Home তুমি আমার শেষবেলা তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪৫

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪৫

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪৫
নীতি জাহি

দিন,সপ্তাহ,মাস পেরিয়ে আজ মোনার আট মাস পেরিয়ে ন’ মাসের মাঝামাঝিতে। এই আট মাসে মোনা ছিলো সবার আদর যত্নে। ইশান চোখে হারিয়েছে মাকে। অনেকটা সামলে নিয়েছে অফিসের দায়িত্ব। বাবার মত স্যুট, টাই লাগিয়ে অফিস যায়। ক্লাস শেষ করে বাসায় এসে মায়ের হাতে খেয়েই বেরিয়ে পড়ে অফিসের কাজে। নতুন ফাইলে সাইন নিয়ে যায় মোনার কাছ থেকে। কিছু নতুন প্রোজেক্টের কাজ ধরেছে। কক্সবাজারের রিসোর্ট মা ছেলে মিলে ঘুরে এসেছে আরো কয়েকমাস আগে। সাত মাস পর্যন্ত মোনা নিজেই বসতো অফিসে।এখন শরীরে পানি আসাতে বেশিক্ষন বসে থাকতে পারেনা। সবাই চেয়েছিলো মোনার বেবি শাওয়ারের প্রোগ্রাম করতে।কিন্তু এই মেয়ে সরাসরি বারণ করে দিয়েছে। সে কিছুতেই কোনো অনুষ্ঠান করবে না ইমরান ছাড়া। আজ সকাল থেকে শরীরটা খারাপ করছে। বিকেলে শোয়া থেকে উঠেই অসহ্য ব্যাথা। লেবার পেইন উঠবে বলে মনে হচ্ছে কিন্তু এত তাড়াতাড়ি উঠবে কেনো ডেইট তো আরো পরে। মোনা দাঁড়াতে পারছেনা। হাতে ফোন নিয়ে ইশানকে ফোন দিয়ে জানতে পারে ইশান মিটিং এ। একটা মেসেজ দিয়ে দেয়। তুশিকে ইশান কল করতেই দৌড়ে আসে। হাত পা মালিশ করে মোনাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। এভাবে রাতটা কেটে যায়। পরদিন শুক্রবার। ইশান নাস্তা করে মায়ের কাছে শুয়ে আছে। মোনা মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। কতগুলো ফাইল এনে সাইন করিয়ে নিয়েছে,

‘ আচ্ছা মা আমার বোনের কি নাম রাখবো?’
কিছুদিন আগে আলট্রাসনোগ্রাফিতে দেখেছে মেয়ে বাবু হবে। সেই থেকে ইশানের খুশি আর কে ধরে। মোনা সাইন করতে করতে বলে,
‘ তুমি একটা নাম দাও।’
‘ঔশান ইমরান খান!!’
মোনা মুচকি হাসে কারণ ইমরান মেয়ের নাম এটাই রাখতে চেয়েছিলো। ইশান ও আজ তাই বললো। এদের বাবা ছেলের মধ্যে একটাই পার্থক্য এরা বাবা এবং ছেলে। আর চেহারার গড়নে কিছু মিল অমিল। এছাড়া এদের মন,চিন্তা ধারা এত মিল ভাবাই যায় না। মোনা মুচকি হেসে বলে,
‘ঠিক আছে বাবা,তুমি যা বলো। উঠে রেডি হয়ে নাও। শুক্রবার জুমার নামাজ আছে।’
ইশান ফাইল নিয়ে উঠে রেডি হয়ে নেয়। সবাই দুপুরের দিকে নামাজে চলে যায়। ঠিক তখনই উপরে মোনার চিৎকার শুনে তুশি আর আইরিন ছুটে আসে। এসে দেখে মোনা ফ্লোরে বসে পড়েছে। পানি ভেঙ্গে গিয়েছে।বাড়ির পুরুষরা সবাই নামাজে। ভাগ্য সহায় ছিলো। পেইন উঠার দশ মিনিটের মাথায় পুরুষরা বাড়ি ফিরে আসে। বাড়ির পাশের মসজিদে যাওয়াতে ইশান, ইশতিয়াক আর সোহান তাড়াতাড়ি বাড়ি আসে। ততক্ষনে মোনাকে নিচে নামিয়ে নিয়ে আসে। তাড়াতাড়ি গাড়ি করে হসপিটালে এনে ভর্তি করানো হয়। বাচ্চার পজিশন উলটে গিয়েছে। ইমিডিয়েট সি সেকশন করতে হবে। ক্রিটিকেল সিচুয়েশনের জন্য র*ক্ত ম্যানেজ হয়েছে। শুধু বন্ড সাইন করতে হবে। ইশানের কাছে রত্না আন্টি বন্ড নিয়ে এসেছে। রত্না একজন বিখ্যাত গাইনী ডাক্তার। ইমরানদের বন্ধু। বন্ডে লিখা ক্রিটিকাল সিচুয়েশন হলে কাকে বাঁচাবে। ইশানের হাত কাঁপছে। ইশতিয়াকের দিকে তাকিয়ে বলে,

‘ চাচ্চু আমি পারবোনা তুমি সাইন করো বা নানাভাই তুমি করো।’
মিনহাজ ও করছে না। শেষমেষ বড় নিশ্বাস নিয়ে ইশান সাইন করে দিলো। সে মাকে বেছে নিবে। সবাই কিছুটা বিস্মিত চোখে চেয়ে আছে। এই ছেলে এত মা ভক্ত কেনো। নয়ন তো প্রশ্ন করেই বসলো,
‘ ইশান মাকে চাইলে কেনো?’
‘ আল্লাহ কপালে রাখলে দুজনকেই পাব ইনশাআল্লাহ। না রাখলে তো পাবনা কিন্তু মা হারালে আর মা পাবোনা। বোনের জন্য ভালোবাসা,দোয়া সবসময় থাকবে। হয়তো শেষ দিনে কাঠগড়ায় আমিও দাঁড়াতে পারি বোনের মুখোমুখি মাকে কেনো বাঁচালাম না এই প্রশ্ন নিয়ে?’

কেউ আর কথা বাড়ায় নি। ইশান কিছুক্ষন হাঁটছে আবার কিছুক্ষন বসছে। দুপুরের খাবারটাও কেউ খেতে পারেনি। আইরিন পাশের কেবিনে নামাজে বসেছে। তুশি বাড়িতে ফিরে গিয়েছে। সবার খাবার নিয়ে আসতে। ইশানকে অস্থির দেখছে সবাই। পরনে সাদা পাঞ্জাবি। নামাজ থেকে এসে দাঁড়ানোর ফুসরত ছিলোনা কারো। অনেকটা তড়িঘড়ি করে নিজে ড্রাইভ করে নিয়ে এসেছে মাকে। আর অপেক্ষা করতে না পেরে ওযু করে ফুফির পাশে নামাজে দাঁড়িয়ে পড়ে। আইরিন ভাইপোকে দেখছে। কি শুভ্র লাগছে। মায়ের জন্য কত চিন্তা। ইমরান যদি দেখতো এক বছরে ছেলের এত পরিবর্তন হয়তো ওর চেয়ে বেশি খুশি আর কেউ হতনা। নতুন অতিথি আসতে চলেছে এরপর ও পরিবারের সুখ টা অপূর্ণ। আল্লাহ যেন মা, মেয়ে দুজনকে সুস্থ রাখে তাই আজ মন থেকে আল্লাহর কাছে দু হাত তুলে প্রার্থনা। শেষ বয়সে আইরিন চায় সন্তান, ভাই,ভাইপো,ভাইঝি,ভাইবউদের সবাইকে নিয়ে সুখে থাকতে। কিন্তু ভাইটাই আজ নিখোঁজ। ইশান নামাজ শেষ করে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে। জায়নামাজ ভাঁজ করে টুপি খুলতে খুলতে ওটির সামনে দাঁড়ায়। নয়ন জিজ্ঞেস করলো,

‘ কিসের নামাজ ছিলো বাবা?’
‘ চাচ্চু মা আর বোনের জন্য পড়লাম। সুস্থ ভাবে যেন আমার কাছে ফিরে আসে। ওরা ছাড়া আমি অসহায়।’
নয়ন মুখে হাসি নিয়ে ইশানের কাধ চাঁপড়ে বললো,
‘ ছেলে হিসেবে তোমাকে পেয়ে ইমরান,মোনা সার্থক। আমাদের গর্ব তুমি। মায়ের ঢাল হয়ে পাশে থেকো।’
‘ চাচ্চু দোয়া করো আমার মা, বোন যেন সুস্থ থাকে?’
নয়ন কথা ঘুরিয়ে জিগ্যেস করলো,
‘ বোনের নাম ঠিক করেছো?’
‘ একটা নাম ঠিক করেছি মাকে বলেছিলাম।’
‘ কি?’
‘ঔশান ইমরান খান। আমাদের ঔশান প্যালেসের রাজকন্যা।’
‘ বাহ খুব সুন্দর নাম।’
ইশতিয়াক, সোহান ও বলে উঠলো,
‘ একদম খাপে খাপ। এর চেয়ে সুন্দর হতেই পারেনা।’

মিনহাজের পাশে গিয়ে ইশান বসলো। মিনহাজ নাতিকে আগলে ধরে বসলো। চিন্তা হচ্ছে আজ মেয়ের জন্য। ছোট্ট মেয়েটা কত কিছু সহ্য করলো এতটুকু জীবনে। ভাবতে ভাবতেই প্রায় ২ ঘন্টা পেরিয়ে গেলো। ওটির উপর জ্বলতে থাকা লাইটটা ধুপ করে নিভে গেলো। ভেতর থেকে বাচ্চার আওয়াজ। সবাই উৎকন্ঠা নিয়ে অপেক্ষারত। ভেতরে কি হচ্ছে। ওরা দুজন ঠিক আছে তো! ভেতর থেকে ডাক্তার রত্না বেরিয়ে এলো ছোট্ট পরী কোলে নিয়ে। নার্স জোরেই বললো,
‘বাচ্চার বাবা কোথায়,মাশাল্লাহ একটা সুন্দর রাজকন্যা এসেছে আপনাদের।’
উপস্থিত সবাই নিরব। ডাক্তার রত্না চোখ রাঙিয়ে দিলো নার্সকে। নার্স যেন বুঝতে পারলো কিছু একটা ভুল আবদার করেছে। চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রত্না এগিয়ে এসে মিনহাজকে বললো,

‘ নাতিকে কোলে নিবে না মিনহাজ ভাই?’
মিনহাজের হাত, গলা কাঁপছে। ইশান প্রশ্ন করলো,
‘ মা কেমন আছে আন্টি?’
‘ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে। ঘুমাচ্ছে এখন। বাবুকে দেখেই ঘুমিয়েছে। আশ্চর্য তোমরা কেউ বাবুকে নিচ্ছ না কেন?’
‘ওরা কেউ নিবেনা। সবাই হয়তো ভাবছে বাচ্চার বাবাই আগে কোলে নিবে।’
পেছন থেকে এমন ভারী,রূঢ়,পরিচিত, সম্মোহিত গলা শুনে সবাই পেছনে তাকালো। মুখে সেই ভুবন মাতানো হাসি। গায়ে সাদা ধপধপে পাঞ্জাবি। হাতে সিলভার চেইন এর ঘড়ি।চোখে রিমলেস চশমা। শরীরের গড়নে তেমন পরিবর্তন নেই তবে আরো একটু বলিষ্ঠ, সুগঠিত দেহ। দেখে মনে হচ্ছে আরো বেশি হৃষ্টপুষ্ট দেহ। কাছাকাছি এগিয়ে আসতেই সবার নাকে আতরের গন্ধটা একদম মোহের মধ্যে নিয়ে গিয়েছে সবাইকে। চোখে কি ভুল দেখলো!! না একজন সুদেহী, সুগঠিত,সশরীরে উপস্থিত মানুষ হেঁটে আসছে তো। ডাক্তার রত্নার কোল থেকে ছোট্ট পরীকে কোলে তুলে নিলো। রত্না নিজেও ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছে। ইশান ভাঙ্গা কাঁপা গলায় বললো,

‘ পা পা আ আ…’
ইমরান সেই মন মাতানো হাসি উপহার দিলো ছেলেকে। মেয়েকে কোলে নিয়ে পলক না ফেলে মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলো। এই প্রথম নির্বাক, নিশ্চুপ জনতা স্বচক্ষে দেখলো ইমরানের অশ্রু ধারা। টুপ টুপ করে উষ্ণ জল বেয়ে পড়ছে গাল থেকে। ঠোঁটের কোণে পরিচিত হাসি লেগে আছে। মেয়ের কানে সবার সামনেই আজান দিলো। কপালে চুমু দিলো, ছোট্ট পুতুলের নেয় তুলতুলে হাত দুটোতে ওষ্ট ছোঁয়ালো। এবার মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললো,
‘ আমার আরেকটা সুখ। তুমি পাপার ঔশান ইমরান খান সোনামেয়ে।’
ইশান বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। উপস্থিত সবাই হতবাক। যে নাম ছেলে ঠিক করেছে সেই নাম বাবাও দিলো। ইমরান আরেকহাত বাড়িয়ে দিলো ইশানের দিকে তাকিয়ে। ধপধবে সাদা পাঞ্জাবিতে ইশানকে আজ পরিণত পুরুষ লাগছে। কিশোর জীবন ছেড়ে ছেলে যৌবনে পা ফেলছে। ইশান ঝাপটে ধরলো বাবাকে। ছোট্ট বাচ্চার মত হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। আজ কেউ ইশানকে থামাচ্ছে না। সবার চোখে পানি। ইশান পাপাকে অভিযোগ জানাচ্ছে,
‘ পাপা আমি কাঁদতে পারিনি মায়ের দিকে চেয়ে,পাপা আমি প্রতি রাতে তোমার বুক খুঁজেছি।তুমি কেনো তোমার ছোট্ট ইশানকে রাতারাতি বড় বানিয়ে দিলে। প্রতিনিয়ত চিন্তায় থাকতাম মা আর বোনের জন্য। আর মা সেতো বেঁচে থেকেও অন্য জগতে থাকতো।কত কি না করেছি আমরা মাকে সামলাতে।তুমি ছাড়া আমরা নিঃস্ব পাপা।’

ইমরান ছেলের চুলে আদর দিয়ে মাথায় হাত রেখে বললো,
‘ সোনা আমি সব জানি। পাপা নিরুপায় ছিলাম তাই চাইলেও তোমাদের সামনে আসতে পারিনি। সব বলব সোনা। একটু অপেক্ষা করো।’
ডাক্তার বাচ্চাকে নিয়ে যেতে চাইলে ইমরান দিয়ে দেয়। ছোট বাচ্চা এতক্ষন বাইরে রাখা ঠিক না। ইমরান মেয়েকে আরেকবার আদর দিয়ে ডাক্তারের কোলে দেয়। নিজে বসে পড়ে। সবাই লক্ষ্য করে দেখলো পেছনে ফয়সাল এবং কায়েস দাঁড়িয়ে আছে। একে একে মিনহাজ,নয়ন,ইশতিয়াক, সোহান সবার সাথে আলিঙ্গন করলো। ইশান বাবার কাঁধে মাথা রেখে বসে আছে। ইতু বড় পাপার কোলে উঠেছে। ইমরান জানালো,
‘ বাসায় গিয়ে রিল্যাক্স হয়ে সব বলি? এখন বলতে ইচ্ছে করছে না যে।’
‘ এখন এসব বাদ দে।তুই সুস্থ আছিস এই অনেক।’

সবাই পাশের কেবিনে বসে খেয়ে নিলো। ইমরান খায়নি। মোনাকে কেবিনে শিফট করেছে ইতিমধ্যে। সন্ধ্যায় মোনার জ্ঞান ফিরলো। সবার আগে ইমরানই গেলো দেখা করতে। রুমে ঢুকেই দেখে মোনা সিলিং এর দিকে তাকিয়ে আছে। দরজার আওয়াজ শুনে তাকিয়ে আচমকা ইমরানকে দেখে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। নিশ্বাস দ্রুত ছাড়ছে। ইমরান স্টুল টেনে মোনার পাশে বসলো। স্যালাইন লাগানো হাতটা ধরলো। হাতের কাঁপুনি স্পষ্ট টের পাচ্ছে। ইমরান কপালে অধর ছোঁয়ালো। দু গালে অধর ছোঁয়ালো। নাকের ঢগায় অধর ছোঁয়ালো। ইমরানের ও গলা কাঁপছে। প্রায় দশমাস পর।
‘আমার মোনালিসা,আমার ফেইরী কুইন, সোনা বউ’….
মোনার চোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে সুখের অশ্রু।কে জানতো আজ এত সুখ পাবে। ঠোঁট কামড়ে কান্না নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থ চেষ্টা করছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে স্বামী আর সন্তানদের ভালো ছাড়া আর কিছুই চাওয়ার নেই। একজীবনের সব সুখ আজ তার কাছে এনে দিয়েছে উপরওয়ালা। ইমরান আর কথা না বাড়িয়ে মোনার অধরে অধরে ডুবালো। মোনা দুহাতে ইমরানের গলা জড়িয়ে ধরলো। এই আবেদনময়ী ভালোবাসা মোনার বড্ড প্রয়োজন ছিলো। বুকের ভেতর টা শান্তি পেয়েছে মোনার। কামরা জুড়ে নিরবতা।

তোমার আমার সকল বিষাদ
নিপাত যাক,নিপাত যাক।
সুখ পাখিরা সুখে থাক,
সুখ পাখিরা নিড়ে যাক।
মোনার গালগুলো হাতের আজলে নিয়ে ইমরান বললো,
‘ ধন্যবাদ আমার সন্তানের মা, আমাকে এত সুন্দর একটা রাজকন্যা উপহার দেয়ার জন্য। ধন্যবাদ আমার অংশকে এতগুলো মাস যত্নে রাখার জন্য। ধন্যবাদ আমাকে এক মুহুর্ত ভুলে না থাকার জন্য। ধন্যবাদ পুরো দশমাসের প্রতিটা ক্ষন এই পঁচা স্বামীটাকে মেসেজ দিয়ে ইনফর্ম করার জন্য। সন্তানের বাবা হওয়ার খবর প্রথম তার বাবাকে জানানোর জন্য ধন্যবাদ ইমরানের রানী।’
মোনা স্বল্প স্বরে কাঁপা গলায় বললো,

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪৪

‘ প্রানের চেয়েও বেশি ভালোবাসি ইমরান সাহেবকে।’
‘ আমিও আমার বউ সোনাকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। ভালোবাসি মোনালিসা, ভালোবাসি মোনালিসা, শত বার,সহস্র বার,কোটি বার, কেয়ামত পর্যন্ত সযত্নে তুলে রাখা সব ভালোবাসা শুধুই মোনালিসার নামে।’
কিছুক্ষন থেকে মোনাকে ঘুম পাড়িয়ে ইমরান বেরিয়ে পড়ে হাসপাতালের সব ফরমালিটিস পূরন করতে। আর কি কোনো অভিযোগ থাকার কথা!! এই সুখ চিরন্তন হোক।

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪৬