নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৪
নাজনীন নেছা নাবিলা
ইকরার মাস্ক আগেই খোলা হলেও তখন মুনভি ইকরার মুখ লক্ষ্য না করলেও এখন করতেই তার নিঃশ্বাস আটকে আসার উপক্রম। তার দৃষ্টিতে এক মায়াবী মেয়ের চেহারা ফুটে উঠলো।তার চোখে মুখে মুগ্ধতার ছাপ ফুটে উঠলো। যেন এই মায়াবী মুখশ্রী দেখে সে মুগ্ধ হয়েছে। দিন,কাল, পরিস্থিতি সবকিছুই ভুলে গিয়েছে।আর অন্যদিকে তার বন্ধু মিহাল নিজের মনের সাথে লড়াই করছে। মন বলছে এই নীল শাড়ি পরা মেয়েটিই নীলাঞ্জনা। কিন্তু সে শিওর না। মন বলছে একবার মেয়েটিকে নীলা মির্জা বলে ডেকে পরীক্ষা করবে। কিন্তু মুখ দিয়ে তার শব্দ বের হচ্ছে না। এই প্রথম তার সাথে এমন হচ্ছে। অবশ্য এই মেয়ের তেজ দেখে তার অনেকটাই মনে হচ্ছে এই মেয়ের মাঝে মির্জা পরিবারের রক্ত আছে।
নীলা ইকরার হিজাবের পিন খুলে দিল যাতে মাথায় চাপ না পরে তেমন। তারপর যেই যুবকটি তাকে সাহায্য করেছে ইকরাকে এ পর্যন্ত আনার জন্য সেই যুবকটির দিকে নিজের দৃষ্টিপাত করে নরম কন্ঠে বলল____
এইযে,,, ইকরার হাতের কনুই থেকেও রক্ত পড়ছে। কিছু একটা করা উচিত।
মুনভির হুঁশ ফিরল সেতো ইকরাকে দেখতে এতটাই ব্যস্ত ছিল যে এমন পরিস্থিতিতেও ড্যাব ড্যাব করে ইকরা তে দেখে যাচ্ছিল। অথচ তার কটন ক্যান্ডি যে অসুস্থ এই কথা কিছুক্ষণের জন্য মাথা থেকে সরে গিয়েছিল। দ্রুত গতিতে ইকরার কাছে গেল সে। বেডের পাশে টেবিলের উপর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবকিছু ছিল। আলতো করে ইকরার হাত ধরে খুব সাবধানতা অবলম্বন করে কনুই পরিষ্কার করতে লাগলো।এত আলতো করে নিজের কাজ করছে যেন মেয়েটা বিন্দুমাত্র কষ্ট না পায়।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
ইকরা চোখ বন্ধ করে ব্যাথা সহ্য করছে এবং ক্ষণে ক্ষণে নিজের সাথে হয়ে যাওয়া ঘটনা মনে করে কেঁপে উঠেছে।
নীলা ইকরার মাথায় হাত রেখে আস্বস্ত দিচ্ছে।তার নিরবতা ইকরা কে জনান দিচ্ছে যে সে আছে এবং ইকরার কিছুই হবে না এখন।
মিহাল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নীলা কে দেখলো মেয়েটা এখনো মাস্ক পরে আছে। তারপর বেডে বসে থাকা মেয়েটিকে দেখলো। সে কিছুই বুঝতে পারছে না যে কি হয়েছে এখানে। নিজের গলা খাঁকারি দিয়ে বলতে শুরু করল ____
ইউ বোথ আর ফ্রেশমেন রাইট?তো কি হয়েছে?
নীলা এইবার নিজের প্রফেসরের দিকে দৃষ্টিপাত করলো। লোকটির লম্বাটে গরত,প্রশস্ত বুক, চওড়া কাঁধ, পরনে তো ফর্মাল পোশাক আছেই।ফেইস কার্ড আছে বলতে হবে। কিন্তু চেহারায় কেমন জানি পরিচিতি ভাব আছে যা নীলা ঠিক ধরতে পারছে না।সে খুব ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে তারপর জবাব দিল____
ইয়েস প্রফেসর। তারপর সে যতটুকু জানে ততটুকু ঘটনা খুলে বলল।
মিহালের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।তার ইউনিভার্সিটিতেই এমন একটি ঘটনা ঘটে গেল।এত বড় একটা বিষয় ফেলিয়ে দেওয়ার মতন না।সে আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করল____
এন্ড ইউর নেইম? নীলা মির্জা?
নীলা চমকালো লোকটা তার নাম জানে দেখে কিন্তু অবাক হলো না কারণ যেহেতু এই ইউনিভার্সিটি প্রফেসর তাই তার নাম জানাটা অস্বাভাবিকের কিছুই। সে মাথা নাড়িয়ে জবাবে বলল___
হে আমার নাম নীলা মির্জা।আর ওর নাম ইকরা।
মিহাল এমন জবাবের আশাই করছিল। তার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল। মনের ভেতর অজানা অনুভূতি এসে হানা দিল। ঠোঁট প্রসারিত হয়ে উঠল আপনা আপনি। এখন তার মাথায় একটিবারের জন্য এটা আসেনি যে যার মাধ্যমে সে নিজের প্রতিশোধ নিবে সেই প্রতিশোধের চাবিকাঠি তার হাতে নাগালে। বরং তার মনে এটা আগে এসেছে যে সেই ছোট্ট নীলাঞ্জনা এখন তার সামনে। কতটা বড় হয়ে গিয়েছে। দুজনের মাঝে বয়সে গেব হবে নয় কি দশ বছর।সে এই ছোট নীলাকে দেখেছিল আরো ২১ বছর আগে।আজ ২১ বছর পর দেখছে। সব কিছুই বদলে গিয়েছে। সেই ছোট্ট নীলাঞ্জনা এখন বড় হয়ে গিয়েছে। কিন্তু একটা জিনিস বদলায়নি এবং সেটি হল তার নীলাঞ্জনার সাথে ২১ বছর আগে প্রথমবার যখন তার দেখা হয়েছিল তখন তার প্যান্ট ভিজিয়ে দিয়েছিল। আর আজ ২১ বছর পরেও প্রথম দেখাতেই তার প্যান্ট ভিজিয়ে দিল। কিন্তু প্যান্ট ভেজানোর ধরণটা এবারে ভিন্ন। কথাটি মনে মনে আউড়িয়ে কামড়ে হাসলো মিহাল। এহন পরিস্থিতিতে জোরে হাসতে পারবেনা বিধায় ঠোঁট কামড়ে হাসলো । সে সহজে হাসার পাত্র না কিন্তু পরিস্থিতির শিকার হয়ে হাসতে বাধ্য হয়ে যায় মাঝেমধ্যে। আর তার হাসির কারণ সব সময় এই নীলাঞ্জনা ই হয়ে থাকে। আজও তার ভিন্ন কিছু হলো না।
নিজেকে স্বাভাবিক করে তারপর বলল ____
আমাদের ইউনিভার্সিটিতে এমন ঘটনা ঘটেনি আগে। এর বিরুদ্ধে অবশ্যই স্টেপ নেওয়া হবে।
নীলা ইকরার দিকে নিজের মনোযোগ প্রদান করে ইকরা কে নরম সুরে জিজ্ঞেস করল ____
রুমের ভেতর কি হয়েছে ইকরা? বল আমাদেরকে? আমি আছি তো তাই না? ভয় পাবার কিছুই নেই।
নীলার কথা সম্পূর্ণ হবার পরেই মুনভি ইকরাকে ভরসা দিয়ে বলল___
তুমি বলতে পারো আমরা আছি তো। সবকিছু সামলে নেব আমি। শুধু একবার বল কি হয়েছিল রুমের ভেতরে? ভয় পাবার কিছুই নেই। এখন তো আমি আছি তাই না।
ইকরা যেন কিছুটা ভরসা পেল।সে মাথা তুলে তাকালো নিজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকটির দিকে। জ্ঞান ফেরার পর থেকেই এই যুবকটি কে দেখেছে। তার মানে এই না যে এই প্রথম এই যুবকটিকে দেখছে। যেদিন প্রথমবার এই ইউনিভার্সিটিতে এসেছিল আর নীলা একজনের সাথে ঝগড়া করছিল তখন এই যুবকটি চেহারে বসা ছিল।আবার ওইদিনই তাকে একবার ডেকে কিছু বলতে চেয়েছিলে কিন্তু বলতে পারে নি।
ইকরা আস্তে আস্তে অন্ধকার রুমে ঘটে যাওয়া সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বলল। ঘটনাটি শুনে মুনভির চোখে মুখে অন্ধকার নেমে এলো তার ছোয়াল শক্ত হয়ে গেল।সে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিল রাগে। মিহাল অনেক অবাক হয়ে গেল সঙ্গে তারও চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।সকল নারী কেই সে সম্মান করে আর সেই জায়গায় তার ইউনিভার্সিটিতে একটি মেয়ের সাথে এমন একটি ঘটনা ঘটে গিয়েছে, যা সে বরখাস্ত করবে না।
নীলা ইকরাকে জড়িয়ে ধরে বলল____
ওটা যে করেছে সে মানুষটি কি ছেলে ছিল নাকি মেয়ে?
ইকরার জবাব শোনার জন্য তিনজনেই অতি আগ্রহে আছে।মুনভি তো সিন্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে যদি এমন কাজ কোন ছেলে করে থাকে তাহলে সেই ছেলেকে সে জিন্দা পুতে ফেলবে।
ইকরা জবাবে বলল ____
কাজটি কোন মেয়ে করেছে। হাতের নখ লম্বা ছিল। যখন আমাকে ধাক্কা দিয়ে মানুষটি দৌড় দিয়ে দরজার কাছে গিয়েছিল তখন পড়ে যাবার পর এক নজর আমি সেই দিকে তাকাতেই লালচে লম্বা চুল দেখেছিলাম। আমি সিওর দিয়ে বলতে পারি কাজটি কোন মেয়ে করেছে।
ইকরার কথা শুনে মুভির আর মিহালের কপালে চিন্তার ভাঁজ পরলো। একটি মেয়ে কেন এই ধরনের কাজ করবে? এক মেয়ে হয়ে আরেক মেয়ের এত বড় ক্ষতি কি করে করতে পারে? রুমে বন্ধ করে রাখা পর্যন্ত একটি বিষয় কিন্তু পরনের কাপড় ছিড়ে ফেললো। এখানে তো একটি মেয়ের সম্মানের বিষয় আছে। কিন্তু নীলা কনফার্ম হয়ে গেল এ কাজটি কে করেছে। তার কাছে আস্তে আস্তে সব কিছু ক্লিয়ার হয়ে গেল। সে কনফিডেন্ট নিয়ে বলল____
আমি জানি এই কাজটি কে করেছে।
সবাই এবার নিলার দিকে দৃষ্টিপাত করল।মিহাল অবাক চোখে তাকিয়ে আছে নীলার দিকে। সে এটাই বুঝে উঠতে পারছে না এই মেয়েটা এতটা শিওর হয়ে কি করে বলছে যে সে বুঝতে পেরেছে কি কাজটি করেছে।
মুনভি নীলা কে বলল____
কে করেছে কাজটি? তাড়াতাড়ি বল আমাকে? তাকে তার যোগ্য শাস্তি আমি নিজেই দিব। তার এত বড় সাহস আমার কটন কথাটি বলেই আবার থেমে গেল তারপর নিজের শব্দ ঠিক করে বলতে শুরু করল___এই ইউনিভার্সিটিতে আসা একটি মেয়ের সাথে এমন বাজে কাজ করেছে।
নীলা নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল _____
ইউনিভার্সিটিতে প্রথম দিনেই যে মেয়েটি আমার সাথে ঝামেলা করেছিলাম সেই মেয়েটি কাজটি করেছে।
ইকরা অবাক হলো। সে এই বিষয়ে কিছুই জানেনা। মুনভিও জিজ্ঞেসা সুলভ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে নীলার পানে।
মিহাল ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থেকে বলল____
তুমি এতটা নিশ্চিত হয়ে কি করে বলছো?
নীলা এইবার তাকে প্রশ্ন করা ব্যক্তিটির দিকে তাকিয়ে তার প্রশ্নের জবাবে বলল____
প্লেনটি করা হয়েছিল আমার জন্য, ইকারর জন্য নয়।আর তাছাড়াও প্রথমদিনে ওই মেয়েটি আমাকে হ্যারাস করার চেষ্টা করছিল কিন্তু পারেনি আর উল্টো আমার কারণে সে সাসপেন্ড হয়েছে। অবশ্যই এতে তার ইগো হার্ট হয়েছে।আর ইকরা প্রথম নিজের জায়গায় বসলেও পরবর্তীতে আমার জায়গায় এসেছিল। ফলস্বরূপ সেই মেয়েটির পাঠানো একটি মেয়ে এসে ভুল বুঝে এবং ইকরা কে বলে সেই রুমে যেতে। আর ইকরার কথা অনুযায়ী তার সাথে যে এমন কাজ করেছিল সেই মেয়েটির চুলের রং লাল। আর আমি যার কথা বলছি তার চুলের রঙও লাল। আর তাছাড়াও যখন আমি ইকরাকে খোঁজার জন্য উঠে দাঁড়াই সেই মেয়েটি আমাকে অবাক দৃষ্টিতে দেখছিল। এতে আমার কিছুটা সন্দেহ হলেও আমি তখন ইকরার কে খোঁজার জন্য তাড়াহুড়া করে সেখান থেকে চলে আসি। যদিও কথাগুলো আমি নিজের সিক্স সেন্স দিয়ে বলছি কিন্তু প্রমাণ হিসেবে আমারা চাইলে সিসিটিভি ফুটেজও দেখতে পারি।
মিহালের টনক নড়লো। আসলেই তো নীলা কে সে নিজের স্থানে দেখেনি।আর নীলার কথায় যুক্তি আছে।সে মেয়েটির উপস্থিত বুদ্ধি দেখে প্রভাবিত হলো। মেয়েটি বেশ বুদ্ধিমতি সে তা বুঝতে পারলো। কিন্তু মনে মনে বলল
এত বুদ্ধিমতি মেয়ে কি করে ইরফান এর মতোন এমন বলদ, রামছাগল, চিটার কে বিয়ে করতে পারে আল্লাহ মাবুদ ভালো জানে।আসলেই আজ কাল মেয়েদের চয়েস খুবই বাজে হয়ে যাচ্ছে দিন পে দিন।যাই হোক এমন বুদ্ধিমান মেয়েকে তো আর ইরফানের মতো গাধার সাথে থাকতে দেওয়া যাবে না। কিছু একটা তো করতেই হবে।
মিহালের ধ্যান ভাঙলো মুনভির কথায়।মুনভি মিহাল কে তাড়া দিয়ে বলল___
ভাই তুই একটু গিয়ে দেখ না সিসিটিভি ফুটেজ।
মিহাল সায় দিল। তারপর নীলার দিকে তাকিয়ে বলল____
চলো দেখি তোমার সিক্স সেন্স কতটা ভালো।
নীলা ইকরার দিকে তাকিয়ে বলল___
তুই বস আমি আসছি।আর ভয় পাবার কিছুই নেই এই ভদ্রলোকটাই তোকো বাঁচিয়েছে। আর আমি জলদি চলে আসবো।
ইকরা একবার নিজের সামনে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকটির দিকে তাকালো। লোকটি তার কনুইতে ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছে। তারপর নীলার দিকে তাকিয়ে ভাঙা গলায় বলল___
যা তুই।
নীলা মুচকি হাসি দিয়ে নিজের প্রফেসরের দিকে তাকালো।মিহাল মুনভির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ইকরা কে বলল___
তুমি ভয় পেও না।তুমি তোমার ন্যায্য বিচার পাবে।
বলেই বের হয়ে গেল।তার পেছন পেছন নীলাও হাঁটতে লাগলো।রয়ে গেল কেবল মূ্নভি আর ইকরা।
CFR ফুটেজ রুমের সামনে এসে থামলো তারা।মিহাল লক অন করে প্রথমে নীলা কে প্রবেশ করতে দিল তারপর ঢুকে পরল মিহাল তার পেছন পেছন। পুরোটা রাস্তায় তাদের মাঝে কোনো কথা হয়নি।মিহাল কেবল নীলাঞ্জনা কে দেখতে দেখতে আসলো।আর নীলা ইকরার সাথে যে এমন কাজ করেছে তাকে কি করে শায়েস্তা করবে সে ফন্দি আঁটতে আঁটতে আসলো।
অফিস রুমে এসে মিহাল কম্পিউটার অন করল। অফিস রুমের বাইরে অবশ্য সিকিউরিটি ছিল কিন্তু মিহাল প্রফেসর বলে আসতে অসুবিধা হলো না।
মিহাল কম্পিউটারে ফুটেজ খুঁজতে লাগলো আর আড় চোখে নীলা কে দেখ নিল। মেয়েটি তার পাশে দাঁড়িয়েছে।বেশ ভালোই মানিয়েছে তাদের। মিহাল মনে মনে বলল _____
আমার সাথেই তো মানাচ্ছে নীলাঞ্জনা কে।জানি না ওই ইঁদুরের মতোন চেহারা নিয়ে ইরফান কি করে এত রূপসী মেয়েকে বিয়ে করে নিল। সবই কপাল।
মিহাল হাঁফ ছেড়ে কাজে মনোনিবেশ করল।নীলার বেশ গরম লাগছে।কখন থেকে দৌড়াদৌড়ি করছে।তার ওপর আবার টেনশন।পরনে শাড়ি।সব মিলিয়ে তার মাথা ঘুরছে।সেই সকালে খেয়েছিল তার পর আর পেটে কিছু পরেনি মেয়েটির। পানি পান করা খুবই জরুরি কিন্তু পানির বোতল সেই ক্লাস রুমে রেখে এসেছে।আর না পেরে নিজের মুখের মাস্ক খুলে টেবিলের উপর রাখলো।মিহাল তড়িৎ গতিতে নীলার দিকে তাকালো। চোখাচোখি হলো দুজনের।এক নজরে তাকিয়ে রইল মিহাল তার নীলাঞ্জনার দিকে।সে যতটা নিখুঁত ভাবে বর্ণণা করেছিল তার থেকেও বেশি মায়াবী এবং নিখুঁত এই মেয়েটি।সে পলক ফেলতে পারছে না। হঠাৎ কম্পিউটারের স্ক্রিনে আজকের ঘটনার ফুটেজ ভেসে উঠতেই নীলা সে দিকে দৃষ্টিপাত করলো এবং সত্যটা প্রকাশ পেতেই জোরে বলে উঠলো ____
আই নিউ ইট।
তার কথায় মিহালের হুঁশ ফিরল।সেও কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে অবাক হলো। এখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে লিসা রুমের দরজা লাগিয়ে দৌড় দিয়ে চলে যাচ্ছে।সে অবাক হলো নীলার সিক্স সেন্স দেখে। মেয়েটি যা বলেছে তা মিলে গেলো। আসলেই প্রসংসনীয়।
মিহাল নীলার দিকে তাকিয়ে বলল ___
রাইট গেস বাট এমনটা কিন্তু তোমার সাথেও ঘটতে পারতো।
নীলা নির্বিঘ্ন ভঙ্গিতে বলল _____
কখনোই না।
মিহাল ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল ___
কেন?
নীলা এইবার মিহালের দিকে তাকিয়ে বলল_____
কারণ যদি ইকরার যায়গায় আমি থাকতাম তাহলে যে আমার পরনের পোশাক ছিঁড়তে এসেছিল আমি তার চুল ছিঁড়ে ফেলতাম।
মিহাল বেশ চমকালো মেয়েটির সাহস দেখে। কিন্তু ঠোঁটে তার বাঁকা হাসি ফুটে উঠল।সে স্ট্রং মানুষ খুব পছন্দ করে।অনলি স্ট্রং পিপলস ক্যান হ্যান্ডেল আ স্ট্রং পিপল।সে তো বুঝতেই পারছে না এই মেয়ে কি করে ইরফানের মতন ভীতু, গর্দভ ছেলে কে বেছে নিল।
মিহাল নীলাকে আস্বস্ত দিয়ে বলল____
তোমার ফ্রেন্ড তার ন্যায্য বিচার পাবে।
নীলা এক চিলতে হেসে বলল ____
ইকরার অ্যাক্লুওফোবিয়া আছে। অন্ধকারে মেয়েটির দম বন্ধ হয়ে আসে।ইকরা যেমনটি অনুভব করেছি এই মেয়েটি কেউ কি তেমন অনুভব করানো যাবে?
মিহাল হকচকিয়ে গেল নীলার এমন কথায়। কিন্তু নিজেকে সামলিয়ে বলল____
না হয়তো মাসখানেকের জন্য সাসপেন্ড করা যাবে আর জরিমানা।
নীলা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল _____
তাহলে এই বিচার ন্যায্য কি করে হলো? এইটাকে আর যাই হোক ন্যায্য বিচার বলা যায় না।এই মেয়েটিকে তো আমি দেখে নিব।ওকে আমি শায়েস্তা করে আমার ফ্রেন্ড কে ন্যায্য বিচার দিব।
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৩ (২)
মিহাল বাঁকা হাসলো।তার নীলার এই পারসোনালিটি চমৎকার লাগলো। মেয়েদের তো এমন সাহসী, ত্যাজি হতে হয়।সে নীলার উদ্দেশ্যে বলল___
ডো হোয়াট এভার ইউ ওয়ান বাট বিহেভ।
নীলা মাথা নেড়ে বাঁকা হাসলো।
