Home দুইজনাতেই দুইজনাতেই পর্ব ৪৮

দুইজনাতেই পর্ব ৪৮

দুইজনাতেই পর্ব ৪৮
অলকানন্দা ঐন্দ্রি

দ্বিতীর শরীরটা নিথর। কেমন শূণ্য উপস্থিতিতে সাক্ষ্যর বাহুডোরে সীমাবদ্ধ ঐটুকু শরীরটা। অথচ চঞ্চল দ্বিতীর চোখ বোজা। শরীরের লালাভ রক্তের মাখামাখি। অবহেলায় ঝুলে থাকা হাতটা কেমন নিথর হয়ে পড়ে আছে। সাক্ষ্য কাঁদছে। পাগলের মতোই কেঁদেই প্রেয়সীর নরম, লালাভ শরীরটা আগলে নিয়েছে নিজের বুকের মধ্যে। উদ্ভ্রান্তের ন্যায় বলে গেল,
“দ্বিতী, দ্বিতী..এই দ্বিতী? একবার চোখ মেলুন। এই দ্বিতী? দ্বিতী? শুনছেন দ্বিতী? আমায় এভাবে অসহায় ফিল করাবেন না দ্বিতী। চোখ মেলুন। আমি আপনাকে ছাড়া থাকতে পারব না দ্বিতী। পারব। প্লিজ একটাবার চোখ মেলুন দ্বিতী। ”

রক্তে মাখামাখি করা শার্ট পরিহিত যুবকটির পাগলামো তখন আরো অনেকগুলো মানুষ উৎসাহ নিয়ে দেখছিল। সঙ্গী হারানোর ভয় ও যাতনার স্পষ্ট কষ্ট টের পেয়ে বোধহয় কেউ কেউ আফসোস ও করল মেয়েটা বাঁচবে কিনা তা নিয়ে। সাক্ষ্য পাগলের মতোই আঁকড়ে ছিল দ্বিতীর শরীরটা। বার কয়েক ঝাঁকি দিয়েও জিজ্ঞেস করল,
“দ্বিতী, প্লিজ। আর কখনো আপনার সামনে আসব না। কখনো না। আপনার যত ইচ্ছা সময় নিতে পারবেন। নিজের মতো বাঁচতে পারবেন। আমি একটুও আসব না দ্বিতী। ফেরার জন্য রাগও করব না। তবুও প্লিজ চোখ মেলুন। প্লিজ..”
গলা কাঁপে পুরুষটার। পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষ হিসেবে নিজেকে উপলব্ধি করেই নিজেকে শূণ্য মনে হলো তার। কাঁদতে কাঁদতেই দ্বিতীর শরীরটা সে এতোটা শক্তপোক্ত ভাবে জড়িয়ে নিল যেন একটু ছাড় দিলেই মেয়েটা চলে যাবে। তাকে ছেড়ে চলে যাবে
সাক্ষ্যর গলা কাঁপে। চোখগুলো রক্তিম। সাক্ষ্য ওভাবে দাঁড়িয়েই আহত সৈনিকের ন্যায় আওড়াল,
“দ্বিতী, এতগুলো দিন হাজারবার ইগ্নোর করেছেন, অবহেলা করেছেন, দূরে সরেছেন কিচ্ছু বলিনি। কিচ্ছু না। কিন্তু আমায় ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো নিষ্ঠুরতাটা করলে আমি আপনাকে কখনো ক্ষমা করব না। কখনো না। আপনি আমার থেকে অতোটা দূরত্বে সরে যাওয়ার আগে আমার মরণ হোক। তবুও আপনিহীনা একটা জীবন
আমায় স্রষ্টা কখনো না দিক। কখনো না।”

পাশে দাঁড়ানো চার চারটে মুখ তখন প্রথমবারের মতো সাক্ষ্যর এই রূপটা দেখতে পেল যেন। শক্তপোক্ত, ভাব দেখানো সাক্ষ্যর কান্না, লালাভ মুখশ্রী এবং উদ্‌ভ্রান্তের ন্যায় রূপটা তারা আগে দেখ নি৷ আজ দেখেছে। আজ!কিয়ান শুকনো ঢোক গিলল। নিজের বন্ধুর এমন অবস্থায় তারও চোখ দুটো লাল হয়ে এল। তবে সাক্ষ্যকে শান্ত করার জন্য কাঁধে হাত দিল সে। ধরে আসা গলায় আওড়াল,
“ স্যার, ওর কিচ্ছু হবে না। এম্বুলেন্স আসছে তো। আমাদের দ্বিতুর কিছু হতেই পারে না। ”
সাদাত ততক্ষণে অন্যপাশটায় দাঁড়িয়ে দ্রুত এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করছিল। একটা মুহূর্ত! কেবল একটা মুহূর্তেই যে কি থেকে কি হয়ে গেল ভেবেই উঠেনি কেউ৷ সাদাবের বুকে কি যেন জমে এল বোধ হয়। গম্ভীর মুখশ্রীতে এক নজর চেয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। অতঃপর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এম্বুলেন্স এসে পৌঁছাতেই তড়িঘড়ি করে দ্বিতীকে উঠাল। অতঃপর ঐ বিধ্বস্ত, বিমর্ষ স্থানটা থেকে ওরা সবাই দ্বিতীর এমঐ রক্তাক্ত শরীরটা নিয়ে এই রাত্রিতেই হাজির হলো হসপিটালে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধল তখন যখন হসপিটালে চিকিৎসার না করেও শুধুমাত্র এক্সিডেন্ট কেইস বলে গুরুত্ব দেওয়া হলো না। সাক্ষ্য মানুষটা শান্ত, সভ্য হলেও আজ তা বজায় রাখতে পারল না। বরং নিজের বাবার বয়সী এক ডক্টরেরই কলার চেপে ধরে বিক্ষুব্ধ হয়ে গলা চড়াল। ইচ্ছে মতো গলা চড়িয়ে শেষে একটা গা’লিও উচ্চারণ করল সাক্ষ্য। ডক্টরের গালটা শক্ত করে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠল,

“কথা কানে যায় না? চিকিৎসা না করার ফলে আমার ওয়াইফের কিছু আপনাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। কেউ না। এই হসপিটালেই আপনার সমাধি দেওয়ার ব্যবস্থা করব। মাইন্ড ইট। ”
সাক্ষ্যকে দেখা খেপা এক সিংহের ন্যায়। যেন কোন অসুরী শক্তি তার মধ্যে উপস্থিত। চোখজোড়া কি ভীষণ লালাভ। রেগে থাকার দরুন সমস্ত মুখশ্রীই লালচে ঠেকল৷ কপালে বিস্তর ভাজ। সাথে রক্তে মাখা শার্ট, এলোমেলো চুল আর ঘামে ভোজা বিধ্বস্ত মুখ। যেন খেপা এক প্রাণী। ডক্টর বোধহয় গলা ঝাড়লেন। সে খেপাটে সিংহের আক্রমন থেকে বাঁচতেই বোধহয় বলল, চিকিৎসা শুরু হবে। সাক্ষ্য তবুও নিশ্চিন্ত হতে পারল না। অজানা ভয়, আশংকায় ছটফট করল। শরীর কাঁপল। হাত পা কাঁপল। এমনকি নিঃশ্বাস নেওয়া হয়ে উঠল দুঃসাধ্য এক কাজ যেন।

দ্বিতীর একটা অপরেশন করতে হবে৷ এই অপারেশনের জন্য দুইজন ডক্টর সাক্ষ্য আর সাদিকুর রহমানের সাথে আলাপ করলেন। সাদিকুর রহমান আর অদিতি আহমেদ খবর পেয়েই ছুটে এসেছিলেন। সাক্ষ্যর বাবা মাও এসেছে। আর এরপর থেকেই শুরু হলো অদিতি আহমেদ, সাজিয়া আফরোজের কান্নাকাটি। হসপিটালের শান্ত পরিবেশটাাে গমগমে করে রেখেই দুইজনই কেঁদে যাচ্ছিল। সাজিয়া আফরোজ বোধহয় এই মুহূর্তটায়, প্রথমবারের মতো টের পেলেন এই মেয়েটাকে আজ হারালে উনি নিজের কাছে আজীবন ছোট হয়ে যাবেন। আজীবন! কারণ এই যে তার ছেলে উদ্ভ্রান্তের মতো করছে, কাঁদছে, পাগলামি করছে এসব দ্বিতীর জন্যই৷ তার ছেলেটা পাগলের মতো ভালোবাসে মেয়েটাকে। আর…আর কোথাও বোধহয় এই মেয়েটার এ অবস্থার জন্য উনিও দায়ী। দায়ীই তো। সেদিন যদি ওসব না হতো? দ্বিতী তো যেত না। তার ছেলে আর দ্বিতীর এখনো ঠিক সুন্দর একটা সংসার থাকত। থাকত তো৷ কিন্তু থাকল না, তার জন্য। মা হিসেবে যে সে সারাজীবন ব্যর্থ হয়ে থাকবে……!

কথার চোখ ভেজা। মেয়েটা কেঁদেছে। একটু আগেই নামাজে মোনাজাতে সে খুব করে দ্বিতীর সুস্থতা চেয়েছে।খুব করে চেয়েছে চঞ্চল দ্বিতী আবার ফিরুক, ফিরুক। সিজদায় পড়ে শরীরটা থেকে থেকেই কেঁপে উঠছিল। সাম্য ঠিক তখনই ওর ঘরে এসেছিল। আবার বেরও হয়ে গিয়েছিল ওভাবে। অবশেষে এতোটা সময় পর ও আবারও এল। বলল,
“ কথা,তুই একা থাকতে পারবি? আমি এভাবে বাড়িতে বসে থাকতে পারছি না যে৷ প্লিজ..তুই একা থাকতে পারবি? আমার..আমার অস্থির লাগছে ভীষণ! ”
সাম্যকে ওর বাবাই যেতে না করেছে।কথা একা, আবার হসপিটালে এত মানুষ গিয় ভীড় হবে এইজন্যই৷ কিন্তু সাম্য যে বরাবরই অস্থির প্রকৃতির। ধৈর্য নেই ছেলেটার। উশখুশ করে তাই দুয়েকবার এসেছে কথার কাছে। ফের আবারও বলল,
“ পারবি থাকতে তুই? দ্বিতীর অবস্থা কিছুটা খারাপ কথা। আমি বাড়িতে বসে থাকতে পারব না৷ সরি। তুই থাক।”

কথাগুলো বলেই সাম্য পা বাড়াল। ধুপধাপ পা বাড়িয়ে প্রায় দরজা খুলে বাসা থেকে বের ও হয়ে গেল। রাত তখন প্রায় দুটো। রাস্তা খুব নিরব না হলেও মোটামুটি নিরবই। সাম্য সিঁড়ব বেয় নিচে নামল। কথাকে একা বাসায় রেখেই সিঁড়ি বেয়ে নেমে পড়ে ও একমুহূর্ত থমকে দাঁড়াল। চোখ বুজে কি একটা ভেবেই ও পরমুহূর্তেই আবার ঠিক একভাবেই পেছন ফিরে ছুট লাগাল। একইভাবেই পা চালিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে দ্রুত বাসায় এল। কথা ভাবল সামঢ বুঝি কিছু নিতে এসেছে।এমনিতেও ওর চোখে ঘুম নামবে না। কান্না পাচ্ছে কি ভীষণ!যে মেয়েটাকে সে ছোটকাল থেকে বন্ধু হিসেবে তার এমন বিপদে কান্না পাবে না?কথার টলমলে, কাঁদতে কাঁদতে ফুলে যাওয়া মুখপানে চেয়েই সাম্য দ্রুত এগিয়ে এল। অতঃপর আচমকাই কথার বামহাতটা নিজের হাতে শক্তপোক্তভাবে চেপে ধরে আওড়াল,

” কথা, চল। তোরও নিশ্চয় হৃদয় অস্থির লাগছে এখানে থেকে? একা পড়ে থাকতে যে পারবি না জানি। চল এখুনি… ”
“আমার ওকে সত্যিই দেখতে মন চাইছিল সাম্য। সত্যিই এতদূরে থেকে হৃদয় হাঁসফাঁস করছিল। ঠিক হয়ে যাবে তো ও? বলো না, ঠিক হয়ে যাবে? ”
বলতে বলতেই কথা কেঁদে ফেলল। সাম্য বোধহয় এই প্রথম, এই প্রথম কথার মাথায় হাত বোলাল। কাঁদতে থাকা মেয়েটাকে শান্ত করে স্থির গলায় বলল,
“হবে। ঠিক হতেই হবে ওকে। ”

দ্বিতীর কন্ডিশনটা শেষদিকে একটু খারাপের দিকে পৌঁছালেও অপারেশনটা সাক্সেসফুল হয়েছে। মেয়েটার জ্ঞান ফেরেনি তখনো। শরীরের কত জায়গায় আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন৷ চেহারাটা কি বিধ্বস্ত। সাক্ষ্য দূর থেকেই দেখে। দূর থেকেই এক পলকে তাকিয়ে থেকে চাপাস্বরে আওড়াল,
“ কাউকে ভালোবাসলে তাকে হারানোর ভয়টা কতোটা মারাত্মক হয় তা বুঝবেন না দ্বিতী। বুঝবেন না ভালোবাসার মানুষটাকে হারিয়ে ফেলার শঙ্কা কতোটা প্রবল হয়ে হৃদয় গুড়িয়ে দেয়৷ স্রষ্টা বোধহয় ইচ্ছে করেই আমায় সে কষ্টটা উপহার দিচ্ছেন। উপহার দিচ্ছেন এই তীব্রা যন্ত্রণাটা। ”
এইটুকু বলতে বলতেই সাক্ষ্য চোখ বুজে। ইশশ! দ্বিতী কবে চোখ মেলে চাইবে? কবে তাকিয়ে দেখবে? সাক্ষ্যর যে মনে হচ্ছে কতকাল সে তার ঘাড়ত্যাড়া বউটাকে দেখেনি। অনুভব হচ্ছে যে কতকালের শূণ্যতা।

দ্বিতীর জ্ঞান ফিরল প্রায় শেষ রাতে। শরীরের আঘাতে ও ব্যথায় নজর নিভু নিভু। কি ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে। তবু…তবু দ্বিতী চোখজোড়া ঘুরিয়ে বারবারই কেবিনের এপাশ ওপাশে রাখছিল। খুঁজছিল যেন কিছু। তার বাবা মা, সাক্ষ্যর বাবা মা, কথা সাম্য সবাই থাকলেও দ্বিতী একটাবারও সাক্ষ্যর দেখা পেল না জ্ঞান ফেরার পর থেকে৷ একটাবারও সাক্ষ্যকে দেখা গেল না কোথাও। দ্বিতীর বুক ভার হয়। শারিরীক যন্ত্রনার থেকেও এই মুহূর্তে টের পেল প্রিয় মানুষের শূণ্যতা কতোটা যন্ত্রণার হয়। দ্বিতী চোখ বুজে। ভেসে উঠে ঐ সময়টার দৃশ্য। একটা আচমকা আঘাত, যন্ত্রণা আর চোখ বুজে আসা। দ্বিতীর মনে হচ্ছিল ও তখনই জীবনের ইতি টানবে। তখনই মনে হলো ওর নিঃশ্বাস রুদ্ধ হয়ে এসেছিল। দ্বিতীর কান্না পায়। ভীষণ কান্না পায়। ঐ এক মুহূর্তটায় তার মনে হয়েছিল সে আর সাক্ষ্যর সাথে সংসারটা করতে পারবে না। ঐ এক মুহূর্তটায় তার মনে হয়েছিল সাক্ষ্যকে সে শেষবারের মতো আরেকটাবার দেখতে পাবে না।

ঐ এক মূহূর্তটার জন্য মনে হয়েছিল তাদের দুইজনের একসঙ্গের মুহূর্তবোধহয় সেদিনই ছিল। এরপর আর দ্বিতী ফিরবেই না। দ্বিতীর কান্না আসে। চোখ নোনাজলে ভরে উঠে। দ্বিতীর তে সাক্ষ্যর উপর রাগ ছিল না। তবুও সাক্ষ্যকে ইগ্নোর করেছে। নিজের মতো বেঁচেছে। শুধু সাক্ষ্যর সাথে হুট করেই একটা সুন্দর সূচনার শুরু করবে বলে৷ একটা সুন্দর সংসার করবে বলে দ্বিতী সব কাজ শিখেও নিচ্ছিল। প্রতিদিন কাজ শিখে ডায়েরীতে সাক্ষ্যর জন্য নোটও লিখেছিল মেয়েটা। ইশশ! যদি মারা যেত? সুন্দর সংসারটা সাজানো হতো কি? সাক্ষ্যকে আর কখনো দেখতে পেত কি? যে সংসারের জন্য এত কাজ শিখল তাই বা কখনো ফলানো হতো কি? হতো না তো।

না তো, মা বাবার প্রতি এত অভিমান রেখেও কখনো কি মা বাবাকে ও আরেকটাবার দেখতে পেত? পেত না তো। এইজন্যই বোধহয় জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করা উচিত। রাগ, ইগো, অভিমান, অভিযোগ রেখে প্রত্যেকটা মানুষকে প্রতিটা মুহূর্তে আগলে রাখা উচিত। কারণ, আমরা কেই বা জানি কে কখন দুনিয়া ছাড়ব? জানি না তো। হয়তো দেখা গেল সবার থেকে দূরত্ব টানা অবস্থাতেই বুকে এক আকাশ আফসোস নিয়েই দুনিয়া ছাড়তে হলো! যেখানে আমরা জীবন নিয়ে কত কি ভাবনা সাজিয়ে রেখেছি তা বোধহয় এক মুহূর্তেই অনর্থক হয়ে যায় স্রষ্টার চাওয়াতে।
দ্বিতী দীর্ঘশ্বাস ফেলে। প্রায় অনেকটা সময় এপাশ ওপাশ চেয়েও যখন সাক্ষ্যর দেখা পাওয়া গেল না তখন দ্বিতীর অস্থির অস্থির লাগল। এক নজর দেখার জন্য। তাই তো নিজের মাকেই অস্ফুট স্বরে শুধাল,

দুইজনাতেই পর্ব ৪৭

“আম্মু? সবাই কি হসপিটালে আছে? ”
“ সবাই মানে? “
“তোমরা সবাই হসপিটালে এসেছো?কেউ কি বাসায় আছে আম্মু?”

দুইজনাতেই পর্ব ৪৯