তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ১৯
নওরিন মুনতাহা হিয়া
আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটির মাঝে অবস্থিত, এক বিশাল বড়ো অটালিকার বাহিরে এসে থামে গাড়ি। গাড়ির জানালার কাঁচ দিয়ে, মেঘ বাড়ির বাহিরের অংশ দেখে। মেঘ চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে থাকে, বাড়ির দিকে। এইটা বাড়ি না, বরং কোনো রাজার সাম্রাজ্য। গেইটের কাছে গাড়ি থামার সঙ্গে সঙ্গে, দারোয়ান এগিয়ে এসে গেইট খুলে দেয়। গাড়ি – বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে।
বিশাল সাম্রাজ্যর এই অটালিকা, কাঁচের দিয়ে তৈরি। আমেরিকার বাড়ি – ঘর সাধারণ, সবই প্রায় কাঁচের দিয়ে তৈরি করা হয়। প্রতিটা বাড়ি দেখতে বিলাসবহুল, আর এর সৌন্দর্য যেকোন মানুষকে মুগ্ধ করে তুলবে। তবে এই বাড়ির মধ্যে, বাঙালি আভিজাত্যর চিএ ফুটে উঠেছে। রিসোর্টের থেকে, এই বাড়ির আয়তন কোনো অংশে কম নয়। বাড়ির ভিতরে ফুলের সারি সারি বৃক্ষ রোপণ করা রয়েছে, যা দূর হতে দেখতে ভীষণ সুন্দর লাগছে। মেঘ কারান আর তার পরিবারের, রুচির প্রশংসা করে।
গাড়ি এসে থামে, বাড়ির সদর দরজার সামনে। আদ্রিয়ান চাবি দিয়ে, গাড়ি বন্ধ করে তার পাশে বসে থাকা মেঘের দিকে তাকায়। মেঘ গাড়ির জানালা দিয়ে, উঁকি দিয়ে বাগান – সহ বাড়ির বাহিরের অংশ দেখে যাচ্ছে। আদ্রিয়ান বলে উঠে —
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“- মেঘ বাড়ির ভিতরে চলে এসেছি আমরা। গাড়ি থেকে নেমে পড়ো এখন —-.
আদ্রিয়ানের কথা শুনে, মেঘ দ্রুত গাড়ির দরজা খুলে গাড়ি থেকে বের হয়ে আসে। আদ্রিয়ান ও তার ড্রাইভিং সিট থেকে নেমে, গাড়ির বাহিরে চলে আসে। দূরে থাকা দারোয়ানকে ডাক দিয়ে, তার হাতে চাবি দিয়ে বলে গাড়ি গ্যারেজে পার্ক করতে। এরপর তারা দুইজন, একসাথে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে। মেঘের শরীরে এখন, আদ্রিয়ানের জ্যাকেট পরহিত রয়েছে। ড্রয়িং রুমে চিন্তিত হয়ে বসে ছিলেন, ফারহানা বেগম। বারবার সদর দরজার দিয়ে তাকিয়ে দেখছেন, আদ্রিয়ান আর মেঘ বাড়ি ফিরে এসেছে কি না। এই ঝড়ের মধ্যে, ওরা দুইজন বাহিরে ছিল। গাড়িতে কত প্রকার বিপদ – আপদ হতে পারে, তাছাড়া মেঘ আমেরিকার প্রথম এসেছে যদি রাস্তা – ঘাট ভুলে কোথাও হারিয়ে যায়। তখন কি হবে? যদিও ওর সাথে আদ্রিয়ান রয়েছে, তবুও ফারহানা বেগমের টেনশন হচ্ছে।
ঝড় করে বলে দিয়েছে। তারা দুইজন ঠিক আছে, ঝড়ে তাদের কোনো ক্ষয় -ক্ষতি হয়নি। আদ্রিয়ান হয়ত আগে থেকেই যানত, যে ফারহানা বেগম তাদের জন্য টেনশন করবে। তাই সে কারানকে বলে দিয়েছিল, যাতে ফারহানা বেগমকে তাদের নিরাপদ থাকার খবর জানিয়ে দেয়। কারান বাড়িতে ফিরে আসার পর, ফারহানা বেগমকে বলে যে আদ্রিয়ান আর মেঘ ঠিক আছে। তবুও ফারহানা বেগমের চিন্তা হচ্ছে, ঝড়ের পর ও কতো রকম বিপদ হয়।
আদ্রিয়ান আর মেঘ বাড়ির সদর দরজা দিয়ে, ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করে। ফারহানা বেগম তাদের দেখে এগিয়ে আসে, ওনি বিচলিত কণ্ঠে বলে —–
“- আদ্রিয়ান মেঘ তোমরা ঠিক আছো? বাহিরে যা ঝড় – বৃষ্টি হয়েছে, রাস্তায় কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি তো তোমাদের?
ফারহানা বেগমের চিন্তিত কণ্ঠ শুনে, আদ্রিয়ান তাকে আস্তত করতে বলে —
– “- মামি আমরা ঠিক আছি। সম্পূর্ণ সুস্থ স্বাভাবিক, রাস্তায় কোন বিপদ হয়নি। তুমি টেনশন করো না —-.
আদ্রিয়ান আর ফারহানা বেগমের কথা বলার মাঝে, মেঘের মনে পড়ে কারান আর আবিহার কথা। ওরা কি বাড়ি ফিরে এসেছে? না রাস্তায় এখনও আটকা পড়ে আছে? ফারহানা বেগমকে মেঘ জিজ্ঞেস করে —-
“- আন্টি আবিহা আর কারান ভাই কি বাসায় ফিরে এসেছে?
ফারহানা বেগম হ্যাঁ – বোধক সম্মতি দিয়ে জবাব দেয় –
“- হুম কিছুক্ষণ আগে আবিহা আর কারান বাড়ি ফিরে এসেছে। ওরা বৃষ্টিতে ভিজে গেছে, তাই রুমে চলে গেছে ফ্রেশ হতে —-.
ফারহানা বেগমের কথা শুনে, মেঘ চিন্তা মুক্ত হয়। ফারহানা বেগম নোটিশ করে, আদ্রিয়ান আর মেঘের জামাকাপড় ভিজে। শরীরের সাথে লেপ্টে আছে, এমন অবস্থায় থাকলে জ্বর বা সর্দি লেগে যাবে। ফারহানা বেগম বলে —–
“- মেঘ আদ্রিয়ান তোমরা দ্রুত রুমে গিয়ে, জামাকাপড় পাল্টে নাও। বৃষ্টির পানি দিয়ে, সারা শরীর ভিজে গেছে। ভিজা কাপড়ে বেশি সময় থাকলে, জ্বর চলে আসবে ——..
আদ্রিয়ান আর মেঘ, ফারহানা বেগমের কথায় সম্মতি দেয়। তারা সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে যায়, মেঘ সামনে আর আদ্রিয়ান তার পিছনে। আদ্রিয়ান মেঘকে দেখে, আর মুচকি হাসে। এরপর তারা দুইজনে রুমে চলে যায়, তবে এখন মেঘের রুম আদ্রিয়ানের রুমের পাশে নয়। বরং তার রুম থেকে বেশ দূরে, মেঘ গেস্ট রুমে থাকবে আজ থেকে। গেস্ট রুম বাড়ির শেষের দিকে, আর আদ্রিয়ানের রুম সবার প্রথমে। যদিও মেঘ এতো খুশি হয়েছে, কারণ সে চাই আদ্রিয়ানের থেকে দূরে থাকতে। মেঘ গেস্ট রুমে চলে যায়, আর আদ্রিয়ান তার রুমের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে।
মেঘ রুমে প্রবেশ করে, আয়নার সামনে দাঁড়ায়। আয়নায় থাকা নিজস্ব প্রতিবিম্বের দিকে তাকায়, তার শরীরে জড়ানো আদ্রিয়ানের জ্যাকেটে হাত রাখে। এরপর জ্যাকেটের বোতামে হাত দিয়ে, ধীরে ধীরে তার শরীর থেকে খুলে ফেলে। মেঘের সুতি শাড়ি, তার শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। ভিজা শাড়ি আড়ালে, মেঘের দেহের প্রতিটা ভাজ স্পষ্ট তার পেট, নাভি, প্রায় সবই দেখা যাচ্ছে। আদ্রিয়ান স্বচোখে, মেঘকে এমন অবস্থায় দেখেছে। এই কথা মনে পড়তেই, মেঘের ভীষণ লজ্জা করছে। তার গালে লাল রক্তিম, আভা চলে এসেছে।
মেঘ তার হাতে থাকা জ্যাকেটে, আলতো করে স্পর্শ করে। এরপর সে আবার আদ্রিয়ানের জ্যাকেট তার গায়ে জড়ায়, এক উষ্ণ শীতল অনুভূতি তার সারা শরীর মন ছুঁয়ে দেয়। এই জ্যাকেট তার প্রিয় মানুষের, যাকে মেঘ মন প্রাণ আত্মা উজাড় করে ভালোবাসে। মেঘের মনে হয় সে আদ্রিয়ানের জ্যাকেট নয়, বরং স্বয়ং আদ্রিয়ান রেদোয়ানকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। খুব শক্ত করে, আদ্রিয়ান তাকে নিজ বাহুদ্বয়ের মাঝে আগলে রেখেছে। যেনো বাঁধন একটু হালকা হলেই, মেঘ তাকে ছেড়ে চলে যাবে।
আদ্রিয়ানের জ্যাকেট থেকে আসা, এক মিষ্টি সুভাস মেঘের নাকে আসে। মেঘ চোখ বন্ধ করে, কিছু মুহুর্তে অনুভব করে তার স্বামীকে। বাস্তবে হয়ত, এমন করে সে কখন আদ্রিয়ানকে জড়িয়ে ধরতে পারবে না। স্বামীর বুকে মুখ গুঁজে, তার শরীরের ঘ্রাণ নেওয়ার সৌভাগ্য হবে না। কারণ আদ্রিয়ান আর তার স্বামী নয়, তালাক দিয়ে দিয়েছে সে মেঘকে। তার উপর থাকা মেঘের সকল অধিকার, বন্ধন, ছিন্ন করে দিয়েছে। আদ্রিয়ান এখন জিয়ার, তাকে ভালোবাসার জড়িয়ে ধরার, যত্ন করার, আগলে রাখার শুধুমাএ জিয়ার। মেঘের নয়, তবুও মেঘ বেহায়ার মতো আদ্রিয়ানের কাছে ফিরে যায়।
কিন্তু মেঘের কি একার সব দোষ? মেঘ চাই আদ্রিয়ানের থেকে দূরে থাকতে, সে শত চেষ্টা করে, নিজের জীবনের অতীতকে ভুলে গিয়ে। বর্তমান নিয়ে বাচঁতে, কিন্তু ভাগ্য তাকে প্রতিবার আদ্রিয়ানের কাছে নিয়ে যায়। মেঘ যত দূরে থাকতে চাই আদ্রিয়ানের থেকে, নিয়তি ঠিক ততই কাছে নিয়ে যায়। মেঘ এখন এই কাছে, দূরে নামক, এক খেলায় সে বিরক্ত। মেঘ একটু পর চোখ খুলে তাকায়, আদ্রিয়ানের জ্যাকেট খুলে বিছানায় রাখে। জ্যাকেট এখন ভিজা, বাহিরে রোদ উঠলে ধুয়ে, শুকিয়ে আদ্রিয়ানকে ফিরত দিয়ে আসবে সে।
মেঘ ওয়াশরুমে চলে যায়, ফ্রেশ হতে। এরপর ফ্রেশ হয়ে এসে, বিছানায় শুয়ে পড়ে। শরীর বেশ টার্য়াড মেঘের, এখন বিশ্রাম দরকার।
আদ্রিয়ান তার রুমে এসে, আলমারি থেকে শুকনো কিছু জামাকাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে, টেবিলে থাকা হেয়ার ড্রয়ার দিয়ে চুল শুকাতে থাকে। কিছুক্ষণ আগের বৃষ্টি ভেজা মুহুর্তের কথা মনে পড়ে যায় তার, সঙ্গে সঙ্গে আদ্রিয়ানের মুখে হাসি ফুটে উঠে। মেঘের প্রতি ধীরে ধীরে, আদ্রিয়ানের অনুভূতি প্রখর হয়ে উঠছে। যা আগে কোনো নারীর প্রতি জন্মায়নি, তবে কি সত্যি আদ্রিয়ান মেঘের প্রেমে পড়ে যাচ্ছে?
আমেরিকায় এসেছে প্রায় নয় বছর হয়েছে, আদ্রিয়ানের। এই নয় বছরে রাস্তা – ঘাটে, কলেজে, হাসপাতালে, বহু নারীকে দেখেছে আদ্রিয়ান। কিন্তু তার কারো প্রতি মুগ্ধতা বা ভালোলাগা কাজ করেনি, কোনো মেয়ের সাথে একবার কথা বললে। পরে আর তার সাথে কথা বলা, বা দেখার ইচ্ছা করেনি। কিন্তু মেঘকে দেখে, আদ্রিয়ানের মনে অন্যরকম অনুভূতি হয়। তার মনের সুপ্ত বাসনা, মেঘকে দেখে জাগ্রত হয়। কিন্তু আদ্রিয়ান তার জীবনের সাথে, কোনো নারীকে জড়াতে চাই না। তবে কি তার মেঘের থেকে দূরে থাকা ঠিক হবে, না আবার নতুন করে একবার সুযোগ দিবে তার জীবনে? মেঘকে ভালোবাসতে দিবে, তার মনকে। আদ্রিয়ানের এখন কি করা উচিত, সে সত্যি যানে না।
রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। মেঘ ঘুম থেকে উঠে, আটটার দিকে। আবিহার রুমে গিয়ে, তার সাথে একবার দেখা করে আসে। ড্রয়িং রুমে বসে, সকলে রাতের খাবার খায়। আদ্রিয়ান তখন ঘুমিয়ে ছিল, তাই সে খাবার খেতে আসেনি। মেঘের সাথে আদ্রিয়ানের, আর দেখা হয়নি।
মেঘ আর রুমে বসে, টেবিলের উপর বই রেখে পড়াশোনা করছিল। আমেরিকায় আসা আর আবিহার বিয়ের জন্য, প্রায় এক সপ্তাহ পড়াশোনা করতে পারে নাই। কাল বাদে পরশু থেকে, তার মেডিক্যালের ক্লাস শুরু হয়ে যাবে। তখন প্রচুর পড়াশোনার চাপ থাকবে, তাই আগে থেকেই পরীক্ষার জন্য নিধার্রিত অধ্যায় পড়ে রাখছে। যাতে ভবিষ্যতে সমস্যা না হয়, আর বাংলাদেশের পড়াশোনা সাথে আমেরিকার পড়াশোনার অনেক পার্থক্য আর বেশি কঠিন ও। মেঘ তার পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে, পড়াশোনা করছে।
আদ্রিয়ান এখন তার রুমে বসে, ল্যাপটপে কাজ করছিল। এখন মেডিক্যাল স্টুডেন্টের ক্লাস যেহেতু, আদ্রিয়ানকে নিতে হবে। তাই ওর কিছু বই দরকার, যেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সে সিলেক্ট করে রাখবে। আদ্রিয়ান বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়, তার টেবিলের কাছে যায়। প্রায় পাঁচমিনিট ধরে, সেখানে একটা বই খুঁজে যাচ্ছে কিন্তু কোথায় খুঁজে পাচ্ছে না।
মেডিক্যালের পড়াশোনা শেষ করছে আদ্রিয়ান, প্রায় তিন থেকে চারবছর আগে। এখন তার পুরাতন বই কোথায় রেখেছে, তার মনে পড়ছে। তবে সাধারণ বইগুলো গেস্ট রুমে, বা ইস্টোর্র রুমে রাখা হয়। ইস্টোর্র রুমে রাখা হয়নি বই, মনে হয় গেস্ট রুমে রয়েছে। গেস্ট রুমের টেবিলে, তার সকল পুরাতন বই সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
আদ্রিয়ানের মনে পড়ে, গেস্ট রুমে মেঘ থাকবে আজ থাকে। এতো রাতে কি মেঘের রুমে যাওয়া তার ঠিক হবে? মেঘ হয়ত ঘুমিয়ে পড়েছে? কিন্তু তার ওই বইটা সত্যি খুব প্রয়োজন । আদ্রিয়ান কিছুটা ইতস্তত বোধ করছিল, মেঘের রুমে যেতে। তবে বইটা তো মেঘের পড়াশোনার জন্য ও দরকার, মেডিক্যালের ক্লাসে মেঘ ও থাকবে। আদ্রিয়ান তার রুম থেকে বের হয়ে, মেঘের রুমের দিকে পা বাড়ায়।
মেঘ তার রুমে বসে পড়াশোনা করছিল। তার বই, ব্যাগ সহ প্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্র, আবিহা আগে থেকেই গেস্ট রুমে এনে দিয়েছে। মেঘ তার বইয়ের পাতায়, কলম গিয়ে মার্ক করেছে তার মনে মনে মুখস্থ করছে পড়া। তখনই হঠাৎ তার রুমের দরজায়, কড়া নাড়ার শব্দ শুনা যায়। মেঘ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে, রাত প্রায় বারোটা বাজে। এতো রাতে মেঘের রুমে কে এসেছে? মেঘ বই বন্ধ করে, চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়। এরপর এগিয়ে যায়, দরজার কাছে। মেঘ দরজার নক খুলে দেয়, তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আদ্রিয়ান। এতো রাতে আদ্রিয়ান তার রুমে কেনো এসেছে? মেঘ আদ্রিয়ানকে প্রশ্ন করে ——
“- আদ্রিয়ান স্যার আপনি এতো রাতে, হঠাৎ আমার রুমে?
আদ্রিয়ান ও মেঘের দিকে তাকায়, তার মাথায় হঠাৎ দুষ্ট বুদ্ধি উদয় হয়। আদ্রিয়ান এক _ পা, এক_ পা করে, মেঘের দিকে এগিয়ে আসে। মেঘ কিছুটা পিছিয়ে যায়, আদ্রিয়ান বলে উঠে ——
“- কেনো মেঘ এতো রাতে কি? তোমার রুমে আসা যায় না?
আদ্রিয়ান মেঘের দিকে এগিয়ে আসে, আর উত্তর দেয়। মেঘ পিছিয়ে যেতে থাকে, মেঘ ধীরে ধীরে পিছাতে পিছাতে টেবিলের কাছে গিয়ে পৌঁছায়। টেবিলের কোণায় তার কোমড় আটকে যায়, আদ্রিয়ানের মেঘকে জ্বলাতে বেশ মজা লাগছিল। মেঘের ভীতু ভীতু চেহারা, শুকনো ঢুক গিলা সবকিছু বেশি ইনজয় করছিল সে। আদ্রিয়ান ও কম যায় না, সে ও টেবিলের কাছে এগিয়ে যায়। মেঘের খুব নিকটে, এরপর মেঘের টেবিলের কোণায় দুই হাত রাখে। মেঘের কাঁধের কাছে, মুখ নেয়।
আদ্রিয়ানের এমন কাছে আসায়, মেঘ কিছুটা কেঁপে উঠে। সে চোখ বন্ধ করে বলে উঠে —–
“- আদ্রিয়ান স্যার কি করছেন?
আদ্রিয়ান মেঘের সাথে আর একটু ঘনিষ্ঠ হলো, এরপর ওর হাত টেবিলের কোণা থেকে সরিয়ে। মেঘের কোমড়ের পাশ দিয়ে নিয়ে, টেবিলের উপরে সারিতে থাকা বইয়ের কাছে নেয়। এরপর কাঙ্খিত বইটা হাতে নিয়ে, মেঘের থেকে দূরে সরে গিয়ে বলে —–
“- বই নিতে এসেছিলাম। মেডিক্যাল স্টুডেন্টের পড়াশোনার জন্য, এই বইটা প্রয়োজন। তাই এতো রাতে, তোমার রুমে এসেছি মেঘ —-.
আদ্রিয়ানের মুখে হঠাৎ বইয়ের কথা শুনে, মেঘ চোখ খুলে তাকায়। সত্যি আদ্রিয়ানের হাতে বই, তবে কি এতোখন টেবিল থেকে বই নেওয়ার জন্য মেঘের কাছে এসেছিল? আর মেঘ কি না কি ভেবে বসেছিল? মেঘ বলে —-
“- ওহ আপনি বইয়ের জন্য এসেছেন? আমি আবার অন্য কিছু, কি ভাবলাম —-.
আদ্রিয়ান যানে মেঘ কি ভাবতে পারে, আদ্রিয়ান তার দুষ্ট হাসি লুকিয়ে রেখে বলে —
“- ওয়েট মেঘ তুমি অন্য কি চিন্তা করছিলে? যে আমি তোমার এতো কাছে এসে, তোমার সাথে উল্টো পাল্টা কিছু করব? শোন মেঘ আদ্রিয়ান রোদায়ানের তোমার প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নাই, আর তোমার মতো মেয়ের সাথে কিছু করার কথা আমি দুঃসপ্নে ও ভাবতে পারি না —–.
আদ্রিয়ান কি বললো, মেঘের মতো মেয়ে মানে? ও কি মেঘকে অপমান করল? মেঘ রাগান্বিত কণ্ঠে বলে উঠে
“- কি বললেন আপনি আদ্রিয়ান স্যার। আমার মতো মেয়ের সাথে আপনি কিছু করবেন না মানে? কেনো কিছু করবেন না? আমার মধ্যে কিসের অভাব রয়েছে? আমি সুন্দরী, শিক্ষিত, তবুও কেনো কিছু করবেন না?
মেঘের কথা শুনে, আদ্রিয়ানের হাসি থামিয়ে রাখতে কষ্ট হচ্ছে। আদ্রিয়ান সন্দেহ বোধক দৃষ্টি নিয়ে মেঘের দিকে তাকিয়ে বলে —-
“- মেঘ তুমি কি চাও? আমি তোমার সাথে কিছু বলতে কি করব? তুমি কি বলতে চাও, যে আমি তোমার সাথে বাস—-.
মেঘ বুঝতে পারে, সে রাগের মাথায় কি বলে ফেলেছে। তাই আদ্রিয়ানের কথা শেষ হওয়ার আগেই, মেঘ বলে উঠে —-
“- চুপ করুন আপনি। আর রুম থেকে যান।পড়াশোনা করব আমি —.
“- ওকে চলে যাচ্ছি। বাই মেঘ —.
তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ১৮
আদ্রিয়ান চলে যেতেই, মেঘ রুমের দরজা বন্ধ করে দেয়। আর শতখানিক গালি দেয়, যদি টেবিল থেকে বই নেওয়ার থাকত। তবে মেঘের এতো কাছে আসার কি দরকার ছিল? সয়তান, খবিশ, বেডা।
আমি প্রতিদিন রোমান্টিক পর্ব লেখার চেষ্টা করি। কিন্তু সময়ের অভাবে হয় না। তবে কাল চেষ্টা করব অবশ্যই রোমান্টিক কিছু লেখার।
