Home নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৬০

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৬০

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৬০
নাজনীন নেছা নাবিলা

সবাই চলে যাওয়ার পর পুরো বাড়িটায় এক থমথমে নীরবতা নেমে এলো। ইরফান তাদের জন্য বরাদ্দ করা ঘরের বারান্দার ইজিচেয়ারে বসে শূন্য দৃষ্টিতে বাইরের দিকে তাকিয়ে গভীর কিছু একটা ভাবছিল। তার চোখের কোণে তখনো এক অদ্ভুত অস্থিরতা আর পরাজয়ের গ্লানি স্পষ্ট। ঠিক এমন সময় আরশি পা টিপে টিপে বারান্দায় তার একদম কাছাকাছি এসে দাঁড়াল। অত্যন্ত নরম ও আকুল কণ্ঠে বলল,
“শোনো না, যা কিছু ঘটেছে, সেসব তিক্ত স্মৃতি ভুলে গিয়ে আমরা কি আবার নতুন করে আমাদের জীবনটা শুরু করতে পারি না?”

আরশির মুখ থেকে এমন অভাবনীয় আর পরিণত কথা শুনে ইরফান ভীষণ অবাক হলো। সে চট করে মাথা ঘুরিয়ে আরশির মুখের দিকে তাকাল। তার চোখের তীক্ষ্ণ চাউনি দিয়ে সে আরশির ভেতরের আসল মতলব বা উদ্দেশ্যটা বোঝার চেষ্টা করতে লাগল। এই মেয়েটি সত্যিই মন থেকে বলছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো চাল আছে? ইরফানকে নীরব দেখে আরশি আবার একটু এগিয়ে এসে উনার হাতটা আলতো করে ছুঁয়ে বলল,
“অতীতে যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। সেসব ভুল আর অন্যায়ের বোঝা টেনে আজ আমাদের বর্তমান আর ভবিষ্যৎ নষ্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই। অতীতকে যদি আমরা চিরতরে ভুলে যেতে পারি, তবেই হয়তো আমাদের বর্তমান এবং সামনের দিনগুলো অনেক বেশি সুন্দর আর মায়াময় হবে।”
আরশির এই শান্ত ও গভীর কথাগুলো ইরফানের মস্তিষ্কে গিয়ে আঘাত করল। সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আরশির কথার গভীরতা অনুধাবন করার চেষ্টা করল। হয়তো তার নিজের ভেতরেও এক ধরণের ক্লান্তি ভর করেছিল। সে আর কোনো বাক্যব্যয় না করে আরশির হাতটা আলতো করে টেনে তাকে নিজের একদম কাছে নিয়ে এলো। পরম মমতায় আরশির কপালে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে গভীর একটা চুমু আঁকল। তারপর আরশিকে নিজের শক্ত বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে চোখ দুটো বন্ধ করে দূরহ কোনো ভাবনায় ডুবে গেল। অন্যদিকে, আরশিও এত দিন পর স্বামীর বুকে এমন নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে পরম শান্তিতে ইরফানের বুকে মাথা রাখল এবং নিজের চোখ জোড়া বন্ধ করে এক অজানা ভবিষ্যতের জাল বুনতে লাগল।

একটি বড় নতুন শপের সামনে এসে গাড়ি থামল মিহাল দের। মিহাল দের দুটি গাড়ি এবং এবং মুনভি দের দুটি গাড়ি। আর একটি গাড়ি বুক করে তারা সবাই মিলে এসেছে। সবাই একে একে গাড়ি থেকে বের হলো। গাড়ি থেকে নামতেই নীলা আর ইকরার চোখের পলক থমকে গেল। এক পলকেই ঘোর লেগে গেল দুই জোড়া চোখে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শপটি যেন কোনো রূপকথার পাতা থেকে উঠে আসা এক জাদুকরি ক্যানভাস। পুরো শপটি সুন্দর নকশায় মোড়ানো। এর একপাশে নীল রঙের জবা ফুলের গাছ। যার পাপড়িগুলো কিছু মাটিতে পড়ে আছে। অন্যপাশে ঠিক বিপরীত এক দৃশ্য সেখানে থরে থরে ফুটে আছে নরম গোলাপি রঙের গোলাপ ফুলের গাছ। নীল আর গোলাপির এই মেলবন্ধন পুরো পরিবেশকে এক স্বর্গীয় রূপ দিয়েছে। শপের ওপরের সাইনবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে দুটি নাম ‘কটন ক্যান্ডি’ এবং ‘নীলাঞ্জনা চিতই পিঠার শপ’। নীলা এবং ইকরা তো একদম অবাক। তাদের এই বিহ্বল দশা দেখে পেছনের দুই পুরুষ ঠোঁটের কোণে মায়াবী মুচকি হাসি ফুটিয়ে তুলল। এই চমৎকার সারপ্রাইজটি যে তাদেরই দেওয়া। নীলা এবং ইকরার চোখের সেই সীমাহীন বিস্ময় আর আনন্দ দেখে তাদের বুকটা এক অজানা সুখে ভরে উঠল।

মুগ্ধতার রেশ কাটার আগেই নীলা এবং ইকরা ধীরে ধীরে শপের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। তাদের ঠিক পেছন পেছন হেঁটে আসছে তাদের পরিবার, সবার মুখেই তখন তৃপ্তির হাসি আর প্রশংসার গুঞ্জন। শপের মূল প্রবেশদ্বারে যাওয়ার পথটি আটকে রেখেছে একটি জমকালো লাল ফিতা। পাশে একটি ছোট টেবিলের উপর রাখা একটি রুপালি কাঁচি। যেন অপেক্ষা করছে এক নতুন ও শুভ সূচনার। এই ফিতা কেটে ভেতরে ঢুকলেই শুরু হবে এক নতুন অধ্যায়। সবচেয়ে বড় চমকটি লুকিয়ে ছিল আরও একটু দূরে। শপের একপাশ থেকে চোখ মেললেই দেখা যাচ্ছে দূর দিগন্তে দাঁড়িয়ে থাকা প্যারিসের আইফেল টাওয়ার।
নীলা আর ইকরার মনে হাজারো প্রশ্ন থাকলেও তাদের চোখ দমুহূর্তের মধ্যে খুশির জলে চিকচিক করে উঠছে শপটি দেখে। ঠিক তখনই মিহাল আর মুনভি ধীরপায়ে এসে তাদের ঠিক পাশে দাঁড়াল, আর তাদের পুরো পরিবার এক বুক গর্ব আর আনন্দ নিয়ে পেছনে অর্ধবৃত্তাকারে জড়ো হলো। আবির প্রফেশনালদের মতো ড্রোন উড়িয়ে পুরো দৃশ্যটির ভিডিও ধারণ করছে, আর ইবাদ নিজের ফোনের ক্যামেরা অন করে প্রতিটা মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি করতে ব্যস্ত।
মিহাল আর মুনভি একসাথে মৃদু হেসে বলে উঠল,

“এই দোকানটাই ছিল আসলে তোমাদের জন্য আমাদের আসল সারপ্রাইজ। আর এই শুভ মুহূর্তটার সাক্ষী হতেই তোমাদের পুরো পরিবারকে এত কষ্ট দিয়ে হুট করে এখানে নিয়ে আসা।”
মুনভি আর মিহালের কথাগুলো শুনে নীলা আর ইকরা পেছনে ঘুরে তাকাল। তারা দেখল, তাদের বাবা, মা, চাচা, জ্যাঠারা প্রত্যেকে তাদের দিকে তাকিয়ে পরম তৃপ্তির মুচকি হাসি হাসছেন এবং মাথা নাড়িয়ে সায় দিচ্ছেন। মুহূর্তেই দুই বান্ধবীর চোখ খুশির বন্যায় ভেসে গেল। যখন তারা ছোট্ট পরিসরে চিতই পিঠার বিজনেস শুরু করেছিল, তখন রাত জেগে তারা দুজনে মিলে স্বপ্ন বুনেছিল একদিন কষ্ট করে টাকা জমিয়ে নিজেদের একটা স্থায়ী দোকান দেবে। আজ চোখের পলকে সেই অসম্ভব স্বপ্নটা এভাবে বাস্তব রূপ নিল, তা তারা কল্পনাও করতে পারেনি। মিহাল টেবিলের উপর থাকা প্লেট থেকে কাঁচিটি তুলে নিল, তারপর নীলা আর ইকরার চোখের দিকে তাকিয়ে আলতো হেসে বলল,

“নাও এবার নিজেদের হাতের ছোঁয়ায় ফিতা কেটে নিজেদের স্বপ্নের ভেতরে প্রবেশ করো।”
নীলা চোখের জল মুছে মিহালের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে মুচকি হাসল। তারপর বলল,
“স্বপ্নটা আমাদের ঠিকই, কিন্তু তা পূরণের কারিগর তো আপনারা। তাই শুধু আমরা নই, আপনারাও আমাদের সাথে এই ফিতা কাটবেন।”
পাশে দাঁড়িয়ে ইকরাও বেশ জোর দিয়ে নীলার কথায় সায় দিল। প্রিয়সীদের এমন ভালোবাসাময় আবদার আর ফেরাতে পারল না দুই যুবক। নীলা কাঁচিটি ধরতেই মিহাল পরম মমতায় নিজের শক্ত হাতটা নীলার হাতের ওপর রাখল, আর ওদিকে ইকরার হাতের ওপর মুনভি নিজের হাত রেখে চারজন মিলে একসাথে সেই লাল ফিতাটি কেটে ফেলল। ফিতা কাটা শেষ হতেই পেছনের পুরো পরিবার একসাথে তুমুল করতালি দিয়ে চারপাশ মুখরিত করে তুলল। আবির আর ইবাদ আনন্দের চোটে চিৎকার করে উঠল। চারজন মিলে এক বুক গর্ব আর একরাশ নতুন স্বপ্ন নিয়ে একসাথে সেই নতুন শপের ভেতর প্রথম পা রাখল। আর তাদের ঠিক পেছন পেছন পরম শান্তিতে পা বাড়ালেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। ভেতরের নান্দনিক ডেকোরেশন আর নিজেদের মেয়েদের এত বড় সাফল্য ও ভাগ্য দেখে নীলা এবং ইকরার মায়েরা আর নিজেদের চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না। তাঁরা খুশিতে ও গর্বে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন।

সবাই মিলে দোকানটা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল। তাদের চোখের কোণে তখন আনন্দের এক মায়াবী ঝিলিক। দুই তলার এই বিশাল শপটিকে অসম্ভব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। পুরো ডেকোরেশনে আধিপত্য ছড়াচ্ছে হালকা নীল আর মিষ্টি গোলাপি রঙের ছোঁয়া। দোকানের একপাশে বেশ আধুনিক কায়দায় পিঠা বানানোর লাইভ স্টেশন করা হয়েছে, আর কাস্টমারদের বসার জায়গাগুলো এতটাই নান্দনিক যে, সেখান থেকে কাচের দেয়াল গলে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের সম্পূর্ণ সৌন্দর্য এক পলকে উপভোগ করা যায়। পুরো শপটা ঘুরে দেখে তৃপ্তির এক নিঃশ্বাস ফেলে নীলা আর ইকরা যেই না পেছনের দিকে ঘুরল, অমনি তাদের চোখ ছানাবড়া। তারা দেখল, মুনভি ইকরার সামনে এক হাঁটু গেড়ে মেঝেতে বসে পড়েছে। উপস্থিত সবার মুখে তখন এক চিলতে রহস্যময় হাসি। নীলার আর বুঝতে বাকি রইল না যে ঠিক এই মুহূর্তে এখানে কী কাণ্ড ঘটতে চলেছে। সে আলতো পায়ে একটু পাশে সরে গিয়ে মিহালের একদম কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়াল। মিহালও পরম মমতায় নীলার কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের বুকের সাথে টেনে নিল। এদিকে আচমকা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে ইকরা যেন পুরোপুরি পাথর হয়ে গেল। সে অবিশ্বাস্য আর পলকহীন চোখে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা মুনভির দিকে তাকিয়ে রইল। তার বুকের ভেতর তখন আনন্দের এক তীব্র ঝড় বইছে। ঠিক তখনই জাঁকজমকপূর্ণ আবহ তৈরি করে আবিরের ড্রোনটি মৃদু গুঞ্জন তুলে ঠিক তাদের মাথার ওপর চলে এলো। ড্রোনের নিচে সুতো দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা ছিল একটি চমৎকার বড় বক্স। মুনভি হাত বাড়িয়ে ড্রোন থেকে সেই বক্সটি সাবধানে নিচে নামিয়ে আনল। মিহাল তখন ইশারা বুঝে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে মুনভির হাত থেকে সেই বড় বক্সটি নিজের হাতে ধরে রাখল। মুনভি সেই বড় বক্সের ভেতর থেকে ছোট, মখমলের একটি আংটির বাক্স বের করে আলতো করে খুলল। ভেতরে জ্বলজ্বল করছে দুটি নিখুঁত হিরের আংটি। সে ইকরার ছলছল চোখের দিকে সোজা তাকিয়ে অত্যন্ত গভীর ও আবেগজড়িত কণ্ঠে বলতে লাগল,

“‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’ বা প্রথম দেখায় ভালোবাসায় আমি কোনোদিন বিশ্বাস না করলেও, তুমিই ছিলে আমার জীবনের প্রথম দেখায় জেগে ওঠা একমাত্র প্রেম, ইকরা। আজ যেমন তোমাকে এই গোলাপি শাড়িটা আমি উপহার দিয়েছি, ঠিক তেমনি কোনো এক সময়ে গোলাপি রঙের বোরকা গোলাপি শাড়িতেই তোমাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে মনে মনে তোমার নাম দিয়েছিলাম কটন ক্যান্ডি। তাই অনেক দিন আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম, তোমাকে যেদিন নিজের জীবনের অংশ করার জন্য প্রপোজ করব, সেদিন যেন তোমাকে এই চিরচেনা রূপেই দেখতে পাই।”
মুনভি এক মুহূর্ত থামল। ইকরার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আংটিটা উঁচিয়ে ধরে আরও নরম গলায় বলল,

“হবে কি আমার মনের রানী? তোমাকে এক বুক উজাড় করা ভালোবাসা দেব। হ্যাঁ, আমাদের মাঝে মাঝে মিষ্টি ঝগড়াও হবে, কিন্তু তোমার প্রতিটা স্বপ্ন পূরণে আমি সবসময় ছায়ার মতো তোমার পাশে থাকব। আর কখনো, কোনোদিন তোমার চোখে কষ্টের জল আসতে দেব না। উইল ইউ ম্যারি মি, ইকরা?”
মুনভির এমন নিখাদ প্রস্তাব শুনে ইকরার চোখের কোণ বেয়ে খুশির অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। উপস্থিত পুরো পরিবার তখন পরম তৃপ্তিতে এই দুই হৃদয়ের মিলন দেখছিল।
ইকরার যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। তার এমন স্তব্ধতা দেখে সেখানে উপস্থিত তার নিজের এবং নীলার পরিবারের সবাই, এমনকি নীলাও একসাথে তাল মিলিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগল,
“ইকরা, আর দেরি করিস না, হ্যাঁ বলে দে।”
সবার এমন সমবেত উৎসাহ আর মুনভির চোখের নিখাদ ভালোবাসা দেখে ইকরা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে চোখের জল চোখেই রেখে মায়াবী এক হাসি দিয়ে সম্মতিসূচক মাথা নাড়ল। ইকরার সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই মুনভির পুরো মুখে এক চিলতে বিজয়ী হাসি ফুটে উঠল। সে চরম খুশিতে সবার সামনেই আবেগঘন কণ্ঠে বলে উঠল,
“আই লাভ ইউ, কটন ক্যান্ডি।”
ইকরা নিজের গাল বেয়ে পড়া সুখের অশ্রুটুকু আলতো করে মুছে নিয়ে অত্যন্ত নরম গলায় প্রতিউত্তর করল,
“আই লাভ ইউ টু, জেন্টলম্যান।”
তাদের এই মধুর স্বীকারোক্তির সাথে সাথেই পুরো শপজুড়ে আবার তুমুল করতালির রোল পড়ে গেল। মুনভি অত্যন্ত যত্ন সহকারে ইকরার কাঁপা কাঁপা হাতের অনামিকা আঙুলে আংটিটি পরিয়ে দিল। এবার এলো ইকরার পালা। মুনভি এক বুক গর্ব নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। ইকরা মিহালের ধরে রাখা বড় বক্সটির ভেতর থেকে অন্য আংটিটি হাতে তুলে নিল। প্রথমবার কোনো পুরুষকে আংটি পরাবে বলে তার হাত দুটো সামান্য কাঁপছিল। সে কিছুটা দ্বিধা নিয়ে একবার নিজের মা-বাবার দিকে তাকাল। উনারা পরম স্নেহে চোখের ইশারায় ভরসা দিতেই ইকরার মনের জোর এক ধাক্কায় অনেকখানি বেড়ে গেল। একই সাথে নীলাও ইকরার পাশে এসে দাঁড়িয়ে তার কাঁধে হাত রেখে এক নীরব আশ্বাস দিল। সবার এই সমর্থন পেয়ে ইকরা নিজের সবটুকু সাহস সঞ্চয় করে অত্যন্ত নিপুণভাবে মুনভির আঙুলে আংটিটি পরিয়ে দিল। পুরো শপ আবার একসাথে হাততালিতে মুখর হয়ে উঠল। দুই পরিবারের বড়রা এসে নতুন জুটিকে জড়িয়ে ধরে দোয়া করতে লাগলেন। এরপর শুরু হলো এক দীর্ঘ এবং আনন্দময় ফটোশুট পর্ব। আবির ও ইবাদের ক্যামেরার ফ্লাশের আলোয় সবার হাস্যোজ্জ্বল মুখগুলো একে একে বন্দি হতে লাগল। একটা দীর্ঘ অধ্যায় পেরিয়ে আজ যেন আবার তাদের সবার জীবনে পরম আনন্দের এক নতুন সোনালী সূর্য উদিত হয়েছে।
সবাই যখন ছবি তোলায় ব্যস্ত, নীলা তখন ভিড় থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়াল। কাচের ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা আইফেল টাওয়ারের দিকে তাকিয়ে সে গভীর কিছু একটা ভাবছিল। তার চোখের কোণে তখন এক অদ্ভুত প্রশান্তি। ঠিক এমন সময় মিহাল সবার অলক্ষ্যে তার একদম পাশে গিয়ে দাঁড়াল। নীলার উদাসীন চাউনি দেখে সে অত্যন্ত নরম গলায় জিজ্ঞেস করল,

“কী ভাবছ, নীলাঞ্জনা?”
নীলা একটা তৃপ্তির দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নিজের স্বামীর চোখের দিকে তাকাল। তারপর ধীরলয়ে বলল,
“অনেক দিন পর, সত্যিই অনেক দিন পর আমি আমার পুরো পরিবারকে এতটা প্রাণখুলে হাসিখুশি থাকতে দেখলাম। আমাদের জীবনে কত ঝড়-ঝাপটা গেছে, কত ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আজ এই আনন্দের দিনে আল্লাহর কাছে আমার কেবল একটাই প্রার্থনা, আমি চাই আমার এই পরিবারটা যেন সারাজীবন ঠিক এইভাবেই সবসময় সুখে আর শান্তিতে হাসিখুশি থাকে।”
মিহাল নীলার হাতটা নিজের শক্ত মুঠোয় আরও একটু চেপে ধরল। সে অত্যন্ত মায়াবী কণ্ঠে বলল,
“ইন শা আল্লাহ, আমাদের এই পরিবারটা সবসময় ঠিক এইভাবেই সুখে-শান্তিতে থাকবে। কোনো ঝড়-ঝাপটা কিংবা বিপদ আসলে তুমি একদম চিন্তা কোরো না, আমি আছি তো তোমার পাশে সবসময়।”
নীলা মিহালের সেই চওড়া আর নিরাপদ বুকে পরম শান্তিতে নিজের মাথাটা রাখল। এক বুক তৃপ্তি নিয়ে মৃদু হেসে বলল,

“এখন থেকে আপনি আর একা নন, আপনার পাশে ছায়ার মতো আমিও আছি। যেকোনো পরিস্থিতিতে আমরা দুজনে মিলে সব সামলে নেব।”
নীলার এমন পরিপক্ব কথা শুনে মিহালের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। সে নীলার কানের কাছে মুখ নামিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
“তা তো ঠিকই। তবে এই পরিবারটাকে আরও একটু বেশি সুখী আর জমজমাট করার কিন্তু চমৎকার একটা উপায় আছে আমার কাছে।”
নীলা কৌতূহল সামলাতে না পেরে কিছুটা ব্যস্ত কণ্ঠে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করল,
“কী উপায়?”
মিহাল চোখের কোণে গভীর মাদকতা মেখে বলল,
“উপায় আর কী! যদি তুমি আর আমি মিলে খুব শীঘ্রই এই পরিবারে একদম নতুন একজন ছোট্ট সদস্য নিয়ে আসি।”

মিহালের এমন প্রকাশ্য আর সরাসরি খোলামেলা কথা শুনে নীলার মুখটা মুহূর্তের মধ্যে লজ্জায় একদম টকটকে লাল হয়ে গেল। সে লজ্জায় আর মিহালের চোখের দিকে তাকাতে না পেরে আবার তার বুকে মুখ লুকাল। স্ত্রীর এমন লাজুক আর মিষ্টি রূপ দেখে মিহাল আর নিজের হাসি চেপে রাখতে পারল না। সে শব্দ করে হেসে উঠল। এরপর আনন্দের এই রেশ নিয়েই পুরো পরিবারকে সাথে করে তারা প্যারিসের একটি নামী রেস্তোরাঁর দিকে রওনা হলো, যেটি মিহাল আগে থেকেই পুরো পরিবারের জন্য বুক করে রেখেছিল। সেখানে সবাই মিলে হরেক পদের সুস্বাদু খাবার দিয়ে দুপুরের জমজমাট ভোজ সারল। আড্ডা, গল্প আর হাসাহাসিতে আরও কিছুটা সময় কাটিয়ে অবশেষে সবার বাড়ি ফিরে আসার সময় হলো।
রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে পার্কিং লটে আসতেই মিহাল আর মুনভির মাঝে হুট করে কোনো একটা বিষয় নিয়ে হালকা কথা-কাটাকাটি শুরু হয়ে গেল। অবশ্য এই দুই বাল্যবন্ধুর মাঝে এমন খুনসুটি আর অকারণ তর্ক লেগেই থাকে, এটা তাদের সম্পর্কের এক চিরচেনা কমন রূপ। এক পর্যায়ে মুনভি কলার ঝাঁকিয়ে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়ার ভঙ্গিতে বলল,

“আচ্ছা ঠিক আছে, অনেক তর্ক হয়েছে। এবার একটা খেলা হয়ে যাক। তোর গাড়িটা নিয়ে আজ আমি যাব, আর আমার স্পোর্টস কারটা নিয়ে তুই যাবি। দেখি, আমাদের মধ্যে কে আগে বাড়ি পৌঁছাতে পারে।”
মিহালও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। সে হোহো করে হেসে উঠে বলল,
“ঠিক আছে, ডান। চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্টেড। কিন্তু কথা হচ্ছে, আমরা কেউ সোজা মেইন রাস্তা দিয়ে যাব না। আমাদের বাড়ি যাওয়ার জন্য আরও দুটো বিকল্প রাস্তা আছে। আমি যাব একটা শর্টকাট দিয়ে, আর তুই যাবি অন্যটা দিয়ে। বাড়ি পৌঁছানোর জন্য ওই দুইটা রাস্তাই দূরত্বে একদম সমান-সমান। এবার দেখি কার ড্রাইভিং স্কিল ভালো আর কে আগে গন্তব্যে পৌঁছায়।”
মুনভি এক বাক্যে রাজি হয়ে গেল। দুই বন্ধুর এই পাগলামি দেখে পরিবারের বাকি সদস্যরা অন্য গাড়িগুলোতে গিয়ে উঠলেন। আর এদিকে নীলা আর মিহাল মিলে গিয়ে উঠল মুনভির গাড়িটিতে, অন্যদিকে ইকরা আর মুনভি মিলে জায়গা নিল মিহালের গাড়িটায়। দুই বন্ধুই একসাথে গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট করল এবং রেসের সিগন্যাল দিতেই এক্সিলারেটরে চাপ দিল। মিহাল স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে বাম দিকের রাস্তা ধরল, আর মুনভি তীব্র গতিতে ডান দিকের রাস্তায় গাড়ি ছুটিয়ে দিল। পাশে বসে দুই বন্ধুর এমন শিশুসুলভ প্রতিযোগিতা দেখে নীলা হেসে কুটিপাটি। সে মিহালের দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে বলল,
“আপনাদের দুজনের বয়স যা-ই হোক না কেন, মনের দিক থেকে আপনারা দুজনে এখনো একেকটা আস্ত বাচ্চা।”

মিহাল নীলার কথার পিঠে কোনো উত্তর না দিয়ে কেবল এক চিলতে বিজয়ী হাসি হাসল এবং গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দিল।
মুনভি গাড়ির এক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে বেশ ভালো স্পিডেই এগোচ্ছিল। রিয়ার-ভিউ মিররে সে লক্ষ্য করল, দুটো কালো রঙের গাড়ি বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাদের ঠিক পেছনে পেছনে আসছে। প্রথমে সে ভেবেছিল হয়তো কাকতালীয়ভাবে গাড়ি দুটো একই গন্তব্যে যাচ্ছে, তাই সে বিষয়টাকে খুব একটা পাত্তা দিল না। কিন্তু আচমকা এক বিকট শব্দে পুরো গাড়িটা কেঁপে উঠল। পেছনের গাড়িগুলোর মধ্যে একটি এসে সজোরে তাদের গাড়ির পেছনে ধাক্কা বসিয়ে দিয়েছে! তীব্র ঝাঁকুনিতে ইকরার মাথাটা ড্যাশবোর্ডের সাথে সটান লেগে যাওয়ার উপক্রম হতেই মুনভি নিজের এক হাত বাড়িয়ে ক্ষিপ্রতার সাথে তাকে সামলে নিল। ঘটনা এখানেই শেষ হলো না। পেছনের গাড়ি দুটো এবার রীতিমতো হিংস্র হয়ে উঠল। তারা পালাক্রমে ইচ্ছেমতো মুনভির গাড়িকে একের পর এক ধাক্কা মারতে শুরু করল। প্যারিসের রাস্তায় এমন অতর্কিত ও পরিকল্পিত হামলার পেছনের কারণ মুনভি কিছুই মাথায় খাটাতে পারল না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সে গাড়ির স্পিড এক ঝটকায় বাড়িয়ে দিল। ইকরা ভয়ে ফ্যাকাসে হয়ে মুনভির বাঁ হাতটা নিজের দুই হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরল। তার পুরো শরীর তখন কাঁপছে। ইকরার এমন অবস্থা দেখে মুনভি স্টিয়ারিংয়ে নিজের মুঠো আরও শক্ত করে অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

“ইকরা, তুমি একদম ভয় পেয়ো না। আমি আছি তো তোমার পাশে। কিচ্ছু হতে দেব না তোমার।”
মুনভির এই অভয়বাণীতে ইকরা কিছুটা ভরসা পেলেও সামনের দৃশ্য দেখে তার বুকটা আবার দড়ে উঠল। সে দেখল, আর কিছু দূর গেলেই ট্রাফিক সিগন্যাল, যা ইতিমধ্যেই হলুদ থেকে লালে রূপ নিচ্ছে। অথচ তাদের পেছনে থাকা গাড়ি দুটো অনবরত ধাক্কা মেরেই চলেছে, যেন তাদের রাস্তা থেকে ছিটকে ফেলাই মূল উদ্দেশ্য। মুনভি আর কোনো উপায় না দেখে দাঁতে দাঁত চেপে গাড়ির স্পিড একদম ফুল করে দিল এবং রেড সিগন্যাল পড়ার ঠিক আগের ভগ্নাংশে ঝড়ের বেগে রোড ক্রস করে চলে গেল। সিগন্যাল পুরোপুরি লাল হয়ে যাওয়ায় পেছনের ঘাতক গাড়ি দুটো আর চৌরাস্তা পার হয়ে তাদের অনুসরণ করতে পারল না। কিন্তু এই জীবনপণ রেসের তাড়াহুড়োয় মুনভির ডানের রাস্তায় যাওয়ার কথা থাকলেও, তীব্র স্পিডের কারণে সে গাড়ি ঘুরিয়ে একদম বামের হাইওয়েতে চলে এলো। বিপদের হাত থেকে সাময়িক রক্ষা পেলেও ইকরা আর ঝুঁকি নিতে চাইল না। সে কাঁপাকাঁপা হাতে নিজের ফোনটা বের করে সোজা নীলাকে কল দিল এবং একনাগাড়ে পুরো ঘটনাটা খুলে বলল। লাউডস্পিকারে ইকরার আতঙ্কিত কণ্ঠ শুনে মিহাল মুহূর্তের মধ্যে সতর্ক হয়ে গেল। সে ফোনের ওপাশ থেকে গম্ভীর ও আদেশসূচক গলায় বলল,

“মুনভিকে বলো সামনে কোনো নিরাপদ বা নিরিবিলি জায়গা দেখে গাড়িটা থামাতে। আমরা এক্ষুনি তোমাদর জিপিএস ট্র্যাক করে আসছি।”
মিহালের নির্দেশ অনুযায়ী মুনভি হাইওয়ে থেকে নেমে কিছুটা দূরে শান্ত, একটা নিরিবিলি গাছগাছালিতে ঘেরা জায়গায় গিয়ে গাড়িটা ব্রেক করল। বুক ধকধক করা সেই দীর্ঘ বিশটি মিনিটের অপেক্ষা যেন শেষ হতেই চাচ্ছিল না। ঠিক তখনই টায়ার ঘষার তীক্ষ্ণ শব্দ তুলে মিহালের গাড়িটা তাদের ঠিক সামনে এসে থামল। গাড়ি থামতেই নীলা আর মিহাল হন্তদন্ত হয়ে দরজা খুলে বের হয়ে এলো এবং প্রায় দৌড়ে তাদের দিকে এগিয়ে গেল। নীলা এক ছুটে গিয়ে ইকরাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরল, আর মিহাল মুনভির কাঁধ চেপে ধরে তাকে নিজের বুকের সাথে মেলালো। মিহাল ব্যস্ত গলায় জিজ্ঞেস করল,
“তোমরা ঠিক আছো তো? কোনো আঘাত লাগেনি তো?”
ইকরা আর মুনভি গাড়ি থেকে নেমে আসার পর পুরো রুদ্ধশ্বাস ঘটনার আদ্যোপান্ত খুলে বলল। কীভাবে গাড়ি দুটো তাদের টার্গেট করেছিল, কীভাবে একের পর এক আঘাত হেনেছিল সব শুনে নীলা আর মিহালের কপালে চিন্তার গভীর ভাঁজ পড়ে গেল। চারপাশের মনোরম সময়টা মুহূর্তের মধ্যে তাদের কাছে এক অজানা গোলকধাঁধা মনে হতে লাগল। এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে তাদের ওপর হামলা করার মতো কোন নতুন শত্রু হুট করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠল, তা ভেবে চারজনেই এক গভীর ও থমথমে নীরবতায় ডুবে গেল।
নীলা কিছুক্ষণ গভীরভাবে চিন্তা করে তার চোখ দুটো সরু করে নিল। সবার থমথমে মুখের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত শান্ত অথচ দৃঢ় গলায় বলল,

“যদি আমরা ঠান্ডা মাথায় একটু হিসাব মেলাই, তবে এই মুহূর্তে আমাদের ক্ষতি চাইতে পারে এমন মানুষের তালিকায় মাত্র তিনটা নাম আসে ইরফান, আরশি আর লিসা। কিন্তু ইরফান আর আরশি তো প্যারিসে এলো মোটে কালকে। তা ছাড়া, গত রাতে ছাদের ওপর আরশির সেই অনুশোচনা আর আফসোস মাখা কথাগুলো শুনে আমার মনে হয়েছে ও নিজের ভুলটা অন্তত বুঝতে পেরেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, ওরা দুজন এখন চাইলেই আমাদের এত বড় কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, কারণ বাড়ির সব বড়রা এখন একসাথেই আছেন। তাহলে কি এই নোংরা কাজটা লিসা করিয়েছে?”

নীলা এক মুহূর্ত থামল। তার কপালে চিন্তার ভাঁজগুলো আরও গভীর হলো। সে আবার বলতে লাগল,
“কিন্তু সেটাও তো মেলাতে পারছি না। প্রিন্সিপাল স্যার তো স্পষ্ট করে আমাদের কথা দিয়েছিলেন যে উনি লিসাকে নিজ দায়িত্বে অন্য দেশে পাঠিয়ে দেবেন এবং এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে লিসাকে একটা মুহূর্তের জন্যও নিজের নজর থেকে দূরে সরতে দেবেন না। তাহলে লিসা কীভাবে এই হামলা করাবে? এই কাজটা আসলে কে করাল? এই নতুন শত্রু হুট করে কোথা থেকে আমাদের জীবনে এসে হাজির হলো?”
নীলার এমন নিখুঁত ও যৌক্তিক বিশ্লেষণ শুনে মিহাল আর মুনভি একে অপরের দিকে তাকাল। তার প্রতিটি কথাই অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত আর বাস্তবসম্মত মনে হলো সবার কাছে। লনের সেই নির্জন গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে চারজনেই এক গভীর ও অমীমাংসিত ভাবনায় ডুবে গেল। ঠিক তখনই নীরবতা ভেঙে মুনভির পকেটে থাকা ফোনটা উচ্চশব্দে বেজে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল তার মায়ের কল। বাড়ি থেকে বড়রা খোঁজ নেওয়ার জন্য কল করেছেন। ফোনটা আসতেই মিহাল অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে হাত তুলে সবাইকে থামার ইশারা করল। সে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বলল,

“এখন এই পরিস্থিতিতে এই নিখোঁজ হামলার বিষয়ে আমরা বাড়িতে বড়দের কাউকে কিচ্ছু বলব না। উনারা এমনিতেই অনেক দিন পর একসাথে একটু শান্তিতে আনন্দ করছেন, হুট করে এই খবর দিলে পুরো পরিবার আতঙ্কে ভেঙে পড়বে। আমরা এখন একদম স্বাভাবিকভাবে বাড়ি ফিরে যাব, তারপর আড়ালে বসে এই নতুন শত্রুর পরিচয় খুঁজে বের করব।”

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৫৯

মিহালের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে বাকি সবাই মাথা নেড়ে সায় দিল। মুনভি ফোনের কলটা রিসিভ করে মাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক গলায় আশ্বস্ত করল যে তারা একটু ঘুরে ফিরছে। ফোন রাখার পর তারা আর এক মুহূর্তও সেখানে সময় নষ্ট করল না। যে যার মতো আবার নির্ধারিত গাড়িগুলোতে উঠে বসল এবং মনের ভেতরের গভীর উদ্বেগটা চেপে রেখে একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল। তবে চারজনের মনেই তখন এক অঘোষিত যুদ্ধের দামামা বাজছিল।

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৬১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here