তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৪৫
তানিশা সুলতানা
আজকে অহনার বিয়ে। গোটা চৌধুরী বাড়ি সাজানো হয়েছে নতুন রূপে। হাসি তামাশা, আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছে গোটা বাড়ি। আব্দুর রহমান বেজায় খুশি। তার ঠোঁটের কোণা থেকে হাসি সরছেই না। মেয়ের জন্য একজন যোগ্য পাত্র খুঁজে আনতে পেরেছে এটা ভেবেই তিনি গর্বিত।
তবে আরিফ একটু বেরাজ। এমনটা নয় তিনি আহনার ভাগ্যকে হিংসে করছে। তবে ওনার আফসোস হচ্ছে নিজের মেয়ের জন্য।
আদ্রিতার জীবনেও কি এমন একজন সুপাত্র আসবে? হয়তো আসবে।
বর্ষা এবং আতিয়া বেগমের কাজ ফুরাচ্ছেই না। বাড়িতে শত খানিক মানুষ থাকলেও কারো ওপর ভরসা করতে পারছেন না।
তবে বেগমের মন খারাপ। সকলের চোখের আড়ালে কাঁদছেন। চোখ দুটো টকটকে লাল হয়ে আছে।
এমনটা নয় যে মেয়েকে বিদায় করবে বলে এতো কষ্ট পাচ্ছে।
দুঃখের কারণ হচ্ছে ছেলে।
একমাত্র বোনের বিয়েতে এসে উপস্থিত নেই। এমনকি বোধহয় জানেও না তার বোন আজকে নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছে।
গতকাল থেকে বেশ কয়েকবার কল করেছে আতিয়া বেগম। কিন্তু বারবার ফোন বন্ধ বলছে।
হয়তো নতুন সিম নিয়েছে। নয়তো ইচ্ছে করেই বন্ধ করে রেখেছে।
ঠিক আছে থাকুক।
আদ্রিতা আজকে সকল মন খারাপের এক পাশে রেখে মন ভরে সাজুগুজু করেছে।
সাদা রংয়ের লেহেঙ্গা পড়েছে। সাথে পার্লার থেকে সাজুগুজু করে এসেছে।
অহনার ও সাজুগুজু করা শেষ।
এবার শুধু বরযাত্রী আসার অপেক্ষা।
শেষবারের মতো কেনো জানি সিয়ামের সঙ্গে একটুখানি কথা বলতে ইচ্ছে করছে।
এমনটা নয় যে তাকে জান প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে, তাকে ছাড়া বেঁচে থাকাটাই মূল্যহীন।
তুমি হৃদয়ের কোথাও একটা খুব গভীর যত্নে সিয়াম নামটা লেখা হয়েছিলো।
হয়তো ওই মানুষটাও একটুখানি হলেও দুর্বল ছিলো অহনার প্রতি।
ভালোবাসা জন্ম নেয়ার আগে, পাগল হওয়ার আগেই তারা আলাদা হয়ে গেলো।
ব্যাপারটা অবশ্য মন্দ হলো না। কিছু কিছু জিনিস না পাওয়াতেই সুন্দর।
এই মুহূর্তে কক্ষে একা রয়েছে অহনা। আদ্রিতা অ্যানি কে খুঁজতে বেরিয়েছে। বাকি কাজিনরা বরযাত্রীদের আপ্যায়ন করার তোরজোর শুরু করে দিয়েছে।
এই ফাঁকা সময়টুকুই কাজে লাগালো।
নিজের ফোন খানা হাতে নিয়ে ডায়াল করলো সিয়ামের এর নাম্বারে।
একবার দুবার তিনবার
চারবারের মাথায় কলটা রিসিভ করলো সিয়াম।
হাসিমাখা কণ্ঠস্বরে বলে উঠলো
“নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা রইল।
অনেক অনেক ভালো থাকবে।।
অহনা নিজেও মৃদু হাসলো।
মনে হলো কল দিয়ে ভুল করেছে। লোকটা ভালোই আছে, আর ভালোই থাকবে।
“ধন্যবাদ
আপনি ভালো আছেন
“হ্যাঁ খুব ভালো আছি
একটু পরে কল দিলে আর পেতে না।
“কেনো?
“এয়ারপোর্ট এ আছি।
থাইল্যান্ড যাচ্ছি কাজে।
” ভাইয়া জানে আজকে আমার বিয়ে?
“হুমম
“কোনো গিফট পাঠালো না কেনো? বোনকে উপহার দিতে হয় সে কি জানে না?
“আমি বলে দিবো।
“কি বলে দেবেন?
বড় ভাইয়ের বন্ধু মানে আর একটা ভাই। আপনিও তো কোনো গিফট পাঠালেন না?
এই যাত্রায় সিয়াম হাসলো।
” তোমাকে দেওয়ার মতো কিছু নেই আমার। তবে তোমার জীবন থেকে সরে গিয়ে যে উপহারটা দিয়েছি। সেটা সারাজীবন তোমায় হ্যাপি রাখবে।
কল কেটে দিলো সিয়াম। অহনা কিছু মুহুর্ত ওইভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো।
তারপর কানে ভেসে আসলো সকলের উল্লাসিত কন্ঠস্বর। বর এসেছে।
বুক চিঁড়ে দীর্ঘ শ্বাস বেরিয়ে আসলো মেয়েটার। ফোন খানা রেখে দিলো বিছানার পাশে। আয়নার সামনে খুঁটিয়ে খুটিয়ে দেখতে থাকে নিজেকে।
যা হবে ভালোই হবে।
গম্ভীর আবরারের এর মুখ খানা আজকে একটু অন্যরকম লাগছে। রেগে আছে কিনা বোঝা যাচ্ছে না।
একটু পরে তারা থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে বেরুবে। কেনো যাচ্ছে, কি করতে যাচ্ছে কিছুই জানে না কেউ।
আবরার বলেছে বিধায় লাগেজ প্যাক করে রেডি হয়েছে।
তবে আবরারের ক্ষতস্থান এখনও শুকায়নি। কি অবস্থায় জার্নি করা বোধহয় ঠিক না। কিন্তু এই ছেলে সেসব কথা শুনবে না।
ল্যাপটপের গভীর মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা করছে আবরার।
আসিফ আদনানের পিকচার দেখা যাচ্ছে।
সিয়াম উঁকিঝুঁকি মেরে একটুখানি দেখলো।
কিন্তু ওই ছেলের পিকচার দিয়ে কি করছে এটা বুঝতে পারল না।
বোঝার সময়ও দিলো না আবরার। গম্ভীর স্বরে প্রশ্ন করলো
“আর ইউ ওকে সিয়াম?
সিয়াম বুঝতে পারল কেনো তাকে কথা জিজ্ঞেস করা হলো। আমান আহাদ ইভান তিনজন নুডলস খেতে খেতে এগিয়ে আসলো। এই প্রশ্নের উত্তর ওরাও জানতে চায়।
সকলের এতো আগ্রহ এবং উত্তেজনা দেখে সিয়াম হেসে জবাব দিল
“আমার আবার কি হবে?
একদম ঠিক আছি।
আবরার কিছু বলল না। ততক্ষণে তার ফোন খানা বেজে উঠেছে। রিসিভ করে কানে দিয়ে বলে
“যেই ছেলের পিকচার পাঠালাম
তাকে ৮ দিনের জন্য গুম করে রাখো। কোনমতেই চৌধুরী বাড়িতে যেনো ঢুকতে না পারে।
বলেই কল কাটলো।
চার বন্ধু হা করে তাকিয়ে আছে আবরারের মুখ পানে। কি হলো বিষয়টা?
” উমম তোরা তোদের মাকে মিস করছিস?
আমান সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো
“একদম মিস করছি না।।
“আমি করছি।
কালকে থেকে আমায় একবারও কল করে নি। নিজের রুমেও আসে নি।
সিয়াম বললো
” ভাই তুই জানলি কিভাবে এতোকিছু?
আবরার নিজের শুট নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। সেটা গায়ে জড়াতে জড়াতে বলে
“সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছি রুমে৷
অবাকের শেষ পর্যায়ে চলে গেলো চার বন্ধু।
আহাদ বলে
” মেয়েটার প্রাইভেসি বলে কি কিছু থাকবে না?
আবরার সে কথা কানে তুললো না। তার মাথায় অন্য চিন্তা।
“পাখি এখনো সিঙ্গেল
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৪৪
সেজন্যই ছেলেদের ওর প্রতি ইন্টারেস্ট আছে। ম্যারিড হয়ে গেলে ইন্টারেস্ট কমে যাবে।
এ’ম আই রাইট?
বাকি চার জন মাথা নারিয়ে সম্মতি প্রকাশ করলো।
” থাইল্যান্ড পরে যাবো।
আগে বাংলাদেশ যাই চল।
বিয়ে করে আসি।
