দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ৩+৪
আনায়া আফরিন
তিন পুরুষের হৃদয় যেনো থমকে গেলো!
আদিল বিস্মিত নয়নে তাকিয়ে রইলো তার মেহেরের দিকে।২৫ বছর বয়সী নারীর রুপ যেন ঝলঝল করছে তার চেহারায়।গোলাকার চক্ষুদ্বয় যেনো আদিলকে বুঝাচ্ছে যে সে কি হারিয়েছে!আদিল এক নজরে তাকিয়ে রইলো!
এরিক হতভম্ব হয়ে গেলো।চার বছর আগে এক বৃষ্টির দিনে এই নারীটাকেই তো সে প্রথম দেখেছিলো ভার্সিটির মাঠে বৃষ্টিতে ভিঝতে।তারপর মেয়েটা হারিয়ে গেলো।বৃষ্টির দিনের সেই মেঘকন্যার কাছেই এরিকের হৃদয় রয়ে গেলো!এই কন্যার জন্যই তো এরিক সন্ন্যাসী থাকার পণ করেছিলো!
এরিদের নজর আটকালো মেহেরের পাশে মাথা নিচু করে বসে থাকা মেয়েটির দিকে।১৯ বছরের শ্যামবর্ণ মেয়েটির মুখখানায় যেনো সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং এক আকাশ সমান মায়া দিয়ে রেখেছে।চোখ দুটো টানা।ঘোমটা সেও দিয়েছে।তবে ঘোমটার নিচেই দেখা যাচ্ছে তার হাটু সমান সোজা চুলগুলো!
তিন পুরুষ আটকে গেলো এই দুই নারীতে।আফরিন তাদের এই অবস্থা দেখে এরিদকে চিমটি কাটলো।এরিদ এবার আহ্ উচ্চারণ করে হুশে ফিরলো!
আফরিন তাকে খোচা মেরে বললো-
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“যদি আমার অনিশ্চিত ভাবীর বোনের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকো তাহলে ব্যাপারটা পরে এরিক ভাইয়াকে বলবো কিন্তু যদি স্বয়ং ভাবীর দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকো তাহলে কিন্তু মানবো না কারণ আমার দ্বিতীয় ভাইয়ের মাথার সাথে চরিত্রেও সমস্যা যে তা কিন্তু আমি ভাবিনি”
এরিদ-“আমি তোর বড়।কথা ঠিকমতো বল না হয় থা*পড়ে গাল ফা*টিয়ে দিবো!”
আফরিন মুখ ভেঙচি দিয়ে এরিককে বলে উঠলো-
“ভাইয়া কি করছো?চোখ নামাও।পছন্দ হলে বলো আন্টি আর আদিল ভাইকে বলি এভাবে আগে আগেই এমন করে তাকিয়ে থাকলে তারা খারাপ বলবে!”
এরিক-“আমার একেই চাই বোন”
আফরিন-“সত্যি?”
এরিক-“তিন সত্যি”
এরিকের দিকে তাকিয়ে মিতালি বেগম বলে উঠলেন-
“বাবা কিছু সমস্যা? ”
আফরিন-“না না আন্টি ভাইয়া বলছে মেয়ে তার পছন্দ হয়েছে খুউউব!”
মিতালি-“তাহলে তো ভালো খবর”
এরিদ-“আন্টি আপনাদের মত আমাদের অবশ্যই জানাবেন।দু’পক্ষের মত মিললে না হয় সামনে আগাবো আর আন্টি আমরাই আমাদের একে অপরের গার্জিয়ান।কারণ বাবা-মা তো আগেই চলে গিয়েছে তা তো জানেনই আন্টি!”
মিতালি-“আমাদেরও ছেলে পছন্দ বাবা!দু’পক্ষেরই যেহেতু পছন্দ তবে কথা এগিয়েই রাখি”
এরিদ-“হ্যাঁ হ্যাঁ এতে আমাদের কোন আপত্তি নেই”
আলতাফ-“তাহলে সামনের মাসেই রাখি বিয়ের তারিখ বাবা কি বলো?”
এরিদ-“আপনার যা বলবেন তাই হবে আঙ্কেল!”
এরিক এতোক্ষণ কেবল শ্রোতা হয়ে শুনছিলো সব মেহেরের দিকে তাকিয়ে।সে চুপচাপই রইলো!অতঃপর আফরিন বলে উঠলো-
“তাহলে ভাইয়া আর ভাবিকে আলাদা কথা বলার জন্য একটু সময় দেওয়া হোক!”
আলতাফ-“হ্যাঁ অবশ্যই”
মিতালি-“মেহের যাও তাকে তোমার ঘরটা ঘুরিয়ে নিয়ে আসো!”
রুদ্ভিকা উঠে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো।মেহেরও চুপচাপ উঠলো।এরিকও উঠলো।দু’জন হাটা ধরলো।আর এরিদ রুদ্ভিকার যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো।
আফরিন এখনও মিতালি আর আলতাফ চৌধুরীর সাথে বকবক করেই যাচ্ছে।মনে হচ্ছে তারা তার বহু জন্মের চেনা!আদিল সেই যে মেহেরের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে মাথা নিচু করেছে আর উঠায়নি।তবে এখন সে মেহেরের যাওয়ার পানে তাকালো!আদিল আপন মনে বলে উঠলো-
“যেদিন তোমাকে হারালাম সেদিন ভাবলাম এর চেয়ে বড় দুঃখ আর কি হতে পারে!আজ অন্য কারো সাথে তোমাকে দেখে বুঝলাম সেটা তো কেবল দুঃখ ছিলো তবে এটা যে কিছু সময়ের মাঝেই আমাকে ধ্বংস করলো!”
তাকিয়ে রইলো সে তাদের যাওয়ার পানে!মেহের একবার ঘাড় ঘুরিয়ে আদিলকে দেখলো।এতোক্ষণ তার উপস্তিতি অনুভব করলেও তার দিকে তাকায়নি একবারও।তবে এখন তাকাতেই দু’জনের চোখাচোখি হলো।একজনের চোখে আফসোস ছিলো আরেকজনের চোখে তাচ্ছিল্য ছিলো।
~~এরিকের সাথে নিজের রুমে যাওয়ার পর মেহের দেখে আনায়া সেই যে বিছানায় উবুদ হয়ে শুয়ে আছে এখনো সেই অবস্থাতেই আছে।তাই সে কিছু না বলে চুপচাপ এরিককে নিয়ে রুদ্ভিকার রুমে যায়।রুদ্ভিকা তাদের যেতে দেখে মেহেরের রুমে এসে পড়ে!
রুদ্ভিকার রুমে যাওয়ার পর মেহের আর এরিক বরাবর দাড়ালো।মেহের নিশ্চুপ।তাই এই নিস্তব্ধতাকে ভেঙে এরিক বলে উঠলো-
“আপনার নামে জানতে পারি?”
মেহের নিচু গলায় জবাব দিলো-
“মেহের”
এরিক-“আপনি কি এই বিয়েতে রাজি”
মেহের-“বাবা-মা যেই সিদ্ধান্ত নেবে আমিও সেটায় রাজি”
এভাবে আরো কিছু টুকটাক কথা বললো তারা।মেহের এ অব্দি একবারও এরিকের দিকে তাকায়নি।অথচ এরিক একবারও মেহেরের থেকে চোখ সরায়নি!কথা শেষ করে তারা উভয়ই নিচে যায়।আগামী মাসে বিয়ের ডেইট ফাইনাল করে তারা বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেয়।তখন এরিদ বলে উঠলো-
“আদিল ভাই তুমি না হয় পরে যাও।আমরা চলে যাবো!”
আদিল এবার কেবল মাথা নাড়ালো!এরিক কিছু বললো না।সে সম্পুর্ন আদিলকে একবার পরখ করে রওনা দিলো বাড়ির উদ্দেশ্য।বাড়ি থেকে তারা যাওয়ার পর মিতালি আদিলকে বলে উঠলো-
“বাবা কিছু খেয়ে নে আমি যদি জানতাম তুই আসবি তাহলে তোর পছন্দের কিছু রান্না করে রাখতাম!”
“ব্যাপার না ফুপ্পি,আমার এমনেও খিদে নেই!”
“খিদে না থাকলেও খেতে হবে।আনায়া টাও সেই কখন এলো অথচ মেহেরের রুম থেকে বেরই হলো না।মেহেরকেও রুদ্ভি নিয়ে আসলো”
আদিল কিছু না বলে মলিন মুখে বসে রইলো!সে চলে যাচ্ছিলো তবে আলতাফ আর মিতালি তাকে খালি মুখে পাঠাতে নারাজ।মেহমানদের সাথে বসেও ছেলেটা কিছু খায়নি।তাই আদিল তাদের জোরাজুরিতে খেতে বসলো!
অন্যদিকে মেহেরের রুমে যাওয়ার পর আনায়াকে এখনও সেভাবে পড়ে থাকতে দেখে রদ্ভিকা একটু চমকালো!
সে তার পাশে বসে বললো-
“আপায় ঠিক আছো?”
আনায়া রুদ্ভিকার দিকে তাকিয়ে সাথে সাথে জিজ্ঞাসা করলো-
“তারা কি বলেছে?”
রুদ্ভিকা তার এমন অবস্থা দেখে একটু অবাক হলো তবে শান্ত গলায় বললো-
“পাত্রী পছন্দ হয়েছে।আগামী মাসে বিয়ের তারিখ ঠিক করে গিয়েছে!”
আনায়া এতোক্ষণ যাও চোখের পানি আটকে রেখেছিলো এবার তা টুপটুপ করে বইতে শুরু করলো!রুদ্ভিকা তা দেখলো কি না বোঝা গেলো না তবে সে উঠে মেহেরের কাছে চলে গেলো!
অন্যদিকে খাওয়া শেষে আদিল জিজ্ঞাসা করলো আনায়া বাসায় যাবে কি না!মিতালি বললেন যে সে কালকে যাবে একদিন থাক।অতঃপর আদিল আচ্ছা বলে বের হতে নিলেই আলতাফ বলে উঠলো-
“তুমি মেহেরের সাথে দেখা করেছো বাবা?”
“না আঙ্কেল।তবে অন্য একদিন এসে দেখা করে যাবো!এছাড়াও তার তো এখন বহু সুখ দেখা বাকি!”
এটা বলেই সে হনহন করে চলে গেলো!
পিছনে ফেলে গেলো তার আফসোসের নিঃশ্বাস।না পাওয়ার বেদনা।পাওয়ার সুযোগ থাকতেও হারানোর যন্ত্রণা!
অন্যদিকে মেহেরের রুমে রুদ্ভিকা প্রবেশের পর দেখতে পেলো মেহের কোথাও নেই।অবাক হলো আবার একটু ভয়ও পেলো।কেননা সন্ধ্যায় মেহের কোথায় বের হয় না।রুদ্ভিকা ওয়াশরুমে খুজলো তবে পেলো না।এবার একটু ভয় পেলো।দ্রতু বারান্দায় গেলো।দেখতে পেলো মেহের চিত হয়ে শুয়ে আছে বারান্দায়। এই বর্ষাকালের ঠান্ডা বাতাসে মেয়েটার এই অবস্থা দেখে রুদ্ভিকা ভয় পেয়ে মেহেরের কাছে গেলো!দেখতে পেলো মেহের চোখ বন্ধ!এবার সে মেহেরকে ডাকা শুরু করলো!
তিনবার ডাকার পরই মেহের চোখ খুললো!রুদ্ভিকা জিজ্ঞাসা করলো-
“কি হয়েছে চন্দ্রফুল?”
“আমি অন্য কারো হবো,যার হতে চেয়েছি তার সামনেই অন্য কারো হয়ে হবে।এই দুঃখ যে আমি সইতে পারবো না!”
“তাহলে বিয়ে টায় না করে দাও!”
“অসম্ভব”
“কেন?”
“বাবার মনক্ষুণ্ণ হবে আর এটা আমি একদমই চাই না!”
“চন্দ্রফুল উঠো এখান থেকে ঠান্ডা লাগবে তোমার!”
রুদ্ভিকা মেহেরকে ধরে উঠালো।নিয়ে খাটে বসালো।সেখানে আনায়া আসলো!সে মাত্রই খেয়ে এসেছে।মিতাল জোর করে খাইয়েছে তাকে।মেহেরের এমন এলোমেলো অবস্থা দেখে আনায়া বললো-
“কি হয়েছে?”
রুদ্ভিকা-“তুমি যেই শোক বইছো সেও সেই শোকেই কাতর”
এটা বলে সে চলে গেলো মেহেরের জন্য খাবার আনতে!তখন আনায়া বললো-
“তুমি তো পাচ্ছো তাই তোমার শোক কিসের মেহের?”
মেহের জন্য অবাকে হা হয়ে গেলো।আনায়া কারণ বোধহয় বুঝলো-
“অনেক বছর ধরে যাকে ভালোবাসি তাকে অন্য কারো হতে দেখছি আবার এমন কারো যে তার ভালোবাসা বুঝবে না,তার মূল্যায়ন করতে পারবে না তার হতে দেখছি।তাই একটু অভিমান হয়েছে আরকি আমার।চিন্তা করো না সময়ের সাথে অভিমান কমলে তুমি থেকে তুই বলবো নে।আপাতত মেহের আর তুমি এই দুইটা শব্দেই অভিমান থাক!”
মেহের-“তোর গল্পে কি আমি ভিল্যান হয়ে গেলাম অনু?”
আনায়া-“মোটেও না।প্রথমত এই গল্প কখনো আমার ছিলো না।আজীবন তৃতীয় ব্যক্তি হয়েই থেকেছি!আর দ্বিতীয়ত এই গল্পে কোন ভিল্যান নেই।এই গল্পে যা হবে সব নিয়তি দ্বারা হবে!”
মেহের-“আচ্ছা মানলাম”
আনায়া-“জানো মানুষ বাচে কিসে?”
মেহের-“তোর ভাই শিখিয়েছে অবহেলায়”
আনায়া-“সে শিখায়নি তুমি পরিস্থিতি ভেদে শিখেছো!ভাইয়ের চোখে আমি এখন তোমাকে না পাওয়ার ছটফট দেখতে পাই!”
মেহের-“প্রকৃতি হিসাব বরাবর করে নেয়।এখন বল মানুষ বাচে কীসে?”
আনায়া-“মানুষ বাচে কীসে তা জানি না তবে তুমি বাচো সুনিশ্চিত আশায় আর আমি বাসি অনিশ্চিত অপেক্ষায়।যেমন তুমি জানো তোমার জীবনে কেউ আসবেই।ভালো হোক বা মন্দ আসবেই দেখেছো এসেছেও আর বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা পুরুষটা এসেছে!আর আমার অপেক্ষা অনিশ্চিত।এতোদিন যাও আশায় ছিলাম এখন সে অন্য কারো হবে।তাকে আর এই জনমে আমার পাওয়া হবে না!”
মেহের-“আমার জীবনে বিশ্বের সেরা দ্বিতীয় পুরুষটা এসেছে তা তুই কীভাবে জানলি?”
আনায়া-“বলে ফেললাম আরকি!এখন যাও তুমি।আজ এই ঘরে আমি একা ঘুমাবো”
মেহের কিছু না বলে চুপচাপ চলে গেলো।আনায়া বিছানায় শুয়ে রইলো!
~এরিদ আর এরিক বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিজেদের রুমে বসে আছে।আর আফরিন কখনো এ ভাইয়ের রুমে তো কখনো আরেক ভাইয়ের রুমে ছুটছে।আপাতত এরিদের ঘরে সে।এরিদ বললো-
“এই গাধি এভাবে ছুটছিস কেন তুই?”
আফরিন-“আমার গাধা ভাইয়ের প্রেমে পড়া চেহারাটা দেখছি বারবার!”
এরিদ-“বেশি পেকে যাচ্ছিস।যা এখন ঘরে।রাত হচ্ছে গিয়ে শুয়ে পড়!”
আফরিন-“উচিত কথা বললেই পাকাপাকি শুরু।শুনো তুমিও একটু ঘুমাও।রুদ্ভিকাকে তোমার জন্যই আনবো চিন্তা করো না।ভাইয়ের বিয়ে শেষ হলে তোমার টা বলবো!ঠিক আছে এখন প্রেম প্রেম নিয়ে শুয়ে পড়ো!”
এরিদ-“এই আমি তোর বড় ভাই।কি বলছিস এসব ইচড়েপাকা।যা বের হ আমার রুম থেকে!”
আফরিন যেতেই এরিদ আপন মনে হেসে ফেললো আর বললো-
“আমার হৃদয়ের এই তোলপাড় তুমি আসার আগ অব্ধি চলতেই থাকবে।তোমাকেই আমি আমার অর্ধাঙ্গিনী করবো!”
অন্যদিকে এরিক তার রুমে বসে আছে।খুশি যেনো তার সইছে না।তবে এসময় তার মনে পড়লো বাবা-মার কথা।ইশ তারা থাকলে পরিপূর্ণ হতো সব।সৃষ্টিকর্তা কোথাও না কোথাও কিছু অপুর্নতা রেখে দেন।এরিদ ফোনটা বের করে ফেসবুকে ঢুকে আজকের তোলা একটা ছবি দিয়ে চট করে পোস্ট করলো!তার সেই রাত গেলো মেহেরের কথা ভাবতেই ভাবতেই!
রাত গভীর সবাই ঘুম।একজনের চোখে ঘুম নেই তা হলো আনায়া।চোখ তার ফুলে আছে এখনো।তার মোবাইলে হঠাৎ করেই টুং করে একটা শব্দ হলো।সে হাতে নিয়ে দেখলো তার ডাক্তার সাহেব কি যেনো পোস্ট করেছে।সে দ্রুত ঢুকলো নোটিফিকেশন দেখে।অতঃপর দেখলো আজকের গেট-আপের ছবি দিয়ে পোস্ট করেছে।ক্যাপশনে লিখা “শত অপেক্ষার পর বৃষ্টির দিনের হারিয়ে যাওয়া রাজনন্দিনীর দেখা পেলাম অবশেষে!”
আজ যেনো দুঃখরা পণ করেছে আনায়ার সঙ্গী হওয়ার।তাই তো মেয়েটা বারবার দুঃখ পাচ্ছে আর প্রতিবার দুঃখ আরো বড় হচ্ছে।সে কখনো এরিকের পোস্টে কমেন্ট করে না কেবল দেখে রিয়েক্ট দেয়।তবে আজ সে কমেন্ট করলো-
“যেই নারী আপনার ভালোবাসা উপেক্ষা করবে আজীবন,সেই নারীর জন্য অপেক্ষা করা কি বোকামি নয়!?”
আনায়া এতোটুকু বলে রেখে দিল।কিছুক্ষণ পর দেখলো এরিক রিপ্লাই দিয়েছে।সে থমকে গেলো।এরিক সচরাচর তার বন্ধু,ভাই এবং বোন ছাড়া কাউকে রিপ্লাই দেয় না!সে টুস করে ডুকলো নোটিফিকেশনে।দেখলো তার ডাক্তার সাহেব উত্তর দিয়েছেন-
“কারো উপেক্ষা করা নারীকে ভালোবেসে তার জন্য অপেক্ষা করা যদি বোকামি হয় তবে এই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বোকা পুরুষটা আমি হতে চাই!”
নিজের এতো বছরের ভালোবাসার চোখে অন্য কারো জন্য এমন অগাধ ভালোবাসা দেখে আনায়ার চোখ যেনো এবার বাধ ভাঙা নদী হলো।পানি পড়ছে অনবরত চোখ দিয়ে আর সে মেসেজ টা দেখছে।দীর্ঘ ৮ মিনিট পর সে দেখলো তার মেসেজের আবার কেউ রিপ্লাই দিয়েছে।একটা অচেনা ছেলে লিখেছে তাকে-
“যেই পুরুষ সর্বদা আপনার ভালোবাসাকে উপেক্ষা করবে সেই পুরুষের জন্য প্রতিদিন পুড়তে থাকা কি বোকামি নয় মিসেস?একটু আশেপাশে দেখুন আপনার জন্য একটা পুরুষ কী বাজে ভাবে প্রতিনিয়ত পুড়ছে।”
আনায়া এই মেসেজটা দেখে অবাক হলো। কে হতে পারে এটা।তবে এরিকের উত্তরের পীড়া তাকে আবার হানা দিয়ে উঠলো।সারারাত আর তার ঘুম হলো না!
দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ১+২
সকাল ৯:৪০!আদিলের ফোন বাজছে অনবরত।আদিল একটু বিরক্ত হয়ে ফোন তুলে দেখলো আনায়া।সে বড্ড অবাক হলো।যেই মেয়ে কি না বাসায় থাকলেই ১১ টার আগে ঘুম থেকে উঠে না সে আবার ফুফুর বাসায় গিয়ে ৯:৪০ এ কল দিচ্ছে তাকে।সে তড়িঘড়ি করে কল ধরলো।ওপাশ থেকে অত্যন্ত করুণ আর ধীর গলায় একজন রমণী বলে উঠলো-
“একা একা কেন দুঃখবিলাস করছো?আমাকে এসে নিয়ে যাও সাথে ভাইয়া”
আদিলের হৃদয় যেনো মুচড়ে উঠলো!
