Home না চাইলেও তুমি শুধু আমারই না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩৪ (২)

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩৪ (২)

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩৪ (২)
মাইশা জান্নাত নূরা

ইলমার বুকের ভেতরটাতে চলতে থাকা ধুকপুক শব্দটা যেনো সে নিজেই বাহির থেকেও শুনতে পাচ্ছে হঠাৎ গাড়িটা ওর সামনে এসে দাঁড়ানোর কারণে। ইলমা দু’কদম পেছানো অবস্থায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দৃষ্টি সামনে থাকা কালো গাড়িটির উপরে স্থির। পরক্ষণেই গাড়িটার পিছনের সিটের দরজাটা খুলে গেলো। দরজা খোলার সাথে সাথে ইলমা দেখলো গাড়ির ভিতরে বসে আছেন ওরই বয়সী একজন সুন্দরী তরুণী। তরুণীটির পরনে রয়েছে বর্তমান যুগের সাথে মানান সই ওয়েস্টার্ন পোশাক। ছেড়ে রাখা চুলগুলো স্ট্রেইট করা। ঠোঁটে হালকা পিংকিশ লিপস্টিক দেওয়া। চোখে সানগ্লাস। পায়ে ৫” মতো উচুঁ পেন্সিল হিল রয়েছে। হাতে ডায়মন্ড বসানো ব্রেসলেট। এই স্মার্ট লুকের মেয়েটি পুরোপুরি ভাবেই অপরিচিত ইলমার কাছে। ইলমা ভ্রু কুঁচকে খানিকটা রাগ নিয়েই বললো…..

—”এসব কি ধরণের অভদ্রতা আপনাদের? বড় বড় গাড়ির মালিক হয়েছেন বলে কি ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের শরীরের উপরেও গাড়ি উঠিয়ে দেবেন?”
মেয়েটা ইলমার দিকে তাকিয়ে রইলো কয়েক সেকেন্ড। তারপর শান্ত গলায় বললো….
—”একটু আগেই এখানে তেজ দাঁড়িয়ে ছিলো না?”
প্রশ্নটা শুনে ইলমার ভ্রু আরও কুঁচকে এলো। সে বললো….
—”আপনি কে হন তেজের?”
মেয়েটা হালকা হাসলো। সেই হাসির ভেতরে যেনো কোথাও লুকিয়ে ছিলো চাপা য*ন্ত্র*ণারা। মেয়েটি বললো….
—”আমার নাম নিশা।”
এই বলে নিশা একটু থেমে দম ছেড়ে আবারও বললো….
—”আমি তেজের বন্ধু হই।”
এই কথাটা বলার সময় নিশার গলার স্বরটা স্বাভাবিক শুনালেও ওর বুকের ভেতর চলতে থাকা চাপা যন্ত্র*ণারা মোচড় দিয়ে দিয়ে উঠছিলো। নিশা সেই যন্ত্র*ণার ছাপ নিজের চেহারায় ফুটে উঠতে দিলো না। ইলমা শীতল চোখে নিশার দিকে তাকিয়ে বললো…..

—”ও আচ্ছা।”
ঠিক তখনই ঝোপের আড়াল থেকে বের হয়ে এলো তেজ। হাঁটতে হাঁটতেই সামনে থাকা গাড়িটা দেখে ওর ভ্রু কুঁচকে এলো। এই গাড়িটা চিনতে তেজের ভুল হলো না একটুও। একপ্রকার ছুটে ইলমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে তেজ নিশার দিকে তাকিয়ে বললো……
—”তুমি? তুমি এখনো দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নাও নি?”
নিশা ভেবেছিলো তেজ হয়তো একটু মায়া করে হলেও জানতে চাইবে এতোসময় সে বাহিরে কেনো এসেছে! এই রাস্তাটা মেয়েদের জন্য সন্ধ্যার পর নিরাপদ নয়। কিন্তু নিশার ধারণা ভুল প্রমাণ করে দিয়ে তেজ যেই প্রশ্ন ছুঁড়লো ওর দিকে তাতে নিশার ভিতরটা আরো ম্লান হয়ে গেলো। নিশা একবার ঢোক গিলে পূর্বের সেই হাসিটা নিজের ঠোঁটে ধরে রেখে বললো…..

—”ছাড়বো। কাল সকালেই আমার ফ্লাইট।”
তেজ সংক্ষিপ্ত গলায় বললো….
—”ও আচ্ছা।”
তারপর নিশার সাথে তেজের আর কথা বাড়াতে ইচ্ছা হলো না। তেজ ইলমার দিকে তাকিয়ে বললো….
—”চলুন আমরা এগোই।”
এই বলে তেজ বাইকের হ্যান্ডেল ধরে হাঁটার জন্য প্রস্তুতি নিলো। ওদের দু’জনকে এমন করতে দেখে নিশা কৌতূহলী স্বরে বললো…..
—”বাইকে কোনো সমস্যা হয়েছে তোমার তেজ?”
তেজ বিরক্তি নিয়ে তাকালো নিশার দিকে। অতঃপর বললো….
—”না। আমার শখ হয়েছে বাইককেও মানুষের মতো হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার। কারণ বাইকেরও তো মানুষের মতোই দুইটা পা। তাই হাঁটাচ্ছি।”
নিশা বুঝতে পারলো ওর উপস্থিতিতে তেজ মোটেও খুশি হয় নি বরং বিরক্ত হয়েছে। নিশা শব্দ করে একবার নিঃশ্বাস ফেলে বললো….
—”যদি তোমাদের কোনো সমস্যা না থাকে তাহলে আমি তোমাদের গন্তব্যস্থল পর্যন্ত ড্রপ করে দিতে পারি।”
ইলমা কয়েকসেকেন্ড এর জন্য তাকালো তেজের দিকে।তেজও তাকালো ইলমার দিকে। নিশার কাছ থেকে সাহায্য নেওয়ার ইচ্ছা তেজের একদমই ছিলো না। কারণ এই মেয়েটা হলো তেজের জীবনের সবথেকে বিরক্তিকর একটি অধ্যায়। কিন্তু আজ সারাদিন কফিশপে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাজ করে ইলমা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে যা তেজ ভালো ভাবেই জানে। তাই কয়েক সেকেন্ড ভাবার পর তেজ বললো…..

—”তোমার ড্রাইভারকে বলো নেমে আমার বাইকটা গাড়ির সাথে বেঁধে নিতে সাহায্য করতে।”
নিশা সাথে সাথে বললো…..
—”ড্রাইভার, নামো।”
ড্রাইভার নেমে এলো। তেজও সাহায্য করলো গাড়ওটা বাঁধার কাজে। কিছুক্ষণ এর মধ্যেই ভালোভাবে দড়ি দিয়ে বাইকটা গাড়ির পিছনে বাঁধা হলে ওরা সবাই গাড়িতে উঠে বসলো। পিছনের সিটে পাশাপাশি বসেছে ইলমা আর নিশা।সামনে ড্রাইভারের পাশে বসেছে তেজ। অতঃপর ড্রাইভার গাড়ি চালাতে শুরু করলেন। তেজ ড্রাইভারকে ওর বাংলোবাড়ির ঠিকানাটা বলে দিলে ড্রাইভার সেই রাস্তা ধরে গাড়ি এগিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করেছেন। গাড়ির ভেতরে পুরো সময়টা জুড়ে অদ্ভুত নীরবতা বিরাজ করছে। যেনো কোনো মানবের অবস্থানই নেই এখানে। নিশা মাঝেমাঝেই আড়চোখে তেজকে দেখছিলো আবার কাঁচের জানালা ভেদ করে বাইরে তাকাচ্ছিলো। ইলমা সেই যে নিজের দৃষ্টি জানালার বাহিরের অন্ধকার রাস্তার উপর স্থির করেছে আর তা সরানোর নাম গন্ধ নেই ওর। আর তেজ সামনের দিকেই তাকিয়ে বসে আছে চুপচাপ। বেশ খানিকক্ষণ পর গাড়িটা এসে থামলো তেজের বাংলোবাড়ির সামনে। তেজ ড্রাইভারকে বললো বাইকটা খুলে নামানোর জন্য। ড্রাইভার নামামাত্র ইলমাও নেমে গেলো। তেজও নামতে যাবে ঠিক তখনই পিছন থেকে নিশার কণ্ঠ ভেসে এলো….

—”তেজ।”
তেজ থেমে পিছন ফিরে তাকালো নিশার দিকে। নিশা ধীর স্বরে বললো…
—”ওর জন্যই আমাকে তোমার মনে ধরে নি, তাই না?”
তেজ কয়েক সেকেন্ড নিরব ভাবে তাকিয়ে রইলো নিশার দিকে। মুখ ফুটে একটা শব্দও উচ্চারণ করলো না সে। এই প্রথম তেজ লক্ষ্য করলো নিশার চোখ দু’টো ছলছল করছে।
পরক্ষণেই তেজ নিঃশব্দে দরজা খুলে গাড়ি থেকে নেমে গেলো। নিশা একবার ঢোক গিলে চোখ দু’টো বন্ধ করে নিলো। কয়েক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো নিশার দু’গাল বেয়ে। ততোক্ষণে ড্রাইভার তেজের বাইকটা নামিয়ে স্ট্যন্ড করে রেখেছে। তেজ বাইকটাতে হাত বুলাচ্ছে। ড্রাইভার নিজ জায়গায় ফিরে আসতেই নিশা ধীর গলায় বললো…..
—”চলো ড্রাইভার।”
এরপর গাড়িটা ধীরে ধীরে অন্ধকার রাস্তার দিকে চলে গেলো। তেজ আর সেদিকে তাকালো না। বাইকটা নিয়ে গেইট পার হয়ে বাংলোবাড়ির ভেতরে ঢুকলো ওরা দু’জন।
কয়েক সেকেন্ড নীরবতার পর ইলমা বললো…..
—”উনি আপনাকে নিজের বন্ধু বলে পরিচয় দিলেন। আপনি তাহলে এমন খোলামেলা পোশাকের মেয়েদের সাথেও উঠাবসা করেন?”

প্রশ্নটা শুনে তেজ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলো। আমতা স্বরে তেজ বললো……
—”ইয়া, মানে…আসলে…! আগে ছিলো এমন কিছু বন্ধু-বান্ধব।”
ইলমা ভ্রু তুলে বললো….
—”কিছু বন্ধু-বান্ধব?”
তেজ মাথা চুলকে বললো….
—”আসলে আগে বিভিন্ন ক্লাবে যেতাম, পার্টি করতাম আর মাঝে মাঝে ড্রিংকসও করতাম। তাই এমন কিছু বন্ধু-বান্ধব তৈরি হয়েছিলো।”
ইলমা ছোট্ট করে বললো….
—”ও আচ্ছা।”
তেজ একপ্রকার অস্বস্তিতে গলা খাঁকারি দিয়ে বললো….
—”এখন আর করি না সেসব। আর না এমন বন্ধু-বান্ধবদের সাথে উঠা-বসা আছে আমার।”
ইলমা আর কিছু বললো না। ওরা দু’জন হাঁটতে হাঁটতে প্রবেশ করলো বাংলো বাড়ির ভিতরে। তেজ বললো….
—”আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন। একজন নতুন অতিথির সাথে আপনার পরিচয় করিয়ে দিবো।”
ইলমা ভ্রু কুঁচকে তেজের দিকে তাকিয়ে বললো….

—”বাড়িতে নতুন কেউ এসেছে নাকি?”
—”হুম।”
—”কে?”
—”আগে ফ্রেশ তো হয়ে নিন। তারপর পরিচয় করাবো বললাম তো!”
ইলমা আর কথা না বাড়িয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেলো ওর আর অনুর জন্য বরাদ্দকৃত রুমে ফ্রেশ হওয়ার উদ্দেশ্যে। তেজও ওর রুমে চলে গেলো বাহিরের পোশাক পরিবর্তন করতে।

পিহু ড্রেসিংটেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজের চুল আঁচড়াচ্ছিলো। মিশমিশে কালো হালকা ঢেউ খেলানো প্রায় হাঁটু ছুঁই ছুঁই লম্বা চুলগুলো হুট করে কারোর নজরে পড়লে তার চোখ আটকে যেতে বাধ্য হবে। প্রতিদিনের মতোই যত্ন করে পিহু ওর বাধনহারা চুলগুলো চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে জটমুক্ত করছিলো।
ঠিক পিছনে বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে আছে সারফারাজ। ফোনে কি যেনো দেখছিলো খুব মনোযোগ দিয়ে সে। তবে মাঝেমধ্যেই চোখ তুলে পিহুর দিকেও তাকাচ্ছিলো সারফারাজ। পিহু ওর চুলগুলোকে বিনুনি করার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনভাগ করার জন্য হাত তুলতেই তৎক্ষণাৎ সারফারাজ বিছানা থেকে নেমে ওর পিছনে এসে দাঁড়িয়ে শান্ত গলায় বললো…..

—“আমায় দাও আমি বেঁধে দেই।”
পিহু আয়নার ভেতর দিয়ে সারফারাজের প্রতিচ্ছবির দিকে তাকিয়ে সন্দিহান কন্ঠে বললো…..
—“আপনি পারবেন?”
সারফারাজ ভ্রু কুঁচকে বললো….
—“কেনো পারবো না?”
পিহু ঠোঁট টিপে হেসে বললো…..
—“বেঁধেছেন কখনো?”
সারফারাজ গম্ভীর ভঙ্গিতে বললো…..
—“না। অভিজ্ঞতা নেই ঠিকই। তবে চেষ্টা করলে ঠিক পারবো।”
—“ঠিক আছে, করুন তাহলে।”
সারফারাজের মনে হলো বিশাল কোনো দায়িত্ব পিহু ওর উপর বর্তে দিলো ওরই ইচ্ছেতে। সারফারাজ পিহুর চুলগুলো হাতে নিয়ে অত্যন্ত সতর্কভাবে তিনভাগ করলো।
ভাগগুলো এতোটাই নিখুঁত ভাবে করছে যেনো তিন ভাইয়ের মাঝে তাদের বাপ-দাদার রেখে যাওয়া জমির ভাগ করতে বসেছে সবাই। আর সেই ভাগ মাপার দায়িত্বে আমিন হিসেবে আছে সারফারাজ নিজে। তাই এক্ষেত্রে এক ইঞ্চিও এদিক-ওদিক হলেই যেনো খুনোখুনি লেগে যাবে।সারফারাজ এই তিন ভাগ চুল সমান সমান করতে কখনো একগুচ্ছ চুল একপাশ থেকে আরেকপাশে আলাদা করে দেখে নিচ্ছে তো কখনো একটু ওদিক থেকে টেনে এদিকে নিয়ে ঠিক করছে।
পিহু আয়নার সাহায্যেই সারফারাজের মুখের এক্সপ্রেশন দেখে ঠোঁট চেপে নিজের হাসি আটকানোর চেষ্টা করছে আর মনে মনে ভাবছে….

“এতো হিসেব-নিকেশ করে কেউ বিনুনি করার প্রস্তুতি নিতে পারে তা আপনাকে না দেখলে কোনোদিন জানতেই পারতাম না, এমপি সাহেব।”
সারফারাজ অবশেষে বিনুনি করা শুরু করলো। কিন্তু কাজটা যে মোটেও সহজ না তা ধাপে ধাপে বুঝতে পারলো সে। কোনো ধাপ একটু ঢিলে হয়ে যাচ্ছে তো কোনোটা আবার বেশি টাইট হচ্ছে। আবার কোনোটার ভাঁজই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। পিহুর চুল এতোটাই লম্বা ছিলো যে মাঝপথে গিয়ে সারফারাজের মনে হচ্ছিলো যেনো সে কোনো বিশ্বযুদ্ধ লড়তে মাঠে নেমেছে।
পিহু পুরো সময়টাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলো। মাঝেমধ্যে আয়নায় তাকিয়ে দেখে নিয়েছিলো সারফারাজের ভীষণ সিরিয়াস মুখটা। শেষ পর্যন্ত কোনোভাবে বিনুনি শেষ করলো সারফারাজ। অতঃপর একটু হাঁপ ছেড়ে পিহুকে নিজের থেকে প্রায় হাত খানেক দূরে দাঁড় করিয়ে বললো….

—“দাঁড়াও দেখি। কেমন হলো।”
সারফারাজ ওর মাথা হালকা কাত করে বিনুনিটা গভীর মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো। অতঃপর বিছানার উপর থেকে নিজের ফোনটাহাতে নিয়ে গ্যালারি খুলে পিহুর আগের তোলা নিখুঁত সুন্দর বিনুনির একটা ছবি বের করলো সে। সেই ছবির সাথে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পিহুর বর্তমান বিনুনির অবস্থা মিলাতে গেলে দুই সেকেন্ডের মধ্যেই সারফারাজের নাক-মুখ কুঁচকে গেলো। সে বিরক্তিতে বললো….
—“কি জগাখিচুড়িই না বানিয়ে রেখেছি আমি! ষ্যাহ!”
পিহু ওর বিনুনিটা পিঠের উপর থেকে টেনে সামনে নিলো। সারফারাজ বললো….
—“ছি ছি ছিহ! এই ৩১ বছরের জীবনে কি করলাম আমি!একজন সুদক্ষ এমপি হলাম। কতো শতো লোককে নিজের আঙুলের ইশারায় নাচাই। দেশের বড় বড় সমস্যার সমাধান করি। অথচ সামান্য বউয়ের চুলের ঠিকঠাক বিনুনি করতে পারলাম না! এই লজ্জা কাউকে দেখানোর মতো না।”
পিহু বিনুনির ভাঁজ গুলো ভালো করে দেখলো। এলোমেলো ভাঁজগুলোতে হাত বুলাতে বুলাতে মাথা নেড়ে বললো….

—“উহুহ, সুন্দরই তো হয়েছে।”
সারফারাজ চোখ কুঁচকে তাকিয়ে বললো….
—“এটাকে সুন্দর বলে?”
পিহু সারফারাজের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে হেসে বললো….
—“অদক্ষ হাতে এতো লম্বা সময় নিয়ে ম্যাথ, ফিজিক্স সব খাঁটিয়ে আমার স্বামী বিনুনি করে দিয়েছেন। ওটাকে অসুন্দর বললে পাপ লাগবে পাপ। বুঝলেন এমপি সাহেব!”
সারফারাজ কিয়ৎক্ষণ নিরব ভঙ্গিতে পিহুর দিকে তাকিয়ে রইলো। অতঃপর হাত এগিয়ে পিহুর সেই এলোমেলো বিনুনিটা ধরে মৃদু হেসে বললো…..

—“শুনেছিলাম বউকে খুশি করা নাকি পৃথিবীর মধ্যে সবথেকে জটিল কাজ প্রতিটি স্বামীর জন্য। কিন্তু এতো দেখছি পুরোই উল্টো। আমার বউ তো আমার ভুলে খুশি হয়ে যায়।”
পিহু সারফারাজের গলা জড়িয়ে ধরলো ওর দু’হাত দ্বারা। অতঃপর সারফারাজের তীক্ষ্ণ জোড়া ভ্রু বিশিষ্ট গাড় নীলাভ মণির চোখদু’টোর দিকে তাকিয়ে বললো…..
—”স্বামীর সফলতায় যেমন খুশি হওয়া উচিত তেমনি এমন ছোটখাটো ভালোবাসা মাখানো ভুলেও প্রতিটি স্ত্রীর খুশি হওয়া উচিত। এসব নিয়ে হাসিঠাট্টা করলে মনোবল ভেঙে যাবে অপর মানুষটির। তখন আর এই যত্নগুলো পাওয়া হবে না যে।”
সারফারাজের পিহুর দু’গালের উপর হাত রেখে নাকের সাথে নাক ঘুষ্টে বললো…

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩৪

—”আমার বউটা দেখছি আমার ভালোবাসায় পাগোলিনী হয়ে গিয়েছে।”
—”আপনার মতো পাগল প্রেমী স্বামী যার নসিবে জুটবে তার কি আর পাগলিনী না হয়ে উপায় আছে স্বামী?”
সারফারাজ পিহুর এরূপ কথা শুনে হাসিমুখে শব্দ করে চুমু খেলো ওর কপালে। পিহু আবেশে বুঁজে নিলো ওর দু’চোখ।

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩৪ (৩)