Home তুমি এলে বসন্ত নামে তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩০

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩০

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩০
রিমঝিম বৃষ্টি

” হায় খোদা! এ আবার কি জিনিস রে..! ”
শিউলি এক চিৎকার দিয়ে পা টিপে টিপে এগিয়ে গেলো ফ্রিজের কাছে। দূর হতে ফ্রিজের ভেতরটা খোলা আর সেখানেই সাদা গেঞ্জি দেখা যাচ্ছে তা যেনো ভেতরের আলোতে চকচকে করছে। শিউলি আরেকটু এগিয়ে যেতেই ভেতরে চোখ পড়লো । গোলগোল চোখে তাকিয়ে বললো,
” হায় আলাহ্! আপনার বাবা সারা জায়গায় খুঁজতেছে আর আপনি ফ্রিজের ভেতর কী করতেছেন আব্বা..!”
ইয়াশ শিউলির গলা পেয়ে পাশ ঘুরে মুখে আঙ্গুল দিয়ে আস্তে করে বললো,

” চুপ কতা ( কথা) বলো না। আমি এখানে খাচ্চি, খিদে পেয়েচে..!”
শিউলি ফ্লোরের ওপর বসে ইয়াশের কথা শুনে বললো,
” তা বাসায় তো রান্না হয়েছে ওগুলা খাই গা চলো এগুলো ঠান্ডা জিনিস তোমার ঠান্ডা লেগে যাবে..!”
” তোমায় চুপ কলতে বলেচি তো, আমি খেয়েই চলে যাবো। এটা অনেক বল ( বড়) ফিজ.! বাবাকে বলে আচো ইয়াত বেসতো..!”
শিউলি হা হয়ে রইলো এইটুকু পোলার কি ঝাঁঝরে বাবা। শিউলির চিৎকার শুনে ইতিমধ্যে ফারিশা আর ইরাদ আগে আগে ছুটেছিলো । ইরাদ ভেতরে এসে শিউলির দিকে তাকিয়ে কিছু বলার আগেই শিউলি মুখে আঙ্গুল দিয়ে চুপটি করে চোখের ঈশারায় দেখালো ফ্রিজের দিকে। ইরাদ তা দেখে সেদিকে তাকিয়ে ফোঁস করে শ্বাস ফেললো। এগিয়ে গিয়ে ধীর গলায় বললো,

” ইয়াশ তুমি এখানে কেনো..?”
বাবার গলা পেয়ে ইয়াশ ফ্রিজের ভেতর থেকে মাথা কাত করে বের করলো। ঠোঁট জোড়া একদম পাখির মতো করে রেখেছে, মুখের চারপাশে আঠালো হয়ে লেগেছে আছে কিছু, আস্তে আস্তে কিছু চুষে খাচ্ছে তা তার মুখের ভঙ্গি দেখেই বোঝা যাচ্ছে। ফারিশা এগিয়ে এসে ফ্রিজের পাল্লা সরিয়ে বললো,
” এই তোমার মুখের ভেতর কী? তুমি কী খাচ্ছো?”
ইয়াশ মুখের ভেতর খাবার রেখেই ভারী কন্ঠে বললো,
” আম্মু তোমাল মতো তেঁতুলের আচাল পেয়েচি একানে অনেক মজা খেতে..!”
ইরাদ ভ্রু জোড়া কুঁচকে বললো,
” বাবা খালি পেটে এসব খেতে নেয় বেরিয়ে এসো..!”
” আলেকটু খায়..?”
ইরাদ এগিয়ে গিয়ে ফ্রিজ টা খুলে ছেলেকে কোলে তুলে আচার টা বের করে নিয়ে বললো,

” চলো আমরা আগে নাস্তা করি তারপর আচার খাবো দু’জনেই ঠিক আছে। ”
বাবার কথায় ভীষণ খুশি হয়ে গেলো। দু’জনেই যেতে পথে ইয়াশ মুখ ঘুরিয়ে পেছনে তাকালো শিউলির দিকে, শিউলি তখনও হা হয়ে পুঁচকের কান্ড দেখছে। শিউলির ধ্যানকে উড়িয়ে দিলো এক ঝটকায় ইয়াশ। ইয়াশ মুখের বিচি ফুঁ দিয়ে শিউলির গায়ে ফেলে বললো,
” পঁচা খেতেই দিলো না..!”,
আলেই চলে গেলো এদিকে ফারিশা পিছন থেকে তা খেয়াল করে ছেলের দিকে বড় বড় করে তাকিয়ে শাসিয়ে উঠলো,

” এই বড় হয় না তোমার মুখের জিনিস ফেললে কেনো সরি বলো..?”
” থাক আপা কিছু বইলেন না আমি তো খালি ভাবতেছি অন্য কথা..!”
ফারিশা শিউলির কথা শুনে তার দিকে তাকিয়ে শুধালো,
” কি ভাবছো শিউলি কিছু হয়েছে..?”
শিউলি গালে হাত দিয়ে বললো,
” এ পুরায় বাপের কপি। জানেন না আপা আপনার বরও একবারে এইরকম। সত্যি কথা ফাঁস করলেই এইরকম মেরে বসে নয়তো তেঁড়ে উঠে..!”
ফারিশা ফিক করে হেসে উঠলো আর বললো,
” বলো কী তাহলে তাড়া খেয়েছো মনে হয়.! ”
” তা আর কইতে..! ”
খাবার টেবিলে সবাই বসলেও সাবাহ্ নেই। মেয়েকে না পেয়ে তারেক তার স্ত্রী কে জিজ্ঞেস করলো,
” সাবাহ্ কোথায় মেয়েটাকে যে রাতেেও দেখলাম না..?”
সাবাহ্’র কথা জিজ্ঞেস করতেই ইভান চোখ তুলে তাকালো তার ছোট মার দিকে প্রশ্নের উত্তর টা শোনার জন্য। সুমানা মেয়ের কথা শুনেই বললো,

” তোমার মেয়ের মাথা পাগল হয়ে গেছে বোধহয়। যে ভোরে উঠে না সে আজ ভোরে উঠছে তাড়াহুড়ো করে খেয়ে প্রাইভেটে গেছে..!”
” ভোরে তো ও প্রাইভেট নেয় নি তাহলে কার কাছে পড়তে গেলো..?”
ইভানের কথা শুনে সুমানা সোজাসাপটা উত্তর দিলো,
” রাতে কোচিং গ্রুপে নাকি জানিয়ে দিয়েছে ও ভোরের ব্যাচে পড়বে তাই গেছে..! ”
তারেক চৌধুরী এবার চিন্তিত গলায় বললো,
” তা গিছে ভালো কথা গাড়ি নিয়ে গেছে তো। এমনিতেই ওই কোচিং এর রোড টা পুরোই ফাঁকা থাকে তারপর ওই এলাকার লোকেরা দিন নাই রাত নাই পার্টি করে বেড়ায় ক্লাবে। আজ ফিরলে বলে দিও কাল থেকে যেনো গাড়ি নিয়ে বের হয়..!”
ইভান খাবারের দিকে তাকিয়ে রইলো স্থির হয়ে। দুই-একবার খাবার মুখে নিয়ে উঠে পড়তেই ইভা বললো,

” কী রে খাবি না..?”
” আম্মু আমি একটু আসছি ভার্সিটি থেকে..? “,
বলেই আর দাঁড়ালো না সোজা চলে গেলো হাত ধুতে তা এক নজর ফারিশা তাকিয়ে দেখলো।
” তা পোলা কয় ছিলো তোর..?”
দীদার কথায় ইরাদ ছেলেকে খাওয়াতে খাওয়াতে বললো,
” বাড়ির ফ্রিজ বিক্রি করে দিবো আমার ছেলের যদি কিছু হয়ে যেতো.! ”
” ওমা ও কয় ছিলো ফ্রিজের ভেতরে নাকি..?”
ইভার কথায় ইরাদ বললো,
” ফ্রিজের ভেতর গিয়ে আচার খাচ্ছিলো..! ”
ইভা ইরাদের কথায় হেসে উঠলো তার যেনো ইরাদের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেলো আর তার স্বামীকে বললো,

” ইরাদের আব্বু তোমার মনে আছে ইরাদ একবার ছোট বেলায় হারিয়ে গেছিলো আমরা সারা বাড়িও খুঁজেও পেয়েছিলাম না পরে দেখি সে আমাদের ঘরেই খাটের নিচে শুইয়ে শুইয়ে চকলেট খাচ্ছিলো..! ”
” তা আর বলতে। সকাল সকাল আবার দেখো ছেলের পেট খারাপ না করে..?”
বাবার কথা শুনে ইরাদ সূক্ষ্ম হেসে ছেলেকে বললো,
” ইয়াশ তোমার যদি পেট খারাপ করে তো দাদুর ঘরে গিয়ে হেগে দিও দাদু পরিষ্কার করে দিবে..!”
ইরাদের কথা শুনে ইমদাদুলের কাশি উঠে গেলো যেনো দ্রুত পানি এগিয়ে দিলো পাশ থেকে তমা। পানি এক নিমিষেই শেষ করে দিয়ে বললো,

” তোমার কী কাজকর্ম নেই ইরাদ আমার পিছে লাগো শুধু..! ”
খাবার টেবিলে কেউ আর কথা বললো না হালকা আড্ডা দিতে দিতে খাওয়া শেষ করতেই সবাই সোফায় গিয়ে বসলো। আয়েশা কোমরের জন্য আর বসতে পারলো না রুমে চলে গেলো শিউলির সাথে । ইভা আর সুমানা খাবার টেবিল পরিষ্কার করছে। ইরাদ এদিকে এসে ছেলেকে তারেকের সাথে দেখে টুক করে ফারিশার হাত ধরে আস্তে করে বললো,
” একটু রুমে চলো তো..?”
” মাকে সাহায্য করে আসি ওরা কাজ করছে..?”
ফারিশার কথা শুনে ইরাদ চোখ-মুখ খিঁচড়ে উঠলো,
” আমার এর চেয়েও বড় কাজ পড়ে আছে রুমে আসো করে দিয়ে যাও আগে..?”
ফারিশা কাজের কথা শুনতেই ইরাদের পিছু পিছু চলে গেলো। রুমে যেতেই ফারিশা বললো,

” কী কাজ দিন করে দেয়..?”
ইরাদ দরজা আটকে সামনে ঘুরে এগিয়ে ফারিশাকে দু-হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে নিজের কাছে নিয়ে এসেছে বললো,
” এই কাজ টা করে দেন একটু। একটু প্রেম করতে ইচ্ছে হচ্ছে করবেন নাকি..?”
ফারিশা মৃদু হেসে বললো,
” আপনি মিথ্যে বলে নিয়ে আসলেন..?”
” তা নয়তো কী বউকে কাছে পাওয়ার জন্য একটু মিথ্যে বললে কিছু হয় না..!”
ফারিশা ইরাদের গালে হাত বুলিয়ে শুধালো,
” আচ্ছা পৃথিবীতে সব ছেলেই কী এক রকম হয়। আপনাকে ইদানীং আমি বুঝে উঠতে পারি না। এতটা নরম স্বভাবের ছিলেন কী আপনি নাকি এ আপনার কয়েক মুর্হুতের রুপ শুধু। আমাকে আবার দূরে ঠেলে দিবেন না তো। আমার জাত কূলে কেউ নেই ইরাদ
যারা আছে তারা না থাকার মতোই..?”
ইরাদ ফারিশার দু’গালে হাত রেখে আলতো করে কপালে চুমু এঁকে বললো,

” একদমই না। মানুষ প্রথম ভুল করে যখন বুঝতে পারে কী হারিয়েছে দ্বিতীয় বার কী সে সেই ভুল আর করে বলো। জানি হয়তো সব ছেলেরাই এই কাজ করে না আবার করেও হয়তো । এই ধরো ভুল শিকার পর দু’দিন ভালো তারপর কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার যা তাই-ই হয়ে যায় অনেকে কিন্তু আমি চেষ্টা করবো যেনো এই ভুল আর না হয়..!”
ফারিশা ইরাদের দিকে তাকিয়ে রইলো শুধু। নিঃশব্দ রুমের মাঝে যেনো দু’জনের গাঢ় শ্বাসের শব্দ আসছে শুধু । ইরাদ ফারিশার দিকে ঝুঁকে এসে নেশালো গলায় আবদার করে বললো ,
” একটু টার্চ করি তোমার ঠোঁটের কোণায়..? ”
ফারিশা ইরাদের কথায় উত্তর দিলো না ধীরে চোখের পাতা দুটো বুজে নিলো শুধু। ইরাদ ফারিশার এরূপ দেখে মৃদু হেসে এগিয়ে যেতে লাগলো তার কাছে। তাদের মাঝে প্রায় কয়েক সেকেন্ডের দূরত্ব হবে আর হুট করেই ভেসে এলো ছেলের গলা।

” তোমলা আমায় নিয়ে আসো নি কেন? আমি তোমাদেল খুঁজছি..?”
ইয়াশ কোমরে দু’হাত রেখে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। ফারিশা আর ইরাদ ছেলের গলা পেয়ে ছিঁটকে সরে গেলো দু’জনেই। ইরাদ বিড়বিড়িয়ে বলে উঠলো,
” আমার মনের বেরিগেড রে, আব কেয়া হোগা মেরা..!”
ফারিশা এগিয়ে গিয়ে ছেলেকে কোলে তুলে বললো,
” কেনো খুঁজছিলে একা একা উপরে আসলে পড়ে যেতে যদি..? ”
ইয়াশ ইরাদের দিকে তাকিয়ে বললো,
” আচাল খাওয়াল জননো..!”
ফারিশা ইরাদের দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হাসলো তার তাকানো দেখে। ইরাদ এগিয়ে এসে ছেলেকে কোলে নিয়ে রুম থেকে বের হতে হতে বললো,
” চলো আব্বা আমরা আজ পেট ভরে আচার খায়..?”,
বলেই বেরিয়ে যেতেই তা দেখে ফারিশা উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো এবার।

” ওই দেখ তোর ভাই বসে আছে..?”
লাবিবার কথায় সাবাহ্ মুখ ফিরে দূরে তাকাতেই দেখলো ইভান সামনের দোকানে বসে আছে। সাবাহ্ সবেমাত্র ক্লাস করে বের হয়েছে। ইভান কে দেখে কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে লাবিবাকে বললো,
” চল পিছন রোড দিয়ে যায়..?”
” তোর মাথা খারাপ পিছন রোডে প্রায় সময়ই বখাটেরা বসে থাকে..?”
” আরে চল তো যদি ওদের দেখি তো ব্যাক করবো নে..?”
লাবিবা সোজা সামনে হাটতে হাটতে বললো,
” না বাবা এসব রিস্ক নিতে পারবো না। তুই চল তো ভাইকে দেখে ভয় পাচ্ছিস নাকি..?”
সাবাহ্ সেদিকে এক নজর তাকিয়ে আনমনে বললো,
” তা কেনো করছি শুধু আমিই জানি লাবিবা আচ্ছা চল যায়..!”
সোজা সামনে হাটা ধরলো দু’জনেই। ইভান পাশ দিয়ে সাবাহ্ কে যেতে দেখে ডেকে বসলো,
” সাবাহ্ দাঁড়া। এই সাবাহ্ এদিকে আয় তো..?”
সাবাহ্ না শোনার ভান করে সামনে এগিয়ে গেলো
তা দেখে ইভান বসা থেকে উঠে দ্রুত পায়ে হেটে সোজা গিয়ে সাবাহ্’র হাত ধরে পাশে থাকা লাবিবাকে বললো,

” আপু আপনি চলে যান ও আমার সাথে যাচ্ছে..? ”
” ইভান ভাই ছাড়েন আমাদের পড়া আছে দেরি হয়ে যাবে..? ”
লাবিবা সাবাহ্’র মিথ্যা কথা শুনে বোকার মতো বললো,
” কয় আর তো পড়া নেই কোথাও..?”
সাবাহ্ চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
” তোর মাথা ভর্তি আসলে বয়লার। যাহ্ এখান থেকে..?”
লাবিবা মাথা চুলকাতে চুলকাতে চলে গেলো ওদের দিকে তাকিয়ে। ইভান সাবাহ্’র দিকে তাকিয়ে বললো,
” সমস্যা কী তোর বাসায় দেখছি না যে তোকে..?”
” আশ্চর্য দেখার কী আছে আমি আমার মতো চলবো আপনি বোনকে দেখে কি করবেন ছাড়ুন আমার হাত..?”
সাবাহ্’র কথায় ইভান হাতটা ঝাড়া মেরে ফেলে হেসে বললো,
” যাক মাথায় বুদ্ধি এসেছে তাহলে..? “,

বলেই উল্টো দিকে ঘুরতে লাগলে সাবাহ্ এক টানে ইভানের শার্ট খামচে ধরে সামনে ঘুরিয়ে বললো,
” ঢং করছেন আমি আপনাকে ভালোবাসি এটা ভুলে যাবেন না। মারলেও ভালোবাসিই বলবো দূরে ঠেলে দিলেও ভালোবাসিই বলবো তাই নিজের ডিসিশন ঠিক করুন নয়তো বাড়িতে বাবাকে বলবো আমি আপনার বন্ধু কে ভালোবাসি তখন অন্যের হয়ে গেলে বুঝলেন কেমন লাগে আপনার সেই বুকের মাঝে ফাঁকা স্থান জুড়ে..?”
ইভান সাথে সাথে সাবাহ্’র গাল চেপে নিচু গলায় বললো,
” তোর তো সাহস কম নয় আমার বন্ধুর দিকে তাকিয়েছিস তুই..! ”
” তাতে আপনার কী জ্বলে বুঝি..?”
ইভান কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে সাবাহ্’র হাত সরাতে সরাতে বললো,

” রাস্তাঘাটে মাস্তানি করছিস, মেয়ে মানুষ মেয়ে মানুষের মতো থাকবি। বাড়ি চল..!”
” অবশ্যই বাড়ি যাবো আর যেতেই পারবো আমি, আপনার তা নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না..! “,
বলেই সামনে হাটা ধরলো। তা দেখে ইভান সাবাহ্’র হাত চট করে খাবলে ধরলো শক্ত করে তারপর নিজের বাইকের কাছে এগিয়ে বললো,
” চুপ করে বাইকে উঠবি। আর কখনো যেনো তোকে গাড়ি না নিয়ে বাইরে না বের হতে দেখি..!”,
বলেই ইভান বাইকে উঠে স্টার্ট দিতে দিতে বললো,
” বসে পড় দ্রুত..? ”
কয়েক সেকেন্ড পর ভেসে এলো সাবাহ্’র গলা।
” বাই ইভান ভাই..!”
সাবাহ্’র কথা শুনে পাশ ফিরতেই দেখলো সাবাহ্’র সেদিনের তার ক্লাসমেট এর বাইকে বসে আছে। ইভান গরম চোখে তাকাতেই বিদ্যুৎ এর বেগে সাবাহ্’র মুখ বাকিয়ে চলে গেলো তার সাথে। তা দেখে ইভান রাগে ফুঁসে উঠলো একদম।
কয়েক কদম এগোতেই সাবাহ্ ছাদকে বললো,

” বাইক টা থামা..?”
ছাদ বাইক থামাতেই সাবাহ্ নেমে পড়লো তা দেখে ছাদ বললো,
” তোর ভাই আমাকে মারবে না তো আবার তুই ফাঁসানোর জন্য এই আমাকেই পেলি..?”
সাবাহ্ মৃদু হেসে বললো,
” আরে না মারবে না তুই বাড়ি যা রিকশা তে করে চলে যেতে পারবো এবার..!”
” সত্যি পারবি তো..! ”
” আরে যা তো তুই..! ”
সাবাহ্’র কথায় ছাদ আর দাঁড়ালো না চলে গেলো। সাবাহ্ দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে রিকশা ধরে চলে গেলো।

” কি খবর তোর! কেমন আছিস..?”
জাহিদ এর কথায় জিসান হেসে বললো,
” আলহামদুলিল্লাহ ভালো তোর কী খবর?”
” ভালো..!”
তুবাকে ভেতরে আসতে দেখে আজ কয়েক সেকেন্ড স্থির দৃষ্টিতে তাকালো জাহিদ। আজ শাড়ি পড়ে এসেছে একদম বাড়ির বউয়ের রুপে দু’হাতে সোনার বালা, নাকে নোসপিন। চোখ সরিয়ে নিয়ে ট্রেতে করে কফি টা নিয়ে তাড়া গলায় বললো,
” আমি এগুলো দিয়ে আসি দু’জন কাস্টমার বসে আছে..! “,
বলেই বেরিয়ে গেলো। জাহিদকে বের হতে দেখে জিসান তুবার দিকে তাকিয়ে বললো,
” কফি বানা ফারিশা তো আর আসবে না তুই সব কর এখন থেকে..? ”
তুবা সোজা এগিয়ে গিয়ে বানাতে শুরু করলো তা দেখে জিসান বেরিয়ে গেলো কিচেন থেকে। তুবা দীর্ঘ সময় স্থির হলো দেখিয়ে তাকিয়ে এই ভেবে যে তার প্রতিটা চলার পথেই ফারিশা এই করেছিলো, ফারিশার এই হয়েছিলো সারাক্ষণ তার মাথায় কি এসবই চলে। এসব ভেবে তুবার বুকে হাহাকার ছাড়া আর কিছুই করার নেই। এমন বাঁধনে তাকে ফেললো ওপরআলা যেই জায়গায় স্বামী কি না আরেক মেয়ের মাঝে ডুবে থাকে। জাহিদের ফোনে কল আসতেই জাহিদ ভেতরে এসে দেখলো জাইমার ফোন সে ফোন টা না ধরে বরং ফোনটা সুইচ অফ করে দিলো পাশ থেকে তা আঁড়চোখে দেখলো তুবা।

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ২৯

” ফোন বন্ধ করলি কেন? ”
” এমনি..?”
জাহিদের কথায় ক্ষীণ হেসে উঠলো চুলাটা বন্ধ করে কিচেন থেকে বের হতে হতে বললো তুবা,
” রাগারাগি করেছিস নাকি। রিলেশনশীপে রাগারাগি করলে বুঝবি ঠেলা কেমন লাইফ উপভোগ করছিস..? ”

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here