নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫১
সুরাইয়া জিয়াসমিন
নুবা বুঝতে পারলো এটা জানার জন্যই এতো অত্যাচার সে একবার সামনে একবার পাশে তাকালো,,, ট্রাক টা যদি একটু স্পিড কমিয়ে দেয় তবে এখনি এক্সিডেন্ট হয়ে যাবে কিন্তু এদিক দিয়ে আরহাম আরো গাড়ির স্পিড বাড়ালো,,,
নুবা মুখে হাত চেপে কম্পিত কন্ঠে বললো
_ তৌসিফ,, তৌসিফ,,প্রতিবেশি ছিলো,,,প্রতিবেশীইইইইইইই
(নুবার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো তারা ট্রাকের অতী নিকটে,,সে চোখ মুখ খিচে আল্লাহর নাম নিলো,,আজ তাদের জানাজা হবে,,নুবা চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে গাড়ির সিট চেপে ধরলো,,, শেষ তারা,, শেষ)
কিন্তু ঠিক তখনি ট্রাকে ধাক্কা লাগার নেনেনো সেকেন্ড আগ মূহুর্তে আরহাম গাড়ি ডান দিকে সরিয়ে ফেললো,,,গাড়ির স্পিডো বেশ কোমে গেলো,,,
কিছু সময় যাওয়ার পড়েও কিছু হয়নি দেখে নুবা পিটপিট করে তাকালো,,, সবকিছু স্বাভাবিক আছে দেখে প্রান ভরে নিঃশ্বাস নিলো সে,,,
আরহাম স্বাভাবিক মাত্রায় গাড়ি চালাতে চালতে বললো,,,
_ শুধুই প্রতিবেশী নাকি অন্য কিছু,,,
আরহামের কথার টোন ধরতে পেরে নুবা বুকে হাত দিয়ে নিশ্বাস ফেলে বললো
_ আপনি জেনে কি,,,,,
কথা শেষ হওয়ার আগেই গাড়ির স্পিড বাড়লো,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো দুই হাত উঁচু করে বললো
_ বলছি বলছি,,, আস্তে আস্তে please,,আমি এতো তাড়াতাড়ি মরতে চাই না,,,,
আরহাম গাড়ির স্পিড কমালো,,নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ আপনি বড় ভাই হিসাবে জানতেই পারেন তাই না,,,ওই আরকি বন্ধু ছিলাম আমরা,,, এতটুকুই,,মা কসম,,,
(কথা টুকু বলে চোখ ছোটো ছোটো করে হাসলো নুবা)
আরহাম বিচলিত হলো না,,তবে ভিতরে ভিতরে ঈর্ষা হলো তার,,,
পরি বই খুলতে খুলতে বললো
_ পরিক্ষা কেমন হয়েছে তোমার,,
নুবা হাম তুলে বললো
_ ভালোই,,,
পরি মুচকি হেসে বললো
_ তবে তো ভালোই,, আল্লাহ আল্লাহ করে সব পরিক্ষা ভালো মতো গেলেই হলো
_হুম,,,
_ তুমি বড্ড ভালো পড়াও পরি,,নুবার পরিক্ষা ভালো হয়েছে,,,
পরি হেসে হাত কচলে বললো
_ ওই আরকি একটু চেষ্টা করি আন্টি,,,
_ তা বিয়ে শাদির ব্যাপারে কি খেলায়,,না মানে বয়স তো হয়েছে তাই না,,
পরি একটু লজ্জা পেয়ে বললো
_ এটা আমার হাতে না আন্টি আম্মু আব্বু যা বলে আরকি,,
আমিনা বেগম এক গাল হেসে বললেন
_ মা বাবার লক্ষী মেয়ে তাই তো,,
_ কিছুটা এমনি
পরির মুখে মিষ্টি হাসি বরাবরই আমিনা বেগমকে খুশি করে তুলে,,,
পরি কোলে থাকা আয়রার দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনার নাতনি অনেক দুষ্ট আন্টি,,, শুধু আমার চুল ধরে টানে,,,
আমিনা বেগম হেসে কিছু বালার আগে নুবা ডাইনিং রুমে গ্লাসে পানি ঢালতে ঢালতে বললো
_ আপনার চুল গুলো বড্ড সুন্দর তো মেম তাই হয়তোবা পছন্দ করে,,,
আমিনা বেগম সাথে তাল মিলিয়ে বললো
_হ্যাঁ হ্যাঁ তাই তো,,,
নুবা শব্দ করে ডাইনিং টেবিলে পানির গ্লাস রেখে দূরে বসে থাকা আয়রার দিকে এক পলক তাকিয়ে মুখ বাঁকিয়ে বিরবির করে বললো
_ নতুন মায়ের সবি ভালো লাগবে,,,বাপের মতো লুচু ছ্যে,,,
তৌসিফ মেসেজ করেছে “পরবর্তী পরীক্ষার পর দাঁড়িও,,রিকশা বিলটা আমি দিবো”
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে উত্তর দিলো
“চেষ্টা করবো”
এখানেই তাদের কথা শেষ হলো,,পরপর নুবা পড়ার টেবিলে বসলো,,,
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নুবার পরীক্ষা চলছে। চারটি পরীক্ষাও ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। সব পরীক্ষাই মোটামুটি ভালো হয়েছে বলে তার মনে স্বস্তি কাজ করছে। তবে মাঝখানে কয়েক দিনের বিরতি থাকায় পরীক্ষা শেষ হতে বেশ সময় লাগছে। আকাশে-বাতাসে যেন এখনও পরীক্ষার আমেজ ভেসে বেড়াচ্ছে, সকাল হলেই বই-খাতা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সে ,,রাত জেগে থেকে পড়ে,,, পরীক্ষার মাঝখানে বিরতি দেওয়ায় ভালোই হয়েছে কারণ পরীক্ষার আগের রাতে পড়ে পাশ করা স্টুডেন্ট হলো নুবা,,,তবে নুবা শেষ কয়েকটি পরীক্ষার জন্য মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন তার অপেক্ষা শুধু সব পরীক্ষা শেষ হওয়ার দিনের,,কবে শেষ হবে আর কবে সে এই সব থেকে মুক্তি পাবে,,,
এদিকে ৪ দিনের ভিতরে ৩ দিনি আরহাম নুবাকে কলেজে দিয়ে এসেছে,,,এতে নুবা আপত্তি করেনি কারণ লোকটা খুবি জেন্টাল ব্যবহার করেছে,,তার উপর আয়রা কোলে থাকায় নুবা পরিক্ষার কেন্দ্রে ঢুকা পর্যন্ত শান্তি অনুভব করেছে,,,,
তৌসিফের সাথে দেখা হয়নি আর,,বেচারার রিকশার বিল আর দেওয়া হলো না,, কারণ সময় মতো নুবাকে বাড়ি ফিরতে হয়,,গাড়ি যেএ দিয়ে আসে নিয়ে আসে কিছু বলতেও পারে না বেচারি,,আর আরহাম থাকলে আরো আগে না,,তবে সে একটু অবাক এই লোকটা তাকে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কেন,, আশ্চর্যের ব্যাপার,,,তবে নুবা ভাবলো সেই ঘটনার পর হয়তোবা আরহাম সুধরে গেছে,, একটু অনুতপ্ত সে তাই এই সব করছে,,,
নুবা পরিক্ষার হল থেকে বেড় হয়ে আশে পাশে তাকিয়ে দেখলো গাড়ি কিছুটা দূরেই দাঁড়িয়ে আছে,,নুবা এগিয়ে যেএ দেখলো ড্রাইভার এসেছে,,নুবার মনটা খচ করে উঠলো,, আরহাম আসেনি,,,নুবা শুকনো ঢোক গিলে অনুমান করলো হয়তোবা আয়রা আসেনি তার আন্টিকে নিতে তাই হয়তোবা তার আন্টি উরফে নুবার খারাপ লাগছে,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে গাড়িতে উঠে বসলো,,,
বাসায় ফিরেই দেখলো পরি চলে এসেছে এখনি পড়াতে,,, ইদানিং একটু আগেই আসে,,,নুবা আরো খেলায় করলো প্রত্যেকদিনের মতো আমিনা বেগম পরির সাথে বসে আছে,,সাথে আরহাম আর আয়ার,,,আরশি বাইরে গেছে কাল পরশু আরাফ আর ইশিতা ফিরবে তাই বাড়িতে নীরবতা,,
নুবাকে দেখে আমিনা বেগম শান্ত কন্ঠে বললেন
_ কিরে পরিক্ষা কেমন হলো,,,
আরহাম নুবা এসেছে দেখে পিছন ফিরে তাকালো তবে নুবা কারো দিকে না তাকিয়ে যেতে যেতে সোজা কন্ঠে বললো
_ ভালো,,,
আমিনা বেগম উঠে দাড়িয়ে বললো
_ আচ্ছা উঠো,,দুপুরের রান্না হয়ে গেছে নুবাও চলে এসছে,,সবাই এক সাথে লাঞ্চ সেরে নি,,,
পরি ইতস্তত বোধ করে বললো
_ আমি খেএ এসেছি আন্টি,,,
আমিনা পরির হাত ধরে বললো
_ আরে উঠো তো,,খেএ এসেছো তাই কি হয়েছে আর একটু খাও,,জানো তো হাজেরা অনেক সুন্দর করে রান্না করে,,খেলে খেতেই ইচ্ছা করবে,,,
আরশি চুপচাপ বসে আছে রিহান গত ৩০ মিনিট ধরে তার কোলের ভিতরে শুয়ে ঘুমাচ্ছে,,কার নাকি তার ঘুম হয়নি,,,আরশি কপালে হাত দিয়ে ফোঁস ফোঁস করছে,,দেখা করতে আসাই ঠিক হয়নি,,,দু দন্ড কথা বলবে কি তা না শুয়ে শুয়ে ঘুমাচ্ছে,,
আরশি বিরক্তি নিয়ে বললো
_ দুপুর হয়ে গেছে,,আমি গেলাম,,সেই সকালে আসছি,,
রিহান আরশিকে চেপে ধরে বললো
_ উফ্,,এভাবেই থাকো ভালো লাগছে,,
আরশি ফিসফিস করে বললো
_ অসভ্য হাতটাকে সরান,,কোথায় কোথায় দিচ্ছেন,,
রিহান দুষ্টু হেসে বললো
_ আমার হাত,, আমার সম্পত্তি,,আমি যেখানে ইচ্ছা সেখানে দিবো তাতে তোমার কি,,,
আরশি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আচ্ছা অনেক হয়েছে,,এবার আমাকে যেতে দিন,,,,
রিহান ভুরু কুঁচকে বললো
_ এতো সময় বাবার সাথে থাকার কথা ছিলো আমার,,তা না করে আমি তোমার সাথে এসে বসে আছি,,সকাল থেকে ১০০ একটা জায়গা ঘুরিয়ে ফেলেছি তোমাকে,,কত কিছু খাওয়ালাম আর এখন আপনি আমার জন্য এক দন্ড বসে থাকতে পারছেন না,, আমার শান্তি আপনার সহ্য হয় না তাই না,,,
আরশি মুচকি হেসে রিহানের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
_ উফ্,, আচ্ছা ঘুমান,,,তাও পকপক করবেন না,, শুধু হলে এই রেডিও অফ করা মুশকিল,,,
নুবা মাত্র গোসল করে বেড় হলো,,ভেজা চুলে জামা ভিজে একাকার,,,এর ভিতরে লাঞ্চ এর জন্য ডাকা হলো নুবাকে,,,
নুবা ডাইনিং টেবিলের কাছে আসতেই আমিনা বেগম বলে উঠলো
_ আজ এখানেই বসে খা,,
নুবা প্লাটে ভাত তুলতে তুলতে বললো
_ আজ পর্যন্ত এখানে বসেছি চাচি,,,এতো বছরে কখনো বসাতে পেরেছো,,,, শুধু শুধু বলে লাভ আছে,,,বলো,,
আমিনা বেগম একটু রেগে বললেন
_ সমস্যা কি তোদের মা মেয়ের,,আমি বা অন্য কেউ কখনো এখানে বসে খেতে তোদের না করেছে,,
নুবা তারকারি তুলে নিলো প্লটে মুচকি হেসে বললো
_ ছোট্ট বেলা থেকে বিছানায় খেএ অভ্যাস,,,এতো বড় টেবিলে বসার যোগ্যতা,,বা অভ্যাস নেই,,এখানে বসে খেতে পারি না,,,
আমিনা বেগম উঠে দাড়িয়ে নুবার হাতটা ধরে মিষ্টি কন্ঠে বললেন,,
_আরে বসতো,,,আজ এখানে বসেই খাবি তোর মেমো আছে,,,
নুবাকে টেনে বসালো আমিনা বেগম তবে নুবা কিছুটা অসম্মানজনক ভাবে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ না চাচি please,,জোর করো না,,
আমিনা বেগম চোখের ইশারায় ধমকে বললেন
_ নুবা,,বসতে বলেছি তো,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে মুখের উপর বললো,,
_ না,, জোর করো না,,
আমিনা বেগম বেশ পরির সামনে বেশ অসম্মান বোধ করলেন,,এতো করে বললেন তাও কথা না শুনলে সম্মানে তো লাগবেই তাই আমিনা বেগম নিজের স্থানে যেএ বসে জোরপূর্বক হেঁসে বললেন
_ ছোটো মানুষ,, তুমি খাও,,,
হাজেরা এসে মাটানের বাটিটা রেখে বললো
_ তা পরিক্ষা কেমন হলো
নুবা এক গ্লাস পানি নিয়ে বললো
_ ভালো মা,, তুমি সার্ভ করে এসে খেতে বসো,,,
হাজেরা মাথা ঝুকালো,,,আরহামের রাগে হাত মুঠো বদ্ধ হলো,,,সে ভেবেছিলো হাজেরা মেয়েকে এই অভদ্র আচরণের জন্য শাসন করবে,এতো বলার পড়েও একজন বড় মানুষের কথা অমান্য করা আসলেই ওই মানুষ টার জন্য অসম্মানজনক,,,তবে হাজেরা কিছুই বললো না,,,নুবা খাবার নিয়ে যেতে নিলে আরহাম শান্ত কিন্তু গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো,,,
_ এখানে বসো,,,,
নুবা শুনেও না শোনার ভান ধরে রুমে চলে গেলো,,, আরহামের রাগে কপালের রোগ ফুলে উঠলো,,,,আসলে এই মেয়ে কি কানে কম শুনে নাকি ইচ্ছা করে এমন করে,,,
আমিনা বেগম এই সব বাদ দিয়ে পরির প্লেটে মাংস তুলে দিয়ে বললো
_ খেএ দেখো,,,এটা অনেক সুস্বাদু,,,
পরি জোরপূর্বক হাসলো,,আমিনা বেগম একটু বেশিই ভালো ভাবে ট্রিট করছেন তাকে,,,
আরহাম খাবার রেখে উঠে গেলো,,,আয়রা ছিলো তানিয়ার কাছে যে কিনা আয়ারকে নিয়ে টিভি সিরিয়াল দেখছে,,
আরহামকে খাবার রেখে উঠতে দেখে আমিনা বেগম বিচলিত হয়ে বললো
_ কি হলো আরহাম,,,উঠছিস কেন,,,
আরহাম কিছুটা এগিয়ে যেএ বললো
_ আসছি,,,
আরহাম নুবার রুমের সামনে যেএ দেখলো বিছানার মাঝবরাবর বসে আসাম করে খাবার খাচ্ছে নুবা,,সামনে বালিশে হেলান দিয়ে মোবাইল রাখা,,যেখানে হয়তোবা funny কোনো মুভি বা সিন চলছে যার ফলে নুবা খেতে খেতে মুচকি মুচকি হাসছে,,,
মোবাইলের দিকে তাকিয়ে মুখে ভাত তুলছে নুবা,, বিষয়টা আরহামের পছন্দ হলো না,,,বড্ড বেয়াদবি কাজ এটা,,,
আরহাম এগিয়ে যেএ কোনো সতর্কতা বার্তা ব্যতিত হাত বাড়িয়ে মোবাইল টা অফ করে দিলো,,নুবা খেয়াল করেনি কে এই কাজটা করলো তাই চোখ মোবাইল থেকে সরাতে সরাতে মুখ দিয়ে কিছুটা বিচ্ছিরি ভাষা বেড় করে বললো
_ কোন বাইনচ***** ,,,,
পরপর সামনে তাকিয়ে নুবার মুখ অফ হয়ে গেলো,,গালিটাকে পূর্ণতা দেওয়ার আগে মুখ বন্ধ হয়ে উম উম শব্দ বেড় হলো বাকি টুকু উচ্চারণ করতে পারলো না সে,,,,
নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে শুকনো ঢোক গিললো,,, ভাগ্যিস বকাটা দিতে যেয়েও দেয়নি,,,
মোবাইল দেখে দেখে ভাত খাওয়া জন্মগত অভ্যাস তার,,,তাই এতে কেউ বেঘাত ঘটার এটা সে চায় না,,,, বিরক্ত লাগে তার,,,তাই তো মুখ দিয়ে গালি বেড় হতে যেয়েও বেড় হলো না,,
আরহাম চোখ তুলে নুবার দিকে তাকালো,,নুবা গালে থাকা ভাত গিলে বিরবির করে ভুরু নাচিয়ে বললো
_ কি???
আরহাম পকেটে হাত গুঁজে নুবরা দিকেই তাকিয়ে রইলো,,,নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ এখানে কি ভাইয়া,,,,
আরহাম অত্যান্ত শান্ত কন্ঠে বললো
_ টেবিলে খেতে আসো,,মা কতবার বললো,,, তোমার আসা উচিত,,
নুবার মুখ বিকৃত হলো,,,নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ এই কথা বলতে আপনি এখানে এসেছেন,,,যান তো,,, আজাইরা খেএ দেয়ে কাজ নাই,,,,(বলতে বলতেই নুবা হাত বারিয়ে মোবাইল অন করলো)
তবে আরহাম যাচ্ছে না দেখে নুবা ফের আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আজব মানুষ তো,, সমস্যা কি,,,যান তো,,, খাওয়ার সময় বিরক্ত করেছেন,,যান,,,
পরপর মোবাইলে আবারো ওই মুভি শুরু হলো,,সাথে সাথে মোবাইল টা যেএ ফ্লোরে পড়লো,,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,,চোখ বড়বড় হয়ে গেলো তার,,,খাওয়া রেখে হুড়মুড়িয়ে উঠলো সে,,, পরে থাকা মোবাইল এটো হাত দিয়ে ছুয়ে বিচলিত কন্ঠে বললো
_ এটা কি করলেন আপনি,,, সমস্যা কি আপনার,,,
নুবার কান্না চলে আসলো,,তার সখের মোবাইল SSC পর পেয়েছিলো সে কত কষ্ট করে,,,
নুবা ভাঙ্গা ফোনের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,,
_ আপনি জানের এটার ভিতরে আমার কত important জিনিস আছে,,,আপনি এখানে কেন আসছেন আপনাকে না বলছি আমার রুমে আসবেন না,,, লজ্জা নেই আপনার,, আমার মোবাইল,,,,
আরহাম বেশ স্বাভাবিক কন্ঠে বললো
_ খেতে খেতে মোবাইল দেখা bad habit,,তাই ভাবলাম আপনাকে একটু ভালো পথে ফিরিয়ে আনি,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,কিছুটা চেঁচিয়ে বললো
_ আপনার নিজেরিতো ভালো কোনো স্বভাব নেই,,, আবার অন্যকে বলছেন,,, আপনার কোনো right নেই আমার স্বভাব নিয়ে বিচার করার,,, সবসময় অতিরিক্ত করেন আপনি,,, enough is enough
নুবা অনেকটা চেঁচিয়ে কথা গুলো বললো,,,এতো সময় আরহাম শান্ত থাকলেও চেচানোর ফলে রাগ মাথায় চড়ে বসলো তার,,, আরহাম তেরে আসলো নুবার দিকে,,,নুবা কিছুটা ভয়ে আতঙ্কে পিছিয়ে গেলো,,,চোখ মুখ খিচে দুই হাত মুখের সামনে ধরে কম্পিত কন্ঠে বললো
_ মারবেন না মারবেন না ,,আর চেচাবো না,,,, sorry sorry sorry,,,,(বেশ দূরত্ব কন্ঠে বলল সে )
আরহামের থাপ্পর মারার জন্য উঠানো হাত থেমে গেলো,,এর ভিতরে চিল্লাচিল্লি শুনে বাড়ির সবাই উপস্থিত হলো ওখানে,,আমিনা বেগম রুমে প্রবেশ করে বেশ রেগে বললেন,,
_ কি শুরু করেছিস কি দিন দুপুরে,,, সমস্যা কি তোদের,,
নুবা সবাই এসেছে দেখে একটু সাহস পেলো,,, ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ চা,,চাচি তোমার ছেলে আমার মোবাইল ভেঙ্গে ফেলেছে,,উনার সমস্যা কি,, আমার পিছনে কেন এভাবে লেগে আছে,, উনাকে বলো আমার মোবাইল ঠিক করে দিতে,,,
বলতে বলতে নুবা কেঁদে উঠলো,,তার অনেক সখের মোবাইল,,এটা দিয়েই তো তার দিন চলতো,,এটা ছাড়া সে অসহায়,, একাকিত্বের সাথী এই মোবাইল,,,
আমিনা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ ফোন ভেঙ্গেছিস কেন ওর,,,
আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আস্ত বেয়াদব হয়েছে একটা,,, বড়দের কথা অমান্য করা যেনো স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে,,মুখে মুখে তর্ক করে অসভ্যটা,,
আরহামের কন্ঠে এতোটা রাগ যেনো নুবাকে এখন ছিরে ছুটে ফেলবে,,নুবা চাচির পিছনে লুকিয়ে বললো
_ নিজে শুনে কারো কথা,,আমি যা ইচ্ছা তাই করবো,,উনার সমস্যা কি,, তুমি তোমার ছেলেকে সাবধান করে দেও না হলে আমি,,আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো,, এরকম অত্যাচার আমি সহ্য করবো না,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বেশ রেগেই বললেন
_ খাবার রেখে তুই এখানে ঝামেলা করতে এসেছিস,,,আর ওর সাথে কি তোর,,ওর যা ইচ্ছা তাই করুক,,,,তোর সমস্যা কি,,,তোকে একদিন বলেছি না ওর থেকে দূরে থাকবি,,,
আমিনা বেগমকে ঠাসঠাস কথা বলতে দেখে নুবা মনে মনে বেশ খুশি হলো,,, আরহাম কিছু বলতে গেলে আমিনা বেগম এক হাত দিয়ে ঠেলে তাকে রুমের বাইরে বেড় করে বললেন
_ এই রুমে আসবি না তুই,,,যা খেতে বস,,,
নুবা পিছন থেকে বলে উঠলো,,,
_ ভালো মতো বুঝিয়ে দেও,,আর আমার,, আমার মোবাইল ঠিক করে দিতে বলবে,,, শয়তানটা আমার মোবাইল ভেঙ্গে দিলো অসহ্য,,,
হাজেরা বেগম শুধু দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন,, এখানে আসল দোষটা কার তিনি বুঝতে পারছেন না,,,
তবে আরহাম মোটেও চুপ করে থাকার মানুষ না,,,মাকে ঠেলে এগিয়ে গেলো সে,,,এভাবে আরহামকে এগিয়ে আসতে দেখে নুবা পিলে চম্কে উঠলো,, সত্যি সত্যি এবার মারটা মনে হয় খাবে সে,,কেন যে এতো কথা বলে,,,
নুবা ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দে বললো
_ আ,, আবার রুমে আসছেন,,,রুমে ঢুকা বারন আপনার,,,
তবে আরহাম এসে নুবার এটো হাতের কব্জি ধরে টেনে রুমের বাইরে নিয়ে গেলো,,,আমিনা বেগম হাই হুতাশ করে বললো
_ আল্লাহ,,,কি শুরু করলি,,,,
এদিকে পরি নিরপেক্ষ,,,বেচারি খেতে বসেও ঝামেলায় পড়ে গেছে,,কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না,,,
নুবা বিরক্তি নিয়ে বললো
_ ছাড়ুন,,,চাচি,, কিছু তো বলো,,,, ahhh,,,
আরহাম নিয়ে যেএ নুবাকে এক প্রকার ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে চেপে ধরে বসালো,,নুবা এতো তাড়াতাড়ি কাহিনি ঘটলো যে কিছুই বুঝতে পারলো না,,,
আরহাম চেয়ার ধরে নুবার দিকে ঝুঁকে বললো
_ বড় মানুষ একটা কথা বলেছে সেই কথা অমান্য করিস তুই,,,মা বললো তুই সুন্দর মতো টেবিলে বসে যাবি,,বারতি কথা কে বলতে বলেছে তোকে,,,বেশি পেকে গেছিস,,, হ্যাঁ,,বেশি পেকেছিস,,,
আমিনা বেগম এগিয়ে এসে বললো
_ হয়েছে,, ছোটো মানুষ আরহাম,,বলতেই পারে,,,
তবে আরহাম সরলো না বেশ হুংকার ছেড়েই বললো
_ ছোটো মানুষ ছোটোদের মতো থাকবে কেন মুখে মুখে তর্ক করবে,,কেন করবে,,বড়দের কথা অমান্য করার দেমাগ কোথা থেকে আসে,,,এটা নিয়ে কি ওর মার শাসন করা উচিত ছিলো না,,,,বলো,, উচিত ছিলো না,,,মেয়েকে একটা থাপ্পর মেরে বুঝানো উচিত ছিলো না সে অভদ্রের মতো আচরণ করছে,,,
হারেজা শুকনো ঢোক গিললো,,এতো দেখি মেয়েকে রেখে মায়ের উপর দোষ দিচ্ছে,, সত্যি কথা বলতে হাজেরা তেমন ভাবে এই সব বিষয়ে মনোযোগ দেয়নি কি আর বলবে,,,
পরি পাশ থেকে মৃদু কন্ঠে বলে উঠলো,,
_ উক্তি বয়স,,, হয়তোবা বুঝতে পারেনি,,,তাই বলে এভাবে,,,,
বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই আরহাম পরিকে ধমকে উঠে বললো
_ just shut up,, আপনাকে কিছু বলতে বলেছি আমি,,,
এরকম হঠাৎ ধমকে পরি চম্কে উঠলো,,আমিনা বেগম এগিয়ে এসে বললো
_ আরহাম,,,নিজে আগে ভদ্র আচরণ শিখো,,,
আরহাম নুবাকে ছেড়ে দিয়ে বিরবির করে বললো
_ সেই বয়স আমার পার হয়েছে মা,, কিন্তু ওর তো হয়নি,,আমি parents ব্যতিত বড় হয়েছি এর থেকে ভালো আচরণ আমার থেকে আশা করা আদেও কি ঠিক,, কিন্তু আদব কায়দা শিখা ওর কর্তব্য,,,,এখনো বয়স চলে যায়নি ওর ,,,পুরো একটা পরিবার আছে ওকে শাসন করার জন্য,,তবে তোমরা থাপ্পর মেরে সঠিক টা দেখানোর বদলে মিষ্টি কথা বলে মাথায় তুলে রাখো,,,
এতো ঝামেলা দেখে নুবা এবার ফুঁপিয়ে উঠলো,, সামান্য একটা কথার জন্য এতো কিছু,,সে কি আসলেই অসম্মানজনক কাজ করেছে,, হয়তোবা,,,নিজের অজান্তেই,,,
নুবা বিরবির করে বললো
_ নিজের নেই ঠিক অন্যকে ঠিক করতে এসেছে,, লুচ্চা কোথাকার,,(তবে তার কথা কেউ শুনলো না)
আরহাম এবার হাজেরার দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনি আপনার মেয়েকে শাসন করবেন নাকি আমাকে করতে হবে,,, আমার কিন্তু অশৈল্ল পছন্দ না,,, একজন বড় মানুষের মুখে মুখে তর্ক করে চলে যায় আর আপনি চুপচাপ দেখেন,,,
হাজেরা বুঝতে পারলো তারো ভুল আছে তাই শান্ত কন্ঠে বললো
_ বাবা আমি খেলায় করিনি,,তবে তুমি যা করেছো তোমার পক্ষে আমি,,,
নুবা মায়ের কথা শুনে আরো তেতে গেলো,,,পক্ষ নেওয়া নেওই হচ্ছে,,,নুবা ফট করে চেয়ার থেকে উঠে গেলো,,সাপের ন্যায় ফোঁস ফোঁস করতে করতে রুমের দিকে যেতে লাগলো,,তবে আরহাম ধরে ফেললো তাকে,,,নুবা রেগে বললো
_ হাত ছাড়ুন,,,
_ এখানে বসে খেএ তার পর যাবি,,,
নুবা রাগে বললো
_ না,,
না বলতে দেরি ঠাস করে থাপ্পর খেতে দেরি নেই,,, আরহাম থাপ্পর দিয়ে বললো
_ কি বললি,,,
নুবা গালে হাত দিয়ে এক পলক আরহামের দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে চুপচুপ যেএ ডাইনিং টেবিলে বসলো,,,কেউ কিছু বলার সাহস পেলো না,,, থাপ্পর টা মারা যথার্থ,,,
আরহাম যেএ নুবার সামনে প্লেট রাখলো,, কতটা ভাত আর তরকারি তুলে দিয়ে বললো
_ সব খেএ উঠবি,,
বেচারি মার খেএ মাথা ঝুকালো,,,
আরহাম যেএ নুবার পাশে বসলো,,,পরপর বললো
_ দাঁড়িয়ে আছো কেন,সবাই বসো,,
আমিনা আর পরি যেএ টেবিলে বসলো,,, আরহাম হাজেরার দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনিও বসুন,,,
হাজেরা শুকনো ঢোক গিলে টেবিলে বসলো,,মেয়ের মতো এই বুড়ো বয়সে এসে মার খেতে চায় না সে,,, এদিকে আমিনা মনে মনে বেশ খুশি হলো এতো বছরে এতো বলেও মা মেয়েকে টেবিলে বসাতে পারেনি,, আরহামের এক থাপ্পর মা মেয়েকে বসিয়ে দিয়েছে,,,
আরহাম আমিনার দিকে তাকিয়ে বললো
_ তানিয়া আন্টি কোথায়,,
আমিনা মুখে ভাত তুলে বললো
_ ও সবার আগে খেএ নেয়,,
আরহাম বেড়ে রাখা ভাতে চামচ ঘুরালো,,, কিছু সময়ের জন্য যেনো ডাইনিং রুমে তুফান বয়ে গেলো,,পরি শুধু মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ করছে,,,
তাদের খাওয়ার ভিতরেই আরশি ডেং ডেং করে বাড়িতে ডুকলো,,, ডাইনিং রুম পার করার সময় তার চোখ কপালে উঠে গেলো,,নুবা আর হাজেরা টেবিলে বসে খাচ্ছে,,এটাও সম্ভব,,,
আরশি এগিয়ে যেএ বললো
_ আরে আজ কোন দিকে সূর্য উঠলো,,,
আমিনা বেগম আরশিকে দেখে বললো
_ ভালো সময়ে এসেছিস খেতে বস,,
আরশি হাম তুলে বললো
_ এখন না পরে,,,
_ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করিস না,,অসুস্থ হয়ে পড়বি খেতে বস,,
আরশি বেখেয়ালি ভাবে বললো
_ আরে খা__ahhhh আম্মু,,
আরহাম তেতে যাওয়া কন্ঠে বললো
_ খেতে বসতে বলেছে তুই বসবি,,,যা বস,,
আরশি কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো্
_ আমি বলতে চাইছিলাম ফ্রেশ হয়ে আসি,,
_ পরে হবি আগে যেএ বস,,
আরশি গালে হাত দিয়ে নুবার পাশে বসলো,,,নুবা মনে মনে হেসে গড়াগড়ি খেলো যাক তার সাথে সাথে আর একজনো মার খেলো,,,নুবা খেতে খেতে বিরবির করে বললো
_ আজ এভাবেই আমার গালে সূর্য উঠেছিলো তাই আমি আজ এখানে,,
আরশি রাগি চোখে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ আগে বলতে পারলি না,,,
নুবা মিটমিট করে হাসলো,,,
পরির গলা দিয়ে ভাত নামছে না,,কথায় কথায় ঠাসঠাস,,আল্লাহ এটা মানুষ নাকি থাপ্পর মারার মেশিন,,,
নুবা কোনো মতে খাওয়া শেষ করতেই আরহাম নিজে প্লেটে ভাত তুলে দিলো,,নুবা হতভম্ব হয়ে বললো
_ আর খাবোন,,,,
তবে আরহামের চাহনি দেখে বিরবির করে বললো
_ খাচ্ছি,,খেতে খেতে মরে যাচ্ছি,,,তাও এভাবে শয়তানের মতো তাকাবেন না,,(শেষ কথা টুকু বিরবির করে বললো)
পরি আর আমিনা বেগম খাওয়া শেষ করে উঠে গেলো,,হাজেরা উঠতে নিলেই আরহাম ভাতরে বাটি এগিয়ে দিয়ে বললো
_ আর ভাত নিলেন না যে,,,
হাজেরা উঠতে উঠতে জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ আর না বাবা,,পেট ভরে গেছে,,,
আরহাম কিছু বললো না,,,নুবা মায়ের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো,,তার পেট ভরে গেছে তবে প্লেটে এখনো ভাত রয়ে গেছে,,,
আরশি কটা খেএ উঠে ফাঁক কাটলো,,সে রিহানের সাথে খেএ এসেছিলো তাও মারের ভয়ে আর কয়টা খেএ নিলো,,,
নুবা ভাতের প্লেটে হাত ঘুরাতে লাগলো,, কান্না আসছে তার এভাবে খেলে ৭০ কেজি হতে বেশি সময় লাগবে না,,,
নুবাকে প্লেটে হাত ঘুরাতে দেখে আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ আর খেতে হবে না যাও,,
নুবা আরহামের কথায় বেশ খুশি হয়ে গেলো,,এতো সময় আরহামের প্রতি রাগ ছিলো তার কারণ পরির সামনে মেরে দিলো তবে আরশি মার খাওয়ার পর সেই জলনটা একটু কমেছিলো এখন এই কথা বলতে দেখে নুবার রাগ আর একটু পড়ে গেলো,,
নুবা উঠে দাঁড়ালো,, আরহাম পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বললো
_ পানি খাও,,,
নুবা ভুরু উঁচিয়ে পানির গ্লাস নিয়ে বললো
_ Thanks ভাইয়া,,আপনি ইদানিং একটু ভালো হয়ে যাচ্ছেন,,তবে আমার থেকে distance বজায় রাখবেন please,, তাহলে আমি খুশি হবো,,
বলেই নুবা পানি খেতে লাগলো,,
আরহাম নুবার এটো ভাত নিজের প্লেটে পুরে নিলো,,, অবশ্য সে বোডি ফিট রাখার দিক দিয়ে অনেক সতর্ক তবে খাবার অপচয় তার উপর আলাদা একটা টানে নিলো সে,,
আরহাম চামচ রেখে হাত দিয়ে খেতে লাগলো,,পানির গ্লাস রেখে আরহামকে তার এটো ভাত খেতে দেখে নুবার গা গুলিয়ে আসলো,,নাক মুখ কুঁচকে বিরবির করে বললো
_ ছি,,,,
নুবা কারো এটো জিনিস খেতে পছন্দ করে না,,তবে ভাগ্য তার জীবনের সব থেকে বড় জিনিসটাই হয়তোবা এটো করে দিবেন,,এটা সে জানতে পারলে মিনি হার্ট অ্যাটা করবে,,যে যা নাক ছিটকায় সে তাই পায়,,এটা বাস্তব,,,
নুবা যেএ বেসিনে হাত ধুতে ধুতে বিরবির করলো
_ ছি ছি কোনো ঘৃন পিত নেই,,হাত দিয়ে ছেনেছি তা খাচ্ছে,,ওয়াক থু 🤢,,
নুবার কথা বাক্য টুকু শুনে আরহাম মুচকি হাসলো,,,
অতঃপর খাওয়া শেষে প্রতিদিনের ন্যায় পরি নুবাকে পড়িয়ে আয়ারকে নিয়ে বসে রইলো,,আর নুবা ভিতরে ভিতরে জ্বলতে শুরু করলো,,,
প্রায় সন্ধ্যা পরি বাড়িতে যাবে কিন্তু ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে হারুন মির্জার কাছে গিয়েছেন,,,তাই একটু সমস্যায় পড়েছে আমিনা বেগম,,মেয়েটাকে একা কি করে পাঠাবে এই সন্ধা করে,,
আমিনা বেগম পরিকে বসিয়ে বললো
_ তুমি একটু বসো আমি আসছি,,
আমিনা বেগম আরহামের রুমে যেএ দেখলো আরহাম কারো সাথে ফোনে কথা বলছে তবে তার মাকে দেখে ফোন রেখে দিলো,,,
আমিনা এবং এগিয়ে এসে বললেন
_ শুন বাবা,, পরি মেয়েটাকে তো বসিয়ে রেখেছি তবে ড্রাইভ তো অফিসে,, তুই কি একটু দিয়ে আসবি বাবা,,মেয়েটাকে একা ছাড়োব এই সন্ধা বেলায়,,
আরহাম সোজাসুজি বলে উঠলো
_ আমি পারবো না,,,
আমিনা বেগম অনুনয় করে বললেন
_ যা না বাবা,, আমার মানসম্মানের ব্যপার সেপার,, সন্ধা পর্যন্ত বসিয়ে রেখেছি এই আশায় যে ড্রাইভ দিয়ে আসবে এখন একা যেতে বললে আমার মান সম্মান থাকবে বল
আরহাম বিরক্তি নিয়ে বললো
_ তোমাকে কে বলেছে বসিয়ে রাখেব
_ তো কি করবো এরকর একটা ছেলের বউ থাকলে,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫০
_ mom,,,,,
আমিনা বেগম হেসে বললেন
_যা না বাপ,, আমার লক্ষী বাপনা তুই,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো,
_ আচ্ছা,,,
