Home নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৩

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৩

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৩
সুরাইয়া জিয়াসমিন

নাবিল ওরনার এক পাশ দিয়ে পরির পেট ডেকে আন্য পাশ দিয়ে মাথার বড় খোঁপা ডেকে দিলো।
পরি পরপর ধীরো কন্ঠে বললো
_”আপনার আম্মু বলেছিলো এই সময় নাকি নজর লাগে।তাই পেট ডেকে রাখতে হয়।”
নাবিল অনমনেই হাসলো,পরপর পরির মুখের উপর শুধু শব্দ করে থুথু ছিটিয়ে দিলো,পরি নাক মুখ কুঁচকে নিলো।নাবিল দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”তোর উপরেও কারো নজর না লাগুক।আহোনের সময় তোর লাইগা বোরকা কিনা আনমু।এমনে আর তোরে বাইরে নেওয়া যাইবো না।লোগে কয় একটা মেকসি বানায়তে দিয়া আমুনে।”
পরি চোখ উল্টে নাবিলের দিকে তাকালো, হঠাৎ করেই তার ব্যপারে এতো চিন্তা করছে ভেবেই পরির মনে খটকা লাগলো।তবু শান্ত কন্ঠে বললো
_”ওগুলো রেডিমেড কিনতে পাওয়া যায়,আমাকেও সাথে করে নিয়ে যাবেন, আমার কিছু কিনতে হবে ‌।”
_”আহোনের সময় দেখমুনে,এখন লো,দেরি হইয়া যাইতাছে।”

_”হ্যাঁ তুমি যদি চাও তবে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।”
হারুন মির্জার কথায় আরহাম একটু চিন্তা করে সুধালো
_”তবে এই মাসেই ব্যবস্থা করো। অনুষ্ঠানটা তাড়াতাড়ি হলেই বাঁচি, তোমার বউ মা এই নিয়ে তিন বেলা আমার সাথে কেটকেট করছে।”
আরহামের কথা শুনে দাঁড়িয়ে থাকা নুবার মুখটা চুপসে গেলো, হতভম্ব হয়ে বললো
_”আমি কখন কেটকেট করলাম?”
আরহাম নুবাকে পাত্তা না দিয়ে হারুন মির্জার সাথে কথা বাড়িয়ে বললো
_”আর হ্যাঁ অনুষ্ঠানে পর আমি জিমিদের সাথে France এ যাবো,আগেই বলা রাখা ভালো।”
হারুন মির্জা আরহামের কথায় ভুরু কুঁচকে নিলো,কিছুটা প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে সুধালো

_”তুমি যাবে মানে,নুবা আর আয়রা?”
_”ওদের নিয়েই যাবো dad.”
_”তার পর কবে আসবে?না মানে কয়দিনের ট্যুরে যাচ্ছো।”
আরহাম এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে,বেশ শান্ত কন্ঠে বললো
_”চলে আসবো,সময় হলে।তাই নুবার পাসপোর্ট সাথে ভিসা, সবকিছু ঠিকঠাক করে নিলে ভালো হয়।”
_”নুবার পাসপোর্ট করাই আছে। ভেবেছিলাম পড়ালেখা শেষ করে যদি দেশের বাইরে যেতে চায়।তাই তুমি এই দিক নিয়ে চিন্তা করো না আমি দেখে নিবো।”
আরহাম, হারুন মির্জার সাথে আরো কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলতে লাগলো।

ইশিতা আরাফের দিকে এক পলক তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো।আরাফ অফিসে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি তৈরি হয়ে নিলো। আজকাল আগের মতো ছ্যাছরামি করতে ইচ্ছে করে না তার। আরহাম হারিয়ে যাওয়ার পড়েই সে তার জায়গা দখল করেছিলো তখন থেকেই ছ্যাছরামি ছেড়ে দিয়ে বেশ ভালো হয়েছে তবে নুবাকে কাছে পাওয়ার সাধনা তার সাধনাই রয়ে গেলো। হয়তোবা এই স্বপ্ন তার কখনোই পূর্ণ হবে না।
ইশিতা এক পলক আরাফের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”তোমার সাথে কথা ছিলো!”
আরাফ ঘড়ি পড়তে পড়তে বললো
_”বলো,আবার জিজ্ঞেস করতে হয়!”
ইশিতা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে সুধালো,
_”আমি মনে হয় কনসিভ করেছি আরাফ?”
কথাটা শুনে আরাফের ভুরু কুঁচকে গেলো,ইশিতার দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে বললো
_”আমি বলেছিলাম বিয়ের অন্ততপক্ষে ৩ বছর পর বাচ্চা নেওয়ার প্লান করবো,এতো তাড়াতাড়ি বাচ্চা নিয়ে কি হবে।এখনো তোমার আমার লাইফ অনেক বাকি।আগে life টাকে এনজয় করো তার পর না হয় বেবির কথা চিন্তা করবো।”
ইশিতার মুখটা কিছুটা কালো হয়ে গেলো,মাথা নিচু করে বললো

_”হ্যাঁ ঠিক আছে তবে এভাবে মেডিসিন নিলে যদি পরবর্তীতে আমার সমস্যা হয়।তাই ভাবছিলাম অন্ততপক্ষে একটা বেবি নিলে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।”
_”just shut up ইশিতা, কেমন বাচ্চা মেয়েদের মতো ইমোশনাল কথা বার্তা শুরু করলে? এখন বাচ্চা লাগবে না মানে লাগবে না। আমার লাইফে এখনো অনেক কিছু বাকি,এতো তাড়াতাড়ি বাচ্চার বাপ হতে চাই না। এঁকে তো বিয়ে করেছি তাই কত responsibility ,তার উপর বাচ্চা হলে,, উফ্,no never.আমি এখন কোনো রকম দায়িত্ব নিতে পারবো না। তুমি just বেবিটাকে নষ্ট করে ফেলে,i think বেশি দিন হয়নি তাই না।”
ইশিতা চুপ রইলো,আরাফ নিজের কথা শেষ করে বেড় হয়ে যেতে যেতে সুধালো
_”এখন তোমার আর আমার ঘোড়া ফেরার দিন, বাচ্চা না হয় পড়েই নিবো।বয়সতো আর শেষ হয়ে যাচ্ছে না।”

নাবিল ডাক্তারের কথায় মাথা ঝুঁকালো ,যেনো সে পদে পদে ডাক্তারের দেওয়া পদ্ধতি অবলম্বন করবে।
পরি চুপচাপ বসে রইলো,একটু আগেই বেবিকে দেখছে সে।সেই নিয়েই চিন্তা ভাবনা করছে।পেটের উপর কি মেশিন যেনো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তাকে বেবি দেখিয়েছে। আপাতত পদ্ধতিটার নাম মনে পড়ছে না,পেটে আসছে তো মুখে আসছে না।এই নিয়েই চিন্তিত পরি।
Doctor সেলিনা খাতুন এক পলক পরির দিকে তাকিয়ে নিজের চশমা ঠিক করে বললেন
_”নিজের খেলায় রাখবে, বাচ্চার অবস্থা বেশি একটা ভালো দেখাচ্ছিলো না। খাওয়া দাওয়া দিয়ে নজর রাখবে।সাথে খেয়াল রাখবে পেটে যাতে কোনো রকম আঘাত না লাগে,চাপ না পড়ে।এই সময়টা কিন্তু খুবি সাবধানতার সাথে কাটাতে হবে।”
পরি doctor এর কথায় মাথা ঝুঁকালো,যেনো সে কড়ায় গন্ডায় সব কথা শুনে চলবে। doctor দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নাবিলের দিকে কেমন করে যেনো তাকালো।যেনো সে কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারছে না।
এমন একটা সময় নাবিলের ফোন বেঁচে উঠলো,নাবিল এক পলক পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_”এখানে বয়,আমি কথা শেষ কইরা আইতাছি।”

বলতেই নাবিল doctor ar দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় হয়তোবা যাওয়ার অনুমতি নিয়ে বাইরে চলে গেলো।নাবিল যেতেই doctor চেপে রাখা নিঃশ্বাস ফেলে ব্যস্ত কন্ঠে সুধালো
_” শুনো মেয়ে, তোমার স্বামীকে বলবে তোমার থেকে এই সময়টা দুরে থাকতে।এই সময়টাতে শারীরিক সম্পর্ক করা খুবি ক্ষতিকর। তাকে এই বিষয় নিয়ে বোঝাবে।বুঝলে?”
পরি নিষ্পাপ চোখে সেলিনার খাতুনের দিকে তাকিয়ে অসহায় কন্ঠে বললো
_”উনি শুনে না মেম,আমি বললেই কি আর না বললেই কি।”
সেলিমা খাতুন কিছুটা হলেই পরিস্থিতি আন্দাজ করতে পারলো।পরির গালে ৩/৪ আঙ্গুলের হালকা কালচে দাগ,সাথে কপালে খতো দেখেই সেলিনা খাতুন আন্দাজ করেছেন মেয়েটা বড্ড অসুখে আছে। নিশ্চয় তার স্বামী তার গায়ে হাত তুলেছেন।তাই তো নাবিলের সামনে যেচে কিছু বলতে চায়নি,যদি এর প্রভাব মেয়েটার উপর পড়ে,তবু বেশ ভালো ভাবেই বুঝিয়েছে তাকে।
সেলিনা খাতুন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_”একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করবো? যদি অনুমতি দেও!”
_”নিশ্চয়, বলুন। আমার জানা মতে doctor আর উকিলের কাছে কিছু লুকাতে নেই।”
সেলিনা চাঁপা কন্ঠে ফিসফিস করে বললো

_”তোমার husband কি তোমার গায়ে হাত তুলে?”
পরি কথাটা শুনে কিছুটা চুপসে গেলো,যেনো সে বলতে ইচ্ছুক নয়। পরিকে চুপ হয়ে যেতে দেখে সেলিনা মৃদু কন্ঠে বললো
_”আসলে তোমার শরীরের খতো দেখে আন্দাজ করেছিলাম আর কি, তবে না বলতে চাইলে সমস্যা নেই।আমি তো শুধু বাচ্চার ভালোর জন্য জিগ্গেস করলাম!”
পরি মাথা নিচু করে ফিসফিস করে বলে উঠলো
_”হ্যাঁ মেম, আপনার ধারনা ঠিক।”

সেলিনা খাতুনের কেমন দুঃখ হলো। এমন একটা পরির মতো মেয়েকে এরকম মানুষ কি করে বিয়ে করলো? সেলিনা খাতুন সাময়িক ভাবে এখানে এসেছে তাই নাবিলকে তার চেনা না,আর কেই’ই বা এমপির ছেলেকে চিনে বসে থাকবে?নাবিলের মুখের ভাষা শুনে সেলিনা খাতুনের অশিক্ষিত মনে হচ্ছে,তবে পরিকে বেশ শিক্ষিত আর বুঝবান লাগছে।তাহলে কেনো এমন একজন কে জীবন সঙ্গী বানিয়েছে এটাই বুঝলো না সে‌।তার উপর নাবিল কথায় কথায় পরিকে চোখ গড়ম দিচ্ছে ‌,পরির ফর্সা শরীরে আঘাতের চিহ্নো বহমান তাই তো সেলিনা খাতুনের কেমন খটকা লাগছে ‌ফল স্বরুপ সে পরিকে প্রশ্ন করলো।
সেলিনা খাতুন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে শান্ত কন্ঠে বললো
_”অন্ততপক্ষে বাচ্চা গর্ভে থাকা কালিন এরকম আঘাত শরীরে পড়লে, ডেলিভারির সময় তোমার আর বাচ্চার দুই জনেরি সমস্যা হতে পারে। আল্লাহ না করুক বাচ্চা পেটের ভিতরে মরেও থাকতে পারে।তাই সাবধানে থাকবে।”

পরি দুই হাত কচলাতে শুরু করলো, পরপর কাতর কন্ঠে সুধালো
_”উনি আমার কোনো কথায় শুনে না মেম, আপনি কি একটু কষ্ট করে উনাকে এই সব একটু বুঝিয়ে দিবেন।যাতে অন্ততপক্ষে বাচ্চাটার ক্ষতি না হয়।”
_”আচ্ছা ঠিক আছে, তোমার husband আগে আসুক।”
পরপর সেলিনা খাতুন কাগজে কিছু লিখে পরির দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো
_”তোমাকেই দেখে বড্ড মায়া হচ্ছে, তোমার মতো একটা মেয়ে কি করে এরকম মানুষের হাতে পড়লো তা আমার জানা নেই তবে especiall ভাবে তোমাকে একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারি,এটা ভালো একটা মলম, তোমার গলায় বেশ খতো দেখলাম, এভাবে থাকলে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে তাই এটা কিনে নিয়ে লাগাবে।আশা রাখছি খতো গুলো খুব তাড়াতাড়ি পূর্ন হয়ে যাবে।”
পরি কাগজটা হাতে নিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে ধন্যবাদ দিলো,তবে সেলিনা খাতুন পরিকে খুঁটে খুঁটে দেখতে লাগলেন।যেনো পরিকে আল্লাহ সবটা দিয়ে তৈরি করেছে, একদম নিখুঁত,কত সুন্দর। সেলিনা খাতুনের কেমন জানার ইচ্ছা হলো এর মতো মেয়ের গায়ে হাত তুলার কারণ কি। এমন একটা মেয়েকে মানুষ মারতে পারে।এর চেহারার দিকে তাকালেই তো মায়া লাগে।সেখানে তার স্বামী কি করে তার গায়ে হাত তুলে।ভাবতে ভাবতে সেলিনা খাতুন জিগ্গেস করেই ফেললেন

_”আচ্ছা শুনো পরি!”
পরি মাথা উঁচু করে তাকালো, সেলিনা কাতর কন্ঠে বললো
_”এই যে তোমাকে এই অবস্থায় মারধোর করে, তুমি কি কিছু বলতে পারো না। আজকাল আইন প্রশাসন কতটা মজবুত,কোনো ভাবে যদি তোমার সাথে অন্যায় হয় তবে তুমি তো রুখে দাঁড়াতে পারবে।তা না করে এই অবস্থায় এই সব সহ্য করছো। তোমার রিপোর্ট গুলো চেক করলাম খুবি খারাপ অবস্থা।না বাচ্চা ঠিক আছে,না তুমি।এই অবস্থার কারন কি তোমার স্বামী’ই?”
পরি জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজালো, খারাপ কাছে যাবে সে,যে নিজে আইন তৈরি করে,সে নিজেই দেশ চালায়, এমপির ছেলের সাথে আইন নিয়ে লড়াই করবে, হাস্যকর।কে সঙ্গ দিবে তার,নাবিলের এক ইরাশায় সবাই তার পাশে দাঁড়াবে।পরি কি আইন প্রশাসনের সাহায্য নেওয়ার চেষ্টা করেনি?‌ অবশ্যই করেছে তবে আফসোস বারবার ফলাফল কচু পেয়েছে।তাই তো পালাতে চেয়েছিলো তবু শেষ পর্যন্ত ধরাই খেতে হলো।আর আজ তার অনাগত সন্তানের মা হয়েও মার গুতা খেতে হচ্ছে।
পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো

_”এমন কিছুই না,উনি একটু রাগি,রাগলে মারধোর করেন।তবে আমি খেলায় রাখবো।”
আর কি বলবে পরি,এখন কি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সব কিছু খুলে রাখবে তার সামনে।সবটা শুনে হয়তো doctori বলবি ‘তুমি চুপ থাকো মা,না আমি তোমার কথা শুনতে চাই,না নিজে বিপদে পড়তে চাই।”
পরির ভাবনার ভিতরে নাবিল এসে আবারো পরির পাশে বসলো। নাবিলকে দেখে সেলিনা খাতুন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে কিছু মেডিসিন পরির জন্য লিখতে লিখতে সোজা কন্ঠে বললেন
_”আপনার wife এর অবস্থান তত ভালো না। তাই আমি আবারো বলছি তার খেয়াল রাখতে।আর হ্যাঁ এই সময়টাতে শারীরিক মিলন না করাই উত্তম মনে হয়।আর দেখে রাখবেন পেটে বা উনি যাতে কোনো রকম আঘাত না পায়। কারণ এই সময় মা দুর্বল মানেই সন্তান ক্ষতির মুখে।তাই দুইজনেরি খেয়াল রাখবেন।উনাকে বেড রেস্ট দেওয়ার চেষ্টা করবেন।তবে হ্যাঁ একটু হাঁটা চাল আবশ্যক।সবটা মেনে চললে নিশ্চয় next time আসলে ভালো খবরি পাবেন। গাড়িতে কম যাতায়াত করবেন,কারণ এই সব ঝাঁকি লাগলে বেশ ক্ষতি হবে।আশা রাখছি বউয়ের খেলায় রাখবেন।”

নাবিল সবটা শুনে এক পলক পরির দিকে তাকিয়ে নিলো ,কিছুতে সমস্যা না হলেও পরির কাছে যাওয়া যাবে না বিষয়টা হজম করতে পারলো না নাবিল।তাই কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বললো
_”বউতো আমার একটাই,তাইলে ওর কাছে যাইতে পারমু না তো কার কাছে যামু?”
নাবিলের কথায় সেলিনার শরীর জ্বলে উঠলো, এরকম পুরুষ মানুষকে ঝুলিয়ে পেটানো উচিত,যারা বউয়ের কষ্ট বুঝে না।সেলিনা কিছুটা রেগে বললো
_”তাহলে বাচ্চা নেওয়ার কি দরকার ছিলো? আর আমার কথা না শুনলে , আমার কাছে আসার দরকার কি ছিলো, নিজের মতো চললে বউকে doctor না দেখালেই পারতেন Mr নাবিল খান।”
Doctor,কে কেটকেট করতে দেখে নাবিলের মাথাটা গড়ম হলো তাও নিজেকে শান্ত করে বললো
_”আইচ্ছা,দেখমুনে । আমার বউ আমি দেখমুনে আপনের এতো চিন্তা করতে হইবো না।”
সেলিনা ভুরু কুঁচকে বললো

_”doctor হই আমি, পেশেন্টের চিন্তা করা আমার দায়িত্ব।”
নাবিল আর কিছু বললো না, doctor এর দেওয়া কাগজ আর রিপোর্ট নিয়ে উঠে দাঁড়ালো সে,পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_”চল, অনেক ডাক্তার দেখানো হইছে।’
পরি উঠে দাঁড়ালো,নাবিল পরিকে নিয়ে বাইরে চলে গেলো,তারা যেতেই,সেলিনা খাতুন কিছুটা হেলামি করলো যেনো মেনেই নিতে পারছেন না”পরির মতো একটা মেয়ের সাথে কি করে এরকম বেয়াদব জুটে গেলো?” আফসোস হলো তার তবে কিছুই করতে পারলো না করান তার সেই অধিকার নেই।
হসপিটাল থেকে বেড় হতে হতে পরি এক পলক নাবিলের দিকে তাকালো,পরপর বিরবির করে মলিন কন্ঠে বললো

_”doctor কি বললো শুনেছেন।”
_”বয়রা না আমি,শুনছি।”
_”তাহলে সেভাবেই চলতে হবে।”
নাবিল পরির দিকে ফিরে তাকালো।পরপর কর্কশ কন্ঠে সুধালো
_”যেহেতু তোর কাছে যাইতে না করতাছোস,তাইলে তোর সামনে অন্য মাগি মানুষ নিয়া শুইয়া থাকমু,তোর কি চলবো ?”
পরি চোখের পলক ফেলে নাবিলের দিকে তাকালো যেনো তার ইচ্ছা হলো নাবিলকে ধাক্কা মেরে এখানেই ফেলে রেখে চলে যেতে।তবে পরি এমন কিছুই করলো না বরং বেশ স্বাভাবিক কন্ঠে সুধালো

_”এখন যদি বাচ্চাকে ভালো রাখতে হয় তবে যা ভালো হবে তাই করতে হবে।আপনি যা ভালো বুঝবেন তাই করবেন, কারণ আমার তো আর বলার অধিকার নেই তাই না।”
নাবিল আর চোখে পরির মলিন মুখের দিকে তাকালো ।পরি মাথা নিচু করে নিলো,এক হাত পেটের উপর রেখে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর থেকে কেনো জানি তার চোখের সামনে বাচ্চাটা ঘুরপাক খাচ্ছে।মনে হচ্ছে সে পেটের উপর দিয়েই বাচ্চাকে দেখতে পারছে।

_”তুই হেনে ব,আমি নিয়া আইতাছি।”
নাবিল গাড়ি থামিয়ে মার্কেটের দিকে যেতে চাইলো তবে পরি তাকে থামিয়ে দিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”আমারো কিছু লাগবে। আমাকে নিয়ে যাবেন please.”
_”কি লাগবো ক,আমি নিয়া আহি।”
_”আপনি বুঝবেন না, আমাকে নিয়ে চলুন।”
নাবিল বেশি তর্ক করলো না কারন তার বেশ কাজ আছে।পরিকে apartment এ রেখে তার আবার বাড়িতে যেতে হবে।
নাবিল পরির হাত ধরে ভিতর দিয়ে এগিয়ে গেলো। সর্বপ্রথম নাবিল যেয়ে বোরকার দোকানে ঢুকলো। আপাতত সে চাচ্ছে না তার রুপসী বউকে সে ব্যতিত কেউ দেখুক।
দোকানে যেয়ে বসতেই নাবিলকে দুই জন এগিয়ে এসে জিগ্গেস করলো

_”কিছু লাগবে ভাই।”
নাবিল আশে পাশে চোখ ফিরিয়ে সুধালো
_”বোরকা লাগবো।”
দোকানদার প্রশ্ন করলো
_”বোরকা তো অনেক আছে তবে কিরকম বা কত সাইজের দিবো।সেটা তো বলতে হবে।”
নাবিল বিব্রত হলো কারণ সে কখনোই এই সব বাজার, অথবা মেয়েদের মার্কেট করেনি , তবে বুঝবে কি করে।
_”কিসের সাইজ?”
দোকানদার ছেলেটা জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_”sir ঝুল কত, কিরকম এটাই।আপনি এদিকে দেখতে পারেন,যেটা পছন্দ হবে সেটাই নামাবো।”
নাবিল আর চোখে পরির দিকে বিরবির করে সুধালো
_”কত টুকু লাম্বা লাগবো তোর। কিছু কস না কেন,ভেবলার মতো বইসা আছসো!”
পরি এক পলক সব বোরকার দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বলে উঠলো

_”হয়তোবা ৫০ ,আমি কখনো বোরকা পড়িনি।তাই জানি না।”
নাবিল সবার সামনেই পরির মাথায় ঠুয়া লাগিয়ে দিলো পরপর কর্কশ কন্ঠে বললো
_”ভালো জিনিস পরবি কেন? তুই তো ঘুইরা ঘুইরা সবাইরে নিজের খোমা (মুখ) দেখাইবি! যত্তসব!”
_”বোরকা পড়লে আপনি আমার খোঁজ পেতেন বুঝি।আজ পরিনি দেখেই আমার এই অবস্থা।তার জন্য এখন আফসোস হয়।”
_”মুখ চালাইয়া এখন এতো মাইষের ভিতরে আমার হাত ঘাই গুতা খাইস না,কইয়া দিলাম।”
পরি নাবিলের কথায় চুপসে গেলো।নাবিল বেছে বেছে ৩ টা বোরকা বেড় করলো,যা পরিরো পছন্দ হলো।নাবিল তিনটাই পেক করে দিতে বললো।পরপর তার কিছু একটা মনে পড়তেই দোকানদারের দিকে তাকিয়ে কিছুটা ভাবুক হয়ে বললো
_”মাইয়ারা যে মুখ ডাকে, শুধু চোখ দেখা যায় ওইটা আছে।”
নাবিলের কথায় দোকানদার বুঝতে পারলো নেকাবের কথা বলছে নাবিল তাই অনেক পদের নেকাব বেড় করে বললো

_”এগুলোর কথা বলছেন ভাই?”
নাবিল একটা নেকাব হাতে তুলে নিয়ে বললো
_”হো, এগুলো ভালা দেইখা ৪/৫ টা দিয়া দেও।”
ছেলেটা একটু হেসে সব সাইজের থেকে ভালো কয় একটা বেছে নাবিলকে পেক করে দিলো।পরপর ছেলেটা হিসাব টেনে দেখলো ১১ হাজার খানিক এসেছে।নাবিল যেই বোরকা নিয়েছে তার এক একটার দাম ৩থেকে ৫ হাজার করে পড়েছে সাথে নেকাব গুলোও বেশ দামি তবে নাবিল দামাদামি করলে হয়তো কমে যেতো। কিন্তু সে তো মেয়েদের জিনিস সম্পর্কে ধারনা রাখে না তাই জানেও না কোনটার কিরকম দাম। উল্টা পাল্টা দাম বলে কি মার খাবে নাকি।
নাবিল মানিব্যাগ থেকে টাকা বেড় করে সবটা চুকিয়ে দিলো পরপর পরিকে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললো

_”হেনে কি Trial Room আছে?”
_”হো ভাই আছে, ওইদিকে।”
কথাটা শেষ হলো,ছেলেটার গালে যেয়ে এক খানা চড় পড়লো।ছেলেটা সহ সবাই অবাক হয়ে গেলো।পরি অবাক হয়ে চেয়ে রইলো যে হঠাৎ করেই আবার কি হলো?
নাবিল ছেলেটার চোখের দিকে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চিপে বললো
_”খানকির পোলা,বয়স হয় নাই ১৬ আর তাল পেকে বলা গাছে উইঠা গেছো।কথা কও আমার লোগে আর নজর থাকে আমার বউয়ের দিকে। একদম চোখ দুইটা টাইনা উপরাইয়া ফালামু।শুয়োর কোনগার,চোখ তুইয়া পাছা দিয়া ডুকায় দিমু।”
ছেলেটা নাবিলের কথায় শুকনো ঢোক গিললো। দোকানের সবাই বিব্রত হয়ে নাবিলের দিকে তাকিয়ে রইলো।নাবিল চোখ দিয়ে ছেলেটাকে শাসিয়ে পরিকে নিয়ে Trial রুমের দিকে এগিয়ে গেলো।
Trial রুমের সামনে যেয়ে নাবিল শপিং ব্যাগ থেকে এক খানা বোরকা বেড় করে বললো

_”যাইয়া পইয়া আয়।আজ থাইকা বাইরে বেড় হইলে এগুলাই পইরা বাইর হবি।”
পরি এক পলক বোরকার দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিললো। কারণ এই গড়মে এগুলো পড়লে সে মরেই যাবে।তাই ইনিয়ে বিনিয়ে কোনো মতে বললো
_”না পড়লে হয় না।আসলে এগুলো পড়লে অনেক গড়ম লাগে, অনেক হাঁসফাঁস,,,”
ঠাস করে পরির গালে এক খানা চড় পড়লো।যেনো মার খাওয়ার জন্যই সে মুখটা খুলেছিলো।সকাল থেকে মার খায়নি তাই হয়তোবা পেটের ভাত হজম হয়নি।পরি গালে হাত দিয়ে নাবিলের দিকে তাকালো।নাবিল চোখ গড়ম করে বললো
_”যা কইছি তাই কর।”

পরির গড়মে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে,সে অভ্যস্ত না এই সবে তাই তো বোরকার সাথে হেজাব নেকাব পড়ে তার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।নাবিল পরিকে নিয়ে যেয়ে রেডিমেড কিছু ড্রেস সাথে মেকসি আর ছায়া কিনে নিলো।নাবিল নিজের বুঝ মতো অনেক কিছুই কিনে নিলো। এদিকে সবটা কিনা কাটা শেষ হতে হতে পরির দম বন্ধ হয়ে আসলো প্রায়। নিঃশ্বাস নিতেও যেনো কষ্ট হচ্ছে তার।
পরি আশে পাশে তাকিয়ে হাঁসফাঁস করে উঠলো।পরপর তার কিছু মনে পড়তেই লেডিস দোকান গুলোর দিকে এগিয়ে গেলো।নাবিল পরিকে অন্য দিকে যেতে দেখে ভুরু কুঁচকে বললো

_”ওই দিকে কই যাস?”
_”আমার কিছু কিনা বাকি।”
_”আবার কি কিনবি, মূহুর্তের মধ্যে তোর পিছনে আমার ১৫/১৬ হাজার খরচ হইয়া গেছে।টাকা কি গাবায় নাকি।না গাছে ফলে।”
পরির বলতে ইচ্ছে হলো,”গায়বা’ইতো, এমন ভাবে বলছে যেনো গতর খাটিয়ে টাকা ইনকাম করে। একজনের গলায় ছুরি ধরলেই লাক্ষ খানিক পেয়ে যায়, চাঁদাবাজি করে আবার কথা বলে। যত্তসব!”
তবে বলতে পারলো না পরি,আর না উত্তর দিলো।পরিকে উত্তর না দিতে দেখে নাবিল পিছন পিছন এগিয়ে যেয়ে বললো

_”আর কিছু কিনতে হইবো নাই,বাইতে লো। আমার কাম আছে।”
_”খুব প্রয়োজনীয় জিনিস,কিনতে হবে।”
_”কি কিনবি,কবি তো?”
পরি আর চোখে নাবিলের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_”ইনার কিনতে হবে,আরো কিছু আছে আপনাকে বলা যাবে না,কিনলেই দেখতে পাবেন।”
_”আর কিছু কিনতে হইবো না, আমার সামনে ওগুলো না পড়লেও চলবো। দরকার পড়লে লেংটা হইয়া ঘুরবি তাও এতো টাকা খচর করতে পারতাম না।”
পরি নাবিলের কোনো কথা না শুনে এগিয়ে গেলো।একটা দোকানের সামনে যেতেই নাবিল কিছুটা বরকে গেলো।এখানে সব লেডিসদের গোপনীয় জিনিস ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।আর দোকানের ভিতরে পুরুষ মানুষ। নির্লজ্জ নাবিল কেমন বিব্রত হলো।পরপর আবার স্বাভাবিক হয়ে গেলো।বিয়ে যখন করেছে আরো কত কি সহ্য করতে হবে তাকে।

তবে দোকানদারকে পরি কিছু বলার আগেই নাবিল পরিকে এক টান দিয়ে ওখান থেকে সরিয়ে নিলো।পরি আশ্চর্য বনে গেলো। হঠাৎ করে কি হলো?
আসলে পরি দোকানের সামনে যেয়ে টেবিলের উপর হাত রেখে ইনার দেখতে ব্যস্ত হলেই লোকটার পরির হাতের দিকে তাকিয়ে সাথে সাথে চোখের দিকে তাকিয়েছে যেটা নাবিলের একদমি ভালো লাগেনি। কারণ সে একজন পুরুষ মানুষ,সে জানে আর একজন পুরুষের চাহনি কেমন হয়।
হঠাৎ এভাবে টেনে আনায় পরি চম্কে উঠে প্রশ্নবিদ্ধ দৃষ্টিতে নাবিলের দিকে তাকালো।নাবিল তেতে উঠে বললো

_”কোন দোকানে গেছোস তুই,কোনো মহিলা নাই,বেডা মানুষ এগুলা বেচতাছে ‌।হের কাছ থাইকা এগুলো নিবি নাকি?”
পরি আশ্চর্য হয়ে নাবিলের দিকে তাকালো।যেনো বুঝতে পারছে না সে নাবিল কেনো এরকম করছে।পরিল আর সহ্য হলো না বেশ শান্ত কন্ঠেই বললো
_”আপনি এমন ভাবে কথা বলছেন যেনো আপনি খুব ভালো?”
নাবিল পরির কথা টুকু শুনলো না বরং আশে পাশে খুঁজতে লাগলো মহিলা কোন দোকানে,পরপর পেয়েও গেলো।

_” ৩৬ সাইজেরটা দেন।”
দোকানি মাথা ঝুঁকিয়ে কয় এক রকমের ইনার বেড় করলো।বেশ দামি আবার কম দামি।সাথে মেচিং অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিস।
নাবিল সেদিকে এক পলক তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”মাত্র ৩৬ , ভবিষ্যতে আমার তোর একটু খানি দুধ খাইয়া আমার পোলাপাইনের তো পেট ভরবো না।কইলিডা কি তুই আমার পছন্দ হইলো না।”
পরি নাবিলের কথায় লজ্জিত হলো তবে তা প্রকাশ করলো না,দোকানিও বেশ বিব্রত হলো তার কথায় তবে ভদ্রতা বজায় রেখে কিছু বললো না।পরি নাবিলের কথা শুনেও না শুনার ভ্যান ধরে সব ঘেটে ঘেটে দেখে বললো

_”অন্য রকম নেই, এগুলো কেমন জানি।”
_”আপা আছে তবে ৩৬ সাইজের নাই।”
পরি কিছু বলতে যাবে তার আগেই নাবিল বলে উঠলো
_”৪০ থাকলে দিয়া দেন, আমি আছি আমার পোলাপাইন আছে কয়দিন পর এমনেই ৪০ হইয়া যাইবো।”
নাবিলের কথায় দোকানি চোখের পলক ফেলে চুপচাপ অন্য দিকে ইনার আনতে চলে গেলো।পরি ড্যাবড্যাব করে নাবিলের দিকে তাকিয়ে অধৈর্য কন্ঠে বললো
_”অন্ততপক্ষে বাজার ঘাটে তো আমার সম্মান রাখুন।”
_”কি ভুল বল্লাম আমি,যে তুই এমন করে তাকাতাছোস? যা বলছি সত্যিই তো বলছি,আর তোরি তো ভালো।কি বললো শুনলি না ৩৬ সাইজ নাই।”
পরি দাঁতে দাঁত চেপে হাত মুঠো বদ্ধ করে বিরবির করে নাবিলকে গালি দিলো তবে শব্দ করে বলার সাহস পেলো না।পরপর দোকানি আরো কিছু কালেকশন নিয়ে আসলো।যার ভিতরে পরির বেশ কয় একটা পছন্দ হলো। যেগুলো জোরা ধরা।
পরি কয় একটা বেছে নিলো তবে,আর কয় একটা বাদ দিলো তবে হঠাৎ করেই নাবিল বাদ দেওয়া গুলোর উপর আঙ্গুল রেখে পর্যবেক্ষণ করে বললো

_”কালাডা আর লালডা কি দোষ করলো।এই দুইটা নে।গোলাপিডার থেইকা তোরে এই দুইডা পড়লে বেশি সুন্দর লাগবো।তোর ফর্সা শরীরে ফুইটা থাকবো। যা দেখলেই আমার চোখ দুইটা শান্তি পাইবো।”
নাবিলের বেহায়া পানায় পরির রাগে শরীর জ্বলে উঠলো।তবে কিছু বলতে পারলো না।নাবিল বাকি দুটো এগিয়ে দিয়ে বললো
_”এই দুইটাও দিয়া দেন।”
দোকানি মাথা ঝুঁকিয়ে প্যাক করে দিলো।পরপর নাবিল টাকা মিটিয়ে দিতে দিতে পরি শপিং ব্যাগ হাতে নিয়ে আগে আগে হেঁটে চললো।নাবিল তার সম্মান আর কোথাও রাখলো না।
নাবিল টাকা চুকিয়ে দিয়ে দোকানির দিকে তাকিয়ে বললো
_”আপনার কাছে হাত,পা,চোখ ডাকার লাইগা কিছু আছে।বোরকার লোগে পড়া যায় যাতে।”
দোকানি মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_”হ্যাঁ,হাত মুজা,পা মুজা আছে তবে চোখ ডাকার মতো নেকাব চাইলে ওই দোকানে যাতে হবে।”
অন্য দোকানের দিকে ইশারা করে বললো।নাবিল মাথা ঝুকালো,৩/৪ সেট কালো হাত পা মোজা নিয়ে নিলো পরপর অন্য দোকান থেকে নিকাব নিয়ে হাঁটা দিলো।

পরি মুখ কালো করে গাড়িতে বসে আছে,বেশ কান্না পাচ্ছে তার। হয়তোবা লজ্জায়,আসলে তখন ওই ছেলেকে থাপ্পর মারা আবার দোকানির সামনে বেহায়া কথা বলা, সবকিছু নিয়ে বিব্রত পরি।আদেও কি নাবিল কখনো ভালো হবে।
নাবিল গাড়ি Stared দিতে দিতে পরির দিখে শপিং ব্যাগ এগিয়ে দিয়ে বললো
_”হা আর পা মোজা আছে।তোর হা পা দেখলেই মানুষ চাইয়া থাকবো,এর থেইকা ভালো ডাকা থাক। সবসময় ডেকে ঢুকে বাইরে বেড় হবি।”

পরি কিছু বললো না বরং সে তাড়াতাড়ি হিজাব আর নেকাব খুলতে লাগলো কারন তার বেশ অস্থির লাগছে।নাবিল গাড়ি নিয়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ করেই ভাঙ্গা রাস্তায় ঝাঁকি খেলো।সাথে পরিও কেমন কেঁপে উঠলো।নাবিল তাড়াতাড়ি এক হাত বাড়ি পরির পেটে আলতো করে চেপে ধরে সুধালো
_”বেশি লাগছেনি।আসলে সামনে ভাঙ্গা আছিলো খেলায় করি নাই।”

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১২

পরি কথা বললো না,নাবিলের সাথে কথা বলতেই ইচ্ছা করছে না পরির। কেমন হাই হুতাশ লাগছে তার।মনে হচ্ছে কতো সময়ে বাড়িতে যেয়ে একটু বিছানায় শরীরটা হেলিয়ে দিবে।
নাবিল উত্তর না পেয়েও রেগে গেলো না বরং আস্তে আস্তে সাবধানে গাড়ি চালাতে লাগলো।যেনো হুটহাট কোনো ভাবেই গাড়ি ঝাঁকি না খায়।
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে গম্ভীর ভাব করে বললো
_”না পছন্দ হচ্ছে না।”

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৪