নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৩
সুরাইয়া জিয়াসমিন
সময়ের দাঁড়িপাল্লা এতোটাই ভারী, তবুও অদ্ভুতভাবে মুহূর্তগুলো খুব দ্রুত ফুরিয়ে যায়,অপেক্ষার প্রতিটি সেকেন্ড যেন একেকটা দীর্ঘশ্বাস হয়ে বুকের ভেতর জমে থাকে,কিন্তু ঘড়ির কাঁটা কারও জন্য থেমে থাকে না, নিজের গতিতেই এগিয়ে চলে,কিছু ক্ষণ আনন্দ কেড়ে নেয়, কিছু ক্ষণ আবার গভীর কষ্ট উপহার দেয়,
চোখের পলকেই একটি বিকেল সন্ধ্যায় হারিয়ে যায়, তারপর নেমে আসে রাত,মানুষ শুধু সময়ের পেছনে ছুটে চলে, অথচ সময় কখনো ফিরে তাকায় না,
যা একবার হারিয়ে যায়, তা শুধু স্মৃতি হয়ে হৃদয়ের ভাঁজে রয়ে যায়,আর সময় নীরবে শিখিয়ে দেয়, পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসও একদিন অতীত হয়ে যায়,,,
আরশি জ্বলজ্বল করতে থাকা চোখে সুধালো,
_ আমার বিশ্বাস হচ্ছে না,,, আম্মু তুমি মিথ্যা বলছো তাই না,,এতো কম সময়ের ভিতরে,,এতো তাড়াতাড়ি,, আমাকেও কিছু বললে না,,
আমিনা বেগম মৃদু হেসে বললেন
_ তোর ভাই নুবার প্রেমে হাবুডুবু খেএ কত কিছুই না করলো আর তুই বলছিস এতো তাড়াতাড়ি,,
আরশি খুশিতে গদগদ করে বললো
_ উফ্,,ওই নুবা আমার ভাবি হয়ে গেছে,, আল্লাহ এতো শান্তি লাগছে কেন,,, একদম উচিত শিক্ষা হয়েছে,,,
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ কার উচিত শিক্ষা হয়েছে,,
আরশি নিজের কথায় নিজে ফেঁসে গেলো,,, জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ না মানে ভাইয়া,,এবার জব্দ হবে,,তাই আরকি,,
_ সেটা তো অনেক আগেই হয়েছে,, আল্লাহ আল্লাহ করি আর কোনো ঝামেলা না হোক,,
আরশি আরহাম আর নুবার বিয়ের কথা শুনে অনেকটাই খুশি হলো কারণ আরফের বলা কথাটা” তুই এই বাড়ির বউ হওয়ায় যোগ্য না” কথার উত্তর দিলো নুবা,,,এখন এই বাড়ির বড় বউ সে,,,যাক তার ছোটো ভাইটা জব্দ হলো,,এবার দেখুক কত ধানে কত চাল,,,
_ o ho লজ্জায় তো একদম লাল হয়ে যাচ্ছেন ভাবিজান,,, আমার ভাইটাকে সামলাতে পারবেন তো,,,হুম,,,
নুবা মাথা নিচু করে মিটমিট হেস আয়রাকে বুকের সাথে জরিয়ে নিয়ে বললো
_ আপুউউ,,,
আরশি নুবার দিকে ঝুঁকে তাকিয়ে বললো
_ কি আপু হুম,, ননোদ হই আপনার,,,কিসের আপু হ্যা,,,বড় ভাবি আপনি আমার,,,
নুবা আরো লজ্জা পেলো,, কেমন অদ্ভুত লাগছে তার,,, সম্পর্ক গুলো যখন এক পলকেই বদলে যায় তখন হয়তোবা এমনটা লাগাই স্বাভাবিক,,,
জব্বর খান মুখে সকালের নাস্তা তুলতে তুলতে বললেন,,
_তো নতুন খবর কি,,,
ফিরোজ নাজমা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো
_ ভাবি আর একটু ভাজি দেন,,
নামজা এগিয়ে এসে ফিরোজের প্লেটে খারাপ তুলে দিলো,,,ফিরোজ রুটি ছিরে মুখে দিয়ে বললো
_ বাআ বাআ ভাবি,,, আপনার হাতের খাবার খেলে পেটটা ভরে যায়,,,
নাজমা মৃদু হাসলো,,, জব্বার খান ফিরোজের দিকে তাকিয়ে বললো
_ এদিক ওদিকের কথা না বলে মেইন পয়েন্ট এ আসো,,,আজ অনেক দিন পর আসলে যে,,
ফিরোজ রুটি চিবোতে চিবাতে বললো
_ ব্যবসায় লালবাতি জ্বলে গেছে,,,
_কেন কি হয়েছে,,,
ফিরোজ ভারি নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ নতুন করে হসপিটাল খুলছে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হারুন মির্জা,,,
_ তা তো ভালো,,,আমাদেরি লাভ,,
ফিরোজ ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ লিগেল ভাবে সকল পারমিশন নিয়ে নিয়েছে,,,কোনো রকম ভাগ দিবে না,,, আমি মানুষ পাঠিয়েছিলাম,, বল্লাম হসপিটাল খুলে কি হবে,,শপিং মল ,টল খুলুক,, কিন্তু না তার তো সমাজ সেবা করতে হবে,,,
ফিরোজের কথা শুনে জব্বার খান ভুরু কুঁচকে বললো,,
_ ভাগ দিবে না মানে,,
_ ওই যে বল্লাম না লিগেল ভাবে সব পারমিশন নিয়েছে,,তার উপর নতুন একটা টেন্ডার ভরেছে,,, প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে তবে আমাদের কচুও দেয়নি,,,
জব্বার খান দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,
_ হঠাৎ রুপ পালটে গেলো কি করে,,সব তো ঠিকি ছিলো,,, আমাদের ৪০% দেওয়ার কথা ছিলো,,
ফিরোজ হেসে ফিসফিস করে সুধালো,,
_শুনা গেছে ,,বড় ছেলে নাকি আসছে,,,যেই কয়টা হেলু তেলু ছিলো সবকয়টিকে মাত্র এক দিনেই টাইট করে দিয়েছে,,ফল স্বরুপ আমাদের হাতে কচু এসেছে,,,
জব্বার খান মাথা ঝুঁকিয়ে,, খাবার চিবিয়ে বললো,,
_ আচ্ছা,, ব্যপারটা আমি নিজে যেএ দেখবো
পরি চুপচাপ স্লিলিং এর দিকে তাকিয়ে আছে,,,আজ সকালেই তাকে বাড়িতে আনা হয়েছে,,,যখন জ্ঞান ফিরেছিলো তখন ঝাঁপসা চোখে নাবিলকে দেখেছিলো সে,যে কিনা ক্ষিপ্ত হয়ে অর্ধ জ্ঞান শূন্য পরিকে খারাপ ভাবে ধমকিয়ে রেখে গেছে,,, অসুস্থ পরির এখনো কানে বিঁধছে সেই বাক্য গুলো,,,
_এ জনমে তুই আমার কাছ থেকে মুক্তি পাবি না,,যদি মুক্ত চাস তবে সাথে তোর পরিবারেরো চেয়ে নিস,, কারণ তুই যাওয়ার পর মনে হয় না তোর পরিবার বেশ সুখে থাকবে,,মাথায় ঢুকিয়ে নে কথা টুকু,,,
ভেবেই পরির চোখের কার্নিশ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,, অনুমান করলো সে এই জনমে নাবিলের থেকে নিস্তার পাওয়া মানে জল্লাদের হাত থেকে সাময়ীক ভাবে রুহ কবজ থেকে রক্ষা পাওয়া,,,
হারুন মির্জা আরহামের হেলামি মুখের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো,,
_ তুমি কি সত্যিই কম্পানিতে জয়েন করবে না,,নাকি,,,
আরহাম ডাইনিং টেবিল থেকে আঙ্গুর তুলে মুখে দিয়ে বিরবির করে বললো
_ করবো তো,,, কিন্তু তোমার বউ মা তো যেতে দিচ্ছে না,,
নুবা ডাইনিং টেবিলে বসে ফল কাটছিলো,,আরহামের কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেলো সে,,,ফট করে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো,,
_ আমি,,আমি কবে না করলাম,,
আরহাম এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে বললো,,
_আপনিই তো যেতে না করেছেন,,,
নুবা উঠে দাঁড়ালো অবাক হয়ে বললো
_আ,,আমি,,
হারুন মির্জা রাগি কন্ঠে বললেন
_ তুমি যে কাম কাজ করবে না এটা স্বীকার করো,বউ কে Blame না করে,,,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো,,
_ বিয়ের ৩/৪ দিন হয়ে গেলো,,তাও এখনো বাসর করতে পারিনি তাহলে অফিসে যেএ কি মন বসবে dad,, তুমিই বলো,,, মিষ্টি না খেএ অফিসে গেলে অমঙ্গল হবে না,,,
ছেলের কথায় হারুন মির্জা হতভম্ব হয়ে গেলো,, বিষ্ময়ে তার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো,,,নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,,সে কেমন রিয়াকশন দিবে বুঝতে পারলো না,,,আমিনা বেগম ছেলের কথা শুনে খু খু করে কেশে উঠলেন,,,
আরহাম বিব্রত নুবার দিকে তাকিয়ে ঠোঁটে শয়তানি হাসি নিয়ে বললো,,,
_ বারবার মিষ্টি খেতে যেয়েও ফিরে আসার কষ্ট তোমরা কি বুঝবে,,,তার উপর যদি মিষ্টির মালিকি মুখ কালো করে ফিরিয়ে দেয় তবে তো আরো কষ্ট ,,
নুবা লজ্জায় রাঙ্গা হয়ে গেলো,,গাল গড়ম হয়ে গেলো বেচারির দাঁতে দাঁত আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনি,, অসভ্য লোক,,,
বলেই ছুটে কোনো মতে পালিয়ে গেলো সে,, হারুন মির্জা আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে মিনমিন করে বললেন
_ আসছি,,,দুপুরের লাঞ্চ পাঠিয়ে দিও,,
বলেই তিনি বেড় হয়ে গেলেন,,তবে মনে মনে ছেলেকে বেয়াদব বলতে ভুললেন না,,,
হারুন মির্জা যেতেই আরহাম আয়রাকে আমিনা বেগমের কাছে দিয়ে এক পলক হাজেরার দিকে তাকিয়ে,,যে কিনা বিরক্ত নিয়ে তাকিয়ে আছে,,, আরহাম মুচকি হেসে বউ এর পিছন পিছন গেলো,,
হারুন মির্জা ফাইলের দিকে তাকিয়ে চুপচাপ কিছু পর্যবেক্ষণ করতে করতে বললেন,,
_ মন্ত্রী সাহেব যে,, হঠাৎ করেই এখানে,,
জব্বার খান মৃদু কন্ঠে বললো
_ বসতে বলেন না নাকি,,,
জব্বার খানের কথায় হারুন মির্জা ভুরু উঁচিয়ে তার দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বললেন
_ আপনাকে তো আসতে বলিনি,, apontment ব্যতিত এই পর্যন্ত চলে আসলেন,,এখন বসে পড়ুন,, কারণ ক্ষমতার জোরে এসেই যেহেতু পড়েছেন,,,
জব্বার খান একটু হেসে চেয়ার টেনে বসে বললো
_ ক্ষমতা ব্যতিত জীবন চলে না মির্জা সাহেব,
হারুন মির্জা ফাইল বন্ধ করে জব্বার খানের দিকে তাকিয়ে বললো,,
_ তা নিজের টাকায়,চা পানি নিতে পছন্দ করবেন,,
_ প্রয়জন নেই,,
হারুন মির্জা তাও দুটো চা আনতে বললেন কর্মচারী ডেকে পরর টেবিলের উপর হাত রেখে বললেন,,
_ হঠাৎ করেই আমার এখানে অশুভ কদম রাখার কোনো প্রধান উদ্দেশ্য,,,
জব্বার খান,, হারুন মির্জার কথার ধরন বুঝেও মুচকি হেসে বললেন,,
_ নতুন করে নাকি হসপিটাল খুলার পরিকল্পনা করছেন,,,কাজ নাকি শুরুও করে দিয়েছেন,,তা আপনি কি জানেন আমি চাইলে আপনার এই কাজ ২ মিনিটে আটকে দিতে পারি,,,
_ Legal পারমিশন আছে আমার কাছে,,,,আমি সব বিবেচনা করেই এটা শুরু করেছি,,,আপনি যদি এই বিষয়ে কথা বলতে চান তবে আমার ম্যানেজারের সাথে বলতে পারেন,, কারণ এই মূহুর্তে আমার অনেক কাজ আছে,,,
জব্বার খান দাঁতে দাঁত চেপে বললেন,,
_ আপনি ভুলে যাচ্ছেন আমি কে,,
হারুন মির্জা নির্ভয়ে হেসে বললো
_ চাঁদাবাজি করতে এসেছেন তাই তো,,এসেছিলো আপনার লোক,,তবে আফসোস আমি তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি,,,তাই আপনি এসেছেন,,তবে আপনি যদি ভাবেন আমি ভয় পেয়ে যাবো তবে sorry mr জব্বার খান,,আমি কাউকে কোনো পার্সেন্টেন্স দিতে পারবো না,,, কারণ এটা শুধু গরিবের হোক,,,আর হ্যাঁ কোনো ঝামেলা করার আগে ২ বার ভেবে নিবেন ,,,
জব্বার খান টেবিলে শব্দ করে বারি দিয়ে উঠে দাঁড়ালো,, হারুন মির্জা তার রাগি মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,
_ আগে কিছু কিট পতঙ্গে বিশ্বাস করে অনেক ভাবে লস খেয়েছি,,,তবে দ্বিতীয় বার এই ভুল করবো না,,আপনি যেতে পারেন,,
জব্বার খান দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ খুব প্রস্তাবেন আপনি,,,
_ দেখা যাবে,,হুমকি কম দেন,,
পরপর আরো তর্ক বিতর্ক হলো,,, জব্বার খান রেগে নিজের লোকদের নিয়ে ওখান থেকে বেড় হয়ে গেলো,,
দুপুর দেড়টা নাগাদ নুবা গোসল সেরে ওয়াশ রুম থেকে বেড় হলো,,,ভেজা চুলগুলো কাঁধ বেয়ে নেমে এসেছে, এক হাতে তোয়ালে নিয়ে ধীরে ধীরে চুল মুছতে লাগলো সে,,,
ঘরের ভেতর তখন এক শান্ত মায়াবী পরিবেশ,, বিছানায় ছোট্ট মেয়েটা গভীর ঘুমে ডুবে আছে, আর পাশে শুয়ে থাকা আরহামের ঘুম ভেঙে গেছে কিছুক্ষণ আগেই,,, দুপুরে মেয়ের সাথে শুয়ে নিজেও ঘুমিয়ে পড়েছিলো,,,
চোখ খুলেই আরহামের প্রথম নজর পড়লো তার ছোট্ট মেয়ের দিকে, তারপর থেমে গেল নুবার ওপর,, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নুবাকে দেখে তার মুখে অজান্তেই এক মুগ্ধ হাসি ফুটে উঠলো,,,
আরহাম ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠে নুবার দিকে এগিয়ে গেল,,নুবার তখনও খেয়াল নেই, সে নিজের চুলের যত্নে ব্যস্ত,,হঠাৎ পেছন থেকে আরহামের পরিচিত স্পর্শে নুবা একটু চমকে উঠলো
আরহাম তাকে পেছন থেকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে আয়নায় তাদের দুজনের প্রতিচ্ছবি দেখে বিরবির করে বললো,,,
_ এবার কি উপোষ ভাংবে,,আর কত,,,
নুবা আয়নার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলো,,,আরহামের ধৈর্য হারা আর লাগাম ছাড়া কথা তাকে বুঝিয়ে দিচ্ছে কাছে কাছে পাওয়ার জন্য কতটা উতলা আরহাম,,তবে ভাগ্য সহায় না থাকায় হাজেরার রাগ কমলেও মাসিকের সম্মুখীন হয়েছে নুবা,,,এই বিষয়টা আরহামের কাছে বলতেও তার কেমন দ্বিধাবোধ লাগছে,,,নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো,,
_ আমাকে আর কয়টা দিন সময় দিন,,,
আরহাম নুবার চোখের দিকে তাকালো ,, আরহাম নুবার গলায় মুখ গুজে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো,
_ ধৈর্য্যের পরিক্ষা নিচ্ছো তাই তো,,,
নুবা একটু লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে নিলো,,, চাওয়া পাওয়া গুলো পূর্ন না করতে পারায় বেশ বিব্রত হচ্ছেন বেচারি নুবা,,,এতো বার নিজের অধিকার চেয়ে ফেলেছে সে আর নুবা লজ্জায় মুখ ফুটে বলতেও পারছে না তবে সে আশা রাখছে এই বিষয়টা নিয়ে আরহামকে বলবে,,,
আরহাম নুবাকে চুপ থাকতে দেখে বিরবির করে বললো,,
_ আর কতবার ফিরিয়ে দিবে,,,আর কতবারি বা আমি তোমার কাছে এভাবে আকুতি মিনতি করবো,,,
নুবা ধীরে ধীরে আরহামের হাতের ওপর নিজের হাত রাখলো,,,মাথা নিচু করে নিলো সে,,পরপর মৃদু কন্ঠে বললো,,,
_ আমার ১ টা সপ্তাহ সময় দেন,,,আমিও চাই না এভাবে আপনাকে ফিরিয়ে দিতে,,,তবে,,,
আরহাম নরম গলায় বললো,
_ তবে কি,,একবারে অনুষ্ঠানের পর কাছে আসতে দিবে এটাই তো,,,
নুবা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো,,পরপর আয়নার দিকে তাকিয়ে মলিন কন্ঠে বললো,,,
_ আসলে মাসের এই ৭ টা দিন বিরতি পেয়েছি,,,আশা রাখছি আপনিও আমাকে বোঝার চেষ্টা করবেন,,,
নুবার কথাটা বুঝতে আরহামের কিছুটা সময় লাগলো,,পরর বুঝতে পেরে নুবার দুই বাহু ধরে নিজের দিকে ঘুরালো,,নুবা মলিন চোখে আরহামের দিকে ফিরে তাকালো,, আরহাম দুই হাত দিয়ে নুবাকে পেঁচিয়ে ধরে বললো
_ মিথ্যা বলছো হুম,,,
নুবা মুখ কালো করে বললো
_ আজব মিথ্যা কেন বলবো,, আমাকে বিশ্বাস করেন না,,,
আরহাম মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ তা তো করি,,, আচ্ছা এটা অফ করার কোনো লাইন নেই,,না মানে ১ সপ্তাহ বেশি হয়ে যায় না,, অধৈর্য হয়ে যাচ্ছি আমি,,,
নুবা আরহামের কথায় আহাম্মক বনে গেলো,,, ভাঙ্গা শব্দে গাল ফুলিয়ে বললো
_ অফ করা যায় মানে কি,,, কিরকম কথা বলছেন,,,
আরহাম মৃদু হেসে নুবার দুই গালে হাত রেখে আদুরে কন্ঠে বললো,,
_ বিড়ালের বাচ্চার মতো বউ টাকে কোনো শিয়াল এসে যদি টুপ করে নিয়ে যায়,,সেই ভয়ে,,তার উপর আমার শাশুড়ি বড় বাঘ,,কখন আবার আপনাকে নিয়ে পালায় বলুন,,,
আরহামের কথায় নুবা ফিক করে হেসে উঠলো,,বুঝতে পারলো বউ আবার উড়ে না যায় সেই ভয় পাচ্ছে বেচারা,,,,নুবাকে হাসতে দেখে আরহাম ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ তুমি হাসছো,,আমিই জানি আমার কতটা টাইট ফিল হচ্ছে,,,২ মিনিট আপনাকে না দেখলে কতটা অস্থির হয়ে পড়ি,,,
নুবা আরহামের গলা জরিয়ে ধরলো,,পরপর তার ওধর দখল করে নিলো,,, আরহাম নুবার কান্ডে প্রচন্ড খুশি হলো,,পুরো পরিবেশ নিরব হয়ে গেলো,, শুধু নুবা আর আরহামের নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা গেলো,, এরকম একটা মূহুর্তে হঠাৎ ছোট্ট আয়রা হালকা নড়াচড়ায় আর কান্নায় দুজনের চোখ সেদিকে গেল,,
নুবা আরহামকে ছেড়ে দিয়ে হেঁসে উঠে বললো
_আয়রাও আপনাকে ধৈর্য ধরতে বলছে,,
আরহাম এগিয়ে এসে নুবার ওধরে ছোট্ট করে চুমু খেএ,,হেসে বললো,
_ মা মেয়ে মিলে বুদ্ধি এঁটেছে যে আর কোনো নতুন সদস্য দরকার নেই তাই তো,,,
নুবা আয়রার দিকে তাকিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে বললো
_ ধৈর্যের ফল মিটা হয় আয়রার পাপা,,
নুবা এগিয়ে যেএ আয়ারকে কোলে তুলে নিয়ে দুটো চুমু খেএ বললো
_ আমার আরু বাবুর ক্ষুধা লেগেছে,,হুম,, আমার আম্মুর পেটের ভিতরে চুকচুক করছে তাই না মা,,সেই সকাল থেকে আমার আম্মুটা একটু খানি খেয়েছে,,,এখন একটু খাবে,,,একটু খাবে আমার মা,,
বলতে বলতে ভেজা চুল বেঁধে বিছানায় বসলো নুবা,,আয়ারকে বুকে আগলে নিয়ে বুকের দুধ দিলো,,,আয়রা কান্না থামিয়ে চকচক শব্দ তুললো,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯২
আরহাম এগিয়ে এসে নুবার পিছনে বসলো,,,ভেজা চুল খুলে তাওয়াল দিয়ে মুছতে মুছতে বললো
_ ঠান্ডা লেগে যাবে,,,এভাবে ভেজা চুল কখনোই বাঁধবে না,,,
নুবা মুচকি হাসলো,,,মনের ভিতরে প্রজাপতি উড়লো,, এমনি তো একটা মানুষ জীবনে চাইছিলো সে,,,তবে আসলেই কি তার চাওয়া পাওয়া পূর্ন হলো নাকি শুধু সাময়িক সুখ এটা,,,
