নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৩
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_ আমি বলতে চাইনি,, মানে,,,
_ হ্যাঁ এতো মানে টানে বলতে হবে না,,
_ দেখুন সোজা কথা হচ্ছে আগে বিয়ে করুন তার পর ছুঁবেন,,,এবার ছাড়ুন,,,
আরহাম নুবার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো,,,বলে দিবে কি,,না থাক,, মাত্র সব শুরু হলো এই কথা জানলে নিশ্চিত ঝামেলা হবে কারণ না বলে বিয়ে নুবা কেমন ভাবে নিবে আর কয়টাদিন যাক ,,
আরহাম কথা পাল্টে বললো
_ তখন যে বললেন আমার মেইন পয়েন্টে আঘাত করবেন,,,তা আপনি কি জানেন এমন টা করলে পরে আপনারি সমস্যা হবে,,,
নুবা মিনমিন করে বললো
_ জানতে চাই না আমি,, ছাড়ুন তো,,,,
আরহাম ছেঁড়ে দিলো না বরং আদুরে কন্ঠে সুধালো
_ আমার বেবি কত পছন্দ তুমিও ভাবতে পারবে না নুবা,,, আমি চাই আমার অনেক গুলো বেবি থাকুক,,এই ধরো কম করে হলেও ৩০+,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো পরপর চোখ বড় বড় করে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কম হয়ে গেলো না,,৩০০+ বললে ক্ষতি ছিলো না,,,
আরহাম মুচকি হেসে বললো
_ না থাক তুমি এতো লোড নিতে পারবে না,,তবে কোনো বছরি তোমার এই টাম্মি(পেট) খালি রাখতে দিবো না,,,একটা হবে আর একটা নিবো,,,
নুবা মুখ বিকৃত করে হেসে বললো
_এটা একটু বেশি হয়ে গেলো না,,
_ আচ্ছা ঠিক আছে তবে ২৯ টা,, কারণ আয়রাতো আছেই,,২৯ টা কোনো ব্যপার হলো,,,i know নুবু পারবে,,,
নুবা অনেক কষ্ট করে দুই হাত ছাড়িয়ে বললো
_ আপনি পাগল,,,৫/৬ টা বললে তাও মেনে নেওয়া যেতো,,,এতো গুলা,,,
আরহাম আবার খাবলে ধরলো নুবাকে মুখে হাতাশা ফুটিয়ে বললো
_ ৫/৬ টায় কি হবে,বাড়ি ভরা ভরা থাকতে হবে তো তাই না,,আর আগে তো এরকমি বেবি হতো,, তুমি কি পারবে না বলো না নুবু,,,
_ দেখুন,, আমাদের এই ব্যপারে আলোচনা করার অনেক সময় পড়ে আছে,,আগে আপনি উত্তর দিন পরির সাথে কি আপনার,, আপনি বলেছিলেন বলবেন,,,,
আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো,,,একটু family প্লানিং করছিলো সে তবে আফসোস তাতে পানি ডেলে দিলো,,, আরহাম মাথা উঁচু করে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_আগে স্থির হয়ে দাঁড়াও,,তবেই বলবো,,
_ হ্যাঁ দাঁড়িয়েছি বলুন,,,
_ এদিকে সরে আসো,,
_ আর কত সরে আসবো,,এর থেকে ভালো আপনার কলিজার ভিতরে ঢুকে যাই,,
_ যাও,, mind করবো নাই,
নুবা বিরক্তি নিয়ে বললো
_ কথা উল্টাবেন না,,, বলুন,,,
আরহাম একটু হেসে বললো,,
_ আম্মুর প্লান ছিলো,,, তুমি নাকি অনেক হিংসুটে তাই mom বলবো তোমার থেকে একটু সময়ের জন্য দূরে থাকতে,,আর পরির আশে পাশে থাকতে,আমি তো ভেবেছিলাম কিছুই হবে না তবে গাড়িতে তোমার এ্যাঁ হুঁ করে অভিযোগ শুনে বুঝতে পেরেছিলাম You feel for me. ,,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো,,,
_ ভালো কথা তবে এবার ওর আশে পাশে দেখলে একদম,,,,,,(বলেই আরহামকে চোখের ইশারায় শাশালো,, আরহাম চেয়ে রইলো তার দুষ্ট নুবুর দিকে,,কত বড় সাহস তার মতো মানুষ কে শাশাচ্ছে,,)
_ আপনি কার,,আয়রা কার,,,(টেনে বললো নুবা)
_ আপনার,,
নুবা পরপর অনেকটা ভেবে বললো,,
_ আচ্ছা ভালো কথা,,আপনি যে বললেন আম্মু সব করেছে তার মানে কি চাচি সব জানে,,,
_ হুম,, জানে,,,
নুবা চোখ বড় বড় করে বললো
_ প্রথম থেকে
_ হুম,,
নুবা কিছুটা অবাক হয়ে বললো
_ আপনাকে এই ব্যপারে কিছু বলেনি যে আমার মতো মেয়েএএএ,,,,,
বলতে বলতে নুবার মুখ বিকৃত হলো যেনো নিজেকে নিজেই তাচ্ছিল্যো করলো,,
আরহাম নুবাকে টেনে নিজের দু পায়ের মাঝখানে নিয়ে হাঁটু দিয়ে নুবার অস্থির,আর চলতে থাকা পা গুলোকে চেপে ধরে বললো
_ তোমার মতো কি,,, তুমি তো তুমিই,, আমার বিচ্ছু,,
নুবা কিছুটা অবাক হলো,,,আর ভাবতে লাগলো এর জন্যই আমিনা বেগম তাদের মিথ্যা বলে বাঁচিয়ে নিয়েছিলো,,,এই সব ভাবতে লাগলো নুবা,,,আরহাম নুবাকে অন্যমনস্ক দেখে অনেকটা নিকটে গেলো,,,নুবা আরহামের নিঃশ্বাসের শব্দ টের পেয়ে ভুরু কুঁচকে তার দিকে তাকালো,, দুই জনের চোখে চোখ পড়লো,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো ভুরু কুঁচকে বললো
_কি,,,?
আরহাম আর একটু এগিয়ে বললো ,,
_ উহু,,,
নুবা চেয়ে রইলো আর বললো,,,
_ আপনি অতিরিক্ত করছেন,, এখনো আমাদের ভিতরে কবুল বলা ,,,,,,,
আরহাম নুবাকে থামিয়ে দিয়ে বললো
_ বিশ্বাস করো না,,,
নুবা বিরবির করে সুধালো
_ বিশ্বাসের মর্যাদা যদি না রাখেন,,
_ ভেঙ্গে ফেলার মতো মানুষ এই আরহাম শাহারিয়ার মির্জা নয়,,,
নুবা ইনিয়ে বিনিয়ে তাকালো,,তারো কেন জানি ইচ্ছা হচ্ছে,,একটা চুমু খাওয়ার ইচ্ছা হচ্ছে,,,নুবার কেমন কেমন জানি ভালো লেগছে,,,,দুইবারি তার মনে হয়েছে তার পেটের ভিতরে প্রজাপতি উড়ছে,,,সকল চিন্তা ফুর করে উড়ে গেছে,,, এমন অবস্থা,,
নুবা চোখ বন্ধ করে নিলো,, আরহাম নুবাকে সাই দিতে দেখে মৃদু হাসলো,,পরপর এক জোরা পাখি আবারো কিচিরমিচির করতে করতে স্তব হয়ে গেলো,,,তারা এতোটা নিকটে আসলো যে এখন কিরিচমিচির করলেই দুই জন আলাদা হয়ে যাবে ,, অভদ্র আরহাম নুবাকে বিরক্ত করার জন্য রসনা(জিহ্বা)দাঁড়া নুবাকে উক্ত করতে লাগলো,,, হঠাৎ এমন হওয়ায় নুবার নাক মুখ কুঁচকে গেলো,, চলমান ওধর নীরব হলো সরে আসতে চাইলো সে তবে আরহাম বেঁধে রাখলো তাকে,,,নুবা অতিষ্ঠ হয়ে মুখ দিয়ে শব্দ করলো তবে আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,
নুবা দাঁতে দাঁত চাপলো,,আরহামকে শায়েস্তা করার জন্য তার রসনা দাঁত দাঁড়া চেপে ধরলো,, আরহাম চোখের পলক ফেলে নুবাকে ছেঁড়ে দিলো নুবাও ছেড়ে দিলো ,,,পরপর নুবা নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ ছি,,,আপনি এতো খারাপ,,,
_তুমি কম খারাপ নাকি আমার জিভ ,,,ahhh,,,
_ একদম ঠিক করেছি অসভ্য লোক কোথাকার,,
আরহাম কিছু বলতেই যাবে তার আগে কারো খুক খুক করে কাশির শব্দ ভেসে আসলো,,,দুইজিন ভুরু কুঁচকে দরজার দিকে তাকালো,,,পরপর আমিনা বেগম কে দেখে নুবার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো
_ চাচিইইই,,,
বলেই এক লাফে আরহামের থেকে দূরে সরে গেলো,,,আমিনা বেগম চোখের উপর থেকে হাত সরিয়ে বললো,,,
_ যদি আপনাদের কথাপোকথন শেষ হয় তবে নুবাইরা বাইরে আসুন আপনার মা আপনাকে খুঁজে খুঁজে পাগল হয়ে যাচ্ছে ,,,
বলেই আমিনা বেগম রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,তারা এতোটাই ব্যস্ত ছিলো সে রুমের দরজা ঠেলে যে ভিতরে কেউ ঢুকেছে এটাও খেয়াল করেনি,,
নুবা জোরপূর্বক হেঁসে হাত কচলে বললো,,,
_ আপনি,,, অসভ্য,,
বলেই নুবা দৌড়ে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,, আরহাম শব্দ করে হাসলো,,,
আমিনা বেগম নুবাকে আসতে দেখে ফিরে তাকালো,,,নুবা চোখ চুরালো আমিনা বেগমের থেকে,,,আমিনা বেগম বুঝতে পেরে হেসে বললো
_ কিচ্ছু দেখিনি তবে আশে পাশে কে আছে না আছে,,কে গেলো,কে আসলো খেলায় রাখতে হবে তো,, এখন যদি তোর মা হতো,,,
নুবা মাথার ওরনা টেনে মিনমিন করে বললো
_ তোমার এই ব্যপার নিয়ে কোনো সমস্যা নেই চাচি,,
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো
_ আশ্চর্য সমস্যা থাকবে কেন,, আমার ছেলে সুখি মানেই আমি সুখি,, তুই কি আমাকে সেই বাঙালি শাশুড়িদের মতো ভাবিস যে ছেলের আর ছেলের বউ এর সুখ দেখে জ্বলবো,,,
নুবা আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো
_ ছেলের বউ মানে,,এখনো তো হয়নি না,,
আমিনা বেগম দাঁত দিয়ে জিভ কাটলো,,তার মানে এখনোই ছেলে তার এই ভান্ডা ফুটায়নি,,,আমিনা বেগম ভাবলো আরহাম নিশ্চয় সময় হলে বলবে তাই ইনিয়ে বিনিয়ে বললো
_ হবি তো তাই না,,,
সে কিছু জানে না ভাব করতে আরো বাড়িয়ে বললো
_ আজকালের পোলাপাইন বাবা,,আগে প্রেম করলে সামনে যেতেও লজ্জা পেতাম,,চিঠি দিয়ে খোঁজ খবর নিতাম কিন্তু আজকাল পোলাপাইন এতো ডিজিটাল কি আর বলবো,,
নুবার লজ্জায় গাল লাল হয়ে গেলো মিনমিন করে বললো
_ তুমিও কি প্রেম করেছিলে নাকি,,
_ না না বাবা,,আমি কেন করতে যাবো,,তোর চাচার সাথে আমার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়েছিলো তবে আসল কথা হচ্ছে বিয়ের আগে করেছিলাম প্রেম,,তাই আর কি,, কিন্তু ভুলেও তোর চাচাকে বলিস না এই বয়সে এসে সংসার ভাংতে চাই না,,লোকটা অনেক হিংসুটে,,
বলেই হাসলো আমিনা বেগম,,নুবাও হাসলো,,
আমিনা বেগম রুমে ডকেছে নুবাকে,, কিছু কথা আছে তার,,, দুপুর দুপুর গোসল সেরে নুবা আমিনা বেগমের রুমে চলে গেলো,,,আমিনা বেগম তখন কিছু খুঁজে ব্যস্ত,,নুবা রুমে আসতেই আমিনা বেগম বলে উঠলো
_ বস,,,
নুবা বিছানার এক পাশে এসে দাঁড়ালো,, আমিনা বেগম হাতে কিছু নিয়ে এগিয়ে আসলো,,নুবা ছোটো ছোটো চোখ করে তাকালো,,,আমিনা বেগম চিকুন দুটো চুরি এনে বললো
_ দেখি হাত টা দেখ,,
নুবা হাত এগিয়ে দিলো,,,আমিনা বেগম চিকোন চুরি গুলো নুবার দুই হাতে পড়িয়ে দিলো,,নুবা একটু অবাক হয়ে বললো,,,
_ কিন্তু,,, এগুলো কেনো,,
_ ছেলের বউ হবি দিতে হবে না নাকি,,এটা পরির জন্য রেখেছিলাম তবে এটা তোরি এখন,,,তবে নাক ফুল আরহাম দিবে ওটা ওর থেকে বুঝে নিস,,,
_চাচি একটা কথা জিগ্যেস করি,,
_বল,,
নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো
_ তুমি সব আগে থেকেই নাকি জানতে তবে পরি মেমকে কেন আনলে,,
_ পরিকে আনার পড়েই আরহাম সব খুলে বলেছিলো যে ও তোকে পছন্দ করে তবে তখন তুই রাজি ছিলি না,,তাই আমি বলেছিলাম আগে তোকে রাজি করতে,,,
_ কিন্তু পরি মেম,,উনি তো,,,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ উনি তো কি,,ওকে এই বাড়িতে এনেই আমি বলেছি,তুমি যদি আমার ছেলের মন জয় করতে পারো তবেই বিয়ে হবে,, কারণ আমার ছেলের উপর আমি কাউকে চাপিয়ে দিবো না,পরিও রাজি হয়েছিলো এখন যদি বিয়েটা না হয় আমার কি করার,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে হাতের চরি গুলোর দিকে তাকিয়ে বললো
_ আমাদের বিয়ে কবে দিবে তুমি,,,
আমিনা বেগম নুবার বিচলিত কন্ঠ শুনে মৃদু হেসে বললো
_ এতো তাড়াতাড়ি,,এখন তো প্রেম মাত্র শুরু করলি অন্ততপক্ষে ১ টা মাস পুরুক,,,
নুবা একটু লজ্জা পেলো,,আমিনা বেগম হেসে নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
_ তোর চাচা তোকে ভালো কোনো জায়গায় বিয়ে দিতে চায়,, এমন কি তোর মাও তেমন ভাবে আমার ছেলেকে দেখতে পারে না,,আশা রাখছি তুই সবার মতামতেই বিয়ে করতে চাস,,তাই আগে তোর চাচাকে আর মাকে একটু পাইল করি তার পর বড় করে অনুষ্ঠান করে বিয়ে দিবো,,,আর কথা রইলো পরির,,ও থাক, আমার ছেলে সেই প্রথম থেকে তোকেই চেয়ে এসেছে বুঝলি,,এখন পরিকে পাঠিয়ে দিতাম তবে তোর চাচা ঝামেলা করবে,,তাই আমি ভেবেছি পরির জন্য ভালো একটা ছেলে দেখবো,,,এই বিষয়ে তোর চাচাকে বুঝাবো পরির মা বাবাকে বুঝিয়ে তার পর ঝামেলা সারবো,,,সব কিছু তো আর মুখের কথা না,,তাই না,,,
নুমা সব বুঝতে পেরে মাথা ঝুকালো,পরপর বলে উঠলো,,
_ আম্মু রুম থেকে বেড় হতে দিতে চায় না,,চোখে চোখে রাখে,,,এটার জন্য একটু ব্যবস্থা নেও চাচি,,
_ তোর মাকে আমি সামলে নিবো,,, তুই শুধু আমার ছেলেটার খেয়াল রাখিস,,,বড্ড অবুঝ ও,,, তুই একটু কথা মান্য করলে দেখবি তোকে মাথায় উঠিয়ে রাখবে,,
নুবা মুচকি হেসে মাথা নাড়ালো,,পরপর একটু বিচলিত হয়ে বললো
_ তোমার ছেলে গুনে গুনে ৩০ টা বেবি চায় চাচি আমি কি দিতে পারবো বলো ৩০ টাআআআ,,এই কথা কি মান্য করা যায় বলো,,
হঠাৎ কথাটা বলে নুবা নিজেই লজ্জা পেলো,,আমিনা বেগম নুবাকে বিব্রত বোধ করতে দেখে কথাটা হেসে উড়িয়ে দিয়ে বললো
_কেন পারবি না কেন,, আমার লক্ষ্মী ছেলেটা একটুখানি আবদার করেছে,,
নুবা মাথা নিচু করে বিরবির করে সুধালো
_ এটা একটু খানি আবদার,,
_ তা নয় তো কি,,আসলে ওর প্রতি অবিচার হয়েছে তো তাই হয়তোবা ওর বাপকে দেখাতে চায় যে ও কত ভালো বাবা হয়েছে,,,এটায়,,ওর দায়িত্ব তোকে দিলাম সামলে রাখিস,,,
নুবা লজ্জায় মাথা ঝুকালো,,,পরপর মাথা নেড়ে বললো,,
_ আয়রা তো আমার চাচি তাই না,,
নুবার প্রশ্ন শুনে আমিনা বেগম একটু আবেগ প্রফুল্ল হয়ে নুবার গালে হাত রেখে বললো
_ হ্যাঁ,,আয়রা তোর, আমার ছেলেটাও তোর,,আজ থেকে এই দুই জনকে তোকে দিয়ে দিলাম,, একদম আঁচলে বেঁধে রাখবি,,,টাইট করে,,,
নুবা গুনগুন করতে করতে আরহামের রুমে ঢুকে গেলো,, এখন আর নক করে না সে,,,রুমে ঢুকে দেখলো আয়রা বরাবরের মতো শুয়ে আছে তবে মৃদু কান্না করছে আর ওয়াশ রুম থেকে পানির শব্দ আসছে,,,নুবা দরজা চাপিয়ে এগিয়ে গেলো,,,,মাথায় ওরনা টেনে নিয়ে আয়রাকে কোলে নিলো,,পরপর বিছানায় বসে ড্রেস উপরে তুলতে তুলতে বললো,,
_আমার আরু বাবুর ক্ষুধা লেগেছে,,হুম,,এই পঁচা বুড়ি কার,,কার,, আমার,,, শুধু আমার,, তুমি কার বাচ্চা,, তুমি নুবুর বাচ্চা,,তাই না মা,,
বলেই আয়ারকে শ খানিক চুমু খেলো,,বুকের দুধ পেয়ে আয়রা খুশি হয়ে গেলো তার কান্না কমে আসলো,,,
পরপর নুবা বিছানার সাইডে টিভির রিমোট দেখে হাতে তুলে নিলো,,টিভি প্লাক লাগানো ছিলো তাই নুবা রিমোট দিয়ে অন করে নিলো,,,
পরপর YouTube এ ঢুকলো নুবা,,,তবে আশ্চর্য জনক ভাবে ভালো কিছুই পেলো না সে,,, কিছু সার্চ না দিয়ে সামনে থাকা সব ঘাটতে লাগলো নুবা,,তবে সব ভিডিওর কাভার পেইজ দেখেই অনুমান করতে পারলো ভালো কিছু না এগুলো,,, কেমন ভূতুরে,,,আর অশ্লীল,,,বেশির ভাগ অন্য দেশি ভিডিও,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে সুধালো
_ অসভ্য লোক সারাদিন রুমে বসে এই আলতু ফালতু জিনিস দেখে,,আর আমারি এখানে আসতে হয়,,একটু নিচে যেএ বসে থাকবে কি তা না,,,
বলতে বলতে নুবা ইন্দোনেশিয়া ভূতের মুভির বাংলা এক্সপ্লেইন ছাড়লো,,, এগুলো প্রচুর পছন্দ নুবার,,একটু একটু ভয় লাগে তবে fv তার,,, সবসময় ফ্রি টাইমে এগুলোই দেখে নুবা,,,
আয়রার গায়ে হাত বুলাতে বুলাতে নুবা মনযোগ দিয়ে মুভি দেখতে লাগলো,,, অনেক টা সময় পর আরহাম ওয়াশরুম থেকে বেড় হয়ে আসলো এক পলক নুবার দিকে তাকালো অতঃপর টিভির দিকে তাকিয়ে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো,,, কি সুন্দর গালে হাত দিয়ে মুভি এনজয় করছে ,,
Pengabdi Setan 2 অনেক ভয়ংকর একটা মুভি আরো যদি রাতে একা বসে দেখা যায় তবে তো কথাই নেই,,, আরহাম টাওজার আর পাতলা গেঞ্জি পড়ে মাথা মুছে ড্রেসিং টেবিলের সামনে যেএ হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে নিলো,,পরপর মুখে ময়েশ্চারাইজার দিলো,, ঠোঁটে হালকা করে লিপ বাপ দিয়ে,শরীরে বডি লোশন লাগালো,,তার পর গলায়,,,চুলে,,,হাতের পাতায়,,,কিকি যে দিলো সেই জানে,,পরপর পারফিউম দিয়ে নিজের কার্যক্রম শেষ করলো,,,নুবা দেখলে হতভম্ব হতো কারণ স কখনোই গোসলের পরে তো দূরে থাক কোনো অনুষ্ঠানে গেলেও এতো কিছু দেয় না,,,
আরহাম নিজের কাজ শেষ করে নুবার পাশে এসে বসলো,,তবে নুবা মুভিতে এতোটাই ব্যস্ত যে পাশে এসে কেউ বসেছে খেলায় নেই,,,নুবা হা করে তাকিয়ে আছে,,, আরহাম এক পলক টিভির দিকে তাকিয়ে নুবার কাঁধে হাত রাখলো,, হঠাৎ এমন হওয়ায় নুবা ভয় পেয়ে ফাল দিয়ে উঠে শব্দ করলো,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ আমি,,আমি নুবা,,,
নুবা আরহামকে দেখে বুকে হাত দিয়ে জোরে দুটো শাঁস ফেলে বললো
_ উফ্,,এভাবে কেউ হঠাৎ এসে খোঁচাখুঁচি করে,, আমার কলিজা মুখে চলে আসছিলো,,,
_ এতো ভয় পাও তালহে দেখো কেন,,
_ সিগারেটের উপরে লেখা থাকে খেলেই অতী তাড়াতাড়ি মরন,,তাহলে খান কেন হুম,,,
বলে নুবা টিভির দিকে তাকিয়ে বললো
_ ডিস্টার্ব করবেন না,,, চুপচাপ বসে থাকুন,,,
এদিকে আয়রা নড়েচড়ে উঠলো নুবা আয়রার পিঠে হাত বুলিয়ে তাকে শান্ত করলো,,, আরহাম মেয়ের দিকে এক পলক তাকিয়ে সুধালো,,
_ তুমি তো মুভি বেশ এনজয় করছো তবে কি একটু পপকর্ন এনে দিলে ভালো হয়,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ হুম হুম ভালো,,
আরহাম পাশ থেকে মোবাইল নিয়ে কাউকে কল করে কিছু বিরবির করলো নুবা ধ্যান দিলো না interesting একটা অংশ চলছে চোখ সরালেই মিস করে যাবে সে,,,
২০ মিনিট খানিকের ভিতরে দরজার এসে কেউ কড়া নাড়লো,, আরহাম উঠে দরজা খুলে দারোয়ান চাচাকে ধন্যবাদ দিয়ে বললো
_ আম্মুর থেকে টাকা নিয়ে যাবেন,, আমার কাছে ক্যাশ নেই
দোরোয়ান মাথা ঝুকালো,,,
_ আচ্ছা সাব (সাহেব)
আরহাম এসে পেকেট খুঁলে snacks সাথে পপকর্ন বেড় করলো,,পরপর পপকর্ন নিয়ে নুবার পাশে বসলো নুবা দিকে এগিয়ে দিলো,,,নুবা অন্ধের মতো হাতিয়ে পপকর্ন মুখে পুরলো,,, আরহাম সুযোগের সৎ ব্যবহার করলো,,এক দিয়ে আসতে করে নুবার কমড় পেঁচিয়ে নিলো,,,নুবা খেলায় করলো তবে কিছু বললো না,,এখন ছাড়ুন,, ধরুন বলার প্রয়োজন মনে করছে না সে কারণে সে মুভিতে ব্যস্ত তার উপর আমিনা বেগম সব জানে বিয়ে তাদের পাক্কা,
ঘন্টা খানিক দুই জন এক সাথে মুভি এনজয় করলো,,সাথে আয়রাও বুকের দুধ ছেড়ে একটু একটু উঁকি মেরে মাম্মা পাপার সাথে এনজয় করলো,,
মুভি শেষ হতেই নুবার বুক ফেটে নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো যেনো এতো সময় চেপে রেখেছিলো,, আরহাম মুভি শেষ হতেই বললো
_ finally শেষ,,,
নুবা আর চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ দূরে সুরুন,,মুভি শেষ,,
আরহাম মুচকি হেসে বললো
_ আর একটা মুভি দেই,,
নুবা নড়েচড়ে উঠে বললো
_ ঘন্টা খানিক হলো,,, আম্মু একটু পড়েই খুজা শুরু করবে ছাড়ুন,,,
_ এই ছাড়ুন,,কথাটা উচ্চারণ করবে না,, অসহ্য লাগে,,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে আরহামের দিকে তাকালো,,কথা ঘুরানোর জন্য বললো
_ চাচি চুরি দিয়েছে,,ভাবছি খুলে রাখবো,,
আরহাম নুবার হাত টেনে সামনে এনে চুরি গুলো দেখে বললো
_ সুন্দর লাগছে,,মানিয়েছে বেশ,,
বলেই নুবরা হাতের ঠোঁট ছুয়ালো,,নুবা মুচকি হেসলো,, আরহাম নুবার হাতের আঙ্গুলে নিজের হাত চেপে ধরে বললো
_ খুলে রাখবে কেন,, সুন্দরি তো লাগছে,
_ ধূর পাগল,, আম্মু জিগ্গেস করলে কি বলবো,,যদি বলি চাচি দিয়েছে তখন আম্মু বলছে “কেন” যদি বলি সখ হয়েছে দিয়েছে তবে বলবে “এতো দিন দিলো না আজ কেন” মানে প্রশ্ন করতে থাকবে,, বুঝে উঠতে যাবে আম্মু অনেক চালাক,,,
আরহাম নুবার কথা বলার ভঙ্গি দেখে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে নুবার হাতের চুরি উপর দিয়ে উঠিয়ে দিলো যাতে হাতের সাথে লেগে যায়,,পরপর ওরনা দিয়ে ডেকে বললো,,
_ ঢেকে রাখবে,, আম্মু দিয়েছে খুলার দরকার নেই,,,
বলেই এগিয়ে এসে নুবার কপালে চুমু খেলো,,,নুবা একটু লজ্জা পেয়ে গেলো,,এতো সুখ কি তার কপালে সইবে,,,
মানুষ টা এতো caring,,বলার মতো না,,
কেটেছে কয় একদিন,, জমিয়ে প্রেম করছে তারা,,তবে মাঝখান থেকে পরি চুপচাপ সহ্য করছে তার এছাড়া তার কোনো রাস্তা নেই,সে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার চেষ্টা করছে তবে আরহাম তার দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না,,
হাজেরা নুবাকে বকছে আর নুবা মাথা ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে মুখ বাকাচ্ছে,,যেনো তার মায়ের কথা গায়েই লাগছে না তার
_ সারাদিন এখানে ওখানে,,,ওই ছেলের রুমে তোর এতো কি,, বাচ্চার ক্ষুধা লাগছে নিয়ে আসবেসিনা,,,তোর কেন যেতে হবে,,আগে নিয়ে আসেনি,,,ওই ছেলের নজর খারাপ,,একটুও ভালো না কত করে বুঝাচ্ছি,,,তাও আমার কথা কানেই ধরছিস না,,,,
নুবা দুই হাত কানে হাত গুঁজে বসে রইলো,,
আরশির হাত পা কাঁপছে,,সে খুশি হবে না দুঃখ করবে কিছুই বুঝতে পারেএ না তবে তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে,,অজানা ভয় এসে তাকে যেনো জেঁকে ধরেছে,,,আরশি কপালের ঘাম মুছে রিহান কে কল দিতে লাগলো,,তবে রিহনা ধরছে না,,আরশির টেনশন আরো বাড়লো,,
লিভিং রুমে সবার অবস্থান,,পরি এক পাশে মন মরা হয়ে বসে আরহামের আর নুবার দিকে তাকিয়ে আছে,,,যারা কিনা দোলনায় খিলখিল করে হাসতে থাক আয়রাকে নিয়ে ব্যস্ত,,,পরি কি করবে না করেব মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে,,,ওদের প্রেমালাপ দেখলে পরির ইচ্ছা করে না মাঝখানে কাঁটা হতে কারণ তারো তো এরকম একটা মানুষ পাওয়ার ইচ্ছা ছিলো,, আফসোস সবাই তার সৌন্দর্য দেখেই ভালো বাসি বলে কেউ আসলে ভালো বাসে না,,
খাবার টেবিলেও দুই জন এক সাথে থাকে,পরি সবি খেয়াল করে তাদের চোখে চোখে দুষ্টু মিষ্টি প্রেম দেখে নিজেই নিজের উপর হাসে,,,সে যদি এতো সুন্দর না হতো তবে হয়তোবা সেও আজ মুক্ত পাখি হলো,,,এই সৌন্দর্য তার জন্য কাল হয়ে গেলো,,,
হাজেরা নুবাকে ডাকলো,,নুবা প্রচন্ড বিরক্ত হলো,,,হাজেরা নুবাকে ছাদ থেকে কাপড় আনতে বললো,
নুবা এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে সিরি বেয়ে উপরের দিকে যেএ পিছন ফিরে উঁকি দিয়ে দেখলো আরহাম তাকিয়ে আছে,,নুবা ফাজলামি করে ঠোঁট দুটো সরু করে ফ্লাইং কিস দিলো,,, আরহাম খপ করে ধরে বুকের সাথে লাগালো,,,নুবা দুষ্ট হেস এক আঙ্গুলের ইশারায় তাকে ডাকলো,, আরহাম ইদানিং অনুভব করেছে নুবা প্রচন্ড ইতর,, ফাজলামি যেনো শিরায় শিরায়,,,
আরহাম উঠে দাঁড়িয়ে আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
_আয়রাকে দেখ আসছি,,,
আরশি কান্ত মুখে মাথা নাড়িয়ে কাউকে মেসেজ করলো,,তবু রিপ্লাই আসলো না,,
ইশিতা ইদানিং রুমেই বেশি থাকে তেমন বেড় হয় না,,, হয়তোবা একটু অসুস্থ,,,
পরি পুরো কাহিনি দেখে শুকনো ঢোক গিললো,,,বুকটা চিনচিন করে উঠলো তার,,,
নুবা ছাদে এসে পৌঁছাতেই আরহাম পিছন পিছন ছাদে প্রবেশ করলো,,পরপর এসে পিছন থেকে আঁকড়ে ধরলো তাকে,,, কাঁধে থুতনি রেখে বললো
_ ডাকলেন যে,,
নুবা আরহামকে নিয়েই এগিয়ে যেএ কাপড় তুলতে তুলতে বললো
_ এতো গুলো কাপড় নিতে পারবো না তাই ডেকেছি,,,
_কিন্তু আমি তো অন্য কিছুর জন্য এসেছি,,
নুবা মুচকি হেসে বললো
_ কিসের জন্য এসেছেন,,
_ একখান চুম্মা খাওয়ার জন্য,,,(বেশ সুর দিলো আরহাম)
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে নাক মুখ কুঁচকে নিলো,,,খিলখিল করে হেসে বললো
_ কিভাবে কথা বলছেন আপনি,,
আরহাম নুবার কাঁধে ওধর ছুঁইয়ে বললো
_ পাগল হয়ে যাচ্ছি আমি,,কবে আমার হবেন,,,
_এতো অধৈর্য কেন,,সবুরের ফল মিঠা হয়,,আর আয়ারাকে কি ওই ডাইনির কাছে রেখে আসছেন,,
_ না তো,,আরশির কাছে,, তাড়াতাড়ি একটা হাপ্পি (চুমু)দিয়ে দেও চলে যাই,,
নুবা আরহাম থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে তার হাতে কাপড় ধরিয়ে দিয়ে বললো
_ আগে আমার কাজ করে দিন তার পর,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ ওরে বাটপার এর জন্য এতো সুন্দর করে ডেকেছো,,
নুবা আবারো হাসলো,,, এগিয়ে এসে টুপ করে আরহামের গালে চুমু খেএ বললো
_ শান্তি,,এবার আমার কাজ করুন তো,,,তবে ভবিষ্যতে মিষ্টি দিবো,,
আরহাম ঠোঁট কামড়ে বললো
_ এখন দিলেও মন্দ হয় না,,
সন্ধার সময় পরি চুপচাপ শুয়ে আছে,,মনটা তার কু ডাকছে,,আর কত দিন পড়ে থাকবে এখানে,, আমিনা বেগমো কিছুই বলছেন না,, শুধু বলছেন অপেক্ষা করতে কিন্তু কেনো,,,আসলে আমিনা বেগম চাচ্ছেন হারুন মির্জা এ বুঝিয়ে পরিকে ভালো কোনো ছেলের হাতে তুলে দিতে,,তবে পরির ভয় লাগছে,,, কষ্ট হচ্ছে,,,এই প্রায় দের মাসে সে আরহামকে নিজের মন দিয়ে ফেলেছিলো এক অংশ,,তাকে নিজের স্বামী ভেবেছিলো তবে চোখের সামনে অন্য কাউকে তার সাথে দেখে পরির বুক ফাটছে তবে মুখ না,,
আরশি হু হু করে কেঁদে উঠলো,,রিহান মোবাইলে ওপাশ থেকে উত্তেজিত কন্ঠে বললো
_ কান্না করছো কেন কি হয়েছে,,
_ কোথায় ছিলেন আপনি,, সারাদিন কল করেছি মেসেজ করেছি কোথায় ছিলেন,,, কতটা ভয় লাগছিলো,,
রিহান দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ একটু কাজে ব্যস্ত ছিলাম,,, কান্না করে না,,ধরেছি তো,,
আশরি হিচকি তুলে বললো
_ কাম তো সেরে ফেলেছেন আপনি,,,
রিহান ভুরু কুঁচকে বললো
_ কি হয়েছে,,,
আরশি অনেক সময় চুপ থেকে নিজের পেটের উপর হাত রেখে বিরবির করে বললো
_ আমার মনে হয় আর UK যাওয়া হবে না রিহান,আপনি এটা কি করলেন,,
রিহান অবাক হয়ে বললো
_ কি হয়েছে জান,,, অভিমান করেছো,,, এমন করে কথা বলছো কেন,,,
আরশি বিছানায় বসে নাক টেনে বললো,,,
_ আ,,আমি pregnant রিহান,,আপনি এটা কি করলেন,,এখন কি করবো আমি,,বাড়ির কেউ জেনে ফেললে কি করবো,,
রিহান কথাটা শুনে স্তব হয়ে গেলো,,, কেমন আনন্দে তার বুক ফুলে উঠলো,,,খুশি যেনো ধরছেই না তার,,,,
রিহানকে চুপ থাকতে দেখে আরশি আরো কেঁদে উঠে বললো
_ আব্বু আমাকে মেরে ফেলবে,,,সব আপনার দোষ,,সব আপনার দোষ,,,
রিহান হুসে ফিরলো শুকনো ঢোক গিলে একটু দোষ চাপাতে বললো
_ মেডিসিন নেওনি কেন তুমি,, আমাকে দোষ দিচ্ছো,,,
আরশি ধমক দিয়ে বললো
_ চুপ করুন আপনি,, অসভ্য লোক কোথাকার,,বারবার না করেছি তাও,,হায় আল্লাহ,,,কি করবো আমি,,
ধমক খেএ রিহান চুপসে যেএ ভিজা বেড়ালের কন্ঠে বললো
_ দোষ কিসের আবার,,এটা তো খুশির খবর আরশি,,
আরশি রাগে ফুসে উঠে বললো
_ হ্যাঁ খুশির খবর,, কিন্তু আপনার জন্য আমার জন্য না,,মার তো খেলে আমি খাবো আপনি তো না,,বাসায় কেউ যদি টের পায় কি হবে ভাবতে পারছেন,,,
রিহান চাপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ ২ টা দিন সময় দেও আমি কিছু করবি,,,but তুমি বেবির কোনো ক্ষতি করবে না আরশি,,,
আরশি সাপের ন্যায় ফোঁস ফোঁস করে বললো
_ বেবি নষ্ট করার হলে আপনাকে কল দিতাম,,,
_ আচ্ছা শান্ত হও,, কান্না করছো কেনো
_ কি করে শান্ত হবো আমি,,,আপনি বুঝতে পারছেন আমার ভিতরে কি চলছে,,,
_ অন্ততপক্ষে কান্না অফ করো,,,আর কয় মাস চলছে doctor এর কাছে গিয়েছিলে,,
আরশি কান্না কিছুটা থামিয়ে বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭২
_ গত ২ মাস ধরে পিরিয়ড হয় না,,,আমি প্রথমে খেয়াল করেনি তার পর আজকে আবার মাসিকের ডেট চলে গেছে কিন্তু হয় না তাই চেক করেছিলাম পজেটিভ আসছে,,,
