নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৬
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_”খাওইয়ে দেও,না হলে খাবো না।”
নুবা দুই হাত বুকে গুঁজে অভিমানী কন্ঠে সুধালো
_”আমার গা থেকে ঘামের গন্ধ আসে।গা গুলিয়ে আসে আপনার তবে আমার হাতে খেলে তো পেটে সমস্যা হবে।তাই না।”
আরহাম মাথা উঁচু করে নুবার দিকে তাকালো।নুবা আরহামের দিকে না তাকিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে রইলো। আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বলে উঠলো
_”তাহলে খাবো না।”
নুবা এবার বেশ রেগে গেলো।রাগি কন্ঠে বললো
_”আপনি কি বাচ্চা নাকি যে বাহানা করছেন।আজব, চুপচাপ খেয়ে নিন।আমি পারবো না।”
বলেই নুবা সরে আসতেই চাইলো তবে আরহাম নুবার হাত ধরে বসলো।নুবা ভুরু কুঁচকে আরহামের দিকে তাকালো। আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বিরবির করে বলে উঠলো
_”খাবো না, এগুলো নিয়ে যাও।”
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কিছু সময় আরহামের দিকে তাকিয়ে রইলো।পরপর ভাবলো”আমার হাতে বেশি খাওয়ার সখ না? দাঁড়া,দেখাচ্ছি মজা।” বলেই খাবারের প্লেট হাতে তুলে নিলো।হাত না ধুয়েই খাবারে হাত ঢুকিয়ে দিলো নুবা। আরহাম বড়বড় চোখ করে তাকিয়ে রইলো।নুবা ভাত মেখে এক গাল আরহামের মুখে সামনে ধরে জোরপূর্বক হেঁসে বললো,
_”নেন খান। খুব মজা লাগবে খেতে।”
আরহাম শুকনো ঢোক গিললো।পরপর মুখ কালো করে মুখে খাবার পুরে নিলো।নুবা একটু অবাক হলো।ভেবেছিলো নিবে না তাও খেয়ে নিলো, ফল স্বরুপ নুবার মুখটা কালো হয়ে গেলো।তবে নুবা দেখতে চাইলো কত সময় নাক ছিটকে খেতে পারে।
আরহাম দ্বিতীয় বার খাবার মুখে পুরে বললো
_”তুমিও খেয়ে নেও। তুমি তো খাওনি।”
নুবা প্লেটে থাকা মাছ বাছতে বাছতে বললো
_”আমার পেট ভরা।”
কথা টুকু শেষ করে আরহামের মুখে খাবার তুলে দিতে লাগলো। আরহাম মুখ ঘুরিয়ে বললো
_”আগে তুমি খাও।”
নুবা বিরক্তি নিয়ে আরহামের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বলে উঠলো
_”যাতে আমারো পেট খারাপ হয়?”
_”একদিন হাত না ধুয়ে খেলে তেমন কিছুই হবে না।”
_”হ্যাঁ তাই তো মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না।”
_”খেয়ে নেও।”
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ব্যস্ত কন্ঠে বললো
_”আরে বাবা আমি খেয়েছি। আমার পেট ভরা।”
আরহাম নুবার দিকে ফিরে তাকিয়ে ভুরু কুঁচকে সুধালো
_”কখন খেলে?আমি তো দেখলাম না।”
নুবা ভাত মাখতে মাখতে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”মেয়ের জন্য খেচুরি রান্না করেছিলাম সেটাই খেয়েছি। আপনার মেয়ে খায় কতো! তাই আমি খেয়ে ফেলেছি।”
কথা টুকু শুনে আরহামের মুখের রং উড়ে গেলো,সে আরো ভেবেছিলো বউটা না খেয়ে আছে সে কি করে খেয়ে ফেলে।এতো দেখি উল্টো হয়ে গেলো।তাকে রেখেই নুবা পেট পূজা করে ফেলেছে। আরহাম চুপসে যাওয়া মুখে বললো
_”আগে বললেই পারতে যে খেয়ে নিয়েছো। শুধু শুধু এতো সময় পেটে বালিশ চেপে না খেয়ে থাকলাম।”
_”আমি তো আগেই বলেছিলাম,আমি খাবো না।”
_”তবে এটা তো বলোনি যে, আমার আগেই খেয়ে নিয়েছো।”
নুবা এবার একটু তেতে উঠলো।বিছানার উপর শব্দ করে খাবারের প্লেট রেখে গজগজ করে বললো
_”এখন কি এটা নিয়েও ঝগড়া করবেনা আপনি।এমন মনে হচ্ছে যেনো তাকে রেখে আমি খেতে পারবো না।কোন নিয়মের ভিতরে পড়ে যে স্বামীকেই আগে খাওয়াতে হবে। আমার ক্ষুধা লাগলে আমি খেতে পারবো না নাকি? না আপনার অনুমতি ব্যতিত ক্ষুধা লাগাও বারণ?”
নুবার পকপক শুনে আরহাম মুখ কালো করে বললো
_”আমি এটা কখন বল্লাম?”
_”এটাই তো বললেন?”
আরহাম মুখ ঘুরিয়ে নিলো,বিরবির করে বললো
_”আর খাবো না,সরো।”
আরহামের কথায় নুবা কেটকেট করে উঠলো।রাগি কন্ঠে বললো
_”একদম নাটক কম করবেন বলে দিলাম। চুপচাপ খেয়ে নিন।”
পরি ছলছল চোখে নাবিলের দিকে তাকিয়ে অশান্ত কন্ঠে বললো
_”আমার পেট ব্যথা করছে।”
_”কিছুই হইবো না। চুপচাপ থাক এতো পকপক ভালা ঠেকে না।”
_”পেটে চাপ লাগবে। doctor কি বলছে মনে নেই?”
নাবিল ভুরু কুঁচকে নিলো।কিছুটা রেগে হাঁসফাঁস করে বললো
_”বইসা বইসাও তোর পেটে চাপ লাগবো।নাটক কম কর।আমি নিজের সাবধানেই সবটা করমু।”
পরির বেশ রাগ হলো নাবিলের উপর তবে কিছু বলতে পারলো না।তবে শেষ চেষ্টা করে বললো
_”এটা হসপিটাল , আপনার বাড়ি না। সবকিছুর একটা সীমাবদ্ধতা থাকা দরকার। আপনার এই অত্যাচারের পর বাচ্চার কিছু হলে পরে তো আমারি দোষ দিবেন।একবারো নিজের দোষ দিবেন না।”
নাবিল পরিকে বেডে পা ঝুলিয়ে বসিয়ে কোমড় জরিয়ে ধরে, তার হালকা লালচে ঠোঁটে চুমু খেয়ে অশান্ত কন্ঠে বললো
_”আমারে রাগাইস না।চুপ থাক।”
পরির কান্না পেলো,তবে কান্না টুকু সে গিলে ফেললো।পরপর কাতর কন্ঠে অনুনয় করে সুধালো
_”দয়া করুন আমার উপর।আমি একা নই।একটু রহম করুন। আমার কষ্ট হয় নাবিল,আপনি একটু বোঝার চেষ্টা করুন।আপনি ব্যতিত কে আছে আমার।”
পরির কথা টুকু শুনে নাবিল কিছু সময়ের জন্য স্তব হয়ে গেলো।পরপর শব্দ করে হেসে উঠলো সে।হেলামি কন্ঠে বললো
_”বাপরে বাপ, ভালোবাসা উতলায় উতলায় পড়তাছে। ইস্ কি কথা রে”আমি ছাড়া কে আছে তার কেউ?” আহারে,, কি বস করোনের কথা কওয়া ধরছোস তুই।তবে আমি কি তোর লাং লাগি যে গইলা যামু।ভাতর হই, আমার কথার অবাধ্য কম হ।”
পরি আর একটা কথাও মুখ দিয়ে বেড় করলো না।নাবিল নিজে চোখে দেখে পরির কি অবস্থা।পেটের ব্যথায় হুস ছিলো না তার।তবে এই সব দেখার পড়েও এমন একটা মূহুর্তে নাবিল যদি নিজের মন মর্জি করে তবে কিছুই বলার নেই।পরি হয়তোবা ভুলেই গেছিলো নাবিল কিরকম মানুষ।পরি চোখ বন্ধ করে দাঁতে দাঁত চেপে নিলো। হয়তোবা ধৈর্য ক্ষমতা চাইলো রবের কাছে।
সকালের আলো ফুটতেই আশে পাশে পাখির কিচিরমিচির শোনা গেলো। হসপিটালের কাঁচের জানালা ভেদ করে নাবিলের চোখে মুখে আলো উপচে পড়লো।নাবিল চোখ মুখ কুঁচকে বিরক্ত হলো। এদিকে উন্মুক্ত বুকে অবস্থান করা পরি ঘুমের ভিতরেই কেমন কেঁপে কেঁপে উঠছে। আবার মাঝে মাঝে ফুপাচ্ছে।কাল পুরো রাতটাই গুনগুন করে কেঁদেছে পরি।তাই হয়তোবা ঘুমের ভিতরেও গুঙ্গিয়ে উঠছে।
নাবিল দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আশে পাশে তকালো।পরপর পরিকে একটু সরিয়ে উঠে বসলো।পরি তার কম্পিত হাত দিয়ে নাবিলকে জাপ্টে ধরলো।যাতে সে এখান থেকে নিচে পড়ে না যায়।নাবিল ঘুমঘুম চোখে এক পলক পরির দিকে তাকালো।। সযত্নে পরির লালচে বাহুতে আঙ্গুল ছুঁইয়ে পাতলা সাদা blanket পরির উন্মুক্ত শরীরে টেনে দিলো।
হঠাৎ করেই শরীরে আলতো করে আঙ্গুল ছুয়াতেই পরির ঘুম উড়ে গেলো। শরীরের অশান্তিতে পরি একটুও ঘুমাতে পারছে না।পরি শুকনো ঢোক গিলে ক্লান্ত শরীর নিয়ে উঠে বসলো।নাবিল তাকালো পরির দিকে।পরি নাবিলকে তাকাতে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিলো।পরপর শরীরের blanket টেনে কিছু সময় চুপ থেকে,আর চোখে নাবিলের দিকে তাকিয়ে রাগি কন্ঠে বিরবির করে বললো
_”আমি বাসায় যাবো।”
নাবিল বেডে হেলান দিয়ে বসে দুই হাত মাথার পিছনে ঠেকিয়ে বললো
_”কেন,পেটের বেদনা ঠিক হইয়া গেছে।”
পরির দাঁতে দাঁত চেপে আসলো, ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো সে।পরির ইচ্ছা করছে নাবিলকে ধাক্কা মেরে বেড থেকে ফেলে দিতে।তবে সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে হাঁসফাঁস করে বলে উঠলো
_”আপনার জ্বালায় কোমবে। আপনার মতো একটা জল্লাদ,,,”
আর বলতে পারলো না পরি।রাগে হাঁসফাঁস করে লাগলো।নাবিল পরিকে রাগে ফুঁসতে দেখে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_”কি কইলি?”
পরি শুকনো ঢোক গিলে বিরবির করে সুধালো
_”কিছু না।”
নাবিল হাম তুলে আড়মোড়া ভেঙ্গে বেড থেকে নামতে নামতে বলে উঠলো
_”আমার কাম আছে।হেনে বইয়া থাকা আমার দাঁড়া সম্ভব না। তুই থাক,আমি সাগরে পাঠায় দিমু। কিছু লাগলে ওরে কইস।”
বলতে বলতে নাবিল নিচে পড়ে থাকা শার্ট হাতে উঠিয়ে নিলো।পরির রাগে শরীর জ্বলে উঠলো পরপর অন্য দিকে মুখ করে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো
_”হ্যাঁ, আপনার বউ বাচ্চা খেয়াল অন্য কেউ রাখবে।যা প্রয়োজন হবে অন্য কাউকে বলবো,তাহলে নিজে বিয়ে না করে ওই সাগর আর ইমনের সাথেই আমার বি,,,,”
কথা শেষ হওয়ার আগেই নাবিল তেরে এসে পরির গাল চেপে ধরলো।পরি দাঁতে দাঁত চেপে নাবিলের দিকে তাকালো।নাবিল রাগে দাঁতে দাঁত চেঁপে উঠে বললো
_”মুখ সামলে কথা বল নডি।না হইলে টুঁটি টাইনা ছিরা ফালামু।বেশি সাহস হইছে নাকি?নডিদের মতো কথা বার্তা কওয়া শুরু করছোস?কয়ডা ভাতার লাগে তোর।আমি আমার কাম কাজ ফাইলা তোর লোগে বইয়া থাকমু নাকি?”
পরি ভেজা চোখে নাবিলের দিকে তাকিয়ে,চেপে থাকা গালে মিনমিন করে বলে উঠলো
_”শুয়ার সময় তো ঠিকি সময় পেয়ে যান।তখন আর আপনার কাজ থাকে না,তাই না?”
নাবিল পরির কথায় রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে পরির গাল আরে জোরে চেপে ধরে, হাঁসফাঁস করে বললো
_”বেশি উজায় গেছোস তুই।আবারো পার গুতা খাইতে ইচ্ছা করতাছে তাই না?”
পরি কেমন তর্ক করে বললো
_”কখন আবার পার গুতা না দেন আপনি?”
পরপর নাবিলের দিকে তাকিয়ে নাক টেনে বললো
_”কোন সময় বা আমার কথা ভাববেন।কখনো কি আমার সমস্যা উপলব্ধি করতে পেরেছেন? আমার কতটা সাফার করতে হয়।কতটা খারাপ লাগে? আপনার কুকুরের মতো ব্যবহার কতটা পিঁড়া দেয় আমাকে?এই অবস্থায় আমি আর এই সব নিতে পারছি না। just লিভ মি ।আপনি ছিলেন না তাতেই আমি ভালো ছিলাম। চলে যান। আমার চোখের সামনে থেকে দূরে কোথাও চলে যান।আমি একাই শান্তিতে থাকি। আপনি এই কয়দিন ছিলেন না,তাতেই আমি সুখী ছিলাম।আসার কি দরকার ছিলো?”
পরি প্রশ্ন করে নিজেই থেমে গেলো,পরপর ঠোঁটে ঠোঁট চেপে নাক ফুলিয়ে বললো
_”ও ভুলেই গেছিলাম। আমার প্রয়জন হয়েছে তাই এসেছেন তাই না।এখন তো খাওয়া দাওয়া শুয়া সব শেষ,এবার যেতে পারেন। আমি একাই এখানে থাকতে পারবো।বাড়ি পর্যন্তোও যেতে পারবো।”
বলেই পরি হাত জোর করলো করে চোখ উল্টে নাবিলের দিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো। যেনো কাঁদতে চেয়েও কাঁদতে পারছে না সে। তাদের কথাপোকথনের ভিতরে একজন নার্স কেবিনের দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করলো।সে পরিকে দেখতে এসেছে ।
হঠাৎ করেই নার্সকে দেখে পরি তাড়াতাড়ি blanket টেনে শরীরে জরিয়ে নিলো।নাবিল নার্সকে দেখে কিছুটা খেপে উঠলো।পরিকে রেখে নার্সের দিকে তাকিয়ে গর্জে উঠে বললো
_”হেনে কি তোর,কারো কেবিনে ঢুকার আগে যে নক কইরা ডুকতে হয়,এইডা জানোস না তুই। মিনিমাম জ্ঞান টুকু নাই তোর।কি খাইয়া নার্স হইছোস,ঘুষ দিয়া?”
বলেই নার্সের দিকে তেরে গেলো। নার্স দুইজেন অবস্থা দেখে নিজেও বেশ বিব্রত হলো।এক পলক কান্নারত পরির দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে অনুনয় করে বললো
_”sorry sir, actually আমি চেক করতে এসেছিলাম যে উনাকে সকালের ওষুধ দেওয়া হয়েছে কিনা। বেবি ঠিক মতো রেসপন্স করছে কিনা।”
নাবিল চোখে পলক ফেলে চাঁপা নিঃশ্বাস ছেঁড়ে হাতের ইশারয় বললো
_”বাইর হ।”
নার্স শুকনো ঢোক গিলে আস্তে করে বেড় হয়ে দরজা লাগিয়ে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো।একে তো হসপিটালে এসে ডোর না লাগিয়েই অভদ্রতমি করছে আবার তেজ দেখাচ্ছে। আজব মানুষ।
নার্স যেতেই পরি নাবিলের দিকে তাকিয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে হাঁসফাঁস করে বললো
_”আপনি চলে যান।আমি নিজের খেলায় নিজে রাখতে পারবো।”
সকাল থেকে নুবা আর আরহামের ভিতরে কোনো কথা নেই।এখনো ঝামেলা মিটেনি তাদের। আরহাম ভাবছে নুবা আসছে।নুবা ভাবছে আরহাম সেদে তার সাথে কথা বলবে।মানে দুই জনের ভিতরে কেউ জানে না আসলে রাগটা কে করেছে।কেই’বা রাগ ভাঙ্গাবে?
নুবা বিছানা গুছাতে গুছাতে এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে আবারো নিজের কাজে মনোযোগ দিলো। এদিকে আরহাম চাতক পাখির ন্যায় তাকিয়ে আছে।সে ভেবেছিলো নুবা হয়তোবা তার রাগ ভাঙ্গাবে তবে আফসোস উল্টা নুবাই রাগ করে বসে আছে।
নুবা বিছানা গুছিয়ে রুম পরিষ্কার করে ফেললো। এদিকে আয়রা নিচে হাজেরাকে অধৈর্য করে ফেলছে।কখনো এখানে যাচ্ছে।কখনো ওখানে হামাগুড়ি দিয়ে যাচ্ছে।আবার কখনো উঠে এক দু পা হেটে হাজেরাকে অস্থির করে তুলছে।এই আয়ার পড়ে যাচ্ছে আবার উঠে দাঁড়াচ্ছে।আবার ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদছে।আর বোডি গার্ড হিসাবে হাজেরা পিছন পিছন ঘুরে ঘুরে নানু নানু করছে।কি করবে হাজেরা।এই বিচুটি পাতার পিছনে দৌড়ানো ছাড়া তার কাজ আছে নাকি!
এদিকে নুবা সকাল সকালি গোসলে ঢুকে গেলো । অবশ্য যথার্থ কারণ আছে। আসলে নুবা ২/৩ বার নিচে নিয়েছে তবে আরহাম তার পিছন পিছন যায়নি বরং ঠেডা মেরে রুমেই বসে আছে তাই রুমে থাকার বাহানা খুঁজছে নুবা।
এদিকে আরহাম উঁকি চুকি মেরে তাকিয়ে রইলো। দুপুর না হতেই আজ সাত সকালে গোসলে ঢুকলো কেনো নুবা।এতে বিরক্ত হলো আরহাম।বুউটাকে একটু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিলো এখনি তার ওয়াশ রুমে যেতে হলো। আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে পায়ের উপর পা তুলে বসে রইলো কখন বেড় হবে।তবে ধৈর্য ধরতে পারলো না সে। এগিয়ে যেয়ে ওয়াশরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে উঁকি ঝুঁকি মারলো।যদি নুবার রহমতে উকি ঝুকি মেরে ভিতরে কিছু দেখা যায়।বলতে গেলে ছ্যাছরামি করতে লাগলো আরহাম।
সময় নিয়ে নুবা গোসল সেরে বেড় হলো। তবে ওয়াশ রুমের দরজা খুলতেই ,দরজার সাথে চেপে থাকা আরহাম হুমড়ি খেয়ে নুবার উপর পড়লো। হঠাৎ এমন হওয়ায় নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো।চোখ বড় বড় করে আরহামের দিকে তাকালো। দুই হাত হাওয়ায় ভেসে গেলো নুবার।কিছুটা চম্কে উঠলো নুবা।
আরহাম কপাল চাপড়ালো।বউয়ের সামনে সব মান ইজ্জত শেষ হয়ে গেলো। নিশ্চয় তাকে ছ্যাছরা ভাববে।তবে আরহাম সুযোগ বুঝে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো নুবার ভেজা কাঁধে।নুবা মৃদু কম্পিত হলো আরহামের স্পর্শে ।পরপর চোখ মুখ খিচে আরহামকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো।
আরহাম বউয়ের ধাক্কা খেয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো পরপর দুই হাত টাওজারের পকেটে গুঁজে দিয়ে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নুবার নিকে নিষ্পাপ দৃষ্টিতে তাকালো।যেনো সে কিছুই জানে না।
নুবা দুই হাত মুঠো বদ্ধ করে সোজা হয়ে আরহামের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হাঁসফাঁস করে বলে উঠল
_”এ,এখানে কি আপনার।কি করছিলেন ওয়াশরুমের দরজার সামনে?”
নুবার প্রশ্নে আরহাম বিব্রত হলো তবু নিজেকে ভদ্র প্রমাণ করতে মাথা ঝুঁকিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে বললো
_”nothing,আমি শুধু এখান দিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছিলাম।তখনি তুমি দরজা খুলে দিলে তারপর,,,তারপর জানোই তো কি হলো?”
নুবা আরহামের কথায় কোমড়ে এক হাত গুজে অন্য হাত দিয়ে আঙ্গুলের ইশারায় বলে উঠলো
_”দেওয়াল ঘেঁষে ঘেঁষে হেঁটে বেড়াচ্ছিলেন যে দরজা খুলতেই হুমড়ি খেয়ে আমার উপর পড়লেন?”
নুবার প্রশ্নের উত্তর আরহাম দিতে চাইলো না।পকেটে হাত গুজে অন্য দিকে যেতে যেতে বললো
_”তোমার কাছে আমি কৈফিয়ত দিবো নাকি। তুমি তোমার কাজ করো।”
নুবা আরহামের কথায় মুখ বাকালো।পরপর ড্রেসিং টেবিলের সামনে এগিয়ে যেয়ে চুল মুছতে লাগলো। এদিকে আরহাম আর চোখে নুবাকে দেখতে ব্যস্ত হলো,যা অবশ্য খেয়াল করলো নুবা তবে কিছুই বললো না।
আরহাম কিছু সময় চেয়ে রইলো তবে এবার নিজেকে আর সামলাতে পারলো না। শুকনো ঢোক গিলে এগিয়ে এসে নুবার পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে কাঁধে মুখ গুজে দিলো। আরহামের হঠাৎ কান্ডে নুবা পিলে চমকে উঠলো ।শরীর ঝিরঝির করে উঠলো তার,নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে কিছুটা কম্পিত কন্ঠে বললো
_”কার যেনো গা গুলিয়ে আসে?আমার শরীর থেকে নাকি ঘামের গন্ধ বেড় হয়? আরো কত কি!”
বেশ টেনে টেনে বললো নুবার। আরহাম নুবার কাঁধে চুমু খেলো পরপর তার ভেজা চুলে হাত বুলিয়ে আদুরে গলায় বলল
_”কে বলেছে এই সব? সব মিথ্যা, হয়তোবা সে বুঝতে না পেরে অভিমান করে বলেছে তবে এগুলো একদমি সত্য কথা নয়?”
নুবা মুখ বাঁকিয়ে তাওয়াল দিয়ে চুল মুছতে মুছতে বলে উঠলো
_”হুম,এখন গোসল করেছি তো, তাই ঘামের গন্ধ বেড় হচ্ছে না।গা পাকিয়ে আসছে না,তাই না।”
_”ধূর ছাড়ো তো ওই সব ফালতু কথা।তখন তো রাগ করে বলে ফেলেছিলাম।”
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে “না না” উচ্চারণ করে আরহামের দিকে ঘুরলো। আরহাম নুবার দুই বাহু চেপে ধরে গলায় মুখ গুজে দিলো।নুবা আরহামের বুকে দুই হাত ঠেলে বেঙ্গ করে বলে উঠললো
_”কে জেনো বললো,আমি বদলে গেছি।এখন আর তাকে ভালোবাসি না।আরো কত কি? এখন আবার এতো দরদ উতলে উতলে পড়ছে কেন,হুম?”
আরহাম এক হাত দিয়ে নুবাকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিলো।পরপর আদুরে কন্ঠে বললো
_”কালকে রাতে যেই অফারটা দিয়েছিলে সেটা কি এখনো আছে জান।আমি না তখন রাগের মাথায় ভালো মতো অফারটুকু বুঝে নিতে পারিনি।এখন কি সেই সুযোগ আছে?”
আরহামের কথায় নুবা মিটমিট করে হাসলো।পরপর মিনমিন করে সুধালো
_”না,একদমি না।ওই অফার রাত পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিলো।রাতে যদি একবার জরিয়ে ধরে বলতো তবু মেনে নেওয়া যেতো।অফারটা হাতছাড়া হতো না তবে এখন আর কোনো রকম অফার দেওয়া হচ্ছে না।”
নুবার বিরবরি করে আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে আদুরে কন্ঠে বললো
_”২০% ছাড় তো দেওয়া যায় sweet honey, I am really sorry নুবু।এখন কি একটু ছাড় দিয়ে অফারটা দেওয়া যাবে?”
নুবা হালকা ছটফট করে উঠলো পরপর মিটমিট করে হেসে উঠে বললো
_”একদমি না,১% ও ছাড় দেওয়া যাবে না।এক অফার বারবার পাওয়া যায় না। একবার হাত ছাড়া হয়ে গেলো আর সেটা ফিরে পাওয়া যায় না তাই আবারো রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।”
নুবার কথায় আরহাম ধৈর্যহারা হলো।আদুরে সুরে সুধালো
_”রাত পর্যন্ত,না না,কোনো ভাবে এখনি যদি,,,! Please আয়রার মাম্মা?”
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠলো পরপর হাসতে হাসতে বললো
_”না,সারা রাত গাল ফুলিয়ে ধৈর্য ধরে থাকতে পারলে,দিনটাও থাকতে পারবেন। এতো সময় কথা না বলার শাস্তি এটা।এবার চুপচাপ যেয়ে নিজের কাজ করুন।”
_”উফ্,আমি ভেবেছিলাম তুমি আমার কাছে আসবে। কারণ আমি রাগ করে ছিলাম তবে উল্টো তুমিই রাগ করে বসে ছিলে।এখন বলো আমি কি করবো?, আমার দোষ,হুম?”
নুবা আরহামের বুকে হাত বুলিয়ে বললো।
_”কারোই দোষ না। এখন চুপচাপ যেয়ে নিজের কাজ করুন।আমি যেয়ে দেখে আসি আরু কি করছে।সকাল থেকে বুকের দুধ খায়নি। ক্ষুধাও লাগতে পারে,সরুন।”
আরহাম তাও সরে গেলো না,নুবাকে দুই হাত দিয়ে জরিয়ে ধরে ঠোঁটে চুমু খেলো পরপর গলায় মুখ গুজে আদুরে গলায় সুধালো
_”ওকে দেখার জন্য বাড়ির সবাই আছে। তোমার ২৪ টা ঘন্টার ভিতরে ২৪ টা ঘন্টায় আরুর জন্য বরাদ্দ থাকে।তবে আজ না হয় ১টা ঘন্টা আমার জন্য রেখে দেও।এখনো তো দুপুর হয়নি যে মেয়ের ক্ষুধা লেগে যাবে।এখন আপাতত আমার ক্ষুধা লেগে লেগে।যা শুধু তুমিই মিটাতে পারবে।”
নুবা আরহামের কথায় কপাল চাপড়ে হাঁসফাঁস করে উঠলো। লজ্জায় গাল লাল হয়ে গেলো নুবার। চাঁপা কন্ঠে বলে উঠলো
_”ছি, কিরকম কথা বার্তা বলেছেন। লজ্জা লাগে না আপনার?”
_”না তো,বউয়ের কাছে কিসের লজ্জা।”
নুবা কিছু বলতে যাবে তখনি দরজায় কড়া নাড়লো হাজেরা।নুবা আর আরহাম দুই জনি চমকে উঠলো কারণ আয়রার কান্না শোনা যাচ্ছে। আরহাম নুবাকে ছেড়ে দিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো।পিছন পিছন নুবাও গেলো।
আরহাম দরজা খুলতেই দেখা মিললো হাজেরা আয়ারকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এদিকে আয়রা চোখ মুখ খিচে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদছে।মেয়ের কান্নায় আরহামের বুকটা ছ্যাত করে উঠলো। তাড়াতাড়ি এগিয়ে যেয়ে আয়রাকে কোলে তুলে নিলো।নুবাও মেয়েকে কাঁদতে দেখে বিচলিত হলো। আরহাম হাজেরার চুপসে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে অস্থির কন্ঠে বললো
_”কি হয়েছে মা?”
হাজেরা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_”ডাইনিং রুমের টি টেবিলের উপর উঠতে যেয়ে করে পড়ে গেছে।”
কথাটুকু শুনে নুবা বেশ চিন্তিত হলো।আয়রাকে আরহামের কোল থেকে নিয়ে বুকে জরিয়ে শান্ত করতে করতে বললো
_”কি হয়েছে মা,বেশি লেগেছে,দেখি কোথায় লেগেছে। অনেক ব্যথা পেয়েছো আম্মু?”
পরপর হাজেরার দিকে তাকিয়ে চিন্তিত কন্ঠে বললো
_”মা তুমি কি একটু দেখে রাখতে পারো না। তুমি না পারলে দিয়ে যেতে । নিশ্চয় বেশ জোরেই ব্যাথা পেয়েছে।”
_”কি দেখবো তোর মেয়েকে।ও উল্টো আমাকে চোখে চোখে রাখে।যেই দেখে আমি একটু অন্য দিকে মনোযোগ দিয়েছে সেই অকাজ করতে দৌড়ে চলে যায়।আমি ওর কান্না থামতে চাচ্ছি,আর ও উল্টো আমার কাঁধে চাপড় মেরে আমাকে থামাচ্ছে।এখন আমার কি দোষ বল?”
নুবা একটু রেগে চিন্তিত কন্ঠে বললো
_”তুমি ওর খেয়ালি রাখতে পারো না মা। কিছু সামনে দিয়ে বসিয়ে রাখবে তা না।কি যে করবো।”
হাজেরা ভুরু কুঁচকে বললো
_”এখন আমার দোষ, সব আমি ইচ্ছে করে করেছি?”
নুবা মেয়েকে ঠান্ডা করতে করতে বলে উঠলো
_”আমি একবারো বলেছি যে তোমার দোষ?
_”তুই তো তাই বলছিস।তা আমি যেহেতু খেয়াল রাখতে পারিই না তবে আমার কাছে দিস কেন।নিজের কাছে রাখলেই তো পারিস।”
_”মা তুমি উজন বুঝছো, শুধু শুধু উল্টাপাল্টা কথা বলো না। যতসব।”
হাজেরা মেয়ের কথায় বেশ কষ্ট পেলো।যেনো সবটা দোষ তার।হাজেরা ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_”থাক বাবা,তোর মেয়েকে আর আমার কাছে দিস না।যে খেলায় রাখতে পারে তার কাছে দিস। আমার কাছে দেওয়ার দরকার নেই।”
নুবা ভুরু কুঁচকে হাজেরার দিকে তাকিয়ে বিরক্তি নিয়ে বললো
_”মা তুমি উজন ঠেলছো কেনো? আমি একবারো এ___
নুবাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে আরহাম ধমকে উঠলো তাকে। কর্কশ কন্ঠে বললো
_”চুপ করো।আয়রা এমনিতেই তুরতুর করে।কত সময় চোখে চোখে রাখা যায়? এখানে আম্মার কোনো দোষ নেই।নিজের ইচ্ছায় ব্যাথা পেয়ে আবার সেরেও যাবে।এক দু আছার না খেলে বড় কি করে হবে?”
নুবা আরহামের দিকে তাকিয়ে কাতর কন্ঠে আমতা আমতা করে বলল
_”কিন্তু আমি তো মা’কে এভাবে বলিনি,আমি,,,”
_”আমি তর্ক করতে না করেছি, তর্ক অফ করে ওকে নিয়ে ভিতরে যাও।”
নুবা আরহামের ধমক খেয়ে মাথা নিচু করে ভিতরে চলে গেলো। আরহাম হাজেরার দিকে তাকিয়ে বেশ শান্ত কন্ঠে বললো
_”মা নুবা আপনাকে এভাবে বলতে চায়নি।আপনি ভুল বুঝবেন না।ছোটো মানুষ তাই হয়তোবা এক ভাবে বলতে যেয়ে অন্য ভাবে বলে ফেলেছে।আপনারা ব্যতিত কে আমার মেয়ের খেলায় রাখবে।নানি দাদিই তো সব থেকে কাছের মানুষ।আশা রাখছি বুঝতে পারছেন।”
আরহামের এরকম শান্ত কন্ঠে হাজেরা হতভম্ব হয়ে গেলো।তার কাছে সব উল্টা পাল্টা মনে হলো। যেনো মনে হচ্ছে সব কেমন এলোমেলো।যেখানে নুবার জায়গায় আরহামের বারতি কথা বলা উচিত ছিলো যেখানে আরহাম কি সুন্দর করে সবটা সামনে নিলো।মনে হলো খুবি বুঝদার সে।তবে আদেও কি তার ব্যক্তিত্বের সাথে এরকম বুঝদার ব্যবহার যায়?হাজেরা কিছু সময় চুপ থেকে আরহামের দিকে তাকিয়ে থেকে বেশ শান্ত কন্ঠে বললো
_”আয়রাকে একটু ফিড করিয়ে দিতে বলো।থেমে যাবে।”
বলেই হাজেরা ধীরো পায়ে সরে আসলো। আরহাম ডোর লক করে নুবার দিকে এগিয়ে যেয়ে দেখলো নুবা আগে থেকেই আয়ারকে ফিড করাচ্ছে তাই তো চুপ হয়ে আছে।
আরহাম এগিয়ে যেয়ে নুবার সামনে বসে বলে উঠলো
_”সময় বেড় করে আম্মার কাছে যেয়ে মাফ চেয়ে নিবে। তোমাকে দিয়ে এরকম ব্যবহার আশা করিনি।”
নুবা আরহামের কথায় থতমত খেয়ে খেলো।আমতা আমতা করে বলল
_”আমি তো শুধু,,,আপনি এভাবে বলছেন কেনো।আমি তো আম্মুকে তেমন কিছুই বলিনি।”
_”তবু উনার খারাপ লেগেছে। বাচ্চারা পড়বে আবার গড়বে।না হলে শক্ত কি করে হবে।”
নুবা অবাক চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে কেমন অবিশ্বাস্য কন্ঠে বললো
_”আপনি সেই মানুষটাই তো যে সামান্য মেয়ের গাল চেপে ধরায় কাউকে ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়েছিলেন।মেয়েকে নিয়ে গাল মন্দ করায় আমাকে পানিতে চুবিয়ে ছিলেন? আদেও কি আপনি,আপনিই তো?”
আরহামের দিকে আঙ্গুল তুলে প্রশ্নটা করলো নুবা। আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে মেয়ের হাত ছুঁয়ে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো কোথাও ব্যাথা পেয়েছে কিনা, অতঃপর বিরবির করে বললো
_”আমি যেমন ছিলাম তেমনি আছি। শুধু পরিস্থিতির সাথে মিলে মিশে আছি।মেয়ে আমার নিজ ইচ্ছায় পড়েছে তাই তেমন মাথা ব্যথা নেই।পড়ুক আবার উঠে দাঁড়াবে তবে কেউ যদি ইচ্ছা করে এই কাজটা করতো ,তাহলে সে হোক না কেনো তোমার মা? তাকেও ছেঁড়ে কথা বলতাম না। আর আমি জানি আমার শশুড়ি এমন কিছুই করবেন না। কিন্তু তোমার ভুল হয়েছে উনার সাথে তেতে উঠে কথা বলা, তাই উনার কাছে মাফ চেয়ে নিবে। next time যাতে এরকম যাতে না হয়।”
নুবা অবাক হয়ে আরহামের দিকে তাকিয়ে রইলো, আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_”আমি চাই না তোমার মা অনুভব করুক যে তুমি আমার সঙ্গ পেয়ে পাল্টে গেছো।আমি চাই সবসময় তুমি তার পাশে থাকো। কারণ তুমি ব্যতিত তার কেউ নেই ,i think you understand নুবা।”
বলেই নুবার দিকে তাকালো। অতঃপর আবারো বলে উঠলো
_”তবে পাশে থাকতে বলেছি দেখে, দুই জন মিলে এমন কোনো কাজ অথবা তোমার মায়ের এরকম কোনো কাজে পাশে থেকো না যে তোমাকে সহ তোমার মাকে ধংস করতে হয়।”
অনেক দিন পর আরহামের আগের রুপ,সাথে আগের কথার টন শুনে নুবা শুকনো ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বললো
_”যদি এমন কোনো কাজ করে ফেলি যা করা উচিত না তখন।”
আরহাম নুবার কথায় হেসে ফেললো পরপর নুবার গালে এক হাত রেখে আঙ্গুল স্লাইড করে বললো
_”i think তুমি অতীতের ঘটনা ভুলে যাওনি।অথবা তুমি চাইবে না আগের ঘটনা গুলো আমি পুর্নঃবিত্তি করি। তাই না নুবু।”
আরহামের চাহনিতে নুবা শুকনো ঢোক গিলে মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৫
_”হ্যাঁ হ্যাঁ,একদমি চাই না।”
আরহাম এগিয়ে যেয়ে নুবার শুকনো ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে মুচকি হাসলো পরপর তাকে ছেড়ে দিয়ে আদুরে গলায় সুধালো
_”আগের মতো আমাকে আর ভয় পাও না জানু but why?”
নুবা জোরপূর্বক,
(কিরে?তোদের খবর
