Home না চাইলেও তুমি শুধু আমারই না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৪৬

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৪৬

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৪৬
মাইশা জান্নাত নূরা

বিকেল বেলা….
খান বাড়িতে সবাই নিজ নিজ মতো বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। বিয়ের ধুম পড়েছে কিনা! তাই। নির্দিষ্ট কোনো কাজ খুঁজে না পেয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাগানের দিকটাতে এসেছিলো ইলমা। শেষ বেলার নরম আলোটা খান ভিলার পুরো বাগানজুড়ে ছড়িয়ে থাকার দরুন ফুলগুলো কেমন চিক চিক করছিলো। তখুনি ইলমার চোখ পড়লো অতিরিক্ত কিছু শুকনো ফুলবিহীন ডালের ভাড়ে কয়েকটা গোলাপ ফুলের গাছ একপার্শে হেলে পড়ে যাচ্ছে। ইলমা নিজ দায়িত্বেই সেই গাছগুলোর শুকনো ডালগুলো কেটে ঠিক করছিলো। কাজটা করতে যে ওর ভালোই লাগছে তা ওর ঠোটে লেগে থাকা একটুকরো হাসির রেখাই বলে দিচ্ছে। ঠিক তখনই দুই হাতে কফির ২টা মগ নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলো তেজ।
নিজের রুমের বেলকনিতে দাঁড়াতেই নিচে ইলমাকে একলা ফুলের গাছের পরিচর্যা করতে দেখে নিজহাতে কফি বানিয়ে এনেছে সে। এইসময়টাকে একটু যদি কাজে লাগাতে পারে ভেবে। ইলমা না তাকিয়েই তেজের উপস্থিতি বুঝতে পারলো। বললো….

—”কি প্রয়োজন মনে করে আসলেন এখানে?”
তেজ বললো…..
—”প্রয়োজন না থাকলে কি আপনার আশেপাশে আসা হয় না আমার?”
ইলমা শেষ ডালটা ছাটাই করে পাশেই থাকা পানির নলটা ছেড়ে ময়লা হাতটা ধুয়ে তেজের দিকে তীক্ষ্ণ নজরে তাকিয়ে বললো…..
—”আপনার ক্ষেত্রে তো দেখলাম না। কারণ আপনি যখনই আমার সামনে আসেন বুঝে যাই কিছু একটা উদ্দেশ্য আছে আপনার মনে।”
তেজ ভ্রু তুলে বললো….
—”তাহলে আমি এতোদিনে এই ইমেজটাই বানিয়েছি আপনার নজরে?”
—”কোনো সন্দেহ নেই আমার।”
—”আর আমি যদি বলি আজ সত্যিই কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে আসি নি, মানবেন?”
এই বলে কফির একটা মগ তেজ ইলমার দিকে বাড়িয়ে দিলো। ইলমা কফির মগটা হাতে নিয়ে এক চুমুক দিয়ে বললো…..
—”সত্যটা তাহলে চোখে চোখ রেখেই বলুন।”
তেজ এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেলো। অতঃপর হালকা হেসে বললো…..
—”খুব সহজেই ধরা পড়ে গেলাম জন্য ভালো লাগছে না।”
ইলমা নির্লিপ্ত স্বরে বললো….
—”আমি জানতাম উদ্দেশ্য ছাড়া আপনি আসেন নি। মিললো অবশেষে।”
তেজ কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর বললো…..
—”জানেন আগে আমি কোনো একটা জায়গায় আধঘন্টাও ঠিকভাবে স্থির থাকতে পারতাম না। সারাক্ষণ বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দেওয়া, বাইকে করে ঘোরা, লেইট নাইট পর্যন্ত পার্টি করা নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম। লাইফটাকে পুরো দমে ইন্ঞ্জয় করতাম।”
ইলমা নিরুত্তাপ কণ্ঠে বললো….

—”আপনার বাড়ির সবাই জানে আপনার এই রূপ সম্পর্কে?”
তেজ সচেতন কন্ঠে বললো….
—”কি যে বলেন আপনি! এসব কি বাড়ির লোকদের জানানো যায়! আমাদের বংশ বড্ড সুশীল ও সম্মানীয়। সেই বংশের ছেলে হয়ে সবাইকে জানিয়ে এমন বখাটেপনা করে বেড়াবো বড্ড বেমানান হয়ে যায় না বিষয়টা! তাই বাড়ির সবার ও পরিচিত সিনিয়র আত্মীয়-স্বজনদের সামনে ভোলাভালা, সাধারণ, আনস্মার্ট লুক নিয়ে চলতাম। এরপর হুট করেই নিশার চক্করে পড়লাম। আর সে বড় ভাইয়ার সামনে করলো আমার সত্য ফাঁ*স। কি যে একটা বা*জে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন! আমি তো ভেবেছিলাম ভাইয়া আমায় কোনোদিন ক্ষমাই করবেন না। কিন্তু ভাবীর চেষ্টায় সে যাত্রায় বেঁচে গিয়েছিলাম। এরপর থেকেই ওমন উরণচন্ডি স্বভাবের উপর নিয়ন্ত্রণ টানতে শুরু করলাম। লাস্ট কবে লেইট নাইট পার্টিতে গিয়ে ড্রিংকস করেছি সে খেয়াল নেই।”
—”শুনেছিলাম সেসব পার্টিতে অনেক স্মার্ট ও মর্ডান রুচির মেয়েরাও যায়। আর ছেলেদের সাথে সমানতালে তারাও ড্রিংকস করে! তারপর যার যাকে ভালো লাগে তার সাথে ১ রাত কাটিয়ে নেয়। পরেরদিন সকাল হলেই যেমন নেশা কেটে যায় তেমনই সেই ছেলে-মেয়ে গুলোর একে-অপরের মধ্যে কি হয়েছে তা আর তাদের খেয়াল থাকে না!”
কথাটা শুনতেই গরম কফিতেই বিষম খেলো তেজ। ঠোঁটেও ছ্যক লেগেছে। ইলমা তৎক্ষনাৎ তেজের হাত ধরে অপর পার্শে থাকা বেন্ঞ্চে ওকে বসিয়ে দিয়ে মাথার উপর আর পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। কয়েক সেকেন্ড অতিক্রম হতেই তেজ স্বাভাবিক হয়ে গেলো। ইলমা বললো…..

—”হঠাৎ এভাবে বিষম উঠলো যে! ঠিক আছেন আপনি?”
তেজ মনে মনে বললো…..
—”যা শুনেছেন তার পুরোটাই আমার অতীত চরিত্রের সাথে যায়। নিজের চরিত্রের এতো সুন্দর বর্ণনা নিজের ক্রাশের থেকে শুনলে বিষম উঠবে না আবার!”
অতঃপর তেজ বললো….
—”কি যে! হুট করেই কেনো এমন হলো নিজেও বুঝছি না। এখন ঠিক আছি আমি।”
—”আপনিও সেসব করতেন নাকি?”
তেজ চোখ বড় বড় করে ইলমার দিকে তাকিয়ে বললো….
—”কিসব করতাম?”
—”ঐ তো বললাম যে, ড্রিংকস করে মেয়েদের সাথে রা….!”
ইলমার পুরো কথা শেষ করার আগেই তেজ নিজের জিহ্বায় আলতো করে কাঁ*ম*ড় বসালো। অতঃপর ডানহাতের ২ আঙুল দ্বারা নিজের দু’গাল পর পর কয়েকবার স্পর্শ করতে করতে বললো…..
—”নাউজুবিল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ! এসব আপনি কি বলছেন ইলমা! হতে পারে আমি ঐ একটু আধটু পার্টি-সার্টি করতাম, ১-২ পেগ ড্রিংকস করতাম কিন্তু এর মানে এই না নিজের ফুলের মতো পবিত্র চরিত্র যার তার কাছে বিলিয়ে দিবো এক রাতের প্রোডাক্ট হিসেবে!”

—”খুব দ্রুতই নিজেকে পরিবর্তন করে ফেলেছেন দেখছি আপনি!”
তেজ বিরবিরিয়ে বললো….
—”শুধুমাত্র আপনার কারণেই এমনটা সম্ভব হয়েছে।”
ইলমা ভ্রু কুঁচকে বললো….
—”কিছু বললেন?”
তেজ তড়িৎগতিতে বললো….
—”কই না তো!”
—”আচ্ছা।”
—”আমার বদল দেখে কি আপনি খুশি হন নি?”
—”আপনার খারাপ সাইড গুলোতো নিজ চোখে দেখি নি তাই কোন দিক থেকে কতোটুকু বদল এসেছে তা বুঝতে পারছি না।”
—”বললাম যে এই এই দিকগুলো আগে ছিলো এখন আর নেই।”
—”আর তাছাড়া আমার ভালো লাগা – খারাপ লাগায় কি বা যায় আসে বলুন!”
তেজ আবারও বিরবিরিয়ে বললো…..
—”যায় আসে। অনেক যায় আসে। আমার যায় আসে। নয়তো কি এভাবে জিজ্ঞেস করতাম?”
—”বিরবির না করে স্পষ্ট ভাবে কথা বলুন।”
—”না মানে, এতোগুলো দিন আমরা একসাথে চলাফেরা করছি আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তো তৈরি হয়েছে তাই না! সেইদিক থেকে চি….!”

—”আপনাকে কখনও বলেছি যে আমি আপনাকে আমার বন্ধু মনে করি?”
তেজ যেনো কিছুটা বোকা বনে গেলো। পরপরই সে নিজেকে সামলে নিয়ে বললো….
—”আব-আ-আমি ধারণা করলাম হয়তো বন্ধু ভাবেন আপনি আমায়!”
—”বন্ধু হওয়া এতো সহজ না। আর বন্ধুত্বের বোঝা অনেক ভাড়ি হয় মি.। বন্ধুরা যেমন উপকার করতে জানে, তেমনই উপকারী বন্ধুর উপকারের কথা স্বীকার না করে পিছন দিক দিয়ে ছুঁ*ড়ি*র আ*ঘা*ত ও করতে জানে।”
—”তা সঠিক বলেছেন। আপনার সাথে আমার বন্ধুত্ব কখনও হয়ে গেলে আপনি কোনটা করবেন?”
—”যখন হবে তারপর সময়ই না হয় সেই উত্তর দিয়ে দিবে।”
তেজ মাথা নাড়লো কেবল। ইলমা ওর হাতে থাকা ফাঁকা মগটা পাশে রেখে বললো…..
—”আপনার এতো বদলের মাঝে লুকিয়ে থাকা কারণটা কি শুনি?”
—”এক্সেক্ট কোনো কারণ তো নেই বলার মতো।”
—”কারণ তো থাকার কথা। আমার জানা মতে মানুষ ২টা সময় নিজের আচারণে পরিবর্তন আনে। ১, যখন সে নিজের খুব কাছের জনদের হারানোর ভয় পায় তখন আর ২, যখন কাউকে নিজের করে পাওয়ার খুব লোভ কাজ করে তখন৷”
তেজের বুকের ভেতরটা কেমন যেনো করে উঠলো ইলমার বলা শেষ কথাটুকু শুনে। তেজ অপ্রস্তুত হাসি দিয়ে বললো….

—”আপনি সবসময় এমন ভাবে কথা বলেন যে অর্ধেক বোঝা যায় বাকি অর্ধেক বোঝার বাহিরেই থেকে যায়।”
ইলমা শান্ত গলায় উত্তর দিলো…..
—”সব কথা ভেঙে ভেঙে বুঝিয়ে বলা যায় না।”
কথাটা বলেই ইলমা বাগানের অন্য সাইডটা দেখার উদ্দেশ্যে হাঁটা ধরলো। তেজ ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। ওর মন হয়তো বলছে, এই মেয়েটাকে সে যতোটা বুঝে ফেলেছে ভাবছে, আসলে ততোটাই অচেনা রয়ে গিয়েছে সে। পরপরই তেজ ইলমার পিছু পিছু আসতে আসতে বললো……
—”একটা কথা জিজ্ঞেস করি?”
—”করুন।”
—”আপনি কি কখনও কাউকে ভালোবেসেছেন?”
ইলমা একমুহূর্তের জন্য থেমে গেলেও পরপরই নিজেকে সামলে নিয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বললো…..
—”ভালোবাসা খুব দামি জিনিস।”
—”মানে?”

—”যার প্রাপ্য, সে পায়। যার প্রাপ্য না, সে চাইলেও পায় না।”
তেজ এবার ইলমার সামনে এসে উল্টো হয়ে হাঁটতে হাঁটতে বললো…..
—”আমাকে দেখে আপনার কি মনে হয়?”
ইলমা সরাসরি তেজের দিকে তাকিয়ে বললো……
—”আপনি কোন দলে পড়েন, সেটা তো আপনাকে দেখে বলা সম্ভব না আমার পক্ষে। তবে সময় সবাইকে সব কিছুই বলে দেয় আর ইচ্ছে যখন যেমন হয় সেভাবে।”
কথাটা বলেই ইলমা চলে গেলো তেজের পাশ কাটিয়ে। তেজ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। অজান্তেই নিজের ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে তুলে নিচু স্বরে আপনমনে বললো….
—”আর কতো পরীক্ষা নিবেন, রহস্যময়ী? তবে যাই করুন না এবার আর আমি পিছু হটবো না।”
সন্ধ্যার পর……
খান ভিলা যেনো তার প্রাণ ফিরে পেয়েছে সবার হাসি-ঠাট্টার কারণে। ড্রইংরুমে সবাই বসে গল্প করছিলো। তাহমিনা, শিউলি আর আতুশি বিয়ের জন্য করা কেনাকাটা গুলো দেখছিলো। নীরা বিয়েতে কি কি করবে সেই বিষয়ে বলছিলো। সবার এতো আগ্রহ, আনন্দ-উল্লাস দেখে পিহু মনে মনে ভিষণ তৃপ্তি বোধ করছিলো। নির্ঝর ওর রুমে ঘুমিয়ে গিয়েছে বিকেলের পর পরই। তাই ওকে আর ডাকে নি কেউ। সারফারাজ বাহিরে ছিলো নিজের কাজের জন্য। ইলমা আর অনু সবার জন্য হালকা চা-নাস্তা বানিয়ে এনে পরিবেশন করে সোফায় পাশাপাশি বসে পরে নীরা ও পিহুর আড্ডায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য নিয়ে। এতো কোলাহলের মাঝেও তেজের চোখ বারবার চলে যাচ্ছিলো ইলমার দিকে। রান্নাঘরের দিকে। নীরা তা খেয়াল করে তেজের পেটে নিজের কনুই দিয়ে গুঁতো মে*রে ফিসফিস করে বললো…..

—”এভাবে নির্লজ্জের মতো তাকিয়ে থেকো না মেজ ভাইয়া হবু ভাবীর দিকে। নয়তো দেখা যাবে বড়রা বিষয়টা লক্ষ্য করলে বড় ভাইয়ার সাথে একই মন্ঞ্চে তোমারও বিয়েটা দিয়ে দিবেন। তখন আমার মজা করার আরেকদিনের সুযোগ মিস হয়ে যাবে। যা আমি একদমই চাই না।”
তেজ দাঁত কিড়মিড়িয়ে বললো….
—”বেশি কথা বলিস না। মুখ সেলাই করে দিবো একদম।”
নীরা হেসে বললো…..
—”বড়রা আছে বলেই তো তেমন কিছু করতে পারছো না। তাই তোমাকে জ্বালিয়েও দারুণ মজা পাচ্ছি।”
তেজ এবার চোখ রাঙাতেই নীরা উঠে পিহুর পাশে গিয়ে বসে পড়লো। নির্বাণ ড্রয়িংরুমের মেঝেতে বসেই খেলছিলো এতোসময়। দুনিয়ার বাকি বিষয় গুলোর প্রতি কোনো ইন্টারেস্টই যেনো কাজ করছিলো না ওর। হঠাৎ-ই কি বুঝে খেলা ছেড়ে উঠে এসে নির্বাণ তেজের হাঁটুর উপর নিজের দু’হাত রেখে একটু হেলে আধো আধো কন্ঠে বললো…..
—”তা-তা-আমি তা কাবো। তেত…ও তেত মামা…তা দাও। তা তা।”
তেজ চোখ ছোট ছোট করে নির্বাণের দিকে তাকিয়ে বললো….

—”মাত্র দুধের দাঁত গজিয়েছে কয়টা আর এই বয়সেই চা খাওয়ার ইচ্ছে জেগেছে তোর?”
নির্বাণ হাত বাড়িয়ে চায়ের কাপটা ধরতে নিলে তেজ হাত উচু করলো৷ ইলমা বললো….
—”চা টা গরম তো। ওভাবে ধরলে বাবুর শরীরে পড়তে পারে। প্রিচে একটু ঢেলে ঠান্ডা করে খাওয়ান ওকে। ছোট মানুষের একটু একটু করে সব খাবারেরই স্বাদ নেওয়া উচিত।”
—”এরপর যদি রোজ আপনার কাছে চা খাওয়ার বায়না ধরে বানিয়ে দিবেন তখন?”
—”কেনো দিবো না? অবশ্যই দিবো।”
তেজ হালকা হেসে প্রিচের উপর সামান্য চা ঢেলে তা ফুউউউ দিয়ে ঠান্ডা করতে লাগলো। এদিকে নির্বাণ তো খাওয়ার জন্য অধৈর্য হয়ে গিয়েছে। তেজ বললো….
—”আরে একটু তো অপেক্ষা কর বাপ। তোকে খাওয়াবো বলেই ঠান্ডা করছি। এতো তাড়া কেনো? ধৈর্য বলতে কিছু নেই তোর মতো মিনি ব্যটারির মধ্যে দেখছি।”

নীরা, পিহু, অনু নির্বাণের চা খাওয়ার চেষ্টা দেখে নিঃশব্দে হাসছে। কিয়ৎক্ষণ পর তেজ প্রিচটা নির্বাণের মুখের কাছে ধরছেই সে একবার চুমুক দিয়েই তালুর সাথে জিহ্বা ঠেকিয়ে মুখ দিয়ে ‘আহহহ’ বললো। সবাই তো অবাক হলো নির্বাণের এমন কাজে। এতো টুকু বাচ্চা ভালো-মন্দ স্বাদটা কি দারুণ ভাবে বুঝে আর তার রিয়াকশনও দেয়। প্রিচে থাকা সম্পূর্ণ চা টুকু পান করে নির্বাণ তেজের পেটের সাথে মুখ ঘষলো। তেজ নির্বাণের পিঠে আদুরে বা*রি দিয়ে বললো……
—”চা খেয়ে মুখটা আমার টি-শার্টে মুছে দিলি! কতো বড় বাঁ*দর হয়ে গিয়েছে ভাবা যায়!”
নির্বাণ তো হেসে কুটিকুটি যাচ্ছে। বাকিসবাই ও একই তালে হাসছে।
রাত প্রায় সাড়ে দশটা………
রাতের খাবার শেষ করে সবাই নিজেদের রুমে চলে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। ঘরের ভিতরে কেমন যেনো হাঁস-ফাঁস লাগছিলো তেজের। তাই ছাদে এসে খোলা আকাশের নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হালকা বাতাস বইছে।
খানিক্ষণ পর ছাদের দরজা থেকে আওয়াজ এলে তেজ পিছন ঘুরে তাকাতেই দেখলো ইলমা ভিতরে প্রবেশ করছে।
ইলমা তেজের পাশে এসে দাঁড়ালো। তেজ বললো…..

—”ঘুমান নি যে এখনও?”
—”ঘুম আসছে না।”
—”আমারও না।”
ইলমা আকাশের দিকে তাকিয়েই বললো…..
—”অনেক সময় মানুষ নিজের ইচ্ছায় জেগে থাকে না। কিছু চিন্তা তাকে ঘুমাতে দেয় না।”
তেজ হেসে বললো…..
—”আমার তো কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা হচ্ছে না। আপনার হচ্ছে নাকি?”
—”মিথ্যা বলবো না। হচ্ছে চিন্তা।”
—”কি নিয়ে সেই চিন্তা জানতে পারি কি?”
ইলমা তেজের দিকে তাকিয়ে বললো…..
—”সব প্রশ্নের উত্তর জানতেই হবে কি?”
তেজ মাথা চুলকে বললো….
—”না, তবে জানতে ইচ্ছে করছিলো জন্যই জিজ্ঞেস করলাম।”
—”ইচ্ছে জাগার পিছনে বিশেষ কারণ আছে নাকি?”
—”কারণ…!”
তেজ থেমে গেলো বলতে গিয়েও। ইলমা অপেক্ষা না করেই বললো……

—”যে কথাটা বলতে এত কষ্ট হচ্ছে, সেটা আজ না বললেও চলবে।”
তেজ বিস্মিত হয়ে ইলমার দিকে তাকিয়ে বললো…..
—”আপনি কি বুঝতে পেরেছেন আমি কি বলতে চাইছি?”
ইলমার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটিয়ে বললো…..
—”আপনি খুব সহজ মানুষ, তেজ সাহেব। আপনার চোখের দিকে তাকালেই আপনার মনের কথা স্পষ্ট ভাবে পড়া যায়।”
তেজ লজ্জা মিশ্রিত হাসি দিয়ে বললো…..
—”তাহলে উত্তরটাও দিয়ে দিন!”
ইলমা কয়েক মুহূর্ত চুপ থাকার পর ধীর স্বরে বললো…..
—”উত্তর দেওয়ার সময় এখনও আসে নি।”
—”কবে আসবে?”
—”সময় যখন মনে করবে তখন।”
এই বলে ইলমার ছাদের দরজার দিকে হাঁটতে লাগলো আবারও। দরজার কাছে গিয়ে আবার থেমে ইলমা বললো…..

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৪৫

—”আর একটা কথা বলি…!”
তেজ আগ্রহ নিয়ে বললো….
—”হুম, বলুন।”
—”মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কী জানেন?”
—”কি?”
—”বিশ্বাস।”
তেজ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো ইলমার দিকে। ইলমা বললো……
—”কাউকে খুব বেশি বিশ্বাস করবেন না, তেজ সাহেব। বিশ্বস্ত মানুষগুলোই বদলে যেতে সময় কম লাগে।”
কথাটা বলেই ইলমা নিচে নেমে গেলো। তেজ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো কেবল।

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৪৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here