তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৪৪
তানিশা সুলতানা
অন্ধকার কক্ষে। জানালা দরজা বন্ধ। কোথা থেকে এক চিমটি আলো কক্ষে ঢোকার কোনো উপায় নেই। আবরার তাসনিন খানিকক্ষণ বসে রইলো চুপটি করে। তারপর মনিটর চালু করলো।
বিশাল বড় সাইজের মনিটর জুড়ে ভেসে উঠলো আদ্রিতার কক্ষ খানা। এ্যানি বিছানায় বসে দুধ খাচ্ছে। আদ্রিতা কোমরে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে দেখছে। এক ফোঁটা দুধ বিছানায় পড়লে এ্যানিকে পি/টা/নি দেওয়া হবে।
ইদানীং বেশ অলস আর জেদি হয়ে গিয়েছে। বিছানা থেকে নামতে বললে নামবে না। দৌড়াতে বললে দৌড়াবে না।।
দিন যাচ্ছে আর শুধু মোটা হচ্ছে। এমন অলস বাচ্চা একদমই পছন্দ নয় আদ্রিতার।
আবরার সিগারেট ধরালো। ঠোঁটের ভাজে গুঁজে কিছু মুহুর্ত চোখ বন্ধ করে রাখলো।
তারপর যখন চোখ খুললো দেখতে পায় আদ্রিতা টিশার্ট খুলে ফেলেছে। মানে রুমের মধ্যেই চেঞ্জ করছে। এ্যানিকে দেখা গেলো মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে পড়েছে।
হার্টবিট বেড়ে গেলো আবরারের। ঘন ঘন টান দিতে থাকলো সিগারেটে। ততক্ষণে চেঞ্জ করা শেষ মেয়েটার।
আসলে পড়ে থাকা টিশার্টে ময়লা লেগে গিয়েছিলো।
তারপর বড় বড় চুল গুলো হাত খোপা করে কেয়ার ক্লিপ দিয়ে আটকে নিলো।
এবার মুখে একটুখানি ক্রিম মেখে বিছানায় গা শুয়ে পড়লো।
অন্ধকার ভয় পায় বলে লাইট অফ করলো না।
ঘুমাতে গিয়েও ঘুমালো না মেয়েটা। নিজের ফোন খানা হাতে নিয়ে কল করলো আবরার তাসনিন এর নাম্বারে।
কিন্তু রিসিভ করা হলো না।
বড্ড অভিমান নিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।
এই যাত্রায় মনিটর বন্ধ করে দিলো আবরার।
আধখাওয়া সিগারেট ছুঁড়ে ফেললো অজানা উদ্দেশ্যে।
বিরবির করে বললো
“আই মিস ইউ সো মাচ পাখি
সুইজারল্যান্ড এর রাস্তা সব সময়ই ভীষণ পরিষ্কার এবং নিরাপদ। যানযট কিংবা হট্টগোল কখনোই থাকে না। স্মুথলি গাড়ি এবং মানুষ চলাচল করতে পারে। আজকে শীত একটুখানি বেশি হওয়াতে রাস্তা একদম ফাঁকা।
তাছাড়া রাত আনুমানিক ১২ টা বেজে ৫ মিনিট। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। সোডিয়ামের আলোতে দিনের মতো স্পষ্ট সবকিছু।
মাঝরাতে বাইক চালাতে বেশ ভালো লাগে আবরারের। তাছাড়া ঘুম আসছে না। তাই কালো রংয়ের বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। রেইন কোড কিংবা শীতের পোশাক পড়ে নি।
শুধু সাদা রংয়ের শার্ট তাও বুকের বোতাম খোলা এবং কালো রংয়ের শর্ট প্যান্ট। মাথায় হেলমেট হাতে মোজা।
জুরিখ নদীর পাশ দিয়ে বয়ে চলা রাস্তা ধরে ফুল স্পিডে বাইক চালাচ্ছে। হঠাৎ করে কোথা থেকে একটা প্রাইভেট কার এসে বাইকের সঙ্গে ধাক্কা লাগায়।
বাইক থেকে কয়েক হাত দূরে ছিটকে পড়ে যায় আবরার। হেলমেট ছিলো বিধায় খুব বেশি চোট পেলো না। তবে হাঁটু এবং বুকে কে/টে গেলো অনেকটাই।
গাড়ি থেকে নেমে আসলো মুখোশ ধারি পাঁচটা ছেলে।
হাতে হকিস্টিক। সারি সারি দাঁড়ালো আবরারের সামনে। এবং বললো
“তাসিন
ইউ আর ফিলিংস
আবরার ঠোঁট বাঁকালো।
” কে পাঠিয়েছে তোদের?
ছেলেটা জবাব দিলো না। এটিটিউট নিয়ে এগোতে লাগলো আবরারের দিকে।।
আবরার পকেট থেকে রিভেলবার বের করতে করতে দাঁত চেপে বলে
” আই ফাক ইউওর এটিটিউট
বলেই শুট করে এগোতে থাকা লোকদের বুক বরাবর।
মুহুর্তেই সে পড়ে গেলো মাঝরাস্তায়। বাকি চারজন পেছালো।।
আবরার আবার জিজ্ঞেস করলো
“কোন বাস্টার্ড পাঠিয়েছে তোদের?
স্পিক আপ
শেষের কথাটা চিল্লায়ে বললো।
তবুও কেউ জবাব দিলো না। রাগ কন্ট্রোলে আনতে না পেরে আরেকটা ছেলের বুকে গুলি করলো।
দু’জন পালিয়ে গেলো।
দাঁড়িয়ে রইলো ধবধবে সাদা বর্ণের একটা ছেলে। আসলে সে পালানোর কথা বেমালুম ভুলেই গিয়েছে। আবরার এই ছেলেটিকে শেষবারের মতো জিজ্ঞেস করলো
” কে পাঠিয়েছে?
ছেলেটা শুকনো ঢোক গিলে বললো
“প্রিন্সেস গ্রিলি
এই ছেলেটিকেও মে/রে দিলো আবরার। বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকালো। প্রচন্ড বিরক্ত সে।
তারপর আহত শরীর টেনেটুনে তুলে বাইকের কাছে গেলো। তেমন ক্ষতি হয় নি।
তবে মাথার দিকটা ভেঙে গেছে।
আধভাঙা বাইক নিয়ে বাসায় উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
আমান আহাদ সিয়াম ইভান বড়ই বিপদে রয়েছে। একটা রোবটের সঙ্গে ওদের উঠে বসা। সে না কথা বলে, আর না একটু হাসে।
কখন কি করবে না করবে কিছুই বুঝতে পারে না ওরা।
যেমন গতকাল মাঝরাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছে।
এবং সকালে যখন সবাই ঘুম থেকে উঠলো তখন দেখতে পায় আহত আবরার ড্রয়িং রুমে বসে আছে। ক্ষতস্থান দেখেই বোঝা যাচ্ছে বাইক এক্সিডেন্ট করেছে।
এটা নিয়ে সিয়াম হাজার খানা বকা দিলো, ড্রেসিং করে ওষুধ লাগিয়ে দিলো
কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না রোবট আবরার।
এখন কানে হেডফোন গুঁজে রিলাক্স এ মনিটরে গেমস খেলছে। অথচ একটু পরে ওদের অফিসে বেরোতে হবে। সিঙ্গাপুর থেকে ক্লাইন্ট আসবে তাদের সঙ্গে বিজনেস ডিল সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। যদিও গতকাল একটা ফাইল আমানের হাতে তুলে দিয়েছে আবরার।
তারপরও তো তার কিছু দায়িত্ব থাকে।
এটা নিয়ে শুধু সিয়ামেরই আক্ষেপ।
বাকিরা ঠিকঠাকই নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে।
এরই মধ্যে কলিং বেল বেজে ওঠে। এমন সাত সকালে কে আসতে পারে ধারণা নেই কারোরই।
ইভান এবং আহাদ ব্রেকফাস্ট বানাচ্ছে। ইভান ডিম পোঁচ আহাদ ব্রেড ভেজে নিচ্ছে।
আমান শসা টমেটো কাটছে। আর সিয়াম চিজ গ্রেট করছে।
ইতিমধ্যেই আবরারে জন্য ব্ল্যাক কফি রেডি করা হয়েছে।
বাকিদের জন্য দুধ কফি।।
কলিং বেল এর আওয়াজ পেয়ে আমানই দরজা খুলতে গিয়ে যায়।
দরজা খুলে দেখে সুন্দরী একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও এর আগেও মেয়েটা এসেছিলো কয়েকবার। টনির মেয়ে টিশা। তবে মেয়েটা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে সে খুব ভালো। ফ্যাশন ডিজাইনার হতে চাই।
এটা নিয়ে পড়ালেখাও করেছে। এখন আবরারে কোম্পানিতে জবের জন্য এপ্লাই করছে। সিলেক্টও হয়েছিলো। তবে কি কারনে তাকে জয়েন করতে দেওয়া হয় নি আমান জানে না। অবশ্য জানার চেষ্টাও করেনি
মেয়েটিকে দেখে মিষ্টি করে হেসে বলল
“কি চাই?
মেয়েটিও একটু হাসার চেষ্টা করলো। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে
“অ্যাকচুয়ালি আমি আপনাদের অফিসে জবের জন্য এপ্লাই করেছিলাম। সিলেক্টও হয়েছে
বাট আমাকে জয়েন করতে দেওয়া হয়নি।
আমি আসলে কারণটা জানতে চাই। যদি কোনো ভুল থাকে সেই ভুলগুলো শুধরে নেবো।
তখনই সিয়াম চলে আসলো।
পা থেকে মাথা পর্যন্ত পরখ করে নিলো মেয়েটার।
“ভুল তো তোমার ড্রেসআপে।
সুয়েটার পড়েছো অথচ পায়জামা পরো নাই।
ঠ্যাং এ কি ঠান্ডা লাগে না?
বাংলা খুব বেশি জানে না টিশা। তার জন্মস্থান সুইজারল্যান্ড। তবে বাবা বাংলাদেশী হওয়ার সুবিধার্থে টুকটাক বাংলা শিখেছে। সিয়ামের কথার মানে সে বুঝতে পারল না।
তাই বলল
” স্যরি স্যার
আমি আসলে আপনার কথা বুঝতে পারিনি।
সিয়াম পুনরায় বলতে চাচ্ছিলো তবে ওকে থামিয়ে আমান বলে
“আপনি আমার ফোন নাম্বারটা সেভ করে নিন।
অফিসে গিয়ে আমায় কল করুন আমি আবরারের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট কে জানিয়ে দেবো। সে আপনাকে জয়েন করতে দেবে।
খুশি হলে টিশা।
থ্যাংক ইউ বলে চলে গেলো। আমান তাকিয়ে রইল খানিকক্ষণ।
চতুর সিয়াম বুঝতে পারলো ডাল মে কুচ কালা হে। প্রাণপ্রিয় বন্ধু যে প্রেমে টিমে পড়ে যাচ্ছে আন্দাজ করতে পারলো।
তারপর বললো
“ফর্সা ঠ্যাং দেখে প্রেমে পড়লি?
না কি ঠ্যাং এ শীত লাগে না এটা দেখে ফিদা হলি?
আমান দাঁতে দাঁত চেপে জবাব দিল
“তোর মতো বলদের কথা বুঝতে পারেনি এটা দেখে প্রেমে পড়েছি।
বলেই চলে গেল।
অসহায় সিয়াম একখানা কবিতা আবৃত্তি করতে ভুললো না
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৪৩
” বন্ধু আমার হয়েছে পর
কালনাগিনীর ফাঁদে পড়ে
কয়দিন পরে চিনবে না আমায়
কালনাগিনীকে বিয়ে করে
আমি সিয়াম বড়ই সরল
বুঝি না কোনো কথা
ওরেহহহ তোরা কোথায় আছিস
আমান শালাকে থামা
