Home নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৯

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৯

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৯
নাজনীন নেছা নাবিলা

ইকরা আর মুনভি মিলে বেশ ভালো আড্ডা দিল। ইকরার জন্য মুনভি কিছু ঔষধও লিখে দিল। দুজন মিলে গল্প করতে করতে এক সাথে কটন ক্যান্ডি খেলো।বেশ ভালই সময় কাটলো তাদের।কথায় কথায় তো ইকরা বলেও দিল যে তারও ডাক্তার হবার খুব ইচ্ছে। কথাটি শুনেই মুনভির চঞ্চল মনে শান্তি এসে ভর করল।সে তো এইসব ভেবে ভেবে চঞ্চল হয়ে উঠছিল যে তার কটন ক্যান্ডি কি ভালোবাসে, তার স্বপ্ন কি? কিন্তু এখন দেখছে দুজনের মনের মিল আছে। তার ঠোঁট স্মিত হাসি ফুটে উঠল।

এমন সময় ইকরা ফোনের স্ক্রিনে সময় দেখে তাড়াহুড়ো করে বলল____
এমা অনেকক্ষণ হয়েছে আমি এসেছি।এইবার আমায় যে উঠতে হবে। আপনার অনেক সময় অপচয় করলাম ডাক্তার সাহেব। কিছু মনে করবেন না।
মুনভি নড়েচড়ে উঠলো। মনে হচ্ছে এইতো এলো তার কটন ক্যান্ডি আর এখনই কি চলে যেতে হবে? এইটা তো ভারি অন্যায়। কিন্তু সে কিইবা করতে পারবে। তার যে কোন অধিকার নেই এই মেয়েটিকে আটকে রাখার। যদি অধিকার থাকতো তাহলে এক সেকেন্ডও দূরে রাখতো না নিজের কাছ থেকে মেয়েটিকে। নিজের চিন্তা ভাবনা দূরে সরিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল ___

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

এই তো এলেই আর এখনই চলে যাবে?
ইকরা নিজের ফোনের টাইম অন করে মুনভির মুখের দিকে ফোন ঘুরিয়ে দেখিয়ে বলল___
এই যে দেখুন ঘন্টাখানেক হয়ে গিয়েছে আমি এখানে এসেছি। আপনার আর মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাচ্ছি না।
মুনভি ঈষৎ হেসে মাথা চুলকলো। তার সেই খেয়ালই নেই যে এই মেয়েটা এসেছে এবং ঘণ্টাখানেক সময় পারও হয়ে গিয়েছে। তার কাছে তো মনে হচ্ছে এই অল্প কিছু মুহূর্ত পার হলো কেবল।
ইকরা আসছি বলে দরজা অবদি গেল অমনি মুনভি শ্রুতিমধুর কন্ঠে গান ধরল ___

আটকে তোকে রাখতে চাইছি খুব
সকালে আমার, বিকেলে আমার
তুই ডাক না দিলে থাকবো আমি চুপ
দিনেতে আমার দুপুরে আমার।
ইকরার পা জোড়া থেমে গেল।তার বক্ষঃস্থল স্পন্দিত হলো। শ্বাস প্রশ্বাস ভারী হয়ে উঠল।তার যথেষ্ট বয়স হয়েছে এখন। অথচ এই পর্যাপ্ত বয়সে এসে মনে বয়ঃসন্ধির অনুভূতিরা এসে কড়া নেড়ে গেল।এই অনুভূতি থেকে সে অজানা। আগে কখনো এমন অনুভূতি হয়নি। লোকটি তো কেবল গান গেয়েছে অন্য কিছু তো না। তাহলে কেন তার নিজের হৃদয়ের উপর নিজের কোন নিয়ন্ত্রন নেই?কেন পা জোড়া এগোচ্ছে না? কেন মন পিছু ডাকছে?,সে আস্তে আস্তে পিছু ফিরে তাকালো। মুখে স্বাভাবিক ভঙ্গিমা আনার চেষ্টা জাড়ি রাখল। তারপর এক চিলতে হাসি নিয়ে বলল____

বেশ ভালোই গান আপনি। থেমে গেলেন যে?
মুনভি হেসে দিল। তারপর পরের অংশটুকু গাইতে শুরু করল____
ঠিক এমন এভাবে
তুই থেকে যা স্বভাবে
আমি বুঝেছি ক্ষতি নেই
আর তুই ছাড়া গতি নেই।

মুনভি কেবল গান গাইছে নাকি তার সাথে প্রণয়চাতুর্য করার চেষ্টা করছে এইটা বোধগম্য হলো না ইকরার। কারণ তার দৃষ্টিতে এই শ্রুতিমধুর কন্ঠের অধিকারী ব্যক্তি নিতান্তই একজন জেন্টালম্যান। আর জেন্টালমেনরা কোন মেয়ের সাথে প্রণয়চাতুর্য করে কখনোই তাকে অস্বস্তিতে ফেলবে না। ঠিক যেমন মুনভি তাকে অস্বস্তিতে ফেলেনি বরং নিজের গান শুনিয়ে তার মনোরঞ্জন করেছে। ইকরার ভালোই লাগল মুহূর্ত খানি। মনে রাখার মত একটি মুহূর্ত তৈরি হয়ে এলো। এই মুহূর্তটি সে কখনোই ভুলবেনা।

ইকরা মুনভির গলার স্বরের প্রশংসা করে চলে এলো। অবশ্য চলে আসার আগে মুনভি তার কাছ থেকে তার ঠিকানা, এপার্টমেন্টে নাম্বার সব জেনে নিল আর ফোন নাম্বার তো আগে থেকে আছে তার কাছে। ইকরা চলে যেতেই মুনভি বুকের বা পাশে হাত রেখে নিজের চেয়ারে বসে পড়ল। ঠোঁটে তার বিশ্ব জয়ের হাসি খেলা করছে। এই মুহূর্তে এক অদ্ভুত অনুভূতি অনুভব করতে পারছে সে। তার বেশ ভালো লাগছে জীবনে প্রথমবার এমন অনুভূতি অনুভব করতে পেরে।

ডেস্কের উপর থেকে ফোন হাতে নিল।ইকরার নাম্বার কটন ক্যান্ডি দিয়ে সেইব করে ফেলল। তারপর ইকরার জন্য একটি অনলাইন স্টোর কিছু একটা অর্ডার করলো। এবং ইকরার লোকেশন দিয়ে দিল। মেয়েটি তাকে একটি গোলাপ দিয়েছে, আবার কটন ক্যান্ডি গিফট করেছে তার উচিত মেয়েটিকে কিছু একটা উপহার দেওয়া। তাই তার কটন ক্যান্ডির জন্য তারই মতন মিষ্টি কিছু একটি অর্ডার দিল। মুনভি হাতে থাকা গোলাপি রঙের গোলাপ ফুলটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে। তার মুখ লজ্জায় গোলাপি হয়ে যাচ্ছে।এই প্রথম সে ভীষণ লজ্জা পাচ্ছে। তার মনে এক ভালো লাগা ছেয়ে যাচ্ছে। কিছু না ভেবেই হাতে থাকা ফুল সহ একটি ছবি তুলে ওয়ালপেপার সেট করে রাখল। যতদিন না ইকরার সাথে নিজের কোন ছবি তুলে ওয়ালপেপার এ সেভ করতে পারবে তার আগ পর্যন্ত এই ছবিকেই নিজের ওয়ালপেপার রাখবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল।

মিহাল ক্লাসে পড়াচ্ছে আর আড় চোখে নীলা কে পরখ করছে। সময়ের ব্যবধানে কি অদ্ভুত অনুভূতি জন্ম নিল তার মনে। এই মেয়েটিকে ব্যবহার করবে এই নিয়তে তার সকল খোঁজখবর রাখলো। আবার এই মেয়েটির সাথেই তার ঝগড়া হল। প্রথম দিনেই মেয়েটির উপর রেগে গেল। তখন জানতো না যেই মেয়েটির জন্য সে অপেক্ষা করছে এই মেয়েটি সেই ।আর যখন জানতে পারলো তখন এই মেয়েটিকে ব্যবহার করার চিন্তাভাবনা মনে আনা তো দূরের কথা মস্তিষ্কে পর্যন্ত আনতে পারলো না।কি অদ্ভুত।
মন বলছে এই মেয়েটির সম্পর্কে আরো কিছু জানতে। কিন্তু সরাসরি তো জিজ্ঞেস করতে পারবে না তার নিজেরও ইগো বলে কিছু একটা আছে। তাই পড়া কমপ্লিট করে ফরাসি ভাষায় বলল____
আচ্ছা সব সময় তো পড়াশোনা করা হয়। আজ তোমরা ভবিষ্যতে কি হতে চাও সেটা নিয়ে বলবে আমাকে। দেখি কার ইচ্ছে কতটা ইন্টারেস্টিং এবং ইউনিক।

সবাই যেমন খুশি হল তেমনই অবাক হলো। এই প্রফেসর কে সবাই গম্ভীর প্রফেসর বলেই জানে। পড়াশুনা ব্যতীত কখনো কোনো এক্সট্রা কথা বলেনি। অথচ আজ এমন কথা বলছে। অবাক হবারই কথা সবার। তবুও অবাক হওয়ার বিষয়টাকে সাইডে রেখে সবাই খুশি হলো। এই সুযোগে পড়া থেকে কিছুটা বিরতি নেওয়া যাবে।
মিহাল ডান পাশে সাড়ির প্রথম বেঞ্চ থেকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো। নীলা বামপাশের সাড়ির প্রথম বেঞ্চে বসেছে। মিহাল প্রত্যেক সাড়ির প্রথম বেঞ্চে বসে থাকা স্টুডেন্টদেরকে জিজ্ঞেস করছে।সবাই নিজেদের মতো করে উত্তর দিচ্ছে। এবার এল নীলা যে বেঞ্চে বসেছে সেই বেঞ্চের স্টুডেন্টদেরকে জিজ্ঞেস করার পালা। নীলার পাশে বসে থাকা একটি মেয়েকে জিজ্ঞেস করল সে নিজের মত উত্তর দিল। তারপর নীলা দাঁড়ালো।মিহাল যেন এই সময়ের অপেক্ষায় করছিল। নিজের কন্ঠে গম্ভীর্য বজায় রেখে জিজ্ঞেস করল____

হোয়াট ডু ইউ ওয়ান্ট টু বি ইন দা ফিউচার?
নীলা নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে জবাব দিল___
আই ওয়ান্ট টু বি এ সাকসেসফুল হার্টলেস ওমেন।
সবাই দৃষ্টি গেল নীলার দিকে। সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল এই মেয়েটির দিকে। মিহাল অবাক হলেও কিছুক্ষণের ভেতর তার ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো।নীলার কাছ থেকে অবশ্য এমন উত্তর আশা করা যায়।এমন সময় ক্লাসের টাইম শেষ হয়ে গেল এবং বেল বেজে উঠলো। সবাই যার যার জিনিসপত্র গোছাতে শুরু করল। নরমালি ক্লাস শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে প্রফেসর বের হয়ে পরে কিন্তু আজ মিহাল বের হলো না। নীলার সাথে কথা বলতে মন চাইছে। আর মিহাল খানের মন একবার যা চায় সে তাই করে ছাড়ে। সবাই একে বের হতে লাগলো।নীলা সব সময় পরে বের হয়। কারণ ক্লাস শেষ হলেই ছেলেমেয়েরা একসাথে বের হয়। তখন একটা কেমন জানি গোঁজামিল অবস্থা হয়ে যায়।তাই সে সবসময় পরে বের হয়।

ক্লাস ফাঁকা হয়ে যেতেই নীলা যেই না বের হতে লাগলো উমনি মিহাল জিজ্ঞেস করে উঠলো ___
তোমার ফ্রেন্ড এখন কেমন আছে?
নীলা থেমে গেল। পিছনে ফিরে ভদ্রতা বজায় রেখে স্বাভাবিক কণ্ঠে বললো___
এখন আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে। অবশ্য রাতে জ্বর উঠেছিল কিন্তু সেটা এখন কমে গিয়েছে।
মিহাল মাথা নাড়িয়ে আবার বলতে লাগলো ___
তুমি আজকে যে জবাবটি দিলে তোমার কি মনে হয় না এরকম মনোভাব রেখে তুমি নিজের জীবন নষ্ট করছো?
আসলে মেয়েটি তেজ কতটুকু সেটা দেখার জন্য সেই এমন কথা বলল।সে দেখতে চায় মেয়েটি কি বুদ্ধিমত্তার সাথে সুন্দর ভাবে জবাব দেয় নাকি রেগে যায়।
নীলা স্মিত হেসে নিজের প্রফেসর এর বলা কথাটি আরেকবার রিপিট করল__

জীবন নষ্ট।
আর ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি।এই হাসি মিহালের চোখের আড়াল হলো না। সে সবটা লক্ষ্য করল। তার মনের কৌতুহল আরো বেড়ে গেল।সে নীলার আজ থেকে উত্তর পাবার আশায় চেয়ে রইল।
নীলা বলতে শুরু করল ____
মানুষ দুইবার নিজ হাতে নিজের জীবন নষ্ট করে।
প্রথমবার বিয়ের আগে প্রেম করে এবং সর্বশেষ বার বিয়ে করে।
নীলার বলা কথা শুনে মিহালের চোখ বড় বড় হয়ে গেল। এই মেয়ের আসলেই তেজ আছে। মেয়েটির নাম নীলা না রেখে লীলা রাণী রাখা উচিত ছিল। বেশ ভালো মানাতো মেয়েটির পার্সোনালিটির সাথে। নীলা মিহাল কে সালাম দিয়ে ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে এলো।
নীলা চলে যেতেই মিহাল নিজে নিজে আনমনে বলতে লাগলো___

তার মানে কি নীলাঞ্জনা ইরফানের সাথে সুখী নেই? অবশ্য সেই হাদারামের সাথে আমার নীলাঞ্জনা কি করে সুখী থাকতে পারে? ওই শালার না আছে চেডার আর না আছে আইকিউ, না আছে যোগ্যতা। একদম অস্ট্রেলিয়ান গরু। কত সুন্দর নীলাঞ্জনার মত পরীকে বিয়ে করে ফেলেছে। আল্লাহ এই দুঃখ যে আমার আজীবন রয়ে যাবে।
নিজের এসব কথায় নিজেই অবাক হয়ে গেল। সে তো ভাবছিল নীলার জন্য তার মনে যা আছে তা কেবল সহানুভূতি। কিন্তু তার মনে আবার হিংসা কবে থেকে জন্মাতে শুরু করল? মিহাল খান কখনোই কাউকে হিংসা করেনি বরং লোকে তার সাকসেস দেখে হিংসা করে এসেছে। অথচ আজ সে ইঁদুরের মত দেখতে ইরফানের প্রতি হিংসা করছে। ব্যাপারটা বেশ হাস্যকর এবং লজ্জাজনক। যদি তার বেস্ট ফ্রেন্ড মুনভি জানতে পারে তাহলে তাকে নিয়ে বেশ মজা করবে। আর যদি ঘুনাক্ষরেও ইরফান একবার জানতে পারে তাহলে তো তার মান সম্মান সব ধুলোয় মিশে যাবে। এবং সে এটা কিছুতেই হতো দিবে না। তাই নিজেকে যেভাবেই হোক স্বাভাবিক রাখতে হবে। এবং নিজেকে স্বাভাবিক রাখার একমাত্র উপায় হলো হর্স রাইডিং।মিহাল আর বেশিক্ষণ ক্লাস রুমে না থেকে নিজের কেবিনে চলে গেল।

ইকরা বাড়ি ফিরল মাত্র কিছুক্ষণ হয়েছে। পুরোটা রাস্তা সে কেবল মুনভি এবং তার সাথে বলে আশা কথাবার্তা আর তার গাওয়া গান এইসব কথাই মনে করছিল। এই জ্যান্টালমেন্টা ধীরে ধীরে তার মনে জায়গা করে দিচ্ছে। কিন্তু যখনই তার মনে কেউ জায়গা করতে নেয় তখনি তার নীলার সাথে ঘটে যাওয়া বিশ্রী ঘটনার কথা মনে পড়ে। মেয়েটা যাদের কাছ থেকে ধোঁকা পেয়েছে তাদেরকে তো ছোট্টবেলা থেকে চিনতো তারপরও মেয়েটাকে ঠকালো তারা। আর জায়গায় দু’একদিনের পরিচয় সে কি করে কাউকে বিশ্বাস করবে। তার যে ভীষণ ভয় এইসবে। মাথা থেকে জেন্টালম্যানের চিন্তাভাবনা সরিয়ে নিল। যেভাবেই হোক এই লোক থেকে তার দূরে থাকতে হবে। সে কারো মায়ায় জড়াতে চায় না। মায়া জিনিসটা বড় ভয়ঙ্কর।

আ্যপার্টমেন্টে এসে নিজের মতো করে সময় কাটাতে লাগলো সে। হঠাৎ কলিং বেল বাজতেই সে ভাবলে হয়তো নীলা এসেছছ তাই দৌড় দিয়ে দরজা খুলতে গেল। কিন্তু নীলা বলে গিয়েছিল দরজা খোলার আগে পিপ-হোল দিয়ে দেখে নিতে যে কে এসেছে।তাই সে আগে পিপ-হোল দিয়ে দেখলো কে এসেছে। দরজার বাহিরে ডেলিভারি ম্যান কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এসে কিছুটা অবাক হল। কারণ তার জানামতে সে কিছুই অর্ডার করেনি। তারপর মনে হল হয়তো নীলা কিছু অর্ডার করেছে তাই দরজা খুলল। ডেলিভারি ম্যান তাকে বলল ইকরা ম্যাম এর নামে অর্ডার এসেছে। সে বলল যে সেই ইকরা। তারপর তার কাছ থেকে সাইন নিয়ে ফর্মালিটি পূরণ করে তাকে বক্সটি ধরিয়ে দিল। ইকরা গিফটের বক্সটি নিয়ে দরজা লাগিয়ে নিজের রুমে প্রবেশ করল। বড় বক্সের ভেতর সুন্দর দুটো বক্স। এবং বক্সের উপর একটি কার্ড আছে। কার্ডের উপর নাম লেখা গিফট ফ্রম ডক্টর মুনভি।

ইকরার ঠোঁটে না চাইতেও এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো। সে আর সময় নষ্ট না করে দুটি বক্সের মধ্যে একটি বক্স খুলতে লাগলো। বক্স খুলেই তার চোখ মুখে মুগ্ধতা ছড়িয়ে গেল। প্রথম বক্সটির ভেতর সুন্দর পিং কালারের বোরকা এবং হিজাব পরা সুন্দর পুতুল। এ ধরনের পুতুলকে ক্রোশে পুতুল।ক্রোশে পুতুল (Crochet Doll) হলো সুতা এবং একটি ক্রোশে হুক ব্যবহার করে হাতে তৈরি নরম পুতুল, যা মূলত জাপানি অ্যামিগুরুমি (Amigurumi) শিল্প থেকে এসেছে। তার মুখের হাসি চওড়া হলো।

সে সময় নষ্ট না করে আরেকটি বক্স খুলল। এই বক্সের ভেতর থাকা পুতুলটি দেখে তার চোখ ছল ছল করে উঠলো। সেখানেও ক্রোশে পুতুল আছে। কিন্তু এই পুতুলটি মিষ্টি রংয়ের কাপড় পড়েছে সাথে হিজাব এবং কাপড়ের উপর ডাক্তারদের সাদা অ্যাপ্রন।আবার স্টেথোস্কোপও আছে।
ইকরার বেশ পছন্দ হলেও উপহার দুটি। মুখ ভরা হাসি নিয়ে একা একাই বলে উঠলো____
এমন জেন্টলম্যান থেকে দূরত্ব বজায় রাখার হাজার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হতে হবে।

এভাবেই দিন চলতে লাগলো। নীলা আর ইকরা বেশ মানিয়ে নিয়েছে নিজেদেরকে এই দেশে। আজ উইকেন্ডে তারা দুজন বের হয়েছে জিনিসপত্র কিনে আনার জন্য। ৩-৪ দিন পর থেকেই নিজেদের নতুন ব্যবসা শুরু করবে। তারা দুজনেই বেশ খুশি আছে।

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৮

অন্যদিকে মুনভি বেশ বুঝতে পারছে যে আর বন্ধু মিহাল নীলার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। ঐ নীলাকে বিবাহিত ভেবে উঠতে বসতে ইরফান কে গালি দিচ্ছে। সে চাইলেই বলে দিতে পারে যে নীলা বিবাহিত না। কিন্তু সেই ইরফানের জন্য ভিসার একবার তাকে থাপ্পড় দিয়েছিল সে থাপ্পরের প্রতিশোধ নিচ্ছে সে। তাই এখনো কিছু বলছে না। প্রয়োজন পড়লে সে নীলাকে সব কিছু বলে নীলার সাথে প্রেমের নাটক করবে। তবুও মিহাল কে জ্বালিয়ে ছাড়বে। এক রাম ছাগলের কথা শুনে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড এর গায়ে হাত তোলা যে কত বড় জঘন্যতম অপরাধ তা হারে হারে টের পাবে মিহাল কে।

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ২০