তোমার আমার গল্প পর্ব ৩৫
noorayn
খান বাড়িতে রমরমা আয়োজন চলছে। ঘরের ছেলে-মেয়ে ফিরবে বলে কথা। দুই বছরের দূরত্বের অবসান ঘটবে, সবাই আবার একসাথে হবে। বাড়ির সবাই বেশ এক্সাইটেড – অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছেনা।
এখন প্রায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। আয়শা আর শাইনা সেই সকাল থেকে রান্নাঘরের কাজে ব্যাস্ত।
মেহরোজা আক্তার তো খুশিতে সকল আত্মীয়-স্বজনদের কল দিয়ে জানাচ্ছেন নীলা-আরশাদের ফেরার কথা।
নীলা-আরশাদ আজ রাতের ফ্লাইটে উঠবে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে। এখন তারা শেষবারের মতো সব চেক করে নিচ্ছে যাতে কোনোকিছু ছুটে না যায়।
দুজন সার্ভেন্ট লাগেজ সব একে একে লিভিং রুমে এনে রাখছে আর আরশাদ সব তদারকি করছে।
নীলা পুরা বাড়ি ঘুরে ঘুরে দেখছে – বড্ড মায়া এই বাড়িতে। কতশত স্মৃতি এখানে। ছোট থেকে এখানে বড় হয়েছে তারা। তারপর সবাই মিলে বাংলাদেশ শিফ্ট হওয়াতে ছাড়তে হয়েছিলো বাড়িটা, ছাড়ার সময় তার আর আলিশার সেই কি কান্না – মনে পড়তেই আলতো হাসি খেলে গেলো তার ঠোঁট জুরে। দুইবছর আগে ট্রিটমেন্ট এর উদ্দেশ্যে আবার আসা হয়েছিলো এই চিরচেনা জায়গায় কিন্তু আজ আবারো ছেড়ে যেতে হবে সব।
কেউ না থাকলে এই বাড়ি ফাঁকা পড়ে থাকে। কেয়ারটেকার মাঝে মধ্যে এসে সব দেখেশুনে যায়।
মাঝে মধ্যে ইজাজ খান এবং নিয়াজ খান ব্যবসার কাজে ইতালি আসলে এখানে থাকা হয় তাদের।
নীলার ভাবনার মাঝেই ডাক পড়লো আরশাদের –
“ডেকেছো?”
“হুম, লাগেজ সব নামিয়ে রেখেছি আর বাকিসব ঠিকাছে কিনা তুমি দেখে নাও”
“আচ্ছা”
“মন খারাপ?”
“একটু”
“কেন?”
“সব ছেড়ে যেতে মায়া লাগছে তবে যেতে হবে”
“তুমি চাইলে আমরা থেকে যেতে পারতাম”
“তা হয়না আরশাদ। আমাদের পরিবারের সবাই আমাদের পথ চেয়ে আছে আর আমরাও সবাইকে কত মিস করেছি। এভাবে একলা থাকা যায়না।”
“সময় নিতে পারতে।”
“যে কাজের জন্য এসেছিলাম তা হয়নি তবে আর কিসের টানে এখানে থাকবো?”
আরশাদ কেবল চেয়ে থাকলো নীলিমার দিকে। তাকে শান্তনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষা খুজে পেলোনা।
নীলিমা খেয়াল করে দেখলো আরশাদের চোখ লাল হয়ে আছে। নিজের উপরই রাগ লাগলো তার, কি দরকার ছিলো এসব কথা তোলার?
সে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বলে উঠলো –
“আমাদের আরহাম-আলিশার ছোট্ট সোনার জন্য যা যা আনতে বলেছিলাম তা সব এনেছো?”
“হুম”
“প্রথমবার দেখবো আমরা। অনেক এক্সাইটেড লাগছে।”
“আমারও। তবে আমার এখনো বিশ্বাস হয়না যে আমার ছোট্ট পুতুল ও মা হয়ে গেছে”
“ভাগ্না কে কোলে নিলে বিশ্বাস হয়ে যাবে”
“খুব তাড়াতাড়ি হয়ে গেলোনা সব?”
“যেমন?”
“বিয়ে তারপর বাচ্চা। দুজনেই এখনো ছোট, ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং ও নেই – কথায় কথায় ঝগড়া করে। এরা কিভাবে সংসার এবং বাচ্চা সামলাবে?”
“বেশি ভাবছো আরশাদ।”
“আমার মনে হয় দুজনের আরো সময় নেওয়া প্রয়োজন ছিলো। এতোটা আগানো ঠিক হয়নি।”
“উফ আরশাদ, নাও ইউ আর থিংকিং টু মার্চ। স্টপ বিহেভিং লাইক এ টিপিকাল ব্রাদার।”
“আচ্ছা আর বলবোনা। এবার চলো নিচে গিয়ে কেয়ারটেকার কে সব বুঝিয়ে দাও।”
“চলো।”
আলিশা আজ অনেকগুলা শপিং করেছে।
বিকালে ডোরাকে ঘুম পাড়িয়ে আরহামের সাথে গিয়েছিলো শপিং মলে। বাড়ি থেকে মল কাছে হওয়াই ডোরাকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার দাদির কাছে রেখে যাওয়ার সাহস করেছিলো।
যদিও খুব একটা সময় তাদের লাগেনি। ডোরার ঘুম থেকে ওঠার আগেই চলে এসেছিলো তারা।
আলিশা আজকের শপিং করা ড্রেসগুলা ট্রায়াল দিচ্ছিলো একে একে। এখন একটা পিংক কালারের ফ্রক পড়ে আয়নায় নিজেকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে।
আরহাম ডিভানের উপর ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে কি সব জানি বিড়বিড় করছে। ছোট্ট আরশান বাবার কোলে চুপটি মেরে থাকলেও বারবার বুকে মুখ গুজে দিচ্ছে। আরহাম বুঝতে পারলো ছেলের ক্ষুদা পেয়েছে তাই আলিশা কে ডাক দিলো – “এই ভোটকি, আর কত নিজেকে দেখবি? এবার তো থাম। ছেলের ক্ষুদা পেয়েছে।”
নিজেকে ভোটকি বলাতে আলিশা রেগে আরহামের দিকে তাকালো – “এই তুই ভোটকি কাকে বললি?”
“তোকে।”
“কেন বললি? আমি আগের থেকে অনেক ওয়েট লস করেছি। এখন আর মোটা লাগেনা তাও তুই ভোটকি বললি কেন?”
“মন বলেছে তাই। আর মন যা বলে তা শুনতে হয়।”
“আমি আর কোনো কথাই বলবোনা।”
“সত্যি? আলহামদুলিল্লাহ।”
“এভাবে বলতে পারলে?”
“পারলাম। ছেলেকে নে।
আলিশা ডোরাকে কোলে নিয়ে বেডে বসে ফিডিং করাতে লাগলো। কিছুক্ষন পর ডোরা ঘুমিয়ে গেলে তাকে সাবধানে দোলনায় শুইয়ে দিলো।
আলিশা আবার ড়্রেস ট্রায়াল দেয়া শুরু করেছে। এবার হোয়াইট কালারের একটা শার্ট পড়েছে।
তোমার আমার গল্প পর্ব ৩৪
“এই দেখো, আমায় কেমন লাগছে?”
আরহাম না তাকিয়েই উত্তর দিলো – “সুন্দর”
“তুমি তো দেখলেই না।”
“না দেখলেও জানি তোকে কেমন লাগছে।”
“কেমন?”
“বোরিং। এবার সর, কাজ করতে দে।”
আরহামের উত্তর শুনে আলিশা রেগে গেলেও রিয়েক্ট করলোনা বরং মনে মনে ভেবে নিয়েছে কিভাবে আজ রাতে এই গন্ডার কে সোজা করতে হবে।
