দাহশয্যা পর্ব ৬০
Raiha Zubair Ripti
এজওয়ানের ল্যাপটপ খুঁজেও তেমন আহামরি তথ্য পেলো না মাহি। এখন শুধু বাকি আছে এজওয়ানের স্টুডেন্ট একাউন্ট লগইন করা। মাহি মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে ঢুকলো। স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্টের অপশনে ঢুকে বলল-
“ আইডি নম্বর বলুন। ”
এজওয়ান আয়েশ করে বসে বলল-
“ বললে কি দিবে শুনি? ”
“ এক মগ কফি বানিয়ে খাওয়াব। ”
“ তোমার হাতে কফি খাওয়ার চেয়ে না খেয়ে থাকা বেশি শ্রেয়। যদি বিরিয়ানি রেঁধে খাওয়াও তাহলে বলবো। ”
“ আমি রান্নাবান্না পারি না। ”
এজওয়ান পাশ থেকে কুশান মাহির মুখে ছুঁড়ে দিয়ে বলল-
“ শালি তুই জামাকাপড় ধুইতে পারিস না,রান্না বান্না পারিস না,জামাই আদর করতে পারিস না তাইলে কোন বাল ফালাইতে বিয়ে করতে গেছিলি তোর এক্স রে? ”
মাহি পাল্টা কুশান ছুঁড়ে দিয়ে বলল-
“ আমি কি কামলা যে এসব করবো? আর তাছাড়া সাফওয়ান সব জেনেই আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে। সাফওয়ান রাঁধতে পারে, জামাকাপড় ধুতে পারে। ”
এজওয়ান ভ্রু কুঁচকালো এ কথা শুনে।
“ গরিবস শালা। বোধহয় কাজের লোক রাখার মতন টাকা পয়সা নেই। ”
“ যথেষ্ট টাকা পয়সা আছে ওদের। ওর বাবা ঢাবির শিক্ষক, ও সিআইডি। কোথায় কমতি লাগে? ওর বাবা ওকে মানুষের মতন মানুষ বানিয়েছে। ”
“ তাহলে আমি কি অমানুষ শালি? ”
“ সেটা নিজের স্বত্বা কে জিজ্ঞেস করুন। উত্তর পেয়ে যাবেন। ”
“ আমার স্বত্বা তো আমায় বলে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে ভদ্র, গুড লয়্যাল, একটা নিষ্পাপ ফুলের মতন স্নিগ্ধ পারসন। ”
“ ঝগড়ার মুডে নেই আমি। আইডি নম্বর বলুন। ”
“ 017..”
“ তারপর? ”
“ ভালোবাসা দিবেন? ”
মাহি রেগে তাকালো।
“ 75490426 ”
“ পাসওয়ার্ড? ”
“ দাও আমি লিখে দিচ্ছি। বলা যাবে না। ”
“ কেনো বলা যাবে না? যা নোংরা পাসওয়ার্ড তা তো আগেই দিয়েই ফেলছেন। এটায় আবার কি দিছেন? বলুন বলছি। ”
“ তুমি সহ্য করতে পারবা না। ”
“ পারবো বলুন। ”
“ এজওয়ান কে ভালোবাসতে না পারলে মাহি তুমি গু খাও। ”
মাহির চোখ কঠোর থেকে কঠোর হলো। ছি কিসব পাসওয়ার্ড এগুলো? একটা সুস্থ মানুষের পক্ষে আদৌও সম্ভব এসব পাসওয়ার্ড দেওয়া?
“ আপনি একটা নোংরা লোক। ”
“ তারপর? ”
মাহি খুব বিরক্তির সহিত গা গুলিয়ে আসার মতন অনুভূতি নিয়ে পাসওয়ার্ড টাইপ করলো। টাইপ শেষে এজওয়ানের একাডেমিক বায়োডাটায় চোখ বোলাতে যাবে এমন সময় এজওয়ান ল্যাপটপ টা টেনে নিয়ে বন্ধ করে দিয়ে বলল-
“ সময় শেষ তরিকুলের বেটি। আর হাত দিতে পারবে না তুমি ল্যাপটপে। ”
মাহি ভ্রু কুঁচকালো। এজওয়ানের নাম টাই শুধু নজরে ধরতে পেরেছে। সাবজেক্ট কি সেটা দেখতে পারলো না।
“ কেঁড়ে নিলেন কেনো? ”
“ ঐ যে বললাম সময় শেষ। আমার কাজ আছে এখন ল্যাপটপে। ”
“ কি কাজ? ”
“ দেখবে? ”
“ হুমম। ”
আসো বলেই এজওয়ান মাহির হাত টেনে মাহিকে তার কোলের উপর বসালো। তারপর ল্যাপটপ টা অন করে অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কিসব যেন বানাতে লাগলো।
মাহির ঠিক বুঝতে পারলো না। তাই জিজ্ঞেস করলো-
“ কি বানাচ্ছেন এসব? ”
এজওয়ান মাহির কাঁধে থুতনি চেপে বলল-
“ অনৈতিক কাজকর্ম করার জন্য রাস্তা বানাচ্ছি। এগুলো ব্যবহার করে মাহি তোমাকে আমি পাচার করে দিব যদি আমার সাথে বেশি তিড়িংবিড়িং করো তো। ”
“ মানে! ”
“ মানে তোমাকে বেচে দিব। তোমার দাম কত নির্ধারণ করবো জানো? ১০০ কোটি টাকা উপরে। সাথে তোমার প্রেমিক কেও বেঁচে দিব। ওটারে আমি মাগনাই বেচে দিব। ওটার দাম নেই আজকের বাজারে। ”
মাহি এজওয়ান কে ধাক্কা দিয়ে বসা থেকে উঠে গেলো। যত্তসব ফাউল কথাবার্তা।
এজওয়ান ফের চেপে ধরলো মাহি কে। মাহি ছটফট করতে লাগলো। এজওয়ান সেটা দেখে বলল-
“ ধুর বেডি শান্ত হয়ে বসে থাক, নড়িস না। ”
“ আপনি মেলবোর্নে কোন সাবজেক্ট নিয়ে পড়াশোনা করতেছেন? ”
“ প্রেম বিষয়ক সাবজেক্ট দিয়ে। ক্লাস করবে এটার? সেই জোশ একটা সাবজেক্ট। এ টু জেট বোঝাতে পারি আমি। ”
“ এসব ফালতু সাবজেক্টের ক্লাস আমি করি না। ”
“ তাহলে আর কি করার, চলো প্রেম করি তাহলে। রাত তো অনেক হলো। মুড এসে গেছে তোমার হটনেস দেখে। ”
মাহি কনুই দিয়ে এজওয়ানের বুকে গুতা দিয়ে বলল-
“ ওসব ছাড়া কিছু বুঝেন না,অসভ্য ব্যাডা ? দূরে সরুন। ”
এজওয়ান মাহির গলায় মুখ ডুবিয়ে দিয়ে মৃদু গলায় গাইলো-
“ আয় না কাছে ও সুন্দরী, মনে চায় তোর সাথে পিরিত করি। যতই মারিস তুই ঝাড়ি ঝুড়ি, মেয়েদের ঠিকানা শ্বশুর বাড়ি, পুরুষ ছাড়া কি বাঁচে নারী? ”
মাহি এজওয়ানের নাক চেপে ধরে বলল-
“ এমন পুরুষের গুল্লি মারি। কথা শুনে মনে হয় ধোলাই করি। যতই দেখাস তুই সেয়ানা গিরি,মনে করিস না আমি দুই নম্বরি, তোর পিরিতের মুখে আমি ঝাটা মারি। ”
এজওয়ান সাথে সাথে মাহি কে পাঁজা কোলে নিয়ে বিছনার দিকে এগোতে লাগলো। মাহি গলা চেপে ধরলো এজওয়ানের। এজওয়ান চোখ মুখ কুঁচকে বলল-
“ ভুটকির ঘরে ভুটকি দিন কে দিন ভুটকি হচ্ছে। কি ওজন, মনে হচ্ছে ১৫০ কেজির বস্তা কোলে নিছি। শালি জিমে যাবি কাল থেকে। বসে বসে খাচ্ছিস তিন বেলার জায়গায় চার বেলা আর চর্বি জমাচ্ছিস শরীরে। চর্বি ছুটাবি শরীর থেকে। ”
মাহি এজওয়ানের গলায় চিমটি দিলো। কতবড় সাহস তাকে ভুটকি বলা! এজওয়ান ভুটকা,ওর বাপ ভুটকা,ওর চৌদ্দ গুষ্টি ভুটকা।
এজওয়ান মাহি কে বিছানায় ছেড়ে দিয়ে হাঁপানোর অভিনয় করলো। যদিও মাহি অতো মোটা নয়। একদম পারফেক্ট ফিগারের। তবুও এজওয়ানের মজাই লাগে তরিকুলের বেটি কে রাগাতে। মাহি উঠে আসতেই এজওয়ান মাহি কে চেপে ধরে বলল-
“ আরে তরিকুলের বেটি উঠতেছো কেনো? ”
“ তো কি করবো? ভুটকি কেনো বললেন আমাকে? লজ্জা করে না আবার খোঁটা দিলেন খাওয়ার? আমার কাছে আসবেন না। আসলে ভালো হবে না কিন্তু। ”
এজওয়ান তড়িঘড়ি করে শার্ট খুলে মাহির গলায় ঠোঁটে অসংখ্য চুমু খেয়ে বলল-
“ এসে গেছি কাছে,প্লিজ ডার্লিং.. আঁখোঁ সে আঁখে চার কারনে দো, রোকো না রোকো না মুঝকো পেয়ার কারনে দো। ”
কটেজের সামনে কাঠের রেলিঙের উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে পানি দেখছে ঊর্মি। রুমাইসা মুড অফ করে শুয়ে আছে। ইয়াসিন আর ইব্রাহিম হেঁটে যাচ্ছিলো ঐ পথ দিয়ে। ঊর্মি কে দেখে ইব্রাহিম হাঁটা থামিয়ে দিয়ে ইয়াসিন কে যেতে বলে ঊর্মির কাছে আসলো। গলা খাঁকারি দিয়ে বলল-
“ আসসালামু আলাইকুম বেয়াইন সাব। ”
ঊর্মি ইব্রাহিমের দিকে তাকিয়ে বলল-
“ ওয়ালাইকুমুস সালাম বেয়াই সাব। ”
“ কেমন আছেন বিয়াইন সাব? ”
ঊর্মি বুকে হাত রেখে বলল-
“ বুকে বড় জ্বালা। ”
ইব্রাহিম জানতে চাইলো-
“ কিসের জ্বালা বিয়াইন সাব? ”
ঊর্মি তপ্ত শ্বাস ফেলে বলল-
“ নয়া প্রেমের জ্বালা। ”
ইব্রাহিম এবার হেঁসে বলল-
“ এই জ্বালাতে জ্বলে নাই কোন শালী-শালা? ”
“ এখন করণীয় কি মশাই এই জ্বালা থেকে বের হওয়ার? ”
“ বিয়ে। বিয়েই পারে তোমায় এই জ্বালা থেকে মুক্তি দিতে। আমায় করে দেখতে পারো। ট্রাস্ট মি একটুও জ্বালা পেতে দিব না। আদরে সুহাগে ভরে দিব মনটারে। যদি ভালোবাসো তুমি আমারে। ”
“ বাসলাম তারপর? ”
“ তোমার ভাইয়ের সাথে কথা বলি তাহলে? ”
“ বলুন। ”
“ ওক্কে, রুমে যাও আমি কথা বলে আসছি। ”
ইব্রাহিম রুমে চলে আসলো ইমনের কাছে। ইমন অনলাইনে কাজের বিজ্ঞপ্তি দেখতেছে। ইব্রাহিম কে দেখে ফোন বন্ধ করে বলল-
“ কিছু দরকার স্যার? ”
ইব্রাহিম মাথা নেড়ে বলল-
“ একটু কথাবার্তা বলতে আসলাম। ”
“ হুম বলুন। ”
“ তুমি বিয়ে শাদি করবে কবে? ”
ইমনের মুখে আধার নেমে আসলো।
“ করবো না বিয়ে। ”
ইব্রাহিম অবাক হলো।
“ সে কি কেনো? তোমার না ভালোবাসার মানুষ আছে? বিয়ে করবে না কেনো তাহলে? ”
“ ছিলো,এখন আর নেই। ”
“ কেনো কি হয়েছে? ”
“ তার বিয়ে হয়ে গেছে। ”
“ হোয়াট! কবে? জানালেও তো না। জোর করে বিয়ে দিছে? বলতে উঠিয়ে নিয়ে আসতাম। ”
“ না নিজ ইচ্ছেতেই বিয়ে করেছে। আর সে অনেক সুখী আছে। আল্লাহ সব সুখ তার নামে করে দিক। আমার ভাগ্যে যদি কোনো সুখ নামের শব্দ থাকে সেটাও যেনো তার হয়। ”
ইব্রাহিম পাশে বসলো।
“ বিষয় টা কি আমায় খুলে বলো তো? নাম কি? বাড়ি কই মেয়ের? ”
“ দুঃখিত স্যার নাম ঠিকানা আমি জানাতে চাই না। জোর করবেন না। ”
“ আচ্ছা করলাম না জোর। এখন বলো ফিউচার প্ল্যান কি তোমার? বিয়ে শাদি তাহলে আসলেই করবে না? ”
“ না করবো না। ”
“ তোমার বোনের বিয়ে শাদি করাবে না? ”
“ ইন্টার শেষ হলে ভালো ছেলে পেলে দিব বিয়ে। ”
“ কেমন ছেলে চাও বোনের জন্য? ”
ইমন ফোঁস করে শ্বাস ফেলে বলল-
“ খুব সাধারণ, কোনো বাজে স্বভাব নেই। মা বাবা বউ নিয়ে চলার মতন একটা ইনকাম থাকবে,ব্যাস। আমাদের স্ট্যাটাস যেমন, সামর্থ্য যেমন,তেমন ঘরেই দিব বোন কে বিয়ে। ”
“ যদি ছেলে রাজনীতি করে ? ”
“ রাজনীতি করা ছেলের কাছে বোন বিয়েই দিব না সেখানে ছেলে রাজনীতি করার প্রশ্ন আসে কোথা থেকে? আমি কোনো রাজনীতি করা ছেলের কাছে বোন দিব না। ওরা দায়িত্বশীল হয় না, ওরা দূর্নীতি করে। মানুষদের অকারণে মারধর করে পেটায়। ”
“ আমরা কি খারাপ তাহলে বলছো? ”
“ আপনাদের খারাপ কিছু এখনও চোখে পড়ে নি। যেদিন পড়বে সেদিন অবশ্যই বলবো। কিন্তু আপনাদের দল যে খারাপ এটা বলতে বাঁধা নেই। ”
ইব্রাহিম দমে গেলো। আর বললো না তার আর ঊর্মির কথা। ইমন সহজে দিবে না ঊর্মির হাত তার হাতে। অনেক কাঠখড় পোহাতে হবে তাকে।
ঢাকার আকাশে ভোরের কুয়াশা মিশে আছে, রাস্তায় ধীরে ধীরে মানুষের ভিড় জমতে শুরু করেছে। এ ভিড় শুধু সাধারণ মানুষ নয়, নেতাকর্মী, ছাত্র, ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য সবাই মিলিয়ে এক উত্তেজনার ঢেউ। মার্চের শুরুতেই খবর ছড়িয়েছিল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় আসতে চলেছেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অনুষ্ঠানে।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরকে ঘিরে দেশে ব্যাপক বিতর্ক ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ডান ও বাম উভয় রাজনৈতিক ধারার পক্ষ থেকেই আপত্তি ওঠে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংগঠন তার বিরুদ্ধে গুজরাট দাঙ্গা ও মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তাকে স্বাগত না জানানোর ঘোষণা দেয়।
সমালোচকদের দাবি, বাংলাদেশের সরকার ভারতের সমর্থনেই ক্ষমতায় টিকে আছে। বিশেষত ২০১৪ ও ২০১৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ জোরালো হয়। পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, নাগরিকত্ব ইস্যু ও বিজেপির বক্তব্যও ক্ষোভের কারণ হিসেবে উঠে আসে।
জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম এর সামনে বিক্ষোভ শুরু হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ঢাকার বাইরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম–এ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি স্থাপনা ও স্টেশনে হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিলেও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।
সহিংসতায় অন্তত ১৪–১৭ জন নিহত এবং ৫০০–৬০০ জনের বেশি আহত হন বলে জানা যায়, সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে।
বাশার সুলতান লিভিং রুমে বসে টিভিতে এই খবরাখবর দেখছে। সে শুরু থেকেই ধারণা করেছিল এমন টাই হবে। আর হলোও তাই। তাদের উপর মহল থেকে যা আদেশ দিবে তারা তা মানতে বাধ্য। তারা সেটাই করে যাচ্ছে। আর ভবিষ্যতে তাই করবে।
সোলেমান তেমন খবরাখবর জানে না বাংলাদেশে কি হচ্ছে না হচ্ছে । সে রিলাক্স মুডে তার বিজনেস সামলাতে ব্যস্ত। সব চাচার উপর ছেড়ে এসেছে,সে সামলে নিবে। এখন দেশ রসাতলে যাক না সাগরে ডুবে যাক সেদিকে সোলেমান তাকাচ্ছে না। তাছাড়া বাশার সুলতান ফোন দেয় নি আজ, এর জন্য সোলেমান ও মাথা ঘামাচ্ছে না। জানেও না যে বাংলাদেশ নেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লঙ্কাকাণ্ড ঘটছে। দুপুরে হাউসে ফিরে টিভি অন করতেই বিদেশি নিউজ চ্যানেলে জানতে পারলো খবর গুলো।
জেনেই চাচাকে ফোন দিলো। বাশার সুলতান সব বলল খুলে। সোলেমান শুনে কিচ্ছুটি বললো না, ফোন কেটে দিয়ে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি চাইলো। ম্যেড এসে পানি দিয়ে গেলো।
সোলেমান পানিটা খেতেই লুকা আসলো। সোলেমান লুকা কে নিয়ে লিফট দিয়ে বাড়ির একেবারে নিচ তলায় গেলো। এই নিচ তালার কক্ষে সোলেমান আর লুকা ছাড়া কেউ আসে না। বিশাল এক কক্ষ। কক্ষের এক অংশ জুড়ে টাকার বান্ডিল। সোলেমান লুকা কে বলল-
“ এখান থেকে ২০ কোটি নিয়ে জ্যাকসন কে দিয়ে দিবে। আর দলিল করিয়ে নিবে তার কোম্পানির ৭৫% শেয়ার আমার। ”
লুকা জ্বি স্যার বলে টাকা সুটকেসে ভরতে লাগলো। সোলেমান চেয়ারে বসলো। লুকা গম্ভীর গলায় বলল-
“ স্যার একটা কথা বলবো? ”
সোলেমান বলল-
“ হুমম বলো। ”
“ স্যার মনস্টার কে? ”
সোলেমানের কপালে দু ভাজ পড়লো।
“ হু ইজ দ্যা মনস্টার? ”
“ যাকে বিশ্বের ২৮ টি দেশ পাগলের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছে.. ভিন্ন নামে..ভিন্ন পরিচয়ে! ”
“ হঠাৎ আমাকে জিজ্ঞেস করলে যে? ”
“ আপনি জানেন এর বিষয়ে? বিভিন্ন দেশ থেকে বলা হচ্ছে এই মনস্টার কে খুঁজে বের করলে সরকার তাকে পুরষ্কৃত করবে। কুখ্যাত এক মাফিয়া এটা। নারী পা’চার করে। ব্যাংক লুট করে,আরো কিসব যেন বড়বড় অকাজ করে। ”
“ সরকারের পুরষ্কার তো আমার দরকার নেই লুকা। তোমার প্রয়োজন হলে তুমি খুঁজে বের করো তাকে। ”
“ আপনি একটু সাহায্য করুন। ”
দাহশয্যা পর্ব ৫৯
“ সাহায্য করার কাজ তো আমার না । সাহায্যের প্রয়োজন হলে কোনো প্রশাসনের সাথে গিয়ে হাত মিলাও । মনস্টার যখন আমার ক্ষতি করতে আসবে তখন আমি তাকে খুঁজবো। সে এখন আমার কোনো পাকা ধানে মই দিচ্ছে না তাই আমার ইন্টারেস্টও হচ্ছে না তাকে ধরার। ”
