নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯০
সুরাইয়া জিয়াসমিন
পরি কোনো মতে নিঃশ্বাস নিচ্ছে,,,নাবিলের দেহের চাপে তার শরীরে,,হাতে ফোঁটা ছোট্ট ছোট্ট কাঁচের টুকরো গুলো আরো ভিতরে গেঁথে যাচ্ছে,,, যন্ত্রনায় পরি আর্তনাদ করছে
পরির মনে হচ্ছে,,তলপেট যেন অসহনীয় যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছে। প্রতিটি মুহূর্ত তার কাছে এক একটি দুঃস্বপ্নের মতো দীর্ঘ হয়ে উঠছে,, নাবিলের নিষ্ঠুর আচরণ তার শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে,, ভয়, অপমান আর অসহায়ত্ব একসঙ্গে চেপে বসেছে তার বুকের ওপর,,চোখ বেয়ে নীরবে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে,,,
আর্তনাদ করতে করতে পরির গলাও বসে গেছে,,, শুধু শরীর কাঁপছে,,মনে হচ্ছে চোখের সামনে সব ঝাঁপসা হয়ে আসছে,,,বারবার গুঙ্গিয়ে উঠছে সে,,,পরি মনে মনে মৃত্যু নামক বস্তু কে স্মরণ করছে,,তবে নিষ্ঠুর ভাগ্য তার মৃত্যুও যেনো তার সাথে আজব খেলা খেলছে,,,এই দেখো ব্যথায়,, যন্ত্রণায় সব অন্ধকার হয়ে আসছে,,আবার দেখো নাবিলের দেওয়া এক একটা ঝাঁকুনি তাকে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে,,,পরি হাত দুটো রক্তে মিশে একাকার হয়ে গেছে,,, না আটকানোর শক্তি না আর্তনাদ করার,,,
তবে নাবিল পারছে না পরির শরীরে মাংস চিবিয়ে খেতে,,,যেখানে তার সুচালো দাঁত বসাচ্ছে সেখান থেকেই রক্ত ঝড়ছে,,, হয়তোবা পরি মানুষ না হলে তাকে ছিরে ছুটে খেয়েই ফেলতো,,,,তার দানবিয় নক গুলো পরির শরীরের ফর্সা মাংস ভেদ করে লাল হয়ে যাচ্ছে,,বারবার পরি বাঁচার জন্য আর্তনাদ করে উঠছে,,,তার কাছে মনে হচ্ছে সে কোনো জাহান্নামে আছে যেখান থেকে বেড় হওয়া স্বপ্নের মতো,,,
নুবার হাত পা কাঁপছে,,পাশে আরহাম বসা,, সামনে কাজি,,, হারুন মির্জা নিজেও জানেন না এতো রাতে বোডি গার্ডরা কিভাবে এই কাজিকে তুলে এনেছে,, নিশ্চয় বাড়ি থেকে,,,
সব কাগজ পত্র সুন্দর মতো তৈরি করা হলো,,, আরহাম নুবার হাতটা ধরে রেখেছে,,,আর অন্য হাতে বন্দুক,,,হাজেরা মেয়ের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,চোখ দিয়ে পানি পড়ছে তার,,মন বলছে এই মেয়ে শেষ,,,নুবা,,এই নুবা মরন ফাঁদে পা দিচ্ছে,,,হাজেরার বুক কাঁপছে,,,,
কাজি গলা ছেড়ে কাশলো,,, মৃদু কন্ঠে বললো
_ দেনমোহর কত ধার্য করবো,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো,,,
_ এটা আবার কি,,,
কাজি শুকনো মুখে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ টাকা বাবা,,,বাসর রাতে স্ত্রী কে স্পর্শ করার আগে এই দেরমোহর দিতে হয়,,,কত ধরবো,,,
হারুন মির্জা এগিয়ে এসে বললেন,,,
_ ১/২ কোটি ধরেন ছেলে আমার বড়লোক আছে,,,
আরহাম হারুন মির্জার দিকে তাকিয়ে বললো
_ যাতে টাকা ব্যাংক থেকে তুলতে তুলতে আবার ওকে নিয়ে পালানোর সুযোগ পাও,,,
কান্নার ভিতরে এই কথা শুনে নুবা মনে মনে হেসে ফেললো,,,তবে তা প্রকাশ করলো না,,, হারুন মির্জা একটু কেশে বললেন
_ তা তুমি বলো বাবা তুমি কতো দিবে,,নাটক তো কম করলে না,,,
হাজেরা মৃদু কন্ঠে বলে উঠলো
_৫/৬ হাজার কোটি ধরেন,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ যাতে আপনার মেয়ের কাছে কোনো দিন না যেতে পারি সেই ধান্দা তাই না,,,তা আপনি শাশুড়ি নাকি ব্রিটিশ,,নানি টানি হবেন না নাকি,,,
হাজেরা গম্ভীর কন্ঠে বললো
_ কেন এতো নুবা নুবা করে মুখে ফেনা তুলো সামান্য এতটুকু দিতে পারবে না,,,
আরহাম সরু দৃষ্টিতে হাজেরার দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনি কি আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন যে দিতে পারবো না,,,
হাজেরা একটু হেসে বললো
_ অবৈধ টাকা,,,না দিতে পারার কি আছে,,,
আরহাম একটু তেতে উঠে বললো
_ অবৈধ,, না বৈধ তা আমার টা আমি ভালো জানি,, আপনার এতো বলতে হবে না,,, আর এতো টাকা দেরমহর দিয়ে আমি সময় নষ্ট করতে চাই না,,আগে বাসর সারবো যাতে মেয়েকে নিয়ে আবার উড়াল না দিতে পারেন,,,,মেয়ের জামাই কে সাপোর্ট করতে শিখুন তাচ্ছিল্লো না,,,
হাজেরা কাঠ কাঠ কন্ঠে বললো
_ তোমার মতো ছেলেকে মেয়ের জামাই মানছে কে,,, আমার মেয়ের মাথার বুদ্ধি ঘাষ চড়তে গেছে তাই তোমার মতো মানুষ কে নিজ ইচ্ছায় বিয়ে করছে,,,
আমিনা বেগম হাজেরার দিকে তাকিয়ে বললো
_ এবার অন্ততপক্ষে আমার ছেলেটাকে দোষ দেওয়া বন্ধ করো,,,শুভ সময়ে অসুভ কথা বলিও না হাজেরা,,
হাজেরা চুপ হয়ে গেলো,, কিন্তু সেই জানে তার বুকের ভিতরে কি চলছে,,অজানা ঝড় বইছে,,,জানা নেই এই ঝড় কবে থামবে,,, শুধু দোয়া করছে সুখে থাক মেয়েটা,,, এদিকে নুবা চুপচাপ বসে আছে,, আরামের লাগাম ছাড়া কথায় তার মনে হচ্ছে আবারো ঝামেলা হবে,,,,
আরহাম পকেট হাতিয়ে মানি ব্যাগ বেড় করলো,,,পরপর মানি ব্যাগ খুলতেই ৪ টা হাজার টাকার নোট,,,একটা ৫০০ টাকার আর একটা,, পরপর black র্কেডিট কার্ড বেড় করে কাজির সামনে রেখে বললো
_ unlimited money,,যত যাবে তত আসবে এটাই ওর নামে করে দিলাম,,,
কাজি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললে বললো
_ দেহমোর তো বউ কে দিতে হয় আমাকে না বাবা,,, তুমি বরং এই আমানত তোমার বউ এর হাতেই তুলে দিও,,
ঘরে এক মুহূর্তে নীরবতা নেমে এলো। উপস্থিত সবাই চুপচাপ বসে রইল। কাজি সাহেব সামনে রাখা নিকাহনামা খুলে শান্ত কণ্ঠে বলতে শুরু করলেন।
কাজি শান্ত কন্ঠে বলে উঠলেন,,,
_”বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,, মাননীয় বর, কনের সম্মতিক্রমে আমি আপনাকে বলছি,আপনি কি ইয়াশ রহমান-এর কন্যা নুবাইরা রহমানকে নির্ধারিত দেনমোহরের বিনিময়ে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক স্ত্রী হিসেবে কবুল করলেন?”
আরহামের বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ করে উঠলো,,, কিছু সময়ের জন্য সে চুম থেকে শান্ত কন্ঠে বললো,,,
_ আলহামদুলিল্লাহ কবুল করলাম,,,
আরহমের মুখ দিয়ে কবুল শব্দ শুনে নুবার বুকটা তিরতির করে কেঁপে উঠলো,,,নুবা ফিরে তাকালো আরামের দিকে,,কাজি আবার কবুল বলতে বললেন,,, আরহাম বাকি দুই বার আলহামদুলিল্লাহ কবুল বলে নিজের তরফ থেকে সম্মতি দিলো,,
পরপর কাজি বিয়ের রেজিস্ট্রি পেপারে সাইন করতে বললো ,, আরহাম নির্দ্বিধায় সাইন করে দিলো,,এবার পালা নুবার,,নুবার বুকটা টিপটিপ করছে,,,বিয়ে হচ্ছে তার,,বিয়ে হচ্ছে ভেবেই তার শরীর ঝিমঝিম করে উঠলো,,
ঘরের পরিবেশ আরও গম্ভীর হয়ে উঠল। কাজি সাহেব নিকাহনামায় বরের সম্মতির অংশটি লিখে নিলেন। এরপর তিনি সাক্ষীদের দিকে তাকিয়ে সম্মতি নিশ্চিত করলেন এবং নুবাইরা রহমানের কাছ থেকে একইভাবে তিনবার কবুল নেওয়ার জন্য তার দিকে তাকালেন,,,
সাক্ষী হিসাবে রইলেন,,রিহানের মা আয়শা,,আরাফ,,আর তানিয়া,,আয়শা বেগমকে কাজির সাথে সাথে বাড়ি থেকে নিয়ে আশা হয়েছে,,,,,,(হঠাৎ করে বিয়ে করলে এমনি হয় সাক্ষীর অভাব)
অর্ধ রাতে ঘুম থেকে উঠিয়ে তাকে যে এভাবে বিয়ের সাক্ষী হিসাবে রাখা হবে সে ভাবতেও পারেনি,,না মানে জাওরামির একটা লিমিট থাকা দরকার,,যার সাথে বাসর করতে চাইলো তার বিয়েতে,,তার নিজেকে সাক্ষী হতে হলো আফসোস,,,,
কাজি কিছু কাজ সম্পূর্ণ করে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_আপনি কি জনাব হারুন মির্জার পুত্র আরহাম শাহারিয়ার মির্জাকে নির্ধারিত দেনমোহরের বিনিময়ে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক আপনার বৈধ স্বামী হিসেবে স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে ও বিনা চাপে কবুল করলেন?
নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিলো,,এই কবুল শুধু একটা শব্দ নয়,,কারো জীবনের সাথে জুরে যাওয়ার একটা মাধ্যম,,,এই কবুল শব্দ যে উচ্চারণ করেছে আলহামদুলিল্লাহ সে ফেসে গেছে,,এখন আরো দুই জন বলির পাঠা হচ্ছে,,
নুবা মাথা উঁচু করে একবার তার মায়ের দিকে তাকালো,,,হাজেরার চোখ ছলছল করছে,,,নুবা চোখের ইশারায় মাকে কিছু সুধালো,,হাজেরা মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো,,,
কারণ মায়ের মনতো বুঝে কোনটা ভালো কোনটা খারাপ,,,হাজেরার মন গাইছে এই বিয়ে,,বিয়ে না এটা মরন ফাঁদ,,যা তার নিষ্পাপ মেয়ের জন্য পাতা হয়েছে,,এই আরহামের হাতে একদিন তার সোনার টুকরার মরন লিখা থাকবে,,,এটা কোনো ভালোবাসা না,,,,এটা শুধুই অদ্ভুত অনুভূতি,,,,
নুবা চেয়ে রইলো তার মায়ের দিকে,,, আরহাম হাতে থাকা গান টা সামনে রেখে নুবার দিকে ঝুঁকে তাকালো,,,
নুবা মায়ের পান থেকে চোখ সরিয়ে আরহামের দিকে তাকালো,,, আরহাম চোখ গড়ম করে নুবার দিকে তাকালো,,,হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে এক হাত দিয়ে গড়িয়ে পড়া চোখের পানি মুছে সরে গেলেন ওখান থেকে,,,নুবার বুকটা কেমন ছ্যাত করে উঠলো,,মা সরে গেলো তার দোয়া ব্যতিত সুখি কি করে হবে নুবা,,,
আমিনা বেগম এগিয়ে এসে বললেন
_ কি হয়েছে নুবা,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে “কিছু না” বললো ,, হারুন মির্জা মৃদু কন্ঠে বললেন
_ মনের বিরুদ্ধে কিছু করিস না মা,,,
নুবা কিছু টা সময় নিয়ে কম্পিত কন্ঠে বললো
_ আলহামদুলিল্লাহ ক,কবুল,,,, কবুল,,, কবুল,,,,
পরপর নুবার সামনে সাইন করার জন্য পেপার দেওয়ার হলো,,কলম তো হাতে নিলো সে তবে কেমন হাত কাঁপছে লাগলো,,এই সাইনের মাধ্যমে সে নিজেকে আরহামের নামে লিখে দিবে,,,,নুবাকে এরকম কাঁপতে দেখে আরহাম এগিয়ে এসে নুবার হাতের উপর হাত রাখলো,,নুবা ভরসা পেলো,,, অনেক কষ্ট করে আঁকিয়ে বাঁকিয়ে নিজেদের নাম লিখে দিলো,,,,নুবার সই করে দিতেই সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠলো,,তবে আরাফ মুখ ঘুমড়ো করে দাঁড়িয়ে রইলো,,এই মেয়ে তার ভাবি হয়ে গেলো যার সাথে এক কালে সে প্রেম করেছে ছি ছি,,
নুবা আশে পাশে চোখ বুলিয়ে তার মাকে খুঁজলো তবে পেলো না,,, অতঃপর ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক আরো কিছু নিয়ম কানুন পালন করে নুবা মিস নুবা থেকে,, মিসেস মির্জা হয়ে গেলো,,,
আজ এই মূহূর্তে থেকে সে এই বাড়ির বড় বউ,,আয়শা সাক্ষী দিয়ে আবার চলে গেলো কারণ কালকে আরশি আবসে,,বউ ভাত তাকে যেতেই হবে,,,
এদিকে তানিয়া আবেগ প্রফুল্ল,,,তার মতো ২ টাকার কাজের লোককে বিয়ের সাক্ষী হিসাবে রাখলো,,তানিয়া ভেবেই হাসলো এতো ঝামেলার পর তাদের বিয়েটা তবে হলো,,তানিয়া শুধু মন খুলে দোয়া করে দিলো,,
অন্যদিকে বিয়ে শেষে হতেই আরাফ কোনো মতে ইশিতাকে নিয়ে রুমে চলে গেলো,,সহ্যই হলো না তার নুবা এই বাড়ির বড় বউ হয়ে গেছে,,,তার ভাবি,,,আরফের বুকটা কেমন চিনচিন করে উঠলো,,এক সময় যে মেয়ে তার জন্য ছটফট করেছে আজ সে তারি বড়ো ভাইয়ের বউ,,,,ভাবতেই আরাফের দাঁতে দাঁত চেপে আসলো,,,মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো নুবাকে এই বাড়িতে টিকতেই দিবে না সে,,,
কাজি ফ্রিজের ২ দিন আগের বাহি মিষ্টি খেএ হাত ভর্তি টাকা নিয়ে চলে গেলো,,,তানিয়াও ঘুমাতে রুমে চলে গেলো,,বাকি রইলো হারুন মির্জা,,আমিনা আয়রা,, আরহাম আর নুবা,,,
নুবার শরীর মৃদু কাঁপছে তার বিশ্বাস হচ্ছে না সে আরহামের স্ত্রী,,আয়রা তার মেয়ে,,,আমিনা বেগমের বুকে রাখা পাথর যেনো সরে গেলো,,, এগিয়ে এসে ক্ষুধায় এতো রাত করে জেগে থাকা আয়রাকে নুবার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো
_ তোর মেয়ে,,,,
নুবা ছলছল চোখে সেদিকে তাকালো পরপর ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মৃদু কন্ঠে কেঁদে উঠলো,,,,বিরবির করে বললো
_ আম্মু অনেক রাগ করেছে চাচি,,মায়ের দোয়া ছাড়া কি করে সুখি থাকবো,,,
আমিনা বেগম নুবার কষ্ট বুঝতে পেরে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন
_ কয়দিন যাক,,,হাজেরার রাগ পরে যাবে আর চাচি না “মা” বলে ডাকবি আমাকে,,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে হ্যাঁ বললো,,, আরহাম নুবার ছলছল চোখের দিকে এক পলক তাকিয়ে অনুভব করলো তার বুকটা চিনচনি করছে,,,তাই সে মৃদু কন্ঠে সুধালো
_ আম্মুর সাথে যেএ কথা বলে আসো,,দেখবে সব ঠিক হয়ে গেছে,,,
আরহামের এরকম নরম আর ভদ্র আচরণে নুবা একটু অবাক হলো,,, কত সুন্দর করে বললো যদি সবসময় এরকম থাকতো তবে আজ এই ঝামেলা হতোই না,,,
নুবার বুক কাঁপছে,,,তার মা দরজা আটকে বসে আছে দরজা খুলছে না,,,নুবার পুরো শরীর কেমন অদ্ভুত ভাবে মোচড় দিয়ে উঠলো,,,নুবা দরজা ধাক্কে বললো,,,
_ আম্মু,,, আম্মুউউউ,,,
নুবার কেমন ভয় লাগতে শুরু করলো আজ যদি তা্য জন্য তার মায়ের কিছু হয়ে যায় তাহলে কি করে সে নিজেকে মাফ করবে,,,, এদিকে সবাই চিন্তিত হলো,, আরহাম,,আমিনা বেগম,, হারুন মির্জা সবাই এসে হাজেরাকে ডাকতে লাগলো,,
এক পর্যায়ে শুয়ে থাকা হাজেরা বিরক্ত হয়ে এসে ধুম করে দরজা খুলে নুবাকে উদ্দেশ্য করে বললো
_ মরে যাইনি আমি চেচাচ্ছিস কেন,,,
নুবা মায়ের মুখ দেখে তেনো শান্তি পেলো,,, এগিয়ে যেএ হাজেরাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো
_মা please এভাবে রাগ করো না,,
_ আমি কেন রাগ করবো আমি কে হই তোর,,,আমি আমার মতো থাকবো,,,আর ভাবিস না আমি মরে টরে যাবো ,,পর মানুষের জন্য কেন মরবো,,,
নুবার বুকটা তিরতির করে কেঁপে উঠলো কম্পিত কন্ঠে বললো
_তোমার দোয়া ব্যতিত আমি কি করে সুখে থাকবো,এভাবে কেনো বলছো,,,,
হাজেরা নুবাকে নিজের থেকে সরিয়ে দিয়ে বললো
_ এই বাড়ির বউ হয়ে আমার মতো নিচু মানুষের কাছে দোয়া চাইছিস কেন,,, আমার মুখ দিয়ে তো শুধু বদদোয়া বেড় হয়,,,আমি তো তোর ভালো চাইনি কখনো,, আমার মতো মানুষের দোয়া দিয়ে কি আর সুখি হবি তুই,,,
মায়ের কথায় নুবার বুকটা খাখা করে উঠলো,,ছলছল চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ মা,,,,
হারুন মির্জা এবার একটু রেগে বললেন
_ এই সব কিরকম কথা হাজেরা,,,এই সব কথা কি তোমার সাজে,,, আচ্ছা ভুল না হয় করেছে তাই বলে এভাবে বলবে,, তুমি হয়তোবা ভুলে যাচ্ছো,,,ও এই বাড়ির বউ হওয়ার আগে তোমার মেয়ে,,,,
হাজেরা বেগম হারুন মির্জার দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যো করে বললো
_ কিসের মেয়ে ভাইজান,,,যেই মূহুর্তে ও এই বাড়ির বউ হয়েছে সেই মূহূর্ত থেকে ও আমার মেয়ের পরিচয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে,,, আমার কোনো মেয়ে নেই,,, যদি থাকতো তবে কখনোই তার মায়ের চোখের পানি দেখেও তাকে ফেলে দিতে পারতো না,,,সে যে তার মায়ের সব তা জেনেও মায়ের কথা অমান্য করতো না,,,এমন মানুষ কে বিয়ে করতো না সে তার মায়ের গায়ে হাত তুলতে তেরে আসে,,যে কথায় কথায় তার মাকে ক্ষুন্ন করে,,,
আমিনা বেগম এবার ছেলের দোষ আর নিতে পারলেন না রাগি কন্ঠে বললেন
_ অতিরিক্ত বলছো হাজেরা তুমি,,, হ্যাঁ আরহাম ভুল করেছে ,, তুমি বললে মাফও চাইবে তাই বলে এই না যে তুমি এই বিষয় নিয়ে সবার উপর ক্ষুন্ন হবে,,,মেয়ে সদ্য বিয়ে করেছে তাকে সুখে থাকার দোয়া দেওয়ার বদলে কথা শুনিয়ে তার মনটা ভেঙ্গে দিচ্ছো,,,
হাজেরা কেমন করে হেসে বললো
_ আমি কখন বললাম ও অসুখে থাক,,,দোয়া করি সুখে থাক,,আর আমার দোয়া ব্যতিতোও মানুষ সুখে থাকতে পারবে,,, আজ থেকে নুবা শুধু এই বাড়ির বড় বউ নাকি আমার মেয়ে,,ওর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই,,আমি শুধু মাত্র এই বাড়ির আশ্রয়ীতা,, এতটুকু,,,সে তার মতো সুখে থাক আমি আমার মতো থাকি,,,,
পরপর নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ ভালো থাকো,,সুখে থাকো,,কারো নজর না লাগুক,,, আল্লাহ তোমার মনের আশা পূর্ণ করুক,,,ভালো থাকো মা,,,
নুবার ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠলো,,, কাঁদতে কাঁদতে বললো
_ এতো সহজে পড় করে দিলে,,,
হাজেরা রুমের দরজা আটকাতে আটকাতে বললো
_ যে আমাকে পর করে দেয় তাকে আর কি আপন করবো,,,এখন যাও রাত হয়েছে,,,
বলেই হাজেরা দরজা লাগিয়ে দিলো,,নুবা ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ এটা আমার রুম,,, তুমি কেন আঁটকে দিলে,,আমি এখানেই থাকবো,,,দরজা খুলো,,
হাজেরা ভিতর থেকে শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো
_ নিজের স্বামীর ঘড়ে যাও এখানে না তর্ক করে,,,
মায়ের এরকম পরপর ব্যবহার নুবার সহ্য হলো না,, কান্নায় ভেঙে পড়লো সে,,, হারুন মির্জা চাপা নিঃশ্বাস ফেলে এগিয়ে এসে নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন
_ কান্না করিস না,,,এখন রেগে আছে,, সপ্তাহ খানিকো যাবে না দেখবি আগের মতো আগলে নিবে,,মায়েরা বেশি সময় রাগ করে থাকতে পারে না,,,
অতঃপর আমিনা বেগম আর হারুন মির্জা অনেক টা সময় ধরে নুবাকে বুঝিয়ে আরহামের রুমে যেতে বললেন,,,
এতো সময় আরহাম চুপ ছিলো কারণ সে অনুভব করছিলো হাজেরার কষ্ট,,তারো যে একটা মেয়ে আছে,,তাই সে নীরব থেকে সব লক্ষ করছিলো যে ভবিষ্যতে তার মেয়ের সাথে যদি এমন হয় সে কি করবে,,খুব সহজে অন্যের মেয়ে ছিনিয়ে নিলো তবে ফের এই ঘটনা যদি তার সাথে হয়,,আর ভাবতে পরালো না আরহাম,,, শাশুড়িকে সব সহ্য করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানালো,,,
নুবার কান্না কিছুটা থেমে আসলো,,,আর বেশি সময় নেই সকাল হতে তাই নুবাকে নিয়ে রুমে যেতে আদেশ করলেন হারুন মির্জা,, পরপর কেমন শান্তির নিশ্বাস ফেলে সিরি বেয়ে উপরে চলে গেলেন,,,
আমিনা বেগম ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে ছোট্ট আয়ারকে নুবার কোলের মধ্যে তুলে দিলেন। মুহূর্তেই নুবার দুই হাত কেঁপে উঠল, যেন এত বড় দায়িত্ব গ্রহণ করার শক্তিটুকুও সে খুঁজে পাচ্ছে না। বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরতেই আয়রা নিষ্পাপ চোখে একবার তার মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। সেই একফোঁটা হাসিতেই নুবার চোখ ভরে উঠল অশ্রুতে। মনে হচ্ছিল, এ যেন শুধু একটি শিশুকে কোলে নেওয়া নয়, নতুন এক জীবনের সূচনা। আজ থেকে আয়রা শুধু একটি শিশুই নয়, সে নুবার মেয়ে। আর আজ থেকেই নুবা শুধু নুবা নয়, সে একজন মা। মাতৃত্বের সেই নীরব অনুভূতি তার পুরো অস্তিত্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল, আর বুকের ভেতর জন্ম নিল আজীবন আগলে রাখার এক অটুট প্রতিজ্ঞা,,,
হয়তোবা জন্ম দেয়নি তবে সে আগলে রাখবে,,এটা তার সন্তান,,,আজ থেকে আয়রার উপর কারো অধিকার নেই,,,
আমিনা বেগম আয়ারকে দিয়ে মৃদু কন্ঠে বললেন
_ এখন রুমে যেএ রেস্ট নে,, কালকে সকালে বাকি কথা হবে,,,হাজেরার সাথে সকালে কথা বলবি দেখবি বুকে টেনে নিয়েছে,,
নুবা মাথা ঝুকালো,, আমিনা বেগম আরহামের দিকে তাকিয়ে বললেন,,
_ ওর দায়িত্ব তোর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে,,আশা রাখছি খেয়াল রাখবি,,তোর শাশুড়ির ভুর ধারনা ভেঙ্গে তার মেয়েকে আগলে নিবি,,,আর একটাও অভদ্র পানা হাজেরার সাথে করবি না,,,,সে শাশুড়ি না মা হয় মনে রাখিস,,,আর কালকে তুই সবার থেকে মাফ চাইবি,,তোর বাপ অনেক কষ্ট পেয়েছে তোর ব্যবহারে,, আশা রাখছি সব ঝামেলা শেষ এবার কাউকে নিরাশ করবি না,,
আরহাম কেমন আড়মোড়া ভেঙে মাথা ঝুঁকালো,,,আমিনা বেগম দুই জনকে বুঝিয়ে রেখে চলে গেলেন,,,
আরহাম মিটমিট করে হেসে নুবার দিকে তাকালো,,মনে মনে একটা শব্দ আড়ালো,,,
_ আমার বউ,, আমার বউ,,,
আজ পরিপূর্ণ,, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী স্বীকৃতি দিয়েছে নুবাকে,,এখন নুবা শুধু তার,,তার স্ত্রী,,ভাবতেই আরহামের বিশ্ব জয়ের আনন্দ হলো,,
নুবা আরহামের দিকে চোখ তুলে তাকালো,,,সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ টা তার স্বামী,,আয়রার পাপা তার স্বামী,,,ভাবতেই নুবার কেমন অদ্ভুত লজ্জা লাগতে লাগলো,,,
আরহাম এগিয়ে এসে শান্ত কন্ঠে বললো
_ এখানেই কি বসে থাকবেন,,,রুমে যাওয়ার নিয়ত তো দেখছি না,,
নুবা কম্পিত কন্ঠে বললো,,
_ কেমন ভয় লাগছে,,, আম্মু ব্যতিত,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ এখন কি বাসর ঘড়েও মা”কে নিয়ে যাওয়ার প্লান করছো নাকি,,,
আরহামের কথায় নুবা ফিক করে হেসে উঠে বললো
_ এই সব কিরকম কথা বলছেন,,,
আয়রাকে বুকে আগলে বসে ছিল নুবা,,ঠিক তখনই আরহাম ধীরে ধীরে তার সামনে এসে দাঁড়াল। কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই এক হাত নুবার পিঠে আর অন্য হাত আয়রাকে সামলে দুজনকেই একসঙ্গে কোলে তুলে নিল। আচমকা এমন ঘটনায় নুবা বিস্ময়ে শ্বাস আটকে ফেলল। লজ্জায় তার মুখ রাঙা হয়ে উঠল, চোখ দুটো নিচু হয়ে এল। কয়েক মুহূর্ত আগেও এই মানুষটি তার কাছে সম্পূর্ণ পরপুরুষ ছিল, অথচ এখন ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরহাম তার বৈধ স্বামী। সেই নতুন সম্পর্কের অচেনা অনুভূতি, সংকোচ আর নীরব উষ্ণতা নুবার পুরো অস্তিত্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। আরহামের বাহুর নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেলো নুবা,,তার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে আরহাম তার স্বামী হয়ে গেছে,,,
এত সুখ, এত নতুন সম্পর্ক আর নতুন পরিচয়ের মাঝেও নুবার হৃদয়ের এক কোণে গভীর শূন্যতা রয়ে গেল,, সবাই তাকে আপন করে নিলেও একজন মানুষের অভাব বারবার বুকের ভেতর কাঁটার মতো বিঁধতে লাগল,,সেই মানুষটি তার মা,, আজকের এই বিশেষ দিনে মায়ের স্নেহভরা হাতটা মাথায় না থাকায় আনন্দটাও যেন পূর্ণতা পেল না,,মায়ের রাগ, অভিমান আর দূরত্ব নুবার বুককে বারবার ভারী করে তুলছিল। বারবার মনে হচ্ছিল, যদি একবার মা এসে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরতেন,,হাসি মুখে তাকে নাম ধরে ডাকতেন,,দোয়া দিতেন,,,কিন্তু সেই অপেক্ষা শেষ হওয়ায় নয়,, কারণ জীবনের যত বড় সুখই আসুক না কেন, মায়ের ক্ষমা আর আশীর্বাদ ছাড়া সেই সুখে কোথাও না কোথাও অপূর্ণতার ছায়া থেকেই যায়,,,
নুবার মন খারাপ দেখে আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ কাল আম্মুর কাছে অনুনয় করে তোমাকে চাইবি তাও মন খারাপ করো না,,
আরহামের কথায় নুবা একটু চম্কে উঠলো ,,তার মাকে আরহাম মা বলে ডাকছে ভেবেই নুবার খুশি লাগলো,,,পরপর একটু হেসে বললো
_ কি আর চাইবেন,,কেড়েই তো নিয়েছেন,,,
_ উফ্,,, আমার একটা ঢংগি শাশুড়ি হয়েছে,, কি একটা জ্বালা,,,
নুবা মুখ কালো করে বললো
_ এভাবে বলছেন কেন,,আপনি কি বুঝবেন তার কষ্ট,,,
আরহাম চাপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আচ্ছা ঠিক আছে বাবা,,এবার একটু ঘুমাতে দেও,,, সারাদিনে অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছি,,
নুবা মিনমিন করে বললো
_ আমার মেয়ে,, আমার স্বামী,,,
নাবিল কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পরিকে ছেড়ে দিলো,,পরির জ্ঞান নেই বললেই চলে,,, শুধু শরীরের যন্ত্রনা গুলো অনুভব করছে,,এর ব্যতিত সে আর কিছু অনুভব করতে পারছে না,,, শুধু তার বুক ফেটে যাচ্ছে,, আর্তনাদ করে কান্না করতে ইচ্ছা হচ্ছে তবে আফসোস গলায় সেই জোর টুকু নেই,,,
নাবিল সন্তুষ্ট হয়ে কাত হয়ে পরির দিকে তাকালো,,এক হাতে উঁচু করে হাতের তালুর উপর মাথা রেখে পরির বন্ধ চোখের দিকে তাকালো,,,ঝড়ঝড় করে বন্ধ চোখের কার্নিশ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে,,,,
নাবিল তার কালচে হাত দিয়ে পরির চোখের পানি মুছে সেই আঙ্গুলের দিকে তাকিয়ে বললো
_ দিল খুশ করে দিলিরে জানু,,,
পরির কাঁপতে থাকা শরীর আরো কেঁপে উঠলো,,,নাবিল ডান হাত দিয়ে খুব বিচ্ছিরি ভাবে পরিকে ছুঁয়ে দিলো,,,পরির বুক তিরতির করে কেঁপে উঠলো,,পরিকে কাঁপতে দেখে নাবিল অনাকাঙ্ক্ষিত নরম অংশে আর একটু আঁকড়ে ধরলো ,,পরির মুখ দিয়ে মৃদু আর্তনাদ বেড় হয়ে আসলো,,,নাবিল শব্দ করে হেসে বললো,,,
_ এর থেকে শান্তি আর পাইনি লো,,,কসম তোর,,, আজ পর্যন্ত তোর মতো মাগি মানুষ একটাও মনে ধরেনি আমার,,,
পরি শব্দ করলো না যেনো সে মরে গেলে,,,নাবিল সময় দিলো পরিকে,,বিছানার পাশে পড়ে থাকা পরির ওরনা কমড়ে পেঁচিয়ে পৈশাচিক হাসি দিয়ে বললো
_ জিরায়লো (বিশ্রাম),,,আইতাছি আমি,,,
বলেই নাবিল ওরনায় গিট দিতে দিতে রুমের দরজা খুলে বাইরে বেড় হয়ে আসলো,,,দরজার হাতল ধরে আড়মোড়া ভেঙে অর্ধ নগ্ন নাবিল ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,, অতঃপর ধীরে ধীরে লিভিং রুমের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো,,
আজয়াম বেগম ক্লান্ত চোখে নাবিলের দিকে তাকিয়ে প্রিউকে আরো শক্ত করে আঁকড়ে ধরে ফুঁপিয়ে উঠলো, জায়মা বেগম এবার বুঝতে পারলো তার অসহায় মেয়েটা কেনো এখন আর আর্তনাদ করছে না,,,জায়মা বেগমের ইচ্ছা করলো নাবিলকে নিজের হাতে হত্যা করতে তবে আফসোস সে পারবে না বরং তার একটা ভুলের কারনে সবাইকে মরতে হবে,,
নাবিল ডাইনিং টেবিলের উপর থেকে পানির জগ তুলে নিলো,,,এক গ্লাস পানি ঢকঢক করে খেএ নিলো,,, সাগর এগিয়ে এসে বললো,,
_হইছেনি ভাই বাইত্তে যাইবেন না,,,
নাবিল গ্লাস ডাইনিং টেবিলে রেখে শান্ত কন্ঠে বললো
_ হো যামু তো,, তোর ভাবি তো ঘন্টা খানিকো টিকতে পারলো না,,,তাই জিরাইতে দিয়ে আসছি,, আমার এখনো হয় নাই,,,
নাবিলের বিচ্ছিরি কথা শুনে জায়মা বেগমের কলিজাটা ছিরে বাইরে চলে আসলো প্রায়,,,রাগে কাঁপতে লাগলো সে,,,আশে পাশে তাকিয়ে কিছু খুঁজতে লাগলো সে,,তবে হয়তোবা সে নাবিলকে আঘাত করার আগেই শত শত গুলি এসে তার বুক ভেদ করবে,,,ভেবেই জায়মা বেগম প্রিউকে ধরে ফুঁপিয়ে উঠলো,,, এদিকে প্রিউ বোনের আর্তনাদ শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে হিচকি তুলছে,,,
নাবিল এসে লিভিং রুমের ছোট্ট সোফায় পা তুলে প্রায় শুয়ে পড়লো,,মাথা এক হাত ঠেকিয়ে পরে থাকা পরশ হাওলাদার,,আর জায়মা বেগমের দিকে তাকিয়ে মুখ দিয়ে অদ্ভুত শব্দ করে বললো
_ কি একটা মাইয়া বাইছোস,,,আহা,,, দিলটা শান্তি কইরা দিলো,,,
জয়মা বেগমের শরীর ঘৃণায় রিরি করে উঠলো,,লাল বর্ন চোখে নাবিলের দিকে তাকিয়ে ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ আল্লাহ সব দেখে,,,আমরা অসহায় কিন্তু সে ঠিকি সুদে আসলে উসুল করবে,,এই আমাদের চোখের পানি আমার অসহায় মেয়ের কলিজা ফাটা চিৎকার কিছুই বৃথা যাবে না,,,
নাবিল জায়মা বেগমের থকায় হু হা করে হেসে উঠলো,,,সবার দিকে একবার তাকিয়ে বললো,,
_ হুনছোসনি (শুনেছিস) কি কয় মাতারি,,,আমারে ভয় দেখায়,,,
সবাই নাবিলের কথায় হেসে উঠলো,,,জায়মা বেগম ডুকরে কেঁদে উঠলো,,,নাবিল হাসতে হাসতে বললো,,
_ আচ্ছা সত্যি করে ক”তো(বলতো) এই মাইয়া কি তোগোরি,,,না মানে এতো জোস,,,বাপকে নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে,,, এমন সুন্দর মাইয়া কেমনে জন্ম দিলি,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৯
জায়মা বেগম লজ্জা,,ঘৃনায়,,, কেঁদে উঠলেন,,,নাবিল এক পলক পরশ হাওলাদারের দিকে তাকিয়ে বললো
_ না আবার ইয়াকিনো(বিশ্বাস)হয় কারণ তোর জামাই আর তুই তো কম না,,,মাইয়া তো আগুন সুন্দরী হইবোই,,ছোটোডাওতো কম না,,,
বলেই প্রিউ দিকে তাকালো,,,জায়মা বেগম কম্পিত কন্ঠে বললো
_ অমানুষ,, জানোয়ার কোথাকার,,একটারে দিয়ে মন ভরে নাই এখন আমার
