Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ৪৭

তোমার আমার গল্প পর্ব ৪৭

তোমার আমার গল্প পর্ব ৪৭
noorayn

আরহাম নিজের কামরার দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই আচমকা তার মুখের ওপর এসে আছড়ে পড়লো উড়ন্ত শলার ঝাড়ু!
“উফফ!” ব্যথায় কপাল কুঁচকে উঠলো তার। এক হাত দিয়ে কপাল ডলতে ডলতে সামনে তাকাতেই চোখের সামনে ভেসে উঠলো আসল অপরাধীর মুখ।
পুরো বিছানাজুড়ে খেলনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। আর সেই খেলনার মাঝখানে দিব্যি বসে আছে ছোট্ট ডোরা। শলার ঝাড়ুটি ইতোমধ্যে মেঝেতে পড়ে আছে। ডোরা নিজের গুলুমুলু এক হাতের ছোট্ট তর্জনী মুখে পুরে চুষছে আবার গোলগাল মায়া মায়া নিষ্পাপ চোখে বাবার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছে ; যেন এইমাত্র ঝাড়ু ছুঁড়ে মারার ঘটনাটা সে একেবারেই জানে না।
ডোরার মুখভরা নিরীহ অভিব্যক্তি দেখে মনে হচ্ছে যাতে সে পৃথিবীর সবচেয়ে শান্ত-শিষ্ট শিশুটি।

–আরহাম একবার ডোরার দিকে তাকিয়ে আশপাশে চোখ বুলালো। পুরো রুমে কোথাও আলিশার দেখা নেই। সঙ্গে সঙ্গেই তার ভ্রু কুঁচকে গেলো।
বাচ্চাকে একা রেখে কোথায় গিয়েছে এই মেয়ে?
–আরহামের কপালটা এখনও হালকা টনটন করছে। তবুও, সে গম্ভীর মুখে ডোরার দিকে এগিয়ে যেতেই ডোরা মুহূর্তেই নিজের গুলুমুলু দু’হাত বাবার দিকে বাড়িয়ে দিলো যার অর্থাৎ সে এখন বাবার কোলে যাবে।
“বা…বা…ব্বা… কুলে দাইইই…”
আরহাম মুখে গাম্ভীর্য বজায় রেখে ডোরাকে কোলে তুলে নিলো। তারপর আলতো করে ডোরার পশ্চাৎদেশে এক চাপড় দিয়ে বলল –
“ছোট মরিচের ঘরের ছোট মরিচ! তুই আবার আমাকে মারলি? তাও কিনা শলার ঝাড়ু দিয়ে?”
“চলা মাচ্চি?”
“এই পটকা! তুই দোষ করে আবার স্বীকারও করছিস? এত্ত সাহস তোর? বাপকে মারিস?”
ডোরা তার ফোলা ফোলা গাল দুটো আরও ফুলিয়ে বাবার দিকে মায়া মায়া চোখে চেয়ে বললো –
“বা…ব্বা…”
“দেখ ছোট মরিচ, একদম ভোলাভালা চেহারা বানাবি না ; তুই তা একটুও না। তুই তোর মায়ের মতো বজ্জাত হয়েছিস।”
ডোরা কৌতূহলী চোখে জিজ্ঞেস করলো –

“মাম…মা বুডাট?”
“হ্যাঁ, তুইও বজ্জাত, তোর মাও বজ্জাত।”
ডোরা এবার নিজের দুই হাতের তালু একবার মুঠো করে ধরে আবার পরক্ষনে তা খুলতে খুলতে বললো –
“মাম বুডাট… দোরা বুডাট… বা…ব্বা বুডাট…”
“এই ঢোলের বাচ্চা! আমাকে টানিস কেন?”
নতুন শব্দ কানে আসতেই ডোরা চোখ গোলগোল করে ফেললো।
“ডোল?”
“হ্যাঁ, তুই ঢোল। এখন তোকে বাজাবো।”
“দোরা ডোল?”
“হ্যাঁ ছোট ঢোল।”
“দোরা ডোল, বা…ব্বা ডোল তব ডোল ডোল…”
ছেলের মুখে নিজেকে ঢোল শুনে আরহামের চোখ মুখ কুঁচকে গেলো।
বাপ-ছেলের ঝগড়ার মাঝেই, আলিশা ওয়াশরুম থেকে ভেজা মুখ তোয়ালে দিয়ে মুছতে মুছতে বেরিয়ে এলো। সে একপলক বাপ-ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখলো – ডোরা বাবার গালে ছোট্ট হাত রেখে নিজের মতো আধো আধো গলায় বকবক করছে আর আরহামও সমান তালে তার সঙ্গে তর্ক জুড়ে দিয়েছে।
দৃশ্যটার দিকে একবার চেয়ে আলিশা নির্বিকারভাবে দৃষ্টি সরিয়ে ফেললো। সে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি বরং হাতে থাকা ভেজা টাওয়াল মেলে দিতে এগিয়ে গেলো ব্যালকনির দিকে।

–আরহাম এতক্ষন যাপত আলিশার কার্যকলাপ খেয়াল করছিলো। এবার তার চোখ এবার গিয়ে থামলো আলিশার মুখে ; চোখ দুটো অস্বাভাবিক রকম ফুলে আছে, পাপড়িগুলোও লালচে। মুখ ধুয়ে এলেও কান্নার ছাপ স্পষ্ট বিদ্যমান।
সবটা পরখ করতেই আরহামের ভ্রু কুঁচকে গেলো ; এই ধানিলঙ্কার আবার কি হয়েছে?
সে আলতো করে ডোরাকে বিছানায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা খেলনাগুলোর মাঝে বসিয়ে দিয়ে ধীর পায়ে আলিশার দিকে এগিয়ে গেলো।
আরহামকে কাছে আসতে দেখেও আলিশা নির্বিকার। সে নিজের মতো ডোরার খেলনাগুলা একে একে বাস্কেটে ভরতে ব্যাস্ত।
আরহাম আলিশার পেছন থেকে কোমর জড়িয়ে ধরে নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করলো –
“কি হয়েছে? কেঁদেছিস কেন?”
আলিশা কোনো উত্তর দিল না। চুপচাপ আরহামের হাত সরিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো।
আরহাম এবার আলিশার কবজি আলতো করে ধরে আবারও প্রশ্ন করলো –
“কিছু জিজ্ঞেস করেছি। উত্তর দিবি?”
“কিছু হয়নি।”
“তাহলে কেঁদেছিস কেন?”
আলিশা ঠোঁট চেপে কয়েক সেকেন্ড নীরব থেকে নির্বিকার কন্ঠে বললো –
“মন চেয়েছে, তাই।”
“লিশা…”

আরহাম আবারও আলিশার কোমরে হাত রাখতে যেতেই আলিশা তার হাতটা মাঝপথেই থামিয়ে দিলো।
“বোনের গায়ে এভাবে বারবার হাত দিতে নেই।”
কথাটা শুনে আরহামের চোয়াল যেন ঝুলে পড়লো।
“হোয়াটটট? বোন! আমি কি ঠিক শুনেছি? আবার বল!”
আলিশা নির্বিকার গলায় একই কথা পুনরাবৃত্তি করলো।
“বলেছি, বোনের গায়ে এভাবে হাত দিতে নেই।”
আরহাম অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে রইলো।
“আলিশা… কি বলছিস বুঝে বলছিস তো? এমন মজা আমি পছন্দ করি না।”
“আমি মজা করছিনা…”
আরহাম রাগে নিজের চুল মুঠো করে খামচে ধরলো। তারপর বিছানায় খেলা করতে থাকা ডোরার দিকে আঙুল তুলে দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে বললো –
“তোকে যদি সত্যিই বোন মনে করতাম তাহলে আরশান পৃথিবীর আলোই দেখতো না।”
আলিশা কোনো উত্তর দিলো না। মুখ ফিরিয়ে নীরব দাঁড়িয়ে রইলো।
আরহাম এবার আলিশাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে তার চোয়াল চেপে ধরলো।

“এমন করার কারণ কি?”
আলিশা সঙ্গে সঙ্গে তার হাত সরিয়ে দিলো।
“সমস্যা কি তোমার? দূর থেকে কথা বলা যায় না?”
আরহামের ধৈর্যের বাঁধ যেন ভেঙে গেছে।
“ফাক ইউ! সাহস কি করে হয় আমাকে দূরে থাকতে বলার?”
আলিশার চোখদুটো রাগে জ্বলে উঠলো। সেও দমে না গিয়ে পাল্টা জবাব দিলো।
“সাহস কি করে হয় আমার অনুমতি ছাড়া প্রেস কনফারেন্সে আমার নাম নেওয়ার?”
“ইউ আর মাই ওয়াইফ। আমার অধিকার আছে।”
“আমি আলিশা তোর অধিকারের কাথা পুড়ি।”
আরহামের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো।
“মাইন্ড ইউর ল্যাঙ্গুয়েজ মিসেস খান।”
“মাইন্ড ইউর ওন লিমিট, মিস্টার খান।”
“তুই..”
“হাত ছাড়ো আমার।”
“ছাড়ব না। কি করবি?”
“আমার যা ইচ্ছা তাই করবো।”
কথা শেষ করেই আলিশা জোরে একটা ধাক্কা দিলো তাকে। আরহাম এক পা পিছিয়ে গেলেও ভারসাম্য হারালো না।

“লিশা..কথাটা শুন আগে…”
“বাহ! তোর কথা শুনব আমি, তোর ইচ্ছেমত চলবো আমি, তোর বাচ্চা পালব আমি…কেন? সবার সামনে গিয়ে আমার অনুমতি ছাড়া আমাকে বোন দাবি করার জন্য?”
আরহাম এবার বিরক্ত গলায় বললো –
“বোন বলিনি আমি। শালার জিন্দেগী, মেয়ে মানুষ সব কথা দুই লাইন বাড়িয়ে বুঝে।”
“তুলনা করিসনি?”
“না, করিনি। আমি শুধু বলেছি ; তোর সঙ্গে যেমন ছবি আছে, নীলার সঙ্গেও তেমন ছবি আছে। এর বেশি কিছু না। এমনটা না করলে ব্যাপারটা ধামাচাপা দেওয়া যেতোনা।”
“আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলে? আচ্ছা জিজ্ঞেস করাও নাহয় বাদ দিলাম। এট লিস্ট, তুমি আমায় ইনফর্ম করতে পারতে আরহাম।”
“পরে জানাতাম আমি।”
“সেই পরে’টা কখন আরহাম? প্রেস কনফারেন্স শেষ হওয়ার পরে? যখন পুরো দুনিয়া জেনে যাবে, তখন?”
“কথা এত বাড়াচ্ছিস কেন, লিশা? জাস্ট ফরগেট ইট।”
কথা শেষ করেই সে আলিশাকে জড়িয়ে ধরতে এগিয়ে গেলো। তবে, আলিশা এর আগেই দুই কদম পিছু সরে কোনো দ্বিধা ছাড়াই সে আহ্বান প্রত্যাখ্যান করলো।

“আমার একদম কাছে আসবিনা তুই। সর এখান থেকে।”
“এসব কেমন ধরনের ব্যাবহার আলিশা? ছোট মাকে গিয়ে বলবো সব?”
“যেমন ব্যবহার তুই ব্যাটা ডিজার্ভ করিস এটা তেমনই ব্যাবহার। আর শুধু তোর ছোট মা কেন? আজ তোর চৌদ্দ গুষ্টি আসলেও আমি আলিশা মানবোনা।”
একটু থেমে আলিশা আবারও বললো –
“আজ থেকে তোর সব কাজ তুই নিজে করবি, তোর বাচ্চাও তুই নিজে পালবি…আর আর…”
আরহাম ঢোক গিলে জিজ্ঞেস করলো – “আর কি?”
“আজ থেকে তুই নিজের সাথেই নিজে শুবি। আমি আলিশা তোর ধারের কাছেও ঘেষবনা।”
“বেয়াদবি করছিস কেন?”
“কারন, আমি বেয়াদবের বউ বেয়াদবিনী।”
আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বললো –
“ব্যাস! অনেক হয়েছে আর না।”
“চুপ, একদম চুপ। তোর হাতের পুতুল পেয়েছিস আমাকে? যাকে তুই যখন খুশি যেভাবে খুশি চালাবি?”
আলিশা না থেমে এক নিঃশ্বাসে বলেই চললো –
“আজ থেকে আরশানের সব দায়িত্ব তোর একার। তোর বাচ্চা আমি একা কেন পালবো? তোর কোনো দায়িত্ব নেই?”

“বাড়ি ফেরার পর ওকে আমিই দেখি।”
“এখন থেকে সারাদিন তুই’ই দেখবি।”
“আমার কাজ থাকে অনেক।”
“আমার থাকে না? আমি কি একটু অবসর সময় পাই নিজের জন্য? আমি মা হয়ে না পেলে আজ থেকে তুই বাপ হয়েও তা পাবিনা। এটাই তোর শাস্তি।”
“আলিশা! স্টপ ইট।”
“এই, চুপ! কাকে ‘স্টপ’ বলছিস? তোকে এমন শিক্ষা দেবো, এমন টাইট দেবো ; যাতে পরেরবার এমন কিছু করার আগে দশবার ভাবিস।”
আরহামের ধৈর্যের বাঁধ এবার প্রায় ভেঙে গেলো।
“বেশি হয়ে যাচ্ছে এখন। আমি রেগে গেলে কিন্তু তোর জন্য ভালো হবে না।”
আলিশা আর কোনো উত্তর না দিয়ে ডোরাকে কোলে তুলে কিছুক্ষণ আদর করলো। তারপর একেবারে আরহামের কোলে দিয়ে দিলো।
“আমার বাচ্চাকে সামলে রাখবি। ও যেন না কাঁদে। একটু পর খাইয়ে দিবি, তারপর ফ্রেশ করিয়ে ঘুম পাড়াবি। আমি গেলাম।”
আরহাম ভ্রু কুঁচকে তাকালো।

“গেলাম মানে? কোথায় যাবি তুই?”
আলিশা একবারও পেছনে না তাকিয়ে জবাব দিলো-
“আমার রুমে। আজ থেকে সেখানেই থাকবো। কোনো ‘কাজিন’ নামক পরপুরুষের সঙ্গে এক রুমে থাকব না।”
আরহাম কিছু বলার আগেই আলিশা আবারও তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে উঠলো – “আমি বলেই এই ব্যাটার সংসার করছি। অন্য কেউ হলে সে কবেই লাথি মেরে চলে যেতো।”
কথা শেষ করেই সে হনহন করে বেরিয়ে গেলো সেখান থেকে।
আরহাম প্রতিবাদ করার সুযোগই পেল না। ঠিক তখনই নিজের কোলে গরম গরম কিছু অনুভব করলো। নিচে তাকিয়ে বুঝতে তার এক সেকেন্ড সময়ও লাগল না ; ডোরা দিব্যি তার কোল ভিজিয়ে দিয়েছে।
সে অসহায় মুখে ছেলের দিকে তাকিয়ে শুধালো –

“এইটা কি করলি?”
ডোরা একমনে আঙুল মুখে পুরে চুষছে ; সেই সাথে নিজের গুলুমুলু পা দাপাচ্ছে।
“চিচি…কুচ্চিইই..”
“আমার কোলেই কেন করলি?”
ডোরা নিষ্পাপ মুখে বাবার দিকে তাকিয়ে বললো –
“বা…ব্বা কুল চিচি..”
বলেই আবার হাত-পা ছুড়তে লাগলো। তাকে দেখে মনে হচ্ছে, যেন সে বাবার কোল ভাসিয়ে বড্ড খুশি।
ডোরার হাত-পা দাপাদাপির জন্য আরহামের তাকে কোলে ধরে রাখতে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে।
“এই ব্যাটা, থাম! এমন বাইন মাছের মতো লাফাচ্ছিস কেন?”
ডোরা আরও উৎসাহ নিয়ে আধো আধো স্বরে বললো –
“দোরা… চিচি…”
“হুম, তুই শিশি, তোর মা শিশি, তোর নানাও শিশি।”
“বা..ব্বা চিচি..”
আধো আধো স্বরে কথাটি বলেই ডোরা বাবার গালে নিজের ছোট্ট জিহ্বা ছুঁইয়ে আদর করে দিলো।
আরহাম মুখ কুঁচকে বললো –
“একদম লালা লাগাবি না। ব্রাশ ট্রাশ তো কিছু করিস না।”
ডোরা বিস্মিত চোখে তাকিয়ে বললো – “বাশ?”
“হ্যাঁ, ব্রাশ করেছিস আজ?”
ডোরা গুলুমুলু হাত নেড়ে মাথা ঝাঁকিয়ে বললো –
“দোরা বাশ নাই…বাশ না..ন্নাই..”
“ডোরার ব্রাশ আছে।”
আরহাম এবার নিজের ভেজা প্যান্টের দিকে তাকিয়ে ছেলেকে ওয়াশরুম নিতে নিতে বললো –
“চল, আগে বাপ-ব্যাটা ফ্রেশ হয়ে আসি।”
তারপর আবার, কড়া গলায় শাসানোর ভঙ্গিতে বললো –
“ছোট মরিচ, তুই ভালো করে শুনে রাখ ; আর কোনোদিন আমার কোল ভাসাবি না।”
ডোরা যেন কিছুই শোনেনি। সে নিজের মনেই গুনগুন করে চলেছে –
“বাশ নাই… দোরা বাশ না..ন্নাইই…”
“চল, আজ তোকে ব্রাশের মধ্যে চুবিয়ে মারবো। তোর ইঁদুর ছানার মত দাঁত সব ফেলে দেবো।”

রাত প্রায় দশটা…
সন্ধ্যার সেই উত্তপ্ত পরিবেশের পর এখন খান বাড়ির পরিস্থিতি এখন অনেকটায় শান্ত। কারও মুখে কোনো কথা নেই ; সন্ধ্যার পর সকলেই যে যার নিজের কাজে ব্যাস্ত ; যেন নিজেদের ব্যাস্ততার মাধ্যমে সব ভুলে থাকতে চাচ্ছে।
নিজের কামরার বিছানায় নিশ্চুপ হয়ে শুয়ে আছে আলিশা। চোখ দুটো ছাদের দিকে স্থির অথচ মনটা কেমন অশান্ত হয়ে আছে।
প্রায় দুই ঘণ্টা হয়ে গেছে সে আরশানের কাছে যায়নি। একবারও ছেলেটাকে কোলে নেয়নি, গালে চুমু খায়নি, এমনকি দূর থেকে উঁকি দিয়েও দেখেনি।
ভাবতেই তার বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠলো।
ডোরা কি খেয়েছে? কান্না করেছে? মাকে খুঁজেছে?
এসব ভাবতে ভাবতেই তার চোখজোড়া ছলছল করে উঠলো। এক মুহুর্তের জন্য আলিশা ভেবেছিলো ডোরাকে নিজের কাছে নিয়ে আসবে। তবে পরক্ষণেই নিজেকে শক্ত করে ফেললো সে।

–না, এবার আর দুর্বল হওয়া যাবে না। আরহামকে যদি সত্যিই দায়িত্বের বেড়াজালে বাঁধতে হয় তবে আলিশাকে কঠোর হতেই হবে।
আলিশা যখন নিজের ভাবনায় মগ্ন ঠিক তখনই দরজায় মৃদু টোকা পড়লো।
“আলিশা মা, আসবো?”
বাবার কণ্ঠ শুনেই আলিশা দ্রুত চোখের কোণ মুছে উঠে বসলো।
“এসো, বাবা।”
নিয়াজ সাহেব ধীর পায়ে মেয়ের ঘরে প্রবেশ করলেন। মেয়ের মুখটা একবার গভীরভাবে দেখলেন। সেই চেনা উজ্জ্বল হাসিটা আজ কোথাও নেই।
তিনি এসে বিছানার একপাশে বসলেন। স্নেহভরা হাতে আলিশার মাথায় হাত রাখলেন।
“আমার মায়ের কি মন খারাপ?”
আলিশা জোড়পূর্বক হেসে জবাব দিলো –
“না, বাবা।”
নিয়াজ সাহেব মৃদু হেসে মাথা নাড়ালেন।
“তবে, বাবার কাছ থেকে কথাও লুকাতে শিখে গেছে আমার ছোট্ট প্রিন্সেস?”
কথাটা শুনে আলিশার বুকটা কেমন হু হু করে উঠলো। বাবা তার সবচেয়ে ভরসার জায়গা – যেখানে সে যেকোনো আবদার জুড়ে বসতে পারে, যেকোনো অভিযোগ করতে পারে তবে পরিস্থিতি ভিন্ন তাই সে চোখ নামিয়ে কোনোভাবে বললো – “এমনটা না, বাবা আসলে…”

“মন খারাপ?”
এইবার আর মিথ্যে বলতে পারলো না আলিশা।
“হুম…”
নিয়াজ সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
“বাবা অনেক স্যরি, মা।”
আলিশা অবাক চোখে নিজের বাবার দিকে তাকালো।
“কেন? স্যরি কেন?”
নিয়াজ সাহেব মেয়ের মাথায় হাত রেখে বিষণ্ন গলায় বললেন – “এই যে এত অল্প বয়সে তোমার কাঁধে এত বড় বড় দায়িত্ব তুলে দিলাম। যে বয়সে তোমার সমবয়সী মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়, আড্ডা দেয়, নিজের স্বপ্নগুলোকে রঙিন করে সাজায় ; সেই বয়সে তুমি সংসার, সন্তান নিয়ে ব্যাস্ত।”
একটু থেমে তিনি আবারও বললেন –
“অনেক বেশি চাপ দিয়ে ফেলেছি তোমার ওপর। তাই না মা?”
আলিশা সঙ্গে সঙ্গেই বাবার হাত দুটো নিজের হাতে নিয়ে শক্ত করে ধরে ফেললো।
“না, বাবা। তুমি কেন নিজেকে দোষ দিচ্ছো? হয়তো, এটাই হওয়ার ছিলো ; পরিস্থিতির কারনে নাহয় আমার জীবনে একটু আগেই হয়েছে।”
নিয়াজ সাহেবের চোখের কোণে জল চিকচিক করে উঠলো।

“তোমার কত স্বপ্ন ছিলো, কত শখ ছিলো…সবকিছু ছেড়ে দিতে হলো। আমি যদি সেদিন ঠিক সময়ে দাঁড়াতে পারতাম, যদি নিজের মেয়ের জন্য একটু জোরে কথা বলতে পারতাম তাহলে হয়তো আজ তোমাকে এত তাড়াতাড়ি এসবের মুখোমুখি হতে হতো না। বাবাকে ক্ষমা করে দিস, মা।”
আলিশার মনটা আজ এমনিতেই ভালো নেই তার ওপর বাবার এমন কথা শুনে যেন তার বুকটা আরও ভারী হয়ে উঠলো।
“আমার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে না, বাবা। আমি সত্যিই ভালো আছি। আর তুমি থাকলে আমি আরও ভালো থাকি।”
নিয়াজ সাহেব মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন। তার ছোট প্রিন্সেসটা কবে এতো বড় হয়ে গেলো? যে মেয়ে কিছুদিন আগেও উনার কাছে এসে আবদার জুড়ে বসতো, সে মেয়েই কিনা আজ উনাকে বুঝ দিচ্ছে!
“আলিশা?”
“হুম?”
“মা, একটা কথা সত্যি করে বলবে?”
“জ্বী, বলো।”
তিনি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে গভীর দৃষ্টিতে মেয়েকে পরোখ করলেন।
“তুমি কি সত্যিই ভালো আছো?”
বাবার প্রশ্নের মানে আলিশা ধরতে পারলোনা। তাই সে হেসে জবাব দিলো – “তোমার সামনেই তো বসে আছি, বাবা।”

“আমি সেটা জিজ্ঞেস করিনি।”
তিনি মেয়ের হাতটা নিজের হাতে নিয়ে খুব ধীরে বললেন –
“আমি জানতে চেয়েছি ; তুমি কি নিজের সংসার জীবনে সুখী? আরহামের সঙ্গে কি সত্যিই ভালো আছো?”
প্রশ্নটা শুনে আলিশার হাসিটা মুহূর্তেই মিলিয়ে গেলো।
এটা কেমন প্রশ্ন? সে ভালো থাকবেনা কেন?
আলিশা কোনো উত্তর দিলো না। সে বুঝে উঠতে পারছেনা এই প্রশ্নের জবাব কি হওয়া উচিত?
“আজ যা জিজ্ঞেস করবো ; তার প্রতিটা প্রশ্নের সৎ উত্তর চাই আমার। বাবার কাছে আজ কিছুই লুকাবে না।” শান্ত কন্ঠ।
“নির্দ্বিধায় জিজ্ঞেস করো, বাবা। আমি সত্যিইটায় বলবো।”
“এই বিয়েটা নিয়ে কি তোমার এখনো কোনো আপত্তি আছে?”
“একদমই না। বিয়ের শুরুতেই আপত্তি ছিলোনা তবে আজ প্রায় আড়াই বছর পর কেন আপত্তি থাকবে?”
“সত্যি বলছো?”
“অবশ্যই। তবে তুমি এসব কেমন প্রশ্ন করছো? আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিনা।”
“আমার প্রশ্ন শেষ হয়নি।”
“আচ্ছা, আগে শেষ করো।”
“আরহাম কি তোমাকে তোমার প্রাপ্য সম্মান দেয়?”

এমন প্রশ্নে আলিশা চুপ হয়ে গেলো। সম্মান? তা আবার কি? সে আর আরহাম তো সারাদিন ঝগড়া করে ; তা আবার পরমুহুর্তে ঠিকও হয়ে যায়। সে নিজেই তো আরহামকে সম্মান করেনা। এইযে একটু আগেও তুই তোকারি করে এসেছে। তবে এসব তো আর বাবাকে বলা যাবেনা। তিনি নিশ্চয়ই বুঝবেন না তাদের মধ্যকার সম্পর্ক। তাই সে অবুঝ মনে কিন্তু দৃঢ় গলায় মিথ্যা জবাব দিলো।
“হ্যাঁ হ্যাঁ। আমাকে অনেক সম্মান করে। কেন করবেনা?”
মেয়ের উত্তরে নিয়াজ সাহেবের মনটা আগের তুলনায় কিছুটা হালকা হলো।
“আজকের বিষয়টা নিয়ে কিছু ভেবেছো?”
আজকের প্রসঙ্গে আবার কথা উঠতে আলিশার মুখটা ভোতা হয়ে গেলো। এবার সে কি বলবে? সত্যি বললে তো বাবা আবার গিয়ে যদি আরহামকে বকা শুরু করে?
তাই সে আবারও মিথ্যা জবাব দিলো।
“হ্যাঁ, আমার কথা হয়েছে আরহামের সাথে। সে এই নিয়ে খুবই দুঃখিত। আমায় কথা দিয়েছে এমন আর হবেনা আর…”
“আর কি?”
“আমরা এই বিষয়ে মিটমাট করে নিয়েছি। তবে তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আপাতত ডোরার সব দায়িত্ব তার একার উপর চাপিয়ে দিয়েছি।”

আলিশার এমন শাস্তি শুনে নিয়াজ সাহেব না চাইতেও হেসে ফেললেন।
“বাহ, খুব ভালো করেছো। তো ওই অর্কমাটা কি আমার নাতির খেয়াল রাখতে পারবে?”
“আলবাত পারবে। না পারলে, তুমি আমি মিলে গন্ডারটাকে সোজা করবো।”
নিয়াজ সাহেব এবার আর হাসতে গিয়েও হাসলেন না।
“আলিশা?”
“হ্যাঁ, বলো।”
“আমি কিছু বলতে চাচ্ছি তোমাকে। আশা করি, বাবাকে ভুল বুঝবে না।”
“সেই কবে থেকেই তো বলবো বলবো করেও বলছোনা। এখন সোজাসাপটা বলে ফেলো তো কি বলতে চাও।”
“তুমি চাইলে আবারও আগের মতো হতে পারো।”
“মানে? আমি তো আগের মতোই আছি।”
“আমি বলতে চাচ্ছি…তুমি চাইলে নিজের সংসার জীবন থেকে কিছু সময়ের জন্য আলাদা হতে পারো।”
“বাবা…”
“কথা শেষ হয়নি আমার।”
আলিশা চুপ করে নিয়াজ সাহেবের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ এমন কথার মানে সে বুঝতে পারেনি।
“তুমি চাইলে নিজ দেশে ফিরতে পারো। নিজের হাইয়ার স্টাডিস সেখানে কমপ্লিট করতে পারো।”
“বাবা! আমার ছেলে?”
“আরশান তোমার সাথে যাবে।”
“আর আরহাম?”

“সে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যাস্ত। তুমিও চাইলে তা করতে পারো। আমি সব ব্যবস্থা করে দিবো।”
“আমার সংসার?”
“তোমার সংসার তোমারই থাকবে। আমি কিছু ছাড়তে বলছিনা তোমাকে।”
“ছাড়ার সমান কথায় বলছো..”
“তোমাদের দুজনেরই এখন বয়স কম। ম্যাচিউরিটি ঠিকভাবে আসেনি। আমি চাচ্ছি, তোমরা সময় নাও। অন্ততপক্ষে কিছু বছরের জন্য। তারপর নাহয় আমরা সবাই আয়োজন করে দুজনের হাত আবার এক করবো।”
“বাবা স্টপ…আমি এসব কিছুই চাইনা। আমার ডোরাকে তার বাবা থেকে আলাদা করতে চাইনা আমি। আর না আরহাম কোনোদিন এসব মানবে…”
“তুমি রাজি থাকলে আমি সবকিছু সামলে নেবো।
সবাইকে বুঝানোর দায়িত্বও আমার থাকবে। আমি শুধু চাই, আমার মেয়ের এলোমেলো জীবনটা আবার সাজিয়ে তুলতে।”
আলিশা এবার আর সহ্য করতে পারলোনা। সে উঠে দাঁড়িয়ে কড়া স্বরে জবাব দিলো –
“আমি যথেষ্ট ভালো আছি, বাবা। আমার সংসারে আমার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আরহাম যথেষ্ট সাপোর্টিভ। আমি, আরহাম আর ডোরা একসাথে ভালো আছি। আমাদের আলাদা করার কথা ভুলেও ভেবো না।”

“আমার কথা বোঝার চেষ্টা করো আলিশা…”
“বয়স কম তবে এতটাও কম নয় যাতে আমাদের আলাদা থাকতে হবে। ক্যারিয়ার আমি এখানে থেকেও বানাতে পারবো। আর ম্যাচিউরিটির কথা বলছো? তা নাহয় দুজন মিলে একসাথে শিখে নেবো সময়ের সাথে।”
“নিজের এই সিদ্ধান্তে যদি কোনো একদিন তোমার আফসোস করতে হয়? তাই বলছি… এখনো সময় আছে। ভেবে আমাকে জানাও।”
“অবশ্যই, ভেবে বলছি। আশা করি, এমন কথা তুমি আর কোনোদিন আমায় বলবেনা। যদি কোনোদিন প্রয়োজন হয় তবে আমি নিজ থেকে তোমায় জানাবো…”
নিয়াজ সাহেব এবার দাঁড়িয়ে আলিশার মাথায় হাত রেখে বললেন- “দোয়া করি, এমন প্রয়োজন তোমার জীবনে কোনোদিন না আসুক, মা। তবে, একটা কথা সদা মনে রাখবে ; বাবা তোমার জন্য সব সময় আছি – যেকোনো পরিস্থিতিতে।”
কথা শেষ করেই তিনি বের হয়ে গেলেন আলিশার কামরা থেকে।

আরহাম বিগত দু’ঘন্টা যাবৎ প্রানপন চেষ্টা করে যাচ্ছে ডোরাকে ঘুম পাড়াতে। কিন্তু, এই ছোট মরিচের চোখে ঘুমের লেশমাত্রও নেই।
“শোন, ডোরার ঘরের ডোরা…তুই এখনই চোখ বন্ধ করবি।”
“তোক বন্দ?”
“হ্যাঁ, এভাবে করতে হয়। কর তো দেখি…”
বলতে বলতেই আরহাম নিজের চোখের পলক ঝাপটে ছেলেকে চোখ বন্ধ করা শেখাচ্ছে।
“এই তো…এবার তুইও কর।”
“কি হলো? কর চোখ বন্ধ।”
–ডোরা নিজের গুলুমুলু দুই হাত তুলে চোখের উপর চেপে ধরলো। তারপর আধো আধো স্বরে বললো-
“তুকি..দোরা তুকি…”
“এই ঢোলের বাচ্চা? তোকে এখন টুকি করতে কে বলেছে?”
“তুকি…তুকি…”
“বাপ আমার, প্লিজ…একটু ঘুমা।”
ডোরা শোয়া থেকে উঠে বসার অপ্রান চেষ্টা করছে। তবে, আরহাম তাকে শক্ত করে ঝাপটে ধরে আছে।

“ঘুমাবি না তুই?”
“মাম..মা দাইইই…”
“তোর মা উগান্ডায় গেছে। এখন ঘুমা।”
ডোরা বড় বড় চোখ করে বাবার দিকে তাকালো।
“উগা..দা?”
“হ্যাঁ, তোর নানার বাড়ি উগান্ডায়। সেখানে গিয়েছে। এখন ঘুমা।”
“দোরা উগা..দা দাইইই।”
“না, তোর যেতে হবেনা। এখন ঘুমা নয়তো এক আছাড় মারবো।”
বাবার কথা শুনে ডোরা ফোলা ফোলা গাল আরও ফুলিয়ে গড়াগড়ি খেতে খেতে আরহামের বুকের উপর বসে পড়লো। তারপর হাত-পা দাপাদাপি করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করলো।
“দোরা মাম দাইইই..”
“উফফ…নাম হাতির বাচ্চা। আমার বুক থেকে নাম…”

বাবার কথা একদমই পছন্দ হলোনা ডোরার। সে সঙ্গে সঙ্গেই নিজের ছোট্ট হাতটা তুলে সপাটে এক থবা বসিয়ে দিলো আরহামের নাকের উপর।
ছোট্ট হাতের থাবা খেয়ে আরহাম বেশ অপমানিত বোধ করলো। এই দুই ইঞ্চির ছোট মরিচ কিনা তাকে মারে? সে নাক ডলতে ডলতে ডোরাকে শাষিয়ে বললো –
“উফফ…মায়ের মত ডাকাত হয়েছিস।”
নতুন শব্দ শুনতে পেরে ডোরা বেশ কৌতূহলী চোখে তাকালো।
“দাকাট?”
“হ্যাঁ, দেখি বল তো ‘মাম্মা ডাকাত’…বল বল।”
“বা..ব্বা দাকাট..”
“কত্ত বড় বদের হাড্ডি তুই!”
“বত..বত..”
“তুই কি তোতাপাখি? সব কথা কপি করিস কেন?”
“তুটা..তুটা।”
ছেলের আদুরে গলায় কথাগুলা শুনে আরহাম হেসে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলো – “আমার বাচ্চা তোতাপাখি।”
এই ফাঁকে, ডোরা নিজের গুলুমুলু হাতটা আরহামের টি-শার্টের ভিতর ঢুকিয়ে নিজের খাবার খুজতে হানা দিয়েছে।
নিজের পুরুষালী বুকে হঠাৎ ডোরার ছোট হাতের স্পর্শ পেয়ে আরহাম আঁতকে উঠলো।

“এই! বের কর, বের কর। এই ছিনাল, তোর হাত বের কর! এই না তোকে একটু আগেই ডাকাত বললাম, আর এখনই বাপের ইজ্জতে ডাকাতি শুরু করে দিলি?”
–ডোরা কোনোভাবেই হাত বের করছেনা। তার খাবার চায় এখন।
“ইয়াম…ইয়াম…”
“বাপ আমার, তোর খাবার আমার কাছে নেই। আমার দুধের ট্যাঙ্কি খালি।”
“ডাও ইয়াম..ইয়াম ডাওও..”
–এক দফা ধস্তাধস্তি শেষে আরহাম ডোরাকে কোনোমতে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হলো। সে নাজেহাল অবস্থায় বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়ালো। সে দাঁড়িয়ে যেতেই শুরু হলো ডোরার গলা উঁচিয়ে কান্না।
“মা..ম্মা..মাম দাইইই..”
আরহাম একবার নিজের টি-শার্টের বুকের কাছে ছিঁড়ে যাওয়া অংশটার দিকে তাকিয়ের হতাশার শ্বাস ফেললো।

তোমার আমার গল্প পর্ব ৪৬

“এই ইঁদুরছানার মতো ছোট ছোট দাঁতে এতো শক্তি আসে কোথা থেকে? সোজা বাপের টি-শার্টই ছিঁড়ে ফেললো! আরেকটু জোরে কামড়ালে বোধহয় আমার বুকের চামড়াও ছিড়ে ফেলতো…”
–অবশেষে, আরহাম নিজেকে ধাতস্থ করে ; কোনোমতে ছেলেকে কোলে নিয়ে গেলো আলিশার কামরার দিকে। এখনই, এই বজ্জাত বাচ্চাকে তার বজ্জাত মায়ের কাছে হস্তান্তর করতে হবে নয়তো এই ছোট মরিচ তাকে পাগলাগারদে পাঠাতে খুব বেশি সময় নেবে না।

তোমার আমার গল্প পর্ব ৪৭ (২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here