নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৭
সুরাইয়া জিয়াসমিন
তবে আরহাম গেলো না পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করলো,,নুবাকে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে আর কিছু আন্দাজ করার বাকি রইলো না,,তার নিষ্পাপ মনে ভালো কিছু ঘুরপাক খেলো,,,একটু সাহায্য করার জন্য মনটা উতলা হয়ে উঠলো,,,
আরহাম কোনো কিছু না ভেবে কিছুটা ঝুকে, বেকে দাঁড়িয়ে থাকা নুবাকে কোলে তুলে নিলো,,তার মনে কোনো প্রেম প্রেম ভাব নেই,,আছে শুধু অনুতপ্ততা,,,এই প্রথম তার কোনো কিছু নিয়ে অনেক অনুতপ্ত বোধ হচ্ছে,,,মনে হচ্ছে,, একটিবার ভেবে চিন্তে তার কাজটা করা উচিত ছিলো,,,
আরহাম বরাবর অবাক হয় কারণ সে নুবার এতোটা ক্ষতি করলো কিন্তু মেয়েটা কত সরল সোজা বাচ্চাটার মুখের দিকে তাকিয়ে চুপ রইলো নিজেই এগিয়ে আসলো,,,এই নিয়ে তার অনুতপ্ত বোধ,,,
আরহাম নুবাকে পাঁজা কোলে তুলে নিতেই,,নুবা সহ আমিনা বেগম অবাক হলেন,,সাথে চম্কে উঠলেন,,আমিনা বেগম ছেলের কান্ড দেখে বললেন
_ কি করছিস,,,নিচে নামা ওকে,,
আরহাম নুবাকে নিয়ে সামনের দিকে যেতে যেতে বললো
_ সাহায্য করছি আর নিচে নামানোর কথাই আসে না,,
এদিকে দাঁড়িয়ে থাকা সব নার্স,,আর যারা ভিতরে আছে মানে বাচ্চাদের মারা,,সবাই মিটমিট হাসছে,,,
নুবা পরিস্থিতি বুজে উঠে ছটফট করে উঠলো,,, আরহামের বুকে ধাক্কা দিয়ে বললো
_নামান আমাকে,,
বলেই ভুল করে নিজে ধাক্কা দিয়ে নিজেই ব্যাথা পেলো,,,নুবার রাগে ক্ষোপে রক্ত টকবক করে উঠলো,,একে তো আরহামকে নুবা দেখতেই পারে না কারণ আরাফের মতো দেখতে,,তার উপর এই ঘটনার পর থেকে আরাহামকে দেখলেও তার রাগ হয়,,ঘৃনা হয়,, মানুষ কতটা নির্দয় পাষান হলে এরকম করতে পারে তার জানা নেই,,যেখানে তার দোষি নেই,,,
নুবা ধরা গলায় চেঁচিয়ে উঠে বললো
_নামান আমাকে,,, অসহ্য,,চাচি,,,উনাকে কিছু বলো,,,
আমিনা বেগম পিছু পিছু আসলেন,,সে এখন আরহামের প্রতি বিরক্ত,,কেন যে ছেলেটা কিছু বুঝে না,,সমাজ বলতেই একটা জিনিস আসে,,
আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ সাহায্য করছি,,,
নুবা তেতে উঠলো,,রাগে গজগজ করতে করতে বললো
_ আপনার সাহায্যে দরকার নেই আমার,,আমি একাই যেতে পারি,,
_ চোখের সামনে নেতিয়ে পড়বেন ,, আমার মনে একটু হলেও মানবিকতা আছে
নুবা দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আপনি একটা অমানুষ,,,তার ভিতরে আবার মানবিকতা,,,,গরু মেরে জুতা দান করার মতো মানুষ আপনি,,,
আরহাম এর ঠোঁটের কোনায় কেমন হাসি ফুটে উঠলো,,বিরবরি করে বললো
_ এটাকে,,”জুতা মেরে গরু দান করা বলে” ,,”গরু মেরে করে জুতা দান করা না”
নুবার রাগ হলো এমন সময়ও সঠিক ভুল খুঁজছে,,,নুবা রাগে দুঃখে ব্যথিত হয়ে বললো
_ please আমাকে নামিয়ে দিন,,হাত জোর করছি,,,
আরহাম সামনের দিকে তাকিয়ে বললো
_ একটু সাহায্য করলে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না,,
নুবা আরহামের কোল থেকে নামার চেষ্টা করলো তবে উল্টো সেই ব্যথা পেলো,,নুবা এবার এবার ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ অনেক ক্ষতি হবে,, অনেক,,, আপনি পর পুরুষ হয়ে আমাকে কেন ছুঁবেন,,নামান আমাকে,,চাচি,,,চাচি,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ পরপুরুষ থেকে আপন পুরুষ হতে কত সময়,,,তবে একটু গুনহা হলে ক্ষতি কিসের যদি আপনি স্বস্তি পান,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,এই লোক কি উল্টা পাল্টা বকছে,,,নুবা বুঝতে পারলো”স্বস্তি” মানে এখানে কি বুঝাতে চাইছে,,,
_ কি মিন করছেন আপনি আমাকে,, আমাকে আপনার ওমন মনে হয়,,,ছি,,,
আরহাম শেষ পর্যন্ত এসে করিডোর নুবাকে নামিয়ে দিলো,, একদম বেঞ্চে বসিয়ে দিয়ে নুবার কান ঘেঁষে বললো
_ এই যে কোলে করে নিয়ে আসলাম,,, কষ্ট থেকে স্বস্তি পেয়েছেন তাই না,, হাঁটলে তো আরো কষ্ট হতো,,সেটাই দূর করে দিলাম,,,,
বলেই সরে গেলো সে,,নুবা রাগে সবার সামনেই চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ অসহ্য লাগে আপনাকে আমার,,দেখলে শরীরে কাঁটা দেয়,, আমার থেকে দূরে থাকবেন,,,
পরপর এদিকে এগিয়ে আসা আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে রাগি কন্ঠে বললো
_ তোমার ছেলেকে বুঝিয়ে দিও আমি তার ঘড়ের বউ না যখন তখন যা ইচ্ছা তাই করবে,,,তাকে মনে করিয়ে দিও,সে আমার জন্য পরপুরুষ,,,আইনদা যদি আমার ধারের কাছেও আসে তবে আমি কিন্তু সহ্য করবো না,,,,
বলতে বলতে কেশে উঠলো নুবা,, কারণ বেশি চেচানোর ফলে গলায় চাপ খাচ্ছে তার,,,
এতো সময় হারেজা,,আরশি,, হারুন মির্জা সবি দেখছিলো,,তারাও বেশ বিরক্ত এই বিষয় নিয়ে,,,হাজেরা একটু বেশিই বিরক্ত,,, আরহামকে তার সহ্য হয় না,,কেন জানি আরহামকে দেখলে হাজেরার শরীর কাটা দেয়,,,দিবেই এটাই স্বাভাবিক,,,
নুবা কাঁশতে কাঁশতে দেওয়াল ধরে উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ চলো মা,,,
হাজেরা বিনা বাক্যে এগিয়ে আসলো,,,মেয়ের ডান পাশে দাঁড়িয়ে তার ভালো হাত আঁকড়ে ধরলো,, পরপর করিডোর পার করে তারা লিফ্টের কাছে যেএ হারিয়ে গেলো,,,
আমিনা বেগম রেগে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো
_ তোর জন্য আর কি শুনতে হবে,,, একদিন বলেছি ওই মেয়ের থেকে দূরে থাকবি,,কথা কানে যায় না,,,বুঝিস না তুই নুবা এই সব ভালো ভাবে নেয় না,,,মেয়েটার পিছনে পরে থাকা কি তোর অভ্যাস হয়ে গেছে,,যখন যা ইচ্ছা তাই করিস,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বেঞ্চে বসে বললো
_ আমি শুধু পরিষ্কার মনে সাহায্য করেছি,,ও যদি অন্য mind এ নেয় আমার তো কিছু করার নেই,,,
আরশি ভাই এর দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে বিরবির করে সুধালো,,
_ সবসময় অতিরিক্ত,,,কোনো মেয়েই ফাল দিয়ে বেডা মানুষের কোলে উঠতে চায় না,,,নিজে মেরে এখন নিজেই দরদ দেখাচ্ছে,,,যত সব ফালতু,,,
আরহাম সরু চোখে আরশির দিকে তাকালো,,আরশি ভয় পেলো না,,এবার একটু জোরেই বললো
_ বিনা কারনে মেরেছো না ওকে,,তাই আল্লাহ তোমার মেয়ের উপর দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে,,আরো বেশি বেশি পাপ করো,,,আল্লাহ না করুক আয়রার কিছু হলে তুমিই দাই থাকবে,,,জেদ ধরে বিয়ে করোনি,,এখন জেদের তারনায় পড়ে মেয়েকে অসুস্থ বানালে,,, একবার ভাবলে না যে নুবার কিছু হলে আয়ার পেট ভরবে কে,,,
কথা গুলো বলে আরশি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,
আরহাম আরশির দিকে রুখে যেএ বললো
_সাহস বেশি বেড়েছে তোমার,,,মুখে মুখে কথা বলো হ্যা,,
আরশি ধিরো চোখে ভাই এর দিকে তাকিয়ে বললো
_ মারবে মারো,,,এটাই তো পারো,, উচিত কথা বললে গায়ে লাগে,,,তাই না,, খারাপ হয়ে গেলাম এখন,,,
হারুন মির্জা মেয়েকে ধমকে বলে উঠলেন,,
_ চুপ করো আরশি,,এটা তর্ক কররা সময় না
আরশি রাগে গজগজ করতে করতে গটগট শব্দ তুলে করিডোর ছাড়িয়ে চলে গেলো,,,
আমিনা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো,,,
_হাতটাকে সামাল দিয়ে রাখ,,কোন দিন না আমার গায়েও হাত তুলতে দু বার ভাববি না,,,
আরহাম সরল চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ মা,,,
তার কন্ঠে কাতরতা,, কেমন অদ্ভুত মায়া লাগানো কন্ঠ শুনা যাচ্ছে,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে হ্যাঁ বললো,,,আমিনা বিরবির করে বললো
_ আর কয়দিন পরেই ডিসচার্জ দিয়ে দিবে,,,এই কয়টা দিন একটু কষ্ট কর
আমিনার কথা শুনে নুবা মিষ্টি হাসলো,,,পরপর নিজ মায়ের দিকে এক পলক তাকিয়ে বললো
_ বাসা থেকে ওষুধ গুলো নিয়ে এসো চাচি,,,আয়রার আজ পেট ভরেনি,
আমিনা বেগম অসহায় দৃষ্টিতে নুবার দিকে তাকালো,,পরপর হাজেরার দিকে,,,কিছুটা সময় নিয়ে বললো
_ না মা থাক,, অনেক করেছিস আর না,,,আমি চাই না আমাদের দাঁড়া তোর আর কোনো ক্ষতি হোক,,,
নুবা ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে মুচকি হেসে বললো
_ আয়রার উপর আমার কোনো রাগ বা ক্ষোপ নেই,,থাকবেই বা কি করে,,, বাচ্চাটার কি দোষ,,,
আমিনা বেগম মাথা নিচু করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন,,
তখন রাত ২ টা,,আয়রার কান্নায় ঘুমিয়ে থাকা বাচ্চা গুলো প্রায় উঠে পড়ছে,,, আরহাম মেয়েকে থামাতে পারছে না,,, নার্স পাশে দাঁড়িয়ে বারবার আয়রার মাকে ডাকতে বলছে,,, কারণ বাচ্চার এই সময় তার মাকে প্রয়জন,,, যেহেতু ফিডার মুখে নিতে চাইছে না ওর মাকে ডাকুন,,,
আশে পাশে কিছু মায়েতিরা ছিলো,,যারা এই কাহিনি দেখছিলো,,আরহামের ইচ্ছা হলো কাউকে বলতে একটু আমার মেয়েকে বুকের দুধ দেন,,তবে প্রথম বারের মতো কেমন অদ্ভুত লাগলো তার কাছে,,,
তবু আরহাম নার্সকে যেএ বললো
_ এখানে কাউকে আমার মেয়েকে ফিড করাতে বলো,,,যত টাকা চাইবে দিবো,,,
নার্স থতমত খেএ গেলো,,ভুরু কুঁচকে বললো
_ sir আপনি বললেন তাই ফিডার ভরে এনে দিয়েছি তবে এটা,,,
_ ১ লাক্ষ,,,
টাকার কথা শুনে নার্সের মুখ অফ হয়ে গেলো,, নার্স বিরবির করে বললো
_ আচ্ছা দেখি,,,
পরপর একজন মায়েতি রাজি হয়ে গেলো,, কিন্তু আয়রার কপাল যেনো অনেক খারাপ,, কারণ যাকে ডাকে আনা হয়েছিলো তার জমজ দুই ছেলে সন্তান হয়েছিলো,,,আয়রাকে ফিড করানোর আগে খবর আসলো তার এক সন্তান মারা গেছে,,,তার কি আর পরের সন্তানের কথা মনে থাকে,,,আয়রাকে ফেলে আহাজারি করে উনি চলে গেলো,,,
আরহাম একবার নয় ২ বার নয় কয় একবার চেষ্টা করলো,,কেউ কেউ রাজি হয়,,কেউ হয় না,,রাজি হলে কোনো না কোনো ভাবে অঘটন ঘটে,,,সবাই ফিডার ভরে দিতে চায় কিন্তু কেউ বুকের সাথে আগলে ধরতে চায় না,,, আবার কেউ বলে,,
“আমার নিজেরি সন্তান খেতে পায় না,,ওকে কোথা থেকে দুধ দিবো”
(হসপিলের কাহিনি টুকু একদমি সত্যি,,, ভিন্ন ঘটনার হলেও প্রেক্ষাপটে এক ছিলো,,, আমার পরিবারের ভিতরেই এটা ঘটেছিলো,,তবে আমি জানি না আমি কতটুকু ফুঁটিয়ে তুলতে পেরেছি,,খুবি মর্মান্তিকর ঘটনা,, ইস্)
আরহাম এই সময়টাতে সব থেকে অসহায় অনুভব করে,,,সে অনুভব করে টাকা দিয়ে সব কিছু পাওয়া যায় না,,,ভিতর ভিতরে সবার উপরে রাগে ফাটতে থাকে সে,,,টকবক করে তার শরীরে আগুন জ্বলে,,তবে কিছুই বলে না সে,,
আরহাম না পেরে আয়রাকে নার্সের কাছে দিয়ে বাইরে আসলো,,মেয়েকে আনা যাবে না,,হাতে পায়ে অজস্র জিনিস লাগানো,,,
স্বাস্থ্যবান আয়রা এই ছোট্ট কাঁচের ভিতরে থাকতে পারে না,,,একটু নড়াচড়া করতে পারে না,,,ভালো মতো শুতে পারে না তাও থাকতে হবে তাকে,,আর আয়রার কোলে কোলে থাকা অভ্যাস হয়ে গেছে,,শুইয়ে রাখলে কি তার শান্তি লাগবে,,
আরহাম বাইরে এসে দেখলো আমিনা বাইরেই বসে আছে,,,থাকার জন্য আলাদা কেবিন নেওয়া হয়েছে তবু তারা এখানে,,তবে হারুন মির্জা যেএ হসপিলের বেডে একটু গা নুইয়ে দিয়েছেন,,,,আরশি নুবাদের সাথে আছে,,,
আরহাম বাইরে এসে তার ক্লান্ত মায়ের দিকে তাকালো বিরবির করে বললো,,,
_ আয়রা খেতে চাইছে না,,, কান্না করছে,,কি করবো,,,
আমিনা বেগম একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলেন,,,ছেলের কথা শুনে তার দিকে ফিরে তাকিয়ে বললেন
_ আমি কি করবো,,
আরহামের দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ নুবাকে যদি,,,
বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই আমিনা বেগম রেগে উঠলেন আর বললেন
_ মেয়েটা নিজেই দুর্বল,,এখন এই অর্ধ রাতে এখানে আসবে,,ওর খেএ দেয়ে কাজ নেই নাকি,,,
আরহাম কিছু বলতে যাবে তার আগেই খালি করিডোরের দেওয়ালে ভর দিয়ে আসতে দেখা গেলো নুবাকে,,,
দুইজনি বেশ অবাক হলো,,আমিনি ব্যস্ত পায়ে নুবার কাছে যেএ বললো
_ এখানে কি করছিস,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ ঘুম আসছিলো না,, doctor বলেছিলো একটু হাঁটতে,,তাই ভাবলাম একটু এখানে আসি,,,আর লিফ্ট দিয়ে এসেছি,,ওতো হাটিনি,,,
_ কাউকে বলে আসিসনি,, অন্ততপক্ষে কাউকে সাথে রাখা উচিত ছিলো,,,যদি পড়ে টরে যাস,,তবে
নুবা একটু হেসে বললো
_ আম্মু আর আরশি আপু ঘুমাচ্ছে,,তাই কাউকে ডাকিনি,,আর এখন অনেকটাই হাঁটতে পারি,,,,
ডাহা মিথ্যা করা বললো নুবা,,,৩ কদম ফেললেই তার শরীর নুইয়ে আসে আর চলে না,,,তবে তার কেন জানি অস্থির লাগছিলো,,,মন চাচ্ছিলো একটু আয়ারাকে দেখে আসতে তাই কোনো মতে চলে এসেছে,,,
আমিনা বেগম নুবার ডান হাত ধরে এনে বেঞ্চে বসিয়ে বললো
_ আসছিস যখন বসে থাক,,
_তোমরা ঘুমাওনি,,আর চাচা কোথায়
_ উনি ঘুমাচ্ছে,,,আয়রা কখন কেঁদে কুটে উঠে তাই বসে আছি,,,
নুবা একবার সব দিকে তাকালো,, আমিনা বেগম চুপ রইলেন,,কোনো মুখ নেই নুবাকে কিছু বলার,,,আমিনা বেগম কে এরকম শান্ত আর নীরব দেখে নুবার মনটা খচ করে উঠলো,,,
আরহাম এবার ধৈর্য না ধরতে পেরে বললো
_ আয়রা কান্না করছে নুবু,,,একটু যদি___
নুবা চোখ তুলে আরহামের দিকে তাকাতেই আরহাম কেন জানি চুপ হয়ে গেলো,,, কিন্তু তার চরিত্রে চুপ হয়ে যাওয়া,, অনুতপ্ত বোধ করা কিছুই যায় না,,তবে তার বিহেবিয়ারে পরিবর্তন ঘটলো,,,নুবাকে কিছু বলতে যেএ মুখে আটকে গেলো তার,,,পরপর মনে হলো নুবার পায়ে পরে যাবে,,, কিন্তু তার আগেই নুবা উঠে দাঁড়িয়ে ওদিকে যেতে শুরু করলো,,,আমিনা বেগম পিছন পিছন গেলো তবে আরহাম ঠাই দাঁড়িয়ে রইলো,,,
নুবা আয়ারর গালে চুমু খেএ বললো
_ একদিনেই এতো শুকিয়ে গেছেন হুম,,,
আয়রা ফিড করতে করতে নুবার দিকে চোখ তুলে তাকায়,,নুবার বুকে এক রাশ শান্তি এসে ভর করে,,,
আরহাম দূরে দাঁড়িয়ে সব দেখে,,,আর সব হিসাব মিলায় সে,,,এতো টাকা এতো নাম দাম দিয়ে কি হবে যদি সময়ের সময় কাজে না লাগানো যায়,,, মানুষকি ঠিকি বলে টাকা দিয়ে সব কেনা যায় না,,,
আজ আয়রা কিছু সময় পড়েই নুবাকে ছেড়ে দিলো,,নুবা একটু অবাক হলো,,এতো তাড়াতাড়ি পেট ভরে গেছে,,তবে আয়রা অন্য কিছুই চাইলো,,,নুবার দিকে তাকিয়ে সরু চোখ করে,, ঠোঁট দুটো গোল করে উ,,আ,,, উচ্চারণ করলো,,যেনো তার সাথে খেলতে বলছে,,,নুবা কিভাবে জানি আয়রার কথা বুঝে গেলো,,বিরবির করে বললো
_ এখন খাওয়া রেখে খেলতে হবে পঁচা মেয়ে,,,আয়রা বাবু একটু দুষ্টুমি করতে চায়,,, একটু খেলতে হবে আপনার সাথে,,
নুবা হাসতে হাসতে আদুরে কন্ঠে কথা গুলো বলে আয়রা পেটে সুরসুরি দেয়,,,আয়রা হাত পা নাড়িয়ে হাসে,,মুখ দিয়ে শব্দ করে,,প্রায় টানা ৩০ ঘন্টা পর মেয়ের মুখে হাসি দেখে আরহাম এর মন জুরিয়ে আসে,,
আমিনা বেগমের চোখের কোনায় পানি জমে,,সময় হয়ে গেলে তাদের বেড় করতে চায় নার্সরা তবে আরহাম সবাইকে বলে আরো কিছু সময় নেয়,,আরহামের মুখের উপর কেউ কিছু বলতে পারে না,, কারণ ইতিমধ্যেই জেনে গেছে উনারা করা,, মির্জা পরিবার,,, হারুন শাহরিয়ার মির্জার বড় ছেলে,,,কথা অমান্য করলে চাকরি থেকে হাত ধুতে হবে,,,
নুবা আয়রা তারে জড়ানো শরীর টা ছুঁয়ে বলে,,
_ আন্টি তোমাক অনেক মিস করেছে আরু,, অনেক,,,ও ho নামটা সুন্দর না আরু,, তোমার পছন্দ হয়েছে,,,বলো বলো পছন্দ হয়েছে,,
আয়রা খিলখিল করে হাসছে নুবাও হাসে,সাথে আমিনাও,, এদিকে বেশি কথা বলার ফলে নুবার গলা শুকিয়ে কাশি হয় হালকা কারণ গলায় চাপ খাওয়ার কারনে এখনো সমস্যা হয় তার,, হয়তোবা এতো তাড়াতাড়ি এটা সারবে না,,
কেটে আরো একটা দিন,,একটা রাত,,আয়রাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে,,,৪৮থেকে ৫৫ ঘন্টার ভিতরে আয়রা অনেকটা সুস্থ হয়ে গেছে,,,তবু হসপিটালে রাখা উত্তম ,, কারণ এখনো আয়রা অনেটা দুর্বল হয়,,জ্বরজ্বর ভাব,,এই জ্বর ভালো না,, আবার কখন কি হয়ে যায়,,তাই রাখা হয়েছে,,
তার থেকে বড় কথা,,বড়লোক মানুষ,,, ইচ্ছা করলেই doctor রা বিশাল মাপের একটা একাউন্ট হাতিয়ে নিতে পারবে যার কারনে রাখা হয়েছে,,তারা হসপিটালে যত থাকবে তত লাভ,,
হারুন মির্জা বা আরহাম কেউ এই বিষয়ে না করেনি কারণ নুবা হসপিটালে,,,
তখন প্রায় দুপুর,,নুবা যথেষ্ট সুস্থ,,মুখে মৃদু হাসি ফুটেছে তার,,আরশির কথা শুনে সে হাসছে,,,হাজেরা এখানেই আছে,,আমিনা নাতিন কাছে,,,
আরশি হাসতে হাসতে বললো
_ আয় ৪ তলায় যাই,,,আয়রাকে দেখে আসি,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ গেলে চলো,,,
হাজেরা মাঝখান থেকে কথা কেটে বললো
_ ওর ক্ষুধা লাগছে তোর চাচি নিয়ে আবসে বলেছে,, যাওয়ার কি দরকার,,,
নুবা বেড থেকে নামতে নামতে বললো,,
_ শুয়ে থাকতে থাকতে শরীরে জং পড়েছে মা,,একটু যেএ আসি,,মনটা আনচান করছে,,,
তবে সব থেকে বড় সমস্যা আরহাম,,হারেজা চায় না তার মেয়ে ওই মানুষ টার মুখোমুখি হোক,,তবু না করতে পারলো না হজেরা,, দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ চল আমিও যাই,,,
কেবিনে প্রবেশ করতে দেখা গেলো,,বড় বেডে আয়রা শুয়ে আছে,,হাতে স্যালাইন লাগানো,,,আমিনা বেগম সবাইকে দেখে অবাক হয়ে বললো
_ এই দুপুর বেলা সবাই এখানে যে,,
নুবা এগিয়ে এসে বললো
_ তোমার নাতনি কি করছে দেখতে এলাম,,,
_ আয়,,ভিতরে এসে বস,,,
নুবা আশে পাশে তাকালো,, হয়তোবা আরহাম আছে কিনা দেখলো,,,
পরপর নুবা আয়ার কিছে এগিয়ে যেএ বললো
_ আম্মু,, ঘুমাচ্ছেন,,,
নুবার কন্ঠ শুনেই আয়রা ঠোঁট ফুলালো,,,চোখ টিপটিপ করে তাকালো,,নুবা এক গাল হাসলো,,,আয়রার পাশে জায়গা করে শুয়ে পড়লো,, হেঁটে এসে তার শরীর কুলাচ্ছে না,,,
নুবাকে পেয়ে আয়রা নুবার বুকে বিচরন করলো,, নুবা আয়ার গালে চুমু খেএ বললো
_ আমাকে দেখেই ক্ষুধা লেগে গেছে পঁচা মেয়ে,,এতো সময় তো ঘুমাচ্ছিলেন হুম,,
বলতে বলতে নুবা আয়ারকে ফিড করাতে লাগলো,, এদিকে আমিনা হাজেরার সাথে কিছু আলাপ আলোচনা করতে লাগলো,,আরশি নুবার পাশে চেয়ার টেনে বসে দুই জনকে দেখতে লাগলো,,,
মিনিট খানিক পর আরহাম ওয়াশরুম থেকে বেড় হলো,,,পড়নে টাওজার,,আর গেঞ্জি,,চুল ভিজা,, নিশ্চিয় গোসল করেছে,, কেবিনটা একটা রুমের মতো,,,দুটো বেড,,একটা সোফা,,,সাথে চেয়ার,, খাবার রাখার জন্য দুটো টেবিল,,, ওয়াশ রুম সবি আছে,, কাপড় আর প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার জন্য একটা ছোট্ট কাঠের রেক দেওয়া,,, বারান্দাও আছে,,বেশ বড়সর কেবিন,,,হবে না কেনো টাকাটাও তো বড়সড়ো,,,
আরহাম ওরাশরুম থেকে বেড় হয়ে সবাইকে দেখে একটু অবাক হলো,,,পরপর নুবাকে মেয়ের সাথে গল্প করতে দেখে মনটা কেমন শান্ত হয়ে গেলো তার,,,তবে নুবার পিঠ ব্যতিত তার ছোট্ট বিচ্ছু মেয়েটাকে দেখতে পারছে না সে,,,
আরহাম কোনো কথা বললো না,, চুপচাপ যেএ একা পাশে বসে পড়লো,,,এর ভিতরে এই কেবিনেই দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ হলো,,,,
রাত ১০ টা নাগাত,,,আরশি এক রাশ বিরক্তি নিয়ে আরহামকে কল করলো,,,, ভাগ্যিস আরহামের নাম্বার টা তার মায়ের কাছ থেকে রেখেছিলো,,,
৩ বার রিং হতেই আরহাম কল রিসিভ করলো,,,আরশি কাশি দিয়ে সালাম দিলো,,,
আরহাম বিরক্তি নিয়ে বললো
_ কে,,,
আরশি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আমি আরশি,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ কি হয়েছে কল করেছো কেন,,
আরশি মুখ বাঁকিয়ে বিরবির করে আরহামকে কিছু গালি দিলো পরপর বললো
_ আমরা দু তলায় এসে ফেসে গেছি,,,দুটোর একটা লিফ্ট কাজ করছে না,, সার্ভিস চলছে,,,তাই ছিরি দিয়ে আসছিলাম,,সাথে নুবাও আছে,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ দক্ষিন পাশেও দুটো লিফ্ট আছে,,,
আরশি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আমরা জানতাম না আর,,এখন যেতেও পারবো না,,২ তলায় এসে গেছি,,নুবা সিরেতে হোঁচট খেএ পড়ে প্রায় শুয়ে পড়েছে আর হাঁটতে পারছে না,, আম্মুকে নিচে পাঠাও,,,
আরশি আর নুবা আয়ারা কাছে আসছিলো,,, কারণ আরশির মনে হচ্ছিলো রাত হয়েছে অবশ্যই আয়রার ক্ষুদা লেগেছে,,তার উপর হাজেরাও ঘুমিয়ে গেছিলো তাই দুই জন মিলে আসছিলো তবে এই কান্ড ঘটে গেলো,,, অবশ্য আমিনা বলেছিলো আয়রা কান্না করলে নিচে নিয়ে আসবে,, তবে বাচ্চাটাকে এই স্যালাইন সহ টেনে আনলে নিশ্চয়ই বাচ্চাটার কষ্ট হবে তাই নুবা চাইলো সেই যেএ আয়ারকে সাহায্য করুক,, কিন্তু হলো উল্টটা
কিছু সময় পর আরহাম ২ তলায় সিরির কাছে আসলো,,এসে দেখলো নুবা দেওয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে,,পাশে আরশি বসা,,,
আরহাম এসে মৃদু কাশি দিলো,,,নুবা পিছন ঘুরে তাকাতেই আরহামকে দেখে এক রাশ রাগ নিয়ে বললো
_ চাচি কোথায়
আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ আম্মু ঘুমাচ্ছে,,তাই ডাকিনি,,
নুবার রাগে শরীর কিলবিল করে উঠলো,,,আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
_ আমি এখানে বসছি আপু,, তুমি যেএ আমার আম্মুকে ডেকে আনো,,,আগেই বলেছিলাম তোমাকে যেতে,
_ তুই একা থাকবি তাই তো,,,
_ এখন যাও,,, তাড়াতাড়ি আসবা,,,
আরশি এক প্রকার ছুটে গেলো,, আরহাম বসে থাকা নুবার দিকে তাকিয়ে রইলো,,,পরপর তার পাশে বসে বিরবির করে বললো
_ রাগ হচ্ছে তাই না,, আমাকে দেখেই শরীর জ্বলছে,, ইচ্ছা করছে আমার শরীর কেটে লবণ লাগাতে,,,তাই না,,,
নুবা অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে চুপ রইলো,, আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ তুমি এতো ভালো না হলেও পারতে,,এতো কিছুর পড়েও আমার মেয়ের কথা না ভাববলেও পারতে,,,দেখা গেলো এই ভালো দিকটা তোমার ভবিষ্যতের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো ,,,যা না চাইলে সেটাই হয়ে গেলো,,,
নুবা রাগি চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে এক গাদা থুথু সিরির কোনায় ফেলে বললো
_ আপনাকে দেখলেও গা গুলিয়ে আসে আমার,,, আমার ইচ্ছা হয় কি জানেন,,,কোনো এক গাছের মগ ডালে আপনার দুই হাত বেঁধে ঝুলিয়ে গুনে গুনে আঘাত করি,,,এই যে চেহারায় দুটো কাটা দাগ না এই দুটো থেকে ৪ টা করে দি,,যা আপনি আমাকে দিয়েছেন তার থেকে ১০ গুন ফিরিয়ে দি,,,তবে যদি আমার রাগ একটু কমে,,,তখন বুঝবেন শরীরে কেউ বিনা কারনে আঘাত করলে কেমন লাগে,,,
আরহাম শব্দ করে হেসে সময় নিয়ে বললো
_ তাই নাকি,,মার খাওয়ার পর দেখি ভীতুনেসটা দুর হয়ে গেছে,,আগে চোখের দিকে তাকালে ভয় দেখতাম এখন শুধু ক্ষোপ দেখি,,তা যাই হোক,,আর তোমাকে কে বলেছে আমার শরীরে কখনো আঘাত লাগেনি,,, আমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত এমন কোনো স্থান নেই যে যেখানে আঘাত লাগেনি,,,সময়ের পরিবর্তনে আঘাত গুলো ভরপুর হয়ে গেছে,,,
নুবা রাগে ফুঁসতে লাগলো,,, আরহাম নুবাকে গজগজ করতে দেখে আর একটু হেসে বললো
_ আচ্ছা ধরো তোমার এখন ৮/৯ অথবা ১০ বছর ,,,কেউ তোমার হাত পা বেঁধে ইচ্ছা মতো শুকনো কাঠ দিয়ে তোমার পায়ের নিচে পিটালো,,,,জ্বলতে থাকা লোহার গড়ম সিক তোমার শরীরে চেপে ধরলো,,,হাতের নক গুলো উপড়ে ফেললো,,,সরু চিকনো অস্ত্র দিয়ে তোমার শরীর থেকে চামড়া ছিলে নেওয়া হলো,,, সুন্দর মুখ টাকে বিকৃত করে দিতে কেটে দেওয়া হলো,,,, উলঙ্গ করে শরীরটাকে বরফের আবরনে রাখা হলো,,, মাংস কেটে শরীরে লবন আর মরিচের গুঁড়া ডলে দেওয়া হলো,,,কেমন লাগবে তোমার,,,That feeling was so terrible.,, তোমার কি মনে হয় ওই মানুষ টা বেঁচে থাকবে,,,
আরামের কথা শুনে নুবার শরীর শিরশির করে উঠলো,,,মনে হলো শরীরের শিরা গুলো কেমন নড়েচড়ে উঠলো,,,নুবা অদ্ভুত দৃষ্টিতে আরহামের দিকে তাকালো,,, আরহাম সিরিতে দুই হাত রেখে পিছন দিকে ঝুঁকে বললো
_ আশ্চর্য জনক ভাবে মানুষ টা বেঁচে আছে,, এবং তোমার সমানে,,,আর তুমি তাকেই আঘাতের ভয় দেখাচ্ছো,, how funny,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বিরবির করে বললো
_ এই গুলো আপনি আমাকে বলছেন কেন,,,
_ না মানে তুমি বললেন না,,”শরীরে আঘাত করলে কেমন লাগে” বোঝার জন্য,,,,দেশে থাকাকালীন প্রত্যেকটা মূহুর্ত আমার জন্য নরকিও ছিলো,,,নিজ আত্মীয় স্বজনরাই কেমন জানি রুপ বদলে ফেলে,,,লোভ এমন একটা জিনিস,,, কখনো কখনো জন্মদাতা পিতাও স্বার্থপর হয়ে যায়,,, আসলে তুমি যা ভাবতেও পারোনা তা আমি দেখেছি,,শুনেছি,, সহ্য করেছি,,,
নুবা চুপ করে রইলো,,,আর মনে মনে ভাবলো এই লোকটাই হঠাৎ তার সাথে এতো আলাপ করছে কেন,,যেখানে কথা বলতে এর মুখ ব্যাথা করে,,,
নুবাকে চুপ থাকতে দেখে আরহাম একটু ঝুঁকে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ যান আপনার ইচ্ছা পূর্ন হলো,,,,অতী শিঘ্রই চোখের তৃপ্তি,,মনের শান্তি পাবেন,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে আরহামের দিকে তাকিয়ে ঝাঁঝালো কন্ঠে বললো
_ আর কিছু সময় আপনার সাথে কথা বললে এক গাদা থুথু যেএ আপনার মুখে পড়বে,,,আপনি মানুষকে সম্মান করতে জানেন না,,, আপনার থেকে একটা পশুও ভালো যাকে দুটো কথা বললে অন্ততপক্ষে ২ মিনিটের জন্য স্থির হয়,,,আর আপনাকে এই নুবা মোটেও ভয় পায় না,,,,অতী শিঘ্রই আমারা চলে যাবো তখন আমাদের দেখাও হবে না আর ভয় পাওয়ার কথাই আসে না,,,
আরহাম নুবার কথা শুনে মৃদু হেসে কন্ঠ টেনে বললো
_ oh তাই নাকি,,, আচ্ছা আপনি কি জানেন আপনার জায়গা আজ অন্য মানুষ এরকম উঁচু গলায়,,,bad Ward ব্যবহার করে আমার সাথে কথা বললে তার সাথে আমি কি করতাম,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে ভাঙ্গা শব্দে বললো
_ কি,,,কি ক,,,করতেন,,,,মারতেনি তো,, পারেনি এটা,,,
আরহাম কিছু সময় চুপ থেকে নুবাকে পর্যবেক্ষণ করে বিরবির করে বললো
_যেই মুখ দিয়ে তর্ক করছে সেই মুখটা আগে ভাংতাম,,যেই চোখ গুলো আমার দিকে গড়ম দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে সেগুলো উপড়ে ফেলতাম,,,যেই কন্ঠ নালি দিয়ে শব্দ করছে তা পিষে দিতাম,,তার পর হাত পা বেঁধে কোনো এক রুমে ফেলে রাখতাম,, এবার আল্লাহর উপর ডিপেন্ড করে সে কয়দিন বেঁচে থাকবে,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৬
নুবা শকুনো ঢোক গিললো,,, আরহামের চাহনি তার ঠিক লাগলো না,, কেমন অদ্ভুত ভাবে শয়তানের মতো তাকিয়ে আছে,মাথার তার ছিরা লোক,,সাইকো কোথাকার,,,,নুবা নিজেকে গুটিয়ে নিলো,,,শুকনো ঢোক গিলে উঠে দাঁড়ালো,,,তার ধান্দা দৌড় দিবে,,,তবে সে ভুলে গেছিলো তার পা মচকে গেছে,,
উঠে দাড়িয়ে পা ফেলতেই নুবা নাক মুখ উল্টে পড়তে নিলো,,তবে পড়তে পড়তে বাঁচার জন্য ঠিক পড়ার আগ মুহূর্তে বসে থাকা আরহামের শার্ট হাত লাম্বা করে ধরার চেষ্টা করলো,,আরহামো বেশ বেখেয়ালি ছিলো,,,তাই নুবার টানে _
