Home তোমার নামে নীলচে তারা তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ১৮

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ১৮

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ১৮
নওরিন মুনতাহা হিয়া

আমেরিকার পিচ ঢালা রাস্তায়, গাড়ি ড্রাইভ করছে আদ্রিয়ান। তার পাশের সিটে হেলান দিয়ে, চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে আছে মেঘ। আকাশ থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে, যত সময় তত বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ছে। বাতাসের বেগ ও তীব্র হচ্ছে, মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর শব্দ শুনা যাচ্ছে। এমন বৈরী আবহাওয়ায় গাড়ি ড্রাইভ করা, নিরপদ না। তাছাড়া তারা এখন যে রাস্তা দিয়ে বাড়ি যাচ্ছে, তা জঙ্গলের রাস্তা। গাড়ির উপরে বা আশেপাশে বিশাল বড়ো গাছ রয়েছে, বাতাসের তীব্রতায় যদি গাছ ভেঙে গাড়ির উপর পড়ে তখন খুব বড়ো বিপদে পড়বে তারা।

আদ্রিয়ান তার চিন্তার মাঝে, লুকিং গ্লাসে একবার মেঘের দিকে তাকায়। মেঘ তার চোখ বন্ধ করে, চুপচাপ শুয়ে আছে। ঘুমিয়ে পড়েছে কি না, তা বুঝা গেলো না। আদ্রিয়ান মেঘকে ডাকতে গিয়ে ও, আর ডাকল না। মেঘের ঘুমন্ত মুখ থেকে, তাকে বিরক্ত করতে ইচ্ছা করল না তার। বাহিরে জানালা দিয়ে বৃষ্টির বিন্দু বিন্দু পানি, এসে পড়ছে মেঘের সারা মুখে। মেঘের মুখের উপর পানি পড়ায়, মেঘ চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে। আদ্রিয়ান হয়ত তা দেখে, সে মৃদু হেঁসে। গাড়ির জানালার কাঁচ বন্ধ করে দেয়। আদ্রিয়ান আবার গাড়ি ড্রাইভ করার উপর মনোযোগ দেয়।
[ প্রায় তিরিশ মিনিট পর ]
মেঘ এখন ঘুমিয়ে আছে, বৃষ্টির শব্দ তার কানে পৌঁছায় না। তবে হঠাৎ তার, ঘুমের মধ্যে আদ্রিয়ানের ডাক শুনতে পায়। আদ্রিয়ানের কণ্ঠ শুনে, মেঘ বিরক্তি নিয়ে চোখ খুলে তাকায়। আদ্রিয়ান বিচলিত কণ্ঠে বলে উঠে __

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“- মেঘ ঘুম থেকে উঠো। বাহিরে অনেক বৃষ্টি পড়ছে, গাড়িতে থাকা এখন নিরাপদ নয়। যেকোন সময় তীব্র বাতাসে, গাছ ভেঙে গাড়ির উপর পড়তে পারে __.
আদ্রিয়ানের কথা শুনে, মেঘ দ্রুত সিট থেকে উঠে বসে। গাড়ির জানালা দিয়ে, আশেপাশে তাকিয়ে দেখে। বাহিরে বৃষ্টি আর বাতাস, তীব্রতা ক্রমশ বৃষ্টি পাচ্ছে। মেঘ কিছুটা ভয় পেয়ে যায়, আদ্রিয়ানের চিন্তার কারণ এখন সে বুঝতে পারছে। সত্যি বাহিরের যা অবস্থা, যেকোন সময় গাছ বা অন্য কিছু উগড়ে গাড়িতে পড়তে পারে। এই অবস্থায় গাড়িতে থাকা, নিরাপদ নয়। মেঘ বলে __
“- কিন্তু এখন গাড়ি থেকে বের হয়ে কোথায় যাবো আমরা? আশেপাশে বাড়ি – ঘর, মানুষজন কিছুই তো দেখছি না __.

আদ্রিয়ানের মেঘকে হাতের ইশারা দিয়ে, দূরে থাকা এক স্টেশনের দিকে। স্টেশনটা কেনো রেলগাড়ী নয়, বরং বাসের। রাস্তা দিয়ে যদি কোনো বাস যায়, তবে হয়ত এখানে থামে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার উদ্দেশ্য। বা জঙ্গলে থাকা কাঠুরে বা গ্রামীণ জনগণ, শহরের যাওয়ার জন্য এই স্টেশন ব্যবহার করে থাকে। আমেরিকার মত উন্নত দেশে, এইটুকু সুবিধা থাকা অবাক কিছু নয়। তবে স্টেশনটা অল্প দূরে, এই বৃষ্টির মধ্যে যদি সেখানে যেতে চাই তবে ভিজে যাওয়ার সম্ভবনা আছে।
মেঘ একবার ফিরে তাকায়, আদ্রিয়ানের দিকে। মেঘ বলে উঠে __
“- স্টেশনে যেতে যেতে যদি বৃষ্টির পানি দিয়ে ভিজে যায়? আর স্টেশন যাওয়া কি সত্যি নিরাপদ হবে? এরচেয়ে কি গাড়িতে বসে থাকা বেটার না?
আদ্রিয়ান মেঘের কথায়, সম্মতি দেয় না। কারণ সে যানে আমেরিকার ঝড় – বৃষ্টি ঠিক কতটা ভয়াবহ হতে পারে। গাড়িতে থাকা নিরাপদ হবে না, তবে বৃষ্টির মধ্যে ভিজে যাওয়ার সম্ভবনার কথা মনে হতেই। সে গাড়ির ব্যাক সিটের নিচ থেকে, একটা ছাতা বের করে। আদ্রিয়ান বলে __

“- এই ছাতা দিয়ে বাহিরে বের হলে, আমরা ভিজব না বৃষ্টির পানিতে। এখন চলুন মেঘ, দ্রুত গাড়ি থেকে বের হওয়া লাগবে ___.
আদ্রিয়ান প্রথমে তার পাশের দরজা খুলে, বেরিয়ে আসে, এরপর মেঘের কাছে এগিয়ে আসে। মেঘ দরজা খুলে, আদ্রিয়ানের ছাতার মাঝে ঢুকে পড়ে। বৃষ্টির তীব্র বাতাসে, তাদের ছাতা টিকে থাকতে পারছে না। তবে আদ্রিয়ান খুব শক্ত করে, ছাতা ধরে রাখে। দুইজন মানুষের জন্য, এই ছোট ছাতার জায়গা খুব সংকীর্ণ। আদ্রিয়ান ছাতার বেশিরভাগ অংশ, মেঘের উপর রাখে। যাতে মেঘ ভিজে না যায়, তবে তার প্রায় সম্পূর্ণ শরীর ছাতার বাহিরে। শুধু মাথা নিচুঁ করে, ছাতার ভিতরে রাখে। মেঘ হয়ত, বিষয়টা খেয়াল করে।
মেঘ জড়সড় হয়ে, আদ্রিয়ানের নিকটে যায়। তাদের দুইজনে মাঝে থাকা, দুরত্ব কমায়। আদ্রিয়ান যথেষ্ট লম্বা, মেঘ তার তুলনায় একটু খাটো। মেঘ আদ্রিয়ানের হাত তার কাঁধে রাখে, যাতে ছাতা উঁচু করে ধরতে সমস্যা না হয়। কিন্তু আদ্রিয়ান হয়ত মেঘের, এমন করে তার কাছে আসার কারণ বোধগম্য হলো না। আদ্রিয়ান মনে করে, মেঘ হয়ত বৃষ্টির পানিতে ভিজে যাওয়ার কারণে তার কাছে এগিয়ে আসছে। আদ্রিয়ান দূরে চলে যায়, মেঘের থেকে। যার ফলে ছাতার, তার সম্পূর্ণ শরীর ছাতার বাহিরে রাখে। মেঘ আদ্রিয়ানের এমন ব্যবহার দেখে, তার রাগ হয়। কিন্তু আদ্রিয়ান তার জন্য ভিজে যাচ্ছে, কথাটা ভেবে মেঘ বাধ্য হয়ে বলে উঠে ___

“- আদ্রিয়ান স্যার ছাতার ভিতরে আসুন। আপনি বৃষ্টির পানিতে ভিজে যাচ্ছেন ___.
ভারী বর্ষণের শব্দের মাঝে ও, মেঘের বলা কথাটা হয়ত আদ্রিয়ান শুনতে পায়। মেঘের তার কাছে এগিয়ে আসার কারণ, এখন স্পষ্ট হয় আদ্রিয়ানের কাছে। আদ্রিয়ান দেরি না করে, সে ছাতার মাঝে ঢুকে পড়ে।
আদ্রিয়ান তার মেঘ, খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে এখন। এক ছাতার মাঝে, দুইজন মানুষ আর বাহিরে মুষুলধারে বৃষ্টি। মেঘ ছোট ছোট পা ফেলে, বৃষ্টির পানির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আর তার মাথার উপরে, ছাতা ধরে রেখেছে আদ্রিয়ান। মেঘ এতো কাছে থাকায়, আদ্রিয়ানের হার্টবিট বেড়ে যায়। মেঘের মাথা আদ্রিয়ানের বুকের কাছে ছিল, যার ফলে সে তার হার্টবিট শুনতে পায়। মেঘ আনমনে হেসে উঠে।

মেঘ আর আদ্রিয়ান বর্তমানে, স্টেশনের ভিতরে অবস্থান করছে। স্টেশনের দেয়াল গড়িয়ে, ঝমঝম করে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছে। চারপাশে বাতাসের তীব্রতার শব্দ শুনা যাচ্ছে, হয়ত জঙ্গলের কিছু গাছ উগড়ে পড়ছে। মেঘের এই বৈরী আবহাওয়াকে ভীষণ ভয় করছে, আমেরিকার ঝড়, তুফান, টনোর্ড হয় তা মেঘ যানত। কিন্তু আজ প্রথম দেখল, বৃষ্টির আর বাতাস দেখে মনে হচ্ছে। এখন ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে.

মেঘ আর মনের ভয় দূর করে, ধাতস্থ হয়। স্টেশনের মাঝে যাএীর বসার জন্য ট্রুল রয়েছে, মেঘ সেখানে বসে যায়। বৃষ্টি না থামা অবধি, তাদের এখানেই বসে অপেক্ষা করতে হবে।আবিহা আর কারানের গাড়ি, তাদের একটু আগেই রওনা দিয়েছিল। তারা কি বাসায় পৌঁছে গেছে? না বৃষ্টির মধ্যে কোথায় আটকে রয়েছে? মেঘের ফোন ও গাড়িতে রেখে এসেছে, ফোন করে ও কিছু জানা যাবে না এখন। আর বাহিরে যে বৃষ্টি আর তার মধ্যে তারা এখন, জঙ্গলে অবস্থান করছে এখানে নেটওয়ার্ক আসবে না। তবে আবিহার সাথে যেহেতু কারান ভাই আছে, আর ড্রাইভার আছে তবে কোনো সমস্যা হবে না।

অন্যদিকে আদ্রিয়ান স্টেশনের, বারন্দায় দাঁড়িয়ে আছে। মেঘ তার থেকে একটু দূরে বসে আছে, আদ্রিয়ান একবার মেঘের দিকে তাকায়। মেঘ ভয় পেয়েছে কি না তা দেখতে, তবে মেঘকে শান্ত হয়ে বসে থাকতে দেখে তার চিন্তা দূর হয়। আদ্রিয়ান বাহিরে বৃষ্টির দিকে, একমনে তাকিয়ে আছে। মেঘ তাকায় আদ্রিয়ানের দিকে, তার পড়নে রয়েছে একটা কালো জ্যাকেট আর সাদা শার্ট। সাদা শার্ট বৃষ্টির পানিতে ভিজে, তার শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। মাথার পরিপাটি করা চুল বেয়ে, বৃষ্টির পানি টপটপ করে পড়ছে।
অষ্টাদশী মনের কন্যা মেঘ, মুগ্ধ দৃষ্টিতে আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার চোখ জুড়া, এখন তার প্রাণ প্রিয় পুরুষের উপর সীমাবদ্ধ। হয়ত সে নতুন করে আবার তার প্রেমে পড়ে গিয়েছে। আদ্রিয়ানের শরীর প্রায় সম্পূর্ণ অংশ ভিজে গেছে, তার শরীর বেয়ে চুয়ে চুয়ে পানি পড়ছে। আদ্রিয়ান তার মাথার চুলে হাত দিয়ে, সেখান থেকে পানি জড়ানোর চেষ্টা করে। আদ্রিয়ানের চুল বেয়ে গড়িয়ে পড়া পানি, তার নাক বেয়ে যখন ঠোঁটে গড়িয়ে পড়ে তখন মেঘ শুকনো ঢুক গিলে। তবুও সে অপলক দৃষ্টিতে, আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে থাকে।

আদ্রিয়ানের পড়নে ভিজা শার্ট, শরীরের সাথে লেপ্টে থাকায়। তার বুকের পশম দৃশ্যমান, যা দেখে মেঘ তার দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। এরপর নিজের বেহায়া মনকে, শতখানিক গালি দেয়। এমন নির্লজ্জার মতো কোনো পুরুষকে দেখতে তোর লজ্জা করে না মেঘ। তবে আদ্রিয়ানের জিম করা বডি, হাতের মার্সেলের দিকে তাকিয়ে তা বুঝা যায়। আর ডক্টর হয়ে অবশ্যই ফিটনেস ম্যানটেন করে চলে, কিন্তু মেঘের শরীর খুব হালকা। আদ্রিয়ানের শরীরের অর্ধেক শক্তি ও, তার মধ্যে নেই।

কিছুক্ষণ পর বৃষ্টির বেগ কমে আসে। বাহিরে এখন বাতাসের তীব্রতা নাই, তবে বৃষ্টির টুপটাপ ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে। মেঘ আর আদ্রিয়ান দীর্ঘসময় অপেক্ষা করার পর, বৃষ্টি কমতে শুরু করে। চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেছে, বৃষ্টির কারণে দিনের আলো আবছা হয়ে গেছে। ঘুটঘুটে অন্ধকারে থাকতে, এখন মেঘের ভয় করছে। মেঘের ট্রুলে বসে থাকতে, বিরক্ত লাগছে তাই সে উঠে দাঁড়ায়। আদ্রিয়ানের থেকে দূরে গিয়ে দাঁড়ায়, বৃষ্টির পানি স্টেশনের চাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। মেঘ বৃষ্টির পানিতে হাত দিয়ে, খেলতে থাকে।

আদ্রিয়ান এখন একমনে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছে। তার পাশে যে মেঘ দাঁড়িয়ে আছে, তা সে খেয়াল করেনি। আদ্রিয়ানের এমন বেখেয়ালি ভাবে, বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে। মেঘের মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি আসে, সে তার হাতে থাকা বৃষ্টির পানি ছিটিয়ে দেয় আদ্রিয়ানের মুখে। হঠাৎ করে বৃষ্টির পানি মুখে এসে পড়ায়, আদ্রিয়ান চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে। আদ্রিয়ানের এমন রিয়েকশন দেখে, মেঘ খিলখিল করে হেঁসে উঠে।
আদ্রিয়ান ইচ্ছা ছিল, মেঘকে বকা দেওয়ার। কিন্তু মেঘের মুখে ভুবন ভুলানো হাসি দেখে, তার বিরক্তি আর রাগ মুহূর্তের মধ্যে কমে যায়। তবুও আদ্রিয়ান মেঘকে বলে __
“- মেঘ —.

মেঘ হয়ত আদ্রিয়ানের বারণ শুনে না, সে আবার তাকে বিরক্ত করার উদ্দেশ্য তার মুখে পানি ছুঁড়ে দেয়। আদ্রিয়ান রাগী দৃষ্টিতে মেঘের দিকে তাকায়, তবে মেঘ বাচ্চাদের মতো মুখ ভেংচি দেয়। এরপর আবার ও পানি ছুঁড়ে দেয়, আদ্রিয়ানের মুখে। আদ্রিয়ানের ধৈর্যর সীমা অতিক্রম করে ফেলে মেঘ, তবে সে মেঘকে বকা দেয় না। শুধু বলে উঠে __
“- দাঁড়াও মেঘ, এখন আমার ট্রান —.
আদ্রিয়ান তার হাত বাড়িয়ে দেয়, বৃষ্টির পানির দিকে। এরপর সে তার হাতে পানি নিয়ে, মেঘের দিকে ছুঁড়ে মারে। আদ্রিয়ান পানি ছুঁড়ছে দেখে, মেঘ ও তার দিকে পানি ছুঁড়ে দেয়। তারা একে অপরকে এতোখন, পানি ছুঁড়ে যতখন না তারা সম্পূর্ণ ভিজে টার্য়াড হয়ে যায়। ‎আদ্রিয়ান আর মেঘ একে অপরের দিকে তাকিয়ে, হেসে উঠে। মেঘ আর আদ্রিয়ানের খুনসুটির মধ্যে দিয়ে, বৃষ্টি ভেজা সময়টা কেটে যায়। মেঘ হাত বাড়িতে বৃষ্টি ছুঁয়ে দিচ্ছে, আর আদ্রিয়ান তার দিকে মুগ্ধ হয়ে অপলক দৃষ্টিতে তার প্রেয়সীর দিকে তাকিয়ে আছে।
__ আকাশ থেকে মেঘের বর্ষণ হওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। তবু্ও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে, আদ্রিয়ান আর মেঘের এখন বাড়ি যাওয়া উচিত। রাত প্রায় হয়ে আসছে, চারপাশ ঘুটঘুটে অন্ধকার। জঙ্গলে এতো রাত অবধি, অবস্থান করা ঠিক হবে না আদ্রিয়ান বলে __

“- মেঘ এখন চলো। বাড়ি ফিরে যাওয়া যাক। বৃষ্টি শেষ হয়ে গেছে __.
বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা শুনে, মেঘের মুখের হাসি বিলীন হয়ে যায়। আদ্রিয়ানের সাথে স্টেশনে, বসে থাকতে, একসাথে সময় কাটাতে তার বেশ ভালো লাগছিল। বৃষ্টির ঝিরিঝিরি শব্দ আর প্রিয় মানুষের সঙ্গ, মেঘ উপভোগ করছিল। কিন্তু এখন সত্যি বাড়ি ফিরে যাওয়া উচিত, মেঘ আদ্রিয়ানের কথায় সম্মতি দিয়ে বলে —–
“- হুম চলুন ——.
“- মেঘ তুমি এখানে বসো, আমি গাড়ি নিয়ে আসছি। আর গাড়ির কাছে গিয়ে দেখি, ঝড়ে কোনো ক্ষয়- ক্ষতি হয়েছে কি না?
“- ওকে —-.

আদ্রিয়ান মেঘকে স্টেশনে রেখে, গাড়ির কাছে যায়। ঝড়ের কারণে, তাদের গাড়ির উপর গাছ ভেঙে পড়েনি। তবে কিছু পাতা আর আর্বজনা এসে পড়েছে, আদ্রিয়ান তা হাত দিয়ে পরিস্কার করে নেয়। এরপর গাড়ির দরজা খুলে ভিতরে যায়, পকেট থেকে চাবি বের করে গাড়ির স্টার্ট দেয়। গাড়ি ড্রাইভ করে মেঘের কাছে নিয়ে আসে, তবে গাড়ি একটু দূরে রয়েছে। আদ্রিয়ান মেঘকে ডাক দিয়ে বলে উঠে ——
“- মেঘ ছাতা মাথায় দিয়ে, ধীর পায়ে হেঁটে। গাড়ির ভিতরে চলে আসো —–.

আদ্রিয়ানের কথামত, মেঘ স্টেশন থেকে ছাতা মাথায় দিয়ে। ধীরে ধীরে পা ফেলে, এগিয়ে যায় গাড়ির কাছে। তবে মেঘের কাছে, এই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর মৃদু বাতাস খুব ভালো লাগছিল। মেঘ তার মাথা থেকে ছাতা একটু সরায়, বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে একটু ভিজে। এরপর আবার মাথার উপরে ছাতা রাখে, আবার সরিয়ে নেয়।
মেঘের এমন বাচ্চামি কাণ্ড, আদ্রিয়ান গাড়ি সিটে বসে দেখতে থাকে। মেঘ যখন নুপুর পায়ে, আদ্রিয়ানের কাছে এগিয়ে আসে। তখন কিছু মুহূর্তের জন্য, আদ্রিয়ানের সমগ্র পৃথিবী থমকে যায়। মেঘের উপর তার দৃষ্টি সীমাবদ্ধ থাকে, সে এমন গভীর নয়নে মেঘের দিকে তাকিয়ে ছিল যে। কয়েক মিনিটের জন্য নিশ্বাস ছাড়তে ভুলে যায়, মেঘ বৃষ্টি শরীরে আদ্রিয়ানের দিকে এগিয়ে আসে। তখন আদ্রিয়ান আপন মনে বলে উঠে —

—– ~~ সেই বৃষ্টি ভেজা পায়ে ~~ —–.
—– ~~ সামনে এলে হায় ~~~ —–.
—– ~~~ ফোটে কামিনী ~~~—-.
—– ~~~ আজ ভিজতে ভালো লাগে ~~~ —
—- ~~~ শূন্য মনে জাগে ~~~—–.
—- ~~~ প্রেমের কাহিনী ~~~ —-.
—- ~~~ রিমঝিম এ ধারাতে ~~—-.
—-~~~ চায় মন হারাতে~~——.

‎মেঘ যখন গাড়ির জানালার কাঁচে, নক করে। তখন হুঁশ হয় আদ্রিয়ানের, সে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। মেঘ বলে —
“- আদ্রিয়ান স্যার দরজা লক করা। দরজা খুলুন —.
মেঘের কণ্ঠ শুনে, আদ্রিয়ান দ্রুত দরজার লক খুলে দেয়। মেঘ ছাতা বন্ধ করে, পিছনের সিটে রাখে। আদ্রিয়ান মেঘের দিকে তাকায়, তবে তার চোখ যায় মেঘের ভিজা শরীরের দিকে। মেঘের পড়নে সুতি শাড়ি ছিল, যা বৃষ্টিতে ভিজে শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। সুতি শাড়ি পাতলা হওয়ায়, মেঘের শরীরের প্রায় প্রতি ভাজ স্পষ্ট। মেঘের ভিজা শাড়ির নিচে, উন্মুক্ত কোমড়ে দিকে তাকিয়ে আদ্রিয়ান শুকনো ঢুক গিলে।

মেঘের গোলাপি অধরের দিকে তাকায় আদ্রিয়ান, তার সারা শরীর কেঁপে উঠে। মনের গহীনে শত খানিক, নিষিদ্ধ বাসনা জেগে উঠে। আদ্রিয়ান তার হাত মুষ্টিবদ্ধ করে, নিজের মন আর শরীকে নিয়ন্ত্রণ করে। বৃষ্টি স্নান পরিবেশে, এমন শীতল আবহাওয়ায় আদ্রিয়ানে গরম লাগছে। আদ্রিয়ান মেঘের থেকে চোখ সরিয়ে নেয়, মেঘ যদি কিছুক্ষণ এমন থাকে। তবে হয়ত আদ্রিয়ান নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রাখতে পারবে না। মেঘের সাথে হয়ত, না, না, মেঘ তার ওয়াইফ হয় না। মেঘকে ছোঁয়ার বৈধতা, আদ্রিয়ানের নেই। আদ্রিয়ান দ্রুত, তার পড়নের কোর্ট খুলে ফেলে। এরপর অন্য পাশে মুখ করে, মেঘের দিকে কোর্ট এগিয়ে দিয়ে বলে —-
“- মেঘ এই কোর্ট শরীরে জড়িয়ে নাও —.

আদ্রিয়ানের কথা শুনে, মেঘ তার দিকে ফিরে তাকায়। হঠাৎ করে ভিজা কোর্ট, আদ্রিয়ান তার দিকে ভিজা কোর্ট কেনো এগিয়ে দিচ্ছে। আর ও অন্য পাশ কেনো, ঘুরে আছে? হঠাৎ মেঘের কি যেনো মনে পড়ে, সে তার শাড়ির দিকে তাকায়। মেঘের চোখ খুলে পড়ার উপক্রম হয়, শাড়ির ভিতর দিয়ে তার সমস্ত শরীর দেখা যাচ্ছে। তবে কি আদ্রিয়ান এইজন্য তাকে কোর্ট আর অন্য পাশে, মেঘ আর ভাবতে পারছে না। তার এখন ভীষণ লজ্জা লাগছে, মেঘ দ্রুত আদ্রিয়ানের হাত থেকে কোর্ট নিয়ে পড়ে নেয়। মেঘ মাথা নিচুঁ করে বলে —-

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ১৭

“- ধন্যবাদ —.
মেঘের কথা আদ্রিয়ান শুনে, আদ্রিয়ানের এখন কি বলা উচিত সে যানে না। তাই আদ্রিয়ান বলে —
“- হুম —.
মেঘ কাচুমাচু হয়ে সিটে বসে থাকে, আদ্রিয়ান গাড়ি স্টার্ট দেয়। আদ্রিয়ান একবার লুকিং গ্লাসে, মেঘের মুখ দেখে এরপর দাঁত কটমট করে বলে —–
“- মেঘ যদি আজ তুমি আমার ছাএী না হয়ে বউ হতে, তবে বুঝতে আদ্রিয়ান রেদোয়ানকে পাগল করা শাস্তি কি? ইউ ওইল পে ফর ইট মেঘ —-.

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ১৯