তোমার আমার গল্প পর্ব ৩৩
noorayn
১ মাস পর…
সেদিনের পর কেটে যায় একটা মাস। আহমেদ ফ্যামিলি ৩ দিন থেকেই চলে যায় নিজেদের ঠিকানায়। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো নোমান কোনো ঝামেলা করেনি বরং করিডোরে আলিশার সাথে কথা হওয়ার ১ ঘন্টা পরই কাজের বাহানা দিয়ে বিদায় নেয় খান বাড়ি থেকে। তার এমন হঠাৎ চলে যাওয়াতে বেশ অবাক হয়েছিলো সকলে তবে কেউ না বুঝলেও তার মা রিনা আহমেদ ঠিকি বুঝেছিলেন ছেলের মনের অবস্থা তাইতো না আটকিয়ে যেতে দিয়েছিলো তার নিজের গন্তব্য – যেখানে থাকবেনা শখের নারীর কোনো অস্তিত্ব।
–সবাই ভালোবাসা ছিনিয়ে নিতে জানেনা…
কিছু মানুষ শখের নারীর সুখেই,
নিজের না-পাওয়াটুকু মেনে নেয়।
কারন তারা জানে…
~ ভাগ্যর খাতায় নেই যার নাম লেখা,
তাকে শত ভালোবেসেও যায় না নিজের করা।–
নোমান বুঝে গিয়েছিলো ভালোবাসার মানুষটার সুখে সুখী হওয়াতে এক আলাদা আনন্দ আছে। সব ভালোবাসা পূর্নতা পায়না – কিছু ক্ষেত্রে অপূর্নতা শান্তি বয়ে আনে। থাকুক না নোমান এক ব্যার্থ প্রেমিক হয়ে।
এই একমাসে বদলেছে অনেককিছু।
আরহাম-আলিশার জীবনের গতি যেন এখন এক ভিন্ন ধারায় চলছে। সকালের শুরু থেকে রাতের শেষ প্রহর পর্যন্ত কাটে “ওয়া ওয়া” শব্দে।
আলিশার ক্লাস শুরু হয়েছে বিগত ১৫ দিন আগে। এতমাস পর আবারো নিজের শিক্ষাপ্রাঙ্গনে ফিরতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে তার – ছোট্ট ডোরা মাকে ছাড়া এক মুহুর্ত থাকতে চায়না। বেশকিছুক্ষন মাকে না দেখলেই শুরু হয়ে যায় কান্না।
নানি-দাদির সাথে থাকলেও একটু পরপর নজর ঘুরিয়ে যেন নিজের মাম্মা-পাপাকে খোজে।
নিজের আগের জীবনে ফিরবে বলে উৎসাহিত আলিশাও শেষ মুহুর্তে এসে হুহু করে কেঁদেছিলো ডোরাকে রেখে যাবে বলে।
কিশোরী বয়সের উড়নচণ্ডী আলিশা যেন হঠাৎ করে একজন পরিপূর্ণ মা হয়ে উঠলো।
এতমাস পর আবারো ঘর থেকে বেরুবে তাও এতো চেঞ্জেস নিয়ে। আগে ছিলো নিজে বাচ্চা এখন হয়ে গেলো বাচ্চার মা!
যদিও দিহান এবং মিথি ব্যাতিত এই বিষয়ে কেউ জানেনা কিন্তু তার অন্তর তো জানে সত্যিটা।
সব মিলিয়ে বেশ নারভাস ছিলো আলিশা – তার এমন কঠিন সময়ে পাশে ছিলো আরহাম, সে যথেষ্ট সাহস জুগিয়েছে আলিশাকে। শুরুর দিনগুলাতে হিমশিম খেলেও এখন আগের মতোই বাইরের পরিবেশে নিজেকে এডজাস্ট করতে সক্ষম হয়েছে আলিশা।
তবুও বাইরে গেলে মন যেন তার ঘরে পড়ে থাকে। তার ছোট্ট ছানাটা কি করছে, খেয়েছে কিনা এসব ভাবতে ভাবতে কতশত কল দিয়ে ফেলে সবাইকে। যদিও তার অনুপস্থিতিতে আরহাম ডোরার কাছে থাকে বলে সে কিছুটা চিন্তামুক্ত থাকতে পারে।
আরহাম-আলিশার একটা ডিল হয়েছে – দুজন মিলেই ডোরার খেয়াল রাখবে। যখন আলিশা বাহিরে থাকবে তখন আরহাম বাড়িতে ডোরার কাছে থাকবে এবং যখন আরহাম বাহিরে থাকবে তখন আলিশা বাড়িতে থাকবে। যদিও আরহামই বেশিরভাগ সময় বাহিরে থাকে আর আলিশা তো ক্লাস না থাকলে ডোরাকে একা ছাড়েনা বললেই চলে কারন ডোরাকে এখনো ফর্মুলা মিল্কে অভ্যস্ত করে তুলতে পারেনি কেউ। ফর্মুলা মিল্ক মুখে দিলেই একটু পরে সব বমি করে ভাসিয়ে দেয়।
আলিশা বাইরে গেলে ব্রেস্ট পাম্প এর সাহায্যে ফিডারে খাবার রেখে যায় ডোরার জন্য। কিন্তু তাতেও যেন হয়না আরশানের, সে মোটকথা মুখে ফিডার তুলতেই চায়না – যার জন্য বেশ বেগ পোহাতে হয় আলিশাসহ বাকি সবাইকে।
রোম শহর, ইতালি।
রাত ৯:১০….
নীলা একমনে চেয়ে আছে জানালার বাইরে, যেন জীবনের হিসাব মেলাতে ব্যাস্ত।
আরশাদ সোফাতে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে, একহাতে টাইপিং করছে এবং অন্যহাতে ধোঁয়া ওঠা গরম কফির মগ।
তার কাজের ধ্যান ভাঙলো নীলিমার কথায়। সে কি ঠিক শুনলো নাকি ভুল? তা যাচাই করতে নীলিমাকে জিজ্ঞেস করলো – “কি বললে?”
“যা শুনেছো তাই”
“আবার বলো”
“আমি বাংলাদেশ ফিরতে চাই আরশাদ।”
“ভেবে বলছো তো?”
“হুম”
“কবে?”
“যত দ্রুত সম্ভব”
“আগামী মাসে ডাক্তার ড্যানিয়েলের এপোয়েন্টমেন্ট আছে।”
“ক্যান্সেল করে দাও, দেখাবোনা।”
“নীলা, এসব কি বলছো? কতদিন ঘোরার পর ডাঃ ড্যানিয়েল এর এপোয়েন্টমেন্ট পেয়েছি, তা কি ভুলে গেছো?”
“আমি কিছু শুনতে চাইনা। যা বলেছি তাই করো প্লিজ।”
“অন্তত একবার উনার আন্ডারে ট্রিটমেন্ট নিয়ে দেখি আমরা? অনেক পজিটিভ রিভিউ দেখেছি এই ব্যাপারে। যদি এবার ভালো কিছু হয়?”
“এরচেয়েও বড় ডাক্তার দেখিয়েছি আরশাদ। প্রতিবার একি রেজাল্ট আসে আর তারপর আবার এক অন্য ডাক্তার এর পিছু ছুটা। এসব আর ভালো লাগছেনা। আমি এবার বাড়ি ফিরতে চাই।”
তোমার আমার গল্প পর্ব ৩২
“তাই বলে চেষ্টা করা ছেড়ে দেবো আমরা?”
“চেষ্টার কি আর কোনো কমতি রেখেছি?” আমি আর পারছিনা আরশাদ।” বলেই হুহু করে কেঁদে উঠলো নীলিমা।
আরশাদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে এসে নীলিমাকে নিজ বাহুদ্বরে আগলে নিলো।
“তুমিই আমার জন্য যথেষ্ট নীলা। এবার আর কোনো ট্রিটমেন্ট এর পিছু ছুটবোনা আমরা। তুমি যা বলবে তাই হবে।”
