Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৮

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৮

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৮
সুরাইয়া জিয়াসমিন

নুবার প্রশ্ন উপেক্ষা করে হাজেরা তখন রাত দেরটা নাগাত,,,রুমে আসার পর থেকেই নুবা বেশ কান্না করছিলো তবে এখন একটু থেমেছে,,,
হাজেরা মেয়ে আর তার দু একটা কাপড় ব্যাগে পুরে নিলো,,পরপর যেই অবস্থায় ছিলো সেই অবস্থায় তারা বেড় হয়ে গেলো,,,নুবা একবার পিছন পিরে বাড়িটাকে দেখে নিলো,, হয়তোবা এখানে আর ফিরা হবে না,,,ভেবেই নুবার কান্নায় বুক ভেঙ্গে আসলো,,,হারুন মির্জা আগে থেকেই গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা আসতেই কোনো শব্দ ব্যতিত গাড়ি stared দিলেন,,

আরহাম মেয়ের কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস আর নিজের কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট গুছিয়ে নিয়ে রুম থেকে বেড় হলো,,তবে হয়তোবা তার বেড় হতে একটু দেরি হয়ে গেলো,,,যতখনে সে নুবুকে নিয়ে উড়াল দিবে ভাবছে তার বাপ তার থেকেও বেশি চালাকি করে নুবাকে নিয়ে উড়াল দিয়েছে,,
নুবা আর হাজেরা কাউকে রুমে না পেয়ে আরহামের ভুরু কুঁচকে অসলো,,, পরপর কিছু একটা বুঝতে পেরে রাগে তার মাথার রগ ফুলে উঠলো,,গটগট পা ফেলে আরহাম তার মা বাবার রুমের সামনে গেলো,,তবে আশ্চর্যজনক ভাবে বাইরে থেকে গেট বন্ধ,,,

আরহাম খট করে দরজা খুলতেই নজরে পড়লো বিধ্বস্ত হয়ে আমিনা বেগম বিছানায় বসে আছেন,,, হঠাৎ দরজা কে খুললো দেখতে যেএ আরহামকে দেখে আমিনা বেগম চমকে উঠলেন,,
পরপর ছুটে ছেলের কাছে আসলেন,,, আরহাম হতভম্ব হয়ে বললো,,
_ ডোর বাইরের থেকে লক ছিলো কেন,,আর তোমার জামাই কোথায়,,,
আমিনা বেগম অস্থির হয়ে কেঁদে ফেললেন,,,ছেলের দুই গালে হাত রেখে বললেন,,
_ নুবাকে তোর বাবা কোথায় যেনো নিয়ে চলে গেছে,,, আমার মোবাইল টাও নিয়ে বাইরে থেকে দরজা লক করে গেছে যাতে আমি তোকে কিছু না বলতে পারি,,, হয়তোবা ওরা বেশি দূর যায়নি,,, তুই,, তুই এখনি যা,,
আরহামের দাঁতে দাঁত চেপে আসলো,,,রাগে গজগজ করতে করতে বললো

_ কোথায় গেছে,,,
আমিনা বেগম বিচলিত কন্ঠে বললো
_ জানি না,,, কিছু বলেনি,,,
আরহাম আয়ারকে আমিনা বেগমের কোলে দিয়ে হাত মুঠো বদ্ধ করে বললো
_ তোমার husband কে যদি মেরে টেরে ফেলি পরে আমাকে দোষ দিও না,,,
বলেই আরহাম পেন্ট এর পকেট থেকে মোবাইল বেড় করতে করতে এগিয়ে গেলো,,, কাউকে কল দিয়ে সুধালো
_ একটা নাম্বার পাঠাচ্ছি,,৫ মিনিটের ভিতরে নাম্বারের লোকেশন ট্রেক করে দে,,,
অপাশ থেকে শান্ত কন্ঠে ভেসে আসলো
_ নাম্বার ট্রেক করতে হলে তা চালু থাকতে হবে,, calling এ থাকলে আরো তাড়াতাড়ি possible,,,
আরহাম বাড়ির গ্যারেজের দিকে যেতে যেতে বললো

_ আমি ওই নাম্বারে কল দিচ্ছি,,৫ মিনিটের ভিতরে লোকেশন দিবো,,,
বলেই আরহাম কল কেটে দিলো,,পরপর নাম্বার পাঠিয়ে,, হারুন মির্জার নাম্বারে কল করলো,,তবে হারুন মির্জা দেখেও দেখলো না,,পরপর ৬ বার কল করার পর হারুন মির্জা কল রিসিভ করলো,,,
আরহাম গ্যারেজ থেকে বাইক বেড় করতে করতে বললো
_ ভীতু হারুন মির্জা পালাচ্ছে,,
হারুন মির্জা গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে বললো
_ পালাচ্ছি না,,মেয়েটাকে তোমার মতো সাইকোর থেকে সেভ করছি,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ she is my wife,,,
হারুন মির্জা কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_ She’s not your wife, she’s Sabbir’s Fiancée,,
আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বাইক Stared দিয়ে হুংকার ছেড়ে বললো
_ Nuba is just mine.my wife ,,,, not sabbir’s fiancee,,,

_ তুমি মুখে বললেই তো সে তোমার বউ হয়ে যাবে না,,,
_ আমার মুখ না,,কাগজ কলম কথা বলবে,,,,
_ তোর মতো মানুষের হাতে আমি ওকে তুলে দিলে আমারি পাপ লাগবে,,ভুলে যা ওকে,,,
আরহাম বাইকের গতি বাড়িয়ে শব্দ করে হেসে বললো
_ ভুলে যাওয়ার তো কথাই আসে না,, she is my Obsession,,,
পরপর হারুন মির্জার সাথে অনেক সময় সু কৌশলে কথা বললো আরহাম,,পরপর মোবাইলে লোকেশন পাঠয়ে দিলো সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষ টি,, আরহাম সাথে সাথে কল কেটে দিলো,, মোবাইলের দিকে এক পলক তাকিয়ে ছুটে চললো সেই রাস্তায়,,, অন্ধকার রাতো যেনো আর সাক্ষী হবে এই পরিস্থিতি,,,যেখানে চলছে এক নিদারুণ খেলা,,যা শেষ হবে কিনা কারো জানা নেই,,আর শেষ হলেও কিভাবে হবে সেটাও অজানা,,,

পরি একটু শুয়ে ছিলো,,দিন যাচ্ছে আর তার টেনশন বাড়ছে কারণ এবার তাকে এখান থেকে বিদায় নিতে হবে ,,,এর পর কি হবে সে জানে না তবে যতদিন ভালো আছে ততদিন নিজেথ জীবন টাকে একটু উপভোগ করতে চায়,,,
পরি ভাবতে ভাবতে সোজা হয়ে শুয়ে পড়লো,,, তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে তার,,মনে হচ্ছে এখনি ভিতর থেকে ছিরে আসবে সব,,,তার বিশেষ কারনটা হলো মাসিক চলেছে তার,,,এই অবস্থায় তার নড়তে চড়তে একটুও ভালো লাগে না,,, হাঁটা চলাও যেনো সাবধানে,,,আর জোরে কথা বললে বা হাঁচি দিলে জান বেড় হয়ে যায়,,,,
পরি একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলো,,,চলে টেনশনে তার চোখে ঘুম ধরাই দেয় না,,,যেই সুখ সে চাইছিলো সেটা হয়তোবা আর পাওয়া হলো না তার,,, মোবাইলের ঘন্টী বেজে উঠলো,,পরি একটু অবাক হলো এতো রাতে কে,,,
পরপর পরি পাশ ঘুরে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলো তার মায়ের নাম্বার থেকে কল,,,পরির ভুরু কুঁচকে গেলো,,সাথে বুকটা ধুক করে উঠলো,,এতো রাতে,,,
পরি আল্লাহর নাম নিয়ে কলটা রিসিভ করে কিছু বলতেই যাবে তার আগেই ওই পাশ থেকে তার মায়ের আহাজারি ভেসে আসলো

_ মারে তুই বাড়ি আয়,,তোর বোনটাকে এই জানোয়ার গুলো ছিরে খাচ্ছে,,,তোর বাবাকে মেরে ফেলে রেখেছে,,, আমার আর কোনো উপায় ছিলো না,,,আমি তোকে চাইলেও বাঁচাতে পারলাম না,,, তুই বাড়িতে আয়,,,
পরির বুকটা ছ্যাত করে উঠলো,,তার ছোট্ট বোনটাকে ছিরে খাচ্ছে,,,পরির নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসলো,,,পরি উত্তর দিলে পারলো না,,,মনে হচ্ছে সে আর পৃথিবীতে নেই,,
নাবিল জায়মা বেগমের হাত থেকে মোবাইল নিয়ে নিলো অতঃপর রাগে দাঁতে দাঁত চেপে কেমন অদ্ভুত কন্ঠে বললো
_ চুt***মারানি কোন ফানদে যাইয়া লুকাইছো,,কি মনে করছো আমি ধরতে পারমু না,,,,
অনেকটা দিন পর চিরো চেনা কন্ঠ শুনে পরির চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,,পরির ভয়ে ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠলো,,,,নাবিল পরির ফুপানির শব্দ শুনে তার আশে পাশে দাঁড়ানো চেলাদের বললো
_ বুঝলিনি সাগর এ মাগি নাকি আমারে ভয় পায়,,,,কান্দে,,,হেতি দেখি আবার কোন ফাঁন্দে যাইয়া ঢুইকা আছে,,,,

পরপর হাসলো নাবিল মোবাইল কানের সাথে লাগি রেখে বললো
_ না কাইন্দা বাইত্তে (বাড়িতে) আয়,,,না হইলে তিনটারেই পুইতা রাইখা যামু,,, তুই তো আমারে ভালো মতো চিনোস,,,
পরি আঁটকে যাওয়া নিঃশ্বাসে বললো
_ আমার নিষ্পাপ বোনটাকে ছেড়ে দেন,,,আমি আসছি,,,,
_ তাত্তাড়ি (তাড়াতাড়ি)‌ আয়,,,না হইলে তোর সাওয়া দিয়া না তোর মা বোইনের সাওয়া দিয়া গজ ঢুকামু ,,,
নাবিলের বিচ্ছিরি শব্দে পরির শরীর কাঁটা দিয়ে উঠলো,, ইচ্ছা হলো নিজের জান নিজেই দেহ থেকে বেড় করতে দিতে,,,তবে পারলো না সে ফুঁপিয়ে উঠে কম্পিত কন্ঠে বললো
_ আপনার আমাকে দরকার,,, ওদের ছেড়ে দিন,,,,
_ ছাইড়া তো দিমুই আগে আয়,,,

পরি শুকনো ঢোক গিলে কল কম্পিত হাতে কেটে দিলো,,,,এই অমানুষের হাত থেকে সে বাঁচতে পারবে না,,,কখনোই না,,,,হাতে মোবাইল টা নিয়ে উঠে দাঁড়ালো সে,,পরপর মরার মতো শরীর টা টেনে নিয়ে আমিনা বেগম দের রুমের সামনে গেলো,,, একটু যদি সাহায্য পায় সে,,,তবে নির্মম ভাগ্য তার ঘড় খালি পেলো সে,,,, আমিনা বেগমের থেকে জানতে পারলো হারুন মির্জা বেড় হয়েছে খানিক আগেই,,,
পরির চোখ দিয়ে টুপ করে পানি গড়িয়ে পড়লো,,বুঝতে পারলো,, না কিছুতেই বাঁচার উপায় নেই,,,আইন,, প্রশাসন,, সবকিছু নাবিলের হাতের মুঠোই কিছুই হবে না তার ,, বরং পরিরি ক্ষতি হবে,,,
পরি সিরি বেয়ে নামতে শুরু করলো,, প্রতিটা কদম তার কাছে মৃত্যু ফাঁদ মনে হচ্ছে,,, মনে হচ্ছে অতী শিঘ্রই সে মৃত্যু বরণ করবে,,,

পরি লিভিং রুমে পৌঁছাতেই হাতের ফোনটা বেজে উঠলো,, আননোন নাম্বার,,পরির বুঝতে বাকি রইলো না কে,,পরি ফুঁপিয়ে উঠে কল রিসিভ করলো,,,ওপাশ থেকে নাবিল অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বললো
_ ফোন কাটছোস কেন,,,তোরে আমি কল কাটতে বলছি,,,
পরি নীরব রইলো,,,নাবিল দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ কই তুই,,,জায়গার নাম বল,,,
পরি আস্তে আস্তে বাড়ি থেকে বেড় হয়ে আসলো,,,নাবিল আবারো গালি দিয়ে বললো
_ওই বাইনচো*** কথা কস না কেন,,,
পরির ইচ্ছা হলো মরে যেতে তবে যেতেই হবে তাকে,,,পরি কম্পিত কন্ঠে সুধালো,,
_ গোল্ডেন পাম রোড,,,
নাবির জায়গার নাম শুনে ভুরু কুঁচকে বললো
_ বড়লোকের রাস্তায় কি করোসরে ,,কার বাইত্তে (বাড়িতে),,,
পরি মির্জা বাড়িকে এই বিষয়ে আর টানতে চাইলো না তাই কম্পিত কন্ঠে বললো
_ খালা বাড়ি,,,
_ তোর কোনো এমন খালা জন্মাইছে রে ওখানে থাকে,,ডপ মারোস,,নাকি আমি না থাকায় জমিদার নগর ধরছোস,,,

পরি চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,, রাস্তার সামনে এসে বললো
_ আম্মু আব্বু কে ছেড়ে দিন,, আমার আসতে সময় লাগবে,,,
নাবিল দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ খান*** ঘড়ে খান**** কার লোগে শুইছোস যে আইতে সময় লাগবো,,
পরি সহ্য হলো আন রাগে চিৎকার করে বললো
_এই রাত দেরটা বাজে আমার তো পায়ে হেঁটেই আসতে হবে,,,
নাবির মাথার পিছনে হাত দিয়ে কান চুলকে বললো
_ হেইডা আগে সিনা বলবি,,গাড়ি পাঠাই দিতাছি,,,,ওখানেই দাঁড়া,,,না হইলে দেখা গেলো অন্য কেউ উঠায় নিয়ে গেলো,,যেই আগুন সুন্দরী তুই,,,হনেই খাঁড়া,,,কল কাটবি না,,,
পরি মেইন রোডের দিকে এগিয়ে গেলো,,,,

নুবা মায়ের কাঁধে মাথা দিয়ে নিরবে চোখের পানি ফেলছে,,,আর এটাই ভাবছে এতো কিছুর পর সে সাব্বিরকে কি করে বিয়ে করবে যেখানে তার শরীর জুরে আরহামের বিচরণ,,,নুবা আর ভাবতে পারছে না,,,
তবে তার ভাবনার ভিতরে পিছন থেকে একটা বাইক ছুটে আসলো,,, হঠাৎ এমন হওয়ায় হারুন মির্জা পাশ ফিরে তাকালো,,, আরহাম এক হাত দিয়ে বাইক ধরে অন্য হাত দিয়ে গাড়ির জানালায় তর্জনীয় আঙ্গুল দিয়ে টুকা দিয়ে বললো
_ “Come on, Dad! You can do better than that! Drive faster before I catch you!”
হারুন মির্জা চোখের পলক ফেললো,,ছেলে তো তার থেকেও বেশি চালাক,,,,পরপর হারুন মির্জা গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দিলেন তবে আরহামকে ছাড়িয়ে যেতে পারলেন না,,, এদিকে পিছনে বসা মায় মেয়ের এদিকে কোনো খেয়াল নেই,,,

আরহাম এক হাত দিয়ে উড়তে থাকা চুল গুলো পিছন দিকে ঠেলে দিলো,,,বাইক তেমন পছন্দ না তার,,মাঝে মাঝে রাইড নিতে পছন্দ করে,,,এই বাইক আরাফের,,,আরাফ আবার বাইকের সৌখিন,,তাই ২/৩ টা নতুন মডেল কিনেছে ,, আরহাম এখন Kawasaki ninja H2 নিয়ে বেড় হয়েছে,,,,আসার পরপর এটার চাবি নিজের কাছে নিয়ে রেখেছিলো,,এতো বড় গাড়ি নিয়ে বেড় হওয়ায় থেকে বাইক নিয়ে বেড় হওয়া ভালো,,,

আরহাম আর সময় নষ্ট করলো না ডিরেক্টর চলন্ত গাড়ির সামনে যেএ বাইকের গতি কমিয়ে দিলো,,সু কৌশলে হারুন মির্জাকে গাড়ি থামতে বাধ্য করলো
হঠাৎ গাড়ি থেমে যাওয়ায় নুবা আর হাজেরা মাথা উঁচু করে দেখতে লাগলো কি হয়েছে,,,,
হারুন মির্জা গাড়ি থেকে নেমে কিছু বলতেই যাবে তার আগেই আরহাম এসে নুবার সাইডের ডোর খুলে দিলো,,,নুবা ভুরু কুঁচকে পাশে তাকাতেই দানবের মতো আরহাম তাকে টেনে গাড়ি থেকে বেড় করলো,,
হাজেরা হঠাৎ কান্ডে হতভম্ব হয়ে গেলো,,,নুবা চোখ বড় বড় করে তাকাতেই আরহামকে দেখে চম্কে উঠলো,,, আরহাম সময় নষ্ট না করে ঠাস ঠাস করে দুটো থাপ্পর নুবার দুই গালে বসিয়ে দিলো,,,
নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,,,দুই গালে হাত দিয়ে মাথা উঁচু করে আরহামের দিকে তাকিয়ে গুঙ্গিয়ে উঠে বিরবির করলো,,

আরহাম কাঠ কাঠ কন্ঠে বললো
_ অন্য ছেলেকে বিয়ে করার এতো সখ,,,যে আমায় ছেড়ে পালাচ্ছিস,,,
নুবা আরহামের ভয়ংকর চাহনি দেখে মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো,, আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ এই দুটো থাপ্পর,,তোর মা আর শ্বশুরের গালে পড়তো,,তবে আফসোস আমি এমনিতেই তোর চোখে অভদ্র এরকম করলে আরো অভদ্র হয়ে যেতাম,,তাই চর দুটো তোর গালেই পড়লো,,,
নুবা কিছু বলতে পারলো না,,, শুধু মাথা ঝুঁকিয়ে তার কাজকে সমর্থন করলো,,,
হারুন মির্জা আর হাজেরা এগিয়ে এসে কিছু বলতেই যাবে,,তার আগেই আরহাম পকেট থেকে গান(বন্দুক) বেড় করে হারুন মির্জার দিকে ত্যাগ করে বললো
_ No one will try to come to us. ,,,

হঠাৎ বন্ধুক দেখে হাজেরা,,নুবা,, হারুন মির্জা তিন জনেই ভয় পেলো,,তবে হাজেরা এগিয়ে আসার চেষ্টা করলো,, আরহাম সাথে সাথে Shot করলো,,নুবার কলিজা মুখে চলে আসলো,,,চোখ বড় বড় করে আরহামের পিছনে তাকালো যে হারুন মির্জার কিছু হয়েছে কিনা,,,না বেচারা স্তব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,হাজেরা আর হারুন মির্জা দুই জনেই স্তব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো,,,
আরহাম গান দিয়ে ইশারা করে হারুন মির্জাকে গাড়িতে বসতে বললো
হারুন মির্জা শান্ত কন্ঠে বললো
_ এই সব ঠিক না আরহাম,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ কোনটা ঠিক,,কোনটা বেঠিক আমি দেখে নিবো,,, কারণ এখানে অপরাধীও আমি বিচারোকো আমিই,,
হাজেরা মৃদু কন্ঠে বলে উঠলো
_ তুমি অন্যায় করছো,,

আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে হাজেরার দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনারা অন্যায় করেছেন,, আমার বউ কে আমার থেকে আলাদা করে,,
হাজেরা কিছু বলতেই যাবে তার আগেই আরহাম বন্ধুকের ইশারায় তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো
_ mr হারুন মির্জা গাড়িটা যাতে বাড়ির দিকে যায়,,চল,,
বলেই নুবার হাত ধরে এগিয়ে গেলো,,,নুবা আহাম্মক বনে রইলো,, হারুন মির্জা এগিয়ে এসে বললো
_ আচ্ছা,,,নুবা গাড়িতে আয়,,,আমারা বাড়িতেই যাবো,,
হারুন মির্জার কথা শুনে আরহাম মৃদু হেসে বললো
_ ও,,যাতে পালাতে সুবিধা হয়,,,
হারুন মির্জা সরু চোখে ছেলের দিকে তাকালো,, আরহাম বন্ধুক নাড়িয়ে বললো
_ বেয়াইনকে নিয়ে চুপচাপ বাড়িতে যান,আমি আমার বউ কে নিয়ে আসছি,,,
বন্ধুকের গুলি খাওয়ার ভয়ে হারুন মির্জা পিছিয়ে গেলো কারণ এই ছেলে গুলি করতেও ২ বার ভাববে না,,
হারুন মির্জা যেএ গাড়িতে বসলেন হাজেরাকে গাড়িতে উঠতে বললেন
হাজেরা বিচলিত কন্ঠে বললো
_ ভাই আমার মেয়ে,,,
_ তুমি আসো,,ও যেহেতু বলেছে বাড়িতে যাবে মানে বাড়িতে যাবে,,,বেশি বাড়াবাড়ি করলে ২/৩ টা লাশ ফেলিয়ে দিবে,,, তুমি আসো
_ কিন্তু,,নুবা,,,

হারুন মির্জা,হাজেরাকে নিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে গেলেন,,হাজেরা কে বুঝ দিলেন নুবার কিছুই হবে না,,,হাজেরা তবু শান্ত হতে পারলো না তবে মেয়ের কিছু না হয়ে যায় এই ভেবে এগিয়েও যেতে পারলো না,,
তারা যেতেই নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে আরহামের দিকে তাকালো,,,এখন যদি তাকে এই খালি রাস্তায়,, অর্ধ রাতে ঠুকে দিয়ে দিয়ে যায়,,,নুবা ভেবেই শুকনো ঢোক গিললো,,,
আরহাম তাকালো নুবার দিকে,,,নুবা মিনমিন করে বললো
_ আমি নির্দোষ,,,,
আরহাম এগিয়ে আসলো,,,নুবা পিছনে রাখা বাইকের সাথে লেগে গেলো,,, আরহাম নুবার দিকে কিছুটা ঝুকে বললো
_ বাড়ি থেকে বেড় হওয়ায় আগে মনে ছিলো না,,,
বলেই বন্দুক টা নুবার পেটে চেপে ধরলো,,নুবা চোখ মুখ খিচে, টিপটিপ করে আরহামের দিকে তাকিয়ে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো,,,

_ তখন আমার বিবেক কাজ করেছে,,আবেগ কাজ করে নাই,,,
আরহাম নুবার কথায় আর একটু তেতে উঠে বললো
_ তার মানে আমি আবেগ আর তুই যেটা করেছিস সেটা ভেবে চিন্তে বিবেগ দিয়ে করেছিস,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না বলে বললো
_একটু একটু mistake হয়ে গেছে,,, না মানে কথাটা হচ্ছে যে তখন আমার আবেগ কজ করছিলো,, আপনাকে তো বিবেক দিয়েই ,,,i mean ভেবে চিন্তে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে গম্ভীর কন্ঠে বললো
_ কি বললি ,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে আবারো “না” বলে বললো
_ বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি,,,
আরহাম বন্ধুকটা আর একটু চেপে ধরে বললো
_ কাকে,,,
নুবা ফেসে যাওয়া কন্ঠে বললো

_ আপনাকে,, আপনাকে,,,আপনি ব্যতিত আর কাকে,, শুধু আপনাকে,,,এবার please আমার পেটের কাছ থেকে ওই বস্তু টাকে সরান,,,ভেদ করে পেটের ভিতর ঢুকে গেলেই আমি শেষ,,,,
আরহাম বন্ধুকটা পকেটে গুঁজে নিলো,,,পরপর অনেকটা সময় ধরে এতো ঝামেলা করার উসুল তার থেকে সুদে আসলে তুলে নিলো,,,নুবা দুই হাত থেকে গাল সরিয়ে চোখ বন্ধ করে মনে মনে শুধু ভাবলো এর শেষ টা কোথায়,,,
আরহাম নুবাকে সময় নিয়ে ছাড়লো,,,মেয়েটা বড্ড ইতর রেসপন্স করে না,,, আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বিরবির করে বললো
_ অনেক জাওরামি করেছিস আমার সাথে,,সব গুলোর উসুল উঠাবো আর সাথে যেই থাপ্পর গুলো দিয়েছিস সব সুদে আসলে ফিরোত পাবি,,,
নুবা কোনো উত্তর দিলো না,,তবে হঠাৎ করে আলতো করে আরহামকে জরিয়ে ধরে মৃদু কন্ঠে বললো
_ আমি ভেবেছিলাম আমি আপনাকে হারিয়ে ফেলেছি,,
_ কেন দুপুরে তো বলছিলি আমার প্রয়জন নেই তোর,,
নুবা উত্তর দিলো না,,, স্বার্থপর নুবার সবার প্রয়জন,,,তখন রাগের মাথায় অনেক কিছু বলে ফেলেছি তবে পরে সে নিজেই প্রচুর কান্না করেছি এই বিশেষ নিয়ে,,তবে কিছু করার ছিলো না কারণ সে মুখ ফুটে কিছু বলতেও পারছিলো না,,,

আরহাম নুবার থেকে সরে দাঁড়িয়ে বললো,,
_ উঠ,,,বাড়িতে যাই তারপর সবগুলোকে পাইল মতো আনবো,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আমি বাইকে বসবো না,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ কেন,,,আবার কোন মরা মরছে,,,
নুবা মাথা নিচু করে বললো
_ একবার বাইকে উঠে accident করে অনেক আঘাত পাইছিলাম ভয় লাগে,,,
আরহামের ভুরু আরো কুঁচকে গেলো,,, সন্দেহের দৃষ্টিতে বললো
_ তুই কার বাইকে উঠছিলি,,,

নুবা কথাটা বলেও যেনো ফেসে গেলো কারণ একবার আরাফ তাকে স্কুল থেকে বাড়িতে আনতে যেএ তাকে নিয়ে বাইক এক্সিডেন্ট করেছিলো সেখান থেকে সে বাইকে উঠেনি আজ পর্যন্ত,,,
নুবাকে মাথা নিচু করে থাকতে দেখে আরহাম এগিয়ে এসে বললো
_ কি হলো,,
নুবা মাথা উঁচু করে আরহামের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে সুধালো,,,,
_ বাইকেই যেতে হবে,,অন্য কোনো অপশন নেই,,,
_ না,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিললো,,তার উপর হেলমেটো নেই কি একটা অবস্থা,,,মরে টরে গেলে,,,ভাবতেই শরীর কম্পিত হলো তার,,

পরি এক ধ্যানে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে,,,নীরবতা নাবিলের অসহ্য নিঃশ্বাসের শব্দ শুনা যাচ্ছে,,আর মাঝে মাঝে অশ্লীল কথা বার্তা,,,তাই পরি ফোনটা দূরে সরিয়ে ধরে আছে,,, মিনিট খানিকের ভিতরে গাড়ি এসে পৌঁছালো,,,,গাড়ি থেকে নাবিলের এক চেলা নেমে দাঁড়ালো,,,চেহারা দেখেই পরি চিনে ফেললো,,,পরির বুকটা ভেঙে আসলো,,,সাগর নেমে বললো
_ আইয়েন ভাবি,,,(আসেন ভাবি)
পরি ত্যাচ্ছিলো হাসলো,,, ইচ্ছা হলো রুপ টুকু পুড়িয়ে ফেলতে তবে হাতের কাছে তেমন কিছু পেলো না সে,,,,
পরি কম্পিত শরীর নিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো,,পরপর সিটে মাথা হেলিয়ে দিলো,,,ফোনের ওপাশ থেকে নাবিল বলে উঠলো

_ গাড়িতে উঠছোস নাকি,,,
পরি শব্দ করলো না,,মুখ দিয়ে শব্দ বেড় করতেও তার কষ্টে গলা ধরে যাচ্ছে,,,, সাগর পরিকে উত্তর না দিতে দেখে হেসে বললো
_ হো,,,বইসে,,,(বসেছে)
নাবিল অদ্ভুত কন্ঠে বললো
_ আহোনের সময় দেখিস তো কোনো ফার্মেসি টার্মেসি খোলা আসে নাকি,,,
সাগর গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে বললো
_ কেন ভাই,,,??
নাবিল আড়মোড়া ভেঙে বললো
_ বুঝলি নি,,শরীরে আগুন ধইরা গেছে,,মাগিরে পাইলেই ডিরেক্টর নিজের লোগে গাইথা ফালামু,,,হের লাইগা,,,চুত***** র লাইগা আমার অনেক ক্ষতি হইছে,,, আজকে আসুক শুধু,,,,
পরি কথা গুলো শুনে নিজেকে গুটিয়ে নিলো,,,মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে উঠলো সে,,, সাগর মিনমিন করে বললো
_ রাইত ২ টার লাহান বাজে ভাই,, খোলা পাওয়া যাইবো না,,,
_তাইলে থাক,,, তুই ওরে লইয়া আয়,,,
পরপর নাবিল পরির ফুঁপিয়ে উঠার শব্দ শুনে হেসে বললো

_ ahhh কি শান্তি,,,তড়পাইয়া (ছটফট) মইরা যাইতেছি তোর গলা চাইপা ধরার লাইগা,,, তাড়াতাড়ি আয়,,,,
পরি কান্না টুকু গিলে ফেলে বললো
_ আল্লাহ ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না,,,,
পরিরর ভাঙ্গা কন্ঠ শুনে নাবিল হু হু করে হেসে উঠৈ বললো
_ পরেরটা করে দেকমুনে,,,কে কারে ছাড়ে আর কে কারে ধরে,,,,
পরি আর কিছু বললো না তার হাত পা কাঁপছে,,,বুক ফেটে আসছে,,যদি আজ এরকম পরিস্থিতি না হতো তবে কি মির্জা পরিবার তার পাশে থাকতো,,সে তো কাউকে না বলে চলে আসলো,,আর বলেও কি লাভ যেখানে তার ছোট্ট পরিবার নাবিলের হাতে বন্দী আদেও কি নাবির মৃত্যু ব্যতিত সে তাকে আটকে রাখতে পারতো,,,

নুবা আরহামের পিঠ দুই হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে কুঁজো হয়ে বুকে মুখ গুজে আছে,,,যেনো কোনো তুফান আসলে আগে আরহাম উড়ে যাবে তার পর সে,,,
নুবা বাইক থেকে পড়ে যাওয়ার ভয়ে উঠবে না বলেছিলো তাই তাকে উল্টো করে সামনে বসিয়ে নিজের বুকের সাথে আগলে নিয়েছে,,, এদিকে বাইকের গতি দেখে নুবা ভয়ে দুই পা দিয়ে চেঙ্গি(x) দিয়ে বসে আছে ,,,যেনো এরকম কিছু হলো আরহামের তারনায় অন্ততপক্ষে সে বেঁচে যাবে,,,তবে সত্য তো এটাই কোনো রকম দূর্ঘটনা হলে দুই জন এক সাথে মরবে,,,
আরহাম সামনের দিকে এগিয়ে বাইক চালতে মগ্ন এমন সময় নুবা ভেজা বিড়ালের কন্ঠে বলে উঠলো
_ আপনি না বাড়িতে যেএ ঝামেলা করবেন না,,সবার কাছে মাফ চেয়ে সবাইকে বুঝাবেন,, আমার মা অনেক ভালো আপনি একটু ভালো মতো বুঝালেই সে বুঝে যাবে,,,
আরহাম কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_ কারো কাছে মাফ টাপ চাইতে পারবো না আমি,,,
নুবা একটু রেগে বললো

_ এই কারনে,, শুধু মাত্র এই কারনে সব ঝামেলা হয়েছে,, ঘ্যাড়ত্যারামো না করে সবার সাথে ভালো ভাবে বললে কি হয়,,,সবাই আপনার ব্যবহারে প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছে,,,সবাই নিশ্চই মনে করছে এই সব কিছুর জন্য আমি দোষী,আসলেই তো আমি দোষী,,এই আমার কারনে আজ এতো ঝামেলা,,,
আরহাম গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো
_ আর একটা বারতি কথা বললে,,, একদম লাত্থি মেরে বাইক থেকে ফেলে দিবো,,,
নুবা শুকনো কন্ঠে আবারো তার বুকে ঠাই নিয়ে বললো
_‌ না থাক,,আমি আর কিছু বলবো না
_ good girl,,
নুবা একটু সময় নিয়ে বললো
_ তবে আবার ওরকম ঝামেলা করলে আমি বিষ খাবো বলে দিলাম,,,সবাই আমাকে দোষারোপ করবে আমার কিন্তু সহ্য হবে না,,,
_ সত্যি সত্যি তোর লাথি খাওয়ার সময় চলে এসছে,,,এক ধাক্কা মেরে এই রাস্তায় ফেলে রেখে যাবো idiot,,,
নুবা আর কিছু বললো না,, শুধু দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,, দরকার পড়লে সেই বাড়িতে যেএ তার মায়ের হাত,,পা ধরে কান্না করে বুঝাবে তাও আর ঝামেলা হতে দিবে না,,

পরি গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে মরার মতো বসে আছে,,আর নাবিল পকপক করছে,, অবশ্য তার কথরা আগে গালি,,পরি চুপচাপ,,, অভ্যস্ত সে এই গালিতে কারণ যবে থেকে নাবিলের সাথে তার পরিচয় তবে থেকেই গালি যোনো জিভের ডগায় থাকে তার,,,,আজ আবারো সামনাসামনি হবে তার,, হয়তোবা তার কপালে ভালো কিছু লেখা নেই,,
মিনিট খানিক সময় পার হলো,, শেষ পর্যন্ত গাড়ি তাদের বিল্ডিং এর সামনে এসে দাঁড়ালো,,পরি ক্লান্ত হাতে গাড়ির দরজা খুলে বেড় হলো,, মোবাইল টা পড়ে রইলো গাড়িতেই,,,
পরি অবাস হয়ে যাওয়া শরীর টাকে টেনে হিচরে তাদের ফ্লাট পর্যন্ত নিয়ে গেলো,, অবশ্যই নাবিলের ডান হাত সাগর তার পিছনেই আছে,,,
শেষ পর্যন্ত পরি নিজেদের ফ্লাটের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো,,দরজা আবজানো,,সে জানে না এখন কি হবে বা ভিতরে কী অবস্থা তবে তার বুক ভেঙ্গে আসছে,,,
পরির বুকের ভেতর যেন এক অদৃশ্য তুফান বয়ে চলেছে। ভয়, অপমান আর অসহায়তা তাকে ভেতর থেকে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে। হাজার চেষ্টা করেও সে বুঝতে পারছে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে তার হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। নিজের সম্মান রক্ষা করার শেষ শক্তিটুকু জড়ো করেও সে যেন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এক অসহায় মানুষ। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু নীরবে গড়িয়ে পড়ছে, আর হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন আতঙ্কে কেঁপে উঠছে,,,

অতঃপর পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,, চোখের পানি ফেলে দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করলো,,,নজরে পড়লো ৩/৪ জন চেয়ার পেতে বসে আছে,,,পরির বুক কেঁপে উঠলো সব চেনা পরিচিত চেহারা,,, দেখেছে তার সে অনেক বার,,
পরি ক্লান্ত চোখে আশে পাশে তাকাতেই দেখতে পেলো কিছুটা দূরে তার বাবার রক্তাক্ত দেহটা পড়ে আছে,,,পরির বুক কেমন খামচে উঠলো,,, ভাঙ্গা কন্ঠে সুধালো,,
_ আব্বু,,
মুখ দিয়ে শব্দ টা উচ্চারণ করেই পরি ছুটে গেলো তার বাবার কাছে,,,পরপর আঁকড়ে ধরলো তার নিথর বাবা পরশ সাহেবকে,,,পরি কান্ত কন্ঠে বাবাকে ডাকলো,,
_ আব্বু,,,ও আব্বু,,উঠো,,,উঠো আব্বু,,,উঠো না,,,
পরশ সাহেবের জ্ঞান নেই,,,পরি আহাজারি করে উঠলো,,,সবার দিকে এক পলক তাকিয়ে চিৎকার করে বললো

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৭

_ আপনারা কি করেছেন আমার আব্বুর সাথে,,কেনো উঠছে না উনি,,, অমানুষ,,,সব কয়টা অমানুষ,,,,
বলেই পরি ফুঁপিয়ে উঠলো নিজের বাবাকে আবারো ডাকলো,,, শরীর যেনো চলছে না তার,,মনে হলো এখনি সেও এখানেই পরে যাবে,, হয়তোবা মরে যাবে,,মরলেও যেনো শান্তি,,,
হঠাৎ করেই পায়ের শব্দ শুনতে পেলো পরি,,পরর পিছন থেকে কেউ এসে তার লম্বা বেনুনি কথা চুলের গুচ্ছ হাতে পেঁচিয়ে শক্ত করে চেপে ধরলো,,পরি মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে উঠলো,,,
নাবিল পরির লম্বা চুল গুলো টেনে নিজের দিকে ঘুরালো,,পরপর পরিকে দেখে তার মনটা তৃপ্তি পেলো,,,নাবিল ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ আসছিস(এসেছিস) তাইলে,,,
পরি,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here