তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩২
রিমঝিম বৃষ্টি
চৌধুরী প্যালেস———-
সন্ধ্যার পরপরই সব অতিথি চলে গেছে। রাতের খাওয়া শেষ করে ফারিশা কাজ শেষে রুমে এসে ইরাদকে দেখে হঠাৎ অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো যেনো। ইরাদ বেডে ওপর হয়ে শুইয়ে মুখে হাত দিয়ে আছে আর ইয়াশ সুন্দর করে তার চুলগুলোতে ক্লিপ মেরে রেখেছে। ফারিশা এগিয়ে এসে পাশে বসতে বসতে বললো,
” আমার সোনা দেখছি সাজাতে শিখে গেছে তুমি কী বাবাকে বাবাপু সাজিয়েছো..?”,
বলেই ফিক করে হেসে উঠলো তা শুনে ইরাদ ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বললো,
” এই ক্লিপ টা পড়াতে গিয়ে মহাযুদ্ধ করতে হয়েছে তোমার ছেলের সাথে..! ”
” তো তুমি দুততমি কললে আমি কীভাবে পলাবো..!”
ইরাদ হেসে উঠলো ছেলের গাল চেপে ধরে বললো,
” আমার সোনা, আমার কলিজা এইটা..!”
ফারিশা হেসে উঠলো আর বললো,
” ইয়াশের কী বাবার চুল পছন্দ হয়েছে..?”
” না তোমার ছেলে সাথী আনার আগমন জানাচ্ছে..!”
ইরাদ সূক্ষ্ম হেসে কথাটা বলতেই ফারিশা ইরাদের দিকে তাকিয়ে অন্য প্রসঙ্গ তুললো ,
” অনেক দিন ক্যাফেতে যাওয়া হয় না কাল যাবো কি..?”
” না ওখানে আর জব করতে হবে না তোমাকে, যদি এমনি ঘুরে আসতে চাও তো চলো কাল যায় ঘুরে আসি..?”
” আপনি যাবেন..?”
ইরাদ পাশ ফিরে ফারিশার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললো,
” আমার ছুটি ফুরিয়ে আসছে ফারিশা। আবার কবে ছুটি পাবো ঠিক নেই কালকের দিন টা আমায় দাও দু’জনে। সারাদিন তোমাদের নিয়ে আলাদা সময় কাটাতে চায়, বাইরে ঘুরতে চায় খোলা আকাশের নিচে। যাবে..?”
” আমি যাবো বাবা ঘুলতে? কোতায় যাবে মেলাতে আমি মেলা দেখবো বাবা..!”
ইরাদ ছেলের আবদারে মাথা হাত দিয়ে বললো,
” সাড়ে সর্বনাশ হয়েছে তাহলে এই সময় মেলা কোথায় পাবো বাবা..?”
ফারিশা পাশ থেকে বললো,
” চলুন তাহলে যায় কাল ঘুরতে..?”
ইরাদ ফারিশার কথা শুনে মুচকি হেসে বললো,
” কাল তাহলে আবার একটু লাল শাড়ি পড়ো আমার কাবাতে দেখো নতুন শাড়ি আছে তোমার জন্য আর আমার ছেলে আর আমি হোয়াট পড়বো ঠিক আছে? “,
বলেই ছেলের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকলে ইয়াশ ঠোঁট জোড়া নাড়িয়ে বললো,
” বাবা আমি কতকতি কালার পলবো..?”
” কতকতি আবার কী..?”
ফারিশার কথায় ইরাদ ইয়াশের দিকে তাকিয়ে চোখ দুটো ছোট ছোট করে বললো,
” চাচার সাথে থেকে থেকে নিজেও ভন্ড হচ্ছো এসব কালার হয় না এসব পঁচা কথা..! ”
ইয়াশ মুখে আঙ্গুল পুড়ে ছিলো বাবার কথা শুনে নিজের মুখে থাকা ভেজা আঙ্গুল সোজা বাবার মুখের মধ্যে পুড়ে দিয়ে বললো,
” না চাচু ভালো..! ”
ইরাদ দ্রুত হাত বের করে চোখ-মুখ খিঁচড়ে বললো,
” হু আইছে আমার চাচুর গুণ গাইতে..!”
ফারিশা পাশ ফিরে দু’জনকেই বললো,
” রাত অনেক হয়েছে এবার ঘুমান দ্রুত..? ”
ইরাদ ইয়াশকে ফারিশার কাছে এগিয়ে দিয়ে বললো,
” এই বেরিগেড কে আগে ঘুম পাড়িয়ে দাও তারপর তুমি আর আমি ঘুমায়.. ঠিক আছে..! ”
ফারিশা সূক্ষ্ম হেসে ইয়াশকে নিয়ে পাশে শুইয়ে পড়ে বললো,
” দেখি ওরে ঘুম পাড়াতে পারি কী না..!”
পায় কয়েক মিনিট পরই ইয়াশ ঘুমে তলিয়ে গেলো তা দেখে ইরাদ যেনো সূক্ষ্ণ হেসে উঠলো ফারিশা কে চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখে ইরাদ উঠে সোজা ফারিশা কে পাজা কোলে তুলে সোফায় নিয়ে শুইয়ে পড়লো
সোফা টা সাইজে বড় হওয়ায় তাদের কোনো অসুবিধা হলো না। ফারিশার সবেমাত্র চোখ লেগে এসেছিলো কিছু বুঝতেই ঘুম চট করেই আলগা হতে দেখলো সে সোফায় ইরাদের বুকের ওপর শুইয়ে আছে। ফারিশা মাথা তুলে তাকাতেই ইরাদ আস্তে করে বললো,
” ছেলে তো ঘুম আপনাকে একটু আদর করি তাহলে..?”
” আপনার বুদ্ধি তে কী শুধু এসবি ঘুরে..? ”
ইরাদ ঠোঁট উল্টে বললো,
” তুমি খুব খারাপ আমার মন বুঝো না। আমি আজ কোনো পারমিশন চাচ্ছি না। তুমি দেখো নি ছেলে আমাকে মেয়ের মতো সাজিয়ে দিলো মানে বুঝতেই পারছো ওর সাথী দরকার আর তার জন্য তোমার দয়া করা উচিত আমার ওপর..। এমন নিষ্পাপ বর কয় পাবা বলো বলো..?”
” আইসে আমার নিষ্পাপ শিশু..!”
ইরাদ হেসে উঠে ফারিশার গালে কয়েক সেকেন্ড নিজের ঠোঁট জোড়া ছুঁইয়ে সরে এসে ঠাট্টার স্বরে বললো,
” এতোগুলা বছর আমি বাইরে না গেলে তোমার আর আমার কতগুলো টিম হতো জানো তো..?”
দু’জনের ফিসফিসিয়ে কথায় যেনো ইয়াশ কিছুটা নড়ে উঠলো তা দেখে ফারিশা ইরাদের মুখ চেপে ফিসফিসিয়ে বললো,
” কথা বলবেন না উঠে যাবে..!”
ইরাদ ফারিশা হাত সরিয়ে সোজা উঠে পড়লো সাথে ফারিশাও। ফারিশার হাত ধরে বললো,
” চলো ঘুরে আসি বাগান থেকে..?”
” এত রাতে..?”
ইরাদ ফারিশার কথাকে উপেক্ষা করে আর না শুইয়ে থেকে তাকে ধরে উঠে দাঁড়ালো তারপর তার হাত ধরে বেরিয়ে গেলো। বাড়ির পিছন সাইডে তাদের ছোট্ট পুকুর আছে । পুকুরের জলে তখন চাঁদের আলো নীরবে ভেসে বেড়াচ্ছে। চারপাশের গাছগুলো রাতের হাওয়ায় মৃদু দুলছে , আর শাপলাগুলো যেনো জলের বুকে ছোট ছোট স্বপ্ন হয়ে ফুটে আছে। দ্বিতীয় সিঁড়ির ধাপে পাশাপাশি বসেছে দু’জনেই, ফারিশা নিশ্চুপে মাথাটা ইরাদের কাঁধে রেখে দূরের পানির দিকে তাকিয়ে রইলো। ফারিশাকে এক হাতে আলতো করে ধরলো ইরাদ। যেনো নিজের সকল ক্লান্তি দূর লাগছে ভেতর থেকে সব দূর হয়ে যেনো এক চিলতে সুখ ভর করছে তার মাঝে। দু’জনেই যেনো নীরব শুধু চেয়ে রইলো সামনের দিকে, ঝিঁঝিপোকার ডাক যেনো কানে ভেসে আসছে। মৃদু বাতাস এসে ফারিশার চুলগুলো এলেমেলো করে দিতেই ফারিশা মুখ খিঁচড়ে নিলে তার দেখে ইরাদ সূক্ষ্ম হেসে বললো,
” জানো, এই রাত টা আজ অন্যরকম সুন্দর লাগছে.!”
ফারিশা ইরাদের কথায় কিছুটা শব্দ করে হেসে বললো,
” রাতটা সুন্দর নাকি মুর্হুত টা..?”
ইরাদ কিছুক্ষণ চুপটি করে পানির দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললো,
” হয়তো দুটোই কিন্তু তুমি পাশে না থাকলে এই সৌন্দর্যটাও বোধহয় এতটা সুন্দর লাগতো না..!”
এ যেনো সুন্দর এক মধুময় রাত সামনেই জোসনার আলোতে ফুলগুলো জ্বলজ্বল করছে তা দেখে ফারিশা ইরাদের কাঁধেই মাথা রেখে মুখ তুলে তার দিকে তাকালো তার বুকে নিজের আরেক হাতখানা রেখে মৃদু সুরে গেয়ে উঠলো,
” অন্তর দিলাম বিছাইয়া
বইসা লওনা জিরাইয়া
যদি তোমার চাই মনে
পরান রাইখা পরানে
নয়ন রাইখা নয়নে..! ”
ফারিশা চুপ হতেই ইরাদ চোখ বুজে হাসলো। তারপর ইরাদ ঘাড় বাকিয়ে ফারিশার মুখাখানা তুলে পরম আদরে তার কপালে আর দুই গালে দীর্ঘ ঠোঁটের স্পর্শ ছোঁয়ালো। ফারিশা চোখ বুজে শুধু অনুভব করলো নিজের স্বামীর ভালোবাসার পরশ । ইরাদ সরে এসে ফারিশার চোখ বুজে থাকা মুখখানা এক নজর অবলোপন করে দৃষ্টি স্থির করলো ফারিশা কম্পিত এক জোড়া উষ্ণ ঠোঁটের দিকে। ইরাদ শুকনো ঢোক গিলে সেই মিষ্টি ঠোঁট জোড়ায় নিজের শুকনো ঠোঁট জোড়া ডুবিয়ে দিলো। জোসনার ফুটফুটে আলোতে , এক কোলাহল বিহীন জায়গায় দু’জন অনুতপ্ত হৃদয়ের ব্যাকুল মিলন যেনো চারিপাশের সবকিছুকে সাক্ষী করলো, থমকে দিলো যেনো সময়কে। ফারিশা চোখ বন্ধ করে শুধু অনুভব করলো সেই নীরব প্রেম। দূর হতে ফুলের মিষ্টি সুবাস যেনো দু’জন মানুষের নীরব সঙ্গ।
বেশ খানেক পর তারা পুকুর পাড় থেকে বাড়ি ফিরে রুমে চলে গেলো। তাদের তখনও যেনো ভালোবাসার রেশ কাটে নি। এক নজর ইয়াশকে দেখে দু’জনে ফের সোফায় গিয়ে শুইয়ে পড়লো। নিজের বুকের ওপর ফারিশাকে নিয়ে ইরাদ গভীর আর কিছুটা নেশালো গলায় বললো,
” আমাদের ভালোবাসার ওপর যেনো কারোর নজর না লাগে ফারিশা। আমার সব সুখ তোমাকে আর আমার ছেলেকে ঘিরে। তোমায় আমি নিজের থেকেও বেশি আগলে রাখতে চায় ফারিশা ঠিক বুকের মাঝে..!”
ফারিশা ইরাদের কথা শুনে নীরবে গাল বেয়ে দু’ফোটা জল গড়িয়ে পড়লে ইরাদ মৃদু হেসে বললো,
” আজ আমার পুরোপুরি হয়ে যাও এ্যাংরি বার্ড! “,
ইরাদের মুখে এরূপ কথা শুনে ফারিশা যেনো এবার কিছুটা নজ্জায় নুইয়ে পড়লো। মাথা নিচু করে মুখখানা রাখলো তার চওড়া বুকের মাঝে। শুরু হলো যেনো ফের নীরব ভালোবাসার মুর্হুত। রাত যত বাড়লো, ভালোবাসা ঠিক ততটায় গাঢ় হলো যেনো । নিস্তব্ধ রাতটা শুধু দু’টো ভালোবাসার হৃদস্পন্দন ঠিক মধুর সময়ে কাটলো যেনো। কিছু ভালোবাসা শব্দে বা মুখে প্রকাশ করতে হয় না । প্রকৃতির মতোই নীরব হয়ে পাশে থাকে যা কেবল অনুভবে প্রকাশ পায়।
সকাল সকাল ইরাদের ঘুম ভাঙতেই পাশ ফিরে তাকালো নিভু নিভু চোখে আর অমনি হচকচিয়ে উঠলো ইয়াশকে দেখে। ইয়াশ বাবাকে সোফায় দেখে বললো,
” তুমি এখানে কেনো আমাল সাথে ঘুমোও নি কেনো? ”
ইরাদ মাথা চুলকাতে চুলকাতে আশেপাশে তাকিয়ে বললো,
” আম্মু কোথায় তোমার..?”
ইয়াশ আদো আদো গলায় বললো,
” আম্মু কাজ কলে তুমি এখানে কেনো..?”
ইরাদ চোখ জোড়া ঘুরিয়ে বললো,
” তুমি রাতে হিসু করে দিয়েছিলে তাই আমি এখানে শুইয়েছি..!”
ইয়াশ বাবার কথায় নিচে তাকিয়ে নিজের প্যান্ট দেখে প্যান্ট টা নিজেই হাতে নেড়েচেড়ে ধরে বললো,
” কয় আমি তো হিসু কলিনি..?”
ইরাদ সোফা থেকে নেমে ছেলেকে এক টানে কোলে তুলে ওয়াশরুমে যেতে যেতে বললো,
” আপনের প্যান্ট শুকিয়ে গেছে তাই বুঝতে পারছেন না। চলো আমরা মুখ ধুইয়ে আসি..!”,
বলেই ইরাদ ওয়াশরুমে চলে গেলো।
নিচে নাস্তা বানানো হচ্ছে। ইভান নিচে গিয়ে ফারিশাকে দেখে তার আশেপাশে ঘুরছে শুধু। ফারিশা তা টের পেয়ে আঁড়চোখে তাকিয়ে বললো,
” কি ব্যাপার ইভানের কি কিছু চায়..?”
” ভাবী..! ও ভাবী….? ”
ইভানের এমন সুরেলা ডাক শুনে ফারিশা পাশ ফিরে তাকালো আর বললো,
” কি মতলব কি আপনার, কিছু চায়..?”
ইভান দাঁত কেলিয়ে আরেকটু এগিয়ে আসলো ফারিশার পাশে আর আস্তে করে বললো,
” ভাবী আমাদের বাসার রোডে একটা নতুন রেস্টুরেন্ট ওপেন করছে চলেন আজ আমরা যায় ঘুরে আসি.!”
” আপনিই যান আমি কীভাবে যায় বলেন ? আপনার ভাইয়াকে বলতে হবে নয়তো আমি তো ওনার পারমিশন ছাড়া যেতে পারবো না..?”
ইভান ডাইনিং টেবিলের চেয়ার টা হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে ঝুঁকে ফারিশার মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসলো আর বললো,
” ভাবী আপনাকে আজ খুশি খুশি লাগছে কেনো..?”
ফারিশা ইভানের তাকানো দেখে হেসে পাশ ফিরতেই ইভা এগিয়ে এসে বললো,
” ইভান ভাবীকে জ্বালাচ্ছিস কেন..?”
” আমার মতো নিষ্পাপ ভাই ক’টা পাবে ভাবী। আমি ভাবীকে একটুও জ্বালাই নি তুৃমিই জিজ্ঞেস করে দেখো..!”
ফারিশা ইভানের কথা শুনে ইভাকে বললো,
” মা জ্বালাই নি আমাকে এমনি কথা বলছি আমরা..!”
ইভা খাবার গুলো টেবিলে রেখে নিজের ঘরের দিকে যেতে যেতে বললো,
” ওই পাগলকে লায় দিও না তখন আদর করা বের হয়ে যাবে..?”
ইভা চলে যেতেই ইভান পাশেই চেয়ার টেনে বসে ঠোঁট উল্টে বললো,
” আম্মু কেমন যেনো এই ছোট পোলার দুঃখ বুঝলো না..?”,
বলেই টেবিলে থাকা মাছের তরকারি গুলো তাকিয়ে দেখলো শুধু। তা দেখে ফারিশা প্লেটগুলো মুছতে মুছতে পাশে থাকা আরেকটা ঢেকে রাখা ঢাকনা টা সরাইতেই ইভান সেদিকে তাকিয়ে গোলগাল চোখ করে বললো,
” এসব কী ও মাই ব্রাদারের বউ..?”
সামনে থাকা লাউ দিয়ে বড় বড় চিংড়ি মাছ রান্না দেখে সে বসা থেকে লাফিয়ে উঠে হাত বাড়াতে গেলেই ফারিশা হাতের পর হালকা চাপড় দিয়ে উঠলো,
” এই হাত দিবেন না ভাইয়া। আপনি কিছুক্ষণ আগে বাইরে থেকে এসেছেন হাত ধুইয়ে আসুন আগে..!”
ইভান উঠে দৌড়ে হাত ধুতে যেতে যেতে বললো,
” ও মাই ব্রাদারের বউ আমার মধুকে দিয়ে দিবেন না ওটাকে আমিই খাবো শুধু..! ”
ইভানের কথা শুনে ফারিশা উচ্চ স্বরে হাসতে শুরু করলো। ইরাদ ছেলেকে নিয়ে নিচে নামতেই বউয়ের হাসি শুনে এগিয়ে আসতে আসতে বললো,
” কী ব্যাপার হাসছো কেনো..? সবাই কোথায়.?”
” বাবা আর আপনার চাচ্চু অফিসে গেছে জরুরি মিটিং আছে তাই আর ওরা দুই বোন এখনো নিচে আসে নি রুমে বোধহয়..! ”
ইরাদ সামনে এগিয়ে চিংড়ি দেখে বললো,
” বাহ্ আজ তো জমিয়ে খাবো ইয়াশ খাবে ওটা..!”
” আমি খাবো না আমাল ভয় কলছে..!”
ফারিশা পাশ ফিরে বললো,
” বাবা ওটা চিংড়ি তুমি না চিংড়ি পছন্দ করো..?”
ইয়াশ সেদিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাকিয়ে বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,
” ওতা এতো বলো ( বড়) কেনো আমি খাবো না..!”
” এত বড় মাছ চোখে দেখেছিস কখনো যে খাবি! নে খাওনের সুযোগ পাইছিস খা আজ..?”
বলতে বলতে আয়েশা ডাইনিং রুমে প্রবেশ করলো
ফারিশা তা শুনে মুখখানা ছোট করে ফেললো। সুমানা আর ইভাও রুমে আসলো শাশুড়ির কথা শুনে। ইরাদ ফারিশার মুখখানা দেখলো এক নজর। দীদাকে চেয়ার টেনে বসতে দেখে ইরাদ শক্ত গলায় বললো,
” দীদা আজকেই ফার্স্ট এবং লাস্ট বারের মতো বলছি, শুধু তোমাকে নয় সবাইকে বলছি আমার ছেলের সাথে কখনো কেউ তুই-তুকারি করে কথা বলবে না। আমার ছেলে যেনো এসব তুই ওয়ার্ড না শিখে..! ”
আয়েশা মুখ বাকিয়ে বললো,
” এখন তুই শিখাবি আমি কেমনে কথা বলবো। সব দাদীরাই তার নাতি-নাতনিদের সাথে তুই-তুকারি করে কথা কয় এটাও একটা ভালোবাসা বুঝলি..?”
” তোমার মাঝে তো সেই ভালোবাসা নেই দীদা থাকলে কিছু বলতাম না। সামান্য খাওয়ার খোটা দিলে আজ আমার ছেলেকে। এইসব চিংড়ি কেন আমি চাইলে আমার ছেলেকে সব কিছুই কিনে খাওয়াতে পারি দীদা সেই সামর্থ্য আমার আছে..!”
ইভা সবার পরিস্থিতি বুঝে থামানোর জন্য এগিয়ে এসে বললো,
” বাদ দে তো ইরাদ, নে খেতে বস জলদি..!”
ইরাদ পাশ ফিরে ছেলেকে নিয়ে বসে তার মাকে বললো,
” আম্মু অন্য কিছু রান্না করে থাকলে দাও..!”
ফারিশা শুধু দু’চোখ করে তার স্বামীর কাজকর্ম দেখলো। মুখ ফুটে কিছু বললো না, যে এ বাড়িতে টেনে এনেছে সেই না হয় বুঝিয়ে দিক একটু। ইভা অন্য তরকারি সামনে দিয়ে বললো,
” চিংড়ি খাবি না..!”
ইরাদ ছেলেকে কোলে বসিয়ে বললো,
” না! আমরা আজ বাইরে গিয়ে খাবো চিংড়ি সাথে আরও কত কি তাই না সোনা..!”
ইয়াশ হেসে মাথা নাড়িয়ে বললো,
” হুম..!”
আয়েশা সেদিকে তাকিয়ে মুখ বাকালো শুধু। হাত বাড়িয়ে সামনে চিংড়ির বাটিতে হাত দিতে যাবে আর ঠিক তখনি ইভান এসে ছোঁ মেরে বাটি টা নিয়ে দূরে সরে গেলো আর বললো,
” মাত্র গুণে গুণে ৬ টা চিংড়িই আছে। বুড়ো মানুষের এসব খেতে নেয়। পরে তোমার পেটের ভেতর গিয়ে চিংড়ি ডান্স করবে। এমনিতেই কোমর ভাঙা আবার যদি চিংড়ি ডান্সে পেট বাতিল হয় তখন কী খাইয়া বাইচা থাকবা..!”
আয়েশা ইভানের দিকে তাকিয়ে ঝাঁড়ি মেরে বললো,
” হ্যাঁ রে এসব তুই কয় থেকে শিখিস? বউমা তোমার পোলারে পাগলামি করতে নিষেধ করো তো। এরে আজকাল দেখলে আমার ঝাড়ু মারতে মন চায়..!”
ইভান মায়ের দিকে তাকিয়ে সূক্ষ্ম হেসে বললো,
” এগুলো সব ভাবী আমার জন্য রান্না করেছে তাই না ভাবী বলেন তো..?”,
ফারিশা ড্যাবড্যাব করে শুধু ইভানের দিকে তাকালো তা শুনে ইরাদ খেতে খেতে বললো,
” ইভান চালু করে দে তোর রেডিও। রেডি ওয়ান, টু, থ্রি..!”
ইরাদের গোনা শেষ হতেই ইভান বাটিটা নিয়ে হাওয়া তা দেখে ইরাদ বাঁকা হাসি দিলো আর এদিকে ইভা ছেলের কান্ড দেখে পাশে থাকা সুমানাকে অভিযোগের সুরে বললো,
তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩১
” দেখেছো তো ছেলের কান্ড! এবার তমা আর সাবাহ্ কী খাবে। সাবাহ্ সকালে রান্না ঘরে একবার মাছ দেখে গেছে এসে যদি দেখে নেই মারামারি লাগিয়ে দিবে..!”
সুমানা হাসতে হাসতে বললো,
” ওদের কোন দিনই মারামারি লাগে না বাদ দাও তো খেতে বসো..! ”
