Home নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১১

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১১

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১১
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_”এটা আমার শেষ চাওয়া,আর কক্ষনোই কিছু চাইবো না,যদি দরকার পড়ে তাহলে আমি কক্ষনোই আমার পরিবারের সাথে দেখা করবো না, দরকার পড়লে তাদের সাথে সম্পর্ক শেষ করে দিবো তাও উনাদের ক্ষতি করবেন না।”
নুবা কিছুটা চম্কে উঠে বললো
_”আপনি কি মজা করছেন নাকি,,,”
_”মজা করার কি আছে? অনুষ্ঠানের পর আমরা France চলে যাবো।”

নুবার মুখটা কিরকম চুপসে গেলো,এতো সময় আরহাম বড় করে বিয়ের অনুষ্ঠান করবে এই কথা বলছিলো তবে এবার France এ যাওয়ার কথা শুনে নুবার ভুরু কুঁচকে সুধালো
_”আপনার মাথা ঠিক আছে,আমি এখান থেকে কোথাও যাবো না।এই কথা আমি আরো আগেই বলে দিয়েছি।”
আরহাম নুবার চুপসানো মুখের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”আমরা আবার চলে আসবো,তাহলে তো ঠিক আছে। শুধু একটু ঘুরতে যাবো,সেই ফাঁকে হানিমুনটাও হয়ে যাবে।”
নুবা আরহামের কথায় কিছুটা লজ্জা পেলো,মিনমিন করে সুধালো
_”তাহলে তো যাওয়াই যায়।”
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,মনে মনে সুধালো
_”একবার শুধু আপনাকে ওখানে নিয়ে নেই, তারপর আর আসতে হবে না।”
আরহাম এখানে থাকবে না,আর এই কথা সে আগেই বলেছে।তার এখানে মন টিকছে না।এবার ফিরে যেতেই হবে যেনো ওটাই তার মাতৃভূমি।তার পরিকল্পনা, অনুষ্ঠান করার পর জিমি আর রোজিকে সাথে করে নিয়ে এই দেশ থেকে পারি জামাবে।

পরি এক পলক তার মা বাবার দিকে তাকালো।তবে বেশি সময় তাকিয়ে থাকতে পারলো না কারণ নাবিল তার এক হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে।পরি পিছন ফিরে একবার সবার দিকে তাকালো।তার মা বাবা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। কারণ নাবিল তাদের কিছু না বলেই টলোমলো পায়ে বেড় হয়ে যাচ্ছে।
আস্তে ধীরে পরিকে নিয়ে নিচে নামলো নাবিল। পরি শুধু নীরবে তাকিয়ে রইলো।পরপর নাবিল তাকে গাড়িতে নিয়ে যেয়ে বসালো।পরি ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো,সে এতো টুকু হেঁটে এসে হাঁপিয়ে উঠেছে।
নাবিল সময় নষ্ট করলো না বরং গাড়ি Stared দিলো।পরি আর চোখে নাবিলের দিকে তাকিয়ে নিলো। মনের ভয় এখনো কাটেনি তার।যদি এখানে ওখানে নিয়ে মেরে ফেলেছে।নাবিলকে বিশ্বাস করতে পারছে না সে।তবু চুপচাপ বসে আছে।
নাবিলের মাথা চিনচিন করছে।যেনো এখনি মাথা ঘুরে পড়ে যাবে সে,তাও নাবিল মনের জোরে এগিয়ে যাচ্ছে।নাবিল গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে কাউকে কল দিলো।নাবিল কাউকে কল দিচ্ছে দেখেই পরির বুকটা ছ্যাত করে উঠলো।অজানা ভয় এসে তাকে আঁকড়ে ধরলো।
পরি শান্ত হয়ে বসে থাকলেও কেমন হাঁসফাঁস করে উঠলো। ক্লান্ত কন্ঠে বললো

_”কাকে কল করেছেন? নিশ্চয় আমার বাবা,মা”কে মরতে যেতে বলবেন তাই না?”
নাবিল পরির কথায় বিরক্ত হলো ,কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_”তোর স্যাটা ভাঙ্গা মুখটা বন্ধ রাখ। কথা কইলেই কান ধরায় ফেলোস,কথা কম কবি,কথা না তো যেনো বিষের গোলা।”
নাবিলের কথায় পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চুপ হয়ে গেলো।নাবিল কাউকে ফোন দিয়ে শুরু একটা লাইনো বললো
_”যইয়া ঘড়টা গুছায় রাখ,আমি আধ ঘন্টার ভিতরে আইতাছি।”
ওপাশ থেকে উত্তর এলো না,তবে নাবিল কল কেটে দিলো।পরি সিটে হেলান দিয়ে বসে নাবিলের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলো আঘাতের কারনে নাবিলের মুখের রং বদলে গেছে। হয়তোবা কষ্ট হচ্ছে তার।পরি আর চাইলো না, বরং চুপটি করে বসে রইলো।
আধ ঘন্টা খানিক যেতেই বড় একখানা বিল্ডিং এর সামনে যেয়ে থামলো তাদের গাড়ি।নাবিল নেমে গেলো,পরপর পরির পাশে এসে দরজা খুলে দিলো।পরি কোনো মতে নেমে দাঁড়ালো।নাবিল গাড়ির চাবি নিয়ে একজনের হাতে দিয়ে সুধালো

_”গাড়ি পার্ক কইয়া দিয়েন।”
লোকটা মাথা ঝুঁকিয়ে মুচকি হাসলো।নাবিল পরির হাত ধরে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো।ভিতরে ঢুকতে গেলেই দারোয়ান নাবিলকে দেখে লাম্বা এক সালাম দিলো।নাবিল এক পলক দারোয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো
_”একটু আগে হাবিব ওরা আইছিলো।”
_”হো মামা,আইছিলো।”
পরপর দারোয়ান পরির দিকে এক পলক তাকিয়ে কিছুটা ভরকে গেলো, অতঃপর নাবিলের দিকে তাকিয়ে বললো
_”কেডা মামা?”
নাবিল পরির হাত ধরে এগিয়ে যেতে যেতে বললো
_”তোর মামি হয়।”
দারোয়ান মুচকি হেসে যেতে থাকা নাবিলের দিকে তাকিয়ে বললো
_”ও ,তা মামি আহোনের খুশিতে সালামি দিবেন না মামা, কিছু খাওয়াইতেও তো পারেন?”
নাবিল ভুরু কুঁচকে পিছন ফিরে বললো
_”শুধু খাওয়ান! উল্টা তুই আমারে সালামি দে,বাপ হইতাছি।তা না।”
দারোয়ান ছেলেটা মুচকি হাসলো।নাবিল পরিকে নিয়ে এগিয়ে গেলো।
এদিকে নাবিল এতো তাড়াতাড়ি হাঁটছে যে পরি তালে তাল মিলাতে পারছে না ।পরি হাঁপিয়ে উঠলো, এক হাত পেটে চেপে ধরে ক্লান্ত কন্ঠে বিরবির করে বললো

_”একটু আস্তে হাঁটুন,আমি কি এতো তাড়াতাড়ি পা চালাতে পারি?”
নাবিল এক পলক পিছন ফিরে তার ফুলের মতো ফুটফুটে বউয়ের দিকে তাকাল।পরক্ষণেই হঠাৎ এগিয়ে এসে তাকে কোলে তুলে নিল।পরি যেন মুহূর্তের জন্য পাথর হয়ে গেল।হতভম্ব চোখে তাকিয়ে রইল তার পাষাণ স্বামীর মুখের দিকে।নাবিলের শক্ত বাহুর মাঝে নিজেকে আবিষ্কার করে তার বুকটা কেঁপে উঠল এ মানুষটিই কিনা আজ তাকে নিজের কোলে তুলে নিয়েছে!যে মানুষটার মুখে সারাক্ষণ গালি ব্যতিত কথায় থাকে না, তার এমন আচরণে সত্যিই অবিশ্বাস্য।পরি নাবিলের দিকে তাকিয়ে থেকে তার গলা জরিয়ে ধরলো তবে তার বিস্ময়টা কিছুতেই কাটল না।
এদিকে গলা জরিয়ে ধরায় নাবিলের মাথার পিছনে ব্যথায় টনটন করে উঠলো।নাবিল চোখ মুখ খিচে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_”নডি হাত সরা,মাইরা তো লেংরা বানায় রাখছোস,মাথাডা আমার টকবক করতাছে,এখন কি মারতে চাস।”
পরি কিছুটা চম্কে উঠে হাত সরিয়ে নিলো, চোখের পলক ফেলে শান্ত কন্ঠে বললো
_”বুঝতে পারিনি!”
_”বুঝবি কেমনে নডি,আমি মরলে তো তুই বাইচা যাস,এমনে মারতে চাস না আবার ওমনে মারতে চাস।”
পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,সে বুঝতে পারলো,এই নাবিল এতো তাড়াতাড়ি সুধরাবার নয়।পরি নাবিলের বুকে মাথা হেলিয়ে দিয়ে ক্লান্ত কন্ঠে সুধালো
_”গালি ব্যতিত কি কথা বলা যায় না, যতটুকু জানি আপনি ভালোই শিক্ষিত তবে এরকম ভাষায় কথা বলেন কেনো?”
নাবিল ভুরু কুঁচকে নিলো কিছুটা রেগে বললো

_”এহন তোর কাছে আমি কৈফয়ত দিমু? এর লাইগা তোরে নডি কই, আমার লোগে থাকলে হইলে এমনতেই থাকতে হইবো‌।আর না থাকলেও,থাকতেই হইবো ।তাই পুংয়া পাকামি করবি না।কোনো প্রশ্ন করলে তুইলা এক আছারে পেটি গাইলা ফালামু।ভুলেও প্রশ্ন কইরা মুখ চালাইবি না।”
পরি চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে নাবিলের দিকে তাকিয়ে রইলো,বুঝতে পারলো জীবনটা তার এভাবেই কাটবে।
কথা বলতে বলতে নাবিল পৌঁছে গেলো তাদের apartmenta যেটা খুবি বড় আর সুন্দর,নাবিল যেয়ে ডোর খোলাই পেলো,নাবিল দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ভিতরে প্রবেশ করলো পরপর পরিকে নিচে নামিয়ে দিলো।পরি নাবিলের বুকে হেলান দিয়ে আশে পাশে চোখ বুলাতেই অবাক হলো, সুন্দর মতো একটি গুছানো apartment , সিরি বেয়ে করিডোরে যাওয়া যাবে, হয়তোবা উপরের রুম আছে।
পরি যখন আশে পাশে তাকিয়ে apartment দেখতে ব্যস্ত তখনি, নাবিলের চেলা হাবিব সহ সাগর ইমন ছুটে আসলো।তিন জনের অবস্থাই খারাপ হয়তোবা পরে থাকা apartment পরিষ্কার করতে যেয়েই ওদের এই অবস্থা।
সাগর সামনে এগিয়ে আসলো,এক গাল হেসে বললো

_”সব কাম খাতাম ভাই।”
নাবিল মাথা ঝুঁকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”একটা কাম কর,ক্ষিধায় পেট চু চু করতাছে,যাইয়া ভালো কিছু নিয়া আয়।লোগে যা পারোস বাজার কইরা নিয়া আইবি।তোর ভাবির জন্য ফল মূল যা লাগে সব,A to Z ,এহন তাড়াতাড়ি যা।”
_”আচ্ছা ভাই।”
তিন জনেই মাথা ঝুকালো তবে ইমন ভুরু কুঁচকে একটু জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_”আপনে কি এহানেই থাকোনের চিন্তা করতেছেন ভাই?”
নাবিল পরিকে নিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে বললো
_”তোর ভাবির লোগে চুক্তি করছি,ও এহন থাইক্তা এহানেই থাকবো।”
তিন জন আর কোনো প্রশ্ন করলো না, চুপচাপ তাদের ধুলো মাখা শরীর ঝাড়তে ঝাড়তে চলে গেলো।পরি আশে পাশে তাকিয়ে অদ্ভুত দৃষ্টিতে নাবিলের দিকে তাকালো পরপর আবাক হয়ে বললো

_’এই সব কি?আপনি কি,,,,”
_”সব তোর লাইগা, তুই কইছিলি না একটা সংসার লাগবো।প্রথমে তোরে একটা ঘড় দিলাম ,একটা মিথ্যা সংসার পাবি তুই।তবে আমার লোগে ত্যারামো অথবা প্রশ্ন করলে জুতার বারি একটাও নিচে পড়বে না।”
বলেই নাবিল আর চোখে পরির দিকে তাকালো,পরি জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে আশে পাশে তাকিয়ে নিলো,আসলেই কি এই সব কিছু তার, হয়তোবা মিথ্যা স্বপ্নের মতো তবু এই সব তার।
পরিকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নাবিল তার এক হাতের কব্জি ধরে ভারি নিঃশ্বাস ফেলে সুধালো
_”অনে দিন ধইরা তোরে কাছে পাই না,লো আজ তোরে একটু ছুইয়া দেই।খুব ইচ্ছা হইতাছে।”
পরি মাথা উঁচু করে নাবিলের দিকে তাকালো,নাবিলের চাহনি দেখে সে শুকনো ঢোক গিললো,তবে”না” উচ্চারণ করার সাহস পেলো না। কারণ তার কথায় উঠতে হবে তার কথায় বসতে হবে।
নাবিল আবারো পরিকে কোলে তুলে নিলো,পরি আস্তে করে চোখ বুজে নিলো,যেনো ভরসা পাচ্ছে সে নাবিলের স্পর্শে,নাবিল এগিয়ে গেলো apartment এর বড় কক্ষের দিকে,পরি চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে একটু আবদার করে বসে বললো

_”আগে যেয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে নেই,আর আপনিও তো অসুস্থ,তার উপর জামা কাপড়,কিছু তো আনা হলো না,একটু সময় চাইতে পারি।”
নাবিল এগিয়ে যেতে যেতে সুধালো
_”অনুমতি চাইতাছোস নাকি কইতাছোস।”
পরি কাতর কন্ঠে বললো
_”অনুমতি চাচ্ছি, কারণ প্রশ্ন করার বা হুকুম, অথবা আবদার করার তো অধিকার দেননি তবে অনুমতি তো চাইতে পারবো, অতঃপর আপনি যা বলবেন তাই হবে।”
নাবিল হেলামি কন্ঠে বললো
_”যেই সুখ তুই আমার কাছে চাইতাছোস তা হয়তোবা কোনো দিনও তোর পাওয়া হইবো না।হারাডা জীবন তুই আফসোস কইরা যাবি‌।”
_”শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করলে ক্ষতি কি?একটু একটু করে না হয় এগিয়ে যাবো,এখন একটা ঘড় পেলাম,কাল না হয় স্বামী পাবো।সব কিছু নিজের করে নিবো।”

সারাদিন পর রাতের দিকে নুবা একটু উঠে দাঁড়িয়েছে, আপাতত বেশ সুস্থ অনুভব করছে সে।আয়নার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে নুবা। উন্মুক্ত গলায় আর বক্ষ স্থলের সমতল ভূমিতে অংশ লাল নীল চিহ্ন। অবশ্য এগুলো দেখে খুশি হওয়ার কোনো কথাই নুবার ছিলো না তবে এগুলো দেখলেই সেদিন দুপুরের কথা মনে পড়ছে নুবার,আর মনে পড়লেই সে লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে ।
নুবা ঘাড় কাত করে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করে নিলো,তখনি ওয়াশরুমের দরজা ঠেলে আরহাম ভিতরে চলে আসলো।সামনের আয়না দিয়ে আরহামকে দেখে নুবার ভুরু কুঁচকে গেলো,মুখ বাঁকিয়ে পিছনে ঘুরতে ঘুরতে বললো

_”এই এই আপনি ঠাস করে ঢুকে পড়লেন কেন? অসভ্য লোক!”
আরহাম এগিয়ে এসে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে মাথা দুলিয়ে বললো
_”তুমি লক করোনি‌ কেনো,আমি তো আসবোই। দরজা খুলে রাখাই মানে আমাকে Invitat করা,তাই তো চলে আসলাম।”
_”বেয়াদব,কোনো Privacy নেই,যেখানে সেখানে হুটহাট চলে আসে। এখন যদি আমি শাওয়ার নিতাম তবে কি হতো?”
মাজায় হাত দিয়ে নুবা কেটকেট করে কথা খানি বললো, আরহাম নুবার দিকে কিছুটা ঝুকে বললো
_”কি আর হতো, সুন্দর করে বসে full movie দেখে ফেলতাম।”
নুবা নাক মুখ খিচে নিলো,আরহামের বুকে আলতো করে কিল বসিয়ে বললো
_”একবার দেখে মন ভরেনি নাকি?”
_”না তো, এগুলো মন ভরার মতো,মারার আগ পর্যন্ত দেখে গেলেও স্বাদ মিটবে না?”
আরহামের মিনি হাতি বেশ লজ্জায় পড়ে গেলো,তার বুকের শার্ট খুঁটে মিনমিন করে সুধালো
_”আমি তো কখনো দেখতে চাইনি, আপনার কেনো দেখতে হবে, আজব?”
_”তুমি কেনো দেখতে চাইছো না জান,দেখলেই তো আমার ভালো লাগবে, wait,, Let me show you.”

বলতে বলতে আরহাম নুবাকে কিছুটা দূরে সরিয়ে দিলো,পরপর শার্টটা খুলে সামনের বেসিনে রেখে দিলো।নুবা চোখ বড় বড় করে তাকালো,এই লোক কি করতে চাইছে।
আরহাম শার্ট খুলে নুবার দিকে এগিয়ে গেলো,পরপর এক হাত উঁচু করে একটু বেঁকে দাঁড়িয়ে তার পেশিবহুল হাত গুলো দেখাতে লাগলো, হঠাৎ করেই শক্তি প্রয়োগ করতেই কেমন আঁকিয়ে বাঁকিয়ে সব ফুলে উঠলো, আরহামের 6 pack দেখা গেলো।নুবা গোল গোল চোখে তাকিয়ে রইলো,বাম হাতের পরপর তিন আঙ্গুল ঠোঁটে চেপে ধরে অবাক হয়ে বললো
_”আপনার এরকম নাদুসনুদুস বোডিও আছে, good,এর জন্যই তো বলি এতো ষাঁড়ের মতো শক্তি কেন আপনার! HO my আল্লাহ,না চাইতেই এতো কিছু পেয়ে গেলাম।”
বলতে বলতে ফাজিল নুবা একটু ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখে নিলো,একটু চিমটিও কেটে দিলো, আরহাম নুবার কান্ড দেখে মিটমিট করে হেসে দিলো।নুবা তার দুই হাত দিয়ে পেশিবহুল শরীরটা একটু একটু করে ধরে দেখলো।ধরবেই না কেন,এটা যে তার ব্যক্তিগত মানুষ,এটা তার সম্পর্ক, শুধু তারি অধিকার আছে ছুঁয়ে দেখার।
কিছু সময় পর আরহাম সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে একটু নুবার দিকে ঝুঁকে যেয়ে দুষ্টু হেসে সুধালো

_”এবার একটু তোমার টা দেখি,দেখাও তো।”
নুবা চোখ উল্টে আরহামের দিকে তাকিয়ে,ভুরু কুঁচকে হেসে বললো
_”কি বললেন?”
আরহাম এক আঙ্গুল দিয়ে নুবার বুকের সমতল অংশে মৃদু খোঁচা মেরে বললো
_”আমারটা তো দেখলে এবার তোমার টা দেখি ।”
নুবা দুই হাত ক্রস করে বুকে চেপে ধরে একটু পিছিয়ে যেয়ে হেসে বললো
_”ছি, আমার দেখানোর মতো কিছু নেই।”
আরহাম আর একটু এগিয়ে এসে বিরবির করে আদুরে কন্ঠে বলে উঠলো
_”আছে তো, তোমার টা আরো পারফেক্ট আর সুন্দর,দেখাও না sweet honey.”
নুবা চোখ বড় বড় করে আরহামের দিকে তাকিয়ে লজ্জায় মিটমিট করে হেসে ফেললো,পরপর ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হাসি আঁটকে বললো

_”লুচু লোক কোথাকার,সরুন তো। আমার দেখানোর মতো কিছুই নেই, যা দেখেছেন তাতেই পেট ভরেন।”
আরহাম নিজের দুই হাত নুবার দুই পাশ দিয়ে আয়নায় চেপে ধরে ঠোঁট দুটো সরু করে ফাজিলের মতো নুবার দিকে তাকিয়ে সুধালো
_”একটু দেখাও না আয়রার মাম্মা,একটু দেখতেই তো চেয়েছি।”
নুবা আরহামের কান্ডে খিলখিল করে হেসে উঠলো,দুই হাত দিয়ে আরহামের বুকে ঠেলা দিয়ে বললো
_”আজব,কি দেখবেন আপনি?”
_”যেটা তুমি দেখাবে?”
_”আমি কিছুই দেখাবো না,সরুন।”
আরহাম ডান হাতের এক আঙ্গুল দিয়ে নুবার কমড়ে আর পেটে আলতো করে খোঁচা মারলো। হঠাৎ এমন হওয়ায় নুবা কিছুটা ঝুঁকে পড়লো, আরহাম নুবার কমড় চেপে ধরে আদুরে গলায় বলে উঠলো

_”একটু দেখিয়ে দিলে কি হয়।”
পেটে হাত চেপে ধরে নুবা হতভম্ব হয়ে হেসে উঠে বললো
_”আজব তো,কি শুধু করলেন আপনি?”
আরহাম নুবার কমড় আর পেট জুরে সুরসুরি দিতে লাগলো,সাথে সাথে নুবা খিলখিল করে হেসে উঠলো।তালে তাল মিলিয়ে আরহামো মন খুলে হেসে উঠলো।নুবা হাসতে হাসতে কোনো মতে বললো
_”অফ করুন, সুরসুরি লাগছে,মরেই যাবো।”
আরহাম কিছু মনে পড়তেই,সে বুঝতে পারলো নুবার হয়তোবা হাসতেও কষ্ট হচ্ছে,তাই নুবাকে ছেড়ে দিলো।নুবা ছাড়া পেয়ে আরহামের উন্মুক্ত বুকে লুটিয়ে পড়লো। আরহাম নুবাকে দুই হাত দিয়ে জরিয়ে ধরে মিনমিন করে বললো

_”I am sorry,মনে ছিলো না পিরিয়ড চলছে,না হলে কখনোই এভাবে জ্বালাতন করতাম না।”
নুবা মুচকি মুচকি হেসে আরহামের বুকে নিজের পিঠ ঠেকিয়ে আয়নার দিকে তাকালো,পরপর আরহামের চুপসে যাওয়া মুখ দেখে ভুরু কুঁচকে বললো
_”কিছুই হয়নি,আপনি এমন মুখ কালো করে রইলেন কেনো?’
আরহাম নুবার গলায় মুখ গুজে দিলো,পরপর সেখানে চুমু খেয়ে সুধালো
_”তুমি শুধু আমার, আমার বউ, আমার সন্তানের মা,তাই তো?”
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে একটু হেসে বললো
_”হ্যাঁ শুধু আপনার,আর আপনিও আমার,ভুলেও কাউকে আপনার এতো সুন্দর বদনখানা দেখাবেন না,এটা শুধু আমার,আর কারো অধিকার নেই দেখার বা ছুঁয়ে দেওয়ার, শার্ট পড়লে গলা পর্যন্ত বোতাম লাগাবেন ok।”
আরহাম আয়নার দিকে তাকিয়ে ভুরু নাচিয়ে বললো

_”হ্যাঁ, আপনার জন্য পর্দা করা শুরু করলো।”
নুবা আরহামের কথায় হেসে ফেলে বললো
_”অবশ্য তাতে কোনো ক্ষতি হবে না,আমারি ভালো তাই না।কেউ আমার বাচ্চার বাপের উপর নজর দিলো না। আর অবশ্যই চোখকে হেফাজতে রাখবেন,আমি ব্যতিত যাতে কোনো বেগানা নারীর দিকে না যায়, বুঝলেন?”
বলতে বলতে আরহামের দিকে ঘুরে দাঁড়ালো, আরহাম নুবার ফুলো ঠোঁটে চুমু খেয়ে,তার গালে ঠোঁট ঠেকিয়ে সুধালো
_”ওকে, ম্যাডামের হুকুম বলে কথা।”
_”এটাকে বলে good hubby ।”
আরহাম মিটমিট করে হাসলো,জীবনে হারিয়ে যাওয়া সুখ সে খুঁজে পেয়েছে,এতো বছর যা সে পায়নি তা সে এখন পাচ্ছে।সুখ, শান্তি,ভরসা, সবকিছু একটা মানুষের ভিতরেই।সে তার গন্তব্যে পৌঁছে গেছে।

পরি শুয়ে শুয়ে তাদের রুমে চোখ বুলাচ্ছে,আর ভাবছে আদেও কি এই রুমটা তার। জিনিস ভর্তি,মনে হচ্ছে নিশ্চয় এর আগে কেউ এখানে থাকতো। কথাটা ভাবতেই পরির অর্ধ নগ্ন শরীর কেমন অদ্ভুত ভয়ে কম্পিত হলো।পাশেই ক্লান্ত নাবিল উল্টো হয়ে শুয়ে আছে।সে সোজা হয়ে শুয়ে পারছে না,এই নিয়ে পরিকে “নডি,মাগি আরো কত কিছু বলে যে বকা দিলো তার পরির নিজেরো মনে নেই।”পরির ভাবানর ভিতরেই তার পেটের বেবি মুভ করে উঠলো।
পরি পেটে হাত দিয়ে বাচ্চাকে অনুভব করতে লাগলো। একদম মাছের মতো পেটের ভিতরে ঘুরপাক খেতেই আছে।পরি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে নিলো,পরপর পাশ ফিরে নাবিলের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো।
কিছু সময় পরো বেবি নড়তেই থাকলো,পরি এবার কি একটা ভেবে নাবিলে বাম হাত নিয়ে নিজের উন্মুক্ত পেটে রাখলো,সাথে সাথে নাবিলের হাত রাখা স্থানে বাচ্চা মাথা দিয়ে কেমন করে ধাক্কা দিলো।এতো জোরে যে পরির জান বেড় হয়ে গেলো।
হঠাৎ অর্ধ ঘুমের ভিতরে হাতে এরকম ধাক্কা লাগায় নাবিল চোখ খুলে টিপটিপ করে তাকালো।পরপর নিজের হাত কোথায় সেটা বুঝতে পেরে সেই হাত সরিয়ে এনে রাগি কন্ঠে বললো

_”তুই কি আমার ঘুম টুকু খাইবি এটা পন করছোস? নাকি আমার শান্তি তুই দেখতে পারোস না ?”
পরি উত্তর দিলো না, তবে চোখ মুখ খিচে উঠে বসলো, হয়তোবা এক লাগাতার শোয়া হয়ে শুয়ে থাকায় বাচ্চার সমস্যা হচ্ছে,একটু বসলে বা হাঁটাচলা করলে হয়তোবা ঠিক হয়ে যাবে।
পরি কোনো মতে বিছানায় হেলান দিয়ে বসলো।নাবিল উত্তর না পেয়ে মাথা উঁচু করে পরির দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_”মুখে ঠাডা পড়ছে?কথা কস না কেন?”
পরি সোঁজা হয়ে বসে কিছুটা কম্পিত কন্ঠে বললো
_”অনেক সময় ধরে শুয়ে আছি তো তাই হয়তোবা বাচ্চার নড়াচড়া করবে সমস্যা হচ্ছে।”
নাবলি বিরক্তি নিয়ে বললো,
_”আমার হাত লইয়া পেটে দিছোস কেন,আজাইরা ভালো লাগে না নাকি?”
পরি উত্তর দিলো না তাই নাবিল এর জেচে ঝগড়া করলো না,পরি পাশ থেকে ওরনা টেনে শরীরে পেঁচিয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো।তবে একটু চিন্তিত হলো সে, কারণ কোনো রকম কাপড় তো এখানে আনা হয়নি।
পরি এই সব ভাবতে ভাবতে ওয়াশ রুম খুঁজতে লাগলোই। হাঁটতে একটু আসুবি হচ্ছে তার,পেটের ভিতরে কেমন ভার হয়ে আছে। কয়েকবার পেটে চাপ খেয়েছে সে।নাবিল অসুস্থ থাকায় বেশি সময় নিজের পর দুই হাতের সাহায্যে ধরে রাখতে পারেনি,ফল স্বরুপ পেটে চাপ পড়েছে পরির, অবশ্য নাবিল অসুস্থ থাকায় বেশ ফায়দা হয়েছে,আজ বেশি সময় নেয়নি সে।
পরির মুখ দিয়ে হালকা গুঙ্গানি শোনা গেলো।তা শুনে নাবিল উঠে বসলো কাঠকাঠ কন্ঠে সুধালো

_”কই যাইতাছসো?”
পরি ফিরে তাকিয়ে বললো
_”ওয়াশ রুমে, অস্থির লাগছে, গোসলটা সেরে আসি!”
_”করায় দিমু নাকি করতে পারবি।”
নাবিলের কথায় পরি সাত আসমান থেকে পড়লো,মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি এমন হচ্ছে তার সাথে।পরি আমতা আমতা করে উঠলো,ইনিয়ে বিনিয়ে সুধালো
_”সাথে আসলে ভালো হয়, হাঁটতে একটু সমস্যা হচ্ছে,যদি পড়ে টরে যাই।”
নাবিল উঠৈ দাঁড়ালো, তবে এগিয়ে আসতে গেলেই পরি কিছু একটা ভেবে বললো
_”থাক থাক, আপনার মাথায় ব্যান্ডেজ,পানিতে ভেজালে সমস্যা হবে।”
নাবিল এগিয়ে আসতে আসতে বলে উঠলো
_”বাল হইবো আমার,মারোনের সময় তো দুটো কম মারোস নাই।আবার দরদ দেখাস। কথা শুনে ইচ্ছা তো করছে গলা চাইপা ধরি,তাও ভালা মানুষ হইয়া চুপ আছি।”
পরি চেয়ে রইলো,নাবিল এগিয়ে এসে পরিকে আলতো করে কোলে তুলে নিলো।পরি চোখ বুজে ফেললো।যাক কোলে উঠতে ভালোই লাগে তার, হাঁটার প্রয়জন হয় না।
নাবিল পরিকে এনে ওয়াশ রুমে নামিয়ে দিলো,পরি এলোমেলো দৃষ্টি আশে পাশে ফেলে সুধালো

_’কি পড়বো? জামা কাপড় তো আনলাম না।”
নাবিল কান চুলকে আশে পাশে তাকিয়ে বললো
_”হেনে খাড়ায় থাক,আমি আইতাছি।শরীলে পানি ডালতে থাক।”
বলেই নাবিল বাইরে চলে গেলো,পরি এগিয়ে যেয়ে সামনের ঝড়না ছেড়ে দিলো,তবে কি সময় পর পানির বদলে লাল রক্তের মতো কিছু ঝড়ঝড় করে পরির উপর গড়িয়ে পড়লো। হঠাৎ এমন হওয়ায় পরির ভয়ে চম্কে উঠলো,এক লাফে দুই কদম পিছিয়ে গেলো।তখনি নাবিল এসে হাজির হলো।পরির এরকম ভীতু মুখশ্রী দেখে ভুরু কুঁচকে বললো

_”কি হইছে?”
পরি পানির দিকে ইশারা করলো,তখনি সেই লালচে পানি ঝড়া শেষ হলো এবার স্বচ্ছ পরিষ্কার পানি বেড় হয়ে আসলো,নাবিল বুঝতে পারলো কি হয়েছে।সে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে এগিয়ে এসে বললো
_”এতো ডরাস কেন? অনেক দিন ধইরা এহানের পানি ছাড়া হয় না,তাই হয়তোবা লোহার পাইপে ময়লা জমছে,না হয় জং লাগছে তাই এমন পানি।”
কথাটুকু শুনে পরি চেপে রাখা নিঃশ্বাস ফেললো।নাবিল এগিয়ে এসে তার একটা শার্ট এগিয়ে দিলো,যা পরির হাঁটু পর্যন্তোও হবে না।পরি শার্টের দিকে তাকালো আবারো নাবিলের দিকে তাকালো,নাবিল বিরক্তি নিয়ে বললো
_’চাইয়া আছসো কেন?এ ছাড়া কিছু নাই, আপাতত এইডা পর, তারপর না হয় কিছু আনমুনে।এই উচা পেট নিয়া জিন্স তো পড়তে পারবি না,হেনে টাওজারো নাই।তাই এটাই পর।”
পরি মাথা ঝুকালো।কি আর বলবে, শার্টটা দিয়েছে,এটাই তো অনেক।

লাম্বা একটা শাওয়ার নেওয়া পর নাবিল আর পরি বাইরে বেড় হয়ে আসলো,পড়নে তার সাদা শার্ট, বেশ ভালোই লাগছে।তবে উঁচু পেটের কারনে হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি লাম্বা শার্টটা,তবে পিছন দিয়ে ঠিকি হাঁটু পর্যন্ত। যতটা ছোটো শার্ট ভেবেছিলো তার থেকে ১০ গুন বড়।
নাবিল ড্রেস চেঞ্জ করে বাইরে আসলো তখন পরি বিছানায় এসে বসেছে।নাবিল এগিয়ে আসলো তার কাছে পরপর এক পলক তাকিয়ে নিলো সদ্য ফুটা ফুলের দিকে,বেশ আকর্ষণীয় লাগছে পরিকে, ফর্সা পা গুলো যেনো নাবিলের দিকে তাকিয়ে আছে।

নাবিল নিজেকে আটকাতে পারলো না,ডান হাত পরির ফর্সা ভেজা পায়ের উপর রেখে আঙ্গুল বুলিয়ে দিলো।পরি সেদিকে এক পলক তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,তবে কিছু বললো না।
নাবিল বুড়ো আঙ্গুল বেশ কয়দা করে তার পায়ে বুলিয়ে দিলো, তবে এদিক পরি নিজের ভেজা চুল ওরনা দিয়ে মুচছে তাই সেদিকে ধ্যান দিলো না।নাবিল আর একবার বউয়ের বদনে চোখ বুলিয়ে নিলো।পুরো ফুলের ন্যায় শরীরে একটা মাত্র কাপড়ের টুকরো অর্থাত্ শার্ট। তবু নাবিলের চোখ জুরালো না।সে হঠাৎ করেই এগিয়ে সেএ পরির গলার কাজ থেকে দুটো বোতাম খুলে দিলো।পরি ঘনো ভেজা চোখের পাপড়ি ঝাপটে নাবিলের দিকে তাকালো।নাবিল এগিয়ে এসে পরির ভেজা গলায় ঠোট ছুঁইয়ে বললো
_”মেলা সুন্দর লাগতাছে। আল্লাহ তোরে এমন রুপ দিছেরে পরি,যে তুই কাউকেই বস কইরা ফেলতে পারবি।”
পরি ঠোঁট হেলিয়ে হেসে সুধালো

_”ভুল কথা বললেন, সৌন্দর্যের থেকে ভাগ্য থাকা বেশি জরুরি। আপনার চোখে আমি বিশ্বসুন্দরী হলেও হয়তোবা অন্য কারো চোখে তার ভালোবাসা বেশি সুন্দর,যদি আমাকে দেখে সবাই বসি হয়ে যেতো তবে__”
আর কিছু বললো না পরি তবে মনে মনে ভাবলো
_”তবে আজ নুবার জায়গায় আমি থাকতাম। নিশ্চয় আরহাম আমাকেই পছন্দ করতো।তবে আফসোস সে ভালবাসেছিলো নুবাকে।তাই রুম থেকে ভাগ্যটা সুন্দর হওয়া বেশি জরুরি।”
ভেবেই পরি হাসলো,অতীতের কথা সে মোটেও তুলতে চায় না।পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো।এর ভিতরেই বাচ্চা আবারো নড়েচড়ে উঠলো।পরি টের পেলো তবে নাবিল শার্টের দিয়েই বুঝে গেলো,পেটের ভিতরে বসে মন মর্জি করছে।
নাবিল নিজ অজান্তেই পরির পেটে হাত রাখলো,যা অনুভব করে আর দেখে পরি একটু অবাক হলো। কারণ নাবিল কখনোই নিজের বাচ্চাকে একটু অনুভব করতে চায়নি।
নাবিল হাত দেওয়ার কিছু সময় পর ভিতর থেকে তার ছোট্ট অনাগত সন্তান রেসপন্স করলো।নাবিল নিজ অজান্তেই কেমন করে হাসলো।পরি এক পলক নাবিলের হাসি দেখে পরপর নাবিলের হাতর উপর নিজের হাত চেপে ধরলো,নাবিলের হাত নিয়ে পেটের বা পাশে চেপে ধরে বললো

_”এখানে রাখুন, দেখবেন একটু পড়েই নড়ে উঠবে।”
আর হলোই তাই এক ঘুরানি মেরে এপাশ থেকে ওপাশে চলে আসলো।পরি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে নিলো,তার মনে হচ্ছে পেট ফেটেই বেড় হয়ে আসবে।
নাবিল পেটে হাত চেপে সুধালো
_”এতো লড়ে কেন?হারাদিন কি এরকম করে?”
পরি নাবিলের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”সারাদিন না,যখন ওর ইচ্ছে হয় বা অসুবিধা হয়।বেশি বসে থাকলে বা শুয়ে থাকলে‌ একটু বেশি নড়ে।যখন আবার হাঁটি তখন হয়তোবা পেটের ভিতরে জাগা বেশি পায় তাই ওতো নড়াচড়া করে না।”
_”ও।”
নাবিল কিছু সময় পেটে আঙ্গুল বুলিয়ে অনুভব করলো তার অনাগত বাচ্চাকে, এদিকে নাবিলকে শান্ত হয়ে বসে থাকতে দেখে পরি শুকনো ঢোক গিলে বললো

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১০

_”আগে কি এখানে কেউ থাকতো?”
পরির প্রশ্নে নাবিল ভুরু কুঁচকে সুধালো
_”কি কইতে চাস তুই?”
পরি জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বিরবির করে বললো
_”না,মানে এটা কি আপনার apartment,ওই আরকি,এর আগে কি কেউ এখানে থাকতো,আলসে সবকিছু অনেক গোছানো তো তাই বল্লাম। মনে হচ্ছে কেনো মেয়ে থাকতো।”
বেশ সাহস করে ,

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১২