে, আপনি সোসাইটি খেয়াল করেছেন আপনার প্রতি আপনার মেয়ের কতটা আশা এ্যান্ড বিশ্বাস ছিলো, এটা খেয়াল করেননি,আপনার মেয়ে ভেবেছিলো আপনি তাকে বুঝবেন, কিন্তু আপনি তো নেতা, আপনার সোসাইটি জনগণ গদি ক্ষমতা ছাড়া কিছুই চোখে পরেনি, স্যার দুইদিনের ক্ষমতা কী করবেন যদি রবের কাছে আপনার মেয়ের অভিযোগের জবাব দিতে না পারেন, আপনি কখনো ভেবে দেখেছেন আপনার পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করে আপনার মেয়ে জায়নামাজে তাঁর চোখ ভিজাবে না?
খালেক চেয়ারম্যানের পুনরায় গলা শুকিয়ে এলো, শুঁকনো ঠোঁট জিভ দ্বারা ভিজিয়ে নিলো, তাকবীর খালেক চেয়ারম্যানের দিকে চেয়ে ঠোঁটের কোণে এক টুকরো হাসি টেনে বলল,
___” মানুষ এক আজব জাত, বেঁচে থাকতে কথা পর্যন্ত বলে না, অথচ মা’রা গেলে লাশ আঁকড়ে ধরে চিৎকার দিয়ে কান্না করতে করতে বলে, কথা বলছিস না কেনো হুউ।
তাকবীর শেষের কথাটা তাচ্ছিল্য হেঁসে বলে উঠে দাঁড়ালো, সদর দরজা দিকে যেতে যেতে কী যে মনে করে পুনরায় পিছনে ফিরে তাকালো,গম্ভীর মুখে ভারী কন্ঠে বলে উঠলো,
___” স্যার…দুনিয়াতে সত্যি কারে ভালোবাসার মতো কেনো শক্তিশালী আমল নেই, এটা আপনার মা বাবা স্ত্রী মেয়ে ছেলে হেই হোক না কেনো, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখেন।
( ব্যাক টু দ্য প্রেজেন্ট )
তারপর তাকবীর চলে গেলো, তোর বাবা আমাকে আরেক গ্লাস পানি আনতে বলল,আমি পানি তোর বাবাকে দিতেই তিনি পানি খেয়ে সোফাতে মাথা এলিয়ে দিলেন, আমার ভয় হতে লাগলো, উনার শরীর খারাপ করলো নাকি, আমি উনাকে কয়েক সেকেন্ড দেখে ডেকে উঠলাম, তিনি এভাবেই আমাকে উনার কাছে বসতে বললেন, আমি তোর বাবার পাশে বসলাম, উনি সোজা হয়ে বসে আমার হাতটা ধরে নরম সুরে বললেন,
___” আমি অনেক ভুল করে ফেলেছি, মেয়েটা অনেক অভিমান করে আছে আমার উপর তাইনা?
আমি উত্তর দিতে পারিনি সেইদিন, কারণ আমি মা হয়ে তো আমার মেয়ের পাশে ছিলাম না, আমার মেয়ে কে বুঝতে চাইনি, ভেবেছি টাকা বাড়ি গাড়ি ছাড়া আর বড় কী বা হতে পারে,আমাদের মাফ করে দিস মা।
ফারজানা বেগমের কথায় মায়া পুনরায় উনাকে ধরে কান্না করতে লাগলো, আশিক দুই মা মেয়েকে পুনরায় কান্না করতে দেখে কিচেন রুমের দিকে এগুলো পানি আনতে, যদিও সবকিছু নতুন তবুও কোথায় কী দেখতে দেখতে কিচেন রুমে চলে গেলো, ফারজানা বেগম মেয়েকে বুকে আগলে নিয়ে পুনরায় বলতে লাগলো,
___” তাকবীর যাওয়ার পর থেকে তোর বাবা ধীরে ধীরে রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছে, সামনে নির্বাচন একেবারে তো ছাড়তে পারবে না, তোর বাবার নিজের আসন অন্য কাউকে দিয়েছে, টুকিটাকি তাঁদের সঙ্গে থেকে তাঁদের সবকিছু বুঝিয়ে দিচ্ছে, উনি আর রাজনীতি করবে না, সাধারণ জীবনযাপন করবে, বাড়ি ফিরে, তোর পথ চেয়ে থাকে, আমি বলি মেয়েকে ফোন করেন, সে বলে না তাঁর মেয়ে নিজে থেকে আমাদের কাছে আসবে, আর দেখ তুই এসে গেছিস।
মায়া ফারজানা বেগমের বুক থেকে উঠে কান্নাভরা মুখে হাসি ফুটিয়ে মাথা ঝাকালো, আশিক দুই মা মেয়ের জন্য জগে পানি নিয়ে এসে এক গ্লাস প্রথমে ফারজানা বেগম কে দিয়ে বললেন,
___” আন্টি পানিটা খেয়ে নিন, ভালো লাগবে।
আশিকের কথায় মায়া সোজা হয়ে বসলো, ফারজানা বেগম হাসি মুখে পানির গ্লাস নিয়ে পানি পান করতে লাগলো, তখনই ড্রয়িং রুম থেকে খালেক চেয়ারম্যানের কন্ঠ ভেসে এলো,
___” তোমার এখনো বেয়াদবি যায় নি তাহলে?
খালেক চেয়ারম্যানের কন্ঠে সবার নজর ড্রয়িং রুমে পরল,খালেক চেয়ারম্যান আর তাঁর সঙ্গে একটা ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলো, কেউ বুঝতে পারলো না কথাটা কাকে বললেন তিনি, আশিক নিজের দিকে হাতের ইশারা করে বলল,
___” আমাকে বলছেন?
খালেক চেয়ারম্যান নিজের হাতের কিছু ফাইল ছেলেটা কে দিয়ে, নিজের রুমে রেখে আসতে ইশারা করে আশিক কে বলল,
___” হ্যাঁ তোমাকে বলছি, শাশুড়ী কে আম্মু বা মা বলতে হয় এবং শশুরকে সালাম দিতে হয় এটুকু ম্যানার্স নেই তোমার মধ্যে ?
আশিক বুঝলো খালেক চেয়ারম্যানের কথার মানে, আশিক খালেক চেয়ারম্যানের মতো করে বলে উঠলো,
___” না নেই, আপনি শিখিয়ে দিয়েন।
খালেক চেয়ারম্যান আশিকের কাছে এসে আশিক কর এক হাতে জরিয়ে ধরে গম্ভীর গলায় বলল,
___” হ্যাঁ শিখিয়ে দিবো, আর আমার মন মতো করে তুলবো আমার মেয়েজামাই কে, কী বলো আম্মু ?
কথাটা বলতে বলতে তিনি হাসি মুখে আরেক হাত মায়ার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে নিজের কাছে ডাকলেন, মায়া বাবাকে দেখে দৌড়ে বাবাকে জরিয়ে ধরে কান্নাভেজা কন্ঠে বলল,
___” হুম, আপনি যেভাবে শিখাবেন আমরা সেভাবেই শিখবো, আই এম সরি আব্বু আপনাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি।
খালেক চেয়ারম্যান দু’হাতে মেয়ে আর মেয়েজামাই কে আগলিয়ে নিয়ে হাসি মুখে বললেন,
___” অতীতকে বাদ দেও, নতুন করে জীবন শুরু করো মামনী, তোমাদের নতুন জীবনে তোমার আব্বু কে সবসময় পাশে পাবে।
আশিক হাসি মুখে শশুর কে আগলে ধরে ছোট করে ইনআশাল্লাহ বলল,মায়া মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলল, খালেক চেয়ারম্যান নিজের অর্ধাঙ্গিনী কে দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,
___” যাও রান্না বসিয়ে দেও, আজকে সবাই মিলে জমিয়ে আড্ডা দিবো।
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৫৩
উনার কথায় ফারজানা বেগম চোখের পানি মুছে কিচেন রুমের দিকে গেলো, আশিক মায়া কে নীরবে চোখের পানি ফেলতে দেখে ইশারায় কান্না করতে বারণ করলো, মায়া শুনলো না আশিকের কথা, আশিক মায়া কে আগের ন্যায় কান্না করতে দেখে, হাতের হাত বাড়িয়ে দিয়ে মায়ার চোখের পানি মুছে দিলো, খালেক চেয়ারম্যান নিজের মেয়ের প্রতি আশিকের এমন যত্ন দেখে নীরবে হাসলেন, উনার মেয়ে ভুল কাউকে বেঁচে নেয়নি, উনার মেয়ের জন্য হয়তো তিনি আশিকের চেয়ে সঠিক ছেলে খুঁজে পেতেন না, কারণ টা অবশ্যই তিনি যাকে নিজের মেয়ের জন্য ঠিক করেছিলেন, সেই ছেলেকে দেখলেই বোঝা যায়, ছেলেটা বাবার ক্ষমতার জোর দেখিয়ে পুরো শহর রাজ করে বেড়ায়, কতশত মামলা আছে তাঁর নামে, খালেক চেয়ারম্যান জেনে বুঝে নিজের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এমন একটা ছেলের সঙ্গে নিজের মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলেন, ভেবেছিলেন মেয়ে তাঁর এতেই সুখী থাকবে, এত টাকা পয়সা ক্ষমতা আর কী লাগে, যখন তাকবীর খালেক চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করলো, খালেক চেয়ারম্যান নিজেকে সহ চেঞ্জ করে নিলো,
